মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার
এই বই বা অনুচ্ছেদটি পরিবর্ধন বা বড় কোনো পুনর্গঠনের মধ্যে রয়েছে। এটির উন্নয়নের জন্য আপনার যে কোনো প্রকার সহায়তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। যদি এই বই বা অনুচ্ছেদটি কয়েকদিনের জন্য সম্পাদনা করা না হয়, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক এই টেমপ্লেটটি সরিয়ে ফেলুন। ৫ মাস আগে মুকতাদির (আলাপ | অবদান) এই বইটি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। (হালনাগাদ) |
অধ্যায় ১৮ : হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজ: আলবাস ডাম্বলডোরের জীবন ও মিথ্যা
সারসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]পরের সকালে হ্যারি তখনও তার হারানো জাদুদণ্ড নিয়ে শোক করছিল। জাদুদণ্ডটি ছাড়া তার মনে হচ্ছিল, সে যেন একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে; নিজেকে রক্ষা করার মতো কিছুই আর তার হাতে নেই। মনে হচ্ছিল, জাদুদণ্ডটির সঙ্গে যেন তার নিজের জাদুশক্তিও নিঃশেষ হয়ে গেছে। ভাঙা জাদুদণ্ডের দুই অংশ কোনো রকমে একসঙ্গে লেগে ছিল; ভেতরের ছেঁড়া ফিনিক্স পালকটিই যেন সেগুলো ধরে রেখেছে। হ্যারি সেগুলো গলার চারপাশে ঝোলানো মোকস্কিন থলির ভেতরে গুঁজে রাখে। থলির ভেতরে স্নিচটিও ছিল। এক মুহূর্তের জন্য হ্যারির সেটি ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হয়। তার মনে হচ্ছিল, ডাম্বলডোর তার জন্য যা কিছু রেখে গেছেন, সেগুলোর মতো এটিও শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে লাগছে না। ডাম্বলডোরের প্রতি তার জমে থাকা ক্ষোভ হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে। উত্তর পাওয়ার আশায়, ডাম্বলডোরের রেখে যাওয়া কোনো গোপন সূত্রের সন্ধানে তারা গড্রিক্স হলোতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা কোনো পরিকল্পনা বা পথনির্দেশনা ছাড়াই অন্ধের মতো হাতড়ে বেড়িয়েছে, আর তার ফলেই প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিল। একে তো হ্যারির হাতে জাদুদণ্ড কিংবা তলোয়ার—কোনোটিই নেই; তার ওপর চোরের ফেলে যাওয়া ছবিটিও ভলডেমর্টকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে দিয়েছে।
এখনও মনমরা হারমায়োনি সংকোচভরে হ্যারির জন্য এক কাপ চা নিয়ে আসে। এরপর সে হ্যারিকে বাথিল্ডা ব্যাগশটের বাড়ি থেকে আনা রিটা স্কিটারের বই আলবাস ডাম্বলডোরের জীবন ও মিথ্যা দেখায়। বইটির ভেতর থেকে বেরিয়ে থাকা একটি নোটে লেখা ছিল: প্রিয় ব্যাটি, তোমার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ। বইটির একটি কপি দিলাম, আশা করি ভালো লাগবে। তুমি সবই বলেছ, যদিও এখন আর তোমার তা মনে নেই। —রিটা
হ্যারি হারমায়োনিকে আশ্বস্ত করে যে জাদুদণ্ডের ব্যাপারে সে তার ওপর রাগ করেনি। ওটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা ছিল, আর তার জীবন বাঁচানোর জন্য সে হারমায়োনির কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ। বইটি দ্রুত উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে হ্যারির ভেতরে এক ধরনের অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করতে থাকে—অবশেষে হয়তো এবার সে ডাম্বলডোরের লুকিয়ে রাখা কথাগুলো জানতে পারবে। তরুণ ডাম্বলডোরের কয়েকটি ছবি দেখতে দেখতে হ্যারির চোখে পড়ে, তাঁর পাশে এক সুদর্শন তরুণ দাঁড়িয়ে আছে; লোকটিকে সে চিনতে পারে। গ্রেগোরোভিচের স্মৃতিতে দেখা সেই চোরই এই লোকটি। ছবির নিচে লেখা ছিল: মায়ের মৃত্যুর কিছুদিন পর আলবাস ডাম্বলডোর, তাঁর বন্ধু গেলার্ট গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের সঙ্গে।
হ্যারি ও হারমায়োনি অবিশ্বাসে একে অপরের দিকে তাকায়—গ্রিন্ডেলওয়াল্ড! “বৃহত্তর মঙ্গল” শিরোনামের একটি অধ্যায়ে জানা যায়, ডাম্বলডোর বহু সম্মান ও প্রশংসা নিয়ে হগওয়ার্টসে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর বন্ধু এলফিয়াস ডোজের সঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রা ডাম্বলডোরের আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। ডোজের দাবি ছিল, পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ডাম্বলডোরকে বিরাট ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। কিন্তু বইটি যেন অন্য কথাই ইঙ্গিত করে। সেখানে গড্রিক্স হলোর কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এনিড স্মিকের মতে, আলবাস তাঁর ভাই অ্যাবারফোর্থের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে তেমন একটা চেষ্টা করতেন না, আর তাঁর বোন আরিয়ানাকে আড়ালেই রাখা হতো। ডাম্বলডোর পরিবার নিজেদের গুটিয়ে রাখত। তবে শোনা যায়, বাথিল্ডা ব্যাগশটের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। স্কিটার দাবি করেন, বয়সের কারণে বাথিল্ডার স্মৃতি দুর্বল হয়ে গেলেও, কেন্দ্রার মৃত্যুর কেলেঙ্কারিময় ঘটনাটি জোড়াতালি দেয়ার মতোন যথেষ্ট তথ্য তিনি তাঁর কাছ থেকে বের করে আনতে পেরেছিলেন। সেই মৃত্যুকে মন্ত্র উল্টো ফলার দুর্ঘটনা বলে চালানো হয়েছিল। স্কিটার আরও দাবি করেন, আরিয়ানার অসুস্থতার কথাও সত্যি নয়; বরং আলবাসের অন্ধকার জাদুর প্রতি ঝোঁক ছিল, এবং তিনি সম্ভবত মাগল নিপীড়নের ধারণাকেও সমর্থন করতেন।
যে গ্রীষ্মে আলবাস পরিবারের দায়িত্ব নিতে গড্রিক্স হলোতে ফিরে আসেন, ঠিক সেই সময়ই বাথিল্ডা ব্যাগশট তাঁর প্রপৌত্র গেলার্ট গ্রিন্ডেলওয়াল্ডকে নিজের কাছে রাখেন। গ্রিন্ডেলওয়াল্ডও ডাম্বলডোরের মতোই অসাধারণ মেধাবী ছিল, তবে তাকে ডার্মস্ট্রাং থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সে এক কুখ্যাত অন্ধকার জাদুকর হিসেবে পরিচিতি পায়, যদিও তখন ব্রিটেনে তার নাম খুব একটা ছড়ায়নি। আলবাস ও গ্রিন্ডেলওয়াল্ড অল্প সময়ের মধ্যেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
গেলার্টকে লেখা এক চিঠিতে ডাম্বলডোর জানান, বৃহত্তর মঙ্গলের স্বার্থে মাগলদের ওপর জাদুকরদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ধারণার সঙ্গে তিনি একমত। তবে তাঁর কথা হলো, মাগলদের শাসন করলেও তা করতে হবে দায়িত্ব নিয়ে, আর একেবারে প্রয়োজন না হলে শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। তিনি মনে করেন, ডার্মস্ট্রাংয়ে গেলার্টের ভুলটাও ছিল সেখানেই। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, গেলার্ট বহিষ্কৃত না হলে হয়তো তাঁদের কখনও দেখা-ই হতো না। রিটা স্কিটারের মতে, এই চিঠিই প্রমাণ করে যে আলবাস ডাম্বলডোর একসময় গোপনীয়তার বিধি ভেঙে মাগলদের ওপর জাদুকরদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। অথচ জীবনের পরবর্তী সময়ে তাঁর অবস্থান ছিল একেবারেই ভিন্ন—তিনি মাগলজাত ডাইনি ও জাদুকরদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মাগলদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন।
কিন্তু বন্ধুত্ব শুরু হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ডাম্বলডোর ও গ্রিন্ডেলওয়াল্ড আলাদা পথে চলে যান। বহু বছর পর আবার তাঁদের মুখোমুখি হতে হয়, ইতিহাসখ্যাত সেই দ্বন্দ্বযুদ্ধে। বাথিল্ডা ব্যাগশটের ধারণা ছিল, এই হঠাৎ দূরত্ব তৈরি হওয়ার পেছনে আরিয়ানার মৃত্যুর ভূমিকা ছিল। ঘটনাটি ঘটার সময় গেলার্ট সেখানে ছিল। এরপর সে ভীষণ বিচলিত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে এবং পরদিন পোর্টকি ব্যবহার করে চলে যায়। অ্যাবারফোর্থ আরিয়ানার মৃত্যুর জন্য আলবাসকেই দায়ী করেছিলেন। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। অ্যাবারফোর্থ কেন আলবাসকে দোষ দিয়েছিলেন, তা কখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, ঘটনার পেছনে আলবাস ও গেলার্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বড় ভূমিকা ছিল। গেলার্টকে ডার্মস্ট্রাং থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কারণ সে সহপাঠীদের ওপর প্রায় প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়েছিল।
