বিষয়বস্তুতে চলুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস/ উদ্দীপনাময় বিংশ শতাব্দী এবং নিষেধাজ্ঞা

উইকিবই থেকে

রাজনীতি ও সরকার

[সম্পাদনা]

ওয়ারেন জি. হার্ডিংয়ের রাষ্ট্রপতি পদ

[সম্পাদনা]

ব্যবসার প্রতি এক নতুন সহানুভূতির প্রকাশ ঘটে ১৯২০ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী ওয়ারেন জি. হার্ডিংয়ের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে। তার প্রশাসন ১৯২১ সালের বাজেটিং ও হিসাব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজতর করে। তারা গণপিটুনির বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের সমর্থন জানায় (যদিও তা কংগ্রেসে পাস হয়নি) এবং কৃষক সমবায় ও কৃষি ঋণ ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য কিছু বিল অনুমোদন করে।

কেলেঙ্কারি

[সম্পাদনা]

হার্ডিংয়ের প্রশাসন বিভিন্ন কেলেঙ্কারির জন্যও পরিচিত ছিল। তিনি ওহাইওর এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানের কথা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। তিনি এমন কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে উচ্চপদে নিয়োগ দেন যারা এসব পদকে নিজেদের লাভের উৎস হিসেবে দেখতেন। এদের একজন ছিলেন ভেটেরান্স ব্যুরোর প্রধান চার্লস ফরবস। তিনি সরকারি চুক্তি নিয়ে জালিয়াতি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আরেকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল হ্যারি ডরটি। তিনি অবৈধ মদ পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু নিজেই নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিচার এড়িয়ে যান।

টিপট ডোম কেলেঙ্কারি
[সম্পাদনা]

এই কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল টিপট ডোম কেলেঙ্কারি। এতে জানা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলবার্ট ফল ঘুষ গ্রহণ করে সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলোর কাছে ইজারা দিয়েছিলেন। তার আগে হার্ডিংয়ের পূর্বসূরি রাষ্ট্রপতি থিওডোর রুজভেল্ট, উইলিয়াম টাফট ও উড্রো উইলসন একটি জনপ্রিয় সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করেছিলেন। ওই আইন অনুযায়ী ওয়াইওমিং ও ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু নৌবাহিনীর জন্য নির্ধারিত খনিজ তেল সংরক্ষিত এলাকাকে ভবিষ্যতের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। তিনটি সংরক্ষিত তেল ক্ষেত্র ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার এল্ক হিলস ও বুয়েনা ভিস্তা হিলস এবং ওয়াইওমিংয়ের টিপট ডোম। এই জমিগুলো ছিল জনসাধারণের মালিকানাধীন এবং কেবলমাত্র নিয়মিত তেলের জোগান ফুরিয়ে গেলে নৌবাহিনীর জরুরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। টিপট ডোম নামটি এসেছে একটি পাথর থেকে যেটি দেখতে একটি চায়ের পাত্রের মতো এবং তেলের স্তরের ওপর অবস্থিত ছিল। রাজনীতিক ও বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলো এই সংরক্ষণনীতি মানতে চাননি। তারা বলেছিল এসব সংরক্ষণ অপ্রয়োজনীয় এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোই নৌবাহিনীর চাহিদা পূরণ করতে পারবে।[][]

টিপট ডোম কেলেঙ্কারিকে ঘিরে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা ১৯২০-এর দশকজুড়ে চলতে থাকে। ১৯২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে তেলের ইজারাগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া হয়েছে। সেই বছর ফেব্রুয়ারিতে এল্ক হিলসের ইজারা ও অক্টোবরে টিপট ডোমের ইজারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। নৌবাহিনী আবার টিপট ডোম ও এল্ক হিলস তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। আলবার্ট ফল ১৯২৯ সালে ঘুষ গ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে এক লাখ ডলার জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হ্যারি সিনক্লেয়ার তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেন এজন্য তাকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং জুরি প্রভাবিত করার অভিযোগে স্বল্পমেয়াদী দণ্ড দেওয়া হয়। এডওয়ার্ড ডোহেনি অবশ্য ১৯৩০ সালে আলবার্ট ফলকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ থেকে খালাস পান।

টিপট ডোম কেলেঙ্কারি কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই বিজয় বয়ে আনেনি। ১৯২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটি বড় একটি ইস্যু হয়ে ওঠে। তবে কোনো দলই পুরোপুরি এই দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনের কৃতিত্ব নিতে পারেনি। এটি ছিল মার্কিন সরকারের দুর্নীতির প্রথম বাস্তব প্রমাণ। এই কেলেঙ্কারি প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতির সমস্যা তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ জরুরি এই বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে। রাষ্ট্রপতি হার্ডিংয়ের মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সমস্যাটির মোকাবিলা করেন এবং তার প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকে।

প্রযুক্তি

[সম্পাদনা]

যদিও এ সময়ে অসংখ্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ঘটেছিল আমেরিকার জীবনে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছিল তার দুটি প্রধান প্রযুক্তিগত ভিত্তি ছিল গণউৎপাদন (অ্যাসেম্বলি লাইন) এবং গণপরীক্ষা।

বৃহৎ স্টিল কারখানা ও বস্ত্রকলাগুলোতে মানুষকে যন্ত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হতো। সামান্য ভুলই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত যা কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারত। হেনরি ফোর্ডের অ্যাসেম্বলি লাইন একই নীতিতে কাজ করত তবে আরও অনেক দূর এগিয়েছিল। একটি গাড়ি এক কর্মী থেকে আরেক কর্মীর কাছে, এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে যেত। প্রতিটি কর্মীর কাজ ছিল নির্দিষ্ট স্ক্রু টাইট করা কোনো যন্ত্রাংশ যোগ করা এবং তিনি কেবল সেই কাজটিই করতেন যেন তিনিও এক ধরনের যন্ত্র। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই কাজটি সবচেয়ে দক্ষভাবে করা। (এই ব্যবস্থায় কাজের দক্ষতা বিশ্লেষকদের, যেমন ফ্রেডারিক উইন্সলো টেলর এবং গিলব্রেথদের ধারণা ব্যবহার করা হয়েছিল।)

এই চরম পদ্ধতির সুফল ছিল মৌলিক। বস্ত্রকলার মতো এখানে দিনরাত যেকোনো সময়ে দ্রব্য দ্রুত তৈরি করা যেত। এই কাজে বেশি প্রশিক্ষণেরও দরকার হতো না। এই ব্যবস্থার প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। মডেল টি গাড়ি ছিল টেকসই। "টিন লিজি" নামে পরিচিত এই গাড়ি আত্মপ্রসাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল এমনকি যখন নতুন গাড়িতে সেলফ-স্টার্টার যুক্ত হলো তখনও। গাড়িগুলো ছিল সাশ্রয়ী। হেনরি ফোর্ড নিয়মিত মজুরি বাড়াতেন এবং বলতেন যারা গাড়ি তৈরি করে তারা যেন নিজেরাও তা কিনতে পারে।

তবে একটি সমস্যা ছিল এই গাড়িগুলো দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। স্ট্যানলি স্টিমার দেখতে মসৃণ ও স্টাইলিশ ছিল। ডুসেনবার্গ ও পিয়ার্স-অ্যারো ছিল নানা রঙের এবং কিছুতে ফুলদানি পর্যন্ত ছিল। ফোর্ড বিখ্যাতভাবে বলেছিলেন ক্রেতারা যেকোনো রঙ নিতে পারেন "যতক্ষণ না তা কালো!" পরে যখন মানুষ ধনী হলো তারা নিজের রুচি অনুযায়ী রঙিন গাড়ি কিনতে শুরু করল। তবে এটি ছিল ফোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছুটা বিচ্যুতি।

