বিষয়বস্তুতে চলুন

মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার

উইকিবই থেকে

অধ্যায়  : হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার: দ্য রিডল হাউস| অধ্যায় ২ →

সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]
সতর্কীকরণ: কাহিনির অংশ এবং/অথবা সমাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে প্রকাশ করা হয়েছে।

গল্পটি শুরু হয় লিটল হ্যাংলটন নামক ছোট একটি গ্রামের দ্য রিডল হাউস নামক বাড়িতে। রিডল পরিবার সেখানে বসবাস ছেড়ে দেওয়ার বহু বছর অতিবাহিত হলেও গ্রামের অনেক মানুষ এখনও বাড়িটিকে ওই নামেই ডাকে। গ্রামটিকে ছাড়িয়ে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই প্রাক্তন জমিদারি ভবনটি ওই এলাকার সবচেয়ে বড় অট্টালিকা।

বাড়িটির একটি দুর্নাম রয়েছে। অর্ধশতাব্দী আগে রিডল পরিবারের তিন সদস্য, পিতা, মাতা এবং তাদের প্রায় ত্রিশ বছর বয়সী পুত্রকে বসার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। রিডলদের মালি ফ্রাঙ্ক ব্রাইসকে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারণ একমাত্র তার কাছেই বাড়ির চাবি ছিল। তবে পরবর্তীতে যখন নিশ্চিত হওয়া গেল যে ভুক্তভোগীদের কেউ হত্যা করেনি বরং তারা দৃশ্যত ভয়ে মারা গেছেন, তখন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে গ্রামবাসীদের মনে ফ্রাঙ্কই এর জন্য দায়ী বলে সন্দেহ রয়ে যায়।

ব্রাইস এখন রিডলদের ওই সম্পত্তিতে একা থাকেন এবং বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়া সত্ত্বেও অনুপস্থিত মালিকদের পক্ষে বাড়ি ও বাগান যথাসাধ্য দেখাশোনা করেন। এক গভীর রাতে ব্রাইস বাড়ির একটি জানালায় আলো দেখতে পেয়ে তদন্ত করতে যান। ঘরের ভেতরে তিনি লর্ড ভলডেমোর্ট এবং ওয়ার্মটেইল (পিটার পেটিগ্রু)-কে কুইডিচ বিশ্বকাপের পর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে শোনেন, যদিও ব্রাইসের ওই বিশ্বকাপ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। লর্ড ভলডেমোর্ট স্পষ্টতই ওয়ার্মটেইলকে একা কাজ করতে দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এবং তিনি তার এক "বিশ্বস্ত" দাসের কথা বলছিলেন। মনে হচ্ছিল তারা ইতিমধ্যে বার্থা জর্কিন্স নামের কাউকে হত্যা করেছেন।

ভলডেমোর্টের বিশাল পোষা সাপ নাগিনী ব্রাইসকে খুঁজে পায় এবং ওয়ার্মটেইল তাকে জোর করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। ব্রাইস তাদের পুলিশের ভয় দেখালে ভলডেমোর্ট তাকে একজন মাগল বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং ব্রাইসের হুমকিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একটি মৃত্যু অভিশাপ দিয়ে তাকে হত্যা করেন।

দুইশ মাইল দূরে হ্যারি পটার হঠাৎ তার কপালের ক্ষত চিহ্নে প্রচণ্ড তীব্র ব্যথা নিয়ে জেগে ওঠে।

বিশ্লেষণ

[সম্পাদনা]

এই নিয়ে সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বই ডার্সলিদের বাড়িতে হ্যারি পটারের উপস্থিতি ছাড়াই শুরু হলো। প্রথমটি ছিল হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন। এখানে পাঠকরা সরাসরি একটি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হন, যেখানে আগে হত্যার ঘটনাগুলো ঘটার পরে উল্লেখ করা হতো। যুক্তিযুক্তভাবে হ্যারি এই ঘটনাগুলো একটি স্বপ্নে দেখছে, যদিও এর খুঁটিনাটি বিবরণ এবং তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয় এটি সাধারণ স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। হ্যারির স্মৃতিতে এটি একজন নির্লিপ্ত তৃতীয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির মতো মনে হয়, কারণ পরে সে ফ্রাঙ্ক ব্রাইসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ফ্রাঙ্ককে পড়ে যেতে এবং আরামকেদারাটি ঘুরতে দেখেছিল।

শুরুতে এই অধ্যায়টি কিছুটা বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। পরিচারিকার চিৎকারের মাধ্যমে রিডল পরিবারের যে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়, সেটি যে মূল গল্পের পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা, তা বোঝার মতো কোনো ইঙ্গিত শুরুতে দেওয়া হয়নি। যখন গল্পের প্রেক্ষাপট ফ্রাঙ্ক ব্রাইসের বর্তমান সময়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে আসে, তখনই আমরা কেবল সময়ের এই ব্যবধান বুঝতে পারি।

