মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস/ঔপনিবেশিক ধর্ম
চার্চ অফ ইংল্যান্ড
[সম্পাদনা]১৭শ শতকের শেষদিকে ইংল্যান্ডের সরকারি চার্চ নির্বাসনের এক সময়কাল পার করে এসেছিল। রাজা প্রথম চার্লসের সরকারের নীতির বিরোধিতা করে পুরিতান অলিভার ক্রমওয়েল তাঁকে ১৬৪৭ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করেন এবং পার্লামেন্ট থেকে রাজপন্থীদের বিতাড়নের পর রাজাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় এক প্রজন্ম ধরে চার্চে আধ্যাত্মিক নেতার অনুপস্থিতি ছিল। পুনঃস্থাপনের সময় রাজা দ্বিতীয় চার্লস সিংহাসনে বসলে চার্চ আবার ধূপ, সঙ্গীত, অলঙ্কারিক পোশাক, এবং দীর্ঘ সেবা সহ প্রার্থনার বই (বুক অফ কমন প্রেয়ার) ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তখন এমন এক জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল যারা এই আচারগুলোর বাইরে ছিল। চার্চ অফ ইংল্যান্ডের কিছু "লো চার্চ" এই অলঙ্কারিকতা বিরোধী মানুষের সেবা করত এবং তারা চাপা পড়ে যাওয়া পিউরিতীয়দের প্রতি সহানুভূতি দেখাত। ধনসম্পদ এবং সাধাসিধে জীবনের এই পারস্পরিক বৈপরীত্য একই ধর্মের মধ্যে অস্বস্তিকর ছিল।
ব্রিটেনের চাপ কমাতে মার্কিন উপনিবেশগুলোকে ব্যবহারের ফলে সেখানে সরকারি ধর্ম খুব কম প্রতিনিধিত্ব পায় যদিও প্রার্থনার বই সেখানে ছিল। চার্চ অফ ইংল্যান্ডের "হাই চার্চ" গোষ্ঠীর বিশপ ও কর্তৃত্ব ছিল; কিন্তু আমেরিকায় এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এমনকি ভার্জিনিয়ার মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাংলিকান উপনিবেশেও চার্চ পম্প বা কর্তৃত্ব ছাড়াই চলতো। ইংল্যান্ড ও আমেরিকার মধ্যে ধর্মীয় বন্ধন ছিল দুর্বল, যেন সমুদ্রের অতিরিক্ত একটি মাইল দূরত্ব।
মেথডবাদ
[সম্পাদনা]জন এবং চার্লস ওয়েসলি ১৮শ শতকে মেথডবাদের সূচনা করেন। জন ওয়েসলি ছিলেন চার্চ অফ ইংল্যান্ডের একজন পুরোহিত। তিনি ও তার ভাই ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডজুড়ে খ্রিস্টানদের ছোট ছোট গোষ্ঠী পরিচালনা করতেন, যাদের ওয়েসলীয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হয়। এরা পরে মেথডবাদের সমর্থক নামে পরিচিত হয়। এটি শুরুতে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের একটি সম্প্রদায়ে হিসেবে ছিল, স্বাধীন মণ্ডলী নয়। কারণ এটি কর্তৃপক্ষের কাঠামোর চেয়ে সাধারণ জনগণের ওপর জোর দিত এবং আবেগপূর্ণ বিশ্বাসকে ধর্মান্তরের প্রমাণ হিসেবে দেখত, এজন্য অনেকে একে সন্দেহের চোখে দেখত। জন ওয়েসলি এক ধর্মোপদেশে প্রশ্ন করেন: "মেথডবাদী কে? " তিনি উত্তর দেন: "মেথডবাদী সে, যার অন্তরে 'ঈশ্বরের প্রেম পবিত্র আত্মার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে'"[১]। মেথডিস্টরা বাইবেল অধ্যয়ন ও বিলাসবিহীন জীবনযাপনে গুরুত্ব দিত। নিয়মতান্ত্রিক ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে তাদের মেথডিস্ট বলা হতো।
উপনিবেশিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেথডবাদ
[সম্পাদনা]১৭৬০-এর দশকের শেষভাগে মেথডবাদ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। জন ওয়েসলি নিযুক্ত প্রচারক রিচার্ড বোর্ডম্যান ও জোসেফ পিলমোর ১৭৬৯ সালে নতুন বিশ্বে মেথডবাদী সমাজ গঠনে এগিয়ে আসেন। পিলমোর ফিলাডেলফিয়ায় ও বোর্ডম্যান নিউ ইয়র্কে কাজ শুরু করেন। পিলমোর ছিলেন অধিক কার্যকর, তিনি দক্ষিণে গিয়েও মেথডবাদ প্রচার করেন। অন্যান্যরাও এলেন—রবার্ট উইলিয়ামস ও জন কিং ওয়েসলির অনুমতি ছাড়াই এলেন; ফ্রান্সিস আসবুরি ও রিচার্ড রাইট ১৭৭১ সালে আসেন; জর্জ শ্যাডফোর্ড ও টমাস র্যাঙ্কিন ১৭৭৩ সালে আসেন।[২]
চার্চ অফ ইংল্যান্ডের সমসাময়িকদের বিপরীতে মেথডবাদীরা গির্জাহীন এলাকায় মাঠে প্রচার করতে প্রস্তুত ছিল। উপরন্তু, এদের বেশিরভাগই সাধারণ ধর্মপ্রচারক ছিলেন যারা দীর্ঘকালীন ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা নয় বরং আন্তরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে পুরোহিত হয়েছিলেন। এভাবে মেথডবাদ মার্কিন বিপ্লবের পূর্বে আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ছড়িয়ে পড়ে।
মহাজাগরণ
[সম্পাদনা]মহাজাগরণ ছিল আমেরিকায় মূলত চার্চ অফ ইংল্যান্ড থেকে আলাদা থাকা খ্রিস্টান শাখাগুলোর মধ্যে (যেমন বাপ্তিস্মবাদ, মেথডবাদ, ও পিউরিতীয় হতে উৎপন্ন মতবাদ) একটি ধর্মীয় জাগরণের সময়কাল। ইতিহাসবিদরা এটি চারটি ধাপে বিভক্ত দেখেন। প্রথম ধাপটি নিউ ইংল্যান্ডে ১৭৩০-এর দশকে শুরু হয়ে ত্রিশ বছর স্থায়ী ছিল।[৩] এটি ছিল দুটি অংশে বিভক্ত—পুরিতান ও মেথডিস্ট অংশ।
একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন পিউরিতান মন্ত্রী জনাথন এডওয়ার্ডস। তিনি দেখতেন যে পিলগ্রিমদের বিশ্বাস থেকে মানুষ সরে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড থেকে আগত অভিবাসীরা গঠন বা আচার-অনুষ্ঠানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল। কিন্তু এডওয়ার্ডস ছিলেন ইভানজেলিজমপন্থী, তিনি ধর্মান্তরের জন্য প্রচার করতেন। তার কিছু উপদেশ মানুষকে কান্নায় ভাসাতো বা উল্লাসে দাঁড় করিয়ে দিত। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত উপদেশ "পাপীরা একটি রাগান্বিত ঈশ্বরের হাতের মুঠোয়" যেখানে তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান (তিনি মাকড়সা নিয়ে রচনা করেছিলেন) এবং অসাধারণ বাচনশক্তি ব্যবহার করে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতেন।
জন ওয়েসলি ও তার সহপাঠী জর্জ হোয়াইটফিল্ড দ্বারা এই জাগরণের মেথডবাদী দিকটি চালিত হয়েছিল। ওয়েসলি ১৭৩৫ সালে জর্জিয়ায় আসেন, যদিও তেমন সাফল্য পাননি। তবে হোয়াইটফিল্ড আমেরিকায় সাতবার আসেন এবং কৃষ্ণ দাসদের মধ্যেও প্রচার করেন, যা তখন অনেকের পক্ষে অচিন্তনীয় ছিল।
মোরাভীয়
