চিংড়ি পাতুরি
| চিংড়ি পাতুরি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মাছ |
| পরিবেশন | ৪ জন |
| খাদ্য শক্তি | মধ্যম |
| তৈরির সময় | ১ ঘণ্টা |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | চিংড়ি পাতুরি হল এক প্রাচীন বাঙালি রন্ধন ঐতিহ্য, যেখানে চিংড়ি মশলায় মাখিয়ে কলাপাতায় মুড়ে ভাপে রান্না করা হয়। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
চিংড়ি পাতুরি বাঙালির প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। এর গন্ধ, স্বাদ ও উপস্থাপনার বাহার বাঙালি রান্নার রত্নভাণ্ডারে এক অনন্য সংযোজন। পাতুরি শব্দটি এসেছে ‘পাতা’ থেকে – অর্থাৎ পানের বা কলার পাতায় মোড়া খাবার। চিংড়ি পাতুরির বিশেষত্ব হলো, এতে চিংড়ির সঙ্গে সরষে ও নারকেলের বাটা মিশিয়ে তা কলাপাতায় মোড়া হয় এবং কম আঁচে ভাপানো হয়। স্বাদে এটি যেমন জিভে জল আনে, তেমনি চোখে পড়ে এর উপস্থাপনার স্নিগ্ধতা।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| উপাদান | পরিমাণ |
|---|---|
| বড় চিংড়ি (পরিষ্কার করে কাটা) | ৫০০ গ্রাম |
| পিসে নেওয়া সাদা ও কালো সরষে (একসঙ্গে) | ৩ টেবিল চামচ |
| নারকেল কোরা | ১/২ কাপ |
| কাঁচা লঙ্কা | ৫-৬টি (ফাটানো) |
| সর্ষের তেল | ৫ টেবিল চামচ |
| লবণ | স্বাদ অনুযায়ী |
| হলুদ গুঁড়ো | ১ চা চামচ |
| কলাপাতা | ৬–৮টি টুকরো (পরিষ্কার ও নরম করা) |
| সুতো | পাতুরি বাঁধার জন্য |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে চিংড়ি ভালো করে ধুয়ে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
- এরপর সরষে বেটে নিন, তার সঙ্গে নারকেল কোরা, কাঁচা লঙ্কা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ ও সর্ষের তেল দিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন।
- এই মশলার মিশ্রণে চিংড়িগুলো ভালোভাবে মেখে ২০ মিনিট রেখে দিন।
- কলাপাতাগুলো হালকা আঁচে সেঁকে নরম করুন যাতে পাতা না ফেটে যায় ভাঁজ করার সময়।
- প্রতিটি কলাপাতায় পরিমাণ মতো চিংড়ি ও মশলা নিয়ে প্যাকেটের মতো করে মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে ফেলুন।
- একটি পাতিলে জল গরম করে তার মধ্যে পাতুরির প্যাকেটগুলো বসিয়ে ঢেকে ভাপিয়ে নিন ২০–২৫ মিনিট।
- চুলা থেকে নামিয়ে কলাপাতার ভেতর থেকেই পরিবেশন করুন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন চিংড়ি পাতুরি। পাতার ভেতর থেকে মশলার গন্ধ বেরিয়ে আসবে এবং খোলার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে এক অপার্থিব ঘ্রাণ।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- সরষে বাটার সময় একটু পোস্তদানাও ব্যবহার করা যেতে পারে তিতা ভাব কমাতে।
- পাতা যেন ছিঁড়ে না যায়, তাই সেঁকতে ভুলবেন না।
- ইচ্ছা করলে নারকেলের বদলে একটু দই ব্যবহার করেও ভিন্ন স্বাদ আনা যায়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঝুঁকি
[সম্পাদনা]চিংড়ি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত ও কোলেস্টেরল কম। নারকেল ও সর্ষের তেল অন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। কলাপাতায় রান্না হওয়ায় তেল ও মশলার প্রয়োজনও কমে যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]চিংড়ি পাতুরি বাংলার নবাবী আমল থেকেই রান্না হয়ে আসছে। সেই সময় রাজা-জমিদারদের দরবারে বিশেষ অতিথি আপ্যায়নে এই ধরনের পাতুরি পরিবেশন করা হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর পরিবারের রান্নার বইতেও পাতুরির নানা রকমফেরের উল্লেখ আছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]"পাতায় মোড়া এই স্বাদের খাঁচায় যে একবার বন্দী হয়েছে, সে চিংড়ি পাতুরি ভুলতে পারে না।" — লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
সংস্কৃতিতে স্থান
[সম্পাদনা]চিংড়ি পাতুরি শুধু পেট নয়, মনকেও তৃপ্ত করে। পয়লা বৈশাখ, পূজা বা নবান্নের সময় এই খাবারটি অনেক পরিবারে অবিচ্ছেদ্য।