বিষয়বস্তুতে চলুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস/সুপ্রিম কোর্টের মামলাসমূহ

উইকিবই থেকে


মার্কিন সংবিধানিক কাঠামোর পরিচিতি

[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যা রাজতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রের বিপরীতে একটি নির্বাচিত ও জনগণের নিকট জবাবদিহিপূর্ণ এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সমিতির মাধ্যমে শাসিত হয়। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি "গণতন্ত্র", অর্থাৎ জনগণ দ্বারা শাসিত একটি দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এই সমিতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার হিসেবে একগুচ্ছ পূর্বঘোষিত নীতি অনুসারে পরিচালিত হয়। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতে সমানভাবে, ধারাবাহিকভাবে ও ন্যায্যভাবে প্রয়োগ করা হয়। এসব নীতি এবং এগুলোর প্রয়োগকেই বলা হয় "আইন"। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি আইনের শাসনভিত্তিক দেশ, অর্থাৎ "আইনের শাসন" আছে এমন দেশ।

কিন্তু কে শাসন করে এই আইনকে? আইনই শাসন করে আইনকে।যুক্তরাষ্ট্রের আইন ব্যবস্থায় কিছু আইন অন্যান্য আইনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বা "দেশের সর্বোচ্চ আইন" হলো"যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান"। এটি একটি আইনসমষ্টি যা অন্যান্য আইন এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি নির্ধারণ করে কী ধরনের আইন প্রণয়ন করা যায় আর সরকার কী করতে পারে। এটি কিছু ধরনের আইন প্রণয়ন নিষিদ্ধ করে এবং সরকারের কিছু কার্যকলাপ স্পষ্টভাবে নিষেধ করে। এটি সরকারের ক্ষমতার উপর মৌলিক সীমা আরোপ করে, এই বলে যে সংবিধানে সরকারকে যেসব ক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রদান (বা সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত) করা হয়নি। সেসব ক্ষমতা সরকারের নেই, সরকার তা প্রয়োগ করতে পারে না পাশাপাশি দাবি করতেও পারে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি "সীমিত সরকার"-সম্পন্ন দেশ—এমন কিছু কাজ আছে যা সরকার করতে পারে না, যেমন: কাউকে বিনা কারণে কারাগারে প্রেরণ, একটি ধর্মকে একমাত্র বৈধ ধর্ম ঘোষণা করা, অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ ছাড়াই ঘরে তল্লাশি চালানো, বা কেবল কেউ ভিন্নমত পোষণ করছে বলেই তাকে শাস্তি দেওয়া। পাঠকের বোঝা উচিত, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এসব কাজ করে না কেবলমাত্র তাদের ইচ্ছার কারণে নয়—বরং কারণ তাদের সেই ক্ষমতা নেই।

তবে কে সংবিধানকে শাসন করে? যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক। তারা চাইলে এটি পরিবর্তন করতে পারে। গত দুই শতকেরও বেশি সময়ে এটি ২৭ বার পরিবর্তিত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ধীর, কঠিন। বেশিরভাগ মানুষ বিশেষত তুচ্ছ কারণে এমন কিছু পরিবর্তন করতে দ্বিধা বোধ করে, যা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলে আসছে।

সংবিধানের প্রয়োগ

[সম্পাদনা]

সংবিধান নিয়ে কিছু কথা: এটি লেখা হয়েছিল ইন্টারনেট, কম্পিউটার, টেলিভিশন, পারমাণবিক শক্তি, রেডিও, বিমান, মোটরগাড়ি, বিদ্যুৎ এবং বৈদ্যুতিক আলো, ট্রেন বা বাড়ির ভেতরে প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা থাকার আগেই—বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৩৭টি রাজ্য যুক্ত হওয়ার আগেই—পৃথিবীতে আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশের অস্তিত্বের আগেই—আমাদের দেশে বড় শহর গড়ে ওঠার আগেই—এমনকি শিল্প, কর্পোরেশন, বা আধুনিক জীবনের অন্যান্য সুবিধাগুলোর আগেই। এটি লেখা হয়েছিল মোমবাতির আলোয়, বৈদ্যুতিক আলোয় নয়, এবং এটি ১৩টি রাজ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল ঘোড়সওয়ার বার্তাবাহকদের মাধ্যমে, ওয়েবসাইটে পোস্ট করে নয়। কিন্তু এটি লেখা হয়নি এমন সময়ে যখন অনেক আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বর ছিলেন না, বা যখন মানুষ সমান এবং স্বাধীন হওয়ার অধিকার রাখে—এই ধারণা গড়ে ওঠেনি। অনেকেই সংবিধানকে এমন এক সত্যসমষ্টি হিসেবে দেখেন, যা পরিবর্তনশীল সময়ে নিজেকে সমানভাবে প্রয়োগ করে।

এই কারণে, সংবিধান কখনও কখনও অস্পষ্ট হতে পারে, এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নির্ভর করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, কিছু ব্যক্তি সংবিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন ব্যাখ্যা করেন; এদের বলা হয় বিচারক; আর সংবিধানের সর্বোচ্চ ব্যাখ্যাকারীদের বলা হয় বিচারপতি; এদের সংখ্যা নয়জন, এবং তারা মিলে গঠন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত—"সুপ্রীম কোর্ট"। যখন কোনো পরিস্থিতিতে সংবিধান অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তখন তার অর্থ কী হবে তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নির্ধারণ করেন। এই সিদ্ধান্তগুলো তখন নেওয়া হয় যখন একজন ব্যক্তি দাবি করেন যে অন্য ব্যক্তি যা করছেন (বা করছেন না) তা সংবিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এজন্য এসব মামলার নাম হয় "মার্বারি v ম্যাডিসন" জাতীয়; মারবারি, একজন ব্যক্তি, ম্যাডিসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যিনি আরেকজন ব্যক্তি।

যখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বর্তমানের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তারা অতীতের তাদের সিদ্ধান্তগুলোর (যা তারা "নজির" বলেন) দিকে নির্দেশনার জন্য ফিরে তাকান। এটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ আইনকে ধারাবাহিক হতে হয়। তবে কখনও কখনও তারা মনে করেন তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল—অথবা প্রয়োগযোগ্য নয়—এবং তখন তা সংশোধন করেন। কখনও কখনও তারা সেসব সিদ্ধান্তকে বহাল রাখেন বা আরও প্রসারিত করেন। যেভাবেই হোক, এমন অনেক সময় আছে যখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তী অংশগুলোতে, আমরা সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর নাম করব এবং আলোচনা করব কেন এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, কী সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, এবং কেন সেই সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সিদ্ধান্তগুলো—যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক সংবিধানের এই ব্যাখ্যাগুলো—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র একটি আইনের শাসনভিত্তিক দেশ।

প্রাথমিক সাংবিধানিক যুগ (১৭৮৭–১৮৫০)

[সম্পাদনা]

কেন্দ্রীয় সংঘ, তার প্রকৃতি, বিচারিক সর্বোচ্চতা, আইনের শাসন, অঙ্গরাজ্যের অধিকার, ফেডারেল ক্ষমতা ও তার সীমা, বিভিন্ন শাখা, অঙ্গরাজ্য এবং জনগণের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন ও বণ্টনের প্রশ্ন, এবং দাসত্বের প্রশ্ন।

কার্যালয়ে তাঁর শেষ দিনের আগের দিন, প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস নতুনভাবে তৈরি করা বহু আদালতের জন্য ৪২ জন বিচারক নিয়োগ দেন। তাঁদের একজন ছিলেন উইলিয়াম মারবুরি। সিনেট বিচারকদের অনুমোদন দেয় এবং পররাষ্ট্র সচিব জন মার্শাল তাঁদের নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা প্রত্যেক নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। তবে যেদিন থমাস জেফারসন শপথ নেন, সেদিন তিনি তাঁর নিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিব জেমস ম্যাডিসনকে অনেক বিচারকের নিয়োগপত্র পৌঁছে না দিতে আদেশ দেন—মারবুরি তার মধ্যে ছিলেন। মারবুরি আদালতের মাধ্যমে ম্যাডিসনকে বাধ্য করতে মামলা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ১৭৮৯ সালের বিচার বিভাগীয় আইন অনুযায়ী, ম্যানডামাস রুল বা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশপ্রাপ্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার রয়েছে।

মার্শাল, যিনি ঘটনাক্রমে অ্যাডামসের শেষ দিনে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন, আদালতের সর্বসম্মত রায়ে লেখেন যে কোর্টের মারবুরির মামলায় রায় দেওয়ার এখতিয়ার নেই। মারবুরি যুক্তি দেন যে সংবিধানের ৩য় অনুচ্ছেদ কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতার মৌলিক নিয়ম নির্ধারণ করে এবং কংগ্রেস যে কোনো সময় তা সম্প্রসারিত করতে পারে। মার্শাল একমত হননি। তিনি বলেন, কংগ্রেস যদি আদালতের এখতিয়ার পরিবর্তন করে এমন আইন প্রণয়ন করতে পারে, তবে সংবিধান থাকার অর্থ কী? যদি এইভাবে ৩য় অনুচ্ছেদ পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়ন সম্ভব হয়, তবে কি এমন আইনও তৈরি করা যাবে যার মাধ্যমে আদালত পুরোপুরি সংবিধান অগ্রাহ্য করতে পারে?