কয়েক দশক পরে গেলার্ট ইউরোপজুড়ে ভয় ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়। একসময় সে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর অন্ধকার জাদুকরদের একজন হয়ে ওঠে। গ্রিন্ডেলওয়াল্ড ক্ষমতায় ওঠার পাঁচ বছর পর, ইউরোপে তার নির্মম তৎপরতা থামাতে জাদুসমাজ ডাম্বলডোরের সাহায্য চায়। শেষ পর্যন্ত ডাম্বলডোর এগিয়ে আসেন। তবে গ্রিন্ডেলওয়াল্ড পরাজিত হওয়ার পরও কিছু প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়। গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের প্রতি আলবাসের পুরোনো টানই কি তাকে এতদিন ব্যবস্থা নিতে বাধা দিয়েছিল? আরিয়ানা আসলে কীভাবে মারা গেল? কেনই বা তার মৃত্যু ঘটল? সেটি কি সত্যিই নিছক দুর্ঘটনা ছিল, নাকি তাদের “বৃহত্তর মঙ্গল” পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম চেষ্টা?
অধ্যায়টি এখানেই শেষ হয়। হ্যারি স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। তার মনে হতে থাকে, একের পর এক সবকিছু যেন তার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, রন, তার ফিনিক্স-জাদুদণ্ড, আর এখন ডাম্বলডোরের প্রতি সেই অটল বিশ্বাসও। ডাম্বলডোরকে সে এতদিন সৎ, জ্ঞানী ও ভরসার মানুষ বলেই জেনে এসেছে; কিন্তু এখন সেই মানুষটিকেই তার কাছে অচেনা মনে হচ্ছে। হারমায়োনি তাকে মনে করিয়ে দেয়, বইটির লেখক কিন্তু রিটা স্কিটার। কিন্তু হ্যারি গ্রিন্ডেলওয়াল্ডকে লেখা চিঠিতে ডাম্বলডোরের নিজের কথাগুলো দেখায়। হারমায়োনির ধারণা, গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের “বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য” স্লোগানটি হয়তো ডাম্বলডোরের ভাবনা থেকেই এসেছে। পরে গ্রিন্ডেলওয়াল্ড সেই কথাকেই নিজের নির্মম কাজের সাফাই হিসেবে ব্যবহার করেছে। শোনা যায়, গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের শত্রুদের বন্দি রাখার কারাগার “নুরমেনগার্ড”-এর প্রবেশপথে এই কথাগুলো খোদাই করা ছিল।হারমায়োনির মনে হয়, ডাম্বলডোর তখন খুব তরুণ ছিলেন, তার ওপর পরিবার হারানোর আঘাতও ছিল। এমন অবস্থায় ভুল ভাবনা মাথায় আসতেই পারে। কিন্তু হ্যারি পাল্টা বলে, তারাও এখন প্রায় ডাম্বলডোরের সেই বয়সের কাছাকাছি; অথচ তারা অন্ধকার জাদুর বিরুদ্ধে লড়ছে, তার পক্ষে নয়। হ্যারি আরও বলে, আলবাসের একজন ভাই ছিল, অথচ সে তার স্কুইব বোনটিকে সবার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিল। হারমায়োনির সন্দেহ, আরিয়ানা আদৌ স্কুইব ছিল কি না। সে জোর দিয়ে বলে, তারা যে ডাম্বলডোরকে চিনত, তিনি কখনও মাগলদের ওপর অত্যাচার সমর্থন করতেন না। সতেরো বছর বয়সে তিনি যা-ই ভেবে থাকুন না কেন, বড় হয়ে তিনি অন্য পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং জীবনের বাকি সময় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই করেছেন। হারমায়োনির মনে হয়, হ্যারি আসলে রাগ করেছে কারণ ডাম্বলডোর নিজের অতীতের এই দিকটি কখনও তাকে বলেননি। হ্যারি স্বীকার করে, কথাটা হয়তো সত্যি। তবু তার মনে প্রশ্ন ঘুরতেই থাকে—ডাম্বলডোর কীভাবে তাকে এমন বিপদের মধ্যে ফেলে রেখে গেলেন, আর তিনি কি সত্যিই কখনও হ্যারিকে আপন করে ভেবেছিলেন?
