বিষয়বস্তুতে চলুন

ভাষাবিজ্ঞান/বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞান

উইকিবই থেকে

ভাষারীতির বদলের ক্ষেত্রে বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষের ভূমিকা

[সম্পাদনা]

বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞানে ভাষারীতির বদলের সঙ্গে বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি উপাদান সমাজভাষাবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য ও ব্যবহারের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এগুলি কাজ করে প্রধান কারণ হিসেবে। নিচে এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

বক্তার ভূমিকা

বক্তা হল ভাষা ব্যবহারের প্রধান উৎস। বক্তার সামাজিক পরিচয়—যেমন বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, সামাজিক শ্রেণী, ধর্মীয় সম্প্রদায়, পারিবারিক পটভূমি ইত্যাদি—ভাষা ব্যবহারের রীতির উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। একজন বক্তা তাঁর নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি অনুযায়ী ভাষার বিভিন্ন রীতি, ধ্বনি, শব্দভাণ্ডার, বাক্য-গঠন ইত্যাদি নির্বাচন করেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন উচ্চশিক্ষিত শহরবাসী ব্যক্তি সাধারণত লেখা ও কথা বলার ক্ষেত্রে মান্য চলিত বাংলার নিয়মাবলি অনুসরণ করেন, আবার একজন স্বল্পশিক্ষিত গ্রামবাসী সচরাচর স্থানীয় উপভাষা ব্যবহার করেন। এছাড়া, বক্তার মানসিক অবস্থা, উদ্দেশ্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটও ভাষারীতির বদলে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

শ্রোতার ভূমিকা

শ্রোতার সামাজিক পরিচয়ও ভাষারীতির বদলে গুরুত্বপূর্ণ। বক্তা শ্রোতার প্রতি সম্মান, আনুগত্য বা অন্য সামাজিক সম্পর্কের কারণে ভাষারীতি পরিবর্তন করতে পারেন। বাংলা ভাষায় ‘আপনি’, ‘তুমি’ ও ‘তুই’ এই সম্বোধন পদগুলির ব্যবহার শ্রোতার বয়স, সামাজিক পরিচয় ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে বদলে যায়। বয়োজ্যেষ্ঠ, সম্মানিত অথবা অপরিচিত ব্যক্তিকে ‘আপনি’ বলা হয়, সমবয়সী বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ‘তুমি’ এবং বয়ঃকনিষ্ঠ বা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘তুই’ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, শ্রোতার জ্ঞান, সংস্কৃতি, ভাষার দক্ষতা ইত্যাদিও ভাষারীতির বদলে প্রভাব ফেলে।

উপলক্ষের ভূমিকা

উপলক্ষ বা পরিস্থিতি হল ভাষা ব্যবহারের প্রেক্ষাপট। এই পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ভাষার রীতি বদলে যায়, বা সঠিকভাবে বললে, পরিস্থিতি বা উদ্দেশ্য অনুযায়ী বক্তা নিজের ভাষারীতি পরিবর্তন করে নেন। শিক্ষায়তন, কার্যক্ষেত্র, সভাসমিতি, পারিবারিক আলোচনা, মাঠে কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি নানা উপলক্ষে ভাষারীতিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্যক্ষেত্রে বা সভাসমিতিতে লিখিত বা পঠিত ভাষা সাধারণত আনুষ্ঠানিক এবং পারিবারিক আলোচনার ভাষা ঘরোয়া ধাঁচের হয়। উপলক্ষ অনুযায়ী ভাষারীতির এই বদলকে সমাজভাষাবিজ্ঞানের পরিভাষায় কোড-সুইচিং (Code-switching) বা ভাষার পরিবর্তন বলা হয়।

বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষের সমন্বয়

বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষের সমন্বয়ে ভাষারীতির বদল ঘটে। একটি সামাজিক আলোচনায় বক্তা শ্রোতার সামাজিক পরিচয় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভাষার রীতি নির্বাচন করেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর সময় জটিল বিষয়কে সহজ ও বোধগম্য উপায়ে উপস্থাপিত করার জন্য পাঠ্যপুস্তকের আনুষ্ঠানিক ভাষারীতির বদলে নিজের মতো করে সরল ভাষারীতি গ্রহণ করতে পারেন; আবার ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের সঙ্গে অথবা বাড়ির গুরুজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় একরকম, আবার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে কথোপকথনকালে আর-একরকম ভাষারীতি গ্রহণ করে। এই পরিবর্তন সামাজিক সম্পর্ক, পরিস্থিতি এবং উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তত্ত্বগত প্রেক্ষাপট

বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞানে ভাষারীতি বদলের ক্ষেত্রে বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষ্য হল তিনটি মূল নিয়ামক উপাদান। এই তিনটির সমন্বয়ে ভাষার বৈচিত্র্য, ভাষার ব্যবহার এবং ভাষার সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝা যায়। এই তত্ত্বগুলি সমাজভাষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় ব্যবহৃত হয় এবং ভাষার সামাজিক প্রভাব ও ব্যবহার বিশ্লেষণে সাহায্য করে।

উপসংহার

বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞানে ভাষারীতির বদলের ক্ষেত্রে বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষের ভূমিকা অপরিহার্য। এই তিনটি উপাদানের প্রভাবে ভাষার বৈচিত্র্য ও ভাষা ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটে। সামাজিক পরিচয়, সামাজিক সম্পর্ক বা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাষারীতির এই বদল তাই সমাজভাষাবিজ্ঞানের গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

উচ্চতম ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের (Diglossia) নানা দিক

[সম্পাদনা]

দ্বিবচন (Diglossia) হল সমাজভাষাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। দ্বিবচন বলতে একই সমাজে দুটি ভাষার বা একই ভাষার দুটি স্তরের ব্যবহারকে নির্দেশ করে। এই দুটির একটি উচ্চতর বা মান্য রূপ (High varity) এবং অন্যটি নিম্নতর বা সাধারণ রূপ (Low varity)। বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞানে এই দ্বিবচনের বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়। যেমন, দুই স্তরের ব্যবহার, কার্যকরিতা, সামাজিক প্রভাব এবং উচ্চতর ভাষা ব্যবহারের প্রেক্ষাপট।

দ্বিবচনের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য

একটি সমাজে যখন দুটি ভাষা অথবা একই ভাষার দুটি রূপ সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে থাকে, তখন দ্বিবচনের ধারণাটি প্রযুক্ত হয়। উচ্চতম ভাষা (High variety) সাধারণত লেখা, শিক্ষাদান, সরকারি কাজ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সাহিত্যরচনার কাজে ব্যবহৃত হয়; অন্যদিকে নিম্নতর ভাষা (Low variety) সাধারণত দৈনন্দিন কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। এই দুটি রূপের মধ্যে মিশ্রণ ঘটে না এবং প্রত্যেকটি রূপের ব্যবহার সীমিত করা থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আরবি ভাষায় ফুসহা (উচ্চতর) ও আঞ্চলিক আরবি (নিম্নতর) দ্বিবচনের উদাহরণ। আবার উনিশ শতকের বাংলা ভাষায় লেখ্য ভাষা হিসেবে সাধুভাষা (উচ্চতর) এবং কথ্যভাষা হিসেবে চলিতভাষাও (নিম্নতর) দ্বিবচনের উদাহরণ।

দ্বিবচনের ভূমিকা

বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞান দ্বিবচনের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করে। যেমন ভাষার বৈচিত্র্য, সামাজিক স্তর অনুযায়ী ভাষার ব্যবহার, ভাষার সামাজিক মর্যাদা এবং ভাষার কার্যকারিতা। ভাষার ব্যবহার কীভাবে বক্তা, শ্রোতা ও উপলক্ষ বা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, তা বিশ্লেষণ করে দ্বিবচন। দ্বিবচনে উচ্চতম ভাষার ব্যবহার সাধারণত শিক্ষিত ও সমাজের উচ্চ স্তরের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাবের দিকটিকেই প্রতিফলিত করে।

