মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস/ডব্লিউ. বুশ

২০০০ সালের নির্বাচন
[সম্পাদনা]
ক্লিনটনের রাষ্ট্রপতিত্ব সমাপ্তির সময় ডেমোক্র্যাটিক ভোটাররা ক্লিনটনের উপরাষ্ট্রপতি আল গোরকে তাদের মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। রিপাবলিকানরা নির্বাচিত করেছিল টেক্সাসের গভর্নর ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশকে।[১]
২৫টি নির্বাচনী ভোট নিয়ে ফ্লোরিডা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র অঙ্গরাজ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফ্লোরিডা ঐতিহ্যগতভাবে একটি ডেমোক্র্যাটিক সমর্থক রাজ্য ছিল, কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিস্ফোরণমূলক জনসংখ্যা বৃদ্ধি দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অনেক সামাজিক ও অর্থনৈতিক রক্ষণশীল কিউবান সম্প্রদায়কে নিয়ে এসেছিল।[২] এই বৃদ্ধির কারণে ফ্লোরিডা দুই প্রধান দলের মধ্যে প্রায় সমানভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।[২]
নির্বাচনের রাতে সংবাদমাধ্যম প্রথমে ফ্লোরিডাকে গোরের পক্ষে ঘোষণা করেছিল; যা বুশের জয়ের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। তবে এই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয় যখন প্রকৃত ফলাফল বেসরকারি ফলাফলের সঙ্গে মেলেনি। পরে ফ্লোরিডাকে বুশের পক্ষে ঘোষণা করা হয়, কিন্তু ভোটের পার্থক্য খুব কম হওয়ায় তা আবার প্রত্যাহার করা হয়। ফ্লোরিডার আইন অনুসারে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে স্বয়ংক্রিয় পুনর্গণনার বিধান ছিল এবং যখন ফ্লোরিডা ঘোষণা করল যে বুশ জিতেছে, তখন গোর ফ্লোরিডার কয়েকটি কাউন্টিতে পুনর্গণনা চালানোর জন্য মামলায় গিয়েছিলেন। বুশ পাল্টা মামলা করেন এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে পৌঁছায়। ৫-৪ ভাগের এক সিদ্ধান্তে আদালত নির্ধারণ করে যে ফ্লোরিডার সকল কাউন্টির ব্যালট পুনর্গণনা করতে হবে (যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সমান সুরক্ষা ধারা অনুসারে)। ফ্লোরিডার সংবিধান অনুযায়ী আদালতের সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যে ফ্লোরিডাকে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হত, তাই পুরো অঙ্গরাজ্যের পুনর্গণনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না। অতএব, রাজ্যের চূড়ান্ত গণনা অপরিবর্তিত থাকল এবং বুশ ৫৩৭ ভোটের ব্যবধানে ফ্লোরিডা জিতে গেলেন। ফলস্বরূপ ইলেকটোরাল ভোট ছিল বুশের পক্ষে (২৭১-২৬৭), যিনি জাতীয় ভোট সংখ্যায় হেরে গিয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
বুশের প্রথম চার বছর
[সম্পাদনা]৯/১১ এবং এর পরবর্তী ঘটনা
[সম্পাদনা]এক বছরেরও কম সময় পরে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসীরা চারটি বিমান জোরপূর্বক দখল করে। সকাল ৮:৪৬ মিনিটে প্রথম বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১১০-তলা উত্তর টাওয়ারে ধাক্কা দেয় এবং সতেরো মিনিট পর দ্বিতীয় বিমান দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে, যার ফলে বিশাল বিস্ফোরণ ও আগুন লাগে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে উভয় টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যায়, হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে ছিল শত শত ফায়ারফাইটার ও পুলিশ যারা ঘটনাস্থলে তৎপর ছিল। সকাল ৯:৩৭ মিনিটে তৃতীয় বিমান পেন্টাগনে আঘাত হানে যা ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে মার্কিন সামরিক প্রধানালয় এবং পশ্চিম দিকের একটি বড় গর্ত তৈরি করে। চতুর্থ দখলকৃত বিমান সম্ভবত যাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে পেনসিলভানিয়ায় পড়ে যায়। এর ওয়াশিংটন, ডিসির দিকে যাওয়ার কথা ছিল বলে ধারণা করা হয়, যার লক্ষ্য সম্ভবত মার্কিন ক্যাপিটল ভবন বা হোয়াইট হাউস ছিল। মোট প্রায় ৩০০০ জন মারা যান এই "৯/১১" হামলায়, যা দেশের বিরুদ্ধে একটি বিদেশি শত্রুর সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।[৩]
এই হামলার দায়িত্ব দ্রুত আল কায়দার নেতা ওসামা বিন লাদেনের ওপর চাপানো হয়, যিনি আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ শিবির চালাতেন। বিন লাদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ বিতর্কিত হলেও এতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০০১ সালের আগে আল কায়দা অনেক ছোট সন্ত্রাসী হামলা করেছিল, যেমন ১৯৯৮ সালে কেনিয়া ও তাঞ্জানিয়ায় মার্কিন দূতাবাস বোমা হামলা।
