বিষয়বস্তুতে চলুন

মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার

উইকিবই থেকে

অধ্যায় ৩৪ : হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স: রহস্য বিভাগ← অধ্যায় ৩৩ | অধ্যায় ৩৫ →

সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]
সতর্কীকরণ: কাহিনির অংশ এবং/অথবা সমাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে প্রকাশ করা হয়েছে।

হ্যারি পটার, নেভিল লংবটম এবং লুনা লাভগুড দ্রুত তাদের থেস্ট্রালের পিঠে চড়ে বসে। হারমায়োনি গ্রেঞ্জার, রন উইজলি এবং জিনি উইজলি তাদের ঘোড়াগুলো খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে। লুনা তখন নিজের ঘোড়া থেকে নেমে তাদের সাহায্য করে। হ্যারি তার থেস্ট্রালকে লন্ডনের যাদু মন্ত্রণালয়ের দর্শনার্থী প্রবেশদ্বারে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে থেস্ট্রালগুলো ডানা মেলে উড়াল দেয়। মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর রন শপথ করে যে সে আর কখনো থেস্ট্রালের পিঠে চড়বে না। ছাত্ররা সবাই মিলে মন্ত্রণালয়ের দর্শনার্থী প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত টেলিফোন বক্সের ভেতরে গাদাগাদি করে ঢুকে পড়ে। রন মন্ত্রণালয়ের নম্বরটি ডায়াল করে। তারা নিচে অলিন্দে (অ্যাট্রিয়াম) নেমে দেখে যে অভ্যর্থনা এলাকাটি জনমানবহীন। এমনকি কোনো প্রহরী জাদুকরও সেখানে ডিউটিতে নেই। হ্যারি এটিকে একটি ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নেয় যে লর্ড ভলডেমোর্ট সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি তার চিরচেনা অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এখান দিয়ে পার হয়েছে। এতে হ্যারির বিশ্বাস আরও জোরালো হয় যে সিরিয়াস ব্ল্যাক অবশ্যই এখানেই আছে। হ্যারি এবং অন্যরা একটি লিফটে করে একদম নিচের উপ-স্তরে বা রহস্য বিভাগে নেমে যায়।

হ্যারির দেখা স্বপ্ন থেকে সে বারান্দাটি চিনতে পারে এবং জানে কোন দরজা দিয়ে ঢুকতে হবে। ভেতরে বারোটি দরজাবিশিষ্ট একটি বিশাল বৃত্তাকার কক্ষ। হ্যারি নিশ্চিত হতে পারে না কোন দরজা দিয়ে এগোতে হবে। আরও সমস্যা হলো, তাদের পেছনে কোনো দরজা বন্ধ হওয়া মাত্র ঘরের দেয়ালগুলো দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। দেয়ালগুলো থামা মাত্র তারা প্রথম দরজাটি খোলে। কিন্তু ঘরটি হ্যারির দেখা স্বপ্নের মতো ছিল না। এর পরিবর্তে সেখানে একটি বড় ট্যাঙ্কে কতগুলো মস্তিষ্ক ভাসছিল। তারা পিছিয়ে এলে হারমায়োনি তার জাদুদণ্ড দিয়ে দরজায় একটি চিহ্ন দেয় যাতে তারা বুঝতে পারে যে এই ঘরটি দেখা শেষ হয়েছে। পরের ঘরটি ছিল পাথরের তৈরি একটি বিশাল নাট্যমঞ্চের মতো। মাঝখানের একটি উঁচু বেদীর ওপর প্রাচীন পাথরের একটি খিলান দাঁড়িয়ে আছে। খিলানের প্রবেশপথে একটি জীর্ণ পর্দা দুলছিল। পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে হ্যারির অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো যে ওপাশে কেউ আছে। আতঙ্কিত হারমায়োনি হ্যারিকে পুনরায় বৃত্তাকার ঘরে ডেকে নেয়।

পরের দরজাটি কিছুতেই খুলছিল না। হ্যারি সিরিয়াসের দেওয়া সেই ছুরিটি ঢোকাল যা "যেকোনো দরজা খুলতে পারে"। কিন্তু ছুরির ফলাটি গলে গেলেও দরজাটি বন্ধই রইল। এর পরের দরজায় হ্যারি তার স্বপ্নের সেই স্ফুলিঙ্গময় এবং ঝিলমিল আলো দেখতে পায়। ভেতরে একটি কাঁচের জারের নিচে একটি সুন্দর হামিংবার্ড ছিল। পাখিটি বারবার একটি ডিম থেকে জন্মাচ্ছে, উপরে উড়ে যাচ্ছে, আবার নিচে পড়ে গিয়ে ডিমের ভেতরে ফিরে যাচ্ছে এবং পুনরায় জন্মাচ্ছে। এই ঘরটি পার হয়ে তারা একটি বিশাল কক্ষে পৌঁছায় যেখানে তাকে তাকে কাঁচের গোলক সাজানো ছিল। হ্যারি তার স্বপ্নে এই ঘরটিই দেখেছিল। সিরিয়াসের কোনো চিহ্ন না পেয়ে হ্যারি যখন হগওয়ার্টসে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে, তখন রন একটি গোলক খুঁজে পায়। সেটিতে লেখা ছিল "এস.পি.টি. থেকে এ.পি.ডাব্লিউ,বি.ডি. ডার্ক লর্ড এবং (?)হ্যারি পটার"। হ্যারি সেটির দিকে হাত বাড়ালে হারমায়োনি এটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করে। কিন্তু হ্যারি সেটি ধরার পর কিছুই হলো না। ঘরটি শীতল হলেও গোলকটি হ্যারির হাতে উষ্ণ অনুভব হচ্ছিল।

