বিষয়বস্তুতে চলুন

চিংড়ি ভাপা

উইকিবই থেকে
চিংড়ি ভাপা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মাছ
পরিবেশন ৪ জন
খাদ্য শক্তি মধ্যম
তৈরির সময় ১ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা চিংড়ি ভাপা একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রান্না, যা সরষে, নারকেল ও মশলার মোহনায় ভাপিয়ে তৈরি হয়।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

চিংড়ি ভাপা

চিংড়ি ভাপা বাঙালির রান্নাঘরের এক ঐতিহ্যবাহী রত্ন। এটি একদিকে যেমন সরষে ও নারকেলের অপূর্ব ঘ্রাণে মোহিত করে, তেমনই ভাপিয়ে রান্না করায় এতে তেলের ব্যবহার কম হওয়ায় স্বাস্থ্যকরও বটে। মূলত ইলিশ ভাপার মতো রন্ধন পদ্ধতি অনুসরণ করেই তৈরি হয় এই পদ, কিন্তু চিংড়ির নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ রান্নাটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপাদান পরিমাণ
বড় চিংড়ি (পরিষ্কার করা) ৫০০ গ্রাম
পিসে নেওয়া সরষে ৩ টেবিল চামচ
নারকেল কোরা ১/২ কাপ
সর্ষের তেল ৪ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা ৫-৬টি (ফাটা)
লবণ স্বাদমতো
হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ
জল প্রয়োজন মতো

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে চিংড়িগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং সামান্য হলুদ ও লবণ দিয়ে ১০ মিনিট মেখে রাখুন।
  2. একসাথে বেটে নিন সরষে, নারকেল কোরা, কাঁচা লঙ্কা ও অল্প জল। এই মিশ্রণে হলুদ ও লবণ মিশিয়ে দিন।
  3. এবার এই মসলা মিশ্রণ চিংড়ির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে সর্ষের তেল ঢেলে দিন। ঢেকে ২০ মিনিট মেরিনেশনে রাখুন।
  4. একটি স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের বাটি বা স্টিমার নিন। এতে মসলা মাখানো চিংড়ি রাখুন ও উপরে আরও কয়েকটি কাঁচা লঙ্কা ফাটিয়ে দিন।
  5. এখন এটি একটি বড় হাঁড়িতে জল বসিয়ে তাতে বসিয়ে দিন এবং ঢেকে ভাপে রান্না করুন প্রায় ২৫-৩০ মিনিট।
  6. চুলা থেকে নামিয়ে একটু ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলেই চিংড়ি ভাপা তার স্বাদ ও ঘ্রাণে মন জয় করে নেবে। সরষের তেল ও কাঁচা লঙ্কার ঝাঁজ ভাতের সঙ্গে মিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • সর্ষে বাটার সময় কিছুটা পোস্তদানাও ব্যবহার করতে পারেন, তাতে তিতা ভাব কমে।
  • যারা বেশি ঝাল খেতে ভালোবাসেন, তারা অতিরিক্ত কাঁচা লঙ্কা ব্যবহার করতে পারেন।
  • স্টিমারের বদলে প্রেশার কুকারেও ভাপিয়ে নেওয়া যায়, তবে শীটি না বাজিয়ে।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঝুঁকি

[সম্পাদনা]

চিংড়ি প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। নারকেল ও সর্ষের তেল স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম। যাদের এলার্জি আছে, তাদের জন্য চিংড়ি এড়ানোই ভালো।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

চিংড়ি ভাপা মূলত পূর্ববঙ্গের রান্না হলেও আজ পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ উভয় স্থানেই এটি প্রিয়। বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে চিংড়ির এই বিশেষ ভাপা রীতির চর্চা বহু পুরনো। বিশেষ করে গৃহবধূরা অতিথি আপ্যায়নের সময় সর্ষে চিংড়ি বা ভাপা চিংড়ি পরিবেশন করতেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]

"চিংড়ি ভাপা এমন এক স্বাদের খোঁজ দেয়, যেখানে সরষে ও সমুদ্রের মিলন ঘটে" – সিদ্ধার্থ মুখার্জি, রন্ধনপ্রেমী ও লেখক।

সংস্কৃতিতে স্থান

[সম্পাদনা]

পয়লা বৈশাখ বা বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই পদটি অতি পরিচিত। অনেক সময় এটি পান্তা ভাতের সঙ্গেও পরিবেশিত হয় উৎসবের দিনে।