বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রাণীর অঙ্গসংস্থান ও শরীরবিদ্যা/মূত্রতন্ত্র

উইকিবই থেকে

লক্ষ্যসমূহ

[সম্পাদনা]

এই অধ্যায়টি শেষ করার পর আপনি জানতে পারবেন:

  • মূত্রতন্ত্রের অংশগুলোর সম্পর্কে।
  • কিডনির গঠন ও কার্যপ্রণালী।
  • কিডনি টিউবিউল বা নেফ্রনের গঠন ও কাজ।
  • রক্ত থেকে মূত্র তৈরির সময় কিডনি টিউবিউলে সংঘটিত ছাঁকনি, পুনরশোষণ, নিঃসরণ ও ঘন হওয়ার প্রক্রিয়া।
  • ঘন মূত্র উৎপাদনে অ্যান্টিডাইয়িউরেটিক হরমোনের ভূমিকা।
  • স্বাভাবিক মূত্রের উপাদান, সংরক্ষণ ও নির্গমনের পদ্ধতি।
  • মূত্রে অস্বাভাবিক উপাদান থাকলে তার তাৎপর্য।
  • নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য নির্গমন, দেহে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, লবণের ঘনমাত্রা এবং অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে কিডনির ভূমিকা।
  • পাখিদের মূত্রথলি থাকে না।

হোমিওস্ট্যাসিস

[সম্পাদনা]

হোমিওস্ট্যাসিস হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রাণী বা মানুষ তাদের দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রক্রিয়া। ১৯৫৯ সালে এই শব্দটি চালু হয়, যা বোঝায় এমন কিছু শারীরিক ও রাসায়নিক উপাদান যেগুলো একটি জীবকে তার কোষ, টিস্যু, অঙ্গ এবং অঙ্গ-প্রণালীর সঠিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।

মনে রাখতে হবে এনজাইম কাজ করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও pH পরিসরে এবং কোষগুলোর চেষ্টা থাকে যাতে খুব বেশি বা খুব কম পানি না থাকে। এই অবস্থাগুলোই হোমিওস্ট্যাসিসের উদাহরণ। যেমন আমাদের শরীরের জন্য একটি আরামদায়ক তাপমাত্রা পরিসর থাকে, ঠিক তেমনি দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশেরও নির্দিষ্ট পরিসর রয়েছে। যার মধ্যে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। বহুকোষী প্রাণীরা এটি করে বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গ-প্রণালীর মাধ্যমে, যেগুলো একসাথে হোমিওস্ট্যাসিস নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এককোষী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি একটি কোষের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

এককোষী প্রাণীদের চারপাশে বাইরের পরিবেশ থাকে। কোষঝিল্লির মাধ্যমে তারা কোষের ভিতরে ও বাইরে পদার্থ স্থানান্তর করে। কিন্তু বহুকোষী প্রাণীদের কোষগুলো সাধারণত জলীয় অভ্যন্তরীণ পরিবেশে ঘেরা থাকে এবং বাইরের পরিবেশ থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে এমনভাবে রাখতে হয় যাতে কোষ সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। হোমিওস্ট্যাসিস নিয়ন্ত্রণের মূল কাজটি করে স্নায়ুতন্ত্র, এবং এটি সাধারণত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। উদাহরণস্বরূপ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ত্বক, পেশী, স্নায়ু এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র একসাথে কাজ করে।

এককোষী প্রাণী সহজেই কোষের বাইরে বর্জ্য ফেলে দিতে পারে। কিন্তু বহুকোষী প্রাণীর কোষগুলোর বর্জ্য শরীরের ভিতর থেকেই সরাতে হয়। যেমন, মানুষের শরীরে এই কাজটি করে রক্ত সংবহনতন্ত্র ও বর্জ্য নির্গমন তন্ত্র একসাথে। এটা অনেকটা আমাদের বাসা থেকে ময়লা নিয়ে যাওয়ার মতো যেমন শহরের সাফাইকর্মীরা নিয়ে যায়।

