বিষয়বস্তুতে চলুন

ডোনাট

উইকিবই থেকে
ডোনাট
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টান্ন
পরিবেশন ৬–৮ জন
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ২ ঘণ্টা (উঠে আসার সময়সহ)
কষ্টসাধ্য
টীকা ডোনাট এক জনপ্রিয় পশ্চিমা মিষ্টান্ন, যা এখন বাংলাদেশের ঘরেও সহজেই তৈরি হয় এবং নানা রকম টপিং ও স্বাদে বৈচিত্র্য থাকে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

ডোনাট

ডোনাট এমন একটি মিষ্টান্ন যা কেবল শিশুদেরই নয়, বড়দের মাঝেও সমান জনপ্রিয়। এর গোলাকৃতি, মাঝখানে ছিদ্র এবং উপরে চকোলেট, চিনি, চিনির সিরা কিংবা রঙিন স্প্রিংকেলসের টপিং – এই সব কিছু মিলেই এটি এক আকর্ষণীয় ও মনোগ্রাহী খাবার। যদিও এটি একটি পশ্চিমা খাবার, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলেও এটি অত্যন্ত পরিচিত হয়ে উঠেছে। চা বা কফির সঙ্গে পরিবেশনযোগ্য, ডোনাট আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা বিকেলের নাস্তাতেও জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে, নিজ হাতে তৈরি ঘরোয়া ডোনাট হলে এর স্বাদ ও আনন্দ দ্বিগুণ হয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম পরিমাণ
ময়দা ৩ কাপ
ডিম ১টি
গুঁড়ো চিনি ১/২ কাপ
কাঁচা দুধ ৩/৪ কাপ (হালকা গরম)
ইস্ট ১ চা চামচ
মাখন ২ টেবিল চামচ (গলানো)
লবণ ১/৪ চা চামচ
ভাজার জন্য তেল প্রয়োজনমতো
টপিংস (চকোলেট, চিনি, স্প্রিংকেলস) ইচ্ছামতো

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. একটি ছোট বাটিতে গরম দুধের সঙ্গে ইস্ট ও ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে রাখুন এবং ১০ মিনিট রেখে দিন যাতে ইস্ট ফুলে ওঠে।
  2. বড় একটি পাত্রে ময়দা, চিনি, লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর এতে ডিম, গলানো মাখন ও ফুলে ওঠা ইস্ট যোগ করে মেখে একটি নরম, মসৃণ ডো তৈরি করুন।
  3. ডোটি ভালোভাবে ৮–১০ মিনিট ধরে মথে নিন। এরপর একটি হালকা তেল মাখানো পাত্রে ডো রেখে ঢেকে দিন এবং উষ্ণ স্থানে ১ ঘণ্টা রেখে দিন যাতে ডো দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
  4. ডো উঠে এলে হালকা করে মথে নিন এবং রুটির মতো বেলে ১/২ ইঞ্চি পুরু করে কাটুন। এরপর গ্লাস ও ঢাকনার সাহায্যে গোল ও মাঝখানে ছিদ্র করে ডোনাট আকার দিন।
  5. তৈরি করা ডোনাটগুলো আবার ঢেকে ২০ মিনিট রেখে দিন যেন একটু ফুলে ওঠে।
  6. এবার কড়াইতে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে ডোনাটগুলো সোনালি করে ভাজুন। ভাজার সময় খেয়াল রাখুন যেন বাইরের অংশ পুড়ে না যায় এবং ভেতর কাঁচা না থাকে।
  7. তেল থেকে তুলে ঠান্ডা করে উপরে টপিংস দিন – গলানো চকোলেট, চিনি গুঁড়ো, দারচিনি চিনি, কারামেল, কিংবা রঙিন স্প্রিংকেলস।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

ডোনাট পরিবেশন করা যায় গরম চা, কফি বা গরম দুধের সঙ্গে। এটি সকালের নাশতা, বিকেলের জলখাবার কিংবা অতিথি আপ্যায়নের জন্য চমৎকার একটি পদ। বাচ্চাদের জন্মদিন কিংবা কোনো উৎসবে যদি নিজ হাতে তৈরি ডোনাট থাকে, তাহলে তা একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে বিশেষ করে বাচ্চাদের আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • ইস্ট ভালোভাবে কাজ না করলে ডো উঠবে না, তাই দুধ হালকা গরম এবং চিনির উপস্থিতি নিশ্চিত করুন।
  • চাইলে ওভেনেও ভাজা যায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ১২–১৫ মিনিট, এতে তেলে ভাজার তুলনায় ক্যালরি কম থাকে।
  • টপিংসের ক্ষেত্রে নিজস্ব সৃজনশীলতা কাজে লাগান – নারকেল কোরা, বাদাম কুচি বা এমনকি ফলের রসও ব্যবহার করতে পারেন।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঝুঁকি

[সম্পাদনা]

ডোনাটে ডিম, দুধ, ময়দা ও চিনি থাকায় এটি শক্তি ও পুষ্টি দেয়, বিশেষত শিশুদের জন্য উপযোগী। তবে এটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত একটি পদ এবং তেলে ভাজা হলে ফ্যাটের মাত্রাও বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত না খেয়ে মাঝে মাঝে খাওয়াই ভালো। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা বা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সজাগ থাকা জরুরি।

ইতিহাস ও প্রসঙ্গ

[সম্পাদনা]

ডোনাটের ইতিহাস ইউরোপের দেশগুলো থেকে শুরু হলেও আমেরিকায় এটি বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয়তা পায়। "ডোনাট" নামটি এসেছে 'ডো' (খামির) ও 'নাট' (বাদাম) শব্দের সংমিশ্রণে। পুরনো দিনে ভেতরে বাদাম রাখা হতো বলে নাম এমন হয়েছিল। বর্তমানে সারা পৃথিবীজুড়ে এটি হাজার রকম টপিং ও ফ্লেভারে পাওয়া যায়, আর অনেক দেশেই স্থানীয় উপকরণ দিয়ে ভিন্ন ধাঁচে বানানো হয়। বাংলাদেশেও এখন নানা রকম ডোনাট দেখা যায়, কিন্তু ঘরোয়া প্রস্তুতি ও নিজস্ব স্বাদের সংমিশ্রণই এর মূল আকর্ষণ।