বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্বের ইতিহাস/আফ্রিকার প্রাচীন রাজ্য

উইকিবই থেকে

মানচিত্র | উৎস | অবদানকারীদের কর্নার


আদি আফ্রিকা

[সম্পাদনা]

পশ্চিম আফ্রিকার সাম্রাজ্যসমূহ

[সম্পাদনা]
মালি সাম্রাজ্যের সীমানা

শক্তিশালী মালি সাম্রাজ্য আনুমানিক ১২৩৫ থেকে ১৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। এই সময়ের মধ্যে ইসলাম এই অঞ্চলের প্রধান ধর্মে পরিণত হয়। উত্তর আফ্রিকার ইসলামি শক্তিকেন্দ্রগুলো থেকে বণিকরা উটের পিঠে চড়ে (যা আফ্রিকায় নতুন ছিল) সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে মালিতে আসতেন। তারা আসতেন মূলত এই অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ সোনার খোঁজে, আর সেখানে সত্যিই প্রচুর সোনা ছিল। মালি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের এই কৌশলগত বাণিজ্যিক ক্ষমতা এতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

মানসা মুসার চিত্র, যাকে ইতিহাসের অন্যতম ধনী শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।

মালি সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন সম্ভবত মানসা মুসা, যিনি রাজধানী টিম্বাকটু নির্মাণ করেছিলেন। শহরটি ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত ছিল, বিশেষ করে সানকোর বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক শতাব্দী ধরে ইসলামি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। সানকোর গিল্ড এবং মাদ্রাসাগুলোতে (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষা ছিল অবৈতনিক। সারা মুসলিম বিশ্বের পণ্ডিত এবং কারিগররা এর সুবিধা নিতে এখানে আসতেন। শহরের সেই বিশাল মাটির মসজিদটি আজও টিকে আছে। এছাড়া, আগে ঘানার সীমানার ভেতরে থাকা এই রাজ্যটিকে মুসা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন।

১৩০৭ সালের দিকে, পিস্টলেরো শরীরকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করত, যা বিশ্বের এই সবচেয়ে উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুসলিম সাম্রাজ্যগুলোর কাছে মালির অন্যান্য চাহিদাপূর্ণ পণ্য ছিল দাস এবং হাতির দাঁত। বিনিময়ে মালিতে আসত কাপড়, সোনা, মৃৎশিল্প এবং অন্যান্য টেক্সটাইল পণ্য।

সোঙ্গাই

[সম্পাদনা]

পূর্ব আফ্রিকার সভ্যতা

[সম্পাদনা]

গ্রেট জিম্বাবুয়ে

[সম্পাদনা]

সোয়াহিলি সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

পূর্ব আফ্রিকায় যখন আরবি বণিকরা কেনিয়া, তানজানিয়া এবং মোজাম্বিক উপকূলে বন্দর স্থাপন করেন, তখন সোয়াহিলি সংস্কৃতির উদ্ভব হয়। এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত সোয়াহিলি ভাষাটি মূলত আরবি এবং স্থানীয় বান্টু ভাষার একটি সংমিশ্রণ।

নুবিয়া এবং আকসুম

[সম্পাদনা]

নুবিয়া

[সম্পাদনা]
শাসনব্যবস্থা
[সম্পাদনা]

নুবিয়ার প্রথম কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের আগে (সম্ভবত কার্মা যুগে), নুবীয়রা বিচ্ছিন্ন উপজাতি হিসেবে বাস করত। একটি উপজাতি গঠিত হতো রক্ত সম্পর্কের সদস্যদের নিয়ে। এই উপজাতিগুলোর মধ্যে কিছু ছিল বেশ বড়, কারণ পুরোনো রাজ্যের সেনাবাহিনী প্রায়ই বিদ্রোহী উপজাতিদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হতো। উপজাতিগুলোর মধ্যে কর্তৃত্ব বণ্টনের একটি শ্রেণিবদ্ধ ব্যবস্থা ছিল; উপবিভাগীয় প্রবীণরা বর্ধিত পরিবারগুলোর প্রধান হতেন, যা একক পরিবারগুলোর উপরে থাকত। অর্থনৈতিক, সামরিক বা অন্যান্য কাজগুলো উপজাতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। উপজাতির প্রধান হতেন সবচেয়ে শক্তিশালী, জ্ঞানী বা ধার্মিক ব্যক্তিরা; আর যুবকরা যুদ্ধে সাহসী সৈনিক হিসেবে কাজ করত।