তিনি রায় দেন যে বিচার বিভাগীয় আইন সংবিধানের পরিপন্থী, কারণ তা ৩য় অনুচ্ছেদের পরিধি বাড়ায়। এর মাধ্যমে বিচারিক পর্যালোচনা নামক গুরুত্বপূর্ণ নীতির ঘোষণা করা হয়। এটি হলো: বিচার বিভাগের, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের, ক্ষমতা—যে তারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন বাতিল করতে পারে।

ফ্লেচার বনাম পেক, ১০ ইউ.এস. ৮৭ (১৮১০)

[সম্পাদনা]

ফ্লেচার বনাম পেক ছিল প্রথম মামলা যেখানে সুপ্রিম কোর্ট একটি অঙ্গরাজ্য আইনের সাংবিধানিক বৈধতা অস্বীকার করে। আমেরিকার পশ্চিমে সম্প্রসারণের সময়, জর্জিয়া রাজ্য ইয়াজু নদী অঞ্চলের ৩.৫ কোটি একর জমি আদিবাসীদের কাছ থেকে দখল করে, যা পরবর্তীতে আলাবামা ও মিসিসিপি রাজ্যে রূপান্তরিত হয়। ১৭৯৫ সালে, জর্জিয়া আইনসভা সেই জমি চারটি ভাগে ভাগ করে চারটি কোম্পানির কাছে মাত্র ৫ লাখ ডলারে বিক্রি করে।

পরে প্রকাশ পায় যে, জমির বিক্রির অনুমোদন দুর্নীতির মাধ্যমে হয়েছিল। জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে অধিকাংশ আইনপ্রণেতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নতুন আইনসভা সেই আইন বাতিল করে জমির লেনদেনকে অবৈধ ঘোষণা করে।

জন পেক পূর্বে ক্রয়কৃত সেই জমি রবার্ট ফ্লেচারের কাছে বিক্রি করেন। ১৮০৩ সালে ফ্লেচার মামলা করেন, দাবি করে যে পেকের কাছে জমির বৈধ মালিকানা ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট একমত হয় যে আইনসভা পূর্ববর্তী আইনি চুক্তি বাতিল করতে পারে না। প্রধান বিচারপতি মার্শালের রায় অনুযায়ী, বিক্রয়টি একটি বৈধ চুক্তি ছিল, যা সংবিধানের ১ম অনুচ্ছেদ, ১০ম ধারা, ১ম উপধারার অধীনে রক্ষা পায় (এটি "চুক্তি ধারা" নামে পরিচিত)। এটি ছিল প্রথমবার যখন আদালত কোনো অঙ্গরাজ্য আইনকে সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করে।

বিপ্লব যুদ্ধ চলাকালীন ভার্জিনিয়া রাজ্য অনুগত ব্রিটিশদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আইন প্রণয়ন করে। ১৭৮৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ফেডারেল সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে সেই সম্পত্তি ফেরত দিতে বলবে। একটি মামলায় অনুগত ডেনি মার্টিন ভার্জিনিয়ার আদালতে মামলা করেন, এই যুক্তিতে যে সেই চুক্তি অনুযায়ী তার সম্পত্তি ফেরত দেওয়া উচিত।

ভার্জিনিয়া সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল হয়, যেটি জানায় যে আন্তর্জাতিক চুক্তিটি প্রযোজ্য এবং মামলাটি আবার রাজ্য আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু রাজ্য আদালত বলে যে সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার নেই। আবার সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানায় যে, মামলাটি ফেডারেল আইনের অধীন এবং ফেডারেল আদালতের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সকল রাজ্য আদালতের ওপর তার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ঘোষণা করে।

এই মামলা রাজ্য অধিকার বনাম ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল। ১৮১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনঃস্থাপন করার পর অনেক রাজ্য এর বিরোধিতা করে, কারণ ব্যাংক তাদের থেকে ঋণ আদায় করত। প্রতিবাদস্বরূপ, মেরিল্যান্ড ব্যাংকের ওপর একটি কর আরোপ করে, যা ব্যাংক দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যাংকের বাল্টিমোর শাখার প্রধান জেমস ম্যাককালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

আদালতের সর্বসম্মত মতামতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত, কংগ্রেস ব্যাংক গঠন করতে পারে, কারণ এটি সংবিধানের "ইম্প্লায়েড পাওয়ার" বা অনুমানিত ক্ষমতার অধীনে পড়ে। দ্বিতীয়ত, মেরিল্যান্ডের কর অসাংবিধানিক, কারণ এটি সর্বোচ্চতা ধারা লঙ্ঘন করে। এই ধারা অনুযায়ী, রাজ্য কখনো ফেডারেল সরকারকে বাধা দিতে পারে না। কর আরোপ করলে ব্যাংক কার্যত ধ্বংস হতে পারে, যা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল সরকারের প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করত।

ডার্টমাউথ কলেজ মামলায় প্যাক্টা সান্ট সার্ভান্ডা বা "চুক্তি মান্য করা আবশ্যক" এই নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৭৬৯ সালে রাজা তৃতীয় জর্জ কর্তৃক একটি উপনিবেশিক সনদের মাধ্যমে ডার্টমাউথ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮১৫ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার আইনসভা কলেজটির সনদ পরিবর্তন করতে চায় যাতে গভর্নর কলেজের প্রেসিডেন্ট নিয়োগ ও ট্রাস্টি বোর্ড নিয়োগ করতে পারেন এবং একটি রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধান বোর্ড গঠন করা যায়—অর্থাৎ কলেজটিকে বেসরকারি থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বানানো। আদালত রায় দেয় যে পুরনো সনদ বৈধ, কারণ এটি একটি চুক্তি এবং সংবিধানের চুক্তি ধারা অনুযায়ী সুরক্ষিত।

গিবন্স বনাম ওগডেন মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কংগ্রেসের কাছে রয়েছে, যা সংবিধানের বাণিজ্য ধারায় প্রদান করা হয়েছে। মামলাটি তৎকালীন সময়ের কিছু প্রসিদ্ধ আইনজীবী পরিচালনা করেন: ওগডেনের পক্ষে ছিলেন টমাস অ্যাডিস এমেট ও থমাস জে. ওকলি এবং গিবন্সের পক্ষে ছিলেন উইলিয়াম ওয়ার্ট ও ড্যানিয়েল ওয়েবস্টার।

সাংবিধানিক সংকট এবং সিদ্ধান্ত (১৮৫০–১৮৭১)

[সম্পাদনা]

এই সময়কাল ছিল গভীর সংবিধানিক সংকটের, যেখানে ঐক্যের প্রকৃতি, রাজ্যগুলোর সার্বভৌমত্ব, নাগরিকত্বের অর্থ, এবং রাষ্ট্রপতির অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হয়েছিল। যুদ্ধ ক্ষমতা, যুদ্ধে প্রথা ও নিয়ম, হেবিয়াস কর্পাস এবং সংকটকালে এর প্রয়োগ, স্বাধীনতার ঘোষণা-পত্রের নীতির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, এবং কালহুনিয়ান গনতন্ত্রবিরোধী দাসপ্রভু শক্তির অত্যাচারী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মতবাদ প্রত্যাখ্যান—এসব বিষয় এখানে আলোচিত হয়েছে।

এই অংশটি স্বাভাবিক বিচারিক ব্যাখ্যার থেকে ভিন্ন, কারণ সংবিধানে এবং তার ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল শুধুমাত্র বিচারালয়ের মাধ্যমে নয়, বরং সংশোধনী অথবা বিজয়ীর অধিকার দ্বারা।

ড্রেড স্কট ছিল আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত সুপ্রিম কোর্টের রায়, যা সম্ভবত গৃহযুদ্ধের প্রধান কারণগুলোর একটি। অধিকাংশ আমেরিকান ইতিহাসবিদ, পণ্ডিত ও আইনজীবীর মতে, এটি ছিল সংবিধানের একটি কালিমা—যখন আমেরিকা স্পষ্টতই পাপ জানল।

