মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/স্থান/ম্যালফয় ম্যানর
| মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার - স্থান | |
| ম্যালফয় ম্যানর | |
|---|---|
| অবস্থান | উইল্টশায়ার |
| বাসিন্দা | লুসিয়াস ম্যালফয়, নার্সিসা ম্যালফয়, ড্রাকো ম্যালফয় |
| উপস্থিতি | হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজ |
সাধারণ পরিচিতি
[সম্পাদনা]ম্যালফয় ম্যানর হলো লুসিয়াস ম্যালফয়, তার স্ত্রী নার্সিসা এবং পুত্র ড্রাকোর উইল্টশায়ারের বাড়ি।
বিস্তারিত বর্ণনা
[সম্পাদনা]আগের বইগুলোতে খুব একটা নামডাক না থাকলেও, ম্যালফয় ম্যানর হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজ বইতে বেশ বড়সড় একটা ভূমিকা পালন করে যখন ভলডেমর্ট এটিকে নিজের আস্তানা বা সদর দপ্তর বানিয়ে বসে। এর আগে, আর্থার উইজলি এবং জাদু মন্ত্রণালয়ের অন্য চেলারা কালো জাদুর জিনিসপত্র খুঁজতে এই ম্যানরে জোর তল্লাশি চালিয়েছিলেন, তবে তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।
ম্যালফয় ম্যানরকে আমরা প্রথম চোখের সামনে দেখি হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজ বইয়ের একেবারে শুরুর দিকে। আমরা জানতে পারি যে ম্যালফয়রা ধবধবে সাদা বা অ্যালবিনো ময়ূর পুষতেন; যার একটি হুট করে সামনে চলে আসায় সেখানে পৌঁছানো ডেথ ইটাররা চমকে উঠেছিল। আমরা তখনই দেখতে পাই যে ভলডেমর্ট তার ডেথ ইটারদের নিয়ে সেখানে গোপন বৈঠক করছেন, যাদের মধ্যে সেভেরাস স্নেপও হাজির ছিল। আমরা বুঝতে পারি যে ম্যালফয় পরিবার ভলডেমর্টের দলের কাছে পুরোপুরি সম্মান হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে; কারণ স্নেপকে খোদ ভলডেমর্টের পাশে বসার খাতির করা হলেও, ম্যালফয়দের দেখা যায় তারা টেবিলের এক্কেবারে শেষ মাথায় মুখ চুন করে বসে আছে। ভলডেমর্ট, হ্যারি পটারকে কুপোকাত করার জন্য নিজের জাদুদণ্ড বাদে অন্য একটা দণ্ড দরকার মনে করে লুসিয়াস ম্যালফয়কে তার জাদুদণ্ডটি দিয়ে দিতে বলেন যেন ওটা তার আর কোনোদিন কাজেই লাগবে না; এই এক কাণ্ডেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে লুসিয়াস ম্যালফয় আসলে তার নিজের বাড়িতেই একপ্রকার বন্দি।
হ্যারি ভুলবশত মুখে ভলডেমর্টের নাম উচ্চারণ করে ফেলায় হ্যারি, রন আর হারমায়োনি স্ন্যাচারদের খপ্পরে পড়ে যায়। স্ন্যাচারদের দলে ছিল ফেনরির গ্রেব্যাক; সে হ্যারির আসল পরিচয় নিয়ে খটকা লাগায় তার পাঁচ বন্দি হ্যারি, রন, হারমায়োনি, ডিন থমাস আর গ্রিপহুককে সোজা ম্যালফয় ম্যানরে ধরে নিয়ে আসে। সেখানে লুসিয়াস, ড্রাকো কিংবা নার্সিসা কেউই নিশ্চিতভাবে হ্যারিকে চিনে উঠতে পারে না; কারণ ধরা পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে হারমায়োনি একটা জাদুমন্ত্র ছুড়ে হ্যারির মুখ ফুলিয়ে-ফেঁপে একদম বিকৃত করে দিয়েছিল। তবে তারা হারমায়োনি আর রনকে চট করে চিনে ফেলে। সেখানে হাজির হয়ে বেলাট্রিক্স লেস্ট্র্যাঞ্জ যখন বন্দিদের কাছে গড্রিক গ্রিফিন্ডরের তলোয়ারটি দেখতে পায়, তখনই তার মনে হয় এটা নিশ্চয়ই তার গ্রিনগটসের লকার বা ভল্ট থেকে চুরি করা হয়েছে। ভলডেমর্টের অতি মূল্যবান অন্য আরেকটা গোপন জিনিসও যে সেই একই ভল্টে রাখা আছে, তা মনে পড়ায় বেলাট্রিক্স ভয়ে লুসিয়াসকে ভলডেমর্টকে ডাকতে বারণ করে; আর তলোয়ারটি তারা কোথা থেকে পেল তা মুখ ফুটিয়ে কবুল করানোর জন্য সে হারমায়োনির ওপর অমানুষিক অত্যাচার শুরু করে।
