বিশ্বের ইতিহাস/ইউরেশিয়ার পরিবর্তন - মঙ্গোল বিজয় ও পরবর্তী প্রভাব
মানচিত্র | উৎস | অবদানকারীদের কর্নার
মঙ্গোল বিজয়
[সম্পাদনা]
ইউরোপ যখন তাদের মধ্যযুগের স্বর্ণশিখরে ছিল, ঠিক তখন এশিয়ার বুকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল এক সাম্রাজ্যের উদয় হয়। ১২০০-এর দশকের শুরুর দিকে চেঙ্গিস খান (পার্সি উচ্চারণ অনুযায়ী আগে যার নাম "গেনঘিস" লেখা হতো) নামের একজন নেতা মঙ্গোলদের সাথে অন্যান্য যাযাবর উপজাতিদের ঐক্যবদ্ধ করেন। এই সম্মিলিত মঙ্গোল বাহিনীকে গোল্ডেন হোর্ড বলা হতো। চেঙ্গিস (যার অর্থ "মহাসাগরীয়"; সিংহাসনে বসার আগে তাঁর নাম ছিল তেমুজিন) বেশ কয়েকজন দক্ষ সেনাপতি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সুবুতাই বাহাদুর এবং জেবে বাহাদুর ছিলেন সবচেয়ে বিখ্যাত (তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক ছিল না, মঙ্গোলীয় ভাষায় 'বাহাদুর' শব্দের অর্থ হলো 'সাহসী'। মঙ্গোল সেনাপতি ও নেতাদের নাম বিভিন্নভাবে বানান করা হয়)।
রাশিয়া বিজয়
[সম্পাদনা]১২৪০ সালে মঙ্গোলরা রাশিয়ার স্লাভিক জনপদ আক্রমণ করে। মঙ্গোলরা সেখানকার রাজাদের ওপর কর আরোপ করলেও তাদের শাসনের অধিকার কেড়ে নেয়নি। ১৪৮০ সালে উগ্রা নদীর তীরে এক রক্তপাতহীন অবস্থানের মাধ্যমে ইভান দ্য গ্রেট মঙ্গোল আধিপত্যের অবসান ঘটান।
এশিয়া বিজয়
[সম্পাদনা]
১২৬০ সালের মধ্যে মঙ্গোল বাহিনী এশিয়ার সমভূমিগুলো থেকে এক অদম্য শক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ও শক্তিশালী রাজ্যগুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং পশ্চিমে মিশর ও পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সময়ে চীনে মঙ্গোলদের ক্রমাগত আক্রমণে সং রাজবংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সেখানে তারা 'দা ইউয়ান ("মহান সূচনা") রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে। ঘোড়সওয়ার বাহিনীর ক্ষিপ্র ও ভয়ংকর আক্রমণই ছিল মঙ্গোলদের প্রধান রণকৌশল, যা এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী ইউরোপীয় এবং ইসলামিক বাহিনীগুলোকেও ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। তারা আদিম কামান এবং আগ্নেয়াস্ত্রের প্রযুক্তিও আয়ত্ত করেছিল এবং সেগুলো পশ্চিমে নিয়ে এসেছিল।
দুইবার বিশাল নৌ-বহর নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলেও জাপান জয় করার মঙ্গোল পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।[১]
বিজয়ের ফলাফল
[সম্পাদনা]
চরম উন্নতির শিখরে থাকাকালীন মঙ্গোল সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম সাম্রাজ্য, যা চীন থেকে রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এসব অঞ্চলে মঙ্গোলদের শাসন তাদের বহির্বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করেছিল এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়িয়ে দিয়েছিল। সাম্রাজ্যের পতনের (যা মূলত বিভিন্ন অঞ্চলের শাসনকাজের ভিন্নতা এবং চেঙ্গিসের উত্তরসূরিদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ঘটেছিল) বহু শতাব্দী পরেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটিই ইউরোপীয়দের এশিয়ার ধন-সম্পদের খোঁজে নতুন নতুন দেশ আবিষ্কারে উৎসাহিত করেছিল।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "এশিয়ান টপিকস অন এশিয়া ফর এডুকেটরস || মধ্যযুগীয় জাপান"। afe.easia.columbia.edu। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৪।