বাংলা ব্যাকরণ/বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস
বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস বলতে বাংলা ভাষার ব্যাকরণচর্চার বিকাশধারাকে বোঝায়। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে এবং প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক—এই তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।
প্রাচীন যুগ
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষার উদ্ভব পাল ও সেন যুগে (১০ম–১২শ শতাব্দী)। এই সময়ে বাংলা ব্যাকরণের কোন পৃথক গ্রন্থ রচিত হয়নি। সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব ছিল প্রবল। প্রাচীন বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপতত্ত্বে সংস্কৃতের ছাপ সুস্পষ্ট ছিল।
মধ্যযুগ
[সম্পাদনা]১৫শ–১৭শ শতকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য প্রভৃতির মাধ্যমে বাংলা ভাষার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়। যদিও এ সময়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকরণ রচিত হয়নি, মৌখিক চর্চা ও সাহিত্য রচনার মাধ্যমে ব্যাকরণ ক্রমশ পরিশীলিত হতে থাকে।
আধুনিক যুগ
[সম্পাদনা]আধুনিক যুগে বাংলা ব্যাকরণ রচনার সূচনা ঘটে।
- ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed) রচনা করেন A Grammar of the Bengal Language—যা ছিল প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ।
- ১৯শ শতকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচনা করেন বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), যা আধুনিক বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে।
- রাজেন্দ্রলাল মিত্র, রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যাকরণচর্চায় অবদান রাখেন।
সমসাময়িক সময়
[সম্পাদনা]২০শ শতকে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখ বাংলা ভাষাকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করেন। বর্তমানে বাংলা ব্যাকরণ ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্বের আলোকে গবেষণা ও পাঠদানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]সূত্র
[সম্পাদনা]- হ্যালহেড, এন. বি. (১৭৭৮)। A Grammar of the Bengal Language.
- বিদ্যাসাগর, ঈশ্বরচন্দ্র (১৮৫৫)। বর্ণপরিচয়।
- চট্টোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার (১৯৩৯)। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।