হোমিওস্ট্যাসিস নিয়ন্ত্রণে স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া যেমন গরম বস্তু থেকে হাত সরিয়ে নেওয়া পরিচালনা করে। আর অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ যেমন ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখা পরিচালনা করে। এ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনেক সময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া চক্রের মাধ্যমে ঘটে। জীববিজ্ঞানে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া চক্র আছে: ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। ঋণাত্মক প্রতিক্রিয়ায় প্রাথমিক উদ্দীপনাটিই বন্ধ হয়ে যায়। ঘরের হিটার বা কুলার এর একটি উদাহরণ। যখন ঘরের তাপমাত্রা থার্মোস্ট্যাটের নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে যায়, তখন হিটার চালু হয়। তাপমাত্রা যথেষ্ট বেড়ে গেলে থার্মোস্ট্যাট হিটার বন্ধ করে দেয়। এভাবে এটি একটি চক্র বা লুপ আকারে চলে।

দেহে পানি

[সম্পাদনা]

জীবিত থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, কারণ শরীরের সমস্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ঘটে। প্রাণীর শরীরের ৮০% পর্যন্ত অংশ পানি দিয়ে গঠিত হতে পারে। এই অনুপাত নির্ভর করে প্রাণীর প্রকার, বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য এবং সে যথেষ্ট পানি খেয়েছে কিনা তার উপর।

সাধারণত, দেহের পানির ২/৩ ভাগ থাকে কোষের ভিতরে (ইনট্রাসেলুলার তরল) এবং বাকি অংশ কোষের বাইরে (এক্সট্রাসেলুলার তরল) — যেমন কোষের আশেপাশের টিস্যু তরল, রক্ত এবং লসিকায়। জীবনের মূল উৎস হিসেবে পানি গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রাণীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিম্নলিখিত কারণে:

(১) পানি হলো একটি অত্যাবশ্যকীয় দেহ তরল। এটি হজম, পুষ্টি পরিবহন এবং নিষ্কাশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পানি আয়নিক ও অনেক পোলার জৈব যৌগকে দ্রবীভূত করে এবং পরিপাকে উৎপন্ন পদার্থকে শরীরের প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

(২) ঘাম এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

(৩) শরীরের সব বিপাকীয় ক্রিয়া পানিতে ঘটে। সব বিক্রিয়া ঘটে দ্রবীভূত অবস্থায়।

(৪) জলাশয়, নদী ও সমুদ্রে পানি অনেক প্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করে।

চিত্র ১২.১ - দেহে পানি

পানির ভারসাম্য বজায় রাখা

[সম্পাদনা]

প্রাণীরা ত্বক ও ফুসফুসের মাধ্যমে, মল ও মূত্রের মাধ্যমে পানি হারায়। এই হারানো পানি খাবার, পানীয় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপজাতি হিসেবে উৎপন্ন পানি দিয়ে পূরণ করতে হয়। যদি প্রাণী এই ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে রক্তে দ্রবীভূত পদার্থের ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে শরীরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় যখনই রক্তের ঘনত্ব বাড়ে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ এসব প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হলো তৃষ্ণা অনুভব, যা রক্ত ঘন হলে ঘটে। তখন প্রাণী পানি খুঁজে পান করে।

কিডনিও পানির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন হরমোন কিডনিকে নির্দেশ দেয় যাতে বেশি ঘন মূত্র তৈরি হয় এবং পানি সংরক্ষিত থাকে (এই বিষয়টি পরবর্তী অংশে ও অধ্যায় ১৬-তে বিস্তারিত আছে)।

মরুভূমির প্রাণী

[সম্পাদনা]

শুকনো পরিবেশে থাকা প্রাণীদের জন্য পানি হারানো একটি বড় সমস্যা। উদাহরণস্বরূপ উট পানিশূন্যতার প্রতি অনেক বেশি সহনশীল। প্রয়োজনে তারা দেহের এক-তৃতীয়াংশ পানি হারিয়েও বেঁচে থাকতে পারে। তারা দিনে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তনও সহ্য করতে পারে। ফলে তাদের শরীর ঠান্ডা করতে ঘাম বা বাষ্পে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে হয় না।