হামলাগুলো দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন বিলুপ্ত করে। বিশ্বের অনেক নেতা ও দেশ মার্কিন জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।[৪] হামলার পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ "সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ" ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে সামরিক শক্তি দেখানোর হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল কায়দাকে দায়ী ঘোষণা করে তালেবানকে বিন লাদেন ও আল কায়দার নেতৃত্ব হস্তান্তর এবং আফগানিস্তানের সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংসের দাবি জানায়। অক্টোবর মাসে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী তালেবান ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে অভিযান চালায়। তালেবান সরকারের দ্রুত পতন ঘটে এবং আল কায়দার বহু নেতা ধরা পড়ে বা নিহত হয়, যদিও বিন লাদেন দশ বছর ধরে পালিয়ে ছিলেন। বিন লাদেনের ভূমিকা তার সাক্ষাৎকার ভিডিওর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যেখানে তিনি ৯/১১ হামলা তার প্রত্যাশার চেয়ে আরও বিধ্বংসী ছিল বলেছিলেন। হামলার কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক চিঠির কারণে এনথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পাঁচজন মারা যান। এই ঘটনার সঙ্গে আল কায়দার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি, তবে এটি আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করা হয়, বিমান, ভবন ও জনসমাগমস্থলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু হয়। সন্দেহজনক বা অবৈধ অবস্থা যুক্ত ব্যক্তিদের আটক করা হয় এবং বিদেশি সন্ত্রাসীদের বিচার করার জন্য বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।[৫]
এই হামলা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে। নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ হামলার পরে পুনরায় খোলার সময় শেয়ারমূল্যের পতন ঘটে। ভ্রমণ শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ অনেক মার্কিন বিমানে ভ্রমণ কমিয়ে দেয়। হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ সতর্ক অবস্থায় চলে যায়, তিন দিন পুরো আমেরিকা ও কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। যুক্তরাজ্যে কয়েক দিন লন্ডনের আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। অনেক এয়ারলাইনস বিলুপ্তি ঘোষণা করে। বিল ক্লিনটনের সময়কার অর্থনৈতিক উন্নতি ধীরে ধীরে মন্দার দিকে যায়।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বহু প্রতিষ্ঠানের দপ্তর ছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কার্যক্রম চলত। হামলার কারণে শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে পতিত হতে থাকে যা চাকরির সুযোগ কমিয়ে দেয়।
-
৯/১১ হামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
-
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, যা নিউ ইয়র্ক ও পুরো বিশ্বকে আঘাত দেয়।
-
টাওয়ার ধ্বংসের সময় নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রচুর ধুলো ও ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে।
-
ধ্বংসস্তূপ আশেপাশের এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
-
একজন ফায়ারম্যান উদ্ধারকর্মীদের জন্য আরও দশ জন চাচ্ছেন।
-
পেন্টাগনের ধ্বংসাবশেষ, ফ্লাইট ৭৭ এর।
-
পেনসিলভানিয়ায় ফ্লাইট ৯৩ এর ধ্বংসস্থল।
-
হামলার পর নিখোঁজদের সন্ধানের পোস্টার।
-
২০০১ সালের নভেম্বর মাসে নিহতদের প্রতি সহানুভূতির প্রদর্শনী।
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ
[সম্পাদনা]
৯/১১ হামলার পরপরই কংগ্রেস মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিল পাস করে, যা ২০০১ সালের ২৬ অক্টোবরে আইন হিসাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই আইন নাগরিকদের কিছু অধিকার সীমিত করলেও সরকারের সন্ত্রাসী নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ ক্ষমতা বাড়ায়। শত শত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং প্রায় অর্ধেকের বেশি দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে আইন প্রয়োগে কখনো দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে যা ২০০৫ সালে পুনর্বিবেচনার মধ্যে পড়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করে। প্রথম লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তান, যেখানে তালেবান সরকার বিন লাদেন ও আল কায়দাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তালেবান বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী ৭ অক্টোবরে তালেবান কেন্দ্রে বোমা বর্ষণ শুরু করে। দ্রুত যুদ্ধ শেষ হয় এবং তালেবান সরকার পতিত হয়। আফগানরা তাদের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করে।
২০০২ সালের রাষ্ট্রপতি ভাষণে বুশ ইরাক, ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে "অক্ষ শক্তি" বলে উল্লেখ করেন। তিন দেশকে তিনি রোজাকার বা পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আফগানিস্তান আক্রমণ ছিল বুশ নীতি বাস্তবায়নের প্রথম উদাহরণ। এই নীতির মূল কথা, সন্ত্রাসী এবং তাকে আশ্রয়দাতা একইসাথে শত্রু, এবং একাকী হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালাবে যদি নিরাপত্তায় হুমকি অনুভব করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ছড়ানো।