স্তব্ধতা ভেঙে পেছন থেকে একটি কণ্ঠস্বর ভেসে আসে: "খুব ভালো, পটার। এবার খুব ধীরে ঘুরে দাঁড়াও এবং ওটা আমাকে দিয়ে দাও।"

বিশ্লেষণ

[সম্পাদনা]

হ্যারি তার ধর্মপিতাকে উদ্ধারের নেশায় এতটাই মত্ত ছিল যে সে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একটি অজানা পরিস্থিতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সে নিজের এবং বন্ধুদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেছে। এমনকি সিরিয়াস প্রকৃতপক্ষে বিপদে আছে কিনা তাও সে নিশ্চিত করেনি। হারমায়োনি সতর্ক করেছিল যে স্বপ্নটি একটি মিথ্যা দৃশ্য হতে পারে। কিন্তু হ্যারি তা কানে না তুলে কেবল নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা করেছে। সিরিয়াসকে রক্ষা করার তীব্র আবেগই তাকে চালিত করেছে। চাপের মুখে হ্যারি প্রায়ই অন্যদের পরামর্শ গ্রহণে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং যুক্তির বদলে আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়। তার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও সে তখন একগুঁয়ে হয়ে পড়ে। সে বন্ধুদের সাথে আসতে বারণ করলেও তারা পিছিয়ে থাকতে অস্বীকার করে। যদিও তারা বুঝতে পারছিল যে হ্যারি একটি অবিবেচনাপ্রসূত এবং প্রাণঘাতী পথে এগোচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত তাদের আশঙ্কাই ঠিক ছিল। হ্যারির এই হঠকারী এবং অনুমানযোগ্য আচরণ তাকে ও অন্যদের একটি মরণফাঁদে নিয়ে এসেছে। এর সাথে এটিও লক্ষ্যণীয় যে লুনা ঘোড়া থেকে নেমে রন, হারমায়োনি এবং জিনিকে সাহায্য করছিল। হ্যারি সেখানে সাহায্য না করে রওয়ানা হওয়ার জন্য অত্যন্ত অধৈর্য ছিল।

পাঠকরা সম্ভবত গোলকের গায়ের নামগুলো অনুমান করতে পারবেন। এস.পি.টি. থেকে এ.পি.ডাব্লিউ,বি.ডি. দিয়ে মূলত সিবিল প্যাট্রিসিয়া ট্রিলনি এবং অ্যালবাস পার্সিভাল উলফ্রিক ব্রায়ান ডাম্বলডোরকে বোঝানো হয়েছে।

ডিম থেকে বারবার জন্ম নেওয়া সুন্দর হামিংবার্ডটি বেশ কৌতূহলজনক। এটি অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ফিনিক্স পাখি যেমন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং নিজের ছাই থেকে পুনর্জন্ম লাভ করে। তবে এখানে এটি মূলত সময়ের রহস্যকে নির্দেশ করে।

প্রশ্নসমূহ

[সম্পাদনা]

পাঠ্যসংক্রান্ত প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অনুশীলনের জন্য রাখা হয়েছে; অনুগ্রহ করে এখানে এগুলোর উত্তর দেবেন না।

পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]

১. থেস্ট্রালের পিঠে ওড়া নিয়ে রন কেন চিন্তিত ছিল? ২. রহস্য বিভাগ হ্যারি এবং অন্যদের জন্য এত সহজে প্রবেশযোগ্য ছিল কেন?

আরও অধ্যয়ন

[সম্পাদনা]

১. এই 'গোলক'গুলো আসলে কী? ২. হ্যারি নিজের নাম লেখা গোলক স্পর্শ করলেও হারমায়োনির দুশ্চিন্তা করা কি ঠিক ছিল? কী হতে পারত? ৩. পর্দার খিলানের কাছে দাঁড়িয়ে হ্যারি কেন অদ্ভুত অনুভূতি পাচ্ছিল? হ্যারি যদি খিলানের ওপাশে চলে যেত তবে কী হতো? ৪. রন, হারমায়োনি এবং অন্যরা কেন হ্যারির সাথে যাওয়ার জেদ ধরল? যদিও তারা জানত এটি একটি ফাঁদ হতে পারে। এটি তাদের চরিত্র সম্পর্কে কী বলে?