ছোট প্রাণীরা বড়দের তুলনায় সহজেই দিনের বেলা আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত জায়গায় বিশ্রাম নিয়ে এবং রাতে সক্রিয় থেকে পানির ক্ষয় রোধ করতে পারে।

ক্যাঙ্গারু ইঁদুর এমন একটি প্রাণী, যা কখনোই পানীয় পানি না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। কারণ তারা ঘাম ঝরায় না এবং অত্যন্ত ঘন মূত্র উৎপন্ন করে। খাদ্য ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন পানি তাদের জন্য যথেষ্ট।

বর্জ্য নিষ্কাশন

[সম্পাদনা]

প্রাণীদের বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়, কারণ তারা অনেক সময় অতিরিক্ত পরিমাণে কিছু উপাদান গ্রহণ করে এবং দেহের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বর্জ্য তৈরি হয়। যদি এসব বর্জ্য বের না করা হয়, তাহলে তা কোষে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে অথবা বিপাকীয় ক্রিয়া ধীর করে দেয়। তাই সব প্রাণীরই কোনো না কোনো উপায়ে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকে।

স্তন্যপায়ীদের প্রধান বর্জ্য হলো কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ফুসফুস দিয়ে বের হয় এবং ইউরিয়া, যা অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড (প্রোটিন থেকে) ভেঙে তৈরি হয়। ইউরিয়া কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে।

চিত্র ১২.২ - কুকুরের মূত্রতন্ত্রের অঙ্গগুলোর অবস্থান

বৃক্ক ও মূত্রতন্ত্র

[সম্পাদনা]

মূত্রতন্ত্র, যাকে রেনাল সিস্টেম বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টও বলা হয়, এতে থাকে দুটি বৃক্ক, ইউরেটার, মূত্রাশয় এবং ইউরেথ্রা। এই তন্ত্রের কাজ হলো শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া, রক্তের পরিমাণ ও চাপ নিয়ন্ত্রণ করা, ইলেকট্রোলাইট ও বিপাকজাত পদার্থের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রক্তের pH ঠিক রাখা। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট হলো দেহের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যা মূত্রকে দেহের বাইরে বের করে দেয়।[১] বৃক্কে রেনাল ধমনী রক্ত সরবরাহ করে এবং রেনাল শিরা রক্ত নিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রতিটি বৃক্কে থাকে অসংখ্য কার্যকরী একক, যেগুলোকে বলা হয় নেফ্রন। রক্ত ছেঁকে নেওয়া এবং প্রক্রিয়াকরণের পর, মূত্র ইউরেটার দিয়ে বেরিয়ে যায়। ইউরেটার হলো মসৃণ পেশিযুক্ত টিউব, যেগুলো মূত্রকে মূত্রাশয়ে পাঠায়, যেখানে এটি জমা থাকে এবং পরে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। পুরুষ ও নারীর মূত্রতন্ত্র প্রায় একই রকম, পার্থক্য শুধু ইউরেথ্রার দৈর্ঘ্যে।

মূত্র বৃক্কে তৈরি হয় রক্ত ছেঁকে। এরপর তা ইউরেটার দিয়ে মূত্রাশয়ে যায় এবং সেখানেই জমা থাকে। প্রস্রাবের সময়, মূত্র ইউরেথ্রা দিয়ে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে।

একজন সুস্থ মানুষের দেহ প্রতিদিন সাধারণত ৮০০ থেকে ২০০০ মিলিলিটার (মি.লি.) পর্যন্ত মূত্র তৈরি করে। এই পরিমাণ পানি পান এবং বৃক্কের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে।

স্তন্যপায়ীদের বৃক্ক সাধারণত শিমের মতো আকারের হয় এবং তা পেটের গহ্বরে মেরুদণ্ডের দুপাশে পশ্চাদপৃষ্ঠে অবস্থিত থাকে (ছবি ১২.২ দেখুন)। ডরসাল মহাধমনী থেকে বের হওয়া রেনাল ধমনী বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে এবং রেনাল শিরা রক্ত নিয়ে বেরিয়ে যায়।