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]গড্রিক্স হলোতে যাওয়াটা শুধু প্রায় প্রাণঘাতীই হয়নি; হ্যারি ও হারমায়োনির কাছে সেটি একেবারে নিষ্ফল এক বন্ধ পথ বলেও মনে হয়। নিজের অভিযানের জন্য ডাম্বলডোর এত কম তথ্য রেখে গেছেন—এ নিয়ে হ্যারি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ। ডাম্বলডোর আদৌ তাদের গড্রিক্স হলোতে যেতে চেয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি নিশ্চয়ই অনুমান করতে পেরেছিলেন যে হ্যারি একদিন নিজের জন্মস্থানে যাবে এবং সেখানে কোনো তথ্য লুকানো আছে কি না, তা সন্দেহ করবে। আবার ডাম্বলডোর হয়তো সূত্র লুকানোর জন্য জায়গাটিকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ ও খুব সহজে অনুমেয় বলেও ভাবতে পারেন। তবু তাদের হিসাব ভুল হলেও, সফরটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয় না। আগেই দেখা গেছে, হ্যারি ও হারমায়োনি একটি পুরোনো সমাধিফলকে অদ্ভুত একটি চিহ্ন দেখতে পায়। চিহ্নটি একেবারে সেই চিহ্নের মতো, যা ডাম্বলডোর হারমায়োনিকে দিয়ে যাওয়া বিডল দ্য বার্ডের গল্পসমূহ বইটিতে আঁকা ছিল, এবং বিয়েতে জেনোফিলিয়াস লাভগুডও একই চিহ্ন পরেছিল। লাভগুডের গায়ে চিহ্নটি দেখে ভিক্টর ক্রামের তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, এই প্রতীকের সঙ্গে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভবত অন্ধকার জাদু-সম্পর্কিত, কোনো অর্থ জড়িয়ে থাকতে পারে। সমাধিফলকে লেখা "ইগনোটাস" নামটির সঙ্গে এই চিহ্নের অজানা সম্পর্কও সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ। ডাম্বলডোর হয়তো চেয়েছিলেন হ্যারি এখানেই চিহ্নটি খুঁজে পাক, যা এর গুরুত্বের আরও একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
এছাড়া, হারমায়োনি রিটা স্কিটারের বইটি পায়, যেখানে ডাম্বলডোরের অতীত এবং কুখ্যাত অন্ধকার জাদুকর গেলার্ট গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের সঙ্গে তার আগে অজানা সম্পর্ক সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য রয়েছে। এই গ্রিন্ডেলওয়াল্ডকেই শেষ পর্যন্ত ডাম্বলডোর এক দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। উল্লেখ করা দরকার, ইউরোপীয় মূলভূখণ্ডে গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের ক্ষমতায় ওঠা সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৩৯–১৯৪৫ সালের মধ্যে ঘটেছিল; অথচ সিরিজের অন্যান্য তথ্য থেকে গ্রিন্ডেলওয়াল্ড ও ডাম্বলডোরের বন্ধুত্বের সময় ১৮৯৯ সাল বলে বোঝা যায়। বাথিল্ডার বাড়িতে গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের ছবি পাওয়া যাওয়ায় তার সঙ্গে বাথিল্ডা এবং গড্রিক্স হলোর সম্পর্কও স্পষ্ট হয়। গড্রিক্স হলোতে হ্যারি নিজের অতীতের মুখোমুখিও হয়। পুরোনো বাড়ি এবং বাবা-মায়ের কবর দেখা তার জীবনের এই বেদনাদায়ক অধ্যায়ে কিছুটা সমাপ্তির অনুভূতি এনে দেয়, যা আশা করা যায় একসময় তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