এদিকে, ডিন, হ্যারি, রন আর গ্রিপহুককে মাটির নিচের এক সেঁতসেঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে লুনা লাভগুড আর মিস্টার অলিভান্ডার আগে থেকেই বন্দি ছিলেন। লুনা এসে তাদের হাতের বাঁধন খুলে দিতে সাহায্য করে। হ্যারি তখন সিরিয়াসের দেওয়া সেই ভাঙা আয়নার টুকরোটার দিকে তাকাতেই সেখানে একটা আকাশী নীল রঙের চোখ দেখতে পায় এবং আকুল হয়ে সাহায্য চায়। চোখটি তখনই মিলিয়ে যায়।
ওদিকে হারমায়োনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বেলাট্রিক্সকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল যে তলোয়ারটি আসলে নকল। বেলাট্রিক্স এটা সত্যি কি না তা যাচাই করার জন্য ড্রাকোকে পাঠায় গ্রিপহুককে ওপরে নিয়ে আসতে। হ্যারি যাওয়ার আগে গ্রিপহুককে ফিসফিস করে বলে দেয় সে যেন হারমায়োনির কথাই সত্যি বলে সায় দেয়; তারপর ড্রাকো এসে গ্রিপহুককে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। ড্রাকো ঘর থেকে বের হতে না হতেই জাদুবলে খোদ ডবি সেই বেসমেন্টে হাজির হয়। ডবি তার এই পুরোনো জঘন্য বাড়িতে ফিরে আসতে বেশ ভয় পাচ্ছিল, তাও সে জানায় যে তাকে হ্যারি পটারকে উদ্ধার করতেই পাঠানো হয়েছে। হ্যারি নিশ্চিত হয়ে নেয় যে ডবি অন্যদের নিয়ে এই বেসমেন্ট থেকে জাদুবলে উধাও হয়ে যেতে পারবে কি না, আর তারপর ডবিকে বলে লুনা, ডিন আর মিস্টার অলিভান্ডারকে সোজা শেল কটেজে পৌঁছে দিতে। ডবির জাদুবলে মিলিয়ে যাওয়ার চটকা শব্দ শুনে বেলাট্রিক্সের খটকা লাগে এবং সে নিচে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য ওয়ার্মটেইলকে পাঠায়। ওয়ার্মটেইল ঘরে ঢুকতেই হ্যারি আর রন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর ওয়ার্মটেইলও পলকের ঘোর কাটিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। ওয়ার্মটেইলের সেই জাদুকরী রুপালি হাতের চিপায় হ্যারির দম যখন প্রায় আটকে আসছিল, তখন হ্যারি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে ওয়ার্মটেইল কিন্তু হ্যারির কাছে জীবনের ঋণে ঋণী। এই কথা শুনতেই ওয়ার্মটেইল এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়; আর ওই দ্বিধা করার কারণেই সেই রুপালি হাতটি উল্টো ওয়ার্মটেইলের নিজের টুঁটি চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে।
ওয়ার্মটেইলের জাদুদণ্ডটি হাতিয়ে নিয়ে হ্যারি আর রন ওপরতলায় যায়। সেখানে গিয়ে তারা শুনতে পায় যে গ্রিপহুক তলোয়ারটি নকল বলে বেলাট্রিক্সের কাছে সাফাই গাইছে। গ্রিপহুকের কথা বিশ্বাস করে বেলাট্রিক্স তখনই ভলডেমর্টকে ডাকার জন্য তৈরি হয় এবং হারমায়োনিকে পুরস্কার হিসেবে ফেনরিরের হাতে তুলে দেয়। ঠিক তখনই রন আচমকা বেলাট্রিক্সকে নিরস্ত্রীকরণ করে এবং হ্যারি তার হাত থেকে ছিটকে যাওয়া জাদুদণ্ডটি লুফে নেয়। হ্যারি এক সুযোগে লুসিয়াস ম্যালফয়কে জাদুর আঘাতে অজ্ঞান করে দিলেও তাকে আত্মরক্ষার জন্য সোফার পেছনে লুকিয়ে পড়তে হয়; কারণ ড্রাকো, নার্সিসা আর ফেনরির সবাই মিলে একযোগে তার দিকে স্টান স্পেল বা অচেতন করার মন্ত্র ছুড়ছিল। ওদিকে বেলাট্রিক্স তার হাতের