[সম্পাদনা]জন ও চার্লস ওয়েসলির সঙ্গে ১৭৩৫ সালে আমেরিকায় আসা মোরাভীয়রা ছিলেন ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার। তারা মোরাভিয়া ও বোহেমিয়া ত্যাগ করে মার্কিন মুলুকে খ্রিস্টান মিশনারি হিসেবে আসেন। তারা প্রথমে জর্জিয়া, পরে পেনসিলভানিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনায় বসতি গড়েন। মোরাভীয়রা সঙ্গীতপ্রিয় ছিল, তারা প্রতিদিন স্তুতি গান করতেন এবং কেউ কেউ বাদ্যযন্ত্রও রচনা করতেন।
জন আন্টেস ছিলেন প্রথম আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী মোরাভীত সুরকার। ১৭৪০ সালে পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নিয়ে তিনি অনেক ধর্মীয় সংগীত রচনা করেন। তাঁর রচনাগুলি গির্জার প্রশিক্ষিত দল বা একক কণ্ঠে পরিবেশিত হতো, সাধারণ গান হিসেবে নয়।
মেনোনায়ীয়
[সম্পাদনা]উইলিয়াম পেন-এর আমন্ত্রণে কিছু মেনোনায়ীয় ১৬৮৩ সালে পেনসিলভানিয়ায় আসেন। এই গোষ্ঠী বাইবেলের সত্য অনুসন্ধানে আগ্রহী ছিল। তারা শিশুদের বাপ্তিস্ম না দিয়ে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের বাপ্তিস্ম দিত, যা সমসাময়িকদের ক্ষুব্ধ করত। তারা কর প্রদান, অস্ত্র ধারণ বা যুদ্ধে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে চরম শান্তিবাদে বিশ্বাসী ছিল। পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ড, প্রুশিয়া, ইউক্রেন, ও রাশিয়া থেকেও মোনানায়ীয়এয়া আমেরিকা ও কানাডায় আসে। তাদের মধ্যে আমিশরা অন্যতম, যারা ধর্মীয় শাস্তি হিসেবে সামাজিকভাবে বর্জন কার্যক্রম ব্যবহার করে।
ইহুদিধর্ম
[সম্পাদনা]প্রথম অ-খ্রিস্টান গোষ্ঠী হিসেবে আমেরিকায় আসে সেফার্ডীয় ইহুদিরা। তারা প্রথমে ব্রাজিলের রেসিফে শহরে বসতি গড়ে, পরে ১৬৫৪ সালে নিউ আমস্টারডামে (বর্তমান নিউ ইয়র্ক সিটি) আসে। যদিও ওলন্দাজদের দেশে ইহুদিদের সম্মান ছিল, নিউ আমস্টারডামের গভর্নর পিটার স্টাইভেসান্ট তাদের রাখতে চাননি। তিনি ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে চিঠিতে লেখেন যে ইহুদিরা এই উপনিবেশকে “সংক্রমিত ও অস্থির” করবে। ইহুদিরা পাল্টা চিঠিতে জানায় তারা ডাচদের সম্মান করে এবং বহু পুরোনো নাগরিক। কোম্পানি সিদ্ধান্ত দেয়, ইহুদিরা থাকতে পারবে যদি তারা নিজের দরিদ্রদের দেখাশোনা করে ও খ্রিস্টানদের দান আশা না করে।
উপনিবেশিক আমলে ইহুদিরা পূর্ব উপকূল ও দক্ষিণের কিছু উপনিবেশে বসতি গড়ে, যেমন সাভান্না, চার্লস্টন, ফিলাডেলফিয়া, ও নিউপোর্ট। আজও টিকে থাকা সবচেয়ে পুরোনো উপাসনালয়টি ১৭৬৩ সালে নিউপোর্টের সেফার্রডীয় ইহুদিরা নির্মাণ করে, যা তুরো সিনাগগ নামে পরিচিত। এটি জেশুয়াত ইস্রায়েল সম্প্রদায়ের ঘর।
ইহুদিদের জন্য শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, উপাসনা ও কোশার রান্নার চর্চা কঠিন ছিল। রেবেকা স্যামুয়েল তার মা-বাবাকে চিঠিতে লেখেন: “এখানে ইহুদিত্ব চাপা পড়ে গেছে। এখানে [পিটার্সবার্গ, ভার্জিনিয়া] দশ-বারোজন ইহুদি আছেন, তারা প্রকৃত ইহুদি নয়... আমি একটি সিনাগগ দেখতে আগ্রহী যেখানে যেতে পারি।” যদিও আরও ইহুদি আসেন, তারা ইংরেজি শিখে সমাজে স্থান করে নেন। কিন্তু শনিবার উপাসনা করা ছিল কষ্টকর যখন সবাই রবিবার গির্জায় যেত। কিছু উপনিবেশে তারা ভোট দিতে, সরকারি পদে থাকতে বা সম্পত্তি কিনতে পারত না। তারা ভিন্ন ছিল এবং ইউরোপের মতো নির্যাতনের আশঙ্কা করত। কিন্তু এখানে তারা কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারত। রাতদুপুরে দরজায় কড়াঘাত, যন্ত্রণা, বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভয় ছিল না।[৪]
