বিষয়বস্তুতে চলুন

মানব শারীরতত্ত্ব/স্নায়ুতন্ত্র

উইকিবই থেকে

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্রকে। মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র হাড়ের গঠন, ঝিল্লি ও তরলের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। মস্তিষ্ক খুলি বা করোটির গহ্বরে অবস্থান করে এবং এটি সেরিব্রাম, সেরিবেলাম এবং ব্রেইন স্টেম নিয়ে গঠিত। এতে সংশ্লিষ্ট স্নায়ু হল করোটিস্নায়ু ও মেরুদণ্ডীয় স্নায়ু।

সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

[সম্পাদনা]

স্নায়ুতন্ত্রের তিনটি প্রধান কাজ রয়েছে: সংবেদনশীল ইনপুট, তথ্যের সংহতি এবং মোটর আউটপুট। সংবেদনশীল ইনপুট হলো যখন শরীর নিউরন, গ্লিয়া এবং সিন্যাপসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। স্নায়ুতন্ত্র গঠিত উত্তেজনাশীল স্নায়ুকোষ (নিউরন) এবং সিন্যাপস দ্বারা, যা নিউরনের মধ্যে সংযোগ গঠন করে এবং সেগুলোকে শরীরের বিভিন্ন কেন্দ্র বা অন্যান্য নিউরনের সাথে যুক্ত করে। এই নিউরনগুলো উত্তেজনা বা দমন (excitation/inhibition) এর মাধ্যমে কাজ করে এবং যদিও স্নায়ুকোষগুলোর আকার ও অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, তাদের পারস্পরিক যোগাযোগই তাদের কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। এই স্নায়ুগুলো সংবেদনশীল রিসেপ্টর থেকে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড পর্যন্ত ইম্পালস বহন করে। তারপর তথ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়, যা শুধু মস্তিষ্কেই ঘটে। মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পর ইম্পালস পাঠায় মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে পেশি ও গ্রন্থিতে, যাকে মোটর আউটপুট বলা হয়। গ্লিয়া কোষ টিস্যুর মধ্যে থাকে এবং উত্তেজনাশীল না হলেও, তারা মাইলিনেশন, আয়নিক নিয়ন্ত্রণ ও বহিরাগত তরল পরিবেশে সহায়তা করে।

স্নায়ুতন্ত্র দুটি প্রধান অংশ বা উপবিভাগ নিয়ে গঠিত: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) এবং পার্শ্বীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS)। CNS-এ অন্তর্ভুক্ত মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড। মস্তিষ্ক শরীরের "নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র"। CNS-এ বিভিন্ন কেন্দ্র রয়েছে যেগুলো সংবেদনশীলতা, মোটর এবং তথ্য সংহতির কাজ করে। এই কেন্দ্রগুলোকে আবার নিচু কেন্দ্র (যেমন মেরুদণ্ড ও ব্রেইন স্টেম) এবং উচ্চ কেন্দ্র (যা ইফেক্টরের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাথে যোগাযোগ করে) হিসেবে ভাগ করা যায়। PNS হলো একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সাথে সংযুক্ত করোটিস্নায়ু ও মেরুদণ্ডীয় স্নায়ু নিয়ে গঠিত। এতে সংবেদনশীল রিসেপ্টর থাকে যা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে। এই তথ্য afferent sensory nerves এর মাধ্যমে CNS-এ পাঠানো হয়। পরে PNS কে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: অটোনোমিক স্নায়ুতন্ত্র এবং সোমাটিক স্নায়ুতন্ত্র। অটোনোমিক স্নায়ুতন্ত্র অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, রক্তনালী, মসৃণ ও হৃদপেশিতে অনৈচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ করে। সোমাটিক স্নায়ুতন্ত্র ত্বক, হাড়, সন্ধি ও কঙ্কাল পেশিতে ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুটি ব্যবস্থা একত্রে কাজ করে, কারণ PNS থেকে স্নায়ুগুলো CNS-এ প্রবেশ করে এবং একইভাবে বিপরীতমুখীও হয়।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সাধারণ কার্যাবলি

[সম্পাদনা]
মস্তিষ্ক, মস্তিষ্ককাণ্ড এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র

যখন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা পার্শ্বীয় স্নায়ুগুলো চেপে যায়, তখন আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কার্যকারিতা বেড়ে বা কমে যেতে পারে; এমনকি আপনার মুখের অভিব্যক্তিও প্রভাবিত হতে পারে—যেমন আপনি বেশি কুঁচকান, আপনার হাসি অসমান হয়ে যায়, ফুসফুস অতিরিক্ত কাজ করতে পারে বা কম কাজ করতে পারে, ফুসফুসের ক্ষমতা বেড়ে বা কমে যেতে পারে, মূত্রাশয় পূর্ণ হলেও আপনি মূত্রত্যাগ করতে পারেন না, আপনার অন্ত্র শিথিল হয়ে পড়ে এবং প্রতিবার মলত্যাগে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হতে পারেন না, আপনার বাহু, পা ও দেহের পেশিগুলো দুর্বল এবং চর্বিযুক্ত হয়ে পড়তে পারে—ব্যবহার না করার কারণে নয়, বরং সেগুলোর সাথে সংযুক্ত স্নায়ুগুলো ঠিকমতো কাজ না করায়। আপনি মাথাব্যথা, কানে ব্যথা, গলা ব্যথা, বন্ধ সাইনাসের সমস্যায়ও ভুগতে পারেন। এমনকি আপনার যৌনসুখ লাভের ক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।

CNS:
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, যা মস্তিষ্ক, মস্তিষ্ককাণ্ড ও মেরুদণ্ড নিয়ে গঠিত।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) হলো স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় অংশ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড নিয়ে গঠিত। এটি পার্শ্বীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS) এর সাথে মিলে আচরণ নিয়ন্ত্রণে মৌলিক ভূমিকা রাখে।

CNS কে একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে সংবেদনশীল ইনপুটের প্রতিক্রিয়ায় উপযুক্ত মোটর আউটপুট তৈরি হয়। অনেক গবেষণা পরামর্শ দেয় যে মোটর ক্রিয়াকলাপ অনেক সময় সংবেদনশীল ব্যবস্থার পরিপক্বতার আগেই বিদ্যমান থাকে এবং ইন্দ্রিয়গুলি শুধুমাত্র আচরণকে প্রভাবিত করে, কিন্তু সেটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে না।

নিউরনের গঠন ও কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

নিউরন হল কোষীয় সংকেত প্রক্রিয়াকরণ ও সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত বিশেষায়িত কোষ। স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে নিউরন যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে, তাই এগুলোর আকার, আকৃতি এবং বৈদ্যুতিক-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে বিস্তর ভিন্নতা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি নিউরনের সোমা (কোষদেহ) ৪ থেকে ১০০ মাইক্রোমিটার ব্যাস পর্যন্ত হতে পারে।

সোমা বা কোষদেহ নিউরনের কেন্দ্রীয় অংশ। এতে কোষের নিউক্লিয়াস (center) থাকে এবং এখানেই বেশিরভাগ প্রোটিন সংশ্লেষণ (protein synthesis) হয়। নিউক্লিয়াসের আকার সাধারণত ৩ থেকে ১৮ মাইক্রোমিটার ব্যাসের হয়ে থাকে। নিউরনের ডেনড্রাইট (dendrites) হল শাখাবিস্তৃত কোষীয় সম্প্রসারণ, এবং এদের সম্মিলিত গঠনকে রূপক অর্থে "ডেনড্রাইটিক ট্রি" বলা হয়। এখানেই প্রধানত নিউরনে ইনপুট বা তথ্যপ্রবাহ প্রবেশ করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ডেনড্রাইট থেকেও তথ্য বাইরে যেতে পারে (তবে রাসায়নিক সিন্যাপ্সে এটি হয় না, কারণ সেখানে অ্যাক্সনে কেমোরিসেপ্টর থাকে না এবং ডেনড্রাইট নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করতে পারে না)। এই কারণেই স্নায়ু সংকেত একমুখীভাবে পরিবাহিত হয়।

অ্যাক্সন হল এক ধরনের সরু, তারের মতো প্রসারিত অংশ, যা সোমার ব্যাসের তুলনায় অনেক গুণ লম্বা হতে পারে—কখনও কখনও শত শত বা হাজার হাজার গুণ। অ্যাক্সন নিউরনের সংকেত সোমা থেকে দূরে বহন করে (তবে কিছু ক্ষেত্রে সেখান থেকে তথ্য আবার ফিরেও আসতে পারে)। অধিকাংশ নিউরনের একটি মাত্র অ্যাক্সন থাকে, কিন্তু এটি বহু শাখায় বিভক্ত হতে পারে, ফলে এটি বহু টার্গেট কোষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। অ্যাক্সন যেখান থেকে সোমা থেকে বের হয়, সেই অংশকে বলা হয় ‘অ্যাক্সন হিলক’। এটি শুধু একটি শারীরবৃত্তীয় অংশ নয়, বরং নিউরনের এমন একটি অঞ্চল যেখানে ভোল্টেজ-নির্ভর সোডিয়াম চ্যানেল সবচেয়ে ঘনভাবে থাকে। ফলে এটি নিউরনের সবচেয়ে সহজে উত্তেজিত অংশ এবং অ্যাক্সনে অ্যাকশন পটেনশিয়াল (স্নায়ু সংকেত) শুরু হওয়ার স্থান। নিউরোলজিকাল পরিভাষায়, এটি সবচেয়ে কম হাইপারপোলারাইজড থ্রেশহোল্ড বিশিষ্ট অংশ। যদিও অ্যাক্সন এবং অ্যাক্সন হিলক সাধারণত তথ্য বহির্গমনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবুও এ অংশে অন্য নিউরন থেকেও ইনপুট আসতে পারে।

অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে থাকে অ্যাক্সন টার্মিনাল, এটি একটি বিশেষ অংশ যা নিউরোট্রান্সমিটার রাসায়নিক নিঃসরণ করে এবং লক্ষ কোষের সাথে যোগাযোগ করে।

যদিও নিউরনের প্রতিটি শারীরবৃত্তীয় অংশকে নির্দিষ্ট কার্যকারিতার জন্য ধরা হয়, বাস্তবে অনেক সময় ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন তাদের তথাকথিত মূল কাজের বাইরে গিয়েও কাজ করে থাকে।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিউরনের অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট সাধারণত মাত্র প্রায় ১ মাইক্রোমিটার পুরু হয়, যদিও পার্শ্বীয় স্নায়ুতন্ত্রে এদের কিছুটা পুরু হতে দেখা যায়। সোমা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের হয় এবং প্রায়ই এতে থাকা নিউক্লিয়াসের চেয়ে বেশি বড় হয় না। একটি মানুষের মোটর নিউরনের সবচেয়ে লম্বা অ্যাক্সন মেরুদণ্ড থেকে পা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যা ১ মিটার বা তার বেশি। সংবেদনশীল নিউরনের অ্যাক্সন আঙ্গুলের ডগা থেকে মেরুদণ্ডের ডরসাল কলাম পর্যন্ত চলে যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব ১.৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। জিরাফের শরীরে একক অ্যাক্সন রয়েছে যা গলার সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য জুড়ে প্রসারিত, যা কয়েক মিটার দীর্ঘ হতে পারে। অ্যাক্সনের কার্যকারিতা সম্পর্কে অধিকাংশ জ্ঞান এসেছে স্কুইড (ইলিশ মাছজাতীয় প্রাণী)-এর জায়ান্ট অ্যাক্সন নিয়ে গবেষণা থেকে, যা বিশাল আকারের হওয়ায় (০.৫–১ মিমি পুরু, কয়েক সেন্টিমিটার দীর্ঘ) গবেষণার জন্য আদর্শ।

কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

সংবেদনশীল অ্যাফারেন্ট নিউরন (Sensory afferent neurons) শরীরের টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায়। ইফারেন্ট নিউরন (Efferent neurons) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সংকেত বাহক কোষে পাঠায় এবং একে কখনও কখনও মোটর নিউরনও বলা হয়। ইন্টারনিউরন (Interneurons) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে নিউরনগুলোর সংযোগ স্থাপন করে। অ্যাফারেন্ট ও ইফারেন্ট শব্দ দুটি সাধারণভাবে এমন নিউরন বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যারা যথাক্রমে তথ্য কোনো মস্তিষ্ক অঞ্চলে নিয়ে আসে বা সেখান থেকে বাইরে পাঠায়।

অন্যান্য নিউরনের ওপর কার্যক্রম অনুসারে শ্রেণিবিন্যাস

[সম্পাদনা]