উল্লেখ্য যে, ভলডেমোর্ট যখন তার "বিশ্বস্ত দাসের" কথা বলছিলেন, তখন তিনি নিশ্চিতভাবেই ওয়ার্মটেইল ছাড়া অন্য কাউকে বোঝাচ্ছিলেন। এই তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় অস্পষ্ট রাখা হয়েছে এবং এটি ওয়ার্মটেইলকে বেশ আতঙ্কিত করে তোলে, কারণ এর অর্থ হলো ভলডেমোর্ট ওয়ার্মটেইলকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না এবং তাকে যেকোনো সময় শাস্তি বা মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হতে পারে। এটি ভলডেমোর্টের চরিত্রকে আবারও ফুটিয়ে তোলে; তিনি শ্রদ্ধা বা আনুগত্যের চেয়ে বরং ভয়, ভীতি প্রদর্শন এবং যন্ত্রণার মাধ্যমে তার সহযোগীদের শাসন করেন।

ভলডেমোর্টের সাপ নাগিনীর প্রথম উপস্থিতি এখানেই ঘটে। ওয়ার্মটেইল স্পষ্টতই নাগিনীর শরীর থেকে কোনো পদার্থ সংগ্রহ করছেন, সম্ভবত সেটি বিষ, যা লর্ড ভলডেমোর্টকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন। বিষাক্ত সাপ থেকে বিষ সংগ্রহ করার পদ্ধতিটি কেবল জাদুকরী দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; এই পদ্ধতিতেই আমরা বিষের প্রতিষেধক তৈরি করি। ভলডেমোর্ট নিজে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করছেন তা হয়তো অস্বাভাবিক, তবে সাপের ওপর ভলডেমোর্টের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এটি সাধারণ মাগল সংগ্রহকারীদের তুলনায় ভলডেমোর্ট ও ওয়ার্মটেইলের জন্য অনেক কম বিপজ্জনক।

আগেই বলা হয়েছে, আমরা এখানে ফ্রাঙ্ক ব্রাইসকে খুন হতে দেখি। দৃশ্যত ভলডেমোর্টের কণ্ঠে কথা বলা কোনো সত্তা তাকে হত্যা করে, যদিও সেটি কী ছিল তা আমরা দেখতে পাই না। এটি যদি হ্যারির দুঃস্বপ্ন না হয়ে ভলডেমোর্টের সত্যিকারের কাজ হয়ে থাকে, তবে বোঝা যায় যে দেহহীন অবস্থায়ও ভলডেমোর্টের শক্তি ইতিমধ্যে প্রবল এবং সম্ভবত তা আরও বাড়ছে।

প্রশ্নাবলী

[সম্পাদনা]

পাঠ্যসংক্রান্ত প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অনুশীলনের জন্য রাখা হয়েছে; অনুগ্রহ করে এখানে এগুলোর উত্তর দেবেন না।

পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]
  1. রিডল ম্যানরের কেন একটি "ভুতুড়ে" বদনাম রয়েছে? কেন এত বছর ধরে সেখানে কেউ বসবাস করেনি?
  2. ফ্রাঙ্ক ব্রাইসকে কেন রিডল পরিবারের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং পরে কেন তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়? কী তাদের হত্যা করতে পারে?
  3. বার্থা জর্কিন্সকে কেন সম্প্রতি হত্যা করা হয়েছিল?
  4. ভলডেমোর্ট যেভাবে নাগিনীর সাথে কথা বলেন, অন্য কেউ কি সাপের সাথে সেভাবে কথা বলতে পারে? এটি কীভাবে সম্ভব?

অধিকতর অধ্যয়ন

[সম্পাদনা]
  1. রিডল হাউসের "ধনী" মালিক কে হতে পারেন? ভলডেমোর্ট কি বাড়িটির মালিকানা নিয়ে চিন্তিত? কেন বা কেন নয়?
  2. ফ্রাঙ্ক ব্রাইস যখন খুন হচ্ছিলেন, তখন ঠিক সেই মুহূর্তে দুইশ মাইল দূরে হ্যারি কেন যন্ত্রণায় জেগে ওঠে?
  3. এখানে উল্লিখিত "বিশ্বস্ত দাস" কে হতে পারেন? স্বপক্ষে যুক্তি দিন।
  4. নাগিনী কেন অন্য সব সাপের চেয়ে আলাদা আচরণ করে বলে মনে হয়?