এর চেয়েও বড় বিষয় ছিল অ্যাসেম্বলি লাইনে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত ক্লান্তিকর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে কিছু নির্দিষ্ট পেশী ব্যবহার করে কাজ করতে হতো। মানুষ এমনভাবে তৈরি হয়নি যে সে এভাবে কাজ করবে। যেহেতু কাজ ছিল খুব নির্দিষ্ট এবং সহজ শ্রমিকদের বদলে দেওয়াও ছিল সহজ। সব মালিক কিন্তু ফোর্ডের মতো ভালো বেতন দিতেন না।

গণপরীক্ষা ছিল অ্যাসেম্বলি লাইনের অপরিহার্য অংশ একটি খারাপ যন্ত্রাংশ মানেই খারাপ পণ্য। তবে এই ধারণার শুরু মানবসম্পর্কিত ছিল ১৯ শতকের শেষের আদমশুমারিতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উপযুক্ত সৈনিক বাছাইয়ের প্রয়োজনে এই পরীক্ষা আরও গুরুত্ব পায়। মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের পরীক্ষা তৈরি করেন। অস্ত্রও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হতো কারণ সামান্য ত্রুটিপূর্ণ পণ্য যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত।

যুদ্ধোত্তর যুগে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ তৈরি করে। কোনো পরিবর্তন আনার আগে প্রোটোটাইপ তৈরি হতো এবং জনগণের উপর প্রভাব খুঁটিয়ে দেখা হতো। অর্থনীতি তখন আর শুধু সমৃদ্ধির প্রশ্ন ছিল না বরং যত বেশি মানুষকে বিক্রি করা যায় সেই লক্ষ্যেই এগোতো। ("গণবাজার" শব্দটির উৎপত্তি ঘটে ১৯২০-এর দশকে।)

অটোমোবাইল

[সম্পাদনা]
ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরের একটি দৃশ্য। এখানে পথচারী, ট্রলি ও স্ট্রিট কার একসঙ্গে সেতু পার হচ্ছে।

১৯২০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল শিল্প অ্যাসেম্বলি লাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক প্রসার লাভ করে। গাড়ি আমেরিকান জীবনযাত্রার ধরন পাল্টে দেয়। ১৯২৯ সালে প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের মধ্যে একজনের গাড়ি ছিল। তারা স্ট্রিট কারের বদলে নিজের গাড়ি ব্যবহার করতে শুরু করে। ঘোড়ার পরিবর্তে গাড়ি চলে আসে। এতে রাস্তা আরও পরিষ্কার হয় কারণ ঘোড়ার মল কমে যায়। (তবে এর বদলে অন্য ধরনের সূক্ষ্ম দূষণ শুরু হয়। ১৯২০-এর দশকে গ্যাসোলিন কোম্পানিগুলো ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বাড়াতে জ্বালানিতে সিসা যোগ করতে শুরু করে।)

এই সময়ে "চাকা-ওয়ালা ঘরবাড়ি" ধারণার সূচনা হয়। মানুষ খাবার ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম গাড়িতে নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ত।[] ১৯২০-এর দশকে অধিকাংশ গাড়িতে কাপড় বা স্টিলের ছাদ যোগ হয় যা প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য কিছুটা ব্যক্তিগত স্থান তৈরি করে দেয়। নারীরা এই গাড়ি বিপ্লব থেকে উপকৃত হয়। যারা গাড়ি চালানো শিখেছিল তারা স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করত, কাদাযুক্ত রাস্তা পেরিয়ে যেত এবং প্রয়োজনে গাড়ি মেরামতও করত। ধনী আফ্রিকান-আমেরিকানরা স্থানীয় বৈষম্য এড়িয়ে কিছুটা স্বাধীনতা পায়। তারা গাড়িতে করে "বন্ধ" শ্বেতাঙ্গ এলাকাগুলো অতিক্রম করে সৈকত, ক্যাম্প ও অন্যান্য ছুটির গন্তব্যে যেতে পারত। (তবে তাদের গাড়িতে খাবার, পানি ও জ্বালানি নিয়ে যেতে হতো, মাঝপথে থামা নিরাপদ ছিল না। আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য নিরাপদ ব্যবসার তালিকা, নিগ্রো মোটরিস্ট গ্রিন বুক ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।) গাড়ি ছিল এক ধরনের সামাজিক সমতা আনয়নকারী।

১৯২৭ সালের ফোর্ড মডেল টি

১৯২৩ সালে ১০৮টি অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ছিল এবং মালিকেরা নিজের রুচি অনুযায়ী রঙ বেছে নিতে পারত। তখন জ্বালানির প্রাচুর্য ছিল। ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মোট তেলের ৬৫ শতাংশ উৎপাদন করত। রাস্তাঘাট নির্মাণ ছিল ব্যাপক। প্রথম সময় নির্ধারিত ট্র্যাফিক বাতি চালু হয় ১৯২৪ সালে।[]

অটোমোবাইল উৎপাদন ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত শিল্পগুলোও বাড়তে থাকে পেট্রোলিয়াম, ইস্পাত ও কাচের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। রাজ্য সরকারগুলো গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণ শুরু করে। দেশজুড়ে গ্যাসোলিন স্টেশন স্থাপন করা হয় যা তেল শিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধির সাক্ষ্য। গাড়ি বিক্রেতারা কিস্তিতে কেনার ব্যবস্থা চালু করে যা পরে অন্য ব্যবসায়েও ব্যবহৃত হয়। তাই গাড়ি শিল্পের প্রসার গোটা দেশেই প্রভাব ফেলেছিল। হেনরি ফোর্ডের অ্যাসেম্বলি লাইনের উন্নত নকশার ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও গাড়ি কেনা সম্ভব হয়। গাড়ি কারখানায় অনেক মানুষ কাজ পায়।

স্বাস্থ্য ও আয়ু

[সম্পাদনা]

খাদ্য ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই জানা ছিল। উদাহরণস্বরূপ ১৮শ শতক থেকেই জানা ছিল স্কার্ভি রোধে ফল খেতে হয় তাই নাবিকরা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় ফল সঙ্গে রাখত। তবে স্কার্ভি যে ভিটামিন সি এর ঘাটতির কারণে হয় তা জানা যায় ১৯৩২ সালে।

১৯১৫ সাল থেকে ১৯২০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ভিটামিন আবিষ্কৃত হয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আইন নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে শুরু করে। দ্রুত পরিবহন ও রেফ্রিজারেশনের কারণে মানুষ আরও ভালো ও নানা ধরনের খাবারের নাগালে আসে। ১৯৩০ সাল নাগাদ পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন কোন খাবার ও কোন ভিটামিন-মিনারেল গ্রহণ করা দরকার তা জনগণকে বোঝাতে শুরু করেন। খাদ্য কোম্পানিগুলোও তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে জানাতে থাকে কোন পণ্যে কতটুকু ভিটামিন আছে। তবে অনেক বিজ্ঞাপনে পুষ্টি নিয়ে ভুল ধারণাও দেওয়া হতো। যেমন কিছু চকলেট বারকে বলা হতো "খাদ্যমূল্য" সমৃদ্ধ। ওয়েলচস গ্রেপ জুসে পুষ্টি ও ভিটামিনের কথা বলা হলেও চিনি যে অনেক বেশি তা উল্লেখ করা হতো না।

তবে পুষ্টি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ায় অনেক আমেরিকান আরও স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে। এই দশকেই পেনিসিলিন ও ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ৫৪ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বাড়ে এবং শিশু মৃত্যুর হার এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। তবে অশ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি প্রযোজ্য ছিল না। তাদের শিশু মৃত্যুহার শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি ছিল। (দারিদ্র্যপীড়িত ও কৃষ্ণাঙ্গ গ্রামীণ জনগণের মধ্যে রিকেটস রোগকে খারাপ বংশগতি বা "দুষ্ট রক্ত" হিসেবে দেখা হতো। এই সময়ে আমেরিকায় ইউজেনিক্স ও জোরপূর্বক বন্ধ্যাত্বকরণের প্রবণতাও বেড়ে যায়।) দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর হারও প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়ে যায় কারণ গাড়ি তখন আরও দ্রুতগতির ও সাধারণ হয়ে উঠেছিল।

