চিচিংগা ভর্তা
অবয়ব
| চিচিংগা ভর্তা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | ভর্তা |
| পরিবেশন | ৩-৪ জন |
| তৈরির সময় | ২০-২৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
চিচিংগা ভর্তা
চিচিংগা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং সহজলভ্য একটি সবজি। অনেকেই সাধারণ চিচিংগা ভাজি খেতে পছন্দ করেন না, তবে রসুন, কাঁচা মরিচ এবং সরিষার তেলের ঝাঁঝ দিয়ে তৈরি চিচিংগা ভর্তা গরম ভাতের সাথে দারুণ মুখরোচক লাগে। এটি তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনি এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
খাওয়ার উপযুক্ত সময়
[সম্পাদনা]দুপুর বা রাতের আহারে গরম সাদা ভাতের সাথে প্রথম পদ হিসেবে চিচিংগা ভর্তা সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়। ভাতের সাথে এই ভর্তা নিমিষেই মুখের রুচি বাড়িয়ে দেয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| চিচিংগা | ২টি মাঝারি (টুকরো করে কাটা) |
| পেঁয়াজ কুচি | ১/৪ কাপ |
| রসুন | ৪-৫ কোয়া |
| কাঁচা মরিচ বা শুকনো মরিচ | ৪-৫টি (ঝাল অনুযায়ী) |
| ধনেপাতা কুচি | ২ টেবিল-চামচ (ঐচ্ছিক) |
| লবণ | স্বাদমতো |
| সরিষার তেল | ২-৩ টেবিল-চামচ (ভাজা ও মাখার জন্য) |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে চিচিংগার ওপরের পাতলা সাদাটে আবরণটি একটি ছুরি বা বঁটির সাহায্যে হালকা করে চেঁছে (ঘষে) ফেলে দিন। এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে চিচিংগাগুলো গোল বা লম্বা টুকরো করে কেটে নিন।
- চুলায় একটি প্যান বা কড়াইতে টুকরো করা চিচিংগা, রসুনের কোয়া, কাঁচা মরিচ (যদি কাঁচা মরিচ ব্যবহার করেন), সামান্য লবণ এবং আধা কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন।
- চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর চিচিংগা থেকে আরও কিছু পানি বের হবে।
- চিচিংগা সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে এলে ঢাকনা খুলে দিন। এরপর নেড়েচেড়ে প্যানের সম্পূর্ণ পানি খুব ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। (চিচিংগার গায়ে যেন কোনো পানি বা ভেজা ভাব না থাকে, প্রয়োজন হলে সামান্য তেল দিয়ে হালকা ভেজে নিন)।
- চিচিংগা সেদ্ধ হয়ে গেলে অন্য একটি কড়াইতে ১ টেবিল-চামচ সরিষার তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে পেঁয়াজ কুচি (এবং শুকনো মরিচ ব্যবহার করলে তা-ও) দিয়ে হালকা বাদামি করে ভেজে তুলে নিন।
- এবার সেদ্ধ করে রাখা চিচিংগা, রসুন ও কাঁচা মরিচ একটি শিলপাটায় নিয়ে খুব ভালোভাবে মিহি করে বেটে নিন। (ব্লেন্ডারে করলে পানি ছাড়া পেস্ট করবেন)।
- বাটা হয়ে গেলে এর সাথে আগে থেকে ভেজে রাখা পেঁয়াজ কুচি, স্বাদমতো লবণ এবং ধনেপাতা কুচি দিয়ে হাত দিয়ে খুব ভালোভাবে মেখে নিন।
- সবশেষে এর ওপর বাকি ১-২ টেবিল-চামচ কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে দিয়ে সব উপকরণ একসাথে মেখে নিন।
রান্নার পরামর্শ
[সম্পাদনা]- পানি শুকানো: চিচিংগায় প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পানি থাকে। ভর্তার জন্য চিচিংগা সেদ্ধ করার সময় পানি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভর্তায় পানি থেকে গেলে ভর্তা পানসে হয়ে যায় এবং আসল স্বাদ নষ্ট হয়।
- খোসা পরিষ্কার: চিচিংগার খোসা পুরোপুরি ছিলে ফেলার দরকার নেই। ওপরের পাতলা আবরণটি হালকা করে চেঁছে নিলেই হয়, এতে সবজির পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং ভর্তার রং সুন্দর সবুজ হয়।
- পেঁয়াজ ও রসুন: কাঁচা পেঁয়াজ দিয়েও এই ভর্তা করা যায়, তবে পেঁয়াজ হালকা ভেজে নিলে ভর্তায় পেঁয়াজের কাঁচা গন্ধ থাকে না এবং ভর্তা অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকে (নষ্ট হয় না)।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল চিচিংগার ভর্তা