চিত্র ১২.৩ - মূত্রতন্ত্র

বাইরে থেকে বৃক্ক দেখতে খুব সহজ গঠনের মনে হলেও, কাটলে ভেতরে দুটি ভিন্ন অংশ দেখা যায় – ভেতরের অংশকে বলা হয় মেডুলা এবং বাইরের অংশকে বলা হয় কর্টেক্স। বৃক্কের ভেতরের পেলভিস নামের গহ্বর মূত্র সংগ্রহ করে এবং তা ইউরেটারে পাঠায়, যা মূত্রাশয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং সেখানেই সাময়িকভাবে জমা থাকে। স্ফিঙ্কটার নামক পেশির বলয় মূত্রাশয় থেকে মূত্র নির্গমনের নিয়ন্ত্রণ করে এবং মূত্র ইউরেথ্রা দিয়ে দেহের বাইরে যায় (চিত্র ১২.৩ ও ১২.৪ দেখুন)।

চিত্র ১২.৪ - খণ্ডিত বৃক্ক

বৃক্ক নালিকা বা নেফ্রন

[সম্পাদনা]

বৃক্ককে যদি মাইক্রোস্কোপে দেখা হয়, তাহলে বোঝা যায় এর গঠন মোটেই সহজ নয়। কর্টেক্স ও মেডুলা অঞ্চল ভরা থাকে অসংখ্য ক্ষুদ্র টিউব দ্বারা। এদেরই বলা হয় বৃক্ক নালিকা বা নেফ্রন (চিত্র ১২.৫ ও ১২.৬ দেখুন)। একটি মানব বৃক্কে এক মিলিয়নেরও বেশি নেফ্রন থাকে।

চিত্র ১২.৫ - একাধিক বৃক্ক নালিকা বা নেফ্রন

চিত্র ১২.৬ - একটি বৃক্ক নালিকা বা নেফ্রন

প্রতিটি নেফ্রনের এক প্রান্তে, বৃক্কের কর্টেক্স অংশে, একটি কাপের মতো গঠন থাকে, যাকে বলা হয় (বোম্যান’স বা রেনাল) ক্যাপসুল। এটি গ্লোমেরুলাস নামক ক্যাপিলারির গোছা ঘিরে রাখে, যেটি উচ্চচাপযুক্ত রক্ত ধারণ করে। গ্লোমেরুলাস ও ক্যাপসুল একসঙ্গে রক্ত ছাঁকার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে (চিত্র ১২.৭ দেখুন)। এই ছাঁকনির ছিদ্র দিয়ে রক্তের অধিকাংশ উপাদান প্রবেশ করতে পারে, তবে লাল এবং সাদা রক্তকণিকাবড় প্রোটিন অণু প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ক্যাপসুল থেকে বের হওয়া তরল রক্ত প্লাজমার মতো, যাতে থাকে পানি, গ্লুকোজ, লবণ, অ্যামিনো অ্যাসিডসহ নানা দরকারী উপাদান। পাশাপাশি থাকে বর্জ্য পদার্থ যেমন ইউরিয়া

নেফ্রনে সংঘটিত প্রক্রিয়াসমূহ

[সম্পাদনা]

গ্লোমেরুলাস থেকে ছাঁকানো তরল প্রথমে একটি পাকানো অংশ (প্রক্সিমাল কনভলিউটেড টিউবিউল) দিয়ে প্রবাহিত হয়, এরপর যায় হেনলের লুপ-এ, তারপর একটি দ্বিতীয় পাকানো অংশ (ডিস্টাল কনভলিউটেড টিউবিউল) পেরিয়ে সংগ্রাহী নালিকাতে প্রবেশ করে (চিত্র ১২.৬ দেখুন)। এই সংগ্রাহী নালিকা থেকে মূত্র বৃক্কের পেলভিস এ প্রবেশ করে এবং ইউরেটারে চলে যায়।

গ্লোমেরুলাস, ক্যাপসুল ও দুইটি পাকানো অংশ থাকে বৃক্কের কর্টেক্সে এবং হেনলের লুপ ও সংগ্রাহী নালিকা থাকে মেডুলায় (চিত্র ১২.৫ দেখুন)।