ড্রেড স্কট একজন আফ্রিকান-আমেরিকান দাস যিনি মিসৌরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মালিক তাঁকে ইলিনয়স (একটি মুক্ত রাজ্য) এ নিয়ে যান। স্কট তার মুক্তির দাবিতে মামলা করেন। বিষয়টি আদালতগুলোকে পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।

যদিও মামলা কারিগরি কারণে বাতিল করা যেত, প্রধান বিচারপতি রজার টেনি সিদ্ধান্ত নেন দাসপ্রথার প্রশ্ন চূড়ান্তভাবে সমাধান করবেন। টেনি ঘোষণা দেন যে আফ্রিকান-আমেরিকানরা সংবিধানের অর্থে নাগরিক নয় এবং তাদের কোনো অধিকার নেই, শুধুমাত্র যাদের ক্ষমতা আছে তারাই তাদের অধিকার দিতে পারে। তাই তারা নাগরিক নয় বলে তাদের মামলা করার অধিকারও নেই। মামলাটি বাতিল করা হয়।

রায়ের সবচেয়ে কুখ্যাত অংশটি ছিল:

> "‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ’ এবং ‘নাগরিক’ শব্দগুলি সমার্থক এবং একই অর্থ বহন করে। তারা হলেন সেই রাজনৈতিক সমষ্টি যারা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান অনুসারে সার্বভৌমত্ব গঠন করে, এবং সরকার পরিচালনা করে। আমরা মনে করি তারা (আফ্রিকান-আমেরিকানরা) নয়, এবং সংবিধানে ‘নাগরিক’ শব্দের মধ্যে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা তখন অবরোধিত এবং নিম্নমানের শ্রেণীর হিসেবে বিবেচিত হত, যারা আধিপত্যশীল জাতি দ্বারা শাসিত, এবং তাদের কোনো অধিকার ছিল না, শুধু যে অধিকার ক্ষমতাবানরা দিতে চেয়েছে।"

৭০০,০০০ মানুষের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পরই ড্রেড স্কট রায়ের কলঙ্ক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয় এবং দাসপ্রথা চিরতরে বন্ধ হয়।

অপেক্ষমাণ

মেরিম্যান মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারিত হয়নি, তবে এটি স্পষ্টতার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ এতে রাষ্ট্রপতির অসাধারণ ক্ষমতার বিষয় রয়েছে।

১৮৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছিল একটি বিশাল, কম জনবহুল, প্রধানত কৃষিভিত্তিক দেশ। সে সময়ের মহান শক্তি ছিল না, কারণ সেই সময়ের মহান শক্তিগুলো ছিল ইউরোপীয় রাষ্ট্রীয় সত্তাগুলো — যেমন লন্ডনের ডকল্যান্ডস, আমস্টারডামের বন্দর, ভার্সাই, দি হেগ এবং ভিয়েনার প্রাসাদগুলোতে তারা বিশ্বের ব্যবসা পরিচালনা করত। যুক্তরাষ্ট্র ছিল একটি ছোট ক্ষমতা, যা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং সেই সময়ের দার্শনিক ও চিন্তাবিদরা এটিকে গণতান্ত্রিক শাসনের একটি ছোট পরীক্ষা হিসেবে দেখতেন যা বড় কোনো ফলাফল দিচ্ছে না; ইউরোপীয় রাজাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল তাদের বিপ্লবী বিরোধীদের নির্বাসিত করার একটি সুবিধাজনক স্থান, যারা নির্বাচিত সরকার বা নাগরিক স্বাধীনতার দাবিতে যেত।

কিছু ইউরোপীয়দের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র "সভ্যতার ধাপে না গিয়ে বর্বরতা থেকে অবক্ষয়ের দিকে গিয়েছে"। ওয়াশিংটন, ডি.সি. তখন ছিল একটি অল্প গুরুত্বের সেমি-ট্রপিক্যাল পশ্চাদদেশ; বহু ইউরোপীয় কূটনীতিক, যারা ফ্রান্স ও প্রুশিয়ার সাম্রাজ্যবাদের অভিজাত সভায় অংশ নিতেন অথবা ভার্সাইয়ের হল অফ মিররস-এ গ্র্যান্ড বলের অংশ ছিলেন, তারা এখানে চাকরি করতে গেলে বিশেষ কষ্ট ভোগ করতে হতো।

অনেক পশ্চিমের রাজ্য (গ্রেট প্লেইন্স এবং রকি মাউন্টেইন রাজ্যগুলো) তখন রাজ্য ছিল না, এবং এই অঞ্চলগুলো বেশিরভাগ অনাবাসী ছিল, সরকার এখানে ভূমির মালিক ছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষে তা ন্যায্য ভাবে বণ্টন করা সম্ভব ছিল না। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী রাজ্যগুলো কিছুটা বসতি গড়ে তুলেছিল, তবে শিল্পের মাত্রা কম এবং কৃষি মাঝারি মাত্রায় ছিল ট্রান্সকন্টিনেন্টাল রেলপথ নির্মাণের আগে (যেগুলোর সমাপ্তির তারিখ ছিল ইউনিয়ন প্যাসিফিক ১৮৭৩, সাউদার্ন প্যাসিফিক ১৮৮২, এবং গ্রেট নর্দান ১৮৯১)। পূর্ব রাজ্যগুলিতে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরানো উত্তর-পশ্চিমে ছিল মাঝারি জনসংখ্যা, যেখানে খনি, শিল্প এবং কৃষি ছিল; মধ্য আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্বে ছিল তুলনামূলক বেশি জনসংখ্যা, যেখানে জাতীয় শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্রীভূত ছিল; এবং পুরানো দক্ষিণে জনসংখ্যা মাঝারি থেকে বেশি এবং বৃহৎ আকারের কৃষি চালু ছিল। উত্তরাঞ্চলের (যা এখন আমরা আপার মিডওয়েস্ট বলি — অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালা থেকে মিসিসিপি নদীর পর পর্যন্ত) যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল, যা বাণিজ্য ও শিল্পের প্রয়োজন মেটাতো, এবং রেলপথ শহর থেকে শহরে ২-৩ দিনের মধ্যে যাতায়াত সহজ করত। দক্ষিণের রেল ব্যবস্থা তুলনামূলক কম বিকশিত ছিল এবং সেখানে যাতায়াত প্রায়ই দীর্ঘ সময় নিত। পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে যাতায়াত স্টিমার বা স্থলপথে হতো, যেটা দ্রুত ছিল না। একজন ব্যক্তি এক মাস বা তারও বেশি সময়ে দেশটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারত। তথ্য অবশ্য অনেক দ্রুত পৌঁছাত—ট্রান্সকন্টিনেন্টাল টেলিগ্রাফ পূর্বের খবর পশ্চিমে মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে দিত, আর আগে থেকে পনি এক্সপ্রেস মিলিত মেইল পৌঁছাত কয়েক দিনের মধ্যে।

এই প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তখন সারাবছর মিলিত হত না, বরং তখন কংগ্রেস ছিল আংশিক সময়ের আইনসভা; আইন ছিল সীমিত এবং সরল, সময়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অতি জরুরি ছিল না, আর অধিবেশন শেষ হলে সদস্যরা তাদের নিজ রাজ্য ও জেলা, কাঠের কুঁড়েঘর, ছোট খামার, শহর ও প্ল্যান্টেশনে ফিরে যেতেন।

উত্তর থেকে নির্বাচিত আব্রাহাম লিনকনের প্রেসিডেন্সির পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে, কারণ দক্ষিণের দাসশক্তি আগ্রহী ছিল উত্তরের বিরোধিতাকে আগুন ও তলোয়ার দিয়ে চিরতরে দমন করতে, অথবা অন্ততঃ 'দমনমূলক' ফেডারেল শাসন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার আফ্রিকার উপকূলের মানুষের শরীর বাণিজ্যে ফিরতে এবং এমন একটি দাস সাম্রাজ্য গড়তে, যা কিউবা ও মেক্সিকো পর্যন্ত বিস্তৃত হতো, যা এক সময়ের দাসশক্তি অংশের নেতা জন কালহুনের পরিকল্পনা ছিল। এই বিদ্রোহ একটি বিক্ষোভে পরিণত হয়, একটি সরকার দাবি করে; সাউথ ক্যারোলিনা, যেখানে দাস প্রথা সবচেয়ে প্রবল ছিল এবং আফ্রিকান-আমেরিকান দাস মানুষের সংখ্যা অন্যান্য জাতির তুলনায় বেশি ছিল, প্রথমে ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার পরে গভীর দক্ষিণের অন্যান্য রাজ্যও, যেখানে দাসশক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল, তাদের অনুসরণ করে। ভার্জিনিয়া ও টেনেসি, যারা তুলনামূলক কম দাস প্রথার অধীনে ছিল, প্রথমদিকে তাদের আইনসভায় বিদ্রোহ উস্কানির মাত্রা দেখা গেলেও তারা ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা শুরুর আগেই, সাউথ ক্যারোলিনার আগুন-খাওয়ানরা ফোর্ট সাম্টারে প্রথম গুলি চালায়, যা ছিল ফেডারেল ইউনিয়নের সম্পত্তি, এবং এই গুলির সাথে যুদ্ধ শুরু হয় — যাকে আমরা রাষ্ট্রগুলোর যুদ্ধ, দক্ষিণের আগ্রাসনের যুদ্ধ, উত্তরের আগ্রাসনের যুদ্ধ বা পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ নামে জানি।