বয়স্ক আমেরিকানরা ও অবসরজীবন

[সম্পাদনা]

যেহেতু বেশি মানুষ বার্ধক্যে পৌঁছাতে শুরু করে তাই পেনশন ও বৃদ্ধ সহায়তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ে। ২০শ শতকের তৃতীয় দশকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের এক-তৃতীয়াংশ অর্থনৈতিকভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গত ৫০ বছরে অনেক ইউরোপীয় দেশ রাষ্ট্র-সমর্থিত পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছিল। তবে ১৯২৩ সালে পেনসিলভানিয়া চেম্বার অব কমার্স বৃদ্ধ সহায়তাকে বলেছিল "অ-আমেরিকান ও সমাজতান্ত্রিক"। এরপরও ১৯২০-এর দশকে রাজ্যগুলোর এই বিরোধিতা ধীরে ধীরে কমে যায়। আইজ্যাক ম্যাক্স রুবিনো ও আব্রাহাম এপস্টেইন আইন প্রণেতা ও শ্রম ইউনিয়নগুলোকে বৃদ্ধ সহায়তার পক্ষে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। ১৯৩৩ সালের মধ্যে প্রায় সব রাজ্যই দারিদ্র্যপীড়িত বৃদ্ধদের জন্য কিছু না কিছু সহায়তা দিত।

১৯২০-এর দশকের সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]
ফ্ল্যাপার পোশাক ১৯২০-এর দশকের এক প্রতীক হয়ে ওঠে

এই সময়কালে সমাজে নতুন সামাজিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটে। কী ধরনের আচরণ সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তরুণ-তরুণীরা ধূমপান, মদ্যপান এবং যৌনতা সম্পর্কে খোলামেলা চিন্তাভাবনা শুরু করে। তারা আগের মতো বাবা-মার প্রভাবাধীন না থেকে সহপাঠী ও বন্ধুদের প্রভাবে বেশি চলতে শুরু করে। শহরের স্কুলগুলো ব্যাপক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়। একই বয়সী শিশুদের একসঙ্গে পড়ানো শুরু হয়। তরুণদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারি ছাড়াই প্রেম-ডেটিং করার প্রবণতা একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের নারী প্রতীক ছিল "ফ্ল্যাপার" আর তরুণ পুরুষদের মধ্যে "র্যাকুন কোট পরা শেইখ" ছিল এই পরিবর্তনের প্রতীক। সে সময়ের ফ্যাশনের পোশাকগুলো স্তনের জায়গাকে গুরুত্ব না দিয়ে পেটের অংশ সমান রাখত এটিকে বলা হতো “ছেলেসুলভ গড়ন”। ফ্ল্যাপার নারীদের চুল তাদের মা-নানীদের মতো লম্বা ছিল না। বরং তারা ছোট করে ছাঁটা "বব কাট" রাখত। তারা পুরুষদের মতো মদ্যপান ও ধূমপান করত সব আধুনিক নাচ ও গানের সুর জানত, খোলাখুলি গালি দিত এবং যৌনতা নিয়ে কথা বলত। ফ্ল্যাপাররা কতটা সাধারণ ছিল তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে ছোট চুল সেই সময়ে অনেক মেয়ে ও নারীর মধ্যেই জনপ্রিয় ছিল। যদিও এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ ছিল না। লুইস ব্রুকস এবং ক্লারা বো-র মতো চলচ্চিত্র অভিনেত্রীদের সিনেমায় মদ্যপান করতে দেখা যেত। আর লেখক এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের রচনায় ফ্ল্যাপার নিয়ে সাহিত্যিক আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায়।

যুদ্ধের সময় সৈনিকদের যৌন রোগ প্রতিরোধ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এর ফলে তারা গর্ভনিরোধক নিয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে। সে সময়ে পশুর টিস্যুর বদলে ল্যাটেক্স দিয়ে কনডম তৈরি হতে শুরু করে। এগুলো এখন উৎপাদনশীলভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আরও সহজলভ্য এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। শিশুদের টিকে থাকার হার বাড়ায় এবং জন্মের সময় ঠিক করার সুযোগ থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্তানসংখ্যা চার-পাঁচ থেকে নেমে দুই-তিনে দাঁড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত এই প্রবণতা ইউজেনিক্স আন্দোলনের সঙ্গে মিশে যায়।

মধ্যবিত্ত শ্রেণি যখন বেশি গতিশীল হয়ে ওঠে তখন তারা দাদা-দাদী কিংবা আত্মীয়দের পরামর্শের ওপর নির্ভরতা হারাতে থাকে। এর পরিবর্তে "বিশেষজ্ঞ"দের শিশু পরিচর্যার পরামর্শ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সে সময়কার এই পরামর্শগুলো আজকের ব্যবহৃত পদ্ধতির চেয়ে ছিল ভিন্ন। ১৯২৮ সালে জন বি. ওয়াটসন তার বইয়ে পরামর্শ দেন শিশু কাঁদলে কোলে না নিতে অতিরিক্ত আদর না করতে এবং তাদের খুব বেশি প্রশ্রয় না দিতে।

রেডিও

[সম্পাদনা]
রেডিও ব্যবহার করছে কিছু মানুষ

রেডিও প্রথমে জাহাজ ও স্থলের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো যেমন টাইটানিক যখন মোরস কোডে এস-ও-এস পাঠায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও এটি দুই পক্ষের হাতিয়ার ছিল। প্রেসিডেন্ট উইলসন রেডিও জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন যেমন পরে গ্রেট ব্রিটেন বিবিসি জাতীয়করণ করে। তবে কর্পোরেট মহলের প্রতিবাদে উইলসনের পরিকল্পনা বাতিল হয়।[] ১৯২০ সালের দিকে হাজারো কৌতূহলী যন্ত্রের শব্দ শোনা যেত। মাঝে মাঝে দূরবর্তী কণ্ঠস্বর কিংবা সঙ্গীতের টুকরো শোনা যেত। ওই বছরেই অ্যাসেম্বলি লাইনের মাধ্যমে আরসিএ "ক্যাটস হুইস্কার" নামক রিসিভার চার ডলারেরও কম দামে বাজারে আসে। ১৯২০ সালের অক্টোবরে ওয়েস্টিংহাউস প্রথম রেডিও স্টেশন কেডিকে তৈরি করে। নভেম্বরে এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সরাসরি সম্প্রচার করে।[]

