বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক ধারণা/ফাইল ইনপুট এবং আউটপুট

উইকিবই থেকে

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

[সম্পাদনা]

কম্পিউটার ফাইল হল এমন একটি মাধ্যম যেখানে কম্পিউটার নির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য বা ডেটা সংরক্ষণ করে রাখে এবং প্রয়োজনমতো ব্যাবহার করে। যেমন কাগজে আমরা কিছু লিখে রাখতে পারি, তেমনি কম্পিউটারেও যেকোন তথ্য ফাইলে সংরক্ষিত করা যায়। ফাইলে সাধারনত ডিজিট্যাল ফরম্যাট বা সংখ্যাগত বিন্যাস -এ তথ্য সংরক্ষিত করা হয়।

কম্পিউটার ফাইলের বিভিন্ন ধরন আছে এবং এই বিভিন্ন ধরনের ফাইলে নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য ব্যাবহার হয়। কোনো ফাইলে ছবি সংরক্ষণ করা হয়, কোন ফাইলে লিখিত তথ্য, আবার কোন ফাইলে ভিডিও, প্রোগ্রাম বা অন্য যেকোনো ধরণের ডেটা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এমন কিছু ফাইলও আছে যেগুলোতে একইসাথে ছবি, ভিডিও, লেখা ইত্যাদি একাধিক ধরনের তথ্য একসাথে সংরক্ষিত করা যেতে পারে।

কোন ফাইলে কি ধরনের তথ্য সংরক্ষিত আছে সেটা বোঝানোর জন্য ফাইল এক্সটেনশন ব্যাবহার করা হয়। সংক্ষেপে ফাইল এক্সটেনশন এইভাবে বোঝানো যায় যে, যখন আমরা কম্পিউটারে কোন ফাইল সংরক্ষন করি তখন সেই ফাইলের একটি নামকরণ করা হয় এবং সেই নামের পর ডট চিহ্ন যোগ করে তারপর ফাইলটি কি ধরনের ফাইল তা একটি সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে উল্লেখ করা হয় যেটা দেখে কম্পিউটার বুঝতে পারে যে সেটি কি ধরনের ফাইল। যেমন ধরুন কোন ফাইলে একটি ছবি সংরক্ষিত আছে। এই ধরনের ফাইলকে কম্পিউটারে ইমেজ ফাইল নামে সম্বোধিত করা হয়। এবার ধরুন সেই ইমেজ ফাইলটিকে আমরা কম্পিউটার মেমরিতে সংরক্ষিত করে রাখবো। ধরুন আমরা ফাইলের নামকরন করতেতে চাই pic তাহলে আমরা ফাইলটিকে pic.jpg নামে সংরক্ষিত করব। এই .jpg -এর মাধ্যমে কম্পিউটারে সংরক্ষিত যে কোন ইমেজ ফাইল (যাতে ছবি সংরক্ষণ করা হয়) -কে নির্দেশ করা হয়। অর্থাৎ .jpg হল ছবি সংরক্ষনকারী ফাইলের ফাইল এক্সটেনশন। সেরকমই টেক্সট ফাইল(অক্ষর ও গানিতিক সংখ্যা সংরক্ষণকারী ফাইল) -এর জন্য .txt, ভিডিও ফাইল (চলমান ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণকারী ফাইল) -এর জন্য .mp4 ইত্যাদি ফাইল এক্সটেনশন ব্যাবহার হয়।[]

কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোনও ফাইলকে খোলা, তার মধ্যে লিখিত তথ্যের বিশ্লেষণ করা, এবং প্রয়োজনে তথ্যের পরিবর্তন করা এবং বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের সফটওয়্যার, প্রোগ্রাম এবং নির্দেশনা ব্যবহার করা হয়। একবার কম্পিউটারে ফাইল তৈরি হলে তাকে যতবার খুশি খোলা যায়, লিখিত তথ্যের পরিবর্তন করা যায় বা ফাইলটিকে কপিও করা যায়—এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।[]

আলোচনা

[সম্পাদনা]

যখন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামে লিখিত নির্দেশগুলি একে একে পালনের মাধ্যমে প্রোগ্রামটি সম্পাদনের পথে আগ্রসর হয়, তখন কম্পিউটার প্রোগ্রাম কর্তৃক গৃহীত ইনপুট এবং প্রোগ্রামের কার্যকারিতা সম্পাদনের পর প্রকাশিত ফলাফল বা আউটপুট -এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমকে স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রিম নামে অভিহিত করা হয়। কম্পিউটার সিস্টেমের মানদন্ড অনুসারে তিন প্রকারের মৌলিক ইনপুট/আউটপুট স্ট্রিম বা সংযোগ লক্ষ্য করা যায়,