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]
একটু দাঁড়ান! আপনি যদি মধ্যম পর্যায়ের পাঠক হন, তবে নিচের বিস্তারিত বিবরণ আপনার মূল বই পড়ার আনন্দে বাদ সাধতে পারে।

এই অধ্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে, এই অধ্যায়ে আমরা যে রিডল পরিবারকে খুন হতে দেখি, তারা আসলে ভলডেমোর্টের মাগল পিতা এবং দাদা-দাদী। এই বইটির পরবর্তী অংশে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এবং ষষ্ঠ বইতে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই বইয়ের পরবর্তী অংশে এবং এর পরের বইতেও হ্যারি এমন কিছু "স্বপ্ন" দেখবে যা ভলডেমোর্টের দেখা বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন বলে মনে হবে। বইয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রমাণ নির্দেশ করে যে এই অধ্যায়ের ঘটনাগুলোও সম্ভবত তেমনই একটি "স্বপ্ন"। আমরা আগেই দেখেছি যে, প্রফেসর ডাম্বলডোর হ্যারির কপালের ক্ষতচিহ্নের ব্যথার সাথে ভলডেমোর্টের সেই অভিশাপের অবশিষ্ট প্রভাবের যোগসূত্র স্থাপন করেছেন, যা তিনি শিশু হ্যারিকে মারার চেষ্টার সময় দিয়েছিলেন। এই স্বপ্নের কথা শুনে ডাম্বলডোর আরও সন্দেহ করেন যে, সেই হত্যার চেষ্টা হয়তো ভলডেমোর্টের আত্মার একটি অংশ ছিঁড়ে হ্যারির মাঝে স্থানান্তরিত করেছিল, যার ফলে হ্যারি অনিচ্ছাকৃতভাবেই ভলডেমোর্টের অন্যতম হরক্রাক্স হয়ে ওঠে। অনেক পরে ডাম্বলডোর হ্যারিকে জানান যে, তিনি বিশ্বাস করেন এটি তাদের মনের মাঝে একটি সত্যিকারের সংযোগ গড়ে তুলেছে। ভলডেমোর্ট শুরুতে এই সংযোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অসচেতন থাকলেও পরে তিনি এটি বুঝতে পারেন এবং হ্যারিকে ফাঁদে ফেলার জন্য এর সুযোগ নেন; এটি পুরো পঞ্চম বইজুড়ে দেখা যায়।

নাগিনীকে একটি সাধারণ সাপের চেয়ে অনেক বেশি আজ্ঞাবহ এবং বুদ্ধিমান বলে মনে হয়। হলের মাঝে একজন মাগলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাধারণ সাপের আক্রমণ করার বা লুকিয়ে পড়ার কথা থাকলেও নাগিনী ভ্রূক্ষেপহীনভাবে পাশ কাটিয়ে চলে যায় এবং ফ্রাঙ্ক ব্রাইসের উপস্থিতির খবর দ্রুত তার প্রভুকে জানায়। পাঠকরা হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন বইতে চিড়িয়াখানায় হ্যারিকে একটি অজগরের সাথে কথা বলতে দেখলেও নাগিনীর সাথে ভলডেমোর্টের সংযোগ আরও গভীর এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে মনে হয়। আমরা পরে জানতে পারি যে নাগিনী নিজেও একটি হরক্রাক্স এবং সম্ভবত ভলডেমোর্ট যখন তার আত্মার অংশ সাপের মাঝে স্থানান্তরিত করেছিলেন, তখন মানুষের মতো কিছু বুদ্ধিও সাপে সংক্রমিত হয়েছিল।

এই অধ্যায়ে বর্ণিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলো বর্তমানে আমাদের জানা এবং পরবর্তীতে আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে পুরোপুরি মেলে না। এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ফ্রাঙ্ক ব্রাইসের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়েছে, কিন্তু আমাদের ধারণা মতে হ্যারি আসলে ভলডেমোর্টের মনের ভাগীদার ছিল, তাই তার ভলডেমোর্ট অথবা নাগিনীর দৃষ্টিভঙ্গিতে সব দেখার কথা ছিল। (নাগিনী যে একটি হরক্রাক্স এবং ভলডেমোর্টের আত্মার অংশ বহন করছে তা হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স বইয়ের আগে সরাসরি ইঙ্গিত করা হয়নি, যদিও এর প্রমাণ এক বছর আগেই বড়দিনের সময় হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স বইতে উন্মোচিত হয়েছিল)। এই স্বপ্ন সম্পর্কে হ্যারির চিন্তা এবং পরবর্তী বইগুলোতে প্রকাশিত হ্যারি ও ভলডেমোর্টের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে হ্যারি মূলত নাগিনীর চোখ দিয়ে ঘটনাগুলো দেখছিল। এই কারণে এবং হ্যারি কেবল তখনই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল যখন ব্রাইস ধরা পড়েন এবং ভলডেমোর্ট ক্রুদ্ধ হন, আমাদের ধরে নিতে হবে যে ব্রাইস ধরা পড়ার আগের সব তথ্য হ্যারি কেবল ভলডেমোর্টের কাছে ব্রাইসের করা মন্তব্য থেকে জানতে পেরেছে।