ধারালো ছুরি দিয়ে হারমায়োনির গলা কেটে ফেলার হুমকি দেয়, যার ফলে রন আর হ্যারি তাদের জাদুদণ্ড ফেলে দিতে বাধ্য হয় এবং ড্রাকো চট করে সেগুলো কুড়িয়ে নেয়। এমন সময় ঘরের ওপর ঝুলে থাকা ঝাড়লণ্ঠনটি ভেঙে বেলাট্রিক্সের ওপর ভেঙে পড়ে; ডবি আবার সেখানে এসে হাজির হয় এবং বেলাট্রিক্সকে কড়া গলায় হুঁশিয়ারি দেয় সে যেন হ্যারি পটার বা তার বন্ধুদের গায়ে আর হাত না দেয়। নার্সিসা রেগেমেগে ডবির দিকে নিজের জাদুদণ্ড তাক করেন, কিন্তু ডবি তুড়ি মেরে জাদুবলে তাঁর দণ্ডটি হাত থেকে ছিটকে দেয়। এই গোলমালের সুযোগে হ্যারি ড্রাকোর হাতে থাকা তিন-তিনটে জাদুদণ্ডই এক ঝটকায় কেড়ে নেয় এবং সেগুলো দিয়ে ফেনরিরকে মন্ত্রের আঘাতে অচেতন করে দেয়। এরপর হ্যারি গ্রিপহুককে শক্ত করে ধরে এবং রন ও হারমায়োনির কাছে জাদুদণ্ড আছে দেখে সবাই মিলে একসাথেই শেল কটেজের উদ্দেশ্যে জাদুবলে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য এক ডেথ ইটার ট্র্যাভার্সের মুখে আমরা জানতে পারি যে, এই হুলস্থূল কাণ্ডের পর খেপে গিয়ে ভলডেমর্ট সম্ভবত বেলাট্রিক্সকেও ম্যালফয় ম্যানরেই বন্দি করে রেখেছিলেন।
এর কিছু দিন পর, হ্যারি নিজের মনের ভেতর ভলডেমর্টের এক মারাত্মক রাগ আর আক্রোশ টের পায় যখন ভলডেমর্ট খবর পান যে বেলাট্রিক্সের গ্রিনগটস ভল্টে কেউ হানা দিয়েছে এবং সেখান থেকে একটা কাপ চুরি হয়ে গেছে। এই ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটছিল তা গল্পে পরিষ্কার বলা না হলেও, সেখানে লুসিয়াস ম্যালফয় আর বেলাট্রিক্সের মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সহজেই বোঝা যায় যে এটি ম্যালফয় ম্যানরের ভেতরেই ঘটছিল।
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]পুরো সিরিজ জুড়েই ম্যালফয় পরিবারকে মস্ত বড় ধনী হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তারা বড় বড় জায়গায় মোটা অঙ্কের টাকা দান-খয়রাত করে সমাজে নিজেদের একটা ভালো প্রভাব ধরে রাখত। এই চালচলন দেখে যে কেউই আন্দাজ করতে পারে যে ম্যালফয়দের থাকার জায়গাটা চরম রাজকীয় আর জাঁকজমকপূর্ণ হবে। তাই আমরা যখন শেষমেশ ম্যালফয় ম্যানর সশরীরে দেখি, তখন এর বিশাল রাজপ্রাসাদ আর জৌলুস দেখে একটুও অবাক হই না; এমনকি ওই ধবধবে সাদা অ্যালবিনো ময়ূরগুলো দেখেও না যদিও ডেথ ইটাররা দু-দুবার সেগুলোর ডাক শুনে ভড়কে গিয়েছিল। অনেকে মনে করেন, লেখিকা বিশেষভাবে ম্যালফয়দের অতিরিক্ত দেমাগ আর জাঁকজমক বোঝাতেই এই ধবধবে সাদা ময়ূরগুলোর অবতারণা করেছেন। আসলে বিশাল রাজবাড়িতে ময়ূর থাকাটা হলো পুরনো, বনেদি ব্রিটিশ অভিজাত বংশের একটা চেনা লক্ষণ। আর অ্যালবিনো ময়ূর যেহেতু সাধারণ ময়ূরের চেয়ে অনেক বেশি দুর্লভ আর দামী, তাই ওগুলো ম্যালফয়দের আভিজাত্যকে আরও দশ গুণ বাড়িয়ে দেখায়।