স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট – কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় একে সংক্ষেপে stdin হিসাবে অভিহিত করা হয়। কম্পিউটারে সাধারণত ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়।

স্ট্যান্ডার্ড আউটপুট – কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় একে সংক্ষেপে stdout হিসাবে অভিহিত করা হয়। সম্পাদিত প্রোগ্রামের ফলাফল সাধারণত কম্পিউটার মনিটরে প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও মুলত কম্পিউটারের আউটপুট নিয়ন্ত্রনকারী সংযোগের সাথে প্রিন্টারের যোগাযোগ আছে।

স্ট্যান্ডার্ড এরর – কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় একে সংক্ষেপে stderr হিসাবে অভিহিত করা হয়। কোন প্রোগ্রামের কার্যকারিতায় কোনো ত্রুটি বা ভুল বার্তা যদি ধরা পরে তবে তা এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। এই ত্রুটির বার্তা সাধারণত কম্পিউটার মনিটরেই দেখানো হয়।

উপরিউক্ত মৌলিক ইনপুট/আউটপুট স্ট্রিম বা সংযোগগুলিকে প্রয়োজনে অন্য কম্পিটারে সংযুক্ত করা যেতে পারে বা এদের মাধ্যমে ফাইলেও তথ্য পাঠানো (রিডাইরেক্ট করা) যায়।[]

কম্পিউটার ফাইল মূলত সেকেন্ডারি স্টোরেজ [] (যেমন হার্ডডিস্ক, এসএসডি) -এ সংরক্ষিত হয়। ফাইল -এর মূল উপযোগীতা হল কম্পিউটার প্রোগ্রামের তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত রাখা যাতে দরকারের সময় সেই তথ্য পুনরায় ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটার সিস্টেমে কোন বিশেষ প্রোগ্রাম সম্পাদনের সময় কখোনো কখোনো কিছু উপযোগী তথ্য বারবার যাচাই করতে ও দরকারে পরিবর্তন করতে হয় এবং তা সম্ভব হয় এই ফাইল সিস্টেম ব্যবস্থার মাধ্যমে।

সঠিকভাবে ফাইল ব্যবহার করতে হলে আমাদের জানতে হবে কিভাবে একটি টেক্সট ফাইল খোলা (ওপেন), পড়া (রীড), লেখা (রাইট) এবং বন্ধ (ক্লোস) করতে হয়।

নিচে ফাইল ইনপুট/আউটপুট (File I/O) সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে:

টেক্সট ফাইলটেক্সট ফাইল হলো এমন এক ধরনের ফাইল যেখানে মূলত অক্ষর(ক্যারেকটার) অথবা সংখ্যাসূচক তথ্যকে সংরক্ষণ করা হয় এবং এই তথ্যগুলি মূলত অ্যাস্কি (ASCII) অক্ষরের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়, কারণ অ্যাস্কি অক্ষর কম্পিউটারের সিস্টেমের দ্বারা বোধগম্য হয়। এইজন্য কখনো কখনো টেক্সট ফাইলকে অ্যাস্কি টেক্সট ফাইল হিসাবে সম্বোধিত করা হয়। একটি টেক্সট ফাইলকে সাধারণত অনেকগুলি লাইনের সমষ্টি হিসাবে ধরা যায়। প্রতিটি লাইনে একাধিক অক্ষর থাকে (যার মধ্যে স্পেস, যতিচিহ্ন ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত), এবং প্রতিটি লাইনের শেষে একটি রিটার্ন ক্যারেক্টার (অ্যাস্কি কোডের একটি অংশ) বা নিউ লাইন ক্যারেক্টার বলা হয়। এই বিশেষ নিউ লাইন ক্যারেক্টার টেক্সট ফাইল-এর অন্তর্গত একটি একক লাইনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বেশিরভাগ কম্পিউটার প্রোগ্রামে ব্যাবহৃত জনপ্রিয় নিউ লাইন ক্যারেক্টার হল \n যার মাধ্যমে টেক্সট ফাইলে মুদ্রিত একটি একক লাইনের সমাপ্তি নির্দেশ করতে ব্যাবহার করা হয়।

একটি সাধারণ টেক্সট ফাইল তৈরি করা যায় বিভিন্ন টেক্সট এডিটর (যেমন নোটপ্যাড) বা ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার (যেমন মাইক্রোসফট ওয়ার্ড)-এর মাধ্যমে। তবে ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করলে ফাইল সংরক্ষণের সময় অবশ্যই .txt এক্সটেনশন দিয়ে টেক্সট ফাইল হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং -এর ক্ষেত্রে সোর্স কোড ফাইল -এর বিশেষ বিশেষ গুরুত্ব আছে। বেশিরভাগ সোর্স কোড ফাইল-ই সাধারণত অ্যাস্কি টেক্সট ফাইল, কিন্তু এই সোর্স কোড ফাইলগুলি কিন্তু .txt হিসাবে সংরক্ষিত হয়না। প্রত্যেক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গোয়েজের আলাধা আলাধা এক্সটেনশন থাকে। যেমন কোন সি++ প্রোগ্রামের সোর্স কোড ফাইলের জন্য .cpp, সি শার্প প্রোগ্রামের সোর্স কোড ফাইলের জন্য .cs, পাইথন প্রোগ্রামের সোর্স কোড ফাইলের জন্য .py এক্সটেনশন ব্যবহার হয় ইত্যাদি। কম্পাইলার বা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট বা আই ডি ই ব্যবহার করে এইধরনের অ্যাস্কি টেক্সট ফাইল বা সোর্স কোড ফাইল তৈরি করা যায়। আই ডি ই -তে সোর্স কোড ফাইলকে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গোয়েজের জন্য ব্যাবহৃত নির্দিষ্ট ফাইল এক্সটেনশন ব্যাবহার করে সংরক্ষিত করা হয়।

ফাইলনেম – ফাইলের নাম এবং তার এক্সটেনশনকে একত্রে কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় ফাইলনেম বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোনো টেক্সট ফাইলকে যদি Lab_05.txt হিসাবে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয় তাহলে Lab_05 হলো ফাইলের নাম এবং .txt হলো সেই ফাইলের এক্সটেনশন এবং Lab_05.txt হল ফাইলনেম

বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমে ফাইলের নামকরন করার সময়ে নির্দিষ্ট কিছু অক্ষর (যেমন: / \ : * ? " < > |) ব্যবহার করা যায় না। এছাড়াও, অনেক অপারেটিং সিস্টেমে ফাইলনেমে স্পেস ব্যবহার করলেও ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে, ফাইলের নামের মধ্যে স্পেস দেওয়ার প্রয়োজন হলে, আমরা আন্ডারস্কোর (_) ব্যবহার করার পরামর্শ দিই। উদাহরণ: Lab 05.txt এর বদলে Lab_05.txt ফাইলনেমের ব্যবহার যথোপযুক্ত।

পাথ (ফাইলস্পেক) – যেকোন ফাইল কম্পিউটারের সেকেন্ডারি মেমরি অর্থাৎ হার্ড ড্রাইভ বা এস এস ডি -তে সংরক্ষিত থাকে। কম্পিউটারের মেমরিতে একটি ফাইলের অবস্থান বোঝানোর জন্য পাথ -এর ব্যাবহার করা হয়। ফাইলস্পেক শব্দটি আসলে ফাইল স্পেশিফিকেশন -এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, কম্পিউটারে মেমরির কোন স্থানে নির্দিষ্ট ফাইলটি আছে এবং কিভাবে সেই ফাইলটির অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে তা নির্দেশ করতে এই ফাইলপাথ ব্যাবহার করা হয়।

বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমে ফাইলের অবস্থান বোঝানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে, যার মধ্যে ড্রাইভের নাম, ফোল্ডারের নাম এবং ফাইলনেম উল্লেখ করা হয়।

বিশদে বলতে গেলে, কোনও প্রোগ্রামে যখন কোন ফাইলের তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন হয় তখন প্রোগ্রামের মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন সে মেমরিতে সংরক্ষিত সেই ফাইলের অনুসন্ধান করে এবং সেই ফাইল থেকে উপযুক্ত তথ্য নিস্কাশন করে। এবার সেই ফাইলটিকে সিস্টেম কিভাবে খুজবে তাকে সেই নিরদেশ দিতে হবে। তাই সর্বপ্রথম কম্পিউটার মেমরির কোন স্থানে সেই ফাইলটি সংরক্ষিত হচ্ছে সেটি জানান দিতে হবে। উদাহরন হিসাবে, ধরুন আমাদের একটি নির্দিষ্ট টেক্সট ফাইল দরকার যার ফাইলনেম Lab_05.txt। তাহলে সেই ফাইলের পাথ হবে,

