ব্যবহারকারী:কায়সার পারভেজ
টেকসই অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে ২০২৩ সালে টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা দেশের পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন। নিচে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
🌿 সবুজ অর্থায়ন ও টেকসই অর্থায়নে প্রবৃদ্ধি
১.সবুজ অর্থায়ন: ২০২৩ সালে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI) প্রায় ১৯,৩০৪ কোটি টাকা সবুজ অর্থায়ন প্রদান করেছে, যা ২০২২ সালের ১২,২২৬ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
২. টেকসই অর্থায়ন: ২০২৩ সালে মোট টেকসই অর্থায়ন পোর্টফোলিও দাঁড়িয়েছে ১.৯৭ লাখ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ১৭.২৩%। ২০২২ সালে এটি ছিল ১১.৫৯%।
🏦 বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও উদ্যোগ
১. ঋণ বরাদ্দ নির্দেশনা: বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট ঋণের কমপক্ষে ৫% সবুজ অর্থায়নে এবং ২০% টেকসই অর্থায়নে বরাদ্দ করতে হবে ।
২. সবুজ বন্ড নীতি: ২০২২ সালে সবুজ বন্ডের জন্য একটি নীতি প্রবর্তন করা হয়েছে, যা ব্যাংক ও NBFI-গুলোকে জলবায়ু অর্থায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয় ।Asian Banking & Finance+1The Daily Star+1 ৩. বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালে একটি নীতিমালা জারি করেছে যার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য গ্রিন বন্ড ইস্যু করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শক্তি ও সম্পদ দক্ষতা বৃদ্ধি, এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের 'গ্রিন বন্ড ফাইন্যান্সিং নীতিমালা, ২০২২' অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন, তাদের অ-নিষ্পাদিত ঋণের (NPL) হার ১০ শতাংশের কম হতে হবে (সরকারি ব্যাংক ব্যতীত), এবং গ্রিন বন্ডের মেয়াদ ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া, গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করতে হবে। এই নীতিমালা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে।
৪. জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল: ব্যাংকগুলোকে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (CSR) বাজেটের ১০% জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলে বরাদ্দ করতে বলা হয়েছে ।Asian Banking & Finance+1The Daily Star+1
🏢 ব্যাংকগুলোর উদ্যোগ
১. ব্রাক ব্যাংক: দেশব্যাপী ৫০টি টেকসই অর্থায়ন হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (ESRM) নির্দেশিকা অনুসরণ করে ঋণ প্রদান করছে ।bracbank.com+1The Daily Star+1
২. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB): ৭৫টি শাখায় টেকসই অর্থায়ন হেল্প ডেস্ক চালু করেছে এবং সবুজ ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত সিস্টেম তৈরি করেছে। তারা পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছে ।
🔮 ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সাল থেকে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের ৪০% সবুজ ও টেকসই উদ্যোগে বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে ৫% সবুজ উদ্যোগে বরাদ্দ থাকতে হবে ।
এই পদক্ষেপগুলো দেশের ন্যাশনাললি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (NDC) এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই টেকসই অর্থায়ন উদ্যোগগুলো পরিবেশগত ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং দেশের সবুজ অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করছে।