বিষয়বস্তুতে চলুন

দই কাতলা

উইকিবই থেকে
দই কাতলা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মাছের পদ
পরিবেশন ৪ জন
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ৫০ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা কাতলা মাছ ও টক দইয়ের মিশ্রণে তৈরি একটি সুস্বাদু, ঘন ও মশলাদার তরকারি।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

দই কাতলা

দই কাতলা একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু বাঙালি মাছের রান্না, যা কাতলা মাছ ও টক দইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এই পদটি বিশেষ করে উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন বা বন্ধের দিনের জমজমাট দুপুরের খাবারের জন্য উপযুক্ত। দইয়ের টক স্বাদ এবং মশলার ঘন ঝোল একে একটি রাজকীয় স্বাদের পদে রূপ দেয়। এটি গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করা হয় এবং এর স্বাদ দীর্ঘক্ষণ মুখে লেগে থাকে। মাছপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপাদান
কাতলা মাছ ৫–৬ টুকরো (প্রায় ৫০০ গ্রাম)
টক দই ১ কাপ (ফেটানো)
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ (স্বাদমতো কম-বেশি)
জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
তেজপাতা ২টি
লবণ স্বাদমতো
চিনি ১ চা চামচ
সরিষার তেল ৫ টেবিল চামচ
পানি প্রয়োজন অনুযায়ী

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. মাছের টুকরোগুলোতে সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
  2. কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলো সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
  3. একই কড়াইয়ে বাকি তেলে তেজপাতা ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন।
  4. পেঁয়াজ ভাজা হলে আদা-রসুন বাটা, হলুদ, লাল মরিচ, জিরা গুঁড়া, চিনি ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষাতে থাকুন।
  5. মসলা কষানো হলে ফেটানো দই ধীরে ধীরে দিয়ে ভালোভাবে মেশান এবং কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন যাতে দই না ছিটকে।
  6. মসলা থেকে তেল ছেড়ে এলে প্রয়োজন মতো পানি দিন এবং ফুটে উঠলে ভাজা মাছগুলো দিয়ে দিন।
  7. চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ঢেকে দিন এবং ১০–১৫ মিনিট রান্না করুন যাতে মাছ নরম হয় এবং দই মাখা-মাখা হয়ে যায়।
  8. শেষে গরম মসলা গুঁড়া ছিটিয়ে ২ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

গরম ভাতের সাথে দই কাতলা পরিবেশন করুন। চাইলে পাশে পাতলা ডাল ও কাঁচা মরিচ রাখতে পারেন। এটি দুপুরের খাবারের জন্য উপযুক্ত ও পরিতৃপ্তিদায়ক একটি বাঙালি পদ।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • টক দই ঘরে তৈরি হলে স্বাদ আরও বেশি ঘ্রাণযুক্ত হয়।
  • দই দেওয়ার সময় চুলার আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে মেশাতে হবে, না হলে দই ছেড়ে যেতে পারে।
  • সরিষার তেল না থাকলে সয়াবিন তেল ব্যবহার করলেও চলবে, তবে সরিষার তেলে স্বাদ বেশি খাসা হয়।
  • চাইলে ধনে পাতাও শেষে ছিটিয়ে পরিবেশন করা যায়।