কচুর মুখী ভর্তা
| কচুর মুখী ভর্তা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | ভর্তা |
| পরিবেশন | ৪ জন |
| খাদ্য শক্তি | মাঝারি |
| তৈরির সময় | ৪৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | কচুর মুখী ভর্তা একটি জনপ্রিয় গ্রামীণ পদ যা সরিষার তেল ও মসলা দিয়ে তৈরি হয়। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
বাংলার প্রাচীন গ্রামীণ খাবারের তালিকায় "কচুর মুখী ভর্তা" এক অনন্য পদ। এটি মূলত কচু গাছের গোঁড়ার অংশ, যাকে মুখী বলা হয়, তা সিদ্ধ ও মসলা দিয়ে মেখে তৈরি করা হয়। সরষের তেল ও কাঁচা লঙ্কার ঝাঁঝযুক্ত এই ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয় এবং গ্রামবাংলার ঘরোয়া রান্নার মিষ্টি স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মুখী সাধারণত বর্ষাকাল থেকে শরৎকাল পর্যন্ত সহজলভ্য থাকে এবং তখন এই ভর্তার স্বাদ থাকে অনবদ্য।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কচুর মুখী | ১০–১২টি মাঝারি আকারের |
| পেঁয়াজ কুচি | ১/২ কাপ |
| রসুন কোয়া | ৪–৫টি |
| কাঁচা লঙ্কা | ৫–৬টি |
| সরিষার তেল | ২ টেবিল চামচ |
| লবণ | স্বাদ অনুযায়ী |
| শুকনা মরিচ | ২টি (ভাজা) |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]- কচুর মুখী ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
- একটি হাঁড়িতে পানি ও সামান্য হলুদ দিয়ে কচুর মুখী সিদ্ধ করুন। এটি চুলকানি প্রতিরোধ করে।
- সিদ্ধ হয়ে গেলে ঠান্ডা করে ভালোভাবে চটকে বা চেড়ে নিন।
- রসুন ও কাঁচা লঙ্কা শিলপাটায় বেটে নিন।
- এবার একটি বড় পাত্রে সব উপকরণ একত্রে মিশিয়ে সরিষার তেল ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।
- ওপর থেকে ভাজা শুকনা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]এই ভর্তাটি গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে হয়। দুপুরের খাবারে কচুর মুখীর এই ঝাঁঝালো স্বাদ রুচি বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই এটি লেবুর রস ছিটিয়ে বা কাঁচা তেল দিয়ে আরও মজাদার করে উপস্থাপন করেন।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- কচুর মুখী সিদ্ধ করার সময় বেশি পানি ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে গলে যেতে পারে।
- রসুন ও কাঁচা লঙ্কা বেশি নিলে ঝাঁঝালো ও স্বাদযুক্ত হয়।
- চাইলে পেঁয়াজ ভেজে দিয়ে ভিন্ন ঘ্রাণ আনতে পারেন।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
[সম্পাদনা]কচুর মুখীতে প্রচুর আঁশ ও পটাশিয়াম থাকে যা হজমে সহায়তা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি হালকা খাবার হিসেবে কাজ করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক।
অতিরিক্ত তথ্য
[সম্পাদনা]কচুর মুখীর ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির ঘরে প্রচলিত। রসনাবিলাসী বাঙালি এই উপাদানকে শুধু ভর্তা নয়, তরকারি বা ভুনা হিসেবেও ব্যবহার করে। ১৯শ শতকের বাংলার রন্ধনশিল্পে কচুর বিভিন্ন ব্যবহার নিয়ে সাহিত্যেও উল্লেখ পাওয়া যায়।