আম চাটনি
অবয়ব
| আম চাটনি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | চাটনি |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| তৈরির সময় | ২০-২৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
আম চাটনি
আম চাটনি বা কাঁচা আমের চাটনি বাঙালির শেষপাতের এক অপরিহার্য এবং ভীষণ মুখরোচক পদ। বিশেষ করে গরমকালে যখন বাজারে প্রচুর কাঁচা আম পাওয়া যায়, তখন টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের এই চাটনি প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হয়। ভারী ও মশলাদার খাবারের পর এই চাটনি মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয় এবং হজমেও সহায়তা করে।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| কাঁচা আম | ৩-৪টি মাঝারি (খোসা ছাড়িয়ে ফালি বা টুকরো করা) |
| চিনি বা গুড় | ১ বা দেড় কাপ (আমের টক এবং মিষ্টির পছন্দ অনুযায়ী) |
| পাঁচফোড়ন | ১ চা-চামচ (ফোড়নের জন্য) |
| শুকনো মরিচ | ২টি |
| হলুদ গুঁড়া | ১/২ চা-চামচ |
| ভাজা মসলা গুঁড়া | ১ চা-চামচ (পাঁচফোড়ন বা আস্ত জিরা ও শুকনো মরিচ টেলে গুঁড়ো করা) |
| লবণ | স্বাদমতো |
| সরিষার তেল | ১-২ টেবিল-চামচ |
| পানি | ১ থেকে দেড় কাপ (আম সেদ্ধ হওয়ার জন্য) |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে কাঁচা আমগুলোর খোসা ছাড়িয়ে পছন্দমতো আকারে (লম্বা ফালি বা চারকোনা টুকরো) কেটে নিন। এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। (আমের আঁটি শক্ত হয়ে গেলে আঁটির অংশটি বাদ দিয়ে শুধু শাঁস নিতে পারেন)।
- চুলায় একটি কড়াই বা প্যান বসিয়ে তাতে সরিষার তেল গরম করুন।
- তেল গরম হলে তাতে শুকনো মরিচ (মাঝখান থেকে ছিঁড়ে) এবং পাঁচফোড়ন দিয়ে দিন।
- ফোড়ন ফুটতে শুরু করলে এবং সুন্দর সুগন্ধ বের হলে, কেটে রাখা কাঁচা আমের টুকরোগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন।
- আমের সাথে স্বাদমতো লবণ এবং হলুদ গুঁড়া দিয়ে মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট নেড়েচেড়ে হালকা করে ভেজে নিন।
- এবার আম সেদ্ধ হওয়ার জন্য কড়াইতে ১ থেকে দেড় কাপ পানি দিয়ে দিন এবং ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।
- চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। আম পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- আম সেদ্ধ হয়ে গেলে এতে চিনি বা গুড় দিয়ে দিন। এ পর্যায়ে খুব ভালোভাবে নেড়ে দিন যাতে চিনি আমের সাথে মিশে গলে যায়।
- চিনি গলার পর চাটনির ঝোল বেশ পাতলা হয়ে যাবে। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ঝোল ঘন এবং আঠালো হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিন। (চাটনির ঘনত্ব আপনার পছন্দমতো রাখতে পারেন, তবে খুব বেশি শুকিয়ে ফেলবেন না, কারণ ঠান্ডা হলে এটি আরও ঘন হবে)।
- চাটনির ঝোল সুন্দর রসে পরিণত হয়ে মাখা মাখা হয়ে এলে এর ওপর আগে থেকে তৈরি করে রাখা ভাজা মসলার গুঁড়া ছড়িয়ে দিন।
- মসলা চাটনির সাথে হালকা করে মিশিয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন।
রান্নার পরামর্শ
[সম্পাদনা]- ভাজা মসলার জাদুকরী স্বাদ: চাটনির আসল সুঘ্রাণ লুকিয়ে থাকে এই ভাজা মসলায়। সামান্য পাঁচফোড়ন (বা শুধু জিরা ও মৌরি) এবং একটি শুকনো মরিচ শুকনো তাওয়ায় টেলে গুঁড়ো করে নিন। নামানোর ঠিক আগে এই মসলা ছড়িয়ে দিলে চাটনির স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।
- মিষ্টির পরিমাণ: কাঁচা আম কতটা টক, তার ওপর ভিত্তি করে চিনি বা গুড়ের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। গুড় দিয়ে চাটনি তৈরি করলে এর রং খুব সুন্দর লালচে হয় এবং স্বাদও একটু ভিন্ন মাত্রার হয়।
- সংরক্ষণ: এই চাটনি কাঁচের বয়ামে ভরে ফ্রিজে রেখে অনেক দিন পর্যন্ত খাওয়া যায়। সংরক্ষণের জন্য চাটনি চুলা থেকে নামানোর পর সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে তবেই বয়ামে ভরতে হবে।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল আমের চাটনি