উত্তেজক নিউরন (Excitatory neurons) তাদের লক্ষ্যে থাকা পোস্টসিন্যাপটিক নিউরন বা টার্গেট কোষকে উত্তেজিত করে এবং কার্যকর করে তোলে। মোটর নিউরন ও সোমাটিক নিউরন সাধারণত উত্তেজক নিউরন। মস্তিষ্কে অবস্থিত উত্তেজক নিউরনগুলো প্রায়শই গ্লুটামেটার্জিক (glutamatergic)। মেরুদণ্ডের মোটর নিউরন, যারা পেশী কোষের সাথে সংযোগ স্থাপন করে, তারা অ্যাসিটাইলকোলিন (acetylcholine) নামক নিউরোট্রান্সমিটার ব্যবহার করে।

নিরোধক বা বাধাদানকারী নিউরন (Inhibitory neurons) তাদের লক্ষ্যে থাকা নিউরনকে দমন বা নিষ্ক্রিয় করে। এদের সংক্ষিপ্ত অ্যাক্সন নিউরন বা ইন্টারনিউরনও বলা হয়। মস্তিষ্কের কিছু গঠন (যেমন: নিয়োস্ট্রিয়াটাম, গ্লোবাস প্যালিডাস, সেরিবেলাম) এর আউটপুট নিষ্ক্রিয়। প্রধান নিষ্ক্রিয় নিউরোট্রান্সমিটার হলো GABA এবং গ্লাইসিন।

পরিবর্ধক বা মডুলেটরি নিউরন (Modulatory neurons) আরও জটিল প্রভাব তৈরি করে, যাকে নিউরোমড্যুলেশন বলা হয়। এই নিউরনগুলো ডোপামিন, অ্যাসিটাইলকোলিন, সেরোটোনিন ইত্যাদি নিউরোট্রান্সমিটার ব্যবহার করে।

প্রত্যেকটি সিন্যাপ্সে উত্তেজক ও নিষ্ক্রিয়—উভয় সংকেতই আসতে পারে, এবং ফলাফল নির্ধারিত হয় এই সংকেতগুলোর যোগফল বা সামগ্রিক প্রভাব (summation) দ্বারা।

উত্তেজক ও নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া

[সম্পাদনা]
স্নায়ু সাইন্যাপ্স

উত্তেজক নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন গ্লুটামেট) সাইন্যাপ্সে নিঃসৃত হলে, তা পজিটিভ চার্জযুক্ত সোডিয়াম আয়ন (Na⁺) প্রবাহিত হতে সহায়তা করে, ফলে ঝিল্লির একটি নির্দিষ্ট অংশে ডিপোলারাইজেশন ঘটে। এরপর তড়িৎ প্রবাহ অ্যাক্সনের বিশ্রামরত (পোলারাইজড) অংশে প্রবাহিত হয়।

নিষ্ক্রিয় সাইন্যাপ্সে, ক্লোরিন (Cl⁻) আয়ন কোষে প্রবাহিত হয় অথবা পটাশিয়াম (K⁺) আয়ন কোষ থেকে বেরিয়ে যায়, ফলে সাইন্যাপ্টিক ঝিল্লি হাইপারপোলারাইজড হয়। এই বৃদ্ধি ডিপোলারাইজেশন রোধ করে এবং অ্যাক্সন থেকে সংকেত নির্গমনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যদি উত্তেজক এবং নিষ্ক্রিয় সংকেতের চার্জ সমান হয়, তবে এই প্রক্রিয়া নিজেই বাতিল হয়ে যায়। এই প্রভাবটিকে সম্মিলন (summation) বলা হয়।

সম্মিলনের দুটি ধরন রয়েছে: স্থানিক সম্মিলন (spatial summation) এবং কালিক সম্মিলন (temporal summation)।

  • স্থানিক সম্মিলন তখন ঘটে যখন একাধিক উত্তেজক সাইন্যাপ্স একসাথে সক্রিয় হয় (একাধিক বার), যার ফলে অ্যাক্সন থেকে সংকেত নির্গত হয়। এটি নিষ্ক্রিয় সাইন্যাপ্সেও ঘটে, তবে সেখানে এর বিপরীত প্রভাব দেখা যায়।
  • কালিক সম্মিলন হল একই সাইন্যাপ্সের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি পেলে সংকেত নির্গমনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তি তৈরি হয়।

স্থানিক এবং কালিক সম্মিলন একসাথে ঘটতে পারে।

মস্তিষ্কের নিউরনগুলো উত্তেজক নিউরোট্রান্সমিটার থেকে অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে, যা ব্যাখ্যা করে কেন আমরা একসাথে সমস্ত স্মৃতি এবং সংবেদন অনুভব করি না। মস্তিষ্কে অধিকাংশ তথ্য সাধারণত দমন অবস্থায় থাকে।

সম্মিলন (Summation)

[সম্পাদনা]

যখন উত্তেজক সাইন্যাপ্সের সংখ্যা নিষ্ক্রিয় সাইন্যাপ্সের সংখ্যার চেয়ে বেশি থাকে, তখন উত্তেজক সাইন্যাপ্সগুলি অপরদের উপরে প্রভাব বিস্তার করবে। একইভাবে, যদি নিষ্ক্রিয় সাইন্যাপ্সের সংখ্যা উত্তেজক সাইন্যাপ্সের চেয়ে বেশি হয়, তবে সাইন্যাপ্সগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এই সমস্ত কিছু নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে সম্মিলন বলা হয়।

নির্গমন প্যাটার্ন অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ

[সম্পাদনা]

নিউরনগুলিকে তাদের বৈদ্যুতিন গুণাবলী অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ করা যায় (মনে রাখবেন যে একটি একক অ্যাকশন পোটেনশিয়াল একটি বড় পেশীকে সরাতে যথেষ্ট নয়, বরং এটি একটি টুইচ সৃষ্টি করে)।

টনিক বা নিয়মিত স্পাইকিং: কিছু নিউরন সাধারণত ক্রমাগত (অথবা টনিকভাবে) সক্রিয় থাকে। উদাহরণ: নিওস্ট্রিয়াটামে ইন্টারনিউরনগুলি।

ফেসিক বা বর্শিং: যে নিউরনগুলি বর্শের মতো একযোগে ফায়ার করে, সেগুলিকে ফেসিক বলা হয়।

ফাস্ট স্পাইকিং: কিছু নিউরন দ্রুত ফায়ারিং রেটের জন্য পরিচিত। উদাহরণ: কিছু ধরণের কোর্টিকাল ইনহিবিটরি ইন্টারনিউরন, গ্লোবাস প্যালিডাসে কোষ।

থিন-স্পাইক: কিছু নিউরনের অ্যাকশন পোটেনশিয়াল অন্যান্য নিউরনের চেয়ে সরু হয়। উদাহরণ: প্রিফ্রন্টাল কোর্টেক্সে ইন্টারনিউরনগুলি হল থিন-স্পাইক নিউরন।

নিউরোট্রান্সমিটার দ্বারা শ্রেণীবিভাগ

[সম্পাদনা]

কিছু উদাহরণ হল কোলোনির্জিক, গ্যাবার্জিক, গ্লুটামাটার্জিক এবং ডোপামিনার্জিক নিউরন।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System)

[সম্পাদনা]

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র হল শরীরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এটি অঙ্গগুলির কার্যাবলী, উচ্চ চিন্তা এবং শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থাকে।

অ্যাকশন পোটেনশিয়াল সৃষ্টি ও প্রচারণা (Generation & Propagation of an Action Potential)

[সম্পাদনা]
একটি নিউরোকেমিক্যাল অ্যাকশন পোটেনশিয়ালের বৈদ্যুতিন বৈশিষ্ট্য

স্নায়ু সংকেত (Nerve Impulse)

[সম্পাদনা]
অ্যানিমেটেড অ্যাকশন পোটেনশিয়াল

যখন একটি স্নায়ু উত্তেজিত হয়, তখন বিশ্রামকালীন সম্ভাবনা পরিবর্তিত হয়। এই ধরনের উদ্দীপনার উদাহরণ হতে পারে চাপ, বৈদ্যুতিকতা, রাসায়নিক ইত্যাদি। বিভিন্ন নিউরন বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনার প্রতি সংবেদনশীল (যদিও বেশিরভাগ নিউরন ব্যথা রেজিস্টার করতে পারে)। উদ্দীপনাটি সোডিয়াম আয়ন চ্যানেল খুলে দেয়। যা দ্রুত পোলারিটি পরিবর্তন করে এবং স্নায়ু সুতায় চলে, একে "অ্যাকশন পোটেনশিয়াল" বলা হয়। একটি অ্যাকশন পোটেনশিয়াল তৈরি হতে, এর থ্রেশহোল্ডে পৌঁছাতে হবে। যদি থ্রেশহোল্ড পৌঁছানো না যায়, তবে অ্যাকশন পোটেনশিয়াল তৈরি হবে না। এই চলন্ত পোলারিটি পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে:

ডিপোলারাইজেশন (Depolarization)
উল্লম্বতা শুরু হয় যখন পজিটিভ চার্জযুক্ত সোডিয়াম আয়ন (Na+) হঠাৎ সোডিয়াম গেটের মাধ্যমে স্নায়ু কোষে প্রবাহিত হয়। উত্তেজিত কোষের ঝিল্লির সম্ভাবনা স্থানীয়ভাবে -55 মিলিভোল্ট থেকে 0 এ পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবাহিত হলে ঝিল্লির পোলারিটি আসলে বিপরীত হয়ে যায়, ফলে ঝিল্লির বাইরের অংশ অভ্যন্তরের তুলনায় নেতিবাচক হয়। এই পোলারিটি পরিবর্তন আরো সোডিয়াম চ্যানেল খুলতে উদ্দীপিত করে (এটি একটি ভোল্টেজ-নির্ভর আয়ন চ্যানেল)। এটি একটি পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের উদাহরণ।
রিপোলারাইজেশন (Repolarization)
নিচে যাওয়ার প্রক্রিয়া সোডিয়াম আয়ন চ্যানেল বন্ধ হওয়া এবং পটাসিয়াম আয়ন চ্যানেল খোলার ফলে ঘটে। পটাসিয়াম আয়ন (K+) স্নায়ু কোষ থেকে বের হয়ে যায় যখন পটাসিয়াম গেট খোলে। এটি ঝিল্লির স্থানীয় নেতিবাচক সম্ভাবনা পুনরুদ্ধারে সহায়ক (প্রায় -65 বা -70 mV সাধারণত স্নায়ু কোষে)।
হাইপারপোলারাইজেশন (Hyperpolarization)
যখন পটাসিয়াম আয়ন বিশ্রামকালীন সম্ভাবনার নিচে চলে যায় (-90 mV)। যেহেতু কোষটি হাইপারপোলারাইজড, এটি একটি রেফ্র্যাকটরি পর্যায়ে চলে যায়।
রেফ্র্যাকটরি ফেজ (Refractory Phase)
রেফ্র্যাকটরি পর্যায় হল ডিপোলারাইজেশন ধাপের পর একটি ছোট সময়কাল। সোডিয়াম গেটগুলি খোলার পর তারা বন্ধ হয়ে যায় এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়। সোডিয়াম গেটগুলি আবার খোলা যায় না যতক্ষণ না ঝিল্লি তার সাধারণ বিশ্রামকালীন সম্ভাবনায় ফিরে আসে। সোডিয়াম-পটাসিয়াম পাম্প সোডিয়াম আয়নগুলোকে বাইরের দিকে এবং পটাসিয়াম আয়নগুলোকে ভিতরে ফিরিয়ে আনে। রেফ্র্যাকটরি ফেজে স্নায়ু কোষের এই বিশেষ অঞ্চলটি পুনরায় ডিপোলারাইজড হতে পারে না।

সংবেদনশীলতা এবং গতি প্রভাবিতকারী উপাদানসমূহ

[সম্পাদনা]
সংবেদনশীলতা (Sensitivity)
সোডিয়াম চ্যানেলের পারমিয়াবিলিটি বাড়িয়ে দেয় যখন ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca+2) এর অভাব থাকে। যখন অন্তরক তরলে ক্যালসিয়াম আয়নের অভাব থাকে, সোডিয়াম চ্যানেলগুলি খুব সামান্য পরিবর্তন সত্ত্বেও সক্রিয় হয় এবং স্নায়ু কোষগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অ্যাকশন পোটেনশিয়াল উৎপন্ন করতে পারে, যাকে টেটানি বলা হয়। এটি প্যাথোইড গ্ল্যান্ডের হরমোনের অভাবে বা অতিরিক্ত শ্বাস নেওয়া (হাইপারভেন্টিলেশন) হতে পারে, যার ফলে পিএইচ বৃদ্ধি পায় এবং ক্যালসিয়াম আয়নগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
সংকেত চলাচলের গতি (Speed of Conduction)
ডিপোলারাইজেশন/রিপোলারাইজেশন/পুনরুদ্ধারের এই অঞ্চলটি স্নায়ু সুতায় খুব দ্রুত চলে। মাইলিনেটেড ফাইবারগুলিতে সংকেত চলাচল অনেক গুণ দ্রুত হয় কারণ অ্যাকশন পোটেনশিয়াল শুধুমাত্র রানভিয়ের নোডে ঘটে এবং সেখান থেকে এক নোড থেকে অন্য নোডে লাফিয়ে চলে। এটিকে "স্যালটেটরি" চলাচল বলা হয়। মাইলিন শিথের ক্ষতি স্নায়ু কোষের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিছু বিষ এবং ঔষধ স্নায়ু সংকেতগুলিকে সোডিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে আঘাত করতে পারে।