ফোর্ট সাম্টারে আক্রমণের পরে, আপার সাউথ বিদ্রোহের সাথে যুক্ত হয়, এমনকি মেরিল্যান্ড, কেনটাকি, এবং মিসৌরি—যেগুলো দাসপ্রথার ক্ষতে তুলনামূলক হালকা আঘাত পেয়েছিল—তাদের ভিতরে দাসপ্রেমী ও দাসশক্তি সমর্থকরা ফেডারেল ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কনফেডারেসির হাতে এই রাজ্যগুলো তুলে দিতে চেয়েছিল বলে গুজব ছড়ায়।

১৮৬১ সালের প্রথম ছয় থেকে সাত মাসে, কংগ্রেস ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে একত্রিত হয়নি এবং পুনরায় অধিবেশন শুরু করতে পারেনি, কারণ সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিল, জরুরি খবর ধীরে পৌঁছছিল, এবং মানুষের চলাচল ছিল খুব ধীর।

গৃহযুদ্ধের প্রথম বছরে, রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিনকন...

সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে,ইয়ংটাউন মামলার পরিমিত রায়ের সঙ্গে তুলনা ও পার্থক্যও বিবেচনা করা যেতে পারে।

মামলাটি কনফেডারেট সমর্থকদের নিয়ে, যারা তথাকথিত ইউনিটারী এক্সিকিউটিভের আদেশে গঠিত "সামরিক কমিশন"-এর মাধ্যমে (ছদ্ম) বিচারাধীন ছিলেন, সম্পর্কিত।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে সামরিক কমিশন বা যেকোনো ধরণের আংশিক প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারের ব্যবহার অবশ্যই সামরিক প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে হতে হবে এবং তা বাস্তব সামরিক কার্যক্রমের এলাকায় সময় এবং স্থান উভয়ের দিক থেকে সন্নিকটে থাকতে হবে।

দ্বিতীয় সাংবিধানিক যুগ (১৮৭১-১৯৩৮)

[সম্পাদনা]

গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার, "কর্পোরেট পার্সনহুড", "অলাদা কিন্তু সমান", "চুক্তির স্বাধীনতা", একাধিপত্য, কর্পোরেশন, জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের অর্থনীতি, ব্যক্তিগত লোভ বনাম জনসাধারণের প্রয়োজন।

এই রায়ে ১৪তম সংশোধনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের "ব্যক্তি" শব্দের পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আইনি কল্পনাপ্রসূত সত্ত্বা যেমন কর্পোরেশনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে কর্পোরেশনগুলোকে একই অধিকার (যেমন বাকস্বাধীনতা, চুক্তি করার স্বাধীনতা) দেওয়া হয়, যা আগে শুধুমাত্র মানুষের জন্য সংবিধান, অধিকারপত্র ও ১৪তম সংশোধনী অনুসারে প্রযোজ্য ছিল। এই রায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল কারণ এর ফলে কর্পোরেশনগুলো সংবিধানকে আড়াল করে জনপ্রিয় আইন যেমন নূন্যতম মজুরি আইন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড, কর, শ্রম আইন থেকে সুরক্ষা দাবি করতে পারে। এই রায় ছিল পরবর্তী ৫০ বছর ধরে আদালতের আইনজীবন ধারণার মূল ভিত্তি, যা ১৯৩৮ সালে কারোলিন প্রোডাক্টস মামলার মাধ্যমে পাল্টানো হয়।

ইন রে ডেবস, ১৫৮ ইউ.এস. ৫৬৪ (১৮৯৫)

[সম্পাদনা]

প্লেসি বনাম ফেরগুসন, ১৬৩ ইউ.এস. ৫৩৭ (১৮৯৬)

[সম্পাদনা]

প্লেসি বনাম ফেরগুসন মামলায় "অলাদা কিন্তু সমান" নীতির অধীনে বর্ণবৈষম্যের আইনকে, বিশেষ করে জনসাধারণের সুবিধাসমূহে (রেলরোডে), সংবিধানসম্মত বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এই রায় ছিল দক্ষিণাঞ্চলের জিম ক্রো বর্ণবৈষম্য আইনগুলোর আইনি ভিত্তি।

রায়টি ৭-১ ভোটে দেওয়া হয়, যেখানে প্রধান বিচারপতি হেনরি বিলিংস ব্রাউন সংখ্যালঘু মতামত লিখেছিলেন এবং বিচারপতি জন মার্শাল হারলান অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বিচারপতি ডেভিড জোসিয়াহ ব্রুয়ার রায়ে অংশ নেননি। "অলাদা কিন্তু সমান" নীতি ১৯৫৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের ব্রাউন বনাম বোর্ড অফ এডুকেশন রায় পর্যন্ত মার্কিন আইনে প্রচলিত ছিল।

এই রায়ের পরে নিউ অর্লিয়ানসের কমিটি দে সিটোয়েন্স, যারা মামলাটি করেছিল এবং হোমার প্লেসির গ্রেফতার নিশ্চিত করেছিল লুইজিয়ানা রাজ্যের বৈষম্যমূলক আইনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য, বলেছিল, "আমরা, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে, এখনও বিশ্বাস করি আমরা সঠিক ছিলাম এবং আমাদের কারণ পবিত্র।"

ইনসুলার মামলাসমূহ ছিল সুপ্রিম কোর্টের এক সিরিজ রায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ১৮৯৮ সালের স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চল অধিগ্রহণের পর প্রাপ্ত উপনিবেশ বা অঞ্চলগুলোর সংবিধানগত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মামলাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি ছিল "সংবিধান পতাকার সঙ্গে যায় না।" অর্থাৎ, সংবিধান অনুযায়ী আমেরিকান নাগরিকদের অধিকার সব সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলগুলোর অধিবাসীদের প্রযোজ্য নয়। এই মামলাগুলোকে ইনসুলার মামলা বলা হয় কারণ যুক্তরাষ্ট্র যে অঞ্চলগুলো অধিগ্রহণ করেছিল সেগুলো দ্বীপ ছিল, যেমন ফিলিপাইন, হাওয়াই, পুয়ের্তো রিকো, এবং গুয়াম। এই মামলাগুলো এই নীতিও প্রতিষ্ঠা করেছিল যে সংবিধান কেবলমাত্র "সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত অঞ্চল"-এর জন্য প্রযোজ্য, অর্থাৎ অঞ্চলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীন পূর্ণাঙ্গভাবে সংযুক্ত হতে হবে।

শেঙ্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়, যা আলোচ্য ছিল যে আসামি বিশ্বযুদ্ধের সময় খসড়া টানা (ড্রাফট) বিরোধিতায় তার প্রথম সংশোধনী অধিকার (বাকস্বাধীনতা) প্রযোজ্য কিনা। চার্লস শেঙ্ক সোশ্যালিস্ট পার্টির সচিব ছিলেন এবং তিনি খসড়া টানার জন্য উপযুক্ত পুরুষদের মধ্যে ১৫,০০০ পত্রিকা ছেপে বিতরণ করেছিলেন যা খসড়া টানার বিরোধিতা করেছিল। এসব পত্রিকায় ছিল যেমন; "ভয়ভীতি মানবেন না", "আপনার অধিকার দাবি করুন", "যদি আপনি আপনার অধিকার দাবি না করেন এবং সমর্থন না করেন, তবে আপনি সেই অধিকারকে নস্যাৎ করতে সহায়তা করছেন যা সব নাগরিকের গম্ভীর কর্তব্য।" এই মামলাটি মূলত "স্পষ্ট ও বর্তমান বিপদের" নিয়মের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা প্রধান বিচারপতি অলিভার ওয়েন্ডেল হোমসের সংখ্যালঘু মতামতে প্রথম লিখিত হয়।