আমরা যখন ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজে’ লুসিয়াস ম্যালফয়কে দেখি, তখন পরিষ্কার বলা হয়েছে যে তাকে তার নিজের রাজবাড়িতেই একজন বন্দির মতো দেখাচ্ছিল। আমরা জানি যে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স বইয়ের শেষের দিকে মন্ত্রণালয়ে আরও একঝাঁক ডেথ ইটারের সাথে সে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল এবং তাকে সোজা আজকাবান জেলে পুরে দেওয়া হয়েছিল। গল্পের খাতিরে আমাদের এটা ধরে নিতেই হয় যে, সে আজকাবান ভেঙে গণ-পালানোর দলের সাথেই জেল থেকে চম্পট দিয়েছিল; আর তাই পুলিশ বা মন্ত্রণালয়ের হাতে পুনরায় ধরা পড়ার ভয়ে তাকে সবসময় চার দেওয়ালে লুকিয়ে থাকতে হতো। কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, আজকাবান থেকে যারা যারা পালিয়েছিল তাদের মধ্যে কেবল লুসিয়াস কেন এভাবে ঘরবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছিল; এই বিষয়ে বিশদ হদিস অবশ্য লুসিয়াস ম্যালফয়ের নিজের চরিত্রের কাটাছেঁড়া করলে আরও ভালো পাওয়া যাবে। তবে একটা জিনিস খেয়াল করার মতো ম্যালফয় ম্যানরের মতো অতিকায় একটা প্রাসাদও কিন্তু চরম ছোট আর দমবন্ধ করা মনে হতে পারে, যখন কাউকে সেখান থেকে এক পা-ও বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না।
গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ম্যালফয় ম্যানর দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারে অবস্থিত। এই জায়গা নির্বাচনটি সম্ভবত জেনেশুনেই করা হয়েছে; কারণ এটি ইংল্যান্ডের সেই একই এলাকা যেখানে বিখ্যাত স্যালিসবারি প্লেইন এবং প্রাচীন স্টোনহেঞ্জ অবস্থিত। মাগলদের মনে একটা গভীর বিশ্বাস আছে যে এই পুরো এলাকা জুড়েই জাদুকরী কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। এটা হতেই পারে যে ম্যালফয় পরিবার মাগলদের এই অন্ধ বিশ্বাসের পুরো ফায়দা তুলছে, অথবা তারা নিজেরা খাঁটি জাদুকর হওয়ায় তারাই হয়তো মাগলদের মনে এই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। অন্যভাবে ভাবলে, ওই এলাকার মাটিও আসলে জাদুকরী শক্তিতে ভরপুর হতে পারে; আর ম্যালফয়রা সেই জাদুকরী আবহাওয়ার পুরো সুবিধা নেওয়ার জন্যই উইল্টশায়ারে নিজেদের এই বিশাল আস্তানা গড়ে তুলেছে।
প্রশ্ন
[সম্পাদনা]
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]অন্য জায়গায় বলা হয়েছে যে, ভলডেমর্ট তাঁর নিজের পৈতৃক বাড়ি রিডল ম্যানরকে জাদুকরী দুনিয়ার মূল কেন্দ্র থেকে বেশ দূরে পেয়েছিলেন; যার ফলে ওখান থেকে দলবল চালানো বা ওটিকে নিজের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না। কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন যে ম্যালফয় ম্যানরও লন্ডন থেকে প্রায় একই রকম দূরে অবস্থিত, যদিও মানুষ কিন্তু উইল্টশায়ারের ভেতরে থাকা সুইন্ডন থেকে নিয়মিত লন্ডনে যাতায়াত করে। এটা মাথায় রাখলে প্রশ্ন জাগে ভলডেমর্ট কেন ম্যালফয় ম্যানরকেই তাঁর সদর দপ্তর হিসেবে বেছে নিতে গেলেন? আসলে এটা ধরে নেওয়া একদম ঠিক হবে যে ভলডেমর্ট আর দশটা মানুষের মতোই আরাম-আয়েশ আর জাঁকজমক পছন্দ করতেন; আর তাই তিনি এমন একটা আস্তানা বেছে নিয়েছিলেন যা আগে থেকেই সব রকম রাজকীয় সুযোগ-সুবিধায় ঠাসা ছিল। এর সাথে এই তথ্যটাও যোগ করা দরকার যে, রিডল ম্যানর বাড়িটি বাইরের অচেনা মানুষদের নজর থেকে মোটেও সুরক্ষিত ছিল না। অন্যদিকে ম্যালফয় ম্যানরে আগে থেকেই উঁচু উঁচু পাঁচিল আর মস্ত বড় ফটক বা গেট লাগানো ছিল; আর মাগলদের খুব একটা পাত্তা না দেওয়ার জন্য এমনিতেও ম্যালফয়দের একটা কুখ্যাতি ছিলই। এই সবকিছু মেলালে সহজেই বোঝা যায় যে, ম্যালফয়দের এই রাজপ্রাসাদটি দখল করা ভলডেমর্টের কাছে অনেক বেশি লাভজনক আর লোভনীয় মনে হয়েছিল।