বিষয়বস্তুতে চলুন

মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান/তরঙ্গ

উইকিবই থেকে

তরঙ্গ হলো এক প্রকার শক্তি। এর মধ্যে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং শব্দ তরঙ্গ অন্তর্ভুক্ত। তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ হলো সেই দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ এবং মাইক্রোতরঙ্গ যা আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন। শব্দ তরঙ্গ হলো ঠিক তাই - কোনো স্থানে শব্দের স্থানান্তরের পদ্ধতি।

তড়িৎ চৌম্বকীয় বর্ণালী হলো তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের সম্ভাব্য সকল কম্পাঙ্কের পরিসীমা। এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত আলো, মাইক্রোতরঙ্গ, এক্স-রে এবং গামা রশ্মি। একটি তরঙ্গকে কম্পাঙ্কের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। কম্পাঙ্ক হলো একটি তরঙ্গের মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন স্তরের কম্পন। উদাহরণস্বরূপ, গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক অবলোহিত রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি, কারণ গামা রশ্মিতে তরঙ্গের চূড়াগুলোর মধ্যে দূরত্ব অবলোহিত রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি।

শব্দ তরঙ্গ হলো কঠিন, তরল বা গ্যাসের মতো পদার্থের পরমাণু এবং অণুর মাধ্যমে চাপের স্পন্দন। তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের মতোই এটি কম্পাঙ্কের একটি সমষ্টি নিয়ে গঠিত, যা সাধারণত হার্জে পরিমাপ করা হয়। হার্জের মান যত বেশি, তীক্ষ্ণতা তত বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে‑সাথে কানের সূক্ষ্ম কোষ ক্ষয় হয়ে উচ্চ কম্পাঙ্কের (খুব উঁচু স্বর) ধ্বনি শোনা কঠিন হয়ে যায়; আবার অতিনিম্ন কম্পাঙ্ক (অতি‑নিচু স্বর) অনুভূত হলেও প্রকৃত ‘শোনা’ সব সময় সম্ভব হয় না। তাই বয়স্করা কিংবা শ্রুতিদুর্বল ব্যক্তিরা খুব উচ্চ বা খুব নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দ প্রায়শই শুনতে পারেন না।