ইরাক যুদ্ধ
[সম্পাদনা]২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ ইরাকের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে, কারণ মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী ইরাকের কাছে বেশ কয়েকটি ধ্বংসাত্মক অস্ত্র এবং সেগুলো উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ১৪৪১ পাস করে, যার মাধ্যমে ইরাককে জাতিসংঘ অস্ত্র পরিদর্শকদের জন্য খুলে না দিলে "গুরুতর পরিণতি" ভোগ করতে হবে বলা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের দুই ভেটো সদস্য দেশ (ফ্রান্স এবং রাশিয়া) ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে চায়নি এবং এমন কোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (যা পরে অনির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছিল) নিরাপত্তাজনিত সম্ভাব্য হুমকির কারণে রাষ্ট্রপতি বুশ এবং তার কিছু মিত্র (তিনি "স্বেচ্ছাসেবী জোট" হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন) জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই আক্রমণ শুরু করে। ১৭ মার্চ ২০০৩ সালের রাতে রাষ্ট্রপতি বুশ হুসেইন এবং তার দুই ছেলে উদায় ও কুসায়কে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরাক ছেড়ে চলে যাওয়ার বা আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার আল্টিমেটাম দেন। তারা প্রত্যাখ্যান করে। আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ইরাকে আক্রমণ শুরু হয়। আক্রমণ খুব কম সময় ধরে চলে এবং ইরাক সরকারের ও সামরিক বাহিনীর পতন হয় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে।
উদায় ও কুসায় হুসেইন জুলাই মাসে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির সময় নিহত হন। ১৩ ডিসেম্বর সাদ্দাম হুসেইন একটি পোকামাকড়ের গর্তের মত ছোট গর্ত থেকে ধরা পড়েন। ইরাকে কোনো ধ্বংসাত্মক অস্ত্র কখনো পাওয়া যায়নি। আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং চলমান মার্কিন হতাহতের কারণে যুদ্ধের প্রতি মার্কিনদের জনমত ক্রমাগত কমতে থাকে।
অনেকে মনে করেন ইরাক আক্রমণ সেপ্টেম্বর ১১-এর পর রাজনৈতিক ঐক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। যদিও জনসাধারণ এবং কংগ্রেস দুই পক্ষই যুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল, একটি বড় সংখ্যক সংশয় প্রকাশ করেছিল। অনেকেই আশঙ্কা করেছিল যে প্রশাসনের কাছে যুদ্ধ শেষে পুনর্গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যরা উদ্বিগ্ন ছিল আক্রমণের ফলে মার্কিন মিত্র দেশগুলি বিভ্রান্ত হতে পারে। আক্রমণের মাত্র এক মাস আগে তথা ১৫ ফেব্রুয়ারিতে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০টি শহরের লাখ লাখ মানুষ ছিল।
সমকামী বিবাহ
[সম্পাদনা]২০০৪ সালের নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সমকামী বিবাহ।[৬] ১৮ নভেম্বর ২০০৩ সালে ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা দেয় যে সমকামী বিবাহ নিষিদ্ধ করা সংবিধানবিরুদ্ধ, যার ফলে ওই রাজ্যে সমকামী বিবাহকে বৈধতা দেয়া হয়। ম্যাসাচুসেটসের রায়ের পর ক্যালিফোর্নিয়া, ভারমন্ট, মেইন, হাওয়াই, নিউ জার্সি, ডিসট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া, এবং কনেকটিকাট অঙ্গরাজ্যগুলো সমকামীদের জন্য নাগরিক ইউনিয়ন, পারস্পরিক সুবিধা বা গৃহীত অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি বুশ বিবাহকে একজন পুরুষ ও একজন মহিলার মধ্যে সংজ্ঞায়িত করার জন্য একটি সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব করেন। সিনেট বিষয়টি বিবেচনা করে, কিন্তু শুধু সংখ্যালঘু অংশ এই বিধানের পক্ষে ছিল যেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি বুশ বলেন, "একজন পুরুষ ও একজন নারীর মিলন মানবজীবনের সবচেয়ে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, যা সব সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা সম্মানিত ও উৎসাহিত। বিবাহকে এর সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং প্রাকৃতিক মূল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে সমাজের সুষ্ঠু প্রভাব দুর্বল হয়ে যাবে।"[৭]
নির্বাচনের দিনে সমকামী অধিকার আন্দোলন বড় ধাক্কা খায়, যখন সাতটি অঙ্গরাজ্য (জর্জিয়া, আর্কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, কেন্টাকি, ওকলাহোমা, এবং ইউটা) সমকামী দম্পতিদের মধ্যে বিবাহ, নাগরিক ইউনিয়ন বা গৃহীত অংশীদারিত্বকে সংবিধানবিরুদ্ধ ঘোষণা করে। আরও তিনটি অঙ্গরাজ্য (ওরেগন, মিসিসিপি, এবং মন্টানা) শুধুমাত্র সমকামীদের জন্য বিবাহ অবৈধ করে এবং একটি অঙ্গরাজ্য (ওহিও) সমকামী দম্পতিদের জন্য কোনো ধরনের সুবিধা আইনবিরুদ্ধ ঘোষণা করে।
২০০৪ সালের নির্বাচন
[সম্পাদনা]