মস্তিষ্ক (Brain)

[সম্পাদনা]
মস্তিষ্কের একটি রঙিন চিত্র, প্রধান অংশগুলি দেখানো হয়েছে।

মস্তিষ্কটি ক্রেনিয়াল গহ্বরের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে উচ্চতর স্নায়ু কেন্দ্রগুলি থাকে, যা শরীরের সংবেদনশীল এবং মোটর সিস্টেমগুলির সমন্বয় করে (ফোরব্রেন)। মস্তিষ্কের গা শাখা নিচের স্নায়ু কেন্দ্রগুলি (মিডব্রেন, পন্স, এবং মেডুলা) ধারণ করে।

মেডুলা (Medulla)

[সম্পাদনা]

মেডুলা হল শ্বাসপ্রশ্বাস, কার্ডিওভাসকুলার এবং পাচনতন্ত্রের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

পন্স (Pons)

[সম্পাদনা]

পন্স শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নিষ্ক্রিয় কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধারণ করে। এখানে এটি সেরিবেলামের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে।

সেরিব্রাম (Cerebrum)

[সম্পাদনা]

সেরিব্রাম, অথবা মস্তিষ্কের শীর্ষ অংশ, একটি গভীর ফাটল দ্বারা বিভক্ত, যাকে লংগিচিউডিনাল সালকাস বলা হয়। লংগিচিউডিনাল সালকাস সেরিব্রামকে ডান এবং বাম অর্ধগোলকে পৃথক করে। অর্ধগোলগুলিতে আপনি সেরিব্রাল কোর্টেক্স, বেসাল গ্যাংগ্লিয়া এবং লিম্বিক সিস্টেম পাবেন। দুটি অর্ধগোলের মধ্যে একটি স্নায়ু তন্তুর গুচ্ছ দ্বারা সংযুক্ত থাকে, যাকে করপাস ক্যালোসাম বলা হয়। ডান অর্ধগোল শরীরের বাম দিকের জন্য দায়ী, যখন বাম অর্ধগোল শরীরের ডান দিকের জন্য দায়ী। প্রতিটি অর্ধগোলকে চারটি আলাদা লোবসে ভাগ করা হয়েছে: ফ্রন্টাল, যা বিশেষায়িত মোটর নিয়ন্ত্রণ, শেখা, পরিকল্পনা এবং ভাষার জন্য দায়ী; প্যারাইটাল, যা সোম্যাটিক সেনসরি কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে; অক্সিপিটাল, যা দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ করে; এবং টেম্পোরাল লোব, যার মধ্যে শ্রবণ কেন্দ্র এবং কিছু ভাষা কেন্দ্রীয় থাকে। সেরিব্রামের টেম্পোরাল লোবের নিচে ইনসুলা অবস্থিত।

সেরিবেলাম (Cerebellum)

[সম্পাদনা]

সেরিবেলাম মস্তিষ্কের একটি অংশ, যা মেডুলা অবলংগাটা এবং পন্সের পিছনে অবস্থিত। এটি কঙ্কাল পেশীগুলির সমন্বয় করে মসৃণ, সুগম গতির সৃষ্টি করে। সেরিবেলাম আমাদের চোখ, কান, পেশী এবং জয়েন্ট থেকে তথ্য গ্রহণ করে, যা আমাদের শরীরের অবস্থান সম্পর্কে জানায় (প্রোপ্রিওসেপশন)। এটি সেরিব্রাল কোর্টেক্স থেকে আউটপুটও গ্রহণ করে, যা বলছে যে এই অংশগুলি কোথায় থাকা উচিত। এই তথ্য প্রক্রিয়া করার পর, সেরিবেলাম ব্রেন স্টেম থেকে মোটর সংকেত কঙ্কাল পেশীগুলিতে প্রেরণ করে। সেরিবেলামের মূল কাজ হল সমন্বয়। সেরিবেলাম ভারসাম্য এবং ভঙ্গি নিয়ন্ত্রণের জন্যও দায়ী। এটি আমাদের নতুন একটি মোটর দক্ষতা শেখানোর সময়ও সাহায্য করে, যেমন খেলাধুলা বা সঙ্গীত যন্ত্র বাজানো। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে সেরিবেলাম শুধুমাত্র মোটর কার্যাবলীর জন্য নয়, তা মানসিক কার্যাবলীতেও কিছু ভূমিকা পালন করে।

লিম্বিক সিস্টেম এবং উচ্চতর মানসিক কার্যাবলী

[সম্পাদনা]

মস্তিষ্কের চিত্র, লিম্বিক সিস্টেম দেখানো হয়েছে।

লিম্বিক সিস্টেম

[সম্পাদনা]

লিম্বিক সিস্টেম হল একটি জটিল কাঠামোর সেট, যা সেরিব্রামের নিচে এবং থালামাসের দুইপাশে অবস্থিত। এটি উচ্চতর মানসিক কার্যাবলী এবং প্রাচীন আবেগকে এক সিস্টেমে একত্রিত করে। এটিকে প্রায়ই আবেগজনিত স্নায়ুতন্ত্র বলা হয়। এটি কেবল আমাদের আবেগিক জীবনের জন্যই নয়, আমাদের উচ্চতর মানসিক কার্যাবলী যেমন শেখা এবং স্মৃতি তৈরি করাও দায়ী। লিম্বিক সিস্টেম ব্যাখ্যা করে কেন কিছু জিনিস আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক মনে হয়, যেমন খাওয়া এবং কেন কিছু শারীরিক অবস্থার সৃষ্টি হয় মানসিক চাপের কারণে, যেমন উচ্চ রক্তচাপ। লিম্বিক সিস্টেমের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো এবং কয়েকটি ছোট কাঠামো রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলি হল:

  1. হিপোক্যাম্পাস (Hippocampus)
  2. অ্যামিগডালা (Amygdala)
  3. থালামাস (Thalamus)
  4. হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)
  5. ফরনিক্স এবং প্যারাহিপোক্যাম্পাস (Fornix and Parahippocampus)
  6. সিঙ্গুলেট গাইরাস (Cingulate Gyrus)

লিম্বিক সিস্টেমের কাঠামো

[সম্পাদনা]
হিপোক্যাম্পাস (Hippocampus)
[সম্পাদনা]
হিপোক্যাম্পাসটি টেম্পোরাল লোবের গভীরে, একটি সি আকৃতির কাঠামো, যা সিহর্সের মতো দেখতে। এটি দুটি শিং নিয়ে গঠিত, যা অ্যামিগডালার থেকে পিছনে দিকে বাঁকানো। এটি মস্তিষ্কে এমনভাবে অবস্থিত যে এটি প্রিফ্রন্টাল এলাকাকে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা জানাতে সক্ষম করে, যা সেই অঞ্চলে সংরক্ষিত থাকে। মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল এলাকা এই কাঠামোটি পরামর্শ করে স্মৃতি ব্যবহার করে আমাদের আচরণ পরিবর্তন করতে। হিপোক্যাম্পাস স্মৃতির মূল অংশীদার।
অ্যামিগডালা (Amygdala)
[সম্পাদনা]
অ্যামিগডালা একটি ছোট আখরোট আকৃতির কাঠামো, যা টেম্পোরাল লোবের অ্যান্টেরিওর-ইনফেরিয়র অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত, এবং এটি হিপোক্যাম্পাস, সেপটি নিউক্লেই, প্রিফ্রন্টাল এলাকা এবং থালামাসের মিডিয়াল ডর্সাল নিউক্লিয়াসের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই সংযোগগুলি অ্যামিগডালাকে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, মমত্ববোধ, এবং মুডের প্রকাশের মতো কার্যাবলী ও অনুভূতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করে। অ্যামিগডালা বিপদের চিহ্নিতকরণের কেন্দ্র এবং স্ব-অরক্ষণের জন্য মৌলিক। অ্যামিগডালা হল সেই নিউক্লিয়াস যা ভয়ের জন্য দায়ী।
থালামাস (Thalamus)
[সম্পাদনা]
থালামাসের মিডিয়াল, ডর্সাল, এবং অ্যান্টেরিয়র নিউক্লিয়াসের ক্ষতি বা উদ্দীপনা আবেগগত প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, আবেগগত আচরণের নিয়ন্ত্রণে এই নিউক্লিয়াসগুলির গুরুত্ব শুধুমাত্র থালামাসের নিজস্ব কারণে নয়, বরং এই নিউক্লিয়াসগুলির অন্যান্য লিম্বিক সিস্টেমের কাঠামোগুলির সাথে সংযোগের কারণে। মিডিয়াল ডর্সাল নিউক্লিয়াস প্রিফ্রন্টাল এলাকার কোর্টিকাল অঞ্চলের সাথে এবং হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত থাকে। অ্যান্টেরিয়র নিউক্লিয়াস মেমিলারি বডির সাথে সংযুক্ত এবং সেগুলি ফরনিক্সের মাধ্যমে হিপোক্যাম্পাস এবং সিঙ্গুলেট গাইরাসের সাথে সংযুক্ত থাকে, এর ফলে এটি পাপেজের সার্কিটে অংশগ্রহণ করে।
মস্তিষ্কের চিত্র, হাইপোথ্যালামাসের অবস্থান দেখানো হয়েছে।
হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)
[সম্পাদনা]
হাইপোথ্যালামাস হল মস্তিষ্কের একটি ছোট অংশ, যা থালামাসের ঠিক নিচে এবং তৃতীয় ভেন্ট্রিকলের দুইপাশে অবস্থিত। হাইপোথ্যালামাসের ক্ষতি কিছু শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী এবং কিছু所谓 প্রণোদিত আচরণ যেমন যৌনতা, যুদ্ধপরায়ণতা এবং ক্ষুধার সাথে সম্পর্কিত। হাইপোথ্যালামাস আবেগে একটি ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে, পার্শ্ববর্তী অংশগুলি আনন্দ এবং রাগের সাথে যুক্ত, যখন মধ্যবর্তী অংশটি বিরক্তি, অস্বস্তি এবং নিয়ন্ত্রণহীন হাসির প্রবণতা সাথে যুক্ত। তবে, সাধারণভাবে হাইপোথ্যালামাস আবেগের প্রকাশের সাথে আরও সম্পর্কিত। যখন আবেগের শারীরিক উপসর্গগুলি প্রদর্শিত হয়, তখন সেগুলি হাইপোথ্যালামাসের মাধ্যমে লিম্বিক কেন্দ্রগুলিতে ফিরে আসে এবং তারপর প্রিফ্রন্টাল নিউক্লিয়াসে পৌঁছায়, যা উদ্বেগ বৃদ্ধি করে।
ফরনিক্স এবং প্যারাহিপোক্যাম্পাল (The Fornix and Parahippocampal)
[সম্পাদনা]
এই ছোট কাঠামোগুলি লিম্বিক সিস্টেমের সংযোগকারী পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
সিঙ্গুলেট গাইরাস
[সম্পাদনা]

সিঙ্গুলেট গাইরাস মস্তিষ্কের মিডিয়াল দিকের মধ্যে সিঙ্গুলেটেড সালকাস এবং করপাস কালোসামের মধ্যে অবস্থিত। এই গাইরাস সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু শেখা বাকি, তবে এটি ইতিমধ্যে জানা গেছে যে এর সামনের অংশ গন্ধ এবং দৃষ্টি সমন্বয় করে, পূর্ববর্তী আবেগের আনন্দময় স্মৃতির সাথে। এই অঞ্চলটি ব্যথার প্রতি আবেগগত প্রতিক্রিয়া এবং আক্রমণাত্মক আচরণের নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে।


স্মৃতি এবং শেখা

[সম্পাদনা]

স্মৃতি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: অতীতের অভিজ্ঞতাগুলি ধারণ এবং পুনরুদ্ধারের মানসিক ক্ষমতা, স্মরণ করার ক্রিয়া বা ঘটনা। শেখা ঘটে যখন আমরা অতীতের স্মৃতিগুলি ধারণ করি এবং ব্যবহার করি।

মোটের উপর, স্মৃতির মেকানিজমগুলি পুরোপুরি বোঝা যায়নি। হিপোক্যাম্পাস, অ্যামিগডালা, স্ট্রিয়াটাম, বা ম্যামিলারি বডির মতো মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলি নির্দিষ্ট ধরনের স্মৃতির সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, হিপোক্যাম্পাস স্থানিক শেখা এবং ঘোষণা করা শেখার সাথে জড়িত (যেমন আপনি এখন যা পড়ছেন তা), যেখানে অ্যামিগডালা আবেগগত স্মৃতির সাথে জড়িত বলে মনে করা হয়। কিছু অঞ্চলে রোগী এবং প্রাণী মডেলে ক্ষতি এবং পরবর্তী স্মৃতি ঘাটতির ঘটনা মূল তথ্যের উৎস। তবে, এটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে, এটি হতে পারে যে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ক্ষতি বা একটি পথ যা অঞ্চলটির মাধ্যমে চলে, আসলে লক্ষ্য করা ঘাটতির জন্য দায়ী। অতিরিক্তভাবে, স্মৃতি এবং শেখা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল বলা যথেষ্ট নয়। শেখা এবং স্মৃতি নিউরোনাল সাইনাপসের পরিবর্তনের কারণে হয়, যা দীর্ঘকালীন পটেনসিয়েশন এবং দীর্ঘকালীন ডিপ্রেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তিনটি মৌলিক স্মৃতি ধরনের রয়েছে:

