বিষয়বস্তুতে চলুন

ঝিনুক পিঠা

উইকিবই থেকে
ঝিনুক পিঠা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টান্ন
পরিবেশন ৬ জন
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা শেরপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় মিষ্টান্ন 'ঝিনুক পিঠা' এক সময় এলাকাবাসীর শীতকালীন আনন্দঘন মুহূর্তে অপরিহার্য ছিল। এটি দেখতে ঝিনুকের আকৃতির এবং স্বাদে অপূর্ব।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

ঝিনুক পিঠা

ঝিনুক পিঠা বাংলাদেশের শেরপুর জেলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা, যা এখন খুব কম ঘরেই দেখা যায়। এই পিঠার বৈশিষ্ট্য হল এর আকৃতি ও পুর। দেখতে অনেকটা ঝিনুকের মতো হওয়ায় এটি 'ঝিনুক পিঠা' নামে পরিচিত। খেজুর গুড়, নারকেল ও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই পিঠা স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি এর প্রস্তুত প্রণালিও বেশ মনোযোগসাপেক্ষ।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপাদান পরিমাণ
চালের গুঁড়ো ২ কাপ
ঘন নারকেল দুধ ১ কাপ
খেজুর গুড় ১ কাপ
নারকেল কোরা ১ কাপ
লবণ সামান্য
পানি পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]

প্রথমে চালের গুঁড়ো হালকা ভেজে নিয়ে গরম পানি দিয়ে মাখিয়ে নিন যাতে নরম খামির তৈরি হয়। খামির বেশি শুকনা বা বেশি ভেজা যেন না হয়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। অন্যদিকে নারকেল কোরা ও খেজুর গুড় একসাথে ভালোভাবে নাড়তে নাড়তে একটু শুকিয়ে পুর তৈরি করুন।

এরপর খামির থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে গোল করে বেলে নিন। প্রতিটি গোল রুটির মাঝে নারকেলের পুর দিয়ে দুই পাশে ভাঁজ করে ঝিনুকের মতো আকৃতি দিন। চাইলে ছাঁচ ব্যবহার করা যেতে পারে।

সব পিঠা তৈরি হয়ে গেলে হালকা তাপে ঢেকে শুষ্কভাবে সেঁকে নিতে পারেন, অথবা বাষ্পে সিদ্ধ করেও পরিবেশন করা যায়। গরম গরম ঝিনুক পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

এই পিঠা গরম অথবা হালকা গরম অবস্থায় পরিবেশন করতে হয়। সঙ্গে খেজুর গুড় বা ঘন নারকেল দুধ দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সতর্কতা

[সম্পাদনা]

ঝিনুক পিঠা ঘরে তৈরি হলে এতে কোনও কৃত্রিম রং বা সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে না, যা স্বাস্থ্যকর। তবে যেহেতু এতে খেজুর গুড় ও নারকেলের পরিমাণ বেশি, তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই পিঠা সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এছাড়া বেশি পরিমাণে খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে।

এই পিঠাটি ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে এর প্রচলন আবার শুরু হওয়া প্রয়োজন। শেরপুরের লোকজ খাদ্য ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য এটি অন্যতম উপযুক্ত পছন্দ।