১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান প্রচার হতো। ১৯২৪ সালে নিউ ইয়র্ক ও বোস্টনের মধ্যে ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কোম্পানি প্রথম রেডিও নেটওয়ার্ক গঠন করে। ১৯২৭ সালে কলাম্বিয়া ব্রডকাস্টিং সিস্টেম চালু হয়। ১৯২৬ সালে ফেডারেল রেডিও কমিশন গঠন করা হয় এবং ১৯২৭ সালের রেডিও আইনের মাধ্যমে এটি সংগঠিত হয়। বিজ্ঞাপনদাতারা অনুষ্ঠান স্পন্সর করত। জনপ্রিয় একটি সংগীতানুষ্ঠান ছিল "দি এ অ্যান্ড পি জিপসিস" যা এ অ্যান্ড পি গ্রোসারি স্টোরের জন্য সারা দেশে প্রচারিত হতো। সংবাদ ও বিনোদনের বিষয়বস্তু বিজ্ঞাপনদাতারা যাচাই করত। কোনো কিছু তাদের অপছন্দ হলে তা প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক কিছু সম্প্রচার করা যেত। মাঝেমধ্যে উচ্চ সংস্কৃতির অনুষ্ঠানও শোনা যেত (যদিও মেট্রোপলিটন অপেরার সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৩১ সালের শেষে)। কিন্তু মূলত মাঝারি মানের গানই প্রচার করা হতো যেমন “দ্য লস্ট কর্ড” বা “ড্রিংক টু মি অনলি উইথ থাইন আইজ”। জনপ্রিয় গান বাজানো হলেও জ্যাজ সঙ্গীত খুব একটা শোনা যেত না। তথাকথিত “জ্যাজের রাজা” পল হুইটম্যানকেও ঠিক জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী বলা যায় না। তবে এর ব্যতিক্রম ছিল। মেক্সিকোর কিছু শক্তিশালী রেডিও স্টেশন জ্যাজ “কালোদের সঙ্গীত” এবং বিষাক্ত ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার করত। দেশের অনেক সংস্কৃতি তখনও রেডিওতে আসেনি। তবে ১৯২৫ সালে গ্র্যান্ড ওলে অপরি অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যুতায়নের প্রসারে রেডিওর বাজারও বাড়তে থাকে। কিছু স্টেশন পরীক্ষামূলক প্রচার শুরু করে। দুই শ্বেতাঙ্গ কমেডিয়ান ফ্রিম্যান গসডেন ও চার্লস কোরেল একটি সেন্টিমেন্টাল ও হাস্যরসাত্মক ধারাবাহিক শুরু করেন নাম ছিল ‘‘আমোস 'এন' অ্যান্ডি’’। তখন এমনকি ওহাইয়োর মতো উত্তর রাজ্যেও আফ্রিকান আমেরিকানদের লিঞ্চ করা হতো। সেই সময়ে এই কমেডি ছিল দুইজন “অজ্ঞ” আফ্রিকান আমেরিকানকে নিয়ে যারা ভুলভাল উচ্চারণ করত। তবে এই অনুষ্ঠান তাদের প্রতি সহানুভূতিও তৈরি করত। “এক পর্বে দেখা যায় আমোস ও অ্যান্ডির খুব দরকার একটা টাইপরাইটার। সাথে সাথে শ্রোতারা প্রায় দুই হাজার টাইপরাইটার পাঠিয়ে দেন। ” তবে ‘‘আমোস 'এন' অ্যান্ডি’’ এর জনপ্রিয়তা আসলে এই নতুন জাতীয় অভিজ্ঞতার প্রতি মানুষের উত্তেজনা থেকেই আসে। “এই প্রথম আমেরিকানরা একসঙ্গে, একই মুহূর্তে, একটি অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারছিল।”[]

সিনেমা

[সম্পাদনা]
চার্লি চ্যাপলিন, ১৯২০-এর দশকে একজন খ্যাতনামা ব্রিটিশ চলচ্চিত্র তারকা, একটি প্রাথমিক হলিউড স্টুডিও প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন।[]

১৯২০-এর দশকে সিনেমা জনপ্রিয় বিনোদনের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়। ১৯২২ সালের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ কোটি মানুষ সিনেমা দেখতে যেত। দশকের শেষ দিকে এ সংখ্যা প্রায় ১০ কোটিতে পৌঁছে যায়। ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কস, মেরি পিকফোর্ড এবং চার্লি চ্যাপলিনের মতো চলচ্চিত্র তারকারা সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

আটটি স্টুডিও এই শিল্পে আধিপত্য বিস্তার করে এবং একটি চলচ্চিত্রের উৎপাদনের সব দিক একত্রিত করে নিয়ন্ত্রণ করত। ১৯২৯ সালের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পে যেসব প্রতিষ্ঠান আধিপত্য বিস্তার করেছিল সেগুলো ছিল ‘বড় পাঁচ’ বা ‘দ্য বিগ ফাইভ’ নামে পরিচিত প্রধান স্টুডিও। এই ‘বিগ ফাইভ’ ছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্স, আরকেও, প্যারামাউন্ট, মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ার এবং ফক্স ফিল্ম কর্পোরেশন। তারা আমেরিকার ৯০ শতাংশেরও বেশি কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরি করত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতরণ করত। প্রতিটি স্টুডিও তাদের প্রযোজিত চলচ্চিত্রকে কিছুটা স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করত।

প্রতিটি সিনেমা হল কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট স্টুডিওর চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে পারত। যেমন নিউ ইয়র্কের প্যারামাউন্ট থিয়েটার কেবল প্যারামাউন্ট স্টুডিওর কার্টুন, সংবাদচিত্র এবং কাহিনিচিত্র দেখাত। (১৯২০-এর দশকে প্যারামাউন্ট ম্যাক্স ফ্লেইশার স্টুডিওর কো-দ্য ক্লাউন কার্টুন বিতরণ করত।) স্টুডিওর প্রতিটি বিভাগকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক চলচ্চিত্র তৈরি করতে হতো। কোনো সিনেমা হল যদি গ্লোরিয়া সোয়ানসন বা রুডলফ ভ্যালেনটিনোর সিনেমা পেতে চাইত তবে তাকে একটি কম জনপ্রিয় তারকার কিছু সিনেমাও নিতে হতো। এই ‘ব্লক বুকিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু তারকাকে প্রচার দেওয়া হতো এবং সিনেমা হলগুলো স্টুডিওর নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। তবে এর বিনিময়ে প্রতিটি থিয়েটার প্রতি সপ্তাহে নতুন সিনেমা পাওয়ার নিশ্চয়তা পেত এবং স্টুডিওর পূর্ণ সমর্থনও থাকত। প্রজেকশনিস্ট, উশার, মিষ্টি ও সিগারেট বিক্রেতা ছাড়াও প্যারামাউন্ট থিয়েটারে নিযুক্ত থাকত এক জন বিশাল অর্গানের সহায়তায় নির্বাক চলচ্চিত্রে সঙ্গত করার জন্য একজন প্রতিভাবান সঙ্গীতজ্ঞ। হলের দেয়াল হাতে আঁকা ছবিতে সজ্জিত থাকত। এমন উচ্চমানের থিয়েটারগুলোকে বলা হতো "সিনেমা প্রাসাদ"।

সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টুডিও সিনেমাগুলোর কাহিনি হতো বিদেশি রোমান্টিক পরিবেশে। যেমন ১৯২১ সালের দ্য ফোর হর্সম্যান অব দ্য অ্যাপোক্যালিপস এ আর্জেন্টিনা এবং ১৯২৪ সালের দ্য থিফ অব বাগদাদ এ পারস্য। ১৯২৫ সালের বেন হুর ছবির কিছু অংশ ইতালিতে এবং কিছু অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল সেটে চিত্রায়িত হয়। ছবির বিখ্যাত রথের দৌড়ের দৃশ্য ধারণে ৪২টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত চরিত্র হিসেবে সেখানে ছিলেন ব্যারিমোর ভাইয়েরা, লিলিয়ান ও ডরোথি গিশ, কৌতুক অভিনেতা হ্যারল্ড লয়েড, মিডিয়া ব্যবসায়ী উইলিয়াম র‍্যান্ডলফ হার্স্টের প্রেয়সী ম্যারিয়ন ডেভিস, এবং স্টুডিও প্রধান স্যামুয়েল গোল্ডউইন। ধর্মীয় দৃশ্যগুলোতে দ্বি-টোন টেকনিকালার ব্যবহার করা হয়। এটি ছিল তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র।[]

নিষেধাজ্ঞা

[সম্পাদনা]
একটি অভিযানের পর এজেন্টরা মদের বোতল নর্দমায় ঢালছে।

যদিও মোট মদ্যপানের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছিল তবে অনেকেই নিষেধাজ্ঞাকে প্রকাশ্যেই অমান্য করত। নিষেধাজ্ঞা সংজ্ঞায়িত করা ২২ পৃষ্ঠার আইন ‘ভলস্টেড আইন’ এ বেশ কিছু ফাঁকফোকর ছিল। গির্জাগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মদ ব্যবহার করতে পারত। এছাড়া ওষুধ হিসেবে মদপানও অনুমোদিত ছিল যেহেতু তা এখনো চিকিৎসার অংশ ছিল। হঠাৎ করেই ‘ধর্মীয়’ ও ‘ঔষধি’ মদের ব্যবহার বেড়ে যায়।