  1. সংবেদনশীল স্মৃতি
  2. স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি
  3. দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি
সংবেদনশীল স্মৃতি
[সম্পাদনা]

সংবেদনশীল স্মৃতিগুলি অনুভূতি মাধ্যমে উদ্দীপনার জন্য একটি বাফার হিসেবে কাজ করে। একটি সংবেদনশীল স্মৃতি যা দেখা বা শোনা হয় তার সঠিক কপি ধারণ করে: "আইকনিক স্মৃতি দৃষ্টির জন্য, একোকিক স্মৃতি শ্রবণের জন্য এবং হ্যাপটিক স্মৃতি স্পর্শের জন্য।" তথ্য সংবেদনশীল স্মৃতি থেকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয়। কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন এটি শুধুমাত্র ৩০০ মিলিসেকেন্ড স্থায়ী হয়, তবে এর ধারণক্ষমতা অসীম। নির্বাচনী মনোযোগ সিদ্ধান্ত নেয় কোন তথ্য সংবেদনশীল স্মৃতি থেকে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে যাবে।

স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি
[সম্পাদনা]

স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি একটি স্ক্র্যাচ প্যাড হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রক্রিয়াধীন তথ্যটির সাময়িক পুনঃস্মরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, এই বাক্যটি বুঝতে, আপনাকে বাক্যের শুরু মনে রাখতে হবে যখন আপনি বাক্যের বাকি অংশ পড়ছেন। স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি দ্রুত মুছে যায় এবং এর ধারণক্ষমতা সীমিত। তথ্যের একত্রিতকরণ স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারে, এর জন্যই একটি হাইফেনযুক্ত ফোন নম্বর একক দীর্ঘ নম্বরের চেয়ে সহজে মনে রাখা যায়। একটি সাফল্যমণ্ডিত চাঙ্ক গঠনকে "ক্লোজার" বলা হয়। অপসারণ প্রায়ই স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি ধরে রাখায় ব্যাঘাত ঘটায়। এটি ব্যাখ্যা করে কেন একজন ব্যক্তি শীঘ্রই একটি কাজ সম্পন্ন করতে চায়, যা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে রয়েছে।

স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির মধ্যে তিনটি মৌলিক কার্যক্রম রয়েছে:

  1. আইকনিক স্মৃতি - দৃশ্যমান চিত্র ধারণ করার ক্ষমতা
  2. অ্যাকুস্টিক স্মৃতি - শব্দ ধারণ করার ক্ষমতা। এটি আইকনিকের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধারণ করা যায়।
  3. কার্যকরী স্মৃতি - এটি একটি সক্রিয় মনোযোগমূলক প্রক্রিয়া যা তথ্যটি ব্যবহার না হওয়া পর্যন্ত ধরে রাখে। লক্ষ্যটি আসলে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য স্থানান্তর করা নয়, বরং এটি অবিলম্বে ব্যবহারের জন্য রাখা।

স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া তথ্যের এনকোডিং বা সংহতির মাধ্যমে ঘটে। এটি সময়ের কাজ নয়, অর্থাৎ, স্মৃতি যত দীর্ঘ সময় ধরে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে থাকবে, ততই এটি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে জটিল তথ্য সংগঠিত করার সময়, এই প্রক্রিয়ায় একটি আইটেমের অর্থপূর্ণতা বা আবেগগত বিষয়বস্তু তার দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে ধারণের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। লিম্বিক সিস্টেম স্থানীয় রিভার্বারেটিং সার্কিট তৈরি করে যেমন পেপেজ সর্কিট।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি
[সম্পাদনা]

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। স্বল্পমেয়াদী থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে তথ্য স্থানান্তরিত হয় একটি ছোট সময় পর। স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির তুলনায়, দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির হ্রাস অনেক কম। দীর্ঘমেয়াদী পটেনশিয়াল হল হিপোক্যাম্পাসের মধ্যে সাইনাপসে একটি উন্নত প্রতিক্রিয়া। এটি স্মৃতি সঞ্চয়ের জন্য অপরিহার্য। লিম্বিক সিস্টেম অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির সাথে সরাসরি জড়িত নয়, তবে এটি স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি থেকে স্মৃতিগুলি নির্বাচন করে, এগুলিকে একটি ধারাবাহিক টেপের মতো বাজিয়ে সংহত করে এবং হিপোক্যাম্পাস এবং অ্যামিগডালাকে জড়িত করে।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির দুটি ধরণ রয়েছে:

  1. ইপিসোডিক স্মৃতি
  2. সেমান্টিক স্মৃতি

ইপিসোডিক স্মৃতি আমাদের ঘটনাবলী এবং অভিজ্ঞতার স্মৃতি ধারাবাহিক রূপে উপস্থাপন করে। এটি আমাদের স্মৃতির উৎস যেখানে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে যাওয়া আসল ঘটনা পুনর্গঠন করতে পারি। সেমান্টিক স্মৃতি, অন্যদিকে, একটি গঠনমূলক রেকর্ড হল তথ্য, ধারণা এবং দক্ষতার যা আমরা অর্জন করেছি। সেমান্টিক স্মৃতির তথ্য আমাদের নিজস্ব ইপিসোডিক স্মৃতি থেকে উদ্ভূত, যেমন আমরা অভিজ্ঞতা থেকে নতুন তথ্য বা ধারণা শিখতে পারি।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির সাথে সম্পর্কিত তিনটি প্রধান কার্যকলাপ রয়েছে:

  1. সঞ্চয়
  2. মুছে ফেলা
  3. পুনরুদ্ধার

স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির তথ্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সঞ্চিত হয় পুনরাবৃত্তি দ্বারা। একটি উদ্দীপনার পুনরাবৃত্তি বা একটি তথ্যের পুনঃঅধিগমনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয়। পরীক্ষাগুলি এই পরামর্শ দেয় যে শেখা সবচেয়ে কার্যকর হয় যদি এটি সময়ের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মুছে ফেলা প্রধানত অবক্ষয় এবং হস্তক্ষেপ দ্বারা সৃষ্ট। আবেগগত উপাদানগুলি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, এটি বিতর্কযোগ্য যে আমরা আসলে কিছু ভুলে যাই কি না বা এটি শুধুমাত্র কখনও কখনও আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিছু সময়ে তথ্য পুনরুদ্ধার করা যায় না তবে এটি সনাক্ত করা যেতে পারে, অথবা শুধুমাত্র প্ররোচনার মাধ্যমে এটি পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। এটি আমাদের স্মৃতির তৃতীয় কার্যকলাপ, তথ্য পুনরুদ্ধারের দিকে নিয়ে যায়।

দুটি ধরনের তথ্য পুনরুদ্ধার রয়েছে:

  1. পুনঃস্মরণ
  2. চিনহিতি

পুনঃস্মরণে, তথ্যটি স্মৃতিতে পুনর্নির্মাণ করা হয়। চিনহিতিতে, তথ্যের প্রদর্শন স্মরণ করিয়ে দেয় যে তথ্যটি আগে দেখা হয়েছিল। চিনহিতি কম জটিল, কারণ তথ্যটি একটি সংকেত হিসেবে প্রদান করা হয়। তবে, পুনঃস্মরণ পুনরুদ্ধারের সংকেত প্রদান দ্বারা সাহায্য করা যেতে পারে যা বিষয়বস্তু দ্রুত স্মৃতিতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

দীর্ঘমেয়াদী পটেনশিয়েশন
[সম্পাদনা]


দীর্ঘমেয়াদী পটেনশিয়েশন (LTP) হল দুটি নিউরনের মধ্যে সংযোগের স্থায়ী বর্ধন যা একযোগে তাদের উদ্দীপনার ফলে ঘটে। নিউরনরা রাসায়নিক সাইনাপ্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এবং স্মৃতিগুলি এই সাইনাপ্টিক সক্রিয়তার নিদর্শনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই LTP এবং এর বিপরীত প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদী ডিপ্রেশন (LTD), শেখা ও স্মৃতির প্রধান সেলুলার প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক (PKMzeta, যা পরে আলোচনা করা হবে) ইঁদুরের মধ্যে বাধাগ্রস্ত করলে রেট্রোগ্রেড অ্যামনেশিয়া দেখা দেয়, যেখানে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি অক্ষত থাকে (অর্থাৎ তারা ইনহিবিটর দেওয়ার পূর্বের ঘটনা মনে রাখতে পারে না)।

সাইনাপ্টিক ট্রান্সমিশন বৃদ্ধির মাধ্যমে, LTP দুটি নিউরনের (একটি প্রিসাইনাপ্টিক ও অন্যটি পোস্টসাইনাপ্টিক) মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এই বৃদ্ধির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণরূপে বোঝা যায়নি এবং এটি মস্তিষ্কের অঞ্চল, বয়স ও প্রজাতিভেদে পরিবর্তিত হয়। এখানে আমরা হিপোক্যাম্পাসের CA1 অংশে LTP-র উপর ফোকাস করব, কারণ এটাই সবচেয়ে ভালোভাবে পরিচিত।

LTP-র ফলস্বরূপ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিউরাল সার্কিট তৈরি হয় যা ভবিষ্যতে স্মৃতির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

CA1 হিপোক্যাম্পাসে LTP
[সম্পাদনা]

CA1 অঞ্চলের LTP কে বলা হয় NMDA রিসেপ্টর-নির্ভর LTP। এর চারটি মূল বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • দ্রুত প্রবর্তন
LTP স্বল্প সময়ের উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির উদ্দীপনা প্রয়োগ করে দ্রুত সৃষ্টি করা যায়।
  • ইনপুট নির্দিষ্টতা
LTP যখন একটি সাইনাপ্সে সৃষ্টি হয়, এটি অন্যান্য সাইনাপ্সে ছড়ায় না। এটি ইনপুট নির্দিষ্ট। এটি শুধু সংশ্লিষ্ট সাইনাপ্সগুলোতে বিস্তার লাভ করে, অ্যাসোসিয়েটিভিটি ও কোঅপারেটিভিটির নিয়ম অনুযায়ী।
  • অ্যাসোসিয়েটিভিটি
দুর্বল উদ্দীপনার ফলে এককভাবে LTP সৃষ্টি না হলেও, একই সময়ে একটি শক্তিশালী উদ্দীপনা দিলে উভয় পথেই LTP সৃষ্টি হয়।
  • কোঅপারেটিভিটি
একটি পথকে শক্তিশালী টেটানিক উদ্দীপনা দিয়ে বা অনেক দুর্বল উদ্দীপনা একসাথে প্রয়োগ করে LTP সৃষ্টি করা যায়। এটি সাইনাপটিক ট্যাগিং নামক একটি সম্ভাব্য অভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়।

LTP কে সাধারণত তিনটি ধারাবাহিক পর্যায়ে ভাগ করা হয়: স্বল্পমেয়াদী পটেনশিয়েশন, প্রারম্ভিক LTP (E-LTP), এবং দেরিতে শুরু হওয়া LTP (L-LTP)। স্বল্পমেয়াদী পটেনশিয়েশন সম্পর্কে এখনও বেশি কিছু জানা যায়নি, তাই তা এখানে আলোচিত হবে না।

প্রারম্ভিক পর্যায় (E-LTP)
[সম্পাদনা]
প্রবর্তন

E-LTP শুরু হয় যখন পোস্টসাইনাপ্টিক কোষের ভিতরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে। বেশিরভাগ LTP-তে এই ক্যালসিয়ামের প্রবাহের জন্য NMDA রিসেপ্টরের প্রয়োজন হয়।

প্রিসাইনাপ্টিক নিউরনে উদ্দীপনা প্রয়োগ করলে এটি সাধারণত গ্লুটামেট নামক নিউরোট্রান্সমিটার ছাড়ে, যা পোস্টসাইনাপ্টিক কোষের AMPA রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়। এতে সোডিয়াম আয়নের প্রবেশ ঘটে, এবং একটি স্বল্পস্থায়ী ডিপোলারাইজেশন ঘটে—যা এক্সসিটেটরি পোস্টসাইনাপ্টিক পটেনশিয়াল (EPSP) নামে পরিচিত।

