মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার/জাদু/টাইম-টার্নার
| মাগলস গাইড টু হ্যারি পটার - জাদু | |
| টাইম-টার্নার | |
|---|---|
| ধরণ | জাদুকরী যন্ত্র |
| বৈশিষ্ট্য | ছোট, চকচকে বালুঘড়ি পেনডেন্ট |
| প্রথম উপস্থিতি | হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান |
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
[সম্পাদনা]টাইম-টার্নার যন্ত্রটি দেখতে মূলত ছোট আর চকচকে একটা বালুঘড়ির মতো। এটি সাধারণত পেনডেন্ট হিসেবে গলায় পরা হয়।
বিস্তারিত বিবরণ
[সম্পাদনা]টাইম-টার্নারের সাহায্যে সীমিত সময়ের জন্য সময়ে ভ্রমণ করা যায়। যন্ত্রটি একবার ঘোরালে এর চেইনের ভেতরে থাকা সবাই ঠিক এক ঘণ্টা অতীতে চলে যায়। শুধু তাই নয়, অতীতে ফিরে গিয়ে তারা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে সেই স্থানটির ওপরও এটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেয় বলে মনে হয়। হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান বইটিতে আমরা দেখি হারমায়োনি একসাথে গাদা গাদা ক্লাস আর পরীক্ষা ধরার জন্য এই জিনিসটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। নাহলে অত ক্লাস করা স্বাভাবিকভাবে একজনের পক্ষে ছিল অসম্ভব। স্কুলের প্রথম দিনেই দেখা যায় সে একই সময়ে তিনটি ভিন্ন ক্লাসে হাজির রয়েছে। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল তাকে এই শর্তেই টাইম-টার্নারটি ধার দিয়েছিলেন যে এটি কেবল পড়াশোনার কাজেই ব্যবহার করতে হবে। ভুলেও কখনো যেন অন্য কেউ তাকে এটি ব্যবহার করতে না দেখে। তবে কাহিনীর শেষদিকে হারমায়োনি এই নিয়মটা কিছুটা ভাঙতে বাধ্য হয়। সে ও হ্যারি সিরিয়াস ব্ল্যাককে বাঁচাতে টাইম-টার্নারটি ব্যবহার করে ঠিক তিন ঘণ্টা আগের সময়ে ফিরে যায়। বইয়ের শেষে অবশ্য হারমায়োনি একটা ক্লাস ছেড়ে দেয়। তার মতে এতে তার সময়সূচী অন্তত মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসবে। সে টাইম-টার্নারটিও প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে ফেরত দিয়ে দেয়।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স বইয়ে জাদু মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব মিস্ট্রিজে যে লড়াই হয়েছিল তার কিছুটা অংশ ঘটেছিল সময়ের রহস্য উদঘাটনের জন্য তৈরি একটি বিশেষ কক্ষে। সেখানে লড়াইয়ের সময় নেভিল এক ডেথ ইটারকে লক্ষ্য করে স্টানিং জাদু ছুড়লে ডেথ ইটারটি মাথা নিচু করায় মন্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সেটি গিয়ে আঘাত করে কাঁচের একটি আলমারিতে। যার ভেতর ঠাসা ছিল অজস্র বালুঘড়ি। এগুলোকে হ্যারি টাইম-টার্নার বলে চিনতে পারে। আলমারিটি আছড়ে পড়ে ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথেই অলৌকিকভাবে আবার আগের অবস্থায় জোড়া লেগে যাচ্ছিল। পরক্ষণেই আবার আছড়ে পড়ে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল—এভাবেই বারবার ঘটছিল জিনিসটা।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স বইয়ে হ্যাগরিড যখন বুঝতে পারল যে ত্রয়ীর কেউই তার ক্লাসে নাম লেখায়নি, তখন সে দুঃখ করে বলে যে সে জানে ওদের রুটিনে তিল ধারণের জায়গা নেই। তবে ওদের কাছে যদি একটা টাইম-টার্নার থাকত তাহলে হয়তো তারা জাদুকরী প্রাণীদের যত্ন ক্লাসটাও করে নিতে পারত। তখন হারমায়োনি তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে মন্ত্রণালয়ে থাকা টাইম-টার্নারের পুরো সংগ্রহটাই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। জানা মতে পৃথিবীতে আর একটাও আস্ত নেই।
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]টাইম-টার্নার নিঃসন্দেহে এক মারাত্মক কাজের জিনিস। হাজারো সতর্কতা মেনে চলতে হলেও অতীতে ফিরে গিয়ে কোনো ভুল শুধরে নেওয়ার এই ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ। তবে টাইম-টার্নার এমন একটা বস্তু যা যেকোনো রহস্যের গোড়া কেটে দিতে পারে। যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। একটা টাইম-টার্নার থাকলে ভলডেমর্ট অনায়াসেই নিজের একাধিক রূপ তৈরি করে তিনটে ভলডেমর্ট একলা হ্যারির সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারত, আর তাতে তার জয়ও নিশ্চিত হয়ে যেত। সম্ভবত এই যন্ত্রের এমন বিপজ্জনক অপব্যবহার হতে পারে বলেই লেখিকা ডিপার্টমেন্ট অব মিস্ট্রিজের যুদ্ধে এগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়াটাই শ্রেয় মনে করেছিলেন।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস বইয়ে ডাম্বলডোর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে কিছু জিনিস আসলে অত্যন্ত গভীর জাদু যা সহজে কেউ বুঝতে পারে না। এ থেকে বোঝা যায় জাদুর এমন কিছু ক্ষেত্র আছে যা ভীষণ রহস্যময় আর দুর্ভেদ্য। আমরা ধরে নিতেই পারি যে সময় তেমনই একটা ক্ষেত্র। কারণ জাদু মন্ত্রণালয়ে এর পেছনে আস্ত একটা উপবিভাগ নিয়োজিত রয়েছে। এটাও হওয়া খুব স্বাভাবিক যে যেসব জাদুকর বা জাদুকরীরা প্রথম দিকে এই টাইম-টার্নারগুলো তৈরি করেছিলেন, তারা হয়তো এর গোপন কৌশল পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে পারেননি। সম্ভবত তারা প্রাকৃতিকভাবেই সময়কে নিয়ন্ত্রণ করায় পারদর্শী ছিলেন এবং তাদের এই বিশেষ জ্ঞান অন্য কাউকেও শিখিয়ে যেতে পারেননি কারণ তেমন যোগ্য কেউ তখন ছিল না। তাই একজন মাগল দর্শকের কাছে মনে হতেই পারে যে চাইলে তো আরও টাইম-টার্নার বানিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবে হয়তো কোনো জীবিত জাদুকরই জানতেন না যে এটি আসলে তৈরি করে কীভাবে।
প্রশ্নাবলী
[সম্পাদনা]