বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্বের ইতিহাস/প্রস্তাবনা

উইকিবই থেকে

মানচিত্র | উৎস | অবদানকারীদের কর্নার


পাঠকদের জন্য

[সম্পাদনা]

বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, আপনি যদি কেবল ইতিহাস শিখতে চান, তাহলেও এই পাতাটি পড়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কারণ এটি সচরাচর জিজ্ঞাসিত অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে ও ইতিহাস চর্চার একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করবে। দ্বিতীয়ত হলো সেই মানদণ্ড যার ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছে ও হচ্ছে। এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড ইতিহাসের একটি রূপরেখা প্রদানের পাশাপাশি এই ধরনের প্রকল্পের কাঠামোর বিষয়েও কিছু শর্ত নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী, এই পাঠ্যটি যদি ভালোমতো আয়ত্ত করা যায়, তবে এটি একজন পাঠকের জন্য তার এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পরীক্ষায় অন্তত ৩ পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লেখার সাথে সম্পর্কিত বিভাগগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিটি বিভাগে বহু নির্বাচনী পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হয়েছে যেখানে এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিশ্লেষণধর্মী ও সামগ্রিক বিষয় সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকবে। তাই আর দেরি না করে জ্ঞান অন্বেষণের যাত্রা শুরু হোক!

কাঠামো

[সম্পাদনা]

এই প্রকল্পের কাঠামোটি বিশ্বের ইতিহাসের বিশাল পরিধিকে সহজবোধ্য ও ছোট ছোট অংশে ভাগ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে অধ্যায়ের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। অধ্যায়গুলো ছাড়াও ইতিহাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কিছু বিশেষ বিভাগ রয়েছে।

  • এই চিত্রটি বিশেষ আগ্রহের একটি বিভাগকে নির্দেশ করে যে বিষয়ে আরও গভীরে অনুসন্ধান করা ভালো হবে। এটি সম্ভবত এমন কিছু যা সম্পর্কে আপনি ইতিমধ্যেই জানেন, যেমন মিশরের পিরামিড।
  • এই চিত্রটি আমাদের কাছে থাকা কোনো প্রথম পুরুষে বর্ণিত বর্ণনা বা ভাষ্যকে নির্দেশ করে। এটি বিভিন্ন বিষয়কে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে ও সেই সময়ের মানুষ আসলে কেমন অনুভব করত তা বুঝতে আপনাকে সাহায্য করে।
  • এই চিত্রটি কোনো বিশেষ ঘটনা বা সময়কালের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি অ-কল্পকাহিনীমূলক পাঠ্যের লিঙ্ককে নির্দেশ করে যা কোনো লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন (যেমন স্পিয়েলভোগেলের রচনা হতে পারে)। এতে অবদানকারীদের লেখা বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিষয়ের ওপর প্রবন্ধও থাকতে পারে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

আমরা ইতিহাসকে অতীতের পাঠ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করি। অতীত নিয়ে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটটি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় যেন আপনার পূর্ণ মনোযোগ কেড়ে না নেয়; উদাহরণস্বরূপ, অতিরিক্ত ইউরোপ-কেন্দ্রিক না হওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে ও ইতিহাস সম্পর্কে আপনার উপলব্ধিকে কলুষিত করবে। যেহেতু আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল পাঠ্যটিকে সহজবোধ্য ও ছোট ছোট অংশে রাখা, তাই আমরা সবকিছু এখানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি। ফলে এই পাঠ্যের বিন্যাসটি সবসময় সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বজায় রাখতে আপনাকে সরাসরি সাহায্য করবে না। তাই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বজায় রাখতে আপনি কী করতে পারেন? নিচের পরামর্শগুলো দিয়ে শুরু করা যাক:

  • তারিখগুলো লক্ষ্য করুন, কেবল সেগুলো পড়বেন না। এগুলো আপনাকে জানাবে যে একই সময়ে কোন কোন সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল। এর ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতির তুলনা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
  • পশ্চিম গোলার্ধের বাইরের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গড়ে ওঠা সভ্যতা, ঘটনা বা আন্দোলনগুলোর প্রতি আগ্রহী হওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনি অন্তত এমন কিছু সম্পর্কে জানতে পারবেন যেটির ওপর পশ্চিমা সংস্কৃতির কোনো প্রভাব নেই।
  • কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়কালে কেবল একটি সংস্কৃতি বা সভ্যতার পরিবর্তন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো বিশ্বে কী পরিবর্তন এসেছে তা লক্ষ্য করুন। বিষয়গুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে ও কীভাবে সেগুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে?