উচ্চতম ভাষা ব্যবহারের প্রেক্ষাপট

উচ্চতম ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হয়। যেমন, শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি নথিপত্র, ধর্মগ্রন্থ বা সাহিত্য রচনায় উচ্চতম ভাষার প্রয়োগ ইত্যাদি। এই প্রেক্ষাপটে উচ্চতম ভাষা সামাজিক প্রভাব, সামাজিক মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, নিম্নতর ভাষা দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়, যা আন্তরিকতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশে সহায়ক হয়।

সামাজিক প্রভাব ও ভাষার বৈচিত্র্য

দ্বিবচনের মাধ্যমে সমাজে ভাষার বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় এবং ভাষা সমাজের স্তর অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে যায়। এই বৈচিত্র্য সামাজিক সম্পর্ক, শিক্ষা, শাসনব্যবস্থা এবং সাহিত্যেও প্রভাব বিস্তার করে। উচ্চতম ভাষার ব্যবহার সামাজিক মর্যাদা এবং প্রভাব প্রকাশ করে, অন্যদিকে নিম্নতর ভাষা অন্তরঙ্গতা প্রকাশ ও সাধারণ স্তরের কথোপকথনের ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়। এই দুই রূপের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন সামাজিক বিভাজন এবং ভাষার প্রভাবকেই প্রতিফলিত করে।

দ্বিবচনের উদাহরণ ও বিশ্লেষণ

বিভিন্ন দেশে দ্বিবচনের উদাহরণ পাওয়া যায়। বাংলায় সাধু ও চলিত ভাষা, আরবিতে ফুসহা ও আঞ্চলিক আরবি, জার্মানে হাই জার্মান ও প্লাট ডয়েচ এবং গ্রিকে কাথারেভুসা ও ডিমোটিক গ্রিক দ্বিবচনের উদাহরণ। এই উদাহরণগুলির মাধ্যমে বোঝা যায় কীভাবে উচ্চতম ভাষা সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব বিস্তার করে এবং নিম্নতর ভাষা ব্যবহৃত হয় দৈনন্দিন কথোপকথনে।

উপসংহার

দ্বিবচন সমাজভাষাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা একই সমাজে ভাষার বৈচিত্র্য এবং সামাজিক স্তর অনুযায়ী ভাষার ব্যবহারকে নির্দেশ করে। বর্ণনামূলক সমাজভাষাবিজ্ঞানে এই দ্বিবচনের বিভিন্ন দিক—যেমন ভাষার ব্যবহার, সামাজিক প্রভাব এবং উচ্চতম ভাষা ব্যবহারের প্রেক্ষাপট আলোচনা করা হয়। দ্বিবচন সামাজিক বিভাজন, মর্যাদা ও প্রভাবের দিকটি পরিস্ফুট করে এবং ভাষার মধ্যে বৈচিত্র্যও সৃষ্টি করে।

সমাজভাষার পরিচয় জানার ক্ষেত্রে সামাজিক স্তরভেদের গুরুত্ব ও শ্রেণী উপভাষার প্রকারভেদ

[সম্পাদনা]

সামাজিক স্তরভেদ সমাজভাষার পরিচয় জানার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের স্তরভেদ বলতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, জাতি, পেশা, শিক্ষা, আর্থিক পরিস্থিতি, লিঙ্গ, বয়স, ধর্ম ইত্যাদির ভিত্তিতে মানুষকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করাকে বোঝায়। এই স্তরভেদের কারণে ভাষায় বৈচিত্র্য দেখা যায়, তা সমাজভাষা বা সামাজিক উপভাষা (sociolect) নামে পরিচিত। সমাজভাষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বোঝা যায় এবং তাদের সামাজিক পরিচয় নির্ণয় করাও সম্ভব হয়।