তৃতীয় সাংবিধানিক যুগ (১৯৩৮)

[সম্পাদনা]

নাগরিক অধিকার, আইনের নিচে সমতা, গোপনীয়তার অধিকার, "উৎস থেকে সৃষ্ট পরছায়া", ন্যায়বিচারের অর্থ, নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, স্বাধীনতার বহুমুখী সম্ভাবনা।

হেগ বনাম সিআইও, ৩০৭ ইউ.এস. ৪৯৬ (১৯৩৯)

[সম্পাদনা]

তৃতীয় যুগের প্রথম নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত মামলা, যা সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত; বিশেষত, নিউ জার্সির কুখ্যাত বস হেগ কর্তৃক শ্রম ইউনিয়নগুলোর দমন সংক্রান্ত।

ফ্রেড কোরেমাতসু, ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া একজন আমেরিকান যিনি জাপানি ইন্টারনমেন্টের শিকার হন।

কোরেমাতসু বনাম যুক্তরাষ্ট্র ছিল একটি রায়, যা জাপানি-আমেরিকানদের (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সহ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে কারাগার শিবিরে বন্দী করার বিষয় নিয়ে। নির্বাহী আদেশ ৯০৬৬-এর মাধ্যমে, রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট ১৯৪২ সালে পেরল হারবারে জাপানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলবর্তী নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব জাপানি ও জাপানি-আমেরিকান বাসিন্দাদের স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এর ফলে প্রায় ১২০,০০০ জাতিগত জাপানিকে (তাদের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক) নির্বাহী আদেশে স্থাপিত সামরিক অঞ্চলে ইন্টারনমেন্ট শিবিরে রাখা হয়। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ৬-৫ ভোটে এই ইন্টারনমেন্টের সংবিধানসম্মততা মেনে নিয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি রোধ করা নাগরিকদের অধিকার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প বনাম হাওয়াই মামলায় কোরেমাতসু বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলাটিকে ভুল রায় হিসেবে ঘোষণা করে।

কোরিয়ান যুদ্ধের সময়, স্টীলওয়ার্কার্স (একটি শ্রমিক সংঘ, অর্থাৎ শ্রম ইউনিয়ন) এবং তাদের নিয়োগকর্তা বিভিন্ন স্টীল মিলের মধ্যে শ্রমবিরোধ সৃষ্টি হয়। স্টীল মিলগুলি দাবী করেছিল যে, ওই শ্রমিকদের বেতন খুব বেশি দেওয়া হচ্ছে, এবং কঠিন আলোচনার পর তারা সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিকদের লকআউট করে তাদের বেতন দেওয়া এড়ানোর জন্য। শ্রমিকরা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়, কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের জন্য ট্যাংক ও অস্ত্রের প্রচুর চাহিদা ছিল, যা উৎপাদিত হতে পারছিল না এবং মিল মালিকদের অবস্থানের কারণে উপেক্ষিত ছিল, সম্ভবত তারা কাজ করতে ও বেতন পেতেও পারছিল না।

রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন, দাবি করে যে যেহেতু যুদ্ধ চলছে, তিনি "কমান্ডার ইন চিফ" হিসেবে সাময়িকভাবে ফেডারেল সরকারের অধীনে স্টীল মিলগুলি জব্দ করে পরিচালনা করতে পারেন যাতে যুদ্ধকালীন উৎপাদন অব্যাহত থাকে। এই সিদ্ধান্ত স্টীল মিল মালিক ও শ্রমিক উভয়েরই রোষাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে; দুই পক্ষই বিশ্বাস করত না সরকার এমন কিছু করতে পারে, কারণ এই ধরনের কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার জন্য কোনো আইন পাস হয়নি; অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করত ট্রুম্যানের মতো একতরফা পদক্ষেপই সংবিধান রোধ করার জন্যই তৈরি হয়েছে।

স্টীল মিল মালিকরা সরকারকে স্টীল মিল জব্দের জন্য মামলায় তোলে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, পরিস্থিতির জরুরি প্রকৃতির কারণে মামলা সুপ্রিম কোর্টে আসে।

কোর্ট সরকারবিরোধী রায় দেয়, বলে যে শ্রমবিরোধের সময় সরকার ব্যক্তিগত শিল্প প্রতিষ্ঠান জব্দ করার (অথবা শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করার) কোনো আইনগত বা সংবিধানিক অধিকার নেই। যদিও রায় কিছুটা মিশ্র ছিল — প্রায় প্রতিটি বিচারপতি তাদের নিজস্ব মতামত দিয়েছিলেন — তবুও এটি স্পষ্টভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ছিল। বিচারপতি হারলান? এই মামলার সবচেয়ে পরিচিত মতামত দিয়েছিলেন — যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার তিনটি স্তর নির্ধারণ করেছিলেন — যা গৃহযুদ্ধের পরপর থেকেই সুপ্রিম কোর্টের রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার সর্বাধিক কর্তৃত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়; হারলানের মতামত আজও প্রামাণিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই মামলা, পাঠকের কাছে ছোট মনে হলেও, মেটা-সংবিধানিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংবিধান রচনার পর থেকে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে—এবং এর সঠিক সীমা অত্যন্ত বিতর্কিত, বিশেষ করে গত ৩০-৪০ বছরে।

মিলগুলি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যারা খুব দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছায় এবং বিরোধ মিটে যায়।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুপ্রিম কোর্টের মামলা, যা সিদ্ধান্ত দেয় যে জাতিগত পৃথকীকরণ সরকারি বিদ্যালয়ে সংবিধানের বর্ণনা ও চেতনার বিরুদ্ধে; এটি আফ্রো-আমেরিকানদের মধ্যে নাগরিক অধিকার আন্দোলন শুরু করার এক প্রধান কারণ ছিল। ব্রাউন বনাম টোপেকা শিক্ষা বোর্ড, ৩৪৭ ইউ.এস. ৪৮৩ (১৯৫৪),[১] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের একটি মাইলফলক রায়, যা ১৮৯৬ সালের প্লেসি বনাম ফেরগুসন মামলার পূর্ববর্তী রায়গুলি উল্টে দেয়। এই রায়ে বলা হয়, যে রাজ্যগুলোর আইন কালো ও সাদা ছাত্রদের জন্য পৃথক সরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা কালো শিশুদের সমান শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। ১৯৫৪ সালের ১৭ মে দেওয়া ওয়ারেন কোর্টের ঐক্যমত (৯-০) রায়ে বলা হয়, "পৃথক শিক্ষা সুবিধাগুলো স্বভাবতই অসম।" ফলস্বরূপ, আইনগত জাতিগত পৃথকীকরণকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চোদ্দতম সংশোধনের সমান সুরক্ষা ধারার লঙ্ঘন ঘোষণা করা হয়। এই বিজয় সংহতি এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।[২]

ম্যাপ বনাম ওহিও, ৩৬৭ ইউ.এস. ৬৪৩ (১৯৬১)

[সম্পাদনা]

(বর্জনীয় নিয়ম) অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রাপ্ত প্রমাণ আদালতে ব্যবহার না করার সুরক্ষা দেয়, যেমন পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো বাসা তল্লাশি করে যে জিনিসপত্র জব্দ করে। বহু বছর ধরে এই নিয়ম শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের (ফেডারেল) মামলায় প্রযোজ্য ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ মামলাগুলি মোট অপরাধ মামলার তুলনায় খুবই নগণ্য অংশ, কারণ বেশিরভাগ মামলা হয় রাজ্যের অধীনে, বিশেষত সেরকম গুরুতর অপরাধ যেমন হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মামলা। (ফেডারেল অপরাধের মধ্যে পড়ে ফেডারেল সম্পত্তি ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধ, একাধিক রাজ্যে সংঘটিত অপরাধ যেমন ব্যাংক ডাকাতি, আন্তঃরাজ্য ষড়যন্ত্র যেমন মাদক পাচার চক্র, সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার যেমন পুলিশ নির্যাতন বা বিচার বিভাগের দুর্নীতি, এবং সন্ত্রাসবাদ, সামরিক অপরাধ, গুপ্তচরবৃত্তি ও দেশদ্রোহ। বাকি সব অপরাধের জন্য রাজ্যগুলো দায়ী।)

ম্যাপ মামলায়, সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেয় যে বর্জনীয় নিয়ম রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত প্রমাণ রাজ্য মামলায়ও ব্যবহার করা যাবে না, কেন্দ্রীয় মামলার পাশাপাশি। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল চোদ্দতম সংশোধন, যা রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেয় কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না; এখানে স্বাধীনতার মধ্যে বিল অফ রাইটসের অধীনে সংরক্ষিত অধিকারগুলো অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ছিল।