C:\myfiles\cosc_1436\Lab_05.txt

এখানে C: হলো কম্পিউটার মেমরির অন্তর্গত ড্রাইভ যেখানে ফাইলটি কোন এক ফোল্ডারের মধ্যে সংরক্ষিত আছে, myfiles\cosc_1436 হলো ড্রাইভের অন্তরবর্তী ফোল্ডার বা ডাইরেক্টরি পাথ যার মধ্যে ফাইলটি আছে এবং Lab_05.txt হলো ফাইলনেম। এইভাবেই কোন নির্দিষ্ট ফাইলের পাথ নির্দেশিত হয় এবং অপারেটিং সিস্টেম সেই পাথ বা পথ অনুসরন করে ফাইলের অবস্থান নির্ধারন করতে সক্ষম হয়।

ওপেন – যখন আমরা কোনো প্রোগ্রামে একটি বিশেষ ফাইলের তথ্য ব্যবহার করতে চাই, তখন প্রথমে সেই ফাইলটি ওপেন করতে হয় এবং কেবলমাত্র তার পরেই কোন প্রোগ্রাম সেই ফাইলে উল্লিখিত তথ্যের বিশ্লেষন করতে পারে। আরো বিশদে যদি আলোচনা করি তাহলে, যখন একটি প্রোগ্রামে কোন বিশেষ ফাইলের তথ্য যাচাইয়ের দরকার হয় তখন প্রোগ্রামে কিছু বিশেষ নির্দেশের মাধ্যমে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমকে অনুরোধ করা হয় যাতে ফাইলটি ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়। কম্পিউটার প্রোগ্রামে ফাইল সম্পর্কিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এক বিশেষ ধরনের ডেটা টাইপ ব্যাবহার হয় যাকে বলা হয় ফাইল ডেটা টাইপ। এছাড়াও বিশেষ ধরনের ভ্যরিয়েবলও ব্যাবহার হয় যাকে বলা হয় ফাইল ভ্যারিয়েবল। এছাড়াও ব্যাবহার হয় কিছু পূর্বগঠিত ফাংশন বা মেথড ব্যবহার হয়। এই ওপেন বা open() হল সেইধরনের একটি ফাংশন বা মেথড যা প্রোগ্রামের মধ্যে ফাইল সংক্রান্ত কার্যকলাপ পরিচালনা করতে ব্যাবহার হয়।

কম্পিউটার প্রোগ্রামে ওপেন ফাংশন ব্যাবহারের সময় নিম্নলিখিত সরল মৌলিক গঠনটি অনুসরন করা হয়;

Declare File datafile

datafile = open(filespec, mode)

উপরিউক্ত গঠন থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, open() ফাংশন বা মেথড সাধারনত দুটি ইনপুট গ্রহন করে, যার মধ্যে প্রথমটি হল filespec যাকে পাথ হিসাবেও উল্লেখ করা হয়ে এবং এর ব্যাপারেে আমরা এর আগেই আলোচনা করেছি। পাথ -এর মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট ফাইল কম্পিউটারের মেমরির কোন স্থানে সংরক্ষিত আছে তার হদিশ জানা যায় এবং সেইমতো অপারেটিং সিস্টেম সেই ফাইলটিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।

open() ফাংশন বা মেথডের দ্বারা গৃহীত দ্বিতীয় ইনপুটকে কম্পিউটারের ভাষায় মোড হিসাবে উল্লিখিত করা হয়। এই মোডের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয় যে ফাইলের তথ্যকে কিরূপে বিশ্লেষণ করতে হবে; ফাইলে সংরক্ষিত ডেটা বা তথ্যকে শুধু বা যাচাই করতে হবে? না কি কোন নতুন তথ্য তাতে যোগ করতে হবে। সাধারনত ফাইলের মোড তিন প্রকার;

রিড - ধরুন কোন কম্পিউটার প্রোগ্রামে কারনবশত একটি ফাইলের কিছু তথ্যকে যাচাই করতে হল। এতে সেই ফাইলের তথ্যের কোন পরিবর্তন করা হচ্ছেনা, শুধু অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন কোন নির্দিষ্ট ডেটা বা তথ্য সেই ফাইলে উপস্থিত আছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে অর্থাৎ একপ্রকারে আপনি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কম্পিউটারকে নির্দেশ দিচ্ছেন ফাইলে লিখিত তথ্যগুলিকে রিড করার জন্য বা পড়ার জন্য। তখন সাহারণত রিড মোডের ব্যাবহার করা যায়। কোন ফাইলকে যদি রিড মোডে ওপেন করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত সংকেত ব্যাবহার করা যায়,

datafile = open(filespec, "r")

অথবা
text = read(datafile)

অথবা

text = datafile.read()

