মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/রিডিকুলাস
| মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার - জাদু | |
| রিডিকুলাস | |
|---|---|
| ধরণ | মন্ত্র |
| বৈশিষ্ট্য | একটি বগার্টের রূপ পরিবর্তন করে |
| প্রথম উপস্থিতি | হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান |
সারসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]রিডিকুলাস হলো বগার্টদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি মন্ত্র। এই মন্ত্রটি প্রয়োগ করার সময় জাদুকরকে অবশ্যই মজার কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হয়। এটি সফলভাবে প্রয়োগ করা হলে বগার্টটি জাদুকরের ভাবা সেই মজার বস্তুর রূপ ধারণ করতে বাধ্য হয়। যেহেতু বগার্টরা ভয় খেয়ে বেঁচে থাকে এবং হাসির মাধ্যমে পরাস্ত হয়, তাই এই মন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো বগার্টকে একটি হাস্যাস্পদ বস্তুতে পরিণত করা।
বিস্তারিত বিবরণ
[সম্পাদনা]হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান বইয়ে আমরা এই মন্ত্রটির বেশ কয়েকবার ব্যবহার দেখতে পাই। সেখানে প্রফেসর লুপিন তার কালো জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ক্লাসে শিক্ষার্থীদের এই মন্ত্রটি শেখাচ্ছিলেন। প্রফেসর লুপিন হ্যারির ডিমেন্টর প্রতিরোধী পাঠের অনুশীলনের জন্য একটি বগার্টের ব্যবস্থা করলেও, সেটির বিরুদ্ধে রিডিকুলাস মন্ত্রের ব্যবহার আমরা দেখতে পাই না। এই বইয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বগার্ট যখন অন্যতম একটি পরীক্ষা হিসেবে উপস্থিত হয়, তখন এই মন্ত্রটি আবার দেখা যায়।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার বইয়ে তৃতীয় কাজের গোলকধাঁধায় একটি বগার্ট ভূমিকা পালন করে। তবে এখানে রিডিকুলাস মন্ত্রের কার্যকারিতা কতটা ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স বইয়েও একটি বগার্ট আবির্ভূত হয়। মিসেস উইজলি এটির বিরুদ্ধে রিডিকুলাস মন্ত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করছিলেন এবং বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তবে মন্ত্রের প্রভাবে বগার্টের রূপ পরিবর্তনের কারণে হ্যারি এটি লক্ষ্য করার সুযোগ পায় যে মিসেস উইজলি তার নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই হ্যারির কল্যাণের জন্যও সমানভাবে উদ্বিগ্ন থাকেন।
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]এই মন্ত্রটির উপযোগিতা বেশ সীমিত। আমাদের কাহিনীর প্রেক্ষাপটে এটি কেবল বগার্টদের বিরুদ্ধেই কার্যকর। তবে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সিরিজে এটি বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। প্রফেসর লুপিন শিক্ষাবর্ষের মধ্যে অন্তত দুইবার এবং সম্ভবত তিনবার চাওবামাত্রই বগার্ট খুঁজে পেয়েছিলেন। এটি নির্দেশ করে যে জাদুজগতে বগার্টরা তুলনামূলকভাবে বেশ সাধারণ বা পরিচিত প্রাণী। তবে লুপিনের ব্যবহারিক চূড়ান্ত পরীক্ষায় যে বগার্টটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিই হ্যারি তার ডিমেন্টর প্রতিরোধী মন্ত্রের জন্য ব্যবহার করছিল কি না তা কাহিনীতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।
নিজের সবচেয়ে বড় ভয়কে যদি কোনোভাবেই মজার আকারে ভাবা না যায়, তবে বগার্টকে কীভাবে সামলানো যাবে সে বিষয়ে লেখক নীরব থেকেছেন। সিরিজে আমরা এমন দুটি ঘটনা দেখতে পাই। প্রথমটি হলো লুপিনের সবচেয়ে বড় ভয় পূর্ণিমার চাঁদ এবং দ্বিতীয়টি হলো মিসেস উইজলির সবচেয়ে বড় ভয় তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু। আমরা লক্ষ্য করেছি যে লুপিন নিজে খুব কমই রিডিকুলাস মন্ত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। এর পরিবর্তে আমরা তাকে যখনই কোনো বগার্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দেখি, তার মধ্যে দুটি ঘটনায় তিনি কোনো উচ্চারণহীন জাদুর মাধ্যমে বগার্টটিকে তার লুকানোর জায়গায় ফিরে যেতে বাধ্য করেন। হ্যারির ক্লাসের প্রথম পাঠে তিনি কেবল একবারই এর ব্যবহার প্রদর্শন করেছিলেন এবং সেখানে তিনি বগার্টটিকে একটি তেলাপোকায় রূপান্তরিত করেছিলেন।
প্রাসঙ্গিকভাবে আমরা এটিও লক্ষ্য করি যে লুপিন গ্রিফিন্ডরদের রিডিকুলাস মন্ত্র শেখানোর সময়ই তার কাছে থাকা একমাত্র বগার্টটি ব্যবহার করে ফেলেছিলেন। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে তিনি স্লিদারিন, রেভনক্ল এবং হাফলপাফদের তাহলে কী পাঠ শিখিয়েছিলেন।
এই মন্ত্রটির উৎপত্তি ইংরেজি "ridiculous" বা হাস্যকর শব্দটির একটি রূপান্তর থেকে হয়েছে বলে মনে হয়। তবে ল্যাটিন ভাষায় "riddi" শব্দের অর্থ "আমি হেসেছিলাম", যা এই মন্ত্রের প্রথম অংশের উৎস হতে পারে।
প্রশ্নাবলী
[সম্পাদনা]
- বগার্ট ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ওপর রিডিকুলাস মন্ত্র প্রয়োগ করলে কী প্রভাব পড়বে?
বৃহত্তর ঘটনাবলী
[সম্পাদনা]বগার্ট নামক প্রাণীটির অস্তিত্বের একটি প্রধান কারণ হলো চরিত্রের গভীরতম ভয়গুলোকে কোনো বিতর্ক ছাড়াই ফুটিয়ে তোলা। এই বিষয়টি সেই প্রাণীর মূল বিবরণীতেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কোনো না কোনো মন্ত্রের প্রয়োজন ছিল। যেহেতু বগার্ট ভয় দেখিয়ে সেই ভয়কে নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাই যা কিছু একে ধ্বংস করবে তা অবশ্যই ভয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত হতে হবে। বগার্ট হাসির মাধ্যমে পরাস্ত হবে এটি আসলে খুবই যৌক্তিক। তবে এই মন্ত্র এবং এর ফলাফলের ক্ষেত্রে লেখকের পছন্দ এবং প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর প্রয়োগের জন্য নেভিলকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি বেশ চমৎকার ছিল।