আরেকবার, হ্যারি এমন একজনের প্রতি গভীরভাবে হতাশ হয়, যাকে সে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। এর আগে জেমস, সিরিয়াস এবং লুপিন—হ্যারির চোখে কোনো না কোনোভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবার সেই জায়গায় ডাম্বলডোর। তবে এবার হ্যারি শুধু হতাশ নয়; তার বিশ্বাস ও আনুগত্য প্রায় নিঃশেষ হয়ে এসেছে, আর রিটা স্কিটার যেন ডাম্বলডোর সম্পর্কে তার সন্দেহগুলোকেই সত্য প্রমাণ করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, স্কিটারের তথ্য বানিয়ে বলা বা অতিরঞ্জিত করার বদনাম থাকা সত্ত্বেও, এবং তার মানহানিকর লেখার শিকার হওয়ার নিজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও, হ্যারি বইয়ের সবকিছু সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে। ডাম্বলডোরের নিজের কথাগুলোও যেন স্কিটারের দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। সম্ভবত এ কারণেই, আর তার সঙ্গে ডাম্বলডোরের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে রাগ ও উদ্বেগ মিলে, হ্যারির নড়বড়ে বিশ্বাস আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে সন্দেহ করতে শুরু করে ডাম্বলডোর আদৌ কখনও তাকে ভালোবেসেছিলেন কি না। কিন্তু হ্যারি মনে করে না, ডাম্বলডোর একবার তাকে বলেছিলেন, "আমাদের পছন্দই, হ্যারি, দেখায় আমরা আসলে কী।" হারমায়োনির ধারণা সম্ভবত ঠিক—ডাম্বলডোর কী বলেছিলেন বা করেছিলেন, তার চেয়ে বেশি হ্যারিকে কষ্ট দিচ্ছে এই ব্যাপারটি যে ডাম্বলডোর নিজের অতীত তার কাছে গোপন রেখেছিলেন। সে মনে করিয়ে দেয়, তরুণ বয়সে ডাম্বলডোর অন্ধকার জাদুর প্রতি কিছু সময়ের জন্য আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং তার মোহময় ক্ষমতার প্রতি সরলভাবে টান অনুভব করেছিলেন বটে, কিন্তু তারা যে মানুষটিকে চিনত, তিনি সেই মানুষ ছিলেন না। জেমস পটারের মতো তিনিও নিজের আগের দুর্বলতাগুলো অতিক্রম করার পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং জীবনের বাকি সময় অশুভ শক্তি ও মাগল নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসর্গ করেছিলেন। এখনও নিজের তরুণসুলভ, কিছুটা সরল আদর্শবোধে আটকে থাকা হ্যারি মনে করে, মঙ্গল ও প্রজ্ঞা যেন জন্ম থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সোজা একমুখী পথ। সে বুঝতে পারে না, বাস্তবে সেই পথ প্রায়ই বাধা, বাঁক, পাশের রাস্তা এবং কখনও কখনও অন্ধকার গলিতে ভরা থাকে। ডাম্বলডোর নিজের সত্যিকারের পথ থেকে যত দূরেই সরে গিয়ে থাকুন না কেন, গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের বিপরীতে তিনি আবার সেই পথে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
হ্যারি তার হারানো জাদুদণ্ডের জন্য শোক করছে—এ থেকে বোঝা যায়, নিজের ওপর তার আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। হারমায়োনির ওপর তার যে ক্ষোভ ঝরে পড়ছে, তারও আংশিক ব্যাখ্যা এখানে মেলে। হ্যারি যেন মনে করে, তার জাদুশক্তি নিজের ক্ষমতা থেকে নয়, বরং জাদুদণ্ড থেকেই আসে। যেন সে আবারও এমন কাউকে হারিয়েছে, যে তাকে পথ দেখাত এবং শক্তি দিত। তার পেঁচা হেডউইগ কিংবা কয়েক বছর আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া তার নিম্বাস ২০০০ ঝাড়ুর মতোই, এই জাদুদণ্ডও তাকে এক ধরনের নিরাপত্তা, পরিচিতির আরাম এবং জাদুসমাজে তার প্রবেশের প্রতীকী অনুভূতি