মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/হিপোগ্রিফ
| মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার - জাদু | |
| হিপোগ্রিফ | |
|---|---|
| ধরণ | উড়ন্ত প্রাণী |
| বৈশিষ্ট্য | ঈগলের মাথা ও ডানা, ঘোড়ার শরীর |
| প্রথম উপস্থিতি | হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান |
সারসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]হিপোগ্রিফ হলো এমন একটি প্রাণী যার শরীর, পেছনের পা এবং লেজ ঘোড়ার মতো। তবে এর সামনের পা, ডানা এবং মাথা দেখতে একটি বিশাল ঈগলের মতো। এর একটি নির্মম, ইস্পাত রঙের ঠোঁট এবং বড়, উজ্জ্বল কমলা রঙের চোখ রয়েছে। এর সামনের পায়ের নখরগুলো আধ ফুট লম্বা এবং দেখতে অত্যন্ত মারাত্মক।
বিস্তারিত বিবরণ
[সম্পাদনা]হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান বইয়ে আমাদের হিপোগ্রিফের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন রুবিয়াস হ্যাগ্রিড। তিনি তখন জাদুকরী প্রাণীদের যত্ন বিষয়ে পড়াচ্ছিলেন। হ্যাগ্রিডের প্রিয় অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতোই হিপোগ্রিফও সামলানো বেশ বিপজ্জনক হতে পারে।
"হিপোগ্রিফ সম্পর্কে যে জিনিসগুলো জানা জরুরি"
[সম্পাদনা](যা হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান বইয়ে রুবিয়াস হ্যাগ্রিড উল্লেখ করেছেন)
- তারা আত্মমর্যাদাশীল
- তারা খুব সহজেই অসন্তুষ্ট হয়
- তাদের কখনো অপমান কোরো না কারণ সেটিই হতে পারে তোমার শেষ কাজ
- হিপোগ্রিফ নিজে আগে এগিয়ে আসার জন্য সবসময় অপেক্ষা করবে
- এটি ভদ্রতার লক্ষণ
- তার মুখোমুখি হলে চোখের পলক না ফেলার চেষ্টা কোরো। তুমি বেশি চোখের পলক ফেললে হিপোগ্রিফ তোমাকে বিশ্বাস করবে না
- হিপোগ্রিফের কোনো পালক কখনো টানবে না। তারা এটি পছন্দ করবে না
- হিপোগ্রিফে চড়ার জন্য ডানার জোড়ার ঠিক পেছনটাতে উঠে বসবে
হিপোগ্রিফের কাছে যাওয়ার নিয়ম
[সম্পাদনা]যেহেতু তারা ভদ্র আচরণ পছন্দ করে তাই তাদের কাছে যাওয়ার একটি সঠিক নিয়ম রয়েছে। তার দিকে হেঁটে যাও। তারপর মাথা নিচু করে সম্মান জানাও এবং অপেক্ষা করো। সে যদি জবাবে মাথা নিচু করে তবেই তাকে স্পর্শ করার অনুমতি পাবে। আর সে যদি মাথা নিচু না করে তবে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাও। কারণ ওই নখরের আঘাত বড় বেদনাদায়ক।
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]তৃতীয় চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সময়ে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হিপোগ্রিফের দৃশ্যগুলোর জন্য দায়ী অ্যানিমেটররা বিশেষ তথ্য শেয়ার করেন। তারা উল্লেখ করেছিলেন যে এই প্রাণীটি তৈরির জন্য তাদের কাছে খুব কম তথ্য ছিল। সাধারণ মানুষের উপকথায় হিপোগ্রিফের উল্লেখ রয়েছে এবং এর বর্ণনা দেওয়া থাকলেও দৃশ্যত এর চিত্রায়ণ খুব কমই হয়েছে। এটি বিবেচনা করলে মনে প্রশ্ন জাগে যে কেন হিপোগ্রিফকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে কাহিনী লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে সিরিয়াস ব্ল্যাকের পালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন ছিল। এটি তাকে ইংল্যান্ডের বাইরে তুলনামূলকভাবে দ্রুত যাতায়াত করতে সাহায্য করবে। জাদুজগত এবং সাধারণ মানুষের জগত উভয় জায়গায় সতর্কতা জারি থাকায় তার পালিয়ে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হতে পারত একটি উড়ন্ত জাদুকরী বস্তু। হ্যারির ঝাড়ু অবশ্যই এই তালিকায় পড়ে না। যদিও সিরিয়াস এটি হ্যারির জন্য কিনেছিলেন। কিন্তু হ্যারি যদি সিরিয়াসকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এটি দিয়ে দিত তবে তা হতো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এর ব্যাখ্যা দেওয়াও বেশ কঠিন হতো। তাই সিরিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের অন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন ছিল। আমরা কোনো উড়ন্ত কার্পেট দেখিনি এবং পরবর্তীতে তা দেখবও না। এগুলো আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আমরা তা হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার বইয়ে জানতে পারি। সিরিয়াস তার উড়ন্ত মোটরসাইকেলটি হ্যাগ্রিডকে দিয়ে দিয়েছিলেন। আর মিস্টার উইজলির উড়ন্ত গাড়িটি দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য হয়তো আর উপযুক্ত ছিল না। সেটি নিষিদ্ধ বণে নিজের আস্তানা কখনো ত্যাগ করে কি না তাও নিশ্চিত নয়। তাই আমাদের ওড়ার অন্য কোনো মাধ্যম নিয়ে আসতে হতো। লেখক সম্ভবত সাধারণ মানুষের উপকথা ঘেঁটে এমন একটি প্রাণী খুঁজে বের করেছিলেন যা উড়তে পারে। এটি আকারে যথেষ্ট বড় এবং চড়ার জন্য যথেষ্ট শান্ত স্বভাবের ছিল। হিপোগ্রিফের বৈশিষ্ট্যগুলো যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তবে সেগুলো খুবই উপযুক্ত কারণ এগুলো হ্যাগ্রিডের চরিত্রের কিছু দিক ফুটিয়ে তোলে যা আমরা কেবল এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছি। এর ফলে ড্রেকো ম্যালফয় এবং তার বাবার চরিত্রও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উপরন্তু এগুলো বন্ধুত্বের অর্থ ও মূল্যকে প্রতিষ্ঠিত করার পটভূমি তৈরি করে। এর ফলে বিশেষ কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাকবিকের চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশ্নাবলী
[সম্পাদনা]