বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্বের ইতিহাস/একটি নতুন সহস্রাব্দ

উইকিবই থেকে

মানচিত্র | উৎস | অবদানকারীদের কর্নার


বিশ্বায়ন

[সম্পাদনা]

পরিবর্তনশীল পরিবেশ

[সম্পাদনা]

একচ্ছত্র পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকা

[সম্পাদনা]

১৯৮৯ সালে সাম্যবাদী জোটের পতন এবং ১৯৯২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে টিকে থাকে।

পারমাণবিক যুগের পূর্ণ আবর্তন

[সম্পাদনা]

ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান

[সম্পাদনা]

গণতন্ত্র

[সম্পাদনা]

পূর্ব ইউরোপ এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নে সাম্যবাদের পতনের পর, পশ্চিমা বিশ্ব এবং প্রাক্তন সাম্যবাদী দেশগুলোর সাধারণ মানুষ আশা করেছিল যে এবার হয়তো গণতন্ত্রের এক নতুন যুগের সূচনা হবে। তবে একুশ শতকের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা ও পটপরিবর্তন সেই উদ্দীপনায় কিছুটা ভাটা ফেলে দেয়।

প্রথমত, রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে কর্তৃত্ববাদী বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। একটা সময় পর্যন্ত সবকিছু যখন গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছিল, তখন রাশিয়ার এই উল্টো যাত্রা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বেশ বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। আমেরিকার স্বাধীনতার ওপর নজরদারি করা সংস্থা 'ফ্রিডম হাউস'-এর মতে, প্রাক্তন সাম্যবাদী দেশগুলোর অধিকাংশ (বিশেষ করে পশ্চিমা অঞ্চলের দেশগুলো) একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অধীনে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভ্লাদিমির ভি. পুতিন নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়া একনায়কতান্ত্রিক মোড় নেয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুতিন অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা দমনের অভিযোগ ওঠে। রাশিয়ায় খুব অল্প কিছু স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রয়েছে, যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুতিনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা, যাতে প্রায় ৩,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। এই ঘটনাটি বিশ্ববাসীকে হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় যে, সারা বিশ্ব এখনও উদারপন্থী গণতন্ত্রকে সেরা বা গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর থেকেই সেখানে স্বৈরাচারী সরকার বিদ্যমান ছিল, যাদের অনেকের পেছনেই পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন ছিল। এই হামলাগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কতটা অভাব রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ বার্নার্ড লুইস দীর্ঘকাল ধরে ইসলাম বিষয়ক তাঁর বইগুলোতে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কতান্ত্রিক ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমাগত সমর্থন জুগিয়ে যাওয়াটাই সেখানে পশ্চিমা-বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা তাঁর এই মতামতের দিকে খুব একটা মনোযোগ দেননি। পশ্চিমা বিশ্ব তাদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদে এমন সব একনায়কদের সমর্থন দিয়ে গেছে যাদের একমাত্র গুণ ছিল তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা।

১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মনে হয়েছিল যে রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ এই চিন্তাচেতনা গ্রহণ করেছেন, কারণ তিনি সৌদি আরবকে ছাড় দিয়েছিলেন অথচ সেই হামলার অধিকাংশ অপরাধীই ছিল ওই দেশের নাগরিক। তবে তার বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি যুক্তি দেন যে, ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ১১ সেপ্টেম্বরের মতো নৃশংসতা প্রতিরোধের একটি পথ।

বুশের এই নীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি মার্কিন নীতিতে সত্যিই কোনো বড় পরিবর্তন বা মাইলফলক ছিল কি না, তা দেখার বিষয়। সম্ভবত তা ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারও ইরান, চিলি এবং নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলোতে মানবাধিকার রক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই নীতি ইরানে মার্কিনপন্থী শাহের পতন ঘটাতে এবং চরম মার্কিনবিরোধী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ক্ষমতায় আসায় সাহায্য করেছিল যিনি মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি শাহের চেয়েও কম শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ফলে কার্টার মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে ব্যর্থ হন।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

মহামন্দা

[সম্পাদনা]

বাণিজ্য যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

ইউক্রেন যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের ২১ আগস্ট ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। বিশেষ করে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ হবে নাকি রাশিয়ার দিকে ঝুঁকবে তা নিয়ে জনগণের মধ্যে একটি বড় বিভাজন বা দ্বিমত তৈরি হয়।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলটি দখল করে নেয়। এই সংঘাতের জেরে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ শুরু করে। ইউক্রেনীয়রা পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পায় এবং একই সাথে দেশগুলো রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আক্রমণের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের লক্ষ লক্ষ বেসামরিক নাগরিক প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে গমের সরবরাহ ব্যাহত হয় (২০২১ সালে বিশ্বের মোট শস্য উৎপাদনের প্রায় ১০% ইউক্রেন সরবরাহ করেছিল), যার ফলে যুদ্ধের শুরুর দিকে গমের দাম ২৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে ২০২৩ সালের দিকে এসে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে।