চালকুমড়োর মোরব্বা
অবয়ব
| চালকুমড়োর মোরব্বা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মিষ্টান্ন |
| পরিবেশন | ৪-৬ জন |
| তৈরির সময় | ১.৫ - ২ ঘণ্টা (ভেজানোর সময় বাদে) |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
চালকুমড়োর মোরব্বা
চালকুমড়োর মোরব্বা বাঙালির অন্যতম প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং রাজকীয় একটি মিষ্টান্ন। ওপরটা চিনির আবরণে মচমচে এবং ভেতরটা রসে ভরপুর নরম। এই দারুণ স্বাদের মোরব্বা অতিথি আপ্যায়নে কিংবা উৎসব আয়োজনে এক অনন্য আকর্ষণ। এটি তৈরি করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ ও ধৈর্যের কাজ হলেও, বাড়িতে বানানো মোরব্বার স্বাদ দোকানের চেয়ে বহুগুণ ভালো হয়।
খাওয়ার উপযুক্ত সময়
[সম্পাদনা]ভারী খাবারের পর ডেজার্ট বা শেষপাত হিসেবে চালকুমড়োর মোরব্বা পরিবেশন করা যায়। এছাড়া বিকেলে চায়ের সাথে বা দিনের যেকোনো সময় হালকা মিষ্টি খাবার হিসেবে এটি চমৎকার। সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করলে এই মোরব্বা সাধারণ তাপমাত্রাতেই অনেক দিন ভালো থাকে।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| চালকুমড়ো | ১টি মাঝারি (অবশ্যই পরিপক্ব/পাকা হতে হবে) |
| চিনি | ৩-৪ কাপ (মিষ্টি অনুযায়ী) |
| খাওয়ার চুন | ১ টেবিল-চামচ |
| এলাচ | ৩-৪টি |
| দারুচিনি | ২-৩ টুকরো |
| তেজপাতা | ২টি |
| গোলাপ জল বা কেওড়া জল | ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক, সুঘ্রাণের জন্য) |
| পানি | পরিমাণমতো (ভেজানো ও শিরা তৈরির জন্য) |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে চালকুমড়োর খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং ভেতরের নরম অংশ ও বিচি পুরোপুরি ফেলে দিন। শুধু শক্ত সাদা অংশটি নিয়ে আপনার পছন্দমতো চারকোনা বা আয়তাকার টুকরো করে কেটে নিন।
- এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ: একটি কাঁটাচামচের সাহায্যে চালকুমড়োর টুকরোগুলোকে খুব ভালোভাবে চারদিক থেকে কেঁচে (ছিদ্র করে) নিন। টুকরোগুলো কেঁচে একদম নরম করে ফেলতে হবে, যাতে ভেতরে চিনির শিরা ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে।
- একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে ১ টেবিল-চামচ খাওয়ার চুন ভালোভাবে গুলিয়ে নিন। এই চুন-পানিতে চালকুমড়োর টুকরোগুলো ৭-৮ ঘণ্টা বা সারা রাতের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এতে কুমড়োর টুকরোগুলো শক্ত ও মচমচে হবে।
- নির্দিষ্ট সময় পর চুন-পানি থেকে টুকরোগুলো তুলে পরিষ্কার পানিতে ৫-৬ বার খুব ভালোভাবে কচলে ধুয়ে নিন, যাতে চুনের কোনো গন্ধ বা অবশিষ্টাংশ না থাকে। ধোয়ার পর হাত দিয়ে চেপে কুমড়োর ভেতরের পানি বের করে দিন।
- চুলায় একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত পানিতে চালকুমড়োর টুকরোগুলো দিয়ে ৫-৭ মিনিট সেদ্ধ করুন। টুকরোগুলো কিছুটা স্বচ্ছ হয়ে এলে পানি ঝরিয়ে নামিয়ে নিন এবং ঠান্ডা হতে দিন।
- এবার অন্য একটি কড়াই বা প্যানে চিনি এবং দেড় কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। এর মধ্যে এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা দিয়ে দিন।
- চিনি গলে শিরা ফুটতে শুরু করলে তাতে সেদ্ধ করে রাখা চালকুমড়োর টুকরোগুলো দিয়ে দিন।
- চুলার আঁচ মাঝারি থেকে সামান্য কমিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। কুমড়োর টুকরোগুলো চিনির শিরা শুষে নেবে।
- শিরা ঘন হয়ে যখন আঠালো বা ২-৩ তারের মতো হবে এবং কুমড়োর টুকরোগুলো একদম কাঁচের মতো স্বচ্ছ দেখাবে, তখন গোলাপ জল ছড়িয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন।
- আপনি চাইলে মোরব্বাগুলো শিরার সাথেই বয়ামে সংরক্ষণ করতে পারেন, অথবা শিরা থেকে তুলে একটি চালুনিতে সারারাত রেখে শুকাতে পারেন, এতে মোরব্বার গায়ে চিনির একটি সুন্দর সাদা আস্তরণ তৈরি হবে।
রান্নার পরামর্শ
[সম্পাদনা]- সঠিক কুমড়ো নির্বাচন: মোরব্বার জন্য অবশ্যই খুব বাত্তি (পরিপক্ব) চালকুমড়ো ব্যবহার করতে হবে। কচি চালকুমড়ো দিয়ে মোরব্বা ভালো হয় না, গলে যায়।
- কাঁটাচামচ দিয়ে কাঁচা: কুমড়ো যত ভালোভাবে কাঁটাচামচ দিয়ে কাঁচবেন বা ছিদ্র করবেন, শিরা তত ভেতরে ঢুকবে এবং মোরব্বা তত বেশি সুস্বাদু ও রসালো হবে।
- চুন-পানি থেকে ধোয়া: চুন-পানিতে ভেজানোর পর অবশ্যই খুব ভালোভাবে কয়েকবার ধুতে হবে। ঠিকমতো না ধুলে মোরব্বার স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল চালকুমড়োর মোরব্বা