বিষয়বস্তুতে চলুন

মঙ্গলকাব্য/অপ্রধান মঙ্গলকাব্য/অন্যান্য দেবীমঙ্গল কাব্য

উইকিবই থেকে

মধ্যযুগে স্থানীয় ও পৌরাণিক দেবদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে অনেকগুলি ছোটো আখ্যায়িকা রচিত হয়েছিল। এগুলি মঙ্গল-নামধেয় হলেও মঙ্গলকাব্যের স্তরে উন্নীত হতে পারেনি; তবে কিছুটা প্রচার লাভ করেছিল।

লক্ষ্মীমঙ্গল

[সম্পাদনা]

শিবানন্দ কর রচিত লক্ষ্মীমঙ্গল বেশ প্রচার লাভ করে। তবে এটি দেবীভাগবত পুরাণের নবম স্কন্ধের একচল্লিশতম অধ্যায়ের বঙ্গানুবাদ। অধ্যাপক আশুতোষ ভট্টাচার্য তাই এটিকে প্রাচীন বাংলার অনুবাদ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছেন।

কপিলামঙ্গল

[সম্পাদনা]

মঙ্গল নাম দিয়ে পৌরাণিক কাহিনির পদ্যানুবাদের ধারা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত ছিল। এই ধারায় কপিলামঙ্গল কাব্যটি বহুল প্রচার লাভ করে। ভাগবত পুরাণের কথিত ব্রহ্মা কর্তৃক কপিলা ধেনু হরণের কাহিনি নিয়ে এটি রচিত। তবে এটিকে জাতীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। এই রচনায় মঙ্গলকাব্যের বহিরঙ্গগত প্রভাব দেখা যায়। বাংলার পশ্চিম সীমান্তে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মৌখিক গীতিকাহিনি রচিত হয়েছে; সেটি অবশ্য লোকসাহিত্যের অন্তর্গত, মঙ্গলকাব্যের বিষয় নয়।

বরদামঙ্গল

[সম্পাদনা]

পূর্ববঙ্গে ত্রিপুরা জেলার বরদাখাত পরগনার অধিষ্ঠাত্রী দেবী বরদেশ্বরীর মাহাত্ম্য কীর্তন করে বরদামঙ্গল কাব্যটি রচিত হয়েছিল। এই কাব্যের একমাত্র পুথির পত্রসংখ্যা ৫৫। রচয়িতার নাম নন্দকিশোর। তিনি ত্রিপুরা জেলার শ্রীকাইল গ্রামের নিকটবর্তী রোয়াচোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কবির নিজের হাতে লেখা পুথিটির লিপিকাল ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দ। বিভিন্ন পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বৃত্তান্তের ভিত্তির উপর এটিতে এই লৌকিক দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে। সেই হিসেবে এটি গোসানীমঙ্গল কাব্যের অনুরূপ।

কামাখ্যামঙ্গল

[সম্পাদনা]

অসমের কামরূপ কামাখ্যার কামাখ্যাদেবীর মাহাত্ম্য কীর্তন করেও কয়েকটি মঙ্গলকাব্য লেখা হয়েছে। এগুলি কামাখ্যামঙ্গল নামে পরিচিত। অধ্যাপক যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য এই কাব্যের পুথি সংগ্রহ করেন।