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহ

[সম্পাদনা]

ইতিহাস পড়ার সময় মাঝেমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বা পরিভাষার সম্মুখীন হতে হবে যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন। বর্ণানুক্রমিক সাজানোর পরিবর্তে এগুলোকে সমজাতীয় শব্দের সেটে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

  • লিখন পদ্ধতিসমূহ
    • চিত্রলিপি: লিখন পদ্ধতির সবচেয়ে সরল রূপ, যা কোনো শব্দ বা বাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত চিত্র প্রতীক নিয়ে গঠিত।
    • ভাবলিপি: এমন একটি প্রতীক যা ধ্বনি উচ্চারণ না করেই কোনো বস্তু বা ধারণাকে ফুটিয়ে তোলে, যেমন: @ বা &।
    • ধ্বনিমূলক বর্ণমালা: এটি সীমিত সংখ্যক বর্ণের একটি সেট নিয়ে গঠিত যেখানে প্রতিটি বর্ণ একটি নির্দিষ্ট ধ্বনি প্রকাশ করে।
  • ভাষাসমূহ
    • ইন্দো-ইউরোপীয়: এটি ইউরোপ ও ইরান, পাকিস্তান ও ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
      • রোমান্স: ল্যাটিন থেকে উদ্ভূত ভাষাসমূহ, যেমন: স্পেনীয় ও রোমানীয়।
      • জার্মানীয়: আধুনিক জার্মানির কাছাকাছি বিকশিত ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভাষাসমূহ, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় জার্মান, ইংরেজি ও ডাচ।
      • বাল্টো-স্লাভিক: পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়ার ভাষাসমূহ যেগুলোতে স্লাভিক ধ্বনির মিল রয়েছে। যেমন: রুশ, ইউক্রেনীয় ও পোলিশ।
      • আলবেনীয়: এই ভাষাটি আলবেনিয়ার পাশাপাশি কসোভো ও উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের দূরবর্তী অঞ্চলে প্রচলিত।
      • গ্রীক: গ্রীকদের ভাষা।
      • ইউরালিক: উত্তর ইউরেশীয় অঞ্চলের ৩৮টিরও বেশি ভাষার একটি ভাষাগোষ্ঠী। এর মধ্যে হাঙ্গেরীয় ("মাগয়ারীয়"), ফিনীয় ও এস্তোনীয় অন্তর্ভুক্ত।
    • আলতায়িক: একটি বিতর্কিত ভাষাগোষ্ঠী যা সকল ঐতিহাসিক ভাষাতাত্ত্বিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
      • তুর্কি, তাতার ও আজারবাইজানি: এই ভাষাসমূহ পশ্চিমা ও পূর্বদেশীয় (মূলত আরবি) উভয় উৎস থেকে শব্দ গ্রহণ করেছে।
  • সংস্কৃতি বিষয়ক শব্দ
    • অক্সিডেন্টাল: পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্য নাম।
    • ওরিয়েন্টাল: প্রাচ্য বা পূর্বদেশীয় সংস্কৃতির অন্য নাম।
  • অঞ্চল বিষয়ক শব্দ
    • তুরস্ক (বর্তমান রাষ্ট্র)
      • এশিয়া মাইনর: রোমানরা এই উপদ্বীপকে এই নামে ডাকত, যা রোমান আমল ও মধ্যযুগে সাধারণত ব্যবহৃত হতো।
      • আনাতোলিয়া: গ্রীকরা একে এই নামে ডাকত, যা মূলত প্রাচীনকালে প্রচলিত ছিল।
    • মেসোঅ্যামেরিকা: এর অর্থ মধ্য-আমেরিকা; এটি পানামা যোজক থেকে শুরু করে মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের ঠিক দক্ষিণ পর্যন্ত অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
    • ল্যাটিন আমেরিকা: মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহ; এদের এই নামে ডাকার কারণ হলো স্পেনীয় ও পর্তুগিজ ভাষা অনেকাংশেই ল্যাটিন ভিত্তিক।
    • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি এলাকা যার মধ্যে বিভিন্ন দ্বীপ ও পার্শ্ববর্তী জলভাগ অন্তর্ভুক্ত।
    • ইস্ট ইন্ডিজ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপপুঞ্জ যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ অন্তর্ভুক্ত।

তারিখসমূহ

[সম্পাদনা]

এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড তারিখ গণনার ক্ষেত্রে সি.ই. ও বি.সি.ই. পরিভাষা দুটি গ্রহণ করেছে। এগুলো যথাক্রমে এ.ডি. (খ্রিস্টাব্দ) ও বি.সি. (খ্রিস্টপূর্ব) এর সমার্থক। এছাড়া কোনো তারিখ যদি "৮০০ এ.ডি." বা "১৯৫০ বি.সি." হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে সেগুলো প্রায়ই একটি অনুমান বা কাছাকাছি সময় নির্দেশ করে। এই জাতীয় তারিখগুলোর আগে সাধারণত "প্রায়", "আনুমানিক" বা "সার্কা" শব্দগুলো যুক্ত থাকে।

এছাড়া ইতিহাসের দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা বিশ্বে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে দেখা গেল যে এই পদ্ধতিটি এক সপ্তাহের বেশি নির্ভুলতা হারিয়েছে। তাই সমস্যাটি সংশোধনের জন্য আমরা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিতে স্থানান্তরিত হই। প্রকৃতপক্ষে, রাশিয়ায় লেনিন ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত এটি প্রবর্তিত হয়নি; ফলে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী অক্টোবর বিপ্লব আসলে নভেম্বর মাসে ঘটেছিল। তাই ১৯১৮ সালের আগের রুশ বিপ্লব অধ্যায়ের তারিখগুলো কিছুটা অস্পষ্ট হতে পারে।

"ইতিহাসবিদদের" জন্য

[সম্পাদনা]

কেউ কেউ আমাদের সাজসজ্জা, বিন্যাস বা তথ্যের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন অথবা কোনো ভুল বা বিতর্কিত কিছু খুঁজে পেতে পারেন। আমরা এই জাতীয় পরামর্শ ও মন্তব্যকে স্বাগত জানাই। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে, যা হলো বিশ্বের ইতিহাস আলাপ পাতা। তথ্যগত ভুল বা অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পাতার আলাপ পাতায় তা উল্লেখ করুন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেটি দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে কেবল সমালোচনা করবেন না, কারণ তা গঠনমূলক নয়; আর আপনি এটি কীভাবে করতেন তা নিয়ে আমাদের খুব একটা মাথাব্যথা নেই, কারণ এটি আমাদের করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি। তাই দয়া করে বলবেন না যে পুরো বিষয়টি অর্থহীন বা আমরা যা বলছি সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নেই। আমরাও হয়তো পাল্টা কিছু কড়া কথা বলতে পারি বা বিষয়টি নিয়ে উপহাস করতে পারি। যেভাবেই হোক, তাতে আপনারই ক্ষতি হবে। তাই আমাদের সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন, সরল বিশ্বাস রাখুন ও সৌজন্য বজায় রাখুন। আর এখন, বিশ্বের ইতিহাসের দিকে এগোনো যাক...

এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পরীক্ষা

[সম্পাদনা]

অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি বা এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ানো একটি কোর্স। এই কোর্সের পাঠ্যক্রম ও গঠন নির্ধারণ করে 'কলেজ বোর্ড', যা একটি অলাভজনক সংস্থা ও যারা সকল এপি পরীক্ষা পরিচালনা করে। এই কোর্সের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড অংশটি দেখুন।

এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পরীক্ষা চারটি অংশ নিয়ে গঠিত: ১এ, ১বি, ২এ ও ২বি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য এপি ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি পরীক্ষার বিন্যাস দেখুন। বহুনির্বাচনী অংশটি কম্পিউটারের মাধ্যমে ও মুক্ত-উত্তর বা বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলো বিভিন্ন শিক্ষকদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। বহুনির্বাচনী ও বর্ণনামূলক উভয় অংশের নম্বর যুক্ত করে ১, ২, ৩, ৪ বা ৫ এর মধ্যে একটি চূড়ান্ত স্কোর প্রদান করা হয়।

বিভাগ ১: ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট

[সম্পাদনা]

১এ: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

এই বিভাগে একই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ২ থেকে ৫টি প্রশ্নের সেট থাকে। এই প্রশ্নগুলোর সাথে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক উৎস, চিত্র, গ্রাফ বা মানচিত্র থাকতে পারে। ৫৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি ৫৫ মিনিট সময় পাবেন। এটি আপনার মোট নম্বরের ৪০% বহন করবে।

দ্রষ্টব্য: ২০১১ সালের পরীক্ষা থেকে ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটার নিয়ম বাতিল করা হয়েছে।

এই বিভাগের জন্য কিছু কৌশল:

