বিষয়বস্তুতে চলুন

চুষি পিঠা

উইকিবই থেকে
চুষি পিঠা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ পিঠা
পরিবেশন ৪ জন
খাদ্য শক্তি মধ্যম
তৈরির সময় ৩০ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা দুধ, খেজুর গুড় ও নারকেলের স্বাদে ভরা লম্বাকৃতির ঐতিহ্যবাহী একটি পিঠা।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

চুষি পিঠা

চুষি পিঠা বাংলার গ্রামীণ প্রথাগত এক বিশেষ মিষ্টি পিঠা, যা সাধারণত শীতকালে রান্না করা হয়। পাতলা ও লম্বা করে তৈরি চালের পিঠা দুধে সিদ্ধ করে খেজুর গুড় ও নারকেলের সাথে পরিবেশন করা হয়। এর স্বাদ যেমন মোলায়েম, তেমনি এতে রয়েছে পুষ্টিগুণ ও তৃপ্তির ছোঁয়া। এই পিঠার ঘ্রাণ ও রং সাধারণত শৈশবের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপকরণ পরিমাণ
চালের গুঁড়ো ৫০০ গ্রাম
তরল দুধ ২ লিটার
গুঁড়ো দুধ ১/২ কাপ
খেজুর গুড় ২৫০ গ্রাম
নারকেল কোরা ২ কাপ
তেজপাতা ১টি
এলাচ ৪টি
লবণ ১ চিমটি

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে একটি বড় পাত্রে অল্প গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে এক চিমটি লবণ মেশান।
  2. এরপর ধীরে ধীরে চালের গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি নরম মণ্ড তৈরি করুন। মণ্ড যেন চিটচিটে না হয় এবং সহজে আকার দেয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করুন।
  3. তৈরি মণ্ডটি ঢেকে কিছুক্ষণ বিশ্রামে রাখুন।
  4. তৈরি মণ্ড থেকে ছোট ছোট অংশ নিয়ে হাতের তালুতে রেখে লম্বা পাতলা আকার দিন। এগুলো দেখতে হবে সুতার মতো সরু, তবে ভঙ্গুর না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  5. এভাবে সব চুষি তৈরি করে একটি শুকনো থালায় ছড়িয়ে রাখুন যাতে একে অপরের সঙ্গে লেগে না যায়।
  6. একটি বড় হাঁড়িতে তরল দুধ বসিয়ে তাতে তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
  7. দুধ কিছুটা ঘন হয়ে এলে গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে দিন এবং নাড়তে থাকুন। এরপর ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা চুষিগুলো একে একে দিয়ে দিন। একবারে সব না দিয়ে ধীরে ধীরে দিন যেন চুষিগুলো আলাদা থাকে।
  8. চুষি দুধে সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে গেলে খেজুর গুড় ও নারকেল কোরা দিন। গুড় সম্পূর্ণ মিশে গেলে চুলা বন্ধ করে দিন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

চুষি পিঠা গরম অবস্থায় পরিবেশন করাই উত্তম। তবে ইচ্ছা করলে ঠান্ডা করেও খাওয়া যায়। উপরে সামান্য ঘন দুধ ছিটিয়ে অথবা বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করলে আরও আকর্ষণীয় লাগে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • মণ্ড তৈরি করার সময় পানি কম বেশি হলে পিঠা ভেঙে যেতে পারে, তাই পরিমাণ মতো পানি দিন।
  • খেজুর গুড় না থাকলে চিনি ব্যবহার করা যায়, তবে খেজুর গুড়েই মূল স্বাদ।
  • চাইলে সামান্য ঘি দিয়ে পরিবেশন করা যায়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

চুষি পিঠা বহু প্রাচীনকাল থেকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত। বিশেষ করে গ্রামে শীতকালে সন্ধ্যাবেলা রান্না ঘরে পরিবারের সদস্যদের একত্রে বসে এই পিঠা তৈরির রীতি এক আবেগঘন স্মৃতি তৈরি করে।