ক্যাথলিকবাদ
[সম্পাদনা]ম্যাসাচুসেটস বে উপনিবেশে প্রথম কুড়ি বছরে কোনো ক্যাথলিকের উপস্থিতি ছিল না, তবুও ১৬৪৭ সালের মে মাসে পিউরিতানীয় সরকার একটি কঠোর আইন পাশ করে, যা "যে কোনো যাজক, ধর্মীয় পুরোহিত বা রোমান পোপ কর্তৃক নিয়োজিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তি"কে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দেয়। ১৭৩২ সালে রাজা দ্বিতীয় জর্জ কর্তৃক জর্জিয়া উপনিবেশ গঠনের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও ক্যাথলিকদের ছাড় দেওয়া হয়নি।[৫] ক্যাথলিকদের জন্য প্রকাশ্যে উপাসনা নিষিদ্ধ ছিল এবং পুরোহিতের মাস বলাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল।
ক্যাথলিকবাদ প্রথম আসে মেরিল্যান্ড এক্সপেরিমেন্ট-এর মাধ্যমে। রাজা প্রথম চার্লস সিসিল ক্যালভার্ট (লর্ড বাল্টিমোর)কে উদারভাবে মেরিল্যান্ড উপনিবেশের চার্টার দেন। তিনি একজন ক্যাথলিক ধর্মান্তরিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৬৩৪ সাল পর্যন্ত তিনি ক্যাথলিকদের সহনশীলতা বজায় রাখেন, কিন্তু পরে ভার্জিনিয়া থেকে আগত পিউরিতানীয়রা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। চার বছর পরে তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন।
১৬৭২ সালে দ্বিতীয় চার্লসের ভাই ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি আইরিশ ক্যাথলিক টমাস ডনগানকে নিউ ইয়র্কের গভর্নর নিযুক্ত করেন। এর ফলে ক্যাথলিকদের জন্য কিছু অধিকার দেওয়া হয়, কিন্তু ডাচ ও ব্রিটিশরা এতে অখুশি ছিল। ১৬৮৯ সালে গৌরবময় বিপ্লবের মাধ্যমে রাজা দ্বিতীয় জেমসকে অপসারণ করা হয় এবং প্রোটেস্টান্ট রাজা-রানী উইলিয়াম ও মেরি ক্ষমতায় আসেন। মেরিল্যান্ডে আবার ক্যাথলিক বিরোধী বিদ্রোহ শুরু হয় এবং ক্যালভার্টদের শাসন শেষ হয়। ১৬৯২ সালে ধর্মীয় সহনশীলতা আইন বাতিল হয় এবং মেরিল্যান্ডের সরকারি ধর্ম হিসেবে করের মাধ্যমে পরিচালিত চার্চ অফ ইংল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।[৬]
নিউ ইয়র্ক উপনিবেশে রাজা দ্বিতীয় জেমসের অপসারণের আগেই জ্যাকব লেইসলার নামে একজন ক্যাথলিক বিরোধী নেতা "প্যাপিস্ট" ষড়যন্ত্রের গুজব ছড়ান এবং মিথ্যা খবর প্রচার করেন। ১৬৮৮ সালের শেষ নাগাদ তিনি ডনগানকে অপসারণ করে নিজেকে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ঘোষণা করেন। তিনি সব ক্যাথলিকদের গ্রেপ্তার, ভোটাধিকার বাতিল এবং সরকারি পদ থেকে অপসারণ করেন। যদিও লেইসলার পরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডিত হন, তার প্রভাব রয়ে যায়, ক্যাথলিকদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার বাতিল হয়।[৭]