প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তা হিসেবে বুশ ২০০৪ সালের রিপাবলিকান মনোনয়নের জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং আল গোর দুজনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে আসেন। পদ খালি থাকায় দশজন ডেমোক্র্যাট তাদের দলের মনোনয়নের জন্য প্রতিযোগিতা করেন। ভারমন্টের প্রাক্তন গভর্নর হাওয়ার্ড ডিন এগিয়ে আসেন এবং গোরের সমর্থন পান। কিন্তু ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর জন এফ ক্যারি আইওয়া ককাসে জয়ী হন এবং সেখান থেকে তিনি এক ধাক্কায় জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
ক্যারি তাঁর রানিং মেট হিসেবে উত্তর ক্যারোলিনার সিনেটর জন এডওয়ার্ডসকে নির্বাচন করেন যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ডেলিগেটের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ছিলেন। ক্যারি একজন উদারপন্থী সিনেটর হিসেবে পরিচিত ছিলেন — তিনি সমকামী অধিকার এবং সমকামী নাগরিক ইউনিয়নকে প্রকাশ্যে সমর্থন করতেন, পছন্দমত গর্ভপাতের পক্ষপাতী ছিলেন, ভ্রূণের স্টেম সেল গবেষণার পক্ষে ছিলেন এবং আলাস্কায় তেল উত্তোলনে বিরোধিতা করতেন। বুশের প্রচারণায় ক্যারিকে "ফ্লিপ-ফ্লপার" (অর্থাৎ নিজের মতামত বারবার পরিবর্তনকারী) হিসেবে আক্রমণ করেছিল, বিশেষ করে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাশ হওয়া একটি বিলের (যা যুদ্ধের জন্য ৮৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল) বিষয়ে ক্যারি মন্তব্য করেছিলেন, "আমি আসলে আটাত্তর বিলিয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম — তার আগে আমি এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলাম।" বুশের প্রচারণা এই মন্তব্যকে কাজে লাগিয়ে ক্যারির বিরুদ্ধে ফ্লিপ-ফ্লপিংয়ের অভিযোগ প্রচার করেছিল।

বুশ এবং ক্যারি উভয়েরই ভোটে সমান প্রতিযোগিতা থাকায় মনে হচ্ছিল নির্বাচন ফ্লোরিডা অথবা ওহাইওর উপর নির্ভর করবে। বুশ উভয় অঙ্গরাজ্যেই জয়লাভ করেন এবং এবার ফ্লোরিডায় তাঁর জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ান। ফলাফল নিয়ে সন্দেহ না থাকায়, ক্যারি পরের দিন নির্বাচনের পরাজয় স্বীকার করেন। চূড়ান্ত ইলেক্টোরাল ভোট হয় ২৮৬ বুশের পক্ষে এবং ২৫১ ক্যারির পক্ষে (মিনেসোটার এক ইলেক্টর জন এডওয়ার্ডসকে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি উভয়ের জন্য ভোট দেন)। এছাড়াও, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিজেদের প্রভাব বাড়ান, বিশেষ করে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৫-৪৪ এ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বছরে সিনেটে তাদের এই প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
নতুন মেয়াদের শুরু
[সম্পাদনা]সোশ্যাল সিকিউরিটি
[সম্পাদনা]১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোশ্যাল সিকিউরিটি ওএএসডিআই হল একটি সরকারি কর্মসূচি যা বেশিরভাগ প্রবীণদের তাদের পূর্ববর্তী আয়ের বাস্তব মূল্যের উপর ভিত্তি করে নিয়মিত আয় প্রদান করে। এটি প্রত্যেক কর্মীর বেতনের ৬.২% কর এবং প্রতিটি নিয়োগকর্তার পেরোলের উপর করের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। অবশিষ্ট অর্থ বিশেষ ট্রাস্ট ফান্ডে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ আকারে রাখা হয়, যেখানে সুদ যুক্ত হয়। সরকারি হিসাববিদরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই অতিরিক্ত অর্থ ২০১৮ বা ২০১৯ সালের দিকে শীর্ষে পৌঁছাবে এবং তারপর ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়ে ২০৪২ থেকে ২০৫২ সালের মধ্যে ট্রাস্ট ফান্ড শূন্য হয়ে যাবে।
তার প্রথম মেয়াদের শেষভাগে এবং ২০০৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বুশ সোশ্যাল সিকিউরিটির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, বিশেষ করে কিভাবে এর দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে। তিনি একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন যেখানে তরুণ কর্মীদের স্টক ফান্ড গঠন করার কথা ছিল যা হয়তো ওএএসডিআই থেকে ভালো অবসরকালীন সুবিধা দিতে পারবে, কিন্তু ব্যবস্থার ঘাটতি সমাধান করবে না। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন দীর্ঘমেয়াদে একমাত্র সমাধান হলো পেরোল কর প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি বা সমপরিমাণ সরকারি ভর্তুকি।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন
[সম্পাদনা]দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বুশের মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটল। কলিন পাওয়েল সচিবালয় থেকে অবসর নেন এবং তাঁর জায়গায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিজা রাইস আসেন, যিনি প্রথম আফ্রিকান মার্কিন মহিলা হিসেবে এই পদটি অধিকার করেন। জন অ্যাশক্রফটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এটর্নি জেনারেল হলেন আলবার্তো গঞ্জালেস যিনি প্রথম মেক্সিকান আমেরিকান হিসেবে এই পদে নিয়োগ পেলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের নায়ক এবং প্রাক্তন গভর্নর টম রিজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা মাইকেল চেরটফ নিয়োগ পেলেন।