কিছু অবৈধ মদ আমদানি হতো কানাডা, কিউবা ও মেক্সিকো থেকে, যেখানে মদ নিষিদ্ধ ছিল না। কিছু মদ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি। দেশজুড়ে অনেক জায়গায় ‘বুটলেগার’রা (অবৈধভাবে মদ সরবরাহকারী) সক্রিয় ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের গোপন স্থানে হুইস্কির অবৈধ উৎপাদন চালু ছিল ‘হুইস্কি বিদ্রোহ’ এর সময় থেকেই। শহরাঞ্চলে তৈরি হতো ‘বাথটাব জিন’। ভলস্টেড আইনে বলা হয়েছিল নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে মদ পান বৈধ তবে প্রকাশ্যে একত্র হয়ে মদ্যপান নিষিদ্ধ। শহরাঞ্চলে গোপনে গড়ে ওঠা ‘স্পিকইজি’ নামে বারগুলো ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব স্থাপনার পেছনে ছিল অর্থ। ফলে একটি নতুন অপরাধচক্র গড়ে ওঠে যারা এসব বার পরিচালনা করে লাভ করত। তারা পুলিশের ঘুষ নিত যাতে আইন প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। এই গোপন অর্থনীতিতে গ্যাংরা ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নিষেধাজ্ঞা থেকে অনেক চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। কিছু কাজ মদ সংক্রান্ত এবং কিছু বৈধ ব্যবসার ছদ্মবেশে ছিল যা স্পিকইজি থেকে আয় করা অর্থ সাদা করার জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে এসব কাজ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতা ছিল নিয়মিত ঘটনা। অনেক সমালোচক মনে করতেন যে নিষেধাজ্ঞা অতিরিক্ত কঠোর ছিল। এতে সাধারণ মানুষও অপরাধী হয়ে উঠছিল যারা মূলত বৈধভাবে মদ কিনত যদি তা বৈধ থাকত।

গ্যাং ও সহিংসতা

[সম্পাদনা]
মেশিন গান কেলি, পুলিশ কর্তৃক আটক

১৯২০-এর দশকে মদ ছিল অবৈধ অথচ তার বিশাল বাজার ছিল। এই পণ্য সরবরাহ করত গ্যাংস্টাররা। এ সময়ের কয়েকজন কুখ্যাত গ্যাংস্টার ছিলেন চার্লস "লাকি" লুচিয়ানো, মেয়ার ল্যানস্কি ও "ডাচ" শাল্টজ। তবে সবচেয়ে বিপদজনক ছিলেন শিকাগোর আল ক্যাপোন। তিনি গোটা মিডওয়েস্ট জুড়ে মদ পাচার করতেন। তিনি মাদক পাচার ও খুনের দায়েও অভিযুক্ত ছিলেন এবং পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের ঘুষ দিতেন।

যদিও অনেকেই ক্যাপোনকে ভয় পেত তবুও অন্য গ্যাংদের সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল। তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চলতেন এবং সবসময় সশস্ত্র দেহরক্ষী সঙ্গে রাখতেন। শিকাগোতে প্রতিদিনই সহিংসতা ঘটত। মাত্র চার বছরে ২২৭ জন গ্যাংস্টার খুন হয়। ১৯২৯ সালের ভালেন্টাইনস ডে তে পুলিশের ছদ্মবেশে গ্যাংস্টাররা ও’ব্যানিয়ন গ্যাংয়ের সাত সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে।

১৯৩১ সালে সরকার ক্যাপোনকে সরাসরি সহিংসতার অভিযোগে নয় বরং কর ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তিনি ১১ বছরের জেল পান এবং জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার শারীরিক অবস্থা ভেঙে পড়ে।

বনি ও ক্লাইড

[সম্পাদনা]
বনি ও ক্লাইড

বনি ও ক্লাইডও ১৯২০-এর দশকের নিষেধাজ্ঞা যুগের একটি কুখ্যাত অপরাধী জুটি ছিল। ক্লাইড চ্যাম্পিয়ন ব্যারো ও তার সঙ্গিনী বনি পার্কার একদল গ্যাং নিয়ে বিভিন্ন খুন ও ডাকাতি করত। ১৯৩৪ সালের ২৩ মে লুইজিয়ানার সাইলসের কাছে এক অতর্কিত অভিযানে পুলিশ তাদের গুলি করে হত্যা করে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর অপরাধী ধরার ঘটনা।

ব্যারোর বিরুদ্ধে অসংখ্য খুন ডাকাতি ও অপহরণের অভিযোগ ছিল। ১৯৩২ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘বুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ (পরবর্তীতে এফবিআই নামে পরিচিত) ব্যারো ও বনি পার্কারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। সেপ্টেম্বরে জ্যাকসন মিশিগানের কাছে এক ফোর্ড গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় যেটি ওকলাহোমার পাওহাসকা থেকে চুরি হয়েছিল। পাওহাসকায় আরও একটি ফোর্ড গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় যেটি ইলিনয় থেকে চুরি হয়েছিল। গাড়ির ভেতরে পুরুষ ও নারীর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই গাড়ি থেকে একটি ওষুধের বোতল পাওয়া যায় যা অনুসরণ করে তদন্তকারীরা টেক্সাসের ন্যাকোগডোসেস শহরের একটি ফার্মেসিতে পৌঁছে যায়। জানা যায় ওষুধটি ক্লাইড ব্যারোর এক খালার নামে নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে জানা যায় ক্লাইড ব্যারো, বনি পার্কার এবং ক্লাইডের ভাই এল. সি. ব্যারো সম্প্রতি সেই নারীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তারা যে গাড়িতে করে এসেছিল সেটিই ছিল ইলিনয় থেকে চুরি হওয়া ফোর্ড। আরও জানা যায় ওষুধের বোতলটি খালার ছেলের কাছ থেকে এল. সি. ব্যারো নিয়েছিল।

১৯৩৩ সালের ২০ মে ডালাসের একজন মার্কিন কমিশনার ক্লাইড ব্যারো ও বনি পার্কারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযোগ ছিল তারা ইলিনয় থেকে চুরি করা গাড়ি আন্তঃরাজ্য পরিবহন করে ডালাস থেকে ওকলাহোমা নিয়ে গিয়েছিল। এরপর এফবিআই এই জুটিকে ধরার অভিযান শুরু করে।

ধর্ম ও পুনর্জাগরণবাদ

[সম্পাদনা]

সংবাদপত্রের ধর্মীয় বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় ছিল। ১৯২০-এর দশকে রেডিও নতুন একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে যার মাধ্যমে ধর্মীয় বার্তা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। গির্জাগুলো রেডিও স্টেশন থেকে সম্প্রচারের সময় কিনত। এতে করে তারা নিজেদের প্রতিবেশীবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করতে পারত। শহরের রেডিও স্টেশনগুলো ক্যাথলিক, ইহুদি, এমনকি সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠী বা উপাসনালয়ের অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করত। এতে করে ধর্মীয় বিষয়বস্তু সরাসরি শ্রোতাদের ঘরে পৌঁছাত যা ছাপা মিডিয়ার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ধর্মীয় পুনর্জাগরণ তখন মূলধারার ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ছোট ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায় দু'দিকেই দৃশ্যমান ছিল। প্রচারকরা মানুষকে আনন্দ-বিনোদন ত্যাগ করে খাঁটি বিশ্বাসের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাতেন। তাদের অনেকেই সিনেমা, থিয়েটার, উপন্যাস, তাস খেলা, মদ্যপান, এবং আধুনিক ফ্যাশনযেমন নারীদের ছোট পোশাক ও মেকআপ এর বিরোধিতা করতেন। তারা প্রায়শই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ধর্মীয় পুনর্জাগরণে বিদ্যুৎ আলোকসজ্জা মাইক্রোফোন ও রেডিও সম্প্রচার যুক্ত হয়। কিছু জনপ্রিয় ধর্মপ্রচারক ট্রেনে বা গাড়িতে দেশজুড়ে ভ্রমণ করতেন এবং শহর ও গ্রামে ধর্মীয় সভা করতেন। এই ধরনের বিখ্যাত ধর্মপ্রচারকদের মধ্যে ছিলেন আইমি সেম্পল ম্যাকফারসন ও বিলি সানডে যাঁরা নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিলেন।