সামাজিক স্তরভেদের গুরুত্ব
  • সামাজিক স্তরভেদ সমাজভাষার গঠন ও বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে। একক ভাষা ব্যবহারকারী সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ভাষায় উচ্চারণ, শব্দ-ব্যবহার, বাক্য-গঠন ইত্যাদি বিষয়ে পার্থক্যকরণ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।
  • সমাজভাষা বিশ্লেষণের মাধ্যেম কোনও ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক পটভূমি ইত্যাদিও নির্ণয় করা যায়।
  • সামাজিক স্তরভেদ ভাষার বৈচিত্র্য ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে ভাষার সামাজিক ইতিহাস ও প্রভাব বোঝা সম্ভব হয়।
শ্রেণী উপভাষা
প্রকারভেদ

শ্রেণী উপভাষা বা সামাজিক উপভাষা মূলত সামাজিক স্তরভেদের ভিত্তিতে গঠিত হয়। এগুলি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:

  1. সামাজিক শ্রেণীগত উপভাষা: সামাজিক শ্রেণীভেদে গঠিত উপভাষাকে বলা হয় সামাজিক শ্রেণীগত উপভাষা। এখানে উচ্চ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ইত্যাদি নানা শ্রেণীর মানুষের ভাষার পার্থক্য দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ভাষায় বিদেশী শব্দের প্রয়োগ লক্ষণীয়, অন্যদিকে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ভাষায় দেশীয় শব্দ ও বিদেশী শব্দের অশুদ্ধ উচ্চারণ বেশি হয়।
  2. সামাজিক গোষ্ঠীগত উপভাষা: গোষ্ঠীগত ভেদাভেদে গঠিত উপভাষাকে সামাজিক জাতিগত উপভাষা বলা হয়। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে, যা অন্য জাতির মানুষের ভাষা থেকে পৃথক। যেমন, শ্রমিক বা কৃষক শ্রেণীর শব্দভাণ্ডারে তাঁদের পেশা-সংশ্লিষ্ট শব্দের আধিক্য থাকে, আবার অপরাধীদের ভাষাও সাধারণের ভাষা থেকে অনেকটা পৃথক হয়। এই গোষ্ঠীগত উপভাষা আবার বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন:
    1. পেশাগত উপভাষা: বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পেশা-কেন্দ্রিক নিজস্ব শব্দভাণ্ডার ও ভাষারীতি গরে ওঠে। যেমন, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক প্রভৃতির ভাষায় সংশ্লিষ্ট পেশার প্রভাব দেখা যায়।
    2. লিঙ্গগত উপভাষা: পুরুষ ও নারীর ভাষার ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। নারীর ভাষায় সাধারণত সৌজন্যমূলক শব্দ ও প্রবাদ-প্রবচনের প্রয়োগ বেশি, অন্যদিকে পুরুষের ভাষায় সাধারণত সংক্ষিপ্তভাবে ও সরাসরি উচ্চারিত হয়।
    3. ধর্মীয় উপভাষা: বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে শব্দ-ব্যবহারে কিছু কিছু পার্থক্য দেখা যায়। বাঙালি হিন্দুরা ‘জল’, ‘স্নান/চান’, ‘নিমন্ত্রণ’ ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে যা ব্যক্ত করেন, তা বোঝাতে বাঙালি মুসলমানেরা ‘পানি’, ‘গোসল’, ‘দাওয়াত’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেন।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়
  • শ্রেণী উপভাষা সামাজিক স্তরভেদের ফলে সৃষ্টি হয়। এটি মূলত শ্রেণীগত বা গোষ্ঠীগত এই দুই ভাগে বিভক্ত।
  • শ্রেণী উপভাষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও গোষ্ঠীর ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়, যা সমাজভাষার বিশ্লেষণে সহায়ক।
  • শ্রেণী উপভাষার বৈচিত্র্য মানবসমাজের বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটায় এবং ভাষার সামাজিক গঠন ও ইতিহাস বোঝার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার

সামাজিক স্তরভেদ সমাজভাষার বৈচিত্র্য ও গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে। শ্রেণী, পেশা, শিক্ষা, লিঙ্গ, বয়স ইত্যাদি ভিত্তিতে সামাজিক উপভাষা গঠিত হয়, যা সমাজের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিচয় বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।