কাজু কাটলি
| কাজু কাটলি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মিষ্টান্ন |
| পরিবেশন | ৪ জন |
| খাদ্য শক্তি | প্রতি পরিবেশনায় ৪১ কিলোক্যালরি |
| তৈরির সময় | ২৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | কাজু কাটলি তৈরির প্রধান কৌশল হলো চিনির শিরার ঘনত্ব এবং কাজু বাদাম গুঁড়ো করার পদ্ধতি। এটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
কাজু কাটলি বা কাজু বরফি ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি থেকে উদ্ভূত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি। ১৬শ শতাব্দীতে মারাঠা রাজপরিবারের প্রধান রাঁধুনি ভীমরাও ফার্সি মিষ্টি হালুয়া-ই-ফার্সি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি উদ্ভাবন করেন। রম্বস বা হীরাকৃতি এবং ওপরে রূপালি তবকের আবরণ এই মিষ্টিকে এক রাজকীয় রূপ দেয়। সাধারণত উৎসব-অনুষ্ঠান বা উপহার হিসেবে কাজু কাটলির কোনো বিকল্প নেই।
কথিত আছে, মারাঠা সাম্রাজ্যের বিখ্যাত রাঁধুনি ভীমরাওকে রাজপরিবারকে মুগ্ধ করার মতো নতুন কোনো মিষ্টান্ন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাজু বাদাম ব্যবহার করে এই পাতলা মিষ্টিটি তৈরি করেন। 'কাজু' মানে কাজু বাদাম এবং 'কাটলি' মানে পাতলা টুকরো। বর্তমানে দীপাবলি সহ বিভিন্ন হিন্দু উৎসবে এটি একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কাজু বাদাম | ১ কাপ |
| চিনি | ১/২ কাপ |
| এলাচ গুঁড়ো | ১/৪ চা চামচ |
| জল | ১/৪ কাপ |
| ঘি | পাত্র ও হাত পিচ্ছিল করার জন্য |
| রূপালি তবক (ঐচ্ছিক) | সাজানোর জন্য |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]কাজু প্রস্তুতকরণ
[সম্পাদনা]- প্রথমে কাজু বাদামগুলো ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে আসুন। এবার একটি মিক্সার গ্রাইন্ডারে কাজুগুলো দিয়ে খুব মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। খুব বেশি সময় ধরে ঘুরাবেন না, নয়তো বাদাম থেকে তেল বেরিয়ে মণ্ডটি আঠালো হয়ে যাবে। প্রয়োজনে চালনি দিয়ে চেলে নিতে পারেন।
চিনির শিরা তৈরি
[সম্পাদনা]- একটি কড়াইতে চিনি এবং জল মিশিয়ে মাঝারি আঁচে বসান।
- চিনি পুরোপুরি গলে না যাওয়া পর্যন্ত অনবরত নাড়তে থাকুন। শিরাটি যখন বেশ ঘন এবং আঠালো হয়ে আসবে, তখন পরবর্তী ধাপে যান। শিরাটি যেন লালচে হওয়ার আগেই বাদাম গুঁড়ো মেশানো হয়, নয়তো কাটলি শক্ত হয়ে যাবে।
মণ্ড তৈরি
[সম্পাদনা]- চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিন। এবার কাজু বাদামের গুঁড়ো এবং এলাচ গুঁড়ো শিরার মধ্যে ঢেলে দিন।
- হাতল দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন যাতে কোনো দলা না পাকায়। ৫-৭ মিনিটের মধ্যে মিশ্রণটি ঘন হয়ে একটি বড় দলায় পরিণত হবে। এই পর্যায়ে চুলা বন্ধ করে দিন এবং ৩-৪ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন।
বেলা ও আকৃতি দান
[সম্পাদনা]- একটি থালার পেছন দিকে বা সমান পিঁড়িতে ঘি মাখিয়ে নিন। এবার তৈরি করা উষ্ণ মণ্ডটি সেখানে রাখুন।
- হাতে সামান্য ঘি মেখে মণ্ডটি কয়েক মিনিট ভালোভাবে ময়ান দিন যতক্ষণ না এটি মসৃণ হয়। মণ্ডটি যদি খুব শুকনো মনে হয়, তবে কয়েক ফোঁটা দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন।
- এবার একটি বেলুন দিয়ে ১/৩ ইঞ্চি পুরু করে মণ্ডটি সমানভাবে বেলে নিন। আটকে যাওয়া এড়াতে ওপরে মাখন-কাগজ ব্যবহার করতে পারেন।
সমাপ্তি
[সম্পাদনা]- এবার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে মণ্ডটিকে রম্বস বা হীরাকৃতি করে কেটে নিন। ওপরে রূপালি তবক লাগিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন।
- ঘরের তাপমাত্রায় ৫-৬ দিন এবং রেফ্রিজারেটরে ২০-২৫ দিন পর্যন্ত এটি ভালো থাকে।