ভলডেমোর্ট যে "বিশ্বস্ত দাসের" কথা উল্লেখ করেছেন তার পরিচয় সরাসরি দেওয়া না হলেও হ্যারির সাথে প্রফেসর স্নেপের সম্পর্কের কারণে আমাদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে প্রফেসর স্নেপের ওপর। তবে ওয়ার্মটেইল এবং স্নেপের অতীত জীবন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে ভলডেমোর্টের পতনের সময় তারা দুজনেই প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন: ওয়ার্মটেইল আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন এবং স্নেপ ডাম্বলডোরের সাদা ধবধবে ভাবমূর্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তার অধীনে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। ভলডেমোর্টের অনুপস্থিতিতে তাদের কেউই তার আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেননি; প্রত্যেকেই নিজ নিজ উপায়ে জাদুকরদের নিয়ে ভলডেমোর্টের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে স্নেপ যেহেতু সিরিজের প্রথম বইতে ভলডেমোর্টের পরশপাথর পাওয়ার চেষ্টায় বাধা দিয়েছিলেন বলে মনে হয়, তাই সম্ভবত ভলডেমোর্ট বিশ্বাস করেন যে স্নেপ তার বিরুদ্ধে চলে গেছেন। এই ধারণার প্রতিধ্বনি এই বইয়ের পরবর্তী অধ্যায়েও পাওয়া যেতে পারে। এমনকি বর্তমানে আমরা যা জানি তা সত্ত্বেও ভলডেমোর্টের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করলে দেখা যায় যে স্নেপ পেটিগ্রুর চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য নন। ভলডেমোর্টের চোখে এই অবিশ্বাসের বিষয়টি ষষ্ঠ বইয়ের আগে বিস্তারিতভাবে খণ্ডন করা হয়নি। আমরা স্নেপের আনুগত্যের আসল সত্য কেবল শেষ বইটিতে জানতে পারি।

যদিও ভলডেমোর্টের বিশ্বস্ত দাস কে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তবে সম্ভবত ভলডেমোর্ট এখানে বার্টি ক্রাউচ জুনিয়রকে বোঝাচ্ছেন, যার অস্তিত্বের কথা তিনি বার্থা জর্কিন্সকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন। ভলডেমোর্ট যে "আরও একটি অভিশাপের" কথা বলেছেন তা সম্ভবত ইম্পেরিয়াস অভিশাপ, যা ওয়ার্মটেইল বার্টিমিইয়াস ক্রাউচের ওপর প্রয়োগ করবেন। অবশ্যই অন্যান্য অভিশাপের প্রয়োজন হবে, তবে ম্যাড আই মুডিকে কাবু করার অভিশাপটি ভলডেমোর্ট বা পেটিগ্রুকে দিতে হবে না। বরং বার্টি ক্রাউচ জুনিয়র একবার ভলডেমোর্টের সেবায় ফিরে এলে তিনি নিজেই সেটি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অভিশাপ দিতে পারবেন।

সংযোগসমূহ

[সম্পাদনা]
  • আমরা হ্যারি এবং ভলডেমোর্টের মধ্যে একটি সংযোগ সম্পর্কে আগেই জেনেছি যা হ্যারির ক্ষতের ব্যথার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তবে এই প্রথমবার আমরা দেখতে পেলাম যে এই সংযোগের মাধ্যমে প্রকৃত অনুভূতি এবং ঘটনাও স্থানান্তরিত হতে পারে। আমরা এই বইতে এটি আবারও দেখতে পাব এবং ভলডেমোর্ট এই সংযোগের কথা জানতে পেরে পরের বইতে হ্যারিকে ফাঁদে ফেলতে এটি ব্যবহার করবেন। হ্যারি শেষ বইতে এই সংযোগের অভিমুখ উল্টে দিয়ে ভলডেমোর্টের কাছ থেকে দরকারী তথ্য সংগ্রহ করবে।
  • হ্যারি এই বইয়ের পরবর্তী অংশে ভলডেমোর্টের হাতে বন্দি হয়ে আবারও লিটল হ্যাংলটন এবং রিডল হাউসের আশেপাশে যাবে; এবং আবারও বব অগডেনের স্মৃতির মাধ্যমে আজ থেকে দুই বছর পর সেখানে যাবে। আমরা এও জানতে পারব যে ভলডেমোর্ট লিটল হ্যাংলটনে একটি হরক্রাক্স লুকিয়ে রেখেছিলেন; হ্যারি সেই গোপন জায়গাটি খালি দেখে ভলডেমোর্টের প্রচণ্ড ক্রোধ অনুভব করবে এবং জানবে যে ডাম্বলডোর সেখান থেকে সেই হরক্রাক্সটি উদ্ধার করেছিলেন।