একক উদ্দীপনা যথেষ্ট EPSP তৈরি করে না, তাই EPSP স্যামেশন প্রয়োজন। একাধিক EPSP একত্রে যথেষ্ট ডিপোলারাইজেশন সৃষ্টি করলে NMDA রিসেপ্টর তাদের ম্যাগনেশিয়াম ব্লক হারায় এবং ক্যালসিয়াম প্রবেশ করে। এই ক্যালসিয়াম স্বল্পস্থায়ীভাবে কিছু এনজাইম সক্রিয় করে, বিশেষ করে প্রোটিন কিনেজ যেমন CaMKII ও PKC; কিছুটা অবদান রাখে PKA ও MAPK।

রক্ষণাবেক্ষণ

CaMKII ও PKC ক্যালসিয়াম নির্ভরতা হারিয়ে স্বতন্ত্রভাবে সক্রিয় থাকে এবং ফসফোরাইলেশন করে যা E-LTP-এর প্রকাশ ঘটায়।

প্রকাশ

এই এনজাইমগুলি AMPA রিসেপ্টরের কার্যকারিতা বাড়াতে ফসফোরাইলেশন করে এবং নতুন AMPA রিসেপ্টর মেমব্রেনে যুক্ত করে। এতে ভবিষ্যতের উদ্দীপনা আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

দেরি পর্যায় (L-LTP)
[সম্পাদনা]

L-LTP হল E-LTP-র প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ। তবে এটি পোস্টসাইনাপ্টিক কোষে জিন এক্সপ্রেশন ও প্রোটিন সংশ্লেষনের উপর নির্ভর করে। এটি প্রিসাইনাপ্টিক কোষেও কিছু প্রোটিন উৎপাদনের সাথে যুক্ত, যেমন সিনাপটোট্যাগমিন এবং সাইনাপ্টিক ভেসিকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি।

প্রবর্তন

L-LTP প্রোটিন কিনেজ যেমন MAPK দ্বারা জিন এক্সপ্রেশন পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়। বিশেষ করে ERK উপগোষ্ঠীটি E-LTP ও L-LTP-র সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করতে পারে।

রক্ষণাবেক্ষণ

ERK সক্রিয় হলে এটি নিউক্লিয়ার ও সাইটোপ্লাজমিক প্রোটিনকে ফসফোরাইলেট করে, যার ফলে প্রোটিন সংশ্লেষ ও কোষীয় গঠন পরিবর্তন ঘটে। CREB-এর মতো ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর সক্রিয় হয় এবং PKMzeta-এর মতো প্রোটিন তৈরি হয় যা L-LTP রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়। PKMzeta বাধাগ্রস্ত হলে ইঁদুরদের মধ্যে রেট্রোগ্রেড অ্যামনেশিয়া দেখা দেয়।

প্রকাশ

L-LTP চলাকালীন তৈরি হওয়া অনেক প্রোটিন এখনও অজানা, তবে ধারণা করা হয় এরা ডেনড্রাইটিক স্পাইন সংখ্যা, পৃষ্ঠ ক্ষেত্র এবং নিউরোট্রান্সমিটারের সংবেদনশীলতা বাড়ায়।

রেট্রোগ্রেড সংকেত প্রেরণ
[সম্পাদনা]

রেট্রোগ্রেড সংকেত একটি হাইপোথিসিস যা ব্যাখ্যা করে কিভাবে LTP মূলত পোস্টসাইনাপ্টিকভাবে প্রবর্তিত ও প্রকাশিত হলেও কিছু প্রমাণ প্রিসাইনাপ্টিক প্রকাশের দিক নির্দেশ করে। যেহেতু স্বাভাবিক সাইনাপ্টিক সংকেত একমুখী (প্রিসাইনাপ্টিক থেকে পোস্টসাইনাপ্টিক), তাই এই বিপরীত পথে সংকেত গমন ব্যতিক্রমী।

ভাষা ও বক্তৃতা

[সম্পাদনা]

ভাষা নির্ভর করে সেমান্টিক মেমরির উপর, তাই মস্তিষ্কের যেসব অংশ স্মৃতির সঙ্গে জড়িত, তার অনেকগুলোই ভাষার সাথেও জড়িত। বক্তৃতা গঠনের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আর্টিকুলেশন, মোটর এলাকাগুলিতে উভয় গোলার্ধেই বিদ্যমান। তবে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ভাষা বিশ্লেষণ ও বক্তৃতা গঠন শুধুমাত্র বাম গোলার্ধে সংঘটিত হয়। ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রধান কর্টিকাল অঞ্চল হলো:

  1. ব্রোকা'স এলাকা
  2. ভার্নিকি'স এলাকা

ব্রোকা'স এলাকা অবস্থিত বাম মোটর কর্টেক্সের স্বরনিয়ন্ত্রণ এলাকার সামনের দিকে। এই অঞ্চল ভাষা, বক্তৃতা ও লেখার মোটর সিকোয়েন্স গঠনের কাজ করে। এই এলাকায় ক্ষতযুক্ত রোগীরা সাধারণত:

  1. পুরোপুরি ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে অক্ষম হন: তাঁরা সাধারণত বিশেষ্য ভালোভাবে বোঝেন, তবে ক্রিয়া বা সিনট্যাকটিক শব্দ ও বাক্যাংশ বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন
  2. স্পষ্টভাবে লিখতে পারেন না
  3. খণ্ডিত বাক্য ও বাক্যাংশে কথা বলেন এবং তা করতে প্রচুর চেষ্টা করতে হয়

ভার্নিকি'স এলাকা শ্রবণ ও দৃষ্টির অ্যাসোসিয়েশন কর্টেক্সের অংশ। এই অঞ্চল ভাষার অর্থ বিশ্লেষণ ও ভাষাগত বিষয়বস্তু গঠনের জন্য দায়ী। এই এলাকায় ক্ষতযুক্ত রোগীরা সাধারণত:

  1. বস্তুগুলোর নাম বলতে অসুবিধা হয়
  2. শব্দের অর্থ বুঝতে পারেন না
  3. অনায়াসে কথা বলেন, তবে তাঁদের কথাবার্তায় প্রায়ই অর্থহীনতা বা অস্পষ্টতা দেখা যায়


এই সংকেত প্রিসাইনাপ্টিক কোষে পৌঁছে সেখানে নিউরোট্রান্সমিটার ভেসিকেল নিঃসরণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। যদিও এই হাইপোথিসিস এখনো বিতর্কিত এবং বার্তাবাহক হিসেবে কোন অণু দায়ী তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে।

লিম্বিক সিস্টেমের রোগসমূহ

[সম্পাদনা]

লিম্বিক সিস্টেমের বিভিন্ন পরিচিত রোগ আছে যেগুলো এই সিস্টেমের ডিসঅর্ডার বা ব্যাধি। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

স্কিজোফ্রেনিয়া
[সম্পাদনা]

লিম্বিক সিস্টেমে অতিরিক্ত ডোপামিন (DA) প্রতিক্রিয়ার ফলে স্কিজোফ্রেনিয়া দেখা দিতে পারে। ডোপামিন হয়তো অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি বা নিঃসৃত হতে পারে, ডোপামিন রিসেপ্টরগুলো অতিসংবেদনশীল হতে পারে, কিংবা ডোপামিনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে। ডোপামিন রিসেপ্টরকে ব্লক করে এমন ওষুধে এই রোগের উপসর্গ হ্রাস পায়। স্কিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গগুলো হলো:

  1. বাস্তবতা থেকে সংযোগ হারিয়ে ফেলা
  2. চিন্তা ও যুক্তি করার ক্ষমতা হ্রাস
  3. মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস
  4. স্মৃতিশক্তি হ্রাস
  5. শিশুসুলভ আচরণের দিকে প্রত্যাবর্তন
  6. মেজাজ পরিবর্তন ও হঠাৎ আচরণ
  7. শ্রাবণিক বিভ্রম (শোনার ভুল)

উপসর্গগুলো এতটাই গুরুতর হতে পারে যে রোগী স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

ডিপ্রেশন (বিষণ্ণতা)
[সম্পাদনা]

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা হলো সবচেয়ে সাধারণ বড় মানসিক রোগ, যা আবেগীয় এবং শারীরিক উভয় উপসর্গ দ্বারা চিহ্নিত। এর উপসর্গগুলো হলো:

  1. তীব্র দুঃখবোধ ও হতাশা
  2. উদ্বেগ
  3. মনোযোগ হারিয়ে ফেলা
  4. নেতিবাচক চিন্তা
  5. আত্মসম্মানবোধে ঘাটতি
  6. অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম
  7. ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
  8. শরীরের তাপমাত্রা ও হরমোন গ্রন্থির কার্যক্রমে পরিবর্তন

১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিষণ্ণ রোগী তাদের জীবনের কোনো এক সময়ে আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণ প্রদর্শন করেন।

ডিপ্রেশনের কারণ ও উপসর্গগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে বোধগম্য নয়, তবে এটিকে মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি রোগ হিসেবে দেখা হয়। গবেষণায় দেখা যায় এটি সেরোটোনিন এবং নরএপিনেফ্রিনের ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত।

এই জন্য ফার্মাকোলজিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতিতে মস্তিষ্কে অ্যামাইন ঘনত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

এক শ্রেণির অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট হলো মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটারস (MAOIs)। মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ একটি এনজাইম যা নরএপিনেফ্রিন ও সেরোটোনিনের মতো অ্যামাইন ভেঙে ফেলে। এই ওষুধগুলো এনজাইমের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে, ফলে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সিন্যাপটিক ক্লেফটে থেকে যায় এবং কার্যকর হয়।

একটি নতুন ধরনের ওষুধ হলো সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিইউপটেক ইনহিবিটারস (SSRI)। এই ওষুধগুলো সেরোটোনিনকে কোষে ফিরিয়ে নেওয়া কমিয়ে দেয়, ফলে সিন্যাপটিক ক্লেফটে সেরোটোনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এগুলো MAOI-এর তুলনায় বেশি নির্দিষ্ট, কারণ এটি শুধুমাত্র সেরোটোনিন সংশ্লিষ্ট সিন্যাপসে কাজ করে। জনপ্রিয় SSRI-এর মধ্যে আছে ProzacPaxil

বাইপোলার ডিসঅর্ডার
[সম্পাদনা]

ডিপ্রেশনের আরেকটি পরিচিত রূপ হলো ম্যানিক ডিপ্রেশন। ম্যানিয়া হলো একটি তীব্র অবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হলো:

  1. অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস ও দুর্বল বিচারবোধ
  2. অনিদ্রা ও চঞ্চলতা
  3. অতিসক্রিয়তা
  4. নিয়ন্ত্রণহীন কথা বলা

ম্যানিক ডিপ্রেশন, যা বাইপোলার ডিসঅর্ডার নামেও পরিচিত, তাতে মুড বারবার উঁচু (ম্যানিয়া) ও নিচু (ডিপ্রেশন) অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। এই রোগে লিম্বিক সিস্টেমের রিসেপ্টরগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়। এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরনের মুড স্ট্যাবিলাইজার।

হিপোক্যাম্পাস বিশেষভাবে কিছু রোগের জন্য সংবেদনশীল, যেমন: ইস্কিমিয়া (রক্তপ্রবাহ বা অক্সিজেনের ঘাটতি), অ্যালঝেইমারস ডিজিজ, ও মৃগী। এই রোগগুলো সাধারণত CA1 অঞ্চলকে টার্গেট করে, যার ফলে হিপোক্যাম্পাসের সার্কিট কার্যত ভেঙে পড়ে।

অটিজমের একটি সংযোগ
[সম্পাদনা]

অটিজমের সাথে লিম্বিক সিস্টেমের একটি সম্পর্কও লক্ষ্য করা গেছে। URL: http://www.autism.org/limbic.html

কেস স্টাডি
[সম্পাদনা]

সেন্ট্রাল পেইন সিনড্রোম

আমার বয়স ছিল ৪২ বছর, যখন আমার জীবন চিরতরে বদলে যায়। আমি স্ট্রোক করি। টেলিভিশনে চিকিৎসা বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখা আমার অভ্যাস ছিল, তাই ভেবেছিলাম প্যারালাইজড হওয়া বাম পাশের জন্য ফিজিক্যাল থেরাপি করব এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। কেউ কখনও আমাকে ব্যথা বা ব্যথার সম্ভাবনার কথা বলেনি। হাসপাতালে থাকাকালীন স্পর্শের প্রতি অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা ছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে যা ঘটবে তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।

আমার মস্তিষ্কের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা হলো থ্যালামাস। এটি হলো ব্যথার কেন্দ্র, এবং আমি এখন যে ব্যাধিতে ভুগছি তা হলো থ্যালামিক পেইন সিনড্রোম, যাকে সেন্ট্রাল পেইন সিনড্রোম-ও বলা হয়। এর মানে হলো দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন আমার মস্তিষ্ক ব্যথার সংকেত পাঠায় এবং এটি কখনই বন্ধ হয় না।

আমি এমন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছি যারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা বোঝেন এবং এটির চিকিৎসায় কার্যকর যেকোনো ওষুধ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। এই ওষুধগুলোর কোনোটিই ব্যথা সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে না — বরং এটি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে যাতে আমি কিছুটা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি।