জ্যাজ

[সম্পাদনা]
লুইস আর্মস্ট্রং

জ্যাজ হলো একটি আমেরিকান সংগীতশৈলী যা ২০শ শতকের শুরুর দিকে দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে আফ্রিকান ও ইউরোপীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে গঠিত হয়। জ্যাজের "জন্মভূমি" হিসেবে নিউ অরলিন্স শহরকে বিবেচনা করা হয়। অনেক প্রাথমিক জ্যাজ সংগীতশিল্পী নিউ অরলিন্সকে নিজেদের বাড়ি বলে দাবি করতেন এমনকি যদি তারা কখনো সেখানে না গিয়েও থাকতেন। জ্যাজ বহু কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও পুরুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। জ্যাজ খুব দ্রুত সারা আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।[১০] এই ধারার পশ্চিম আফ্রিকান উৎস স্পষ্ট যেমন ব্লু নোট,কল-অ্যান্ড-রেসপন্স, তৎক্ষণাৎ সৃষ্ট সংগীত (ইম্প্রোভাইজেশন), বহু-তাল , ছন্দচ্যুতি , এবং র‍্যাগটাইমের সুইং নোট সংগীত। ১৯২২ সাল থেকে জেনেট রেকর্ডস শিকাগোতে জ্যাজ ব্যান্ডদের রেকর্ড করা শুরু করে। তারা প্রথম রেকর্ড করে নিউ অরলিন্স রিদম কিংস নামের একটি দলকে। ১৯২৩ সালে তারা কিং অলিভারের ক্রেওল জ্যাজ ব্যান্ডের রেকর্ড করে যেখানে ছিলেন লুইস আর্মস্ট্রং। শিকাগোর আরেকটি স্বতন্ত্র কোম্পানি প্যারামাউন্ট রেকর্ডস, জেনেট ও ওকেহ রেকর্ডসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল জ্যাজ প্রতিভা সংগ্রহে।[১১] কৃষ্ণাঙ্গ সমাজও জ্যাজের প্রভাব অনুভব করেছিল। লেখক ল্যাংস্টন হিউজ প্রায়ই তার কবিতায় জ্যাজ সংগীতের উল্লেখ করেছেন কখনো প্রশংসাসূচক, কখনো সমালোচনামূলকভাবে।

বিদেশে ব্যবসা

[সম্পাদনা]

যুদ্ধের পর বহু উৎপাদনকারী কোম্পানি সমস্যায় পড়ে। তারা অস্ত্র ও বিমান তৈরির যুদ্ধকালীন উৎপাদন থেকে যুদ্ধ-পূর্ব পণ্যে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হার্ডিং ও পরে কুলিজের ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা ব্যবসা পরিচালনায় সহায়ক হয়। দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা ভালো চললেও শুল্কহার ২৭% থেকে (আন্ডারউড-সিমন্স শুল্ক অনুযায়ী) ৪১% এ বাড়ানোয় উপকার হয়। পাশাপাশি বহু বড় কোম্পানি বিদেশেও ভালো লাভ করে। যুদ্ধের আগেই যেমন করছিল তারা বিভিন্ন দেশে কারখানা স্থাপন করে যেখানে নির্দিষ্ট সম্পদ পাওয়া যায়। গোশত প্রক্রিয়াকারক গুস্তাভাস সুইফ্ট যান আর্জেন্টিনায়। ফল উৎপাদনকারীরা যান কোস্টারিকা, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালায়। চিনি বাগানের মালিকরা যান কিউবায়। রাবার বাগানের মালিকরা যান ফিলিপাইন, সুমাত্রা ও মালয়ায়। তামা কোম্পানিগুলো চিলিতে যায়। তেল কোম্পানিগুলো যায় মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলায় যা এখনও তেলের একটি বড় উৎস। স্টিমশিপ ও টেলিগ্রাফের কারণে যোগাযোগ ও পরিবহন সহজ হয়ে পড়ে।

সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন

[সম্পাদনা]
রাইফেল হাতে ব্লেয়ার পর্বতের একজন খনি শ্রমিক। মেটওয়ান হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো অস্ত্র তুলে নেয়। যার জবাবে সরকার ও ইউনিয়ন-বিরোধী শক্তিগুলো সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।

১৯২০-এর দশকে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন বড় ধরণের সংকটে পড়ে। এই সময়ে আমেরিকায় কমিউনিজম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়। ফলে যারা শ্রমিক শ্রেণির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে জনমত নেতিবাচক হয়ে ওঠে। জনমত এতটাই ইউনিয়নবিরোধী ছিল যে ১৯২২ সালে প্রেসিডেন্ট হার্ডিং প্রশাসন প্রায় ৪ লক্ষ শ্রমিকের রেল ধর্মঘট দমন করতে আদালতের আদেশ নেয়। একই বছর প্রায় ৬.৫ লক্ষ খনি শ্রমিকের একটি জাতীয় ধর্মঘট দমনেও সরকার ভূমিকা রাখে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার ধর্মঘটের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখায়নি এবং ধর্মঘটের সময় কোনো ক্ষতির জন্য কোম্পানিগুলোকে ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ মামলা

[সম্পাদনা]

সাক্কো-ভানজেট্টি বিচার, লিওপোল্ড ও লোয়েব মামলা, স্কোপস বিচার এবং ব্ল্যাক সক্স মামলা ছিল ১৯২০-এর দশকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদালত মামলা। প্রতিটি মামলাই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

স্কোপস বিচার

[সম্পাদনা]
বিচার কার্যক্রমের একটি ছবি।

১৯২৫ সালে জন টমাস স্কোপস নামের একজন জীববিজ্ঞান শিক্ষক টেনেসিতে বিচারাধীন হন। তিনি তার পাবলিক স্কুলে মানব উদ্ভব বিষয়ে বিবর্তনবাদ শেখানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। সে সময়ের আইন অনুযায়ী বাইবেলের আদম ও হাওয়ার কাহিনিই ছিল মানব উৎপত্তির একমাত্র গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। এই মামলা বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ব্রায়ান মামলার পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বিবর্তনবাদকে ক্ষতিকর ভাবার পাশাপাশি এটিকে ইউজেনিক্সের (জাতি শুদ্ধি) মঞ্চ হিসেবেও দেখতেন। স্কোপস যে সিভিক বায়োলজি বইটি ব্যবহার করতেন তাতে "জাতিগত স্বাস্থ্যবিধি" সমর্থিত ছিল। যদিও আধুনিকপন্থীরা মামলায় হেরে যায় তারা খুশি হয়েছিল কারণ তারা প্রমাণ করতে পেরেছিল যে বিকল্প তত্ত্ব শেখানো নিষিদ্ধ করার আইনটি যুক্তিহীন। তারা এতেও খুশি হয় যে এই রায় মৌলবাদী চিন্তার বিস্তারে কোনো প্রভাব ফেলেনি। স্কোপস বিচার পরবর্তী সময়ে সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট কনভেনশন খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। এটি প্রমাণ করে যে বিচারটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করেছিল। এদের বিশ্বাস থেকে জন্ম নেয় একটি স্বতন্ত্র উপ-সংস্কৃতি যেখানে ছিল নিজেদের স্কুল, রেডিও অনুষ্ঠান ও মিশনারি সংস্থা।

সংখ্যালঘু নারীরা

[সম্পাদনা]