রাইট - কোন ফাইলের মধ্যে উল্লিখিত তথ্য বা ডেটাকে সম্পূর্ভাবে মুছে দিয়ে যদি আমরা তাতে নতুন তথ্য সংযোজন করতে চাই তাহলে রাইট মোড ব্যাবহার করা হয়। রাইট মোডকে w -এর মাধ্যমে নির্দেশিত করা হয়। কোন ফাইলকে যদি রীড মোডে ওপেন করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত সংকেত ব্যাবহার করা যায়,

datafile = open(filespec, "w")

অথবা

write(datafile, text)

অথবা

datafile.write(text)

অ্যাপেন্ড - কোন ফাইলে বর্তমান তথ্য বা ডেটাকে অপরিবর্তিত রেখে তাতে নতুন তথ্য সংযোজন করার জন্য অ্যাপেন্ড মোড ব্যাবহার করা হয়। অ্যাপেন্ড মোডকে a -এর মাধ্যমে নির্দেশিত করা হয়। কোন ফাইলকে যদি রীড মোডে ওপেন করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত সংকেত ব্যাবহার করা যায়,

datafile = open(filespec, "a")

ক্লোজ – একটি ফাইল ওপেন করার পর, প্রোগ্রামে যখন সেই ফাইলের ব্যাবহার শেষ হয়ে যায়, তখন ফাইলটিকে ক্লোজ বা বন্ধ করার জন্য অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মানে হলো, প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেমকে জানাচ্ছে যেন সেই ফাইলটির ব্যাবহার শেষ হয়েছে এবং সেটিকে যেন আর খোলা না রাখা হয়। কম্পিউটার প্রোগ্রামে কোন ফাইল ওপেন করার পর তা ক্লোজ করা অত্যন্ত আবশ্যিক ফাইল ক্লোজ করার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, প্রথমত ফাইল ক্লোজ করার মাধ্যমে ফাইলে উল্লিখিত সমস্ত ডাটা বা তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষন করা যায় এবং দ্বিতীয়ত অপারেটিং সিস্টেম ওই ফাইলকে ব্যবহারের করার জন্য কম্পিউটারের কিছু অতিরিক্ত মেমরি বরাদ্দ করে। কিন্তু ফাইল ক্লোজ করলে সেই মেমরিগুলি আবার মুক্ত হয়ে যায় এবং সিস্টেম অন্য জরুরী কাজে সেই মেমরি বরাদ্দ করতে পারে।

ক্লোজ ফাংশনের মাধ্যমে কোন ফাইলকে ক্লোজ করা হয়, যার মৌলিক গঠন নিম্নরূপ

close(datafile)

অথবা

datafile.close()

মূল পরিভাষা

[সম্পাদনা]
ক্লোজ
আপনার প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেমকে অনুরোধ করে যেন আগে থেকে খোলা বা ওপেন করা একটি ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডিভাইস টোকেন
অপারেটিং সিস্টেমের দ্বারা সরবরাহকৃত একটি মান, যা আপনার প্রোগ্রামের সঙ্গে কোন এক ফাইল সংযুক্ত করে।
ফাইলনেম
ফাইলের নাম এবং তার এক্সটেনশন।
ফাইলস্পেক
একটি ফাইলের অবস্থান, যার মধ্যে ড্রাইভ, ফোল্ডার এবং ফাইলনেম অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ওপেন
আপনার প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেমকে অনুরোধ করে যেন একটি বিদ্যমান ফাইল ব্যবহারের জন্য খোলে অথবা একটি নতুন ফাইল তৈরি করে।
রিড
একটি ওপেন বা খোলা ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে তা প্রোগ্রামের মেমোরির নির্দিষ্ট স্থানে আনে।
স্ট্রীম
ধারাবাহিকভাবে পাওয়া তথ্যের একটি ক্রম।[]
স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট
কোন কম্পিউটার বা যন্ত্রের ইনপুট গ্রহনকারী স্ট্রীম বা তথ্য সংযোগ, সাধারণত কীবোর্ড।[]
স্ট্যান্ডার্ড এরর
কোন কম্পিউটার প্রোগ্রামের ত্রুটি বা এরর, সাধারণত মনিটরে প্রদর্শিত।[]
স্ট্যান্ডার্ড আউটপুট
কোন কম্পিউটার বা যন্ত্রের আউটপুট প্রদানকারী স্ট্রীম বা তথ্য সংযোগ, আগে প্রিন্টারে পাঠানো হতো, এখন সাধারণত কম্পিউটার মনিটরে প্রদর্শিত হয়।[]
টেক্সট ফাইল
অ্যাস্কি অক্ষর সম্বলিত একটি ফাইল।
রাইট
প্রোগ্রামের মেমোরিতে সংরক্ষিত তথ্যের বদল করা হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]