প্রক্সিমাল কনভলিউটেড টিউবিউল দিয়ে তরল প্রবাহের সময় দরকারি উপাদান যেমন গ্লুকোজ, পানি, লবণ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যামিনো অ্যাসিড পুনঃশোষিত হয়। এসব উপাদানকে চারপাশের রক্তজালিকা টেনে নেয়। এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সক্রিয় পরিবহন হয় এবং এ জন্য শক্তি লাগে।

চিত্র ১২.৭ - গ্লোমেরুলাস ও ক্যাপসুলে ছাঁকনি প্রক্রিয়া

একটি আলাদা প্রক্রিয়ায়, কিছু উপাদান যেমন পটাশিয়াম, অ্যামোনিয়াম, হাইড্রোজেন আয়ন এবং কিছু ওষুধ (যেমন পেনিসিলিন) সক্রিয়ভাবে নিঃসৃত হয় ডিস্টাল টিউবিউলে।

সংগ্রাহী নালিকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে পুনঃশোষণ ও নিঃসরণের মাধ্যমে মূলত বোম্যান’স ক্যাপসুলে ছাঁকানো তরল পরিণত হয় মূত্রে। এরপর সংগ্রাহী নালিকা থেকে যদি প্রয়োজন হয়, তবে আরও পানি অপসারণ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সংক্ষিপ্তসার চিত্র ১২.৮-এ দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিক মূত্র মূলত পানি, যাতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে ইউরিয়া ও লবণ (যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড)। লাল রক্তকণিকা ভাঙার ফলে তৈরি রঞ্জক পদার্থ মূত্রকে হলুদ রঙ দেয়।

ঘন মূত্র উৎপাদন

[সম্পাদনা]

গ্লোমেরুলাসে রক্তচাপ বেশি এবং ছাঁকনির ছিদ্র বড় হওয়ার কারণে, বিশাল পরিমাণ তরল বৃক্ক নালিকায় প্রবেশ করে। যদি এই তরল অপরিবর্তিত থাকত, তবে ৩০ মিনিটের মধ্যেই দেহ পানি শূন্য হয়ে যেত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, টিউবিউল দিয়ে প্রবাহের সময় ৯০% এরও বেশি পানি পুনরবশ্যোষিত হয়। এর বড় অংশ হয় সংগ্রাহী টিউবে।

সংগ্রাহী নালিকা থেকে কতটা পানি অপসারণ হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে অ্যান্টিডায়িউরেটিক হরমোন (ADH), যা পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় (এটি মস্তিষ্কের নিচে থাকে)। যখন রক্ত বেশি ঘন হয়, যেমন পানি না খেলে হয়, তখন ADH নিঃসৃত হয় এবং এটি অধিক পানি শোষণে সাহায্য করে, ফলে ঘন মূত্র তৈরি হয়। আর যখন শরীর পর্যাপ্ত পানি পায়, তখন ADH নিঃসৃত হয় না বা খুব সামান্য হয়, ফলে মূত্র পাতলা হয়। এভাবে রক্তের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ হয় খুব সূক্ষ্মভাবে।

চিত্র ১২.৮ - মূত্র গঠনের বিভিন্ন ধাপের সংক্ষিপ্তরূপ

জলজ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে পানির ভারসাম্য

[সম্পাদনা]

মিঠা পানির মাছ

[সম্পাদনা]

যদিও মাছের ত্বক অনেকটাই জলরোধী, তবে তাদের গিলস বা ফুলকিগুলো খুবই ছিদ্রযুক্ত। মিঠা পানির মাছের শরীরের তরলে দ্রবীভূত পদার্থের ঘনত্ব পরিবেশের পানির তুলনায় বেশি। অর্থাৎ, তাদের শরীরের তরল হাইপারটনিক (অধ্যায় ৩ দেখুন)। ফলে অসমোসিস এর মাধ্যমে পানি তাদের দেহে ঢোকে। এই অতিরিক্ত পানিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, তারা প্রচুর পরিমাণে পাতলা মূত্র তৈরি করে।

সামুদ্রিক মাছ

[সম্পাদনা]