স্বায়ত্ত স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System)

[সম্পাদনা]

স্বায়ত্ত স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System) হৃদয় (Heart), পাকস্থলী (Stomach), গ্রন্থি (Gland) ও অন্ত্র (Intestines)-এর মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি এমন সব শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যা আমাদের অজান্তেই ঘটে, যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস (Breathing), হজম প্রক্রিয়া (Digestion), ও হৃদস্পন্দনের নিয়ন্ত্রণ (Regulation of Heartbeat)। এই স্নায়ুতন্ত্র দুইটি ভাগে বিভক্ত: সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System) এবং অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ুতন্ত্র (Parasympathetic Nervous System)।

এই দুইটি স্নায়ু ব্যবস্থা সচেতন প্রচেষ্টা ছাড়াই কাজ করে, এবং তাদের স্নায়ু পথ (Nerve Pathway) প্রায় একরকম হলেও, তারা সাধারণত বিপরীতধর্মী প্রভাব সৃষ্টি করে। এই উভয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে স্বায়ত্ত স্নায়ুতন্ত্র শরীরের সাম্যাবস্থা (Homeostasis) বজায় রাখে। অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু হলো দশ নম্বর করোটিক স্নায়ু (Cranial Nerve X), অর্থাৎ ‘ভ্যাগাস’ স্নায়ু (Vagus Nerve)।

চিত্র ১: ডানদিকের সহানুভূতিশীল স্নায়ু শৃঙ্খল (Sympathetic Chain) ও তার সংযোগগুলো।

সহানুভূতিশীল ও অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থা (Sympathetic and Parasympathetic Systems)

[সম্পাদনা]

সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System) শরীরের "লড়াই বা পালাও" (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করে, অর্থাৎ হঠাৎ বিপদের সময় শরীরকে প্রস্তুত করে। এই প্রতিক্রিয়ায় সহানুভূতিশীল স্নায়ু প্রাথমিকভাবে অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine) নিঃসরণ করে, যা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal Medulla) থেকে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline/Epinephrine) ও কিছুটা পরিমাণে নরঅ্যাড্রেনালিন (Noradrenaline/Norepinephrine) নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোনসমূহ রক্তচাপ (Blood Pressure), হৃদস্পন্দন (Heart Rate) এবং অন্যান্য জরুরি প্রতিক্রিয়ায় শরীরকে সহায়তা করে।

অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থা (Parasympathetic Nervous System) সাধারণত বিশ্রাম ও হজমকালীন সময়ে সক্রিয় থাকে। এটি হৃদস্পন্দন ধীর করে (Slows Heart Rate), অন্ত্র ও গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়ায় (Increases Digestive and Glandular Activity) এবং পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলো শিথিল করে (Relaxes Sphincter Muscles)।

উদাহরণস্বরূপ, যদি সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র হৃদয়ের গতি বাড়িয়ে তোলে, তবে অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ুতন্ত্র পরে সেটিকে ধীর করে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি করে।

তথ্য সঞ্চালন (Information Transmission)

[সম্পাদনা]

সহানুভূতিশীল স্নায়ু ব্যবস্থার (Sympathetic Nervous System বা SNS) মাধ্যমে বার্তা দুইমুখী প্রবাহে (Bidirectional Flow) চলাচল করে। বাহ্যাগত (Efferent) বার্তাগুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে একযোগে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সহানুভূতিশীল স্নায়ু ব্যবস্থা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করতে পারে (Increase Heart Rate); শ্বাসনালীর প্রসারণ ঘটাতে পারে (Widen Bronchial Passages); বৃহদান্ত্রের গতিশীলতা কমাতে পারে (Decrease Motility); রক্তনালী সংকোচন করতে পারে (Constrict Blood Vessels); গ্রাসনালিতে পরিবাহন (Peristalsis) বাড়াতে পারে; চক্ষু প্রসারণ (Pupil Dilation), লোম খাড়া হওয়া (Piloerection বা Goosebumps), এবং ঘাম হওয়া (Perspiration) ঘটাতে পারে; এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে (Raise Blood Pressure)। অভ্যন্তরীণ (Afferent) বার্তাগুলি উত্তাপ, ঠান্ডা বা ব্যথার মতো অনুভূতি বহন করে।

প্রথম স্ন্যাপস (Synapse)—যেটি সহানুভূতিশীল শৃঙ্খলে (Sympathetic Chain) ঘটে—তা নিওকোটিনিক রিসেপ্টর (Nicotinic Receptors) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine বা ACh) দ্বারা সক্রিয় হয়। লক্ষ্য অঙ্গের স্ন্যাপসটি অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টর (Adrenergic Receptors) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা নরঅ্যাড্রেনালিন (Noradrenaline) অথবা অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) দ্বারা সক্রিয় হয়।

একটি ব্যতিক্রম হলো ঘর্মগ্রন্থি (Sweat Glands), যেগুলি সহানুভূতিশীল স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও সেখানে মুসকারিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টর (Muscarinic Acetylcholine Receptors) থাকে, যা সাধারণত অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থার (Parasympathetic Nervous System) বৈশিষ্ট্য। আরেকটি ব্যতিক্রম হলো কিছু গভীর পেশির রক্তনালীগুলো (Deep Muscle Blood Vessels), যেগুলিতে অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টর থাকে এবং সহানুভূতিশীল টোন বৃদ্ধি পেলে সংকোচনের পরিবর্তে সেগুলো সম্প্রসারিত (Dilate) হয়।

সহানুভূতিশীল স্নায়ু কোষের দেহ (Cell Body) মেরুদণ্ডের থোরাকোলম্বার অঞ্চলে (Thoracolumbar Region: T1-L3) অবস্থান করে, করোটিক (Cranial) ও স্যাকারাল (Sacral) অংশ ব্যতীত। প্রিগ্যাংলিওনিক নিউরন (Preganglionic Neuron) মেরুদণ্ড থেকে বেরিয়ে সহানুভূতিশীল শৃঙ্খলে (Sympathetic Trunk) পোস্টগ্যাংলিওনিক নিউরনের (Postganglionic Neuron) সাথে স্ন্যাপস স্থাপন করে।

অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থা (Parasympathetic Nervous System) হলো স্বায়ত্ত স্নায়ু ব্যবস্থার (Autonomic Nervous System) তিনটি প্রধান বিভাগের একটি। এটি প্রায়ই “বিশ্রাম ও হজম” ব্যবস্থা (Rest and Digest System) নামে পরিচিত। এটি হৃদস্পন্দন কমিয়ে (Slow Heart Rate), অন্ত্র ও গ্রন্থির কার্যক্রম বাড়িয়ে (Increase Intestinal and Gland Activity), এবং পরিপাকতন্ত্রের স্পিঙ্কটার পেশিকে শিথিল করে (Relax Sphincter Muscles) শক্তি সংরক্ষণ করে।

সহানুভূতিশীল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক (Relationship to Sympathetic)

[সম্পাদনা]

যদিও এটি কিছুটা সরলীকরণ, তবুও সাধারণভাবে বলা হয় যে অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থা সহানুভূতিশীল স্নায়ু ব্যবস্থার বিপরীতভাবে কাজ করে। যদিও অনেক টিস্যুতে (Tissues) যেগুলো উভয় স্নায়ু দ্বারা উদ্দীপিত হয়, সেখানে কার্যপ্রভাব সহযোগিতাপূর্ণ (Synergistic) হয়ে থাকে।

রিসেপ্টর (Receptors)

[সম্পাদনা]

অনুকম্পাসম্পন্ন স্নায়ু ব্যবস্থা কেবলমাত্র অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine বা ACh) নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে ব্যবহার করে। ACh দুটি ধরনের রিসেপ্টরে কাজ করে: মুসকারিনিক (Muscarinic) এবং নিওকোটিনিক (Nicotinic) কোলিনার্জিক রিসেপ্টর (Cholinergic Receptors)। অধিকাংশ সংকেত দুই ধাপে প্রেরিত হয়: প্রথমে, প্রিগ্যাংলিওনিক স্নায়ু (Preganglionic Nerve) গ্যাংলিয়নে ACh নিঃসরণ করে, যা পোস্টগ্যাংলিওনিক স্নায়ুর নিওকোটিনিক রিসেপ্টর সক্রিয় করে। তারপর পোস্টগ্যাংলিওনিক স্নায়ু লক্ষ্য অঙ্গে ACh নিঃসরণ করে, যা মুসকারিনিক রিসেপ্টর সক্রিয় করে।

তিনটি প্রধান মুসকারিনিক রিসেপ্টর রয়েছে, যেগুলো ভালোভাবে চিহ্নিত হয়েছে:

  • M1 রিসেপ্টর (M1 Receptors): স্নায়ুতন্ত্রে (Neural System) অবস্থিত।
  • M2 রিসেপ্টর (M2 Receptors): হৃদযন্ত্রে (Heart) অবস্থিত এবং সহানুভূতিশীল স্নায়ু কার্যকলাপের পরে হৃদয়কে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এটি হৃদস্পন্দন কমায়, অ্যাট্রিয়াল পেশির সংকোচন ক্ষমতা হ্রাস করে এবং এভি নোডের (AV Node) পরিবাহী গতি কমায়। তবে, এটি ভেন্ট্রিকুলার পেশির সংকোচনে প্রভাব ফেলে না।
  • M3 রিসেপ্টর (M3 Receptors): শরীরের বহু স্থানে অবস্থিত—যেমন রক্তনালীর মসৃণ পেশি (Smooth Muscle of Blood Vessels), ফুসফুস (Lungs), অন্ত্র (Gastrointestinal Tract বা GIT), এবং বিভিন্ন গ্রন্থি (Glands)। এটি রক্তনালী সংকোচন (Vasoconstriction), শ্বাসনালী সংকোচন (Bronchoconstriction), অন্ত্রের চলাচল বৃদ্ধি (Increased Motility), স্পিঙ্কটারের সম্প্রসারণ এবং লালার গ্রন্থিসহ অন্যান্য গ্রন্থি থেকে নিঃসরণ (Secretion) উদ্দীপিত করে।

সংগঠন (Organization)

[সম্পাদনা]

সহানুভূতিশীল স্নায়ুগুলি (Sympathetic Nerves) মেরুদণ্ডের (Spinal Cord) মধ্যভাগের পার্শ্বীয় শৃঙ্খল (Lateral Horn) থেকে উৎপন্ন হয়, যা প্রথম থোরাসিক (Thoracic) কশেরুকা থেকে শুরু হয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় লম্বার (Lumbar) কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই কারণে একে ‘থোরাকোলম্বার নির্গমন’ (Thoracolumbar Outflow) বলা হয়।

এই স্নায়ুগুলি মেরুদণ্ড ছেড়ে বেরিয়ে এসে ‘সাদা র্যামি’ (White Rami Communicantes) নামক শাখায় প্রবেশ করে, যা মেরুদণ্ডের উভয় পাশে অবস্থিত স্নায়ু গুচ্ছে (Ganglia) সংযুক্ত হয়। এই গ্যাংলিয়াগুলিকে সহানুভূতিশীল শৃঙ্খল (Sympathetic Trunk) বা পারাভার্টিব্রাল গ্যাংলিয়া (Paravertebral Ganglia) বলা হয়।

এখানেই প্রথম স্নায়ু কোষ (Preganglionic Neuron) দ্বিতীয় কোষের (Postganglionic Neuron) সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং সেই কোষের স্নায়ুতন্তু নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌঁছে যায়।

এই গ্যাংলিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ঊর্ধ্ব গ্রীবাস্থ গ্যাংলিয়া (Superior Cervical Ganglion) — যা মাথার অংশে স্নায়ু সরবরাহ করে
  • সিলিয়াক গ্যাংলিয়া (Celiac Ganglion) ও মেসেন্টেরিক গ্যাংলিয়া (Mesenteric Ganglia) — যা পরিপাকতন্ত্রে স্নায়ু সরবরাহ করে

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বায়ত্ত স্নায়ুতন্ত্র শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

স্নায়ু কলা (Nervous Tissue)

[সম্পাদনা]

স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) মাংসপেশির কার্যকলাপ সমন্বয় করে, অঙ্গগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধ করে এবং বিভিন্ন কর্ম শুরু করে। স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউরন (Neurons) ও স্নায়ু (Nerves), যেগুলো এই সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমাদের স্নায়ু কলা প্রধানত দুটি ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত: নিউরন (Neurons) ও নিউরোগ্লিয়া কোষ (Neuroglia Cells)। নিউরন কোষ স্নায়ু উদ্দীপনা বা সংকেত পরিবাহনের দায়িত্ব পালন করে, আর নিউরোগ্লিয়া কোষ নিউরনদের সমর্থন ও পুষ্টি জোগান দেয়।

নিউরনের ধরণ (Types of Neurons)

[সম্পাদনা]