দিয়েছিল। তবে হ্যারির ধারণা পুরোপুরি ভুলও নয়; জাদুদণ্ডটি সত্যিই বিশেষ ছিল। মনে হয়, এর মধ্যে এমন কিছু অনন্য ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছিল, যা তাকে ভলডেমর্ট এবং তার ইউ কাঠের জাদুদণ্ডের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছিল। যদিও সেসব বৈশিষ্ট্যও হারমায়োনির অভিশাপ থেকে জাদুদণ্ডটিকে রক্ষা করতে পারেনি। এর হারানো মিশনের জন্য বড় ধাক্কা। জাদুকরেরা অন্য জাদুদণ্ড ব্যবহার করতে পারে ঠিকই, কিন্তু যেকোনো জাদুদণ্ডই যে ভালোভাবে কাজ করবে, তা নয়। উপযুক্ত বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত হ্যারিকে হারমায়োনির জাদুদণ্ড ভাগাভাগি করেই চলতে হবে। আর অলিভ্যান্ডার যেহেতু সম্ভবত ভলডেমর্টের বন্দি, তাই নতুন জাদুদণ্ড জোগাড় করাও সহজ হবে না।
উপরে বলা হয়েছে, নিম্বাস ২০০০ ঝাড়ু হারানোর সময় হ্যারি বিশেষভাবে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফায়ারবোল্ট—যেটি তার প্রয়াত গডফাদারের উপহার—তাকে তত গভীরভাবে আঘাত করেনি। একই সময়ে হেডউইগের মৃত্যু, আক্রমণের সময় মুডির মৃত্যু, আর তার কিছুদিন আগেই সিরিয়াস ও ডাম্বলডোরের হত্যাকাণ্ড—এসব ঘটনা হয়তো ফায়ারবোল্ট হারানোর গুরুত্বকে তার কাছে আড়াল করে দিয়েছিল। তাছাড়া কয়েক বছর পেরিয়ে যাওয়ায় হ্যারি আগের চেয়ে পরিণত হয়েছে। মানসিক নিরাপত্তার জন্য জড়বস্তুর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে এখন সে বন্ধু ও মিত্রদের ওপর ভরসা করতে শিখেছে। তবে ভাঙা জাদুদণ্ডের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রম।
একটি পার্শ্ব মন্তব্য হিসেবে বলা যায়, পাঠকেরা হয়তো খেয়াল করেছেন, রিটা স্কিটার তার নোটে বাথিল্ডা ব্যাগশটকে অনানুষ্ঠানিকভাবে "ব্যাটি" বলে সম্বোধন করেছেন—এখানে জে. কে. রাউলিং সম্ভবত কিছুটা রসিকতা করেছেন। শব্দটি স্পষ্টতই মানসিকভাবে বিভ্রান্ত বা এলোমেলো অবস্থাকে বোঝায়; জীবনের শেষ দিকে বাথিল্ডা সম্ভবত তেমনই হয়ে পড়েছিলেন, আর সম্ভবত সেই কারণেই স্কিটার তাকে প্রভাবিত করে তার স্মৃতি বের করে আনতে পেরেছিল।
প্রশ্ন
[সম্পাদনা]
পুনরালোচনা
[সম্পাদনা]- হ্যারি মনে করে, গড্রিক্স হলোতে যাওয়া একেবারেই নিরর্থক ছিল। সত্যিই কি তাই? যদি না হয়, কেন?
- একজন জাদুকরের জীবনে একাধিক জাদুদণ্ড থাকা অস্বাভাবিক নয়। সময়টা অসুবিধাজনক হওয়া ছাড়া, জাদুদণ্ড হারানোর ঘটনায় হ্যারি এত গভীরভাবে আঘাত পেল কেন?
- "বৃহত্তর মঙ্গল" কী ছিল, এবং আসলে কার মঙ্গলের জন্য এটি ভাবা হয়েছিল?
- ডাম্বলডোর একজন ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও হ্যারি তার ওপর এত হতাশ কেন? হ্যারির এই বিচার কি ন্যায্য?
- ডাম্বলডোরের ওপর হ্যারি কেন রাগ করেছে বলে হারমায়োনির ধারণা? তার ধারণা কি ঠিক?
- ডাম্বলডোর নিজের অতীত গোপন রেখেছিলেন কেন? সেটি হ্যারিকে জানানো কি তার কর্তব্য ছিল? ব্যাখ্যা করো।
আরও অধ্যয়ন
[সম্পাদনা]- রিটা স্কিটার কীভাবে বাথিল্ডা ব্যাগশটকে ডাম্বলডোর ও গ্রিন্ডেলওয়াল্ড সম্পর্কে নিজের স্মৃতি ভাগ করে নিতে রাজি করিয়েছিল বলে মনে হয়? সেই স্মৃতিগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল, আর সেটি স্কিটারের কাছে আদৌ গুরুত্বপূর্ণ ছিল কি?
- ডাম্বলডোর ও গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের বিচ্ছেদের কারণ কী হতে পারে?
- ডার্মস্ট্রাংয়ে কী ঘটেছিল তা জানার পরও কি আলবাস গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের আসল স্বভাব বুঝতে অন্ধ ছিলেন? এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে?
- আরিয়ানার মৃত্যুর পর গ্রিন্ডেলওয়াল্ড কেন সঙ্গে সঙ্গে গড্রিক্স হলো ছেড়ে চলে গেল?
- ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বযুদ্ধে গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের মুখোমুখি হতে আলবাস এত দেরি করলেন কেন? সেই দেরির পরিণতি কী হয়েছিল?
- রিটা স্কিটারের অতিরঞ্জিত ও বানানো গল্প লেখার বদনাম থাকা সত্ত্বেও, ডাম্বলডোর সম্পর্কে তার বইয়ে লেখা সবকিছু সত্যি বলে হ্যারি এত দ্রুত বিশ্বাস করল কেন? তার দাবিগুলো কি সত্যি হতে পারে?
- হারমায়োনি কেন সন্দেহ করে যে আরিয়ানা "স্কুইব" ছিল না? তার মতের পক্ষে কি কোনো স্পষ্ট প্রমাণ আছে?
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]এই বইয়ের পরবর্তী একটি অধ্যায়ে আমরা জানতে পারি, ডাম্বলডোর আগে হ্যারিকে বলেছিলেন যে মানুষের আসল পরিচয় তার পছন্দের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়—এই কথার ভিত্তি ছিল তার নিজের পরিবারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা, যা তার জীবনের পথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। কথাগুলো প্রথম শুনে হ্যারি সান্ত্বনা পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরে সে সেগুলো নিজের বাইরে অন্য কারও ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে কষ্ট পেয়েছে। আগের একটি বইয়ে আমরা দেখেছি, নিজের বাবা এবং সিরিয়াস একসময় দাদাগিরি করত জেনে হ্যারি খুব মর্মাহত হয়েছিল। এমন ভয়ংকর কিশোর কীভাবে সেই সম্মানিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হতে পারে, যার কথা সবাই তাকে বলেছে—সেটি সে বুঝতে পারেনি। তখন সে বোঝেনি, তার বাবা বদলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এখনো সে বুঝতে পারছে না, ডাম্বলডোরও তেমনি সচেতনভাবে অন্য মানুষ হয়ে ওঠার পথ বেছে নিয়েছিলেন—সম্ভবত এমন একজন মানুষ, যিনি অন্ধকার বিষয়ের প্রতি কখনও আকৃষ্ট না হলে যতটা ভালো ও শক্তিশালী হতে পারতেন, তার চেয়েও বেশি।
গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের প্রতীকটি এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা গেছে: একবার জেনো লাভগুডের গলায় বিয়েতে, একবার ডাম্বলডোর হারমায়োনিকে দিয়ে যাওয়া বিডল দ্য বার্ডের গল্পসমূহ বইয়ের কপিতে, আর একবার গড্রিক্স হলোর সমাধিফলকে। আলবাস ডাম্বলডোরের জীবন ও মিথ্যা পড়তে পড়তে হারমায়োনি যখন ডাম্বলডোরের চিঠি থেকে উদ্ধৃতি পড়বে, তখন সে দেখবে তরুণ আলবাস নিজের স্বাক্ষরেও একই প্রতীক ব্যবহার করতেন। গ্রিন্ডেলওয়াল্ড যে প্রতীকটি ব্যবহার করেছিল, তা জানা আছে; কিন্তু আমরা আরও জানতে পারি, তার সন্ত্রাসের রাজত্বের বহু আগেই প্রতীকটির ব্যবহার ছিল, আর সে সেটিকে নিজের উদ্দেশ্যে দখল করে নিয়েছিল—অনেকটা যেমন জার্মান ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট পার্টি স্বস্তিকা প্রতীককে নিজেদের করে নিয়েছিল। প্রতীকটি এখন ডাম্বলডোরের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে দেখা যাওয়ায়, হারমায়োনি এমন একজনের কাছে যেতে বাধ্য হবে, যার কাছ থেকে তারা গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের আগের সময়ে প্রতীকটির অর্থ জানতে পারবে বলে মনে করে: জেনো লাভগুড। সদ্য ফিরে আসা রন তাদের এতে সাহায্য করবে, কারণ লাভগুডদের বাড়ি মোটামুটি কোথায়, তা সে জানে।