সামুদ্রিক মাছ যেমন হাঙর বা কুকুরমাছ, যাদের শরীরের তরলের দ্রবণঘনত্ব সমুদ্রের পানির সমান (আইসোটনিক), তাদের পানির ভারসাম্য নিয়ে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু সামুদ্রিক হাড়যুক্ত মাছ যেমন রেড কড, স্ন্যাপার বা সোল মাছ, যাদের শরীরের তরলে দ্রবণঘনত্ব সমুদ্রের পানির চেয়ে কম (তারা হাইপোটনিক), তাদের শরীর থেকে পানি বাইরে চলে যায় অসমোসিসের মাধ্যমে। এই পানির ঘাটতি পূরণে তারা সমুদ্রের পানি পান করে এবং অতিরিক্ত লবণ গিলস দিয়ে বের করে দেয়।

সমুদ্র-পাখি

[সম্পাদনা]

যেসব সামুদ্রিক পাখি সামুদ্রিক মাছ খায়, তারা অনেক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করে এবং অনেক সময় শুধুমাত্র লবণাক্ত পানি পান করার সুযোগ পায়। পাখিদের কিডনি খুব বেশি ঘন মূত্র তৈরি করতে পারে না, তাই তারা একটি বিশেষ লবণ গ্রন্থি বিকাশ করেছে। এই গ্রন্থি অতিরিক্ত লবণ বের করে দেয় এবং এটি ঘন লবণাক্ত তরল আকারে নাক দিয়ে নির্গত হয়।

ডায়াবেটিস ও কিডনি

[সম্পাদনা]

ডায়াবেটিস দুই ধরনের হয়। সবচেয়ে সাধারণ প্রকারটি হলো চিনিযুক্ত ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস মেলিটাস। এটি বিড়াল ও কুকুরের মধ্যে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যদি তারা স্থূল হয়। এই ধরনের ডায়াবেটিস তখন হয় যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ করতে পারে না, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন কিডনি টিউবুলে যে তরল ছেঁকে নেওয়া হয়, তাতেও গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণত কিডনি এই গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়, কিন্তু যখন পরিমাণ খুব বেশি হয় তখন অতিরিক্ত গ্লুকোজ মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এই ধরনের ডায়াবেটিসের প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত পরিমাণে পাতলা মূত্র নিঃসরণ এবং তীব্র পিপাসা।

দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের নাম ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস। এই নামটি এসেছে এর প্রধান লক্ষণ থেকে, যেটি হলো অতিরিক্ত পরিমাণে খুব পাতলা ও "নির্গন্ধহীন" মূত্র তৈরি হওয়া। এটি ঘটে যখন মস্তিষ্কের ভিত্তিতে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিডায়িউরেটিক হরমোন (ADH) তৈরি করতে পারে না। এই হরমোনটি কিডনি টিউবুল থেকে পানি শোষণে সহায়তা করে। হরমোনের অভাবে পানি শোষিত হয় না এবং অনেক বেশি পাতলা মূত্র তৈরি হয়। ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, এবং যদি পশু পানি না পায়, তাহলে একদিনের মধ্যেই মারা যেতে পারে।

কিডনির অন্যান্য কাজ

[সম্পাদনা]

ইউরিয়া অপসারণ এবং শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করা কিডনির প্রধান কাজ। তবে এগুলোর বাইরে কিডনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, যা শরীরের পরিবেশকে স্থিতিশীল বা হোমিওস্টেসিস বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রক্তে লবণের (Na+, K+, Cl−) পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা—কতটা রক্ষা করা হবে এবং কতটা অপসারণ করা হবে তা নির্ধারণ করে;
  • রক্তের অম্লত্ব ঠিক রাখা। শরীরের স্বাভাবিক রসায়নিক বিক্রিয়ায় অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় এবং কিডনি তা বের করে দেয়।

স্বাভাবিক মূত্র

[সম্পাদনা]

স্বাভাবিক মূত্রে ৯৫% পানি, ইউরিয়া, লবণ (মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড) এবং রঞ্জক পদার্থ (মূলত পিত্ত থেকে) থাকে, যেগুলো মূত্রকে এর বিশেষ রং দেয়।

মূত্রের অস্বাভাবিক উপাদান

[সম্পাদনা]