সুপ্রিম কোর্টে দ্বৈত শূন্যপদ
[সম্পাদনা]
২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে উইলিয়াম এইচ রেনকুইস্টের থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমে জানান, যতক্ষণ তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো থাকবে তিনি আদালতে থাকবেন।
আশঙ্কার বিপরীতে, প্রথমেই অবসর নেন স্যান্ড্রা ডে ও'কোনার, যিনি আদালতের প্রথম সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করলেন। অবসর নেওয়ার আগে আদালতে ছিলেন তিনজন রক্ষণশীল, পাঁচজন উদারপন্থী, এবং ও'কোনার ছিলেন মধ্যবর্তী মতামতপ্রদানকারী ভোট। গর্ভপাতের বিধিনিষেধ, ইতিবাচক বৈষম্য, এবং অবৈধ যোদ্ধাদের আটক বিষয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ও’কোনার সিদ্ধান্তমূলক ভোট দিতেন। উদারপন্থীরা ভয় পাচ্ছিলেন যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন রক্ষণশীল বিচারক, আর রক্ষণশীলরা বুঝতে পারছিলেন ও'কোনার স্থলাভিষিক্ত হলে তারা আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া থেকে এক ভোট দূরে থাকবেন।
জন রবার্টস
[সম্পাদনা]
২০০৫ সালের ১৯ জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি বুশ জন ও'কোনারের শূন্য পদ পূরণের জন্য রবার্টসকে মনোনীত করেন যিনি ওয়াশিংটন ডিসির সার্কিট কোর্ট অব আপিলের বিচারক ছিলেন। উদারপন্থীরা বেশিরভাগই রবার্টসের মনোনয়নের বিরুদ্ধে ছিলেন কারণ তাঁরা মনে করতেন তিনি ও'কোনার থেকে অনেক বেশি রক্ষণশীল। রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল, বিশেষ করে তাঁর 'রো বনাম ওয়েড' মামলার বক্তব্যের কারণে।
২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে প্রধান বিচারপতি উইলিয়াম এইচ রেনকুইস্ট থাইরয়েড ক্যান্সারের জটিলতায় মারা যান, ফলে কোর্টে দ্বৈত শূন্যপদ সৃষ্টি হয়। ৬ সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতি বুশ জন রবার্টসের সহকারী বিচারপতি হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তাঁকে প্রধান বিচারপতে হিসেবে মনোনীত করেন। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সিনেট বিচারকমিটি রবার্টসের জন্য শুনানি শুরু করে। ২২ সেপ্টেম্বরে কমিটি ১৩-৫ ভোটে রবার্টসের মনোনয়ন অনুমোদন করে। ২৯ সেপ্টেম্বরে সিনেট ৭৮-২২ ভোটে রবার্টসকে সুপ্রিম কোর্টে নিশ্চিত করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সহকারি বিচারপতি জন পল স্টিভেন্স তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম চিফ জাস্টিস হিসেবে শপথ করান।
স্যামুয়েল আলিটো
[সম্পাদনা]জন রবার্টসের সফল মনোনয়নের পর বুশ আবারও ও'কোনার শূন্যপদ পূরণে মনোনিবেশ করেন। ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবরে তিনি হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হ্যারিয়েট মায়ার্সকে মনোনয়ন দেন। কিন্তু কড়াকড়ি সমালোচনার কারণে মায়ার্স ২৭ অক্টোবরে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ৩১ অক্টোবরে বুশ সার্কিট কোর্টের বিচারক স্যামুয়েল আলিটোর মনোনয়ন ঘোষণা করেন।

রক্ষণশীলরা আলিটোর মনোনয়নকে দ্রুত সমর্থন করে, আর উদারপন্থীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানায়। রক্ষণশীলরা মনে করতেন আলিটো একজন দক্ষ বিচারক, যিনি সত্যিকারের রক্ষণশীল সুনাম তৈরি করবেন এবং 'রো বনাম ওয়েড' মামলার বিরোধিতা করবেন। মায়ার্সের মনোনয়নের তুলনায় বুশের রক্ষণশীল ভিত্তি আলিটোর মনোনয়নকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমর্থন করেছিল।
২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারিতে স্যামুয়েল আলিটোর মনোনয়ন কমিটির দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং পরের দিন সিনেটে বিতর্ক শুরু হয়। ৩১ জানুয়ারিতে সিনেট ৫৮-৪২ ভোটে আলিটোকে নিশ্চিত করে। এরপর স্যান্ড্রা ডে ও'কোনার আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলিটো ১১০তম সহকারী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরের দিন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ করানো হয়।
জনমতের অবনতি
[সম্পাদনা]২০০৫ সালের শেষ থেকে শুরু হওয়া একাধিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে, বাস প্রশাসন এবং রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের প্রতি জনমত খারাপ হতে শুরু করে এবং অনেকেই যুক্তি দেন যে ২০০৬ সালের নির্বাচনী বছরে তা বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝুঁকে গেছে।
হারিকেন ক্যাটরিনা