ম্যাপ রায়ের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে, পুলিশকে এখন প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ওয়ারেন্ট নিতে বাধ্য করা হয়। (এর আগে, পুলিশ ওয়ারেন্ট নিয়ে বাড়ি তল্লাশি করার কথা থাকলেও, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি করে পাওয়া প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্য ছিল বলে এই নিয়ম অগণিতভাবে উপেক্ষিত হতো।) এছাড়াও, ম্যাপ রায় সুপ্রিম কোর্টের পুলিশের কার্যকলাপের প্রতি তীক্ষ্ণ নজরদারির সূচনা করে, যা আজও অব্যাহত আছে।

একটি মামলা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাদের পক্ষে আইনজীবী থাকার অধিকার রয়েছে, এমনকি তারা যদি তা ভাড়া দিতে না পারেন তবুও।

মামলা যা অপরাধীর জেরা চলাকালে আইনজীবীর উপস্থিতির অধিকার নিশ্চিত করেছিল, এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের আত্মরক্ষা অধিকারকে শক্তিশালী করেছিল।

এই সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি একটি বিবাহিত দম্পতির পক্ষ থেকে আনা হয়েছিল যারা দাবি করেছিলেন যে কনেটিকাট রাজ্যের জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করার আইন তাদের মৌলিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই দাবিকে মেনে নিয়েছিল এবং বিবাহিত দম্পতিদের জন্য কনেটিকাটের জন্মনিয়ন্ত্রণ নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর ঘোষণা করেছিল।

জাস্টিস ডগলাস বিখ্যাতভাবে লিখেছিলেন যে গোপনীয়তার অধিকার—যা সংবিধানের পাঠে সরাসরি উল্লেখ নেই—সে অধিকার সংবিধানে উল্লিখিত অন্যান্য অধিকার থেকে "প্রত্যাহারের দ্বারা গঠিত ছায়া" হিসেবে ইঙ্গিতস্বরূপ পাওয়া যায়, যেমন অযাচিত তল্লাশি থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার। রো বনাম ওয়েড মামলার পর থেকে, কিছু রক্ষণশীলেরা এই "পিনাম্বরা" অংশটিকে বিচারিকভাবে নতুন অধিকার সৃষ্টির বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করেছেন।

যদিও এই মামলা প্রথমে খুব বেশি বিতর্কিত ছিল না কারণ এটি শুধুমাত্র বিবাহিত দম্পতিদের উপর প্রভাব ফেলেছিল, এটি পরবর্তীতে রো বনাম ওয়েড (১৯৭৩) মামলার জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞাগুলো গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, যা অন্যতম বিতর্কিত সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত।

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দেয় যে পুলিশ যখন কাউকে গ্রেফতার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার আগে তাকে অবশ্যই পরিচিত করতে হবে তার অধিকারসমূহের সাথে, যা বর্তমানে "মিরান্দা ওয়ার্নিং" নামে পরিচিত। এই ওয়ার্নিংয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে জানানো হয় যে তার নীরব থাকার অধিকার আছে, তার পক্ষে একজন আইনজীবী থাকার অধিকার আছে, এবং যদি অর্থের অভাব থাকে তবে সরকারী আইনজীবী নিযুক্ত করার অধিকারও রয়েছে।

বার্গ বনাম ওহাইও, ৩৯৫ ইউ.এস. ৪৪৪ (১৯৬৯)

[সম্পাদনা]

মুক্ত বাক্যের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পুরনো "স্পষ্ট ও উপস্থিত বিপদের" পরীক্ষাকে বদলে "তাত্ক্ষণিক আইনবিরোধী কার্যক্রমে উস্কানীমূলক পরীক্ষায় রূপান্তর করে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাক্যের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করে।

রো বনাম ওয়েড, ৪১০ ইউ.এস. ১১৩ (১৯৭৩)

[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালে গৃহীত রো বনাম ওয়েড হল একটি বিখ্যাত এবং অত্যন্ত বিতর্কিত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের মামলা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা বা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধাপে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা অগ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। রো মামলাটি ২০শ শতাব্দীর সবচেয়ে বিতর্কিত সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এটি বুশ বনাম গোর (২০০০), সান্তা ক্লারা কাউন্টি বনাম সাউদার্ন প্যাসিফিক রেলরোড কোম্পানি (১৮৮৬), এবং ড্রেড স্কট বনাম সানফোর্ড (১৮৫৭) এর সঙ্গে তালিকাভুক্ত।

২০২২ সালের ২৪ জুন, সুপ্রিম কোর্টের ডবস বনাম জ্যাকসন মহিলা স্বাস্থ্য সংস্থা মামলার মাধ্যমে রো সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়া হয়।

মামলার পটভূমি: রো নামের টেক্সাসের এক মহিলা, যার অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা হয়। টেক্সাসের তখনকার আইন গর্ভপাত সাধারণত নিষিদ্ধ করেছিল, শুধুমাত্র কিছু বিশেষ মেডিকেল পরিস্থিতিতে যেমন গর্ভবতী নারীর জীবন হুমকির মুখে থাকলে তা অনুমোদিত ছিল। রো টেক্সাসকে মামলা করেন, যুক্তি দিয়ে যে ১৪তম সংশোধনের অধীনে তার গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মামলাটি বিভিন্ন ফেডারেল আদালত পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্ট রো এর পক্ষে রায় দেন এবং টেক্সাস আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।

সিদ্ধান্তের মূল দিক:

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যেকোনো কারণে গর্ভপাত গ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয় তিন মাসে স্বাস্থ্যের জন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে, যেমন গর্ভপাত হাসপাতালের মধ্যে করানোর বিধান।

শেষ তিন মাসে, সাধারণত গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা যেতে পারে কারণ গর্ভাবস্থার শেষ ধাপের গুরুত্ব বিবেচনা করে।

রো মামলার বিরুদ্ধে ও সমর্থনে যুক্তি

[সম্পাদনা]

সমর্থকরা রো-কে নারীর মৌলিক অধিকার রক্ষায় একটি বড় জয় মনে করেন, বিশেষ করে নারীর নিজের শরীর ও প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার হিসেবে। কেউ কেউ মনে করেন রো-এর ফলে অপরিচ্ছন্ন গর্ভাবস্থার কারণে অপরাধের হার কমেছে, যদিও অন্যরা বলেন এ জন্য কার্যকর গর্ভনিরোধক এবং যৌন শিক্ষা বেশি ভূমিকা রেখেছে। সমালোচকরা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ব্যাখ্যা ছাড়িয়ে বেঞ্চ থেকে আইন প্রণয়ন করেছে, এবং গর্ভপাত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত রাজনীতির মাধ্যমে, জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা। কিছু সমালোচক গর্ভে থাকা শিশুর অধিকারকেও বিবেচনায় আনার দাবি করেন। ধর্মীয় এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিরোধীতা রয়েছে, বিশেষ করে ক্যাথলিক ও রক্ষণশীল প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে।

রো এর প্রভাব

[সম্পাদনা]

রো সিদ্ধান্তের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংঘাত ব্যাপক হয়েছে, যা আজও অব্যাহত। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিতর গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রো মামলাটি নিউ ডিল কোয়ালিশনের পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়, যেটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ধারাকে নিয়ন্ত্রিত করত। এর ফলে ধর্মভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী গঠন পায় এবং তারা ১৯৬০-এর দশকের সামাজিক আন্দোলনের পরে তৈরি বামপন্থী ও আদর্শ ভিত্তিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত শুরু করে। এই দ্বন্দ্বের ধারাকে ১৯৮০-এর দশক থেকে রক্ষণশীলেরা ‘কালচার ওয়ার’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন।

এই মামলাটি বিশেষ কৌঁসুলি আর্চিবল্ড কক্সের ওয়াটারগেট তদন্তসংক্রান্ত তথ্যাদি চেয়ে দেওয়া একটি আদালতের সমন (সাবপোনা) নিয়ে বিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়। কক্স প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের অডিও টেপকৃত কথোপকথনসমূহ চাওয়ায় নিক্সনের “শনিবার রাতের গণহত্যা”-এর অংশ হিসেবে কক্সকে বরখাস্ত করা হয়। কক্সের উত্তরসূরি লিয়ন জাওরস্কি সমনের কার্যক্রম চালিয়ে যান। নিক্সন তবুও টেপগুলো হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তা গোপন রাখার জন্য এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ দাবি করেন।