পরিণত পাঠকদের কাছে এখানে প্রকাশিত ডাম্বলডোরের চিঠিটি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, কারণ এটি দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। রিটা স্কিটারের ব্যাখ্যায়, ডাম্বলডোর ও গ্রিন্ডেলওয়াল্ড জাদুকর ও মাগলদের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আইনব্যবস্থা উল্টে দিতে চেয়েছিলেন; তাদের উদ্দেশ্য ছিল জাদুকরদের অস্তিত্ব প্রকাশ করা এবং এরপর নতুন সামাজিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব নেওয়া। তবে একই চিঠিকে এমন এক তরুণ জাদুকরের পরিকল্পনা হিসেবেও দেখা যায়, যে তখনও বুঝতে শেখেনি—কোনো কিছু বদলাতে হলে ব্যবস্থার ভেতর থেকেই কাজ করতে হয়, ধীরে ধীরে বিদ্যমান কাঠামো পাল্টাতে হয়। অবশ্য এমনভাবে সমাজের কাঠামো বদলাতে হলে বিরল ক্ষমতাসম্পন্ন জাদুকর দরকার, আর ডাম্বলডোর পরে ঠিক তেমনই একজন হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সে উপলব্ধিতে পৌঁছানোর আগে তিনি হয়তো সমাজকে আরও সম্পূর্ণভাবে নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, যেমনটি প্রকাশিত চিঠিতে দেখা যায়। আর তিনি সম্ভবত পুরোপুরি বুঝতে পারেননি যে তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের পদ্ধতি অনেক বেশি চরম, এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী, হতে পারত। শেষ পর্যন্ত মাগলদের সঙ্গে সম্পর্ককে সহনশীল পর্যায়ে আনতে ডাম্বলডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; এমন এক পর্যায়ে, যেখানে আর্থার উইজলির মাগল-সুরক্ষা আইন বাস্তবে প্রণয়ন করা সম্ভব হয়। তবে হ্যারি নিজে তখনও আবেগের দিক থেকে অপরিণত এবং সমাজের প্রকৃতি নিয়ে সরল; তাই তার পক্ষে স্কিটারের ব্যাখ্যাই বেশি সহজে মেনে নেওয়া স্বাভাবিক। পরিবর্তন সম্পর্কে ডাম্বলডোরের উক্তি অন্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে তার আগের অক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, নিজের মনে গড়ে তোলা ডাম্বলডোরের ছবির ওপর হ্যারির আস্থা প্রবলভাবে ভেঙে পড়বে।
চূড়ান্ত বই প্রকাশের পর লেখক এক সাক্ষাৎকারে জানান, ডাম্বলডোর সমকামী ছিলেন। সেই তথ্য মাথায় রাখলে বোঝা যায়, গ্রিন্ডেলওয়াল্ড ও ডাম্বলডোরের সম্পর্ক খুব সম্ভবত বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। অন্তত ডাম্বলডোরের দিক থেকে তা সম্ভবত গভীর মোহ ছিল, আর সেই মোহের কারণেই গ্রিন্ডেলওয়াল্ডের সহিংস স্বভাবের প্রতি তিনি কিছুটা অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন। লেখকের দক্ষতার পরিচয় সম্ভবত এখানেই—আমরা যে একমাত্র চিঠিটি দেখি, সেখানেই সেই মোহের আভাস পাওয়া যায়। তাই এর আগে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না দেখলেও, এই চিঠি প্রকাশের পর ডাম্বলডোরের ব্যক্তিগত প্রবণতা আর অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয় না।
নিজের মিশনের সময় হ্যারি যে একাধিক ভিন্ন জাদুদণ্ড পাবে, সেটি কাহিনির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সে জানতে পারে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জাদুদণ্ড তার আনুগত্য বদলাতে পারে। মি. অলিভ্যান্ডারের দাবি—"জাদুদণ্ডই জাদুকরকে বেছে নেয়"—হ্যারি আগে যতটা বুঝেছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; এবং ভলডেমর্টের সঙ্গে তার শেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে এর প্রভাব পড়বে। ফিরে আসা রন হ্যারিকে একটি বিকল্প জাদুদণ্ড দেবে; সেটি ব্যবহার করা গেলেও, হ্যারির হাতে কখনও খুব ভালো কাজ করবে না।