[সম্পাদনা]২০০৫ সালের গ্রীষ্মকাল একটি খুব সক্রিয় হারিকেন মৌসুম ছিল যেখানে মোট পাঁচটি হারিকেন গালফ কোস্টে আঘাত হানে। এর মধ্যে আগস্ট ২৯ তারিখে হারিকেন ক্যাটরিনা নিউ অরলিন্সে একটি শক্তিশালী 'ক্যাটাগরি থ্রি' হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে, লেক পন্টচারট্রেনের বাঁধ ভেঙে দিয়ে শহর প্লাবিত হয়, আলাবামা, মিসিসিপি এবং কিছুটা কম ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল সহ আশেপাশের উপকূলগুলো বিধ্বস্ত করে (এছাড়াও দক্ষিণ ফ্লোরিডাতেও আঘাত হানে, কিন্তু গালফ অঞ্চলের তুলনায় প্রভাব অনেক কম ছিল)। বিধ্বংসী বন্যা ও সরকারের সব স্তরের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সরকারের দুর্বলতা বহুল পরিমাণে প্রকাশ করে, বিশেষ করে দুর্যোগের সময় দেশের রক্ষার সক্ষমতায়।

অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বড় ভুলগুলি ঝড়ের আগেই ঘটে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল তাদের গৃহত্যাগ নির্দেশিকা জারি করা, কিন্তু কোনো পরিবহন ব্যবস্থার অভাব আনুমানিক ১,২০,০০০ দরিদ্র, বৃদ্ধ ও অসুস্থ শহর ছাড়তে পারছিল না। ঝড় আঘাত হানার পর, গভর্নর ক্যাথলিন ব্লাঙ্কোর (লুইজিয়ানা থেকে) রাষ্ট্রপতির কাছে অঙ্গরাজ্যের ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া থেকে অস্বীকৃতি দেওয়ার অভিযোগ তাকে শহরের ব্যাপক লুটপাটের দায়িত্বে ফেলে। তিনি ভূমিধ্বসের প্রায় পাঁচ দিন পর তথা ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে লুটপাট রোধে নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেননি।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমালোচনার কেন্দ্র ছিল ফেডারেল প্রতিক্রিয়ার এবং বাস প্রশাসন ঘিরে। সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার মাধ্যমে মার্কিন জনগণ মনে করেছিল যে এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে ৯/১১ এর পর সরকারি সংস্কারের পরেও আমেরিকা যথেষ্ট প্রস্তুত নয় অন্য কোনো দুর্যোগের জন্য। রাষ্ট্রপতি বুশ আগস্ট ৩১ তারিখে দুর্যোগ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংবাদমাধ্যম দ্বারা ঝড়ের প্রতি যথেষ্ট উদাসীনতার জন্য সমালোচিত হন। রাষ্ট্রপতি বুশের প্রসিদ্ধ উক্তি ছিল "ব্রাউনি, তুমি দারুণ কাজ করছো।" একই দিনে ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (এফইএমএ) প্রধান মাইকেল ব্রাউন (যাকে তিনি ইঙ্গিত করছিলেন) সাংবাদিকদের জানান যে তিনি এবং ফেডারেল সরকার লুইজিয়ানা সুপারডোমে (যাদের পক্ষে গৃহত্যাগ করা সম্ভব হয়নি তাদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্র ছিল) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিল, যদিও সংবাদমাধ্যম কয়েক দিন ধরে এই খবর প্রচার করছিল।
ঝড়ের ফলাফল ছিল মার্কিন জনগণের এই উপলব্ধি যে দুর্যোগ ত্রাণ সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। রাষ্ট্রপতি বুশের অনুমোদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় তাঁর পুরো রাষ্ট্রপতিত্ব জুড়ে। এবং তিনি স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, কারণ তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরে অযোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে কংগ্রেসিয়াল শুনানির জন্য পরবর্তী মাসগুলোতে তদন্ত শুরু হয়।
বর্ধমান কেলেঙ্কারির সূচনা
[সম্পাদনা]নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পাশাপাশি ওয়াশিংটনে একাধিক কেলেঙ্কারি ঘনীভূত হচ্ছিল। সিআইএ ফাঁস কেলেঙ্কারি ("প্লেইমগেট") প্রাক-ইরাক যুদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে ছিল। জোসেফ সিভউইলসন (যিনি পূর্ববর্তী দশকগুলোতে আফ্রিকান দেশসমূহে কূটনীতিক ছিলেন) তাঁর স্ত্রী সিআইএ এজেন্ট ভ্যালেরি প্লেইমের সুপারিশে ইরাক ও নাইজারের মধ্যে ইউরেনিয়াম কেনার দাবি তদন্ত করতে নিযুক্ত হন। তিনি দাবি করেন, এই দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সংযোগ তিনি পাননি, কিন্তু রাষ্ট্রপতি বুশ ২০০৩ সালের জানুয়ারির স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বলেন, "ব্রিটিশ সরকার জানতে পেরেছে যে সাদ্দাম হুসেইন সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন।" সেই গ্রীষ্মে উইলসন নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি কলামে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং কয়েকটি বেনামী সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেন যে বুশ প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করছে। উইলসনের কলাম প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্ট একটি কলামে গোপনে কর্মরত ভ্যালেরি প্লেইমের পরিচয় ফাঁস করে, যার ফলে তাঁর এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শেষ হয়ে যায়। উইলসন অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফ ও শীর্ষ রিপাবলিকান কৌশলবিদ কার্ল রোভসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা "প্রতিশোধ" হিসেবে প্লেইমের পরিচয় ফাঁস করেছেন।