জাওরস্কি এরপর সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করেন যাতে আদালতের আদেশের মাধ্যমে নিক্সনকে সমন মানতে বাধ্য করা যায়।

যদিও ব্যক্তিগত আলোচনায় বিচারপতিদের মধ্যে মতভেদ ছিল, তারা একযোগে একমত রায় প্রদান করেন, যাতে রায়টি আরও জোরালোভাবে নিক্সনের কাছে উপস্থাপিত হয় এবং তিনি তা উপেক্ষা না করেন। এই রায়ে আদালত বলেছে যে, মারবেরি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যেমন বলা হয়েছে আদালত সংবিধানসম্মততা নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখে, তেমনি আদালত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কীভাবে সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ, তাও নির্ধারণ করতে পারে। আদালত আরও রায় দেয় যে, এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ ফৌজদারি মামলার প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আদালত বলেছে যে, তাদের দ্বারা স্বীকৃত ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

এই সুপ্রিম কোর্টের মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে, কোটা পদ্ধতি হিসেবে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন (অর্থাৎ অতীতে বৈষম্যের শিকার সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসনের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম শতাংশ সংরক্ষণ) সংবিধান লঙ্ঘন করে এবং তাই এটি অবৈধ।


এই সুপ্রিম কোর্টের মামলায় রায় দেওয়া হয় যে, আইনসভা কোনো যৌন কার্যকলাপকে অনৈতিক বলে বিবেচনা করলে তা নিষিদ্ধ এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে—এমনকি যদি তা ব্যক্তিগত, সম্মতিপূর্ণ, বাণিজ্যিক নয়, এবং অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ঘটে। এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, এরূপ আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ঘোষিত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করে না। তবে, এই রায়কে পরবর্তীকালে লরেন্স বনাম টেক্সাস (২০০৩) মামলায় ভুল বলে ঘোষণা করে বাতিল করা হয়।

টেক্সাস বনাম জনসন, ৪৯১ ইউ.এস. ৩৯৭ (১৯৮৯)

[সম্পাদনা]

এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, মার্কিন জাতীয় পতাকা পোড়ানো—এমনকি যদি তা অনেকের কাছে আপত্তিকর বা অপমানজনক মনে হয়—তবুও এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত এবং প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত। মামলার মূল ইস্যু ছিল যে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি আইন অনুযায়ী, জনসনের পতাকা পোড়ানো ছিল অপরাধ, কিন্তু আদালত মত দেয় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এটি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অভিব্যক্তি।

এই মামলাটি রো ভি. ওয়েড মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। সুপ্রিম কোর্ট Roe-এর মূল সিদ্ধান্ত—যে গর্ভপাতের অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার—তা বহাল রাখে, তবে সেই অধিকারে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আদালত “অযথা বোঝা” নামে একটি নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যার অর্থ হলো, কোনো রাজ্য যদি এমন কোনো বিধান করে যা নারীর গর্ভপাতের অধিকার বাস্তবায়নে একটি "অযৌক্তিক বোঝা" সৃষ্টি করে, তবে সেটি অসাংবিধানিক।

এই মামলায় আদালত পেনসিলভানিয়ার একটি আইন পর্যালোচনা করে, যেখানে গর্ভপাত করাতে চাওয়া নারীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিয়ম (যেমন ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষার সময়, তথ্যাবলী পাঠ, এবং বিবাহিত নারীদের স্বামীর অবগতির বিধান) ছিল। আদালত স্বামীর অবগতির বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কিন্তু অন্যান্য শর্তসমূহ বৈধ বলে রায় দেয়।

এই রায় রো ভি. ওয়েড-এর নীতিগত ভিত্তি রক্ষা করে, তবে গর্ভপাতের অধিকারে কিছু রাজ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকে অনুমোদন দেয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে জটিলতা বৃদ্ধি পায়।

রোমার বনাম এভান্স, ৫১৭ ইউ.এস. ৬২০ (১৯৯৬)

[সম্পাদনা]

এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কলোরাডো রাজ্যের একটি সংবিধান সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, যা সমকামী, উভকামী এবং রূপান্তরিত লিঙ্গের (LGBT) ব্যক্তিদের কোনো বিশেষ আইনি সুরক্ষা পাওয়া থেকে বিরত রাখতো।

"সংশোধনী 2" নামক এই সংশোধনীর মাধ্যমে LGBT ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য নিরোধে স্থানীয় বা রাজ্য পর্যায়ে কোনো আইন পাস করার অধিকার প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আদালত রায় দেয় যে, এই সংশোধনী শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈরিতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে এবং যুক্তিসঙ্গত সরকারী স্বার্থের ভিত্তিতে নয়।

আদালত রায় দেয়, সমান সুরক্ষার অধিকার অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না।

গুরুত্ব: এই রায়টি ছিল সমকামী অধিকার বিষয়ক প্রথম বড় বিজয়গুলোর একটি, এবং এটি লরেন্স v টেক্সাস (২০০৩) এবং ওবারগেফেল v. হজস (২০১৫)–এর মতো পরবর্তী মামলাগুলোর জন্য ভিত্তি তৈরি করে।

বুশ বনাম গোর, ৫৩১ ইউ.এস. ৯৮ (২০০০)

[সম্পাদনা]

এই মামলাটি নতুন কোনো বিচারিক নীতি স্থাপন না করলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কার্যত সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নির্ধারিত হয়।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় অসংগতি ও বিতর্কের কারণে এই মামলার উদ্ভব হয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণের জন্য ফ্লোরিডার ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আদালত রায় দেয় যে, ফ্লোরিডার পুনর্গণনা পদ্ধতি সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে, কারণ ভোট গণনার মানদণ্ড প্রতিটি কাউন্টিতে একরকম ছিল না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে পুনর্গণনা বন্ধ হয়ে যায় এবং রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ. বুশ ফ্লোরিডার ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

গুরুত্ব: বুশ বনাম গোর মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সুপ্রিম কোর্টের একটি বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রপতির ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল।

লরেন্স বনাম টেক্সাস, ৫৩৯ ইউ.এস. ৫৫৮ (২০০৩)

[সম্পাদনা]

লরেন্স, একজন সমকামী ব্যক্তি, তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর অবিবাহিত ও সম্মতিসূচক যৌন সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ছিলেন, যখন পুলিশ একটি গুলির শব্দ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করতে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে। সেখানে কোনো অস্ত্র না পেলেও, পুলিশ লরেন্স ও তাঁর সঙ্গী গার্ডনারকে যৌন মিলনের সময় হাতে-নাতে ধরে ফেলে। তাঁদের বিরুদ্ধে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের "অপ্রাকৃত যৌন সম্পর্ক" আইন অনুসারে অভিযোগ আনা হয়।

লরেন্স ও গার্ডনার এই অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেন নিম্নলিখিত দুইটি ভিত্তিতে:

এই আইন কেবল সমলিঙ্গের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের একই ধরনের যৌন আচরণের ক্ষেত্রে নয়, যা সংবিধানের সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে।

এই আইন তাঁদের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার উপর অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ, কারণ অভিযুক্ত কার্যকলাপটি পরস্পরের সম্মতিতে, ব্যক্তিগত স্থানে এবং অ-ব্যবসায়িকভাবে সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্য পাল্টা যুক্তি দেয় যে, রাজ্যের নৈতিকতা নির্ধারণ ও তা নিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে এবং সমকামিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধান সম্মত, যেমনটি পূর্ববর্তী বাওয়ার্স বনাম হার্ডউইক মামলায় স্বীকৃত হয়েছে।

রায়: আদালত লরেন্স ও গার্ডনারের পক্ষে রায় দেয়। বিচারপতি কেনেডি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত লিখে বলেন:

> “এই বিষয়গুলো—যা মানুষের জীবনের সর্বাধিক অন্তরঙ্গ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং যা ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু—চতুর্দশ সংশোধনীর দ্বারা সুরক্ষিত স্বাধীনতার অংশ। স্বাধীনতার কেন্দ্রে রয়েছে নিজস্ব অস্তিত্ব, জীবনধারণের তাৎপর্য এবং মানব জীবনের রহস্য সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা গড়ে তোলার অধিকার। রাষ্ট্র যদি এই বিশ্বাসগুলো চাপিয়ে দেয়, তাহলে তা ব্যক্তি-সত্ত্বার অবমূল্যায়ন।