বৃহত্তর চিত্র

[সম্পাদনা]
একটু দাঁড়ান! আপনি যদি মধ্যম পর্যায়ের পাঠক হন, তবে নিচের বিস্তারিত বিবরণ আপনার মূল বই পড়ার আনন্দে বাদ সাধতে পারে।

নাট্যমঞ্চের সেই পর্দার প্রতি লুনা এবং হ্যারির প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় যে তারা মৃত ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিল। এটি একটি পরিচিত রূপকের শারীরিক রূপ প্রকাশ করে। যখন আমরা বলি কেউ "পর্দার ওপারে চলে গেছে", তার অর্থ হলো সেই ব্যক্তি মারা গেছে। এই ঘরটি এবং এখানকার পর্দা মূলত সেই রূপকটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এই ব্যাখ্যাটি পরে আরও জোরালো হয় যখন সিরিয়াস এই জীর্ণ পর্দার ভেতর দিয়ে গিয়ে চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যায়। এছাড়া লুনা এই বইয়ের শেষে হ্যারিকে বলে যে খিলানে শোনা কণ্ঠস্বরগুলো ছিল মৃতদের। তারা সেখানে হ্যারির জন্য অপেক্ষা করছিল।

গোলকগুলো আসলে ভবিষ্যদ্বাণীর রেকর্ড। যারা মূল ভবিষ্যদ্বাণী দেখেছিল, তাদের কাছ থেকে স্মৃতি বের করার মতো করেই এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে স্মৃতি বের করে পেনসিভে রাখা যায়। ভলডেমোর্ট যে "অস্ত্র" খুঁজছিল তা আসলে এই ভবিষ্যদ্বাণী। আমরা জানতে পারব যে সে এটার কেবল অর্ধেক শুনেছে। সে বিশ্বাস করে বাকি অর্ধেকটা জানলে সে হ্যারিকে পরাজিত করতে পারবে এবং জাদুজগত দখল করতে পারবে।

রহস্য বিভাগের কক্ষগুলোর সজ্জা বেশ অর্থবহ। বৃত্তাকার ঘরের বারোটি দরজার এগারোটিই সম্ভবত রহস্যের একেকটি শাখার গবেষণার জন্য। বারোতম দরজাটি অ্যাট্রিয়ামে ফেরার পথ। এখানে আমরা চিন্তা বা চেতনা, মৃত্যু এবং সময়ের রহস্য দেখতে পাই। ভবিষ্যদ্বাণী সময়ের রহস্যের সাথে সম্পর্কিত হওয়া যুক্তিযুক্ত। কারণ এটি সময় সম্পর্কে আমাদের সাধারণ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। পরে অন্য একটি ঘরে আমরা একটি বিশাল মহাকাশ মডেলে মহাবিশ্বের রহস্য দেখতে পাব। ডাম্বলডোর হ্যারিকে এমন একটি ঘর সম্পর্কে বলবেন যার দরজা সবসময় বন্ধ থাকে। কারণ সেখানে ভালোবাসার রহস্যের মতো বিশাল এক শক্তি বিদ্যমান। রহস্যগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ থাকাও স্বাভাবিক। পরে দেখা যাবে মৃত্যু কক্ষ থেকে বেরিয়ে হ্যারি সরাসরি মস্তিষ্ক কক্ষে ঢুকে পড়েছে। এখান থেকে বোঝা যায় যে চেতনা এবং মৃত্যুর রহস্য একে অপরের সাথে যুক্ত। এটি মূলত "ডকট্রিন অফ সিগনেচার্সের" একটি উদাহরণ। মধ্যযুগীয় জাদুর মূল ভিত্তি ছিল এই বিশ্বাস যে কোনো জিনিসের রূপ তার কাজকে নির্দেশ করে। রহস্য বিভাগের নকশাতেও জাদুকররা হয়তো বিভিন্ন রহস্যের সংযোগকে এভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

সংযোগসমূহ

[সম্পাদনা]
  • হ্যারি এখান থেকে যে গোলকটি নেয় তা মূলত একটি ভবিষ্যদ্বাণী। এটিই এই সিরিজের মূল চালিকাশক্তি। এটি পরের অধ্যায়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। ডাম্বলডোর প্রথম বইয়ে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং এই বইয়ের শেষ দিকে এটি প্রকাশ করবেন। এটি প্রফেসর ট্রিলনির করা দুটি বাস্তব ভবিষ্যদ্বাণীর প্রথমটি। পরবর্তী বইয়ে আমরা এই ভবিষ্যদ্বাণী এবং এটি প্রকাশের ঘটনাগুলো পুনরায় দেখতে পাব।
  • সিরিয়াস পরের অধ্যায়ে পর্দার আড়ালে হারিয়ে যাবে। লুনা হ্যারির সাথে এই নিয়ে পরে কথা বলবে। যদিও পর্দার ঘরটি গল্পে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু মৃত্যুকে শেষ হিসেবে না দেখে "নতুন যাত্রা" হিসেবে দেখার ধারণাটি পুরো সাতটি বই জুড়েই বিদ্যমান। ডাম্বলডোর শেষ বইয়ে এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবেন।