ছিটা রুটি
অবয়ব
| ছিটা রুটি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | রুটি |
| পরিবেশন | ৪–৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | হালকা-মাঝারি |
| তৈরির সময় | ১ ঘণ্টা |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | গ্রামবাংলার এক ঐতিহ্যবাহী নরম ও পাতলা রুটি, যা মূলত নরম ভাত বা মাংস, ডাল বা ভর্তার সঙ্গে খাওয়া হয়। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
ছিটা রুটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষভাবে জনপ্রিয় একধরনের পাতলা চালের রুটি। নামটি এসেছে 'ছিটানো' থেকে, কারণ এই রুটি তৈরির সময় একটি পাতলা চালের মিশ্রণ তাওয়ায় ছিটিয়ে রান্না করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা পাতলা জালের মতো, কিন্তু স্বাদে অতুলনীয়। এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—রুটির গায়ে অসংখ্য ছিদ্র থাকে, যা তৈরি হয় ছিটানো পদ্ধতির কারণে, এবং এই ছিদ্রগুলি রুটির মধ্যে বায়ু প্রবাহ ও কোমলতা বজায় রাখে। ছিটা রুটি সাধারণত নরম হয় এবং সহজে চিবানো যায়, ফলে এটি শিশু, বয়স্ক কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও উপযোগী।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| আতপ চাল | ২ কাপ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| হালকা গরম পানি | প্রয়োজনমতো |
| সাদা তেল | ১ টেবিল চামচ (তাওয়া মাখাতে) |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে আতপ চাল ভালোভাবে ধুয়ে ৫–৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চাল ছেঁকে ব্লেন্ডারে অল্প অল্প পানি দিয়ে মিহি করে বেটে নিন যাতে মিশ্রণটি পাতলা ও মসৃণ হয়।
- চাল বাটার ঘনত্ব হবে এমন, যেন হাতে নিয়ে তাওয়ায় ছিটালে নিজে নিজেই গোল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একে "ছিটা দেওয়ার মতো পাতলা" বলা হয়। এটি নিশ্চিত করতে চাইলে একবার চামচ দিয়ে তুলে দেখে নেওয়া যায় মিশ্রণ তাওয়ায় কতটা সহজে ছড়ায়।
- এরপর এই মিশ্রণে সামান্য লবণ মেশান এবং ঢেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন যাতে বাটার একটু বসে যায়।
- একটি কড়চি বা ছোট বাটি ব্যবহার করে গরম তাওয়ার উপর হাতের কবজি ব্যবহার করে ছিটিয়ে রুটি দিন। ছিটানোর সময় হাতের তালু স্থির রেখে কবজি ঘুরিয়ে পুরো তাওয়াজুড়ে বাটার একটি পাতলা স্তর তৈরি করুন।
- আঁচ মাঝারি রেখে রুটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে এবং নিচের দিক হালকা বাদামি রঙ ধারণ করলে রুটি উঠিয়ে নিন। এটি উল্টে দেওয়ার দরকার হয় না।
- প্রতিটি রুটির পর তাওয়াটি আবার তেল মাখিয়ে নিন এবং আগের মতো নতুন রুটি তৈরি করুন।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- আতপ চাল ব্যবহারে রুটি তুলনামূলকভাবে নরম ও ঝরঝরে হয়। তবে চাইলে অল্প পরিমাণ সিদ্ধ চাল মিশিয়ে বাটলে রুটি আরও বেশি নরম হয়।
- বাটার ঘনত্বই ছিটা রুটির সাফল্যের চাবিকাঠি। খুব পাতলা হলে রুটি ছিঁড়ে যেতে পারে, আবার ঘন হলে ছড়াতে কষ্ট হয়।
- রুটি উঠানোর জন্য পাতলা ধাতব খুন্তি ব্যবহার করুন যাতে রুটি সহজে উঠে আসে।