১৯২০-এর দশকে কর্মজীবী সংখ্যালঘু নারীর সংখ্যা শ্বেতাঙ্গ নারীদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল। সংখ্যালঘু নারীরা বিশেষ করে যেসব নারী কারখানায় কাজ করতেন তারা সবচেয়ে কম পারিশ্রমিকের ও অপ্রিয় কাজ করতেন। কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা সাধারণত গৃহস্থালির কাজ যেমন রান্না, পরিষ্কার ও কাপড় ধোয়ার মতো পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সে সময় শিক্ষিত সংখ্যালঘু নারীদের জন্য সমাজসেবা, শিক্ষকতা ও নার্সিং পেশায় কিছু সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু তারা ব্যাপক বৈষম্যের মুখোমুখি হন। পারিবারিক আর্থিক প্রয়োজনে হাজার হাজার সংখ্যালঘু নারী কাজ করতে বাধ্য হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মেক্সিকান নারীরা গৃহপরিচারিকা, পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। মেক্সিকান সংস্কৃতিতে নারীদের কাজ করাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হতো। আফ্রিকান নারীদের পরেই জাপানি নারীরা সবচেয়ে বেশি নিম্নবেতনের চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। তারা নিয়মিতভাবে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের শিকার হতেন।

আফ্রিকান-আমেরিকান এবং কু ক্লাক্স ক্ল্যান

[সম্পাদনা]

কু ক্লাক্স ক্ল্যানের পুনর্জন্ম

[সম্পাদনা]

দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে গণপরিবহনসহ অনেক পাবলিক স্থাপনায় কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা ছিল। দক্ষিণের অর্ধেক এলাকায় ১০ শতাংশেরও কম কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাধিকার পেত।

১৯২১ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে কু ক্লাক্স ক্ল্যান ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়। তখন মিলিয়ন সংখ্যক প্রোটেস্ট্যান্ট এতে যুক্ত ছিল। কু ক্লাক্স ক্ল্যান কেবল দক্ষিণেই নয় ওহাইও, ওরেগন এবং ইন্ডিয়ানার মতো উত্তর রাজ্যগুলোতেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল। ইন্ডিয়ানার গভর্নর ও ওরেগনের এক মেয়র কেএকে কেএকের সদস্য ছিলেন। নারীরাও এতে যুক্ত হয় নারীদের সহযোগী সংগঠনে প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য ছিল। ক্ল্যান সদস্যরা আফ্রিকান-আমেরিকান, ক্যাথলিক ও ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে মিছিল ও সহিংসতা চালায়। মদ চোরাচালানকারী ও পরকীয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও তারা তৎপর ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে উত্তর-পূর্বে ব্যাপক অভিবাসনের বিরোধিতা করা জাতীয়তাবাদীরা ক্ল্যানকে নতুন করে সমর্থন দিতে থাকে।

ক্ল্যানের পুনরুত্থান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে যার সুযোগে রক্ষণশীল রিপাবলিকান ক্যালভিন কুলিজ ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন।

কৃষ্ণাঙ্গদের কু ক্লাক্স ক্ল্যান ব্যাপকভাবে নির্যাতন করে। তবে তারা একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। ক্ল্যান "স্থানীয়, শ্বেতাঙ্গ, প্রোটেস্ট্যান্ট শ্রেষ্ঠত্বে" বিশ্বাস করত। তারা মেক্সিকান, ইহুদি এবং ক্যাথলিকদেরও আক্রমণ করত। কু ক্লাক্স ক্ল্যানের একটি সংবাদপত্রে একটি হাস্যরসাত্মক কবিতা প্রকাশিত হয় যেখানে পোপ ও শয়তানের কথোপকথনে শয়তান বলে কেএকে কেএ "তোমার জন্য নরকে আমার থেকেও বেশি গরম করে দেবে।"[১২] ক্ল্যান মদ চোরাচালানকারী, স্ত্রীকে মারধরকারী, পরকীয়া জড়িত ব্যক্তি এবং এমনকি নাইটস অব কলম্বাসের বিরুদ্ধেও নিজের হাতে শাস্তি দিতে চাইত।[১৩]

গ্রেট মাইগ্রেশন

[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ শহরে কৃষ্ণাঙ্গরা জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ঘনবসতির চাপে পড়ে যায়। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা আশেপাশের শ্বেতাঙ্গ পাড়াগুলোতে বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে। এতে শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারণ তারা ভাবত কৃষ্ণাঙ্গরা এলাকা দখল করলে সম্পত্তির মূল্য কমে যাবে। দক্ষিণ ও উত্তর উভয় শহরেই কৃষ্ণাঙ্গদের উপস্থিতি এবং বসতি, চাকরি, এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রতিযোগিতা বিভিন্ন জাতিগত দাঙ্গার জন্ম দেয়। ১৯২১ সালের তুলসা জাতিগত দাঙ্গা এবং ১৯২৩ সালের রোজউড গণহত্যা যেখানে একটি শহর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয় এই ঘৃণার চরম উদাহরণ। তুলসা দাঙ্গায় স্থানীয় শ্বেতাঙ্গরা একটি সমৃদ্ধ কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ে হামলা চালায়। তারা দোকান ও ঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং এমনকি বিমান থেকে বোমা ফেলে কমিউনিটিকে ধ্বংস করে দেয়।[১৪]

এই গ্রেট মাইগ্রেশন উত্তরের বড় শহরগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়। তারা নিউ ইয়র্ক, শিকাগো ও ডেট্রয়েটের মতো শহরে এবং পশ্চিমে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোতে গিয়ে বসবাস শুরু করে। যদিও অধিকাংশ অভিবাসী দরিদ্র ছিল এবং নিম্নমানের ঘরে থাকত কেউ কেউ ভালো ঘর কিনতেও সক্ষম হয়। কিন্তু সম্পদশালী হলেও শ্বেতাঙ্গ এলাকায় বসবাস করতে পারত না। বর্ণবৈষম্য কখনো সরাসরি প্রকাশ পেত যেমন বিজ্ঞাপনে লেখা থাকত "কৃষ্ণাঙ্গদের প্রয়োজন নেই" আবার কখনো রিয়েল এস্টেট এজেন্টের চুপচাপ অস্বীকৃতির মাধ্যমে। যে সাহসী কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার এই এলাকায় ঘর কিনত তারা প্রতিবেশীদের অবজ্ঞা স্থানীয় ব্যবসার পরিষেবা না পাওয়া এবং কখনো কখনো গোপন বা প্রকাশ্য সহিংসতার মুখে পড়ত। (এর একটি উদাহরণ হল ১৯২৫ সালের ডেট্রয়েটের অসিয়ান সুইট মামলায় দেখা যায়।)

সংগঠিত হওয়া

[সম্পাদনা]

এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলন গড়ে ওঠে। মার্কাস গারভি একজন জ্যামাইকান অভিবাসী তিনি হারলেমে ইউনিভার্সাল নিগ্রো ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (UNIA) গঠন করেন। গারভি সমতা ও মর্যাদার এক বার্তা প্রচার করতেন যা অনেকেই এমনকি কিছু কৃষ্ণাঙ্গ নেতারাও চরমপন্থী বলে মনে করতেন। তিনি কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি ও সংবাদপত্র চালু করেন। তার অনুসারীরা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত শহরগুলোতে। অমৃতজিৎ সিং [১] ধারণা করেন গারভি ও UNIA এর অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি ছিল। গারভি কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে একতা তৈরি করেন এবং তাদের প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে W.E.B. ডু বোয়া সহ অনেক প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ চিন্তাবিদ গারভির পন্থা চরম মনে করতেন। তারা বিশ্বাস করতেন এভাবে করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। ডু বোয়া ধাপে ধাপে পরিবর্তন শিক্ষা ও আইনি পথে লড়াইয়ে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ও আরও কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করে গারভিকে জামাইকা ফেরত পাঠান। তবে গারভির বার্তা বহুবছর বেঁচে ছিল এবং ১৯৬০ সালের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ম্যালকম এক্সের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে।