নীল নদ উপত্যকার সংকীর্ণ জমিতে কৃষিকাজই ছিল নুবীয়দের প্রধান খাদ্য উৎস। তাই নুবীয় জনসংখ্যার বেশিরভাগই ছিল কৃষক। প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো এবং উজানি নুবিয়ায় পলি জমিয়ে কৃষিজমিকে উর্বর করে তুলত। কুশাইটীয়রা তাদের খামারে জলসেচের জন্য শাদূফ (একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে চালিত যন্ত্র যা নিচু জায়গা থেকে পানি তুলে উঁচুতে সরবরাহ করে) ব্যবহার করত। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর দিকে তারা সাকিয়া (একটি জলচক্র) ব্যবহার শুরু করে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকে নুবিয়ায় এসেছিল। নুবিয়ায় বৃষ্টির জল সংগ্রহের জন্য অনেক হাফির (বৃষ্টির জল সংগ্রহের জন্য সমতল ভূমিতে খনন করা গর্ত) পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মুসাওওয়াত এস সুফরায় পাওয়া হাফিরগুলো উল্লেখযোগ্য। তবে শুধু হাফির দিয়ে খামারে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া সম্ভব ছিল না। পানি সংরক্ষণের জন্য কুশাইটদের তৈরি একমাত্র বাঁধটি শাক এল আহমারে পাওয়া গেছে।

নুবীয়দের প্রধান খাদ্যশস্য ছিল জোয়ার; কুশাইট মৃৎশিল্পে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। নীল নদের তীরে উৎপাদিত ফসলগুলোর মধ্যে খেজুর ছিল অন্যতম, বিশেষ করে আপার নুবিয়ায়। ষষ্ঠ শতাব্দীতে আরবরা নুবীয়দের উন্নত মানের খেজুরের ওয়াইন উৎপাদনের জন্য চিনত। নিউ কিংডম যুগের মিশরীয় রিলিফগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ডোম (এক ধরনের পাম ফল) উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে নুবীয়দের প্রায়ই মিশরীয় ফারাওদের উপহার হিসেবে ডোম বহন করতে দেখা যায়।

বাণিজ্য
[সম্পাদনা]

ইতিহাসজুড়ে নুবিয়া ছিল মিশরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার। ওল্ড কিংডমের মিশরীয় রিলিফে দেখা যায় নুবীয়রা মিশরীয় ফারাওদের সোনা, হাতির দাঁত, এবনি, উটপাখির পালক, ডোম (পাম ফল) এবং জিরাফের মতো বিদেশি প্রাণী উপহার দিচ্ছে। নুবিয়ার এই সব বিদেশি প্রাণী ও পণ্য মিশরের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে রপ্তানি হতো। গ্রিসের থেরার একটি মিনোয়ান প্রাসাদের ফ্রেস্কোতে হরিণের ছবি এবং ক্রিট ও থেরা-র অন্যান্য প্রাসাদে বানরের ছবি পাওয়া গেছে যা নুবিয়ার সাথে বাণিজ্যের ইঙ্গিত দেয়।

নুবীয়রা যেসব পণ্য আমদানি করত তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্রোঞ্জ। সপ্তদশ শতাব্দীতে হিকসোসদের মাধ্যমে নুবীয়রা প্রথম ব্রোঞ্জের পরিচয় পায়। নুবীয়রা ব্যাপকভাবে ব্রোঞ্জ ব্যবহার করত। প্রাচীন বিশ্বে তলোয়ার এবং খঞ্জর তৈরির জন্য এই ধাতুটিই ছিল সেরা। নুবীয়রা সম্ভবত তাদের অধিকাংশ ব্রোঞ্জ মিশর থেকে আমদানি করত। নুবীয়রা তেলও আমদানি করত। প্রথম শতাব্দীর রোমান ইতিহাসবিদ ও ভূগোলবিদ স্ট্রাবো লিখেছেন, "তাদের (নুবীয়দের) কোনো তেল নেই, তারা তেলের বদলে চর্বি ব্যবহার করে"। উদাহরণস্বরূপ, লেবানন থেকে মিশরের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে জলপাইয়ের তেল আমদানি করা হতো। নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে সিডার কাঠও আমদানি করা হতো। নুবিয়ার মন্দির এবং রাজকীয় ভবনগুলোর ছাদ তৈরিতে সিডার কাঠ ব্যবহার করা হতো। নাপাতা'র আমুন মন্দিরের ছাদ সিডার কাঠ দিয়ে তৈরি ছিল, যা তাহারকা লেবানন থেকে বিশেষভাবে আমদানি করেছিলেন বলে জেবেল বারকালের শিলালিপিতে উল্লেখ আছে।

লিখন পদ্ধতি
[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ অব্দের অনেক শিলালিপি কার্মায় পাওয়া গেলেও সেগুলোর পৃষ্ঠে লেখার চিহ্ন টিকে নেই। তাই নুবীয়দের সেই সময় কোনো লিখন পদ্ধতি ছিল কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কুশাইট লিখিত ভাষার যা প্রমাণ পাওয়া গেছে তা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের; এগুলো নাপাতান যুগের পোড়ানো ইট এবং বেলেপাথরের তৈরি স্থাপনাগুলোতে পাওয়া গেছে। টেকসই দেয়াল এবং মন্দিরে সংরক্ষিত শিলালিপিগুলোতে প্রাচীন নুবীয় ভাষায় অনেক লেখা ও চিত্র পাওয়া গেছে। তবে পর্যাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক কাজের অভাবের কারণে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর আগে নুবীয় ভাষা লিখিত রূপ পেয়েছিল কি না।