> সমকামী সম্পর্কের ব্যক্তিরাও এই ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার ভোগ করতে পারেন, যেমনটি হেটারোসেক্সুয়াল ব্যক্তিরা করেন। বাওয়ার্স রায় এই অধিকার অস্বীকার করেছিল। সেই রায় তখনও ভুল ছিল, এখনও ভুল, এবং তা আর বজায় রাখা যায় না। বাওয়ার্স বনাম হার্ডউইক এখন বাতিল।


> এই মামলায় কোনো নাবালক জড়িত নয়, কোনো জোর বা আঘাতের ইঙ্গিত নেই, বা এমন সম্পর্ক নয় যেখানে সম্মতি জটিল হতে পারে। এটি জনসমক্ষে সংঘটিত হয়নি, যৌন বাণিজ্য বা রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পর্ক স্বীকৃতির দাবি সম্পর্কেও নয়। এটি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্মতিমূলক আচরণ, যেটি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। সংবিধানের ডিউ প্রোসেস ধারা তাঁদের ব্যক্তিগত যৌন আচরণে হস্তক্ষেপহীন থাকার পূর্ণ অধিকার দেয়।


> “সংবিধান এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে এমন একটি ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্র থাকবে, যেখানে সরকার প্রবেশ করতে পারবে না।”


গুরুত্ব: এই মামলাটি পূর্ববর্তী বাওয়ার্স বনাম হার্ডউইক রায় বাতিল করে সমকামীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউ অধিকার সুরক্ষার একটি মাইলফলক রায়।

এই মামলাটি এক মার্কিন নাগরিক, হামদি হামদান ইউসুফ হামদি, যিনি আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় বন্দি হন এবং "শত্রু যোদ্ধা" হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়, তাঁকে বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।

পটভূমি: হামদিকে আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার করার পর গুয়ানতানামো বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু পরে জানা যায় তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এরপর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা হয় এবং বিনা বিচারে বন্দি রাখা হয়। সরকার যুক্তি দেয়, রাষ্ট্রপতি যুদ্ধকালীন সময়ে "শত্রু যোদ্ধা"দের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার ক্ষমতা রাখেন এবং এই সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

প্রধান প্রশ্ন: একজন মার্কিন নাগরিককে, যাকে সরকার "শত্রু যোদ্ধা" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, কি বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যায়? এবং এ ক্ষেত্রে কি সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার প্রযোজ্য?

রায়: সুপ্রিম কোর্ট ৮-১ ভোটে রায় দেয় যে,

রাষ্ট্রপতি শত্রু যোদ্ধাদের আটক রাখার কিছু সীমিত ক্ষমতা রাখেন, কিন্তু…

একজন মার্কিন নাগরিককে এইভাবে বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যায় না।

হামদির মত বন্দিদের অবশ্যই ন্যূনতম প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা পাওয়া উচিত, যার মধ্যে রয়েছে প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালে মামলা উপস্থাপন করার অধিকার।


গুরুত্ব: এই রায় যুদ্ধবন্দি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘোষিত করে যে সংবিধান অনুসারে, কোনো মার্কিন নাগরিক আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং বিচার ছাড়া আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখে, এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী প্রেক্ষাপটেও।

এই মামলাটি সালিম আহমেদ হামদান নামক একজন ইয়েমেনি নাগরিককে কেন্দ্র করে, যিনি ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হন। তাঁকে গুয়ানতানামো বে-তে স্থানান্তর করা হয় এবং আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের ড্রাইভার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। মার্কিন সরকার হামদানকে সামরিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ. বুশ ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পরে গঠন করেছিলেন।

প্রধান প্রশ্ন: এই মামলায় প্রশ্ন ছিল—রাষ্ট্রপতি একতরফাভাবে যে সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন, তা কি মার্কিন আইন ও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বৈধ ছিল?

রায়: সুপ্রিম কোর্ট ৫-৩ ভোটে রায় দেয় যে,

রাষ্ট্রপতির গঠিত সামরিক ট্রাইব্যুনালগুলি অবৈধ ছিল, কারণ সেগুলি কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি এবং

সামরিক ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালী মার্কিন আইন এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছিল।


মুখ্য যুক্তি:

কংগ্রেস যুদ্ধকালীন বিচারব্যবস্থা গঠনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করেছিল।

হামদান একজন যুদ্ধবন্দি হিসেবে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মৌলিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

আদালত আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ও নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বিচারব্যবস্থা গঠন করতে পারে না, কারণ এটি ক্ষমতার ভারসাম্য নীতির বিরুদ্ধে যায়।


গুরুত্ব: এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধকালীন নাগরিক অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করে। এটি দেখায় যে রাষ্ট্রপতি, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটেও, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য।


বৌমেডিয়েন বনাম বুশ, ৫৫৩ ইউ.এস. ৭২৩ (২০০৮)

[সম্পাদনা]

এই মামলাটি লক্ষিত হয়েছিল যুদ্ধবন্দিদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক প্রশ্নে। লাকদার বৌমেডিয়েন নামক একজন বসনিয়ান আলজেরীয়, যিনি ২০০১ সালের পরে গুয়ানতানামো বে-তে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে বন্দি হন, তিনি ও অন্যান্য বন্দিরা যুক্তরাষ্ট্রে হেবিয়াস কর্পাস অধিকার (অর্থাৎ বেআইনি আটক চ্যালেঞ্জ করার অধিকার) দাবী করেন।

তবে ২০০৬ সালে সামরিক কমিশন আইন (MCA) পাস করে কংগ্রেস এই অধিকার গৃহীত বন্দিদের থেকে সরিয়ে নেয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে: বিদেশি নাগরিকেরা, যারা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের বাইরে (গুয়ানতানামো বে-তে) বন্দি, তাদের কি সংবিধানিকভাবে হেবিয়াস কর্পাসের অধিকার রয়েছে?

সুপ্রিম কোর্টের রায় (৫–৪ ভোটে): হ্যাঁ, গুয়ানতানামো বে-র বন্দিদের হেবিয়াস কর্পাসের অধিকার আছে।

আদালত বলেন, যদিও গুয়ানতানামো বে প্রযুক্তিগতভাবে আমেরিকার অংশ নয়, কিন্তু এটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি এলাকা।

সংবিধানের হেবিয়াস কর্পাস ধারা ভূখণ্ড-নির্ভর নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা যেখানে পৌঁছে, সেখানেই তা প্রযোজ্য।


রায়ের গুরুত্ব:

কংগ্রেস কর্তৃক পাস করা সামরিক কমিশন আইন-এর হেবিয়াস কর্পাস বাতিলের ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।

রায়টি নির্বাহী ও আইনসভা কর্তৃক মৌলিক অধিকার সীমাবদ্ধ করার বিরুদ্ধে আদালতের শক্ত ভূমিকা প্রতিস্থাপন করে।

এটি প্রমাণ করে যে, মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার বিদেশি নাগরিকদের প্রতিও প্রযোজ্য হতে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় তারা অবস্থান করেন।


এই মামলাটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সংশোধনীর ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি মিলিশিয়া এবং অস্ত্র রাখা ও বহনের অধিকারের সাথে জড়িত। এছাড়াও এটি চৌদ্দতম সংশোধনীর সঙ্গেও জড়িত। এই সংশোধনী মানুষের কিছু অধিকার, যেমন জীবন, স্বাধীনতা, এবং সম্পত্তি রক্ষা করার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনও রাজ্য সরকার নাগরিকদের এসব অধিকারথেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

মামলাকারী হেলার ছিলেন কলম্বিয়া জেলার বাসিন্দা, যেখানে সেই জেলার আইন হ্যান্ডগানের মালিকানাকে নিষিদ্ধ করেছিল, শুধুমাত্র খুবই স্বল্প কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে এটি অনুমোদিত ছিল, যেগুলোর জন্য হেলার যোগ্য ছিলেন না। হেলার বিশ্বাস করতেন যে দ্বিতীয় সংশোধনী ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে অস্ত্র রাখার ও বহনের অধিকার সুরক্ষা করে। তাই তিনি মামলা করেন, দাবি করে যে কলম্বিয়া জেলার আইন তার অস্ত্র রাখার অধিকার লঙ্ঘন করছে।

সুপ্রীম কোর্ট হেলার এর সঙ্গে একমত হয় এবং সিদ্ধান্ত দেয় যে দ্বিতীয় সংশোধনী ব্যক্তিদের অস্ত্র রাখার ও বহনের অধিকার নিশ্চিত করে, এবং চৌদ্দতম সংশোধনী এই অধিকার রাজ্যগুলোর জন্যও প্রযোজ্য করে। ফলে কলম্বিয়া জেলার হ্যান্ডগান নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

উৎস ও নোট

[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রপতি  ·  প্রধান বিচারপতি