অবশেষে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। নির্বাচিত হোন বা না হোন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য অনুমোদন ছাড়া শ্রেণীবদ্ধ তথ্য ফাঁস করা আইনত দণ্ডনীয়। ইলিনয়ের প্যাট্রিক ফিটজজেরাল্ডকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি উপরাষ্ট্রপতি চেইনির চিফ অব স্টাফ লুইস "স্কুটার" লিব্বির বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে লিব্বি সাক্ষ্য দেন যে, তাঁকে হোয়াইট হাউসের "উর্ধ্বতনরা" যুদ্ধপূর্ব গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তদন্ত অব্যাহত থাকে এবং অনেকেই ধারণা করেন, ফিটজজেরাল্ড প্রকৃত অপরাধের (প্লেইমের পরিচয় ফাঁস) জন্য আরও উচ্চপর্যায়ের কাউকে অভিযুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছেন।
এদিকে কংগ্রেসে লবিং এবং রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চলছিল। শীর্ষ রিপাবলিকান লবিস্ট জ্যাক আব্রামফ ২০০৬ সালের শুরুতে তাঁর মার্কিন আদিবাসী উপজাতি লবিং ক্লায়েন্টদের প্রতারণা ও কর ফাঁকির সাথে জড়িত তিনটি গুরুতর অপরাধে দোষী স্বীকার করেন। একটি স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তিতে তিনি রাজি হন, যার আওতায় হালকা শাস্তির বিনিময়ে কংগ্রেসীয় দুর্নীতির তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
২০০৫ সালের শেষ দিকে, সংসদের রিপাবলিকান নেতা টম ডিলেকে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচার এবং অর্থ পাচারে সহায়তার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এই অভিযোগের কারণে রিপাবলিকান হাউস বিধি অনুযায়ী ডিলেকে অস্থায়ীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। একজন বিচারক নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খারিজ করে দেন, কিন্তু অন্যান্য অভিযোগ বহাল রাখেন। ফলে ডিলের নিজের দলের চাপে পড়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তাঁর জোরালো সম্পৃক্ততা তাঁকে হাউস থেকে পদত্যাগে বাধ্য করে, যাতে তাঁর দল ওই আসনটি ধরে রাখতে পারে।
২০০৬ মধ্য-মেয়াদী নির্বাচন
[সম্পাদনা]ডেমোক্র্যাটরা হাউস ও সিনেট পুনরায় দখল করে।[৮][৯] এই মধ্য-মেয়াদি নির্বাচনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কেননা কোনো নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট জাতীয় কংগ্রেসিয়াল পদ থেকে বরখাস্ত হননি। ডেমোক্র্যাটরা মন্টানা, পেনসিলভেনিয়া, মিসৌরি, রোড আইল্যান্ড, ওহিও এবং ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটরদের পরাজিত করে ছয়টি সিনেট আসন জিতে নেয়।[১০] ডেমোক্র্যাটরা স্বতন্ত্র সিনেটরদের সাথে মিলিত হয়ে সিনেটে ৫১-৪৯ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।[১১] ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান পার্টি থেকে ত্রিশটি সংসদ আসন দখল করে। এটি ১৯৯৪ সালের মধ্য-মেয়াদী নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো যখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি উভয় কংগ্রেসের সংসদ দখল করে।
মুল্যমান হারানো ডলার
[সম্পাদনা]মার্কিন অর্থনীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় ধরণের দুর্গতির মুখোমুখি হয়। কিছু বিশ্লেষক বলেন, নাটকীয়ভাবে ফেডারেল রিজার্ভের ১৮ সেপ্টেম্বরের ৫.২৫% থেকে ৪.৭৫%-এ সুদের হার কমানো হয়তো "অতিরিক্ত কম এবং দেরিতে", অথবা এটা অতিরিক্ত এবং ডলারের জন্য বিপজ্জনক।
২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে সৌদি কর্মকর্তারা দীর্ঘ দশক ধরে প্রথমবারের মতো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মতো সুদের হার কমাতে অস্বীকৃতি জানায়। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্পাদক অ্যামব্রোজ ইভান্স-প্রিচার্ডের মতে, "এটি একটি সংকেত যে তেল-সম্পদ সমৃদ্ধ উপসাগর রাজ্য ডলার মুদ্রার পেগ ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ডলারের ব্যাপক অব্যাহত প্রস্থানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
বিএনপি পারিবাসের মুদ্রা প্রধান হান্স রেডেকার বলেন, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন ডলারের জন্য খুবই বিপজ্জনক। রেডেকার উল্লেখ করেন যে "সৌদি আরবের $৮০০ বিলিয়ন (৪০০ বিলিয়ন পাউন্ড) ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তহবিল রয়েছে, এবং পুরো অঞ্চলের তহবিল $৩,৫০০ বিলিয়ন। তারা মুদ্রাস্ফীতির হুমকির সম্মুখীন এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্দার পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত সুদের নীতি আমদানি করতে চায় না।"
অন্যদিকে, আমেরিকান ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডলার দর কমার ফলে বিদেশী আমদানি পণ্য, যেমন মুরানো কাঁচের পাত্র, ফরাসি মোমবাতি, এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল যার উপর এসব জিনিস আমেরিকা আসে, সেগুলোর দাম বাড়বে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি
[সম্পাদনা]এই যুগে প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পূর্বের বছরের প্রবণতাগুলোর ধারাবাহিকতা ছিল।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র বনাম মাইক্রোসফট কর্পোরেশন মামলা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মনোপলি বিরোধী মামলা, যা পরে নিষ্পত্তি হয়েছিল।[১২]
২০০০ এর দশকের মাঝামাঝি ফ্ল্যাট স্ক্রিন টেলিভিশন ও মনিটর সহজলভ্য হয়ে ওঠে এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারসহ বিনোদনের অন্যান্য অগ্রগতিও ঘটে। মোবাইল ফোনগুলি অব্যাহতভাবে উন্নত হতে থাকে, অনেক ফোনে ক্যামেরা ও অতিরিক্ত ফিচার যুক্ত হয়। ২০০৭ সালে আইফোন লঞ্চ করা হয়, যা একটি মিনিমালিস্ট স্লেট ডিজাইনের প্রথম স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে একটি এবং ব্যাপক বাজার সাফল্য অর্জন করে।[১৩]
২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট ঘোষণা করা হয় সম্পূর্ণ যা মানব জিনোমের একটি মানচিত্র তৈরি করে।[১৪]
নাসার মঙ্গল অনুসন্ধান রোভারগুলো ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে মঙ্গলে অবতরণ করে, যার মধ্যে স্প্রিট ২০১০ সাল পর্যন্ত কাজ করেছিল, এবং অপার্চুনিটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত অবিরত কাজ করেছে, উভয়ই তাদের প্রত্যাশিত সেবার সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে কার্যকর ছিল।
২০০৪ সালের ডিএআরপিএ গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ ছিল স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের উন্নয়ন উদ্দীপিত করার জন্য প্রথম বড় প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। যদিও ২০০৪ সালের কোর্স কোন যানবাহন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি, বরং সেগুলো ২০০৫ সালের কোর্সে বিজয়ী হয়।
-
২০০১ সালে উইকিপিডিয়া, যা আমেরিকান জিমি ওয়েলস এবং ল্যারি সেঞ্জার তৈরি করেছিলেন।
-
২০০৪ সালের ডিএআরপি গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জের একটি প্রাথমিক স্বয়ংচালিত যানবাহন।
-
মঙ্গলে অবতরণ করা মঙ্গলের রোভারগুলোর শিল্পীর চিত্রণ, ২০০৪ সালে অবতরণ করেছিল।
-
২০০৫ সালে মার্ক জুকারবার্গ, যিনি পূর্ববর্তী বছর হার্ভার্ডে পড়াকালীন ফেসবুক চালু করেছিলেন।
-
২০০৭ সালে প্রদর্শনকৃত প্রথম iPhone।
-
২০০০ দশকের জনপ্রিয় মিডিয়া প্লেয়ার বিভিন্ন আইপড।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Address Accepting the Presidential Nomination at the Republican National Convention in Philadelphia The American Presidency Project"। www.presidency.ucsb.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ ২.০ ২.১ Writer, Dahleen Glanton, Tribune Staff। "HISPANICS TURN FLORIDA INTO MORE OF A SWING STATE"। chicagotribune.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- ↑ "A People and A Nation" the eighth edition
- ↑ Gordon, Philip H. (NaN)। "September 11 and American Foreign Policy"। Brookings। সংগ্রহের তারিখ 14 December 2020। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন:
|তারিখ=(সাহায্য) - ↑ Bennis, Phyllis. Before and After: U.S. Foreign Policy and the September 11th Crisis. New York. Olive Branch Press. 2003. Print Cole, A. Leonard. The Anthrax Letters. Washington D.C. Joseph Henry Press. 2003. Print Raines, Howell. A New York Times: A Nation Challenged. New York. Callaway. 2002. Print.
- ↑ Nagourney, Adam; Kirkpatrick, David D. (১২ জুলাই ২০০৪)। "THE 2004 CAMPAIGN: SAME-SEX MARRIAGE; Urged by Right, Bush Takes On Gay Marriages (Published 2004)"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- ↑ "CNN.com - Bush calls for ban on same-sex marriages - Feb. 25, 2004"। www.cnn.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২১।
- ↑ Hulse, Carl (৮ নভেম্বর ২০০৬)। "On Wave of Voter Unrest, Democrats Take Control of House"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Broder, John M. (১০ নভেম্বর ২০০৬)। "Democrats Gain Senate and New Influence"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Kuhnhenn, Jim (৯ নভেম্বর ২০০৬)। "Democrats Win Control of Congress"। The Washington Post। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Engber, Daniel (২৭ অক্টোবর ২০০৬)। "Is Joe Lieberman still a Democrat?"। Slate Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Microsoft case in brief"। money.cnn.com। November 1st, 2001। সংগ্রহের তারিখ 14 December 2020। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন:
|তারিখ=(সাহায্য) - ↑ "LOOKING AT IPHONE WITH REVOLUTIONARY EYES"। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ "International Consortium Completes Human Genome Project"। Genome.gov (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২০।