চিঁড়ের মোয়া
| চিঁড়ের মোয়া | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মিষ্টান্ন |
| পরিবেশন | ৬-৮ জন |
| তৈরির সময় | ৪৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
চিঁড়ের মোয়া বাংলা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নজাতীয় খাবার। চিঁড়া, গুড় ও বিভিন্ন শুকনো উপকরণ দিয়ে তৈরি এই মোয়া গ্রামীণ বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। সাধারণত শীতকালে নতুন খেজুরের গুড় পাওয়া গেলে এই মোয়া বেশি প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌষসংক্রান্তি, নবান্ন, শীতকালীন উৎসব ও পারিবারিক আয়োজনে চিঁড়ের মোয়া তৈরির প্রচলন রয়েছে। বাংলা খাদ্যসংস্কৃতিতে “মোয়া” বলতে সাধারণত গুড় বা চিনির সিরার সঙ্গে কোনো শুকনো খাদ্যশস্য মিশিয়ে গোল আকারে তৈরি মিষ্টান্নকে বোঝানো হয়। মুড়ির মোয়া, খইয়ের মোয়া ও চিঁড়ের মোয়া বাংলার লোকজ খাদ্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। চিঁড়া সহজলভ্য ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে এটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নাস্তা ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতের প্রচলন গড়ে ওঠে। চিঁড়ের মোয়া সাধারণত খেজুরের গুড়, আখের গুড় বা চিনির সিরা দিয়ে তৈরি করা হয়। কোথাও চিনাবাদাম, নারকেল কোরানো, খোয়া ক্ষীর, তিল বা এলাচ গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। অঞ্চলভেদে এর আকার ও স্বাদেও পার্থক্য দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি গোল লাড্ডুর মতো বানানো হয়, আবার কোথাও চ্যাপ্টা আকারে তৈরি করা হয়। শীতের বিকেলে চা কিংবা দুধের সঙ্গে চিঁড়ের মোয়া পরিবেশনের প্রচলনও রয়েছে।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | উপকরণ |
|---|---|
| চিঁড়া | ৩ কাপ |
| খেজুরের গুড় বা আখের গুড় | ১ কাপ |
| পানি | আধা কাপ |
| ঘি | ১ টেবিল-চামচ |
| চিনাবাদাম | আধা কাপ |
| এলাচ গুঁড়া | আধা চা-চামচ |
| নারকেল কোরানো | আধা কাপ |
| লবণ | এক চিমটি |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে চিঁড়া বেছে পরিষ্কার করে নিন। এরপর একটি শুকনো কড়াইয়ে মাঝারি আঁচে চিঁড়া হালকা ভেজে নিন যাতে এটি মুচমুচে হয়।
- আলাদা একটি পাত্রে চিনাবাদাম ভেজে খোসা ছাড়িয়ে নিন। ইচ্ছা করলে বাদাম অর্ধেক ভেঙে নেওয়া যেতে পারে।
- কড়াইয়ে গুড় ও পানি একসঙ্গে জ্বাল দিন। ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন যাতে গুড় সম্পূর্ণ গলে যায়।
- গুড়ের সিরা ফুটতে শুরু করলে এতে এক চিমটি লবণ ও এলাচ গুঁড়া যোগ করুন।
- সিরা আঠালো হয়ে পাক ধরতে শুরু করলে অল্প সিরা ঠান্ডা পানিতে ফেলে পরীক্ষা করুন। যদি শক্ত বলের মতো হয়, তবে সিরা প্রস্তুত হয়েছে।
- এবার গুড়ের সিরায় ভাজা চিঁড়া, চিনাবাদাম ও নারকেল কোরানো ঢেলে দ্রুত নাড়তে থাকুন।
- সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে সামান্য ঘি যোগ করুন। এতে মিশ্রণটি মসৃণ হয় এবং হাতে কম লেগে থাকে।
- চুলা বন্ধ করে মিশ্রণ সামান্য ঠান্ডা হতে দিন। তবে পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই মোয়া তৈরি করতে হবে।
- হাতে সামান্য ঘি মেখে গরম গরম মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট অংশ নিয়ে গোল আকারে মোয়া বানিয়ে নিন।
- সব মোয়া তৈরি হলে একটি শুকনো পাত্রে রেখে ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা হলে এগুলো আরও শক্ত ও মুচমুচে হবে।
পুষ্টিগুণ
[সম্পাদনা]চিঁড়ের মোয়ায় ব্যবহৃত চিঁড়া মূলত চালজাত খাদ্য হওয়ায় এতে কার্বোহাইড্রেট বিদ্যমান, যা শরীরের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। গুড় ব্যবহার করলে এতে কিছু পরিমাণ আয়রন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যেতে পারে। চিনাবাদামে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বিদ্যমান। নারকেল ও ঘি ব্যবহারের কারণে এতে কিছু অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরি যুক্ত হয়। তবে অতিরিক্ত গুড় বা চিনি ব্যবহার করলে খাবারের মোট ক্যালরির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উপযোগী।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]চিঁড়ের মোয়া সাধারণত ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। কাঁচের বয়াম, মাটির পাত্র বা ধাতব থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করলে এটি আরও আকর্ষণীয় দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে ওপরে সামান্য নারকেল কোরানো বা গুড়ের কুচি ছড়িয়ে সাজানো হয়।
শীতকালীন উৎসব, বিকেলের নাস্তা কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চিঁড়ের মোয়া একটি জনপ্রিয় খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় বলে এটি ভ্রমণ বা গ্রামীণ আয়োজনেও ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- চিঁড়ের মোয়ার বিভিন্ন রেসিপি — Cookpad
- চিঁড়ার মোয়া তৈরির রেসিপি — ঢাকা পোস্ট
- চিঁড়ের মোয়া বা চিঁড়ের লাড্ডু — Bangalir Ranna Banna
- চিড়ার মোয়া | Bangladeshi Chirar Moa Recipe — YouTube
- Chirar Moa | Flattened Rice Moa Recipe — YouTube
- পূজো স্পেশাল মুচমুচে চিড়ার নাড়ু বা মোয়া — YouTube
- শীতের ঐতিহ্যবাহী মোয়া — RisingBD