থানকুনি পাতা বাটা
অবয়ব
| থানকুনি পাতা বাটা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | ভর্তা |
| পরিবেশন | ২-৩ জন |
| তৈরির সময় | ১৫-২০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
থানকুনি পাতা বাটা
থানকুনি পাতা বাটা বাঙালির অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি ঐতিহ্যবাহী পদ। বিশেষ করে পেটের যেকোনো সমস্যা নিরাময়ে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে থানকুনি পাতার কোনো জুড়ি নেই। গরম ভাতের সাথে রসুন, পেঁয়াজ ও সরিষার তেলের সুঘ্রাণযুক্ত এই পাতা বাটা নিমিষেই মুখের স্বাদ বদলাতে দারুণ কাজ করে।
খাওয়ার উপযুক্ত সময়
[সম্পাদনা]দুপুর বা রাতের আহারে গরম সাদা ভাতের সাথে প্রথম পদ হিসেবে থানকুনি পাতা বাটা সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| থানকুনি পাতা | ২-৩ আঁটি বা ১ কাপ (বেছে পরিষ্কার করা) |
| রসুন | ৪-৫ কোয়া |
| পেঁয়াজ কুচি | ২ টেবিল-চামচ |
| কাঁচা মরিচ বা শুকনো মরিচ | ৩-৪টি (ঝাল অনুযায়ী) |
| কালো জিরা | ১/২ চা-চামচ (ঐচ্ছিক, ফোড়নের জন্য) |
| লবণ | স্বাদমতো |
| সরিষার তেল | ১-২ টেবিল-চামচ |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে থানকুনি পাতাগুলো শক্ত ডাঁটা থেকে ছাড়িয়ে শুধু পাতাগুলো খুব ভালোভাবে বেছে নিন। পাতাগুলো মাটির কাছাকাছি হয় বলে এতে প্রচুর বালি থাকতে পারে, তাই পরিষ্কার পানিতে ৩-৪ বার খুব ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।
- চুলায় একটি প্যান বা কড়াই বসিয়ে তাতে সামান্য (হাফ চা-চামচ) সরিষার তেল গরম করুন।
- তেল গরম হলে তাতে কালো জিরা ফোড়ন দিন (যদি ব্যবহার করেন)। এরপর রসুনের কোয়া, কাঁচা মরিচ এবং পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাঝারি আঁচে হালকা বাদামি করে ভেজে নিন।
- পেঁয়াজ-রসুন হালকা ভাজা হয়ে এলে পানি ঝরিয়ে রাখা থানকুনি পাতাগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন।
- স্বাদমতো লবণ দিয়ে মাঝারি আঁচে ৩-৪ মিনিট নেড়েচেড়ে ভাজুন। পাতা নরম হয়ে ভেতরের পানি শুকিয়ে গেলেই চুলা বন্ধ করে দিন। (পাতা খুব বেশি সময় ভাজার দরকার নেই, তাহলে পুষ্টিগুণ ও সবুজ রং নষ্ট হয়ে যাবে)।
- এবার ভাজা পাতা ও মসলার মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা করে একটি শিলপাটায় খুব ভালোভাবে মিহি করে বেটে নিন।
- বাটা হয়ে গেলে এর ওপর দিয়ে বাকি ১ টেবিল-চামচ কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে দিয়ে হাত দিয়ে খুব ভালোভাবে মেখে নিন।
রান্নার পরামর্শ
[সম্পাদনা]- কাঁচা পাতা বাটা: অনেকে থানকুনি পাতা তেলে না ভেজে সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ-রসুনের সাথে বেটে ভর্তা করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। তবে কাঁচা পাতার একটু ভেষজ গন্ধ থাকে, যা সবার পছন্দ নাও হতে পারে বলে হালকা তেলে ভেজে নিলে খেতে বেশি সুস্বাদু হয়।
- ধোয়ার সতর্কতা: থানকুনি পাতা ধোয়ার সময় একটি বড় পাত্রে প্রচুর পানি নিয়ে পাতাগুলো ডুবিয়ে ধুলে বালি পাত্রের নিচে জমবে। এভাবে কয়েকবার পানি বদলে ধুলে পাতা সম্পূর্ণ বালি মুক্ত হবে।
- বাটার পদ্ধতি: শিলপাটায় বাটলে এই ভর্তার আসল স্বাদ ও সুন্দর আঠালো টেক্সচার পাওয়া যায়। ব্লেন্ডার ব্যবহার করলে কোনো পানি ছাড়া ব্লেন্ড করার চেষ্টা করবেন।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল থানকুনির পাতার বাটা