  • সুনিশ্চিত হোন: যদি আপনার মনে হয় কোনো উত্তর ভুল, তবে সেটি বাদ দিয়ে পরের উত্তরগুলোতে মনোযোগ দিন। মনে রাখবেন, আপনার প্রথম সহজাত প্রবৃত্তি অনেক সময় সঠিক হয়।
  • উত্তর ঘনঘন পরিবর্তন করবেন না: যদি না পরীক্ষার অন্য কোথাও এমন কোনো তথ্য পান যা প্রমাণ করে যে আপনার আগের উত্তরটি ভুল ছিল, তবে আপনার প্রথম পছন্দটিই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • প্রায়ই দেখা যায় দুটি অপশন সরাসরি বাদ দেওয়া যায়, ফলে বাকি দুটির মধ্যে সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।
  • অনেক উত্তরই যৌক্তিক হয় ও বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলেও কেবল যুক্তি দিয়ে সঠিক উত্তর বের করা সম্ভব। মনে রাখবেন যে কলেজ বোর্ডের পরীক্ষকরা একটি যৌক্তিক পরীক্ষা নিতে চান, তাই তারা এমনভাবে প্রশ্ন তৈরি করেন যা মনোযোগী ছাত্ররা অনুমান করতে পারে।
  • সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন: আপনি হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে পারবেন না। আশা করা যায় আপনার পরীক্ষক আপনাকে সময়ের আপডেট দেবেন, অথবা সাথে একটি স্টপ ক্লক রাখা ভালো হবে। একটি মাত্র প্রশ্নে খুব বেশি সময় ব্যয় করবেন না।

১বি: সংক্ষিপ্ত উত্তর

[সম্পাদনা]

এই বিভাগে প্রশ্নগুলোর উত্তর একটি অনুচ্ছেদে লিখতে হয়। এখানেও পাঠ্য, চিত্র, গ্রাফ বা মানচিত্র দেওয়া থাকতে পারে। ৪টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি ৫০ মিনিট সময় পাবেন। এটি আপনার মোট নম্বরের ২০% বহন করবে।

এই বিভাগের জন্য কিছু কৌশল:

  • সময়ের হিসাব রাখুন: উত্তরগুলো পুনরায় যাচাই করার আগে নিশ্চিত করুন যেন আপনি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর শেষ করেছেন।
  • উত্তর দেওয়ার আগে এক মিনিট পরিকল্পনা করে নিন: পরিকল্পনা ছাড়া লিখতে শুরু করলে মাঝপথে উত্তর সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে, যা আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করবে।

বিভাগ ২: ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

[সম্পাদনা]

২এ: নথিভিত্তিক প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

এই বিভাগে বিভিন্ন পাঠ্য, গ্রাফ বা ছবি বিশ্লেষণ করে উত্তর দিতে হয়। ১টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি ৫৫ মিনিট (১৫ মিনিটের পাঠ সময়সহ) সময় পাবেন। এটি মোট নম্বরের ২৫% বহন করবে।

এই বিভাগের জন্য কিছু কৌশল:

  • আপনার প্রবন্ধের পরিকল্পনা করুন: মাঝপথে সংশোধন করে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।
  • আপনার উত্তরের সমর্থনে সরবরাহকৃত মাধ্যমগুলো (পাঠ্য, গ্রাফ, ছবি) থেকে তথ্য বা প্রমাণ ব্যবহার করুন।

২বি: দীর্ঘ প্রবন্ধ

[সম্পাদনা]

এই বিভাগে দুটি প্রশ্ন থাকে, যার মধ্যে একটি বেছে নিয়ে ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে আপনার যুক্তি তুলে ধরতে হয়। ১টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি ৩৫ মিনিট সময় পাবেন। এটি আপনার মোট নম্বরের ১৫% বহন করবে।

এই বিভাগের জন্য কিছু কৌশল:

  • প্রবন্ধের পরিকল্পনা করুন: বর্ণনামূলক উত্তরের ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর।
  • একটি নির্দিষ্ট শীর্ষক বাক্য রাখুন ও সেটির ওপর মনোযোগ বজায় রাখুন; মূল প্রসঙ্গের বাইরে যাবেন না।
  • আপনার মূল বক্তব্যকে ঐতিহাসিক তথ্য ও সুনির্দিষ্ট ঘটনা দিয়ে সমর্থন করুন। যেমন: ধর্মের প্রতি সরকারি সমর্থন কীভাবে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করে তা বোঝাতে হিন্দু বর্ণপ্রথা ও ধর্মের উদাহরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • প্রমাণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিন: কোনো প্রমাণ দেওয়ার সময় অবশ্যই উল্লেখ করুন যে কেন সেটি আপনার মূল বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

পরীক্ষার বিন্যাস, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অনুশীলনের জন্য নিচে কিছু সহায়ক লিঙ্ক দেওয়া হলো।

পরীক্ষা সম্পর্কে আরও জানুন

[সম্পাদনা]

অনুশীলন

[সম্পাদনা]