ডিইবাদ
[সম্পাদনা]আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অদৃশ্য ধর্মীয় ধারা ছিল ডিইবাদ। এটি ইংল্যান্ড থেকে আগত একটি বিশ্বাস, যা মার্কিন সমাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তবে "প্রকৃতপক্ষে, বেশিরভাগ প্রারম্ভিক ডিইবাদীরা তাদের বিশ্বাস প্রচার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন [...] কারণ তারা বিশ্বাস করতেন কেবল বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই যুক্তিবাদীভাবে ধর্ম বুঝতে সক্ষম।"[৮] ডিইবাদীরা কিছু বিশ্বাস খ্রিস্টানদের সঙ্গে মিল রাখলেও (যেমন সৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও যুক্তির ওপর বিশ্বাস) তারা বাইবেলকে ঐশ্বরিক বলে বিশ্বাস করত না। তারা বিশ্বাস করত, ঈশ্বর কারো সঙ্গে কথা বলেন না; প্রকৃতি একটি ঘড়ির মতো, যা একবার চালু হলে নিজে চলতে থাকে; এবং অলৌকিক বিশ্বাস পাগলামি।
পরিচিত মার্কিন ডিইবাদীদের তালিকা সংক্ষিপ্ত—বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন কিছু সময়ের জন্য ছিলেন; অন্যান্যরা ছিলেন জেমস ম্যাডিসন, ইথান অ্যালেন, ও থমাস পেইন (যার বিখ্যাত রচনা দ্য এইজ অফ রিজন অলৌকিক বিশ্বাসকে মূর্খতা বলে অভিহিত করে)। থমাস জেফারসন ডিইজম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যা তার স্বাধীনতার ঘোষণায় "ন্যাচার অ্যান্ড ন্যাচার্স গড" শব্দগুচ্ছে প্রকাশ পেয়েছে।
পর্যালোচনার জন্য প্রশ্ন
[সম্পাদনা]- এই ব্যক্তিদের প্রত্যেককে তার ধর্মের সাথে সংযুক্ত করুন: জন ওয়েসলি, জোনাথন এডওয়ার্ডস, সিসিল ক্যালভার্ট।
- জার্মান-ভাষী দেশগুলির একটি সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ধর্মের নাম বলুন। গ্রেট ব্রিটেনের একটি সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ধর্মের নাম বলুন। আধুনিক চেক প্রজাতন্ত্রের একটি সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ধর্মের নাম বলুন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Character of A Methodist" (title assigned by the anthology), extract from a sermon by John Wesley. Kerr, Hugh E., Editor, Readings In Christian Thought. Second Edition. Nashville: Abingdon Press, 1990(1966).
- ↑ Norwood, Fredrick A. The Story of American Methodism
- ↑ Norwood, Frederick A. The Story of American Methodism
- ↑ Judaism- Stone, Amy. Jewish Americans. Milwaukee: World Almanac Library, 2007.
- ↑ Horvat, Marian T. "Let None Dare Call it Liberty: The Catholic Church in Colonial America". Retrieved 09/05/15
- ↑ Greely, Andrew M. An Ugly Little Secret 1928.
- ↑ Horvat.
- ↑ Bedell, George C., Leo Sandon, Jr., Charles T. Wellborn. Religion in America. Second edition. New York: Macmillan, 1982 (1975). P. 231.