মানবদেহে প্রধানত তিন ধরনের নিউরন দেখা যায়: সংবেদনশীল নিউরন (Sensory Neurons), আন্তঃনিউরন (Interneurons), এবং গতি নিয়ন্ত্রক নিউরন (Motor Neurons)। নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের একটি প্রধান কোষ শ্রেণি। অনেক সময় এগুলোকে "স্নায়ু কোষ" (Nerve Cells) বলা হলেও, এই শব্দটি পুরোপুরি সঠিক নয় কারণ সব নিউরন স্নায়ু তৈরি করে না।

কশেরুকাবিশিষ্ট প্রাণীদের (Vertebrates) নিউরন মস্তিষ্ক (Brain), মেরুদণ্ডের স্নায়ু (Spinal Cord), এবং পারিপার্শ্বিক স্নায়ুতন্ত্রের (Peripheral Nervous System) স্নায়ু ও গ্যাংলিয়ায় (Ganglia) পাওয়া যায়। নিউরনের প্রধান কাজ হলো তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সঞ্চালন (Processing and Transmission of Information)।

নিউরনের ঝিল্লি বিদ্যুৎ-উত্তেজনযোগ্য (Excitable Membrane), যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকেত সৃষ্টি ও প্রচার করা সম্ভব হয়। সংবেদনশীল নিউরন (Sensory Neuron) ইন্দ্রিয় গ্রহণকারী (Sensory Receptor) থেকে স্নায়ু সংকেত গ্রহণ করে তা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (Central Nervous System) প্রেরণ করে। ইন্দ্রিয় গ্রহণকারী এমন এক গঠন যা পরিবেশে যে কোনো পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।

নিউরনের গঠন (Structure of a Neuron)

[সম্পাদনা]

একটি নিউরনের তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে: অ্যাক্সন (Axon), সেল বডি বা কোষদেহ (Cell Body), এবং ডেনড্রাইট (Dendrites)। অ্যাক্সন এমন একটি অংশ যা স্নায়ু সংকেত পরিবহন করে এবং এটি অনেক লম্বা হতে পারে। যখন অ্যাক্সন স্নায়ুতে উপস্থিত থাকে, তখন তাকে স্নায়ু তন্তু (Nerve Fiber) বলা হয়।

কোষদেহে নিউক্লিয়াস (Nucleus) ও অন্যান্য অঙ্গাণু (Organelles) থাকে। ডেনড্রাইট হলো কোষদেহ থেকে বেরিয়ে আসা ছোট শাখার মতো অংশ, যা ইন্দ্রিয় গ্রহণকারী এবং অন্যান্য নিউরন থেকে সংকেত গ্রহণ করে।

মাইলিন আবরণ (Myelin Sheath)

[সম্পাদনা]

শওয়ান কোষ (Schwann Cells) একটি লিপিড জাতীয় পদার্থ ধারণ করে, যাকে মাইলিন (Myelin) বলা হয়। যখন শওয়ান কোষ অ্যাক্সনের চারপাশে মোড়ানো হয়, তখন একটি মাইলিন আবরণ তৈরি হয়। এই আবরণে কিছু ফাঁকা স্থান থাকে যেগুলোতে মাইলিন থাকে না—এই অংশগুলোকে র‌্যানভিয়ারের গাঁট (Nodes of Ranvier) বলা হয়।

মাইলিন আবরণ খুব ভালো ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। লম্বা অ্যাক্সন সাধারণত মাইলিন আবরণযুক্ত হয়, তবে ছোট অ্যাক্সন সাধারণত এই আবরণবিহীন হয়। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple Sclerosis) একটি অটোইমিউন (Autoimmune) রোগ, যেখানে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Central Nervous System) মাইলিন আবরণকে আক্রমণ করে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple Sclerosis বা MS)। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী (Chronic), ক্ষয়কারী (Degenerative), এবং অগ্রসরমান (Progressive) রোগ...

MS-এর বিভিন্ন ধরণ রয়েছে
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস রোগটিকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়...

হতাশার চিকিৎসা (Treating Depression)

[সম্পাদনা]

...কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন (Clinical Depression) সাধারণ মন খারাপের চেয়ে অনেক বেশি গভীর।

...এই কারণে হতাশা নিরাময়ে ওষুধ নির্ভর কৌশলগুলো মস্তিষ্কে এই অ্যামাইনগুলোর ঘনত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করে।

একটি শ্রেণির ওষুধ হলো মোনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটরস (Monoamine Oxidase Inhibitors বা MAOIs)...

আরও আধুনিক একটি ওষুধ শ্রেণি হলো সিলেকটিভ সেরোটোনিন রিইউপটেক ইনহিবিটরস (Selective Serotonin Reuptake Inhibitors বা SSRIs)...

জনপ্রিয় কিছু SSRI ওষুধের নাম হলো ProzacPaxil

ড্রাগস

[সম্পাদনা]

একটি ড্রাগ সাধারণত এমন কোনো পদার্থ যা আপনার শরীরের কার্যক্রম পরিবর্তন করে। কিছু ড্রাগের চিকিৎসাগত প্রভাব থাকে, আবার কিছু ড্রাগ বিনোদনমূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। ড্রাগগুলির প্রভাব ভিন্ন হতে পারে, যেমন—ব্যথা উপশম করা, রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা, অথবা একজন বিষণ্ণ ব্যক্তির মেজাজ ভালো করা।

ভিন্ন ভিন্ন ড্রাগের প্রভাব বিভিন্নভাবে কাজ করে, যাকে ক্রিয়া পদ্ধতি (mechanism of action) বলা হয়। এখানে আলোচনা করা ড্রাগগুলি মূলত স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে, বিভিন্ন নিউরনের রিসেপ্টর-এ প্রভাব ফেলে। কিছু ড্রাগ এনজাইমগুলিকে প্রভাবিত করে, কিন্তু সেগুলি স্নায়ুতন্ত্রের সরাসরি অংশ নয়, তাই তা এই আলোচনার মধ্যে থাকবে না।

আপনি হয়তো স্টিমুল্যান্ট (উত্তেজক) এবং ডিপ্রেসেন্ট (নিরোধক) শব্দগুলি শুনেছেন। এটি সিএনএস-এ কাজ করা ড্রাগগুলির একটি বিস্তৃত শ্রেণীবিভাগ। ডিপ্রেসেন্ট স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম ধীর করে দেয়, এবং স্টিমুল্যান্ট স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম দ্রুত করে।

সাধারণত ব্যবহৃত বেশিরভাগ ডিপ্রেসেন্ট (যেমন—অ্যালকোহল, বেনজোডায়াজেপিনস, বারবিটিউরেটস এবং GHB) GABA রিসেপ্টরগুলির উপর কাজ করে, যদিও অন্য কিছু ড্রাগও আছে। উদাহরণস্বরূপ, মিউ অপিওয়েড রিসেপ্টরগুলির উপর কাজ করা অপিওয়েডগুলি, যা ইনহিবিটরি প্রভাব সৃষ্টি করে এবং কিছু অ্যান্টি সাইকোটিক সেরোটোনিন ব্লক করে। এর কাজের একটি উদাহরণ দেখতে অ্যালকোহলের বিভাগটি দেখুন।

স্টিমুল্যান্ট সাধারণত অ্যাড্রেনালিন, ডোপামিন অথবা সেরোটোনিনের সাথে কাজ করে (বা তাদের একত্রে)। অনেক স্টিমুল্যান্ট এমনভাবে কাজ করে যে এটি একটির অনুকরণ করে, অথবা তাদের সাইনাপ্স থেকে চলে যেতে বাধা দেয়, যার ফলে আরো অ্যাকশন পোটেনশিয়াল তৈরি হয়। মেথঅ্যামফেটামিন, যা নিচে আলোচনা করা হয়েছে, একটি সাধারণ স্টিমুল্যান্ট ড্রাগ।

ড্রাগ অপব্যবহার

[সম্পাদনা]
frame

বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরে স্বীকার করেছেন যে ড্রাগ আসক্তির একটি জীববৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, যদিও এর সঠিক মেকানিজম এখনো চিহ্নিত হচ্ছে। ধারণা করা হয় যে আসক্তিকর পদার্থগুলি মস্তিষ্কের পুরস্কারের কার্যক্রম পরিবর্তন করে ব্যবহারকারীকে নির্ভরশীল করে তোলে, যা মেসোলিমবিক ডোপামাইন সিস্টেমে অবস্থিত—মস্তিষ্কের সেই অংশ যা কিছু কিছু আচরণ যেমন খাওয়া, যৌন সম্পর্ক, ব্যায়াম এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া শক্তিশালী করে। আসক্তিকর পদার্থগুলি বিভিন্ন উপায়ে এবং বিভিন্ন মাত্রায় এই সিস্টেমের সাইনাপ্সগুলিকে অতিরিক্ত ডোপামিন দিয়ে প্লাবিত করে, যার ফলে একটি সংক্ষিপ্ত উত্সাহ বা "হাই" অনুভূতি তৈরি হয়। কিছু মানুষের মতে, অপব্যবহার শুরু হয় যখন ব্যবহারকারী দায়িত্ব এড়িয়ে ড্রাগ কিনতে বা সেগুলি ব্যবহারের জন্য সময় বের করে। কিছু বলেন যে এটি তখন শুরু হয় যখন একটি ব্যক্তি "অতিরিক্ত" পরিমাণে ব্যবহার শুরু করে, অন্যরা এটি বৈধতার স্তরে বলে মনে করেন, এবং আরও কিছু বলেন যে এটি দীর্ঘকালীন ব্যবহার, যা ব্যবহারকারীর মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। কিছু লোক মনে করেন যে কোন মাদকপানই একটি অযৌক্তিক কার্যকলাপ। এখানে কিছু ড্রাগের তালিকা দেওয়া হল যা প্রায়ই অপব্যবহার করা হয়: অ্যাসিড/এলএসডি, অ্যালকোহল, বিভিন্ন ট্রিপটামিন এবং ফেনেথাইলামিন, কোকেন, এক্সট্যাসি/এমডিএমএ, হেরোইন, ইনহেলেন্টস, মারিজুয়ানা, মেথঅ্যামফেটামিন, পিসিপি/ফেনসাইক্লিডিন, প্রেসক্রিপশন মেডিকেশন, সিগারেট/নিকোটিন এবং স্টেরয়েডস।

অ্যালকোহল

[সম্পাদনা]

অ্যালকোহল হলো হাজার হাজার বছর ধরে চলমান বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক ব্যবহৃত ড্রাগ। এটি প্রায় সব জায়গায় আইনসম্মত, কিছু বিধিনিষেধ এবং ব্যতিক্রমসহ। এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা যে কোনভাবে অ্যালকোহল অন্য কোনো বিনোদনমূলক ড্রাগের চেয়ে 'ভাল' বা 'নিরাপদ'। এটি একেবারেই সঠিক নয়। অ্যালকোহল একটি ডিপ্রেসেন্ট এবং এর ফলে কোমা, শ্বাসপ্রশ্বাসের অবসান/অবরোধ এবং সম্ভবত মৃত্যু ঘটাতে পারে। কিছু অন্যান্য (বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় অবৈধ) বিনোদনমূলক মূল্যমানের ড্রাগের (যেমন—মারিজুয়ানা, সেরোটোনিন ভিত্তিক হলুসিনোজেনস যেমন এলএসডি বা সাইলোসাইবিন) তুলনায় অ্যালকোহল অনেক বেশি বিষাক্ত এবং বেশি মাত্রায় ওভারডোজের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এর মানে এই নয় যে মাঝারি পরিমাণে মদ্যপান আপনাকে ক্ষতি করতে পারে না।

পান করার অল্প সময়ের প্রভাবগুলি (প্রায় যেভাবে সেগুলি দেখা যায় এবং ডোজ বাড়ানোর সাথে সাথে) হল: অবদমন কমানো এবং, অতএব, বিচার, মুখের লালচে হওয়া, নিদ্রা, স্মৃতির সমস্যা, গুরুতর মোটর অক্ষমতা, দৃষ্টির ঝাপসা হওয়া, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, বমি ভাব, সম্ভবত অজ্ঞান হওয়া, কোমা এবং মৃত্যু (শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ বা সম্ভবত বমি শ্বাসে নেওয়া)।

অ্যালকোহল প্রধানত মস্তিষ্কে GABA রিসেপ্টরগুলির মাধ্যমে এই প্রভাবগুলি সৃষ্টি করে। যখন GABA (অথবা এই ক্ষেত্রে অ্যালকোহল) তার রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়, এটি Cl- আয়ন গেট করে অথবা K+ আউট করতে দেয়। এটিকে হাইপারপোলারাইজেশন বা ইনহিবিটরি পোস্টসিন্যাপটিক পটেনশিয়াল (IPSP) বলা হয়। এটি নিউরনের ডিপোলারাইজ হতে কঠিন করে তোলে এবং অতএব এটি অ্যাকশন পোটেনশিয়াল ফায়ার করতে কঠিন করে তোলে, স্নায়ু কার্যক্রম ধীর করে দেয়। উচ্চতর ডোজে অ্যালকোহল NMDA ব্লক করতে শুরু করে। NMDA স্মৃতির সাথে জড়িত (দীর্ঘমেয়াদী পটেনশিয়েশন বিভাগটি দেখুন) তাই এটি মনে করা হয় যে এটি স্মৃতির ব্ল্যাকআউট সৃষ্টি করে।