হারলেম রেনেসাঁ

[সম্পাদনা]
১৯২৫ সালে হারলেমে আফ্রিকান-আমেরিকান নারী।

নিউ ইয়র্ক সিটির হারলেম এবং আরও কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় শহরে কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতি গড়ে উঠতে শুরু করে। এর পেছনে ছিল গ্রেট মাইগ্রেশনের মাধ্যমে কিছুটা অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা লাভ। কৃষ্ণাঙ্গ ব্যবসা, আইন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং শিল্পসংগঠনগুলো বিকশিত হয়। এখানে "দ্য ট্যালেন্টেড টেন্থ" নামে পরিচিত একটি শিক্ষিত কৃষ্ণাঙ্গ শ্রেণি নিজেদের ব্যবসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। কবি ল্যাংস্টন হিউজ, ক্লড ম্যাকে ও জিন টুমার এবং সংগীতশিল্পী চিক ওয়েব ও ডিউক এলিংটন মূলধারার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হন। তাদের সংগীত শোনা যেত শ্বেতাঙ্গদের যাতায়াত করা (যদিও অনেক সময় বিভাজিত) ক্লাবে। হারলেম রেনেসাঁ সমসাময়িক কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের আশা,ভয় ও আত্মপ্রকাশের একটি নিদর্শন ছিল।

১৯২০-এর দশকে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী

[সম্পাদনা]

১৯২৪ সালের ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট যুক্তরাষ্ট্রে আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়।[১৫]

১৯২৪ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট কার্যত এশিয়া থেকে অভিবাসন বন্ধ করে দেয়। এটি ইহুদি, ইতালীয় ও পূর্ব ইউরোপীয়দের অভিবাসনও সীমিত করে দেয়।[১৬][১৭]

সমৃদ্ধির অবসান ও ১৯২৯ সালের স্টক মার্কেট বিপর্যয়

[সম্পাদনা]
স্টক মার্কেট বিপর্যয়ের পর নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে ভিড়।

১৯২০-এর দশকে কৃষকরা খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। অনেক খামারে বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা ছিল না। ফসলের অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে দাম কমে যায় এবং কৃষকদের আয়ও কমে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপের কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। ফলে যুদ্ধরত ইউরোপীয় দেশগুলো আমেরিকার খাদ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।[১৮] যুদ্ধ শেষ হলে হঠাৎ করে তুলা ও শস্যের চাহিদা কমে যায়। কিন্তু কৃষকরা তখনো যুদ্ধকালীন হারে ফসল ফলাতে থাকে।[১৯] ফলে তারা ঋণ পরিশোধ করতে বা নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে পারেনি।

অনেক কৃষক তুলার ওপর নির্ভর করত। কিন্তু বিশের দশকে কৃত্রিম তন্তুর আগমনে তুলার দাম পড়ে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বল উইভিল নামের এক ধরনের পোকা তুলার কুঁড়িতে ডিম পেড়ে তা খেয়ে ফেলতে শুরু করে। এই বিপর্যয় থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে কিছুটা রক্ষা করে বিজ্ঞানী জর্জ ওয়াশিংটন কারভার। তিনি তুলার বদলে চিনাবাদাম চাষে উৎসাহ দেন। ১৯২৫-১৯২৭ সালের মধ্যে তিনি চিনাবাদাম দিয়ে দুটি ব্যবহারিক পদ্ধতির পেটেন্ট নেন। এছাড়াও সয়াবিন, পেকান বাদাম ও মিষ্টি আলু দিয়ে তিনি শত শত উদ্ভাবন করেন। চিনাবাদাম ও সয়াবিন দিয়ে তিনি যেসব জিনিস তৈরি করেন তার মধ্যে ছিল কাগজ, ইনস্ট্যান্ট কফি, শেভিং ক্রিম, মেয়োনিজ, সাবান এবং ট্যালকম পাউডার। তবে তিনি এসব প্রক্রিয়া কখনোই নোটবুকে লিখে রাখেননি। তিনি কৃষি শিক্ষায় কৃষ্ণাঙ্গদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর যেটি আজ "ব্ল্যাক থার্সডে" নামে পরিচিত সেদিন স্টক মার্কেট পতনের শুরু হয়। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই দামে ভয়ানক পতন ঘটে। অনেকে ভেবেছিল এটি আগের মতোই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু দাম পড়তেই থাকে। অক্টোবর ২৯, ১৯২৯ তারিখে "ব্ল্যাক টিউসডে" তে ১ কোটি ৬০ লক্ষ শেয়ার বিক্রি হয়। দিনের শেষে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম পূর্বের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়। কিছু শেয়ার একেবারেই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। নভেম্বর ১৩ এ দাম একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। যেমন এ.টি. অ্যান্ড টি. কোম্পানির শেয়ার ৩০৪ ডলার থেকে কমে ১৯৭ ডলারে এসে দাঁড়ায়। টানা আট বছর ধরে আমেরিকায় যে অতুলনীয় সমৃদ্ধি চলছিল স্টক মার্কেটের এই বিপর্যয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার অবসান ঘটে।

পর্যালোচনার জন্য প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

১। নিচের যেকোনো একটি বিষয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাখ্যা করো: অটোমোবাইল; সামগ্রিকভাবে ব্যাপক উৎপাদন; বল উইভিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ · US History · মহামন্দা ও নিউ ডিল

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. http://www.montgomerycollege.edu/Departments/hpolscrv/jzeck.html
  2. Mary Beth Norton et al., “A People and A Nation: A History of the United States; The New Era:1920-1929,” ed. Mary Beth Norton et al. (Boston: Cengage Learning 2009).
  3. "A People and A Nation" the eighth edition
  4. Mary Beth Norton et al., “A People and A Nation: A History of the United States; The New Era; 1920-1929,” ed. Mary Beth Norton et al. (Boston: Cengage Learning 2009).
  5. Jones, Gerard. Honey, I'm Home! Sitcoms: Selling the American Dream. First edition. New York: Grove Weidenfeld (Grove Press), 1992. p. 7
  6. Jones, Gerard. p. 8
  7. Jones, Gerard, p. 19
  8. Jarrett, Steve। "The Cinema Century — February 16, 1918 | | Wake Forest University"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. IMDB trivia page for Ben Hur: A Tale of the Christ (1925), http://www.imdb.com/title/tt0016641/trivia?ref_=tt_ql_2 Retrieved on August 15, 2014.
  10. http://www.d.umn.edu/cla/faculty/tbacig/studproj/is3099/jazzcult/20sjazz/upriver.html
  11. Some famous early jazz musicians include King Oliver, Louis Armstrong, Kid Ory, and Duke Ellington.
  12. "The Pope's Last Call," "Elsie Thornton." Originally printed in Alabama KKK Newsletter, June 1926. p. 4. Box 16, Folder 11: Association Records, Ku Klux Klan, Alabama Department of Archives and History, Montgomery. Recalled on October 18, 2014: http://www1.assumption.edu/users/McClymer/his261/Pope'sLastCall.html
  13. A People and A Nation Eighth Edition
  14. "The 1921 Tulsa Race Massacre and its enduring financial fallout"Harvard Gazette। ১৮ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  15. "Education from LVA: Indian Citizenship Act"edu.lva.virginia.gov। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  16. "An "Un-American Bill": A Congressman Denounces Immigration Quotas"historymatters.gmu.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  17. "Asians and Asian Exclusion"pluralism.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  18. Shmoop Editorial Team. "Economy in The 1920s" Shmoop University, Inc..11 November 2008. http://www.shmoop.com/1920s/economy.html (accessed November 22, 2013).
  19. Katers, Nicholas. "The Roaring Twenties and the Struggles of Immigrants, Farmers, and Other Interest Groups." Yahoo! Voices. Yahoo!, 30 Mar. 2006. Web. 22 Nov. 2013.

World War I · Great Depression and New Deal