বিষয়বস্তুতে চলুন

চিড়ার সরবত

উইকিবই থেকে
চিড়ার সরবত
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ পানীয়
পরিবেশন ৪ জন
খাদ্য শক্তি মাঝারি
তৈরির সময় ৪৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা গ্রামীণ বাংলার গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় এক ঠাণ্ডা পানীয় যা শরীর ঠান্ডা রাখে ও ক্লান্তি দূর করে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

চিড়ার সরবত

চিড়ার সরবত বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি ঘরোয়া পানীয়, যা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হয়। এটি শুধু ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক নয়, বরং পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য। দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করার পর গ্রামের কৃষকরা এই সরবত পান করে শক্তি ফিরে পান। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে। বিশেষ করে রোজার মাসে ইফতারে এই পানীয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সাধারণ উপাদানেই তৈরি এই পানীয় আজও আমাদের ঐতিহ্য বহন করে চলছে।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপাদান
চিড়া ১ কাপ (পাতলা চিড়া ব্যবহার করা ভালো)
দই ১ কাপ
দুধ ১ কাপ (সিদ্ধ ঠান্ডা)
চিনি ৩–৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)
কলা ২টি (পাকা কলা টুকরো করা)
আঙুর/আপেল/কমলা পরিমাণমতো (ঐচ্ছিক, ছোট টুকরো করা)
গোলাপ জল ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
আইস কিউব পরিমাণমতো
পানি ১ কাপ (ঠান্ডা)

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে পাতলা চিড়া ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে দিন যেন নরম হয়ে যায়।
  2. চিড়া নরম হলে ছেঁকে পানি ফেলে দিন এবং একটি বড় বাটিতে তুলে রাখুন।
  3. চিড়ার সঙ্গে টুকরো করে রাখা কলা মিশিয়ে নিন। কলা ভালোভাবে চিড়ার সঙ্গে মাখাতে হবে।
  4. এবার এর সঙ্গে দই, ঠান্ডা দুধ ও চিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চাইলে চিনি গলিয়ে নিতে পারেন।
  5. এরপর বরফের টুকরো ও ঠান্ডা পানি যোগ করুন এবং আবার নেড়ে মিশিয়ে নিন।
  6. উপরে কাটা ফল (যেমন আপেল, আঙুর, কমলা) যোগ করে দিন।
  7. শেষে এক চা চামচ গোলাপ জল যোগ করে পরিবেশনের জন্য ঠান্ডা অবস্থায় রেখে দিন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

চিড়ার সরবত ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন। এটি রোজার ইফতারে বা দুপুরের খাওয়ার পর একটি পরিপূর্ণ ঠান্ডা পানীয় হিসেবে কাজ করে। চাইলে বরফ ও ফল দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যায়। শিশুরা থেকে বয়স্ক সবাই এটি খেতে পছন্দ করে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • দই বেশি দিলে পানীয় ঘন হবে, তাই দুধের পরিমাণ সামঞ্জস্য করুন।
  • চাইলে সামান্য লবণ বা বিট লবণ যোগ করে মজাদার ভিন্ন স্বাদ আনতে পারেন।
  • কলার বদলে আম বা পাকা পেঁপেও ব্যবহার করা যায়।
  • যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা চিনি না দিয়ে খেজুর গুড় ব্যবহার করতে পারেন।