মেথঅ্যামফেটামিন

[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রে, চিকিৎসা উদ্দেশ্যে মেথঅ্যামফেটামিন সাধারণত Desoxyn® ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট হিসেবে বিতরণ করা হয়, সাধারণত অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) এবং নারকোলেপসি বা স্থূলতার জন্য।

অবৈধ মেথঅ্যামফেটামিন বিভিন্ন আকারে আসে। সবচেয়ে সাধারণ এটি একটি রঙহীন স্ফটিকীয় কঠিন আকারে পাওয়া যায়, যা সড়কে বিভিন্ন নামের নিচে বিক্রি হয়, যেমন: ক্রিস্টাল মেথ বা ক্রিস্টাল। মেথঅ্যামফেটামিনকে কখনও কখনও শার্ডস, রক, পনি, ক্রিসি, ক্রিস্টাল, গ্লাস, আইস, জিব, ক্রিটার, টিনা, টুইক বা ক্র্যাঙ্ক বলা হয়। "ডোপ" শব্দটি মেথঅ্যামফেটামিন বা অন্যান্য ড্রাগ, বিশেষ করে হেরোইন বা মারিজুয়ানা বোঝাতে ব্যবহৃত হতে পারে। "স্পিড" শব্দটি কোনও স্টিমুল্যান্টকে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়, যেমন অন্য অ্যামফেটামিন (যেমন অ্যাডারাল), কোকেন এবং মিথাইলফেনিডেট (রিটালিন)।

মেথঅ্যামফেটামিন ইনজেক্ট করা যেতে পারে (উপচলন, অন্তঃমাংসিক বা শিরায়), ধূমপান, স্নোর্ট করা, গিলতে, অথবা মলদ্বার বা সুব্লিঙ্গুয়ালি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই দুইটি শেষ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত। ব্যবহারের পর, মেথঅ্যামফেটামিনের প্রভাব প্রকাশ হতে কয়েক সেকেন্ড (ধূমপান বা IV ইনজেকশন) থেকে ৩০ মিনিট (মৌখিক) সময় নেয়, প্রভাব স্থায়ী হতে পারে প্রায় আট ঘণ্টা, প্রশাসনের পথের উপর নির্ভর করে। প্রভাব/পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলির মধ্যে রয়েছে—উত্তেজনা, অ্যানোরেক্সিয়া, শক্তির বৃদ্ধি, দাঁত চেপে ধরা/মাড়ি ঘষা (ব্রুক্সিজম), ওজন হ্রাস, নিদ্রাহীনতা, দাঁতের ক্ষয় এবং সাইকোসিস সহ আরও অনেক কিছু।

মেথঅ্যামফেটামিন মস্তিষ্কের কিছু অংশে নিউরোটক্সিক এবং এর বেশিরভাগ প্রভাব ডোপামিন, নরএপিনেফ্রিন এবং সেরোটোনিনের উপর নির্ভরশীল, যা এটি মুক্তি করে। এটি এই নিউরোট্রান্সমিটারগুলির রিইউপটেকও ব্লক করে, ফলে তারা সাইনাপটিক ক্লেফটে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে থাকে।

মারিজুয়ানা

[সম্পাদনা]
Cannabis sativa.

মারিজুয়ানা একটি অসংখ্য রাসায়নিক ধারণ করে, যেগুলিকে ক্যানাবিনয়েডস বলা হয়, যা ভোগ করলে সাইকোঅ্যাকটিভ এবং চিকিৎসাগত প্রভাব সৃষ্টি করে, যার প্রধানটি হল টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (THC)। THC মস্তিষ্কে CB1 রিসেপ্টরগুলিতে এন্ডোজেনাস নিউরোট্রান্সমিটার আনন্দামাইড (যা চকলেটেও পাওয়া যায়) অনুকরণ করে কাজ করে। অন্যান্য ক্যানাবিনয়েডসের মধ্যে রয়েছে—ক্যানাবিডিওল (CBD), ক্যানাবিনোল (CBN) এবং টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিভ্যারিন (THCV)। যদিও THC গাছের সমস্ত অংশে পাওয়া যায়, তবে মহিলা গাছের ফুলে এর সর্বোচ্চ ঘনত্ব থাকে, সাধারণত প্রায় আট শতাংশ। ফুলগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে, অথবা সেগুলি পরিশোধিত করা যেতে পারে। ট্রাইকোমগুলি ফুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি THC ধারণ করে এবং কিছু ভিন্ন পদ্ধতিতে তা সরানো যেতে পারে। এই সরানো ট্রাইকোমগুলিকে কিফ বলা হয়। কিফকে পরবর্তীতে হ্যাশিশে রূপান্তর করা যেতে পারে। এই সমস্ত পণ্যগুলি সবচেয়ে সাধারণভাবে ধূমপান করে ভোগ করা হয়, তবে এটি মৌখিকভাবেও খাওয়া যেতে পারে।

কানাবিসের একটি দীর্ঘ, খুব ভাল নিরাপত্তা রেকর্ড রয়েছে। এখন পর্যন্ত রেকর্ডে কেউ মারিজুয়ানা খেয়ে মারা যায়নি, অন্তত সরাসরি। ধারণা করা হয় যে একটি 68 কিলোগ্রাম মানবকে 1-1.8 কিলোগ্রাম গড় শক্তির মারিজুয়ানা মৌখিকভাবে খাওয়ালে ৫০ শতাংশ মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। তবুও, মারিজুয়ানা সাইকোঅ্যাকটিভ পণ্যগুলি ২০ শতকের প্রথম দিকে পৃথিবীর অনেক স্থানে অবৈধ হয়ে গেছে। এরপর থেকে, কিছু দেশ মারিজুয়ানা নিষিদ্ধকরণের কার্যকরী প্রয়োগ বাড়িয়েছে, আবার কিছু দেশ এর প্রয়োগের অগ্রাধিকারের মাত্রা কমিয়েছে, যার ফলে অনেক স্থানে এটি আইনগতভাবে বৈধ হয়েছে। যদিও কানাবিস বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ দেশেই অবৈধ।

কানাবিস ভোগের তাত্ক্ষণিক প্রভাবের প্রকৃতি এবং তীব্রতা ডোজ, উৎস গাছের প্রজাতি বা হাইব্রিডেশন, ভোগের পদ্ধতি, ব্যবহারকারীর মানসিক এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য (যেমন সহনশীলতা), এবং ভোগের পরিবেশ অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে। এটিকে কখনও কখনও সেট এবং সেটিং বলা হয়। একে অপরের মত একই কানাবিস ধূমপান করা, ভিন্ন মনের অবস্থা (সেট) অথবা ভিন্ন অবস্থানে (সেটিং) তা ব্যবহারকারীর উপর প্রভাব বা প্রভাবের উপলব্ধি পরিবর্তন করতে পারে। কানাবিস ভোগের প্রভাবগুলি সাধারণত দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়—মানসিক এবং শারীরিক। তথ্যে অভিযোগ থাকলেও, সাধারণভাবে বলা হয় যে Cannabis sativa প্রজাতি মানসিক বা ধারণাগত প্রভাব বেশি তৈরি করে, যখন Cannabis indica শারীরিক প্রভাব বেশি তৈরি করে।

সमीক্ষার প্রশ্নসমূহ

[সম্পাদনা]
এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া যাবে এখানে

1. একটি নিউরন এবং পরবর্তী নিউরন বা একটি নিউরন এবং একটি কার্যকরী অংশের মধ্যে যে সংযোগ থাকে, সেটি কী নামে পরিচিত?

A ) সাইনাপ্স
B ) ডেনড্রাইট
C ) নিউরোট্রান্সমিটার
D ) ভেন্ট্রিকল
E ) উপরের কোনটি নয়

2. একটি দ্রুত উত্তেজক সাইনাপ্সের ক্রম হলো:

A ) (১) নিউরোট্রান্সমিটার মুক্তি পায় (২) সাইনাপটিক ক্লেফটের মধ্য দিয়ে একটি রিসেপ্টর প্রোটিনে বিস্তার ঘটে (৩) ট্রান্সমিটারটির সাথে সংযুক্ত হলে আয়ন চ্যানেলের মধ্যে ছিদ্র খোলার মাধ্যমে ধনাত্মক আয়ন প্রবাহিত হয়।
B ) (১) নিউরোট্রান্সমিটার মুক্তি পায় (২) সাইনাপটিক ক্লেফটের মধ্য দিয়ে একটি রিসেপ্টর প্রোটিনে বিস্তার ঘটে (৩) ট্রান্সমিটারটির সাথে সংযুক্ত হলে আয়ন চ্যানেলের মধ্যে ছিদ্র খোলার মাধ্যমে ঋণাত্মক আয়ন প্রবাহিত হয়।
C ) (১) নিউরোট্রান্সমিটার মুক্তি পায় (২) সাইনাপটিক ক্লেফটের মধ্য দিয়ে একটি রিসেপ্টর অ্যামিনো অ্যাসিডে বিস্তার ঘটে (৩) ট্রান্সমিটারটির সাথে সংযুক্ত হলে আয়ন চ্যানেলের মধ্যে ছিদ্র খোলার মাধ্যমে ধনাত্মক আয়ন প্রবাহিত হয়।
D ) (১) সাইনাপটিক ক্লেফটের মধ্য দিয়ে একটি রিসেপ্টর প্রোটিনে বিস্তার ঘটে (২) নিউরোট্রান্সমিটার মুক্তি পায় (৩) ট্রান্সমিটারটির সাথে সংযুক্ত হলে আয়ন চ্যানেলের মধ্যে ছিদ্র খোলার মাধ্যমে ধনাত্মক আয়ন প্রবাহিত হয়।
E ) উপরের কোনটি নয়

3. রেস্টিং পটেনশিয়াল হল:

A ) অতিরিক্ত ধনাত্মক আয়ন প্লাজমা ঝিল্লির ভিতরে জমা হয়
B ) অতিরিক্ত ঋণাত্মক আয়ন প্লাজমা ঝিল্লির ভিতরে জমা হয়
C ) অতিরিক্ত ধনাত্মক আয়ন প্লাজমা ঝিল্লির বাইরে জমা হয়
D ) বাকি দুটি
E ) দুটি উভয়

4. সেন্সরি নিউরনের বৈশিষ্ট্য কী?

A ) একটি ছোট ডেনড্রাইট এবং একটি দীর্ঘ অ্যাক্সন
B ) একটি ছোট ডেনড্রাইট এবং একটি ছোট অ্যাক্সন
C ) একটি দীর্ঘ ডেনড্রাইট এবং একটি ছোট অ্যাক্সন
D ) একটি দীর্ঘ ডেনড্রাইট এবং একটি দীর্ঘ অ্যাক্সন
E ) তাদের অ্যাক্সন এবং ডেনড্রাইট দীর্ঘ বা ছোট হতে পারে

5. ________ অ্যাসিটাইলকোলাইন রিসেপ্টর সাইট ব্লক করে মাংসপেশীর শিথিলতা সৃষ্টি করে।

A ) নোভোকেইন
B ) কুরারে
C ) নিকোটিন
D ) স্নায়ু গ্যাস

6. সাইনাপ্সের মধ্য দিয়ে সিগন্যাল স্থানান্তর নির্ভরশীল _______ এর মুক্তির উপর?

A ) নিউরোট্রান্সমিটার
B ) সাইনাপটিক ভেসিকল
C ) নিউরোমাসকুলার টিস্যু
D ) রিসেপ্টর প্রোটিন

7. মোটর নিউরন সিগন্যাল গ্রহণ করে:

A ) মাংসপেশীর তন্তু থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে
B ) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে
C ) যেগুলি শ্রেণীবদ্ধ করা হয়
D ) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে মাংসপেশী তন্তুতে

8. মেডুলা অবলংগাটা নিচের মধ্যে কোন বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক?

A ) শ্বাসপ্রশ্বাস
B ) হৃদস্পন্দন
C ) হাঁচি
D ) বমি
E ) উপরের সব

9. স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান উপাদান কী?

A) সাইনাপ্স এবং মেরুদণ্ডের রজ্জু
B) নিউরন এবং সাইনাপ্স
C) মস্তিষ্ক এবং নিউরন
D) মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের রজ্জু

10. LTP কীভাবে দুটি নিউরনের মধ্যে যোগাযোগকে পোস্টসিন্যাপটিক প্রান্তে উন্নত করে তা ব্যাখ্যা করুন।

11. LTP কীভাবে দুটি নিউরনের মধ্যে যোগাযোগকে প্রেসিন্যাপটিক প্রান্তে উন্নত করে তা ব্যাখ্যা করুন।