যদি শরীর ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে মূত্রে এমন কিছু উপাদান পাওয়া যায় যেগুলো সাধারণত থাকা উচিত নয়, অথবা স্বাভাবিক উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে থাকতে পারে।

  • গ্লুকোজ পাওয়া গেলে এটি ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দিতে পারে (উপরে দেখুন)।
  • মূত্রে যদি লাল রক্তকণিকা থাকে, তাহলে তাকে হিম্যাচুরিয়া বলে। এটি কিডনি বা মূত্রনালীর প্রদাহ, ক্যান্সার বা আঘাতের কারণে হতে পারে।
  • অনেক সময় মূত্রে বিনামূল্যে হিমোগ্লোবিন পাওয়া যায়। এর মানে রক্তকণিকা ভেঙে গেছে (হিমোলাইসিস) এবং হিমোগ্লোবিন কিডনি টিউবুলে চলে গেছে।
  • মূত্রে সাদা রক্তকণিকা থাকলে বুঝতে হবে কিডনি বা মূত্রনালীতে সংক্রমণ হয়েছে।
  • সাধারণত প্রোটিন অণু কিডনি টিউবুলে যেতে পারে না, কারণ এরা খুব বড় হয়। তাই স্বাভাবিকভাবে অল্প পরিমাণে বা কোনও অ্যালবুমিন পাওয়া যায় না। বেশি পরিমাণে অ্যালবুমিন পাওয়া গেলে বুঝতে হবে কিডনির টিউবুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কিডনি অসুস্থ। উচ্চ রক্তচাপও প্রোটিনকে টিউবুলে ঠেলে দেয়।
  • কাস্ট হলো ছোট ছোট নলাকার পদার্থ যা টিউবুলের আস্তরণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূত্রে চলে আসে।
  • মিউকাস সাধারণত সুস্থ প্রাণীদের মূত্রে থাকে না, তবে ঘোড়ার মূত্রে এটি স্বাভাবিকভাবে থাকে এবং মূত্রকে কিছুটা ধোঁয়াটে দেখায়।

এইসব অস্বাভাবিক উপাদান সনাক্ত করতে পরীক্ষা করা যায়। এ ধরনের পরীক্ষা সাধারণত স্টিক্স দিয়ে করা হয়। এগুলো ছোট প্লাস্টিকের ফিতা যার শোষক প্রান্তে নানা রাসায়নিক থাকে। যদি কোনও অস্বাভাবিক উপাদান থাকে, তাহলে রঙ পরিবর্তিত হয়।

পাখিদের নিঃসরণ প্রক্রিয়া

[সম্পাদনা]

পাখিদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি এবং তারা খুব সক্রিয় হওয়ায় তাদের পানি সংরক্ষণ করতে হয়। এজন্য তাদের মূত্রাশয় থাকে না এবং ইউরিয়া নির্গত না করে তারা ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। এটি পুরু পেস্ট আকারে মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এটি হলো সেই সাদা খড়িযুক্ত অংশ যা পাখির বিষ্ঠায় দেখা যায় এবং যা আপনার গায়ে বা গাড়ির ওপর পড়ে।

উপসংহার

[সম্পাদনা]
  • নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় জোড়া কিডনি এবং সংশ্লিষ্ট রক্তবাহী শিরা থাকে। ইউরেটার কিডনি থেকে মূত্র মূত্রাশয়ে নিয়ে যায় এবং ইউরেথ্রা ও সংশ্লিষ্ট স্ফিঙ্কটার পেশি মূত্রের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।
  • কিডনি হোমিওস্টেসিস রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ইউরিয়া অপসারণ করে, শরীরের তরল ও লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের অম্লতা ঠিক রাখে।
  • কিডনি একটি বাইরের অংশ কর্টেক্স, একটি ভিতরের অংশ মেডুলা এবং একটি গহ্বর পেলভিস নিয়ে গঠিত। পেলভিস মূত্র সংগ্রহ করে ইউরেটারে পাঠায়।
  • কিডনির গঠন অনেক ছোট নল বা নেফ্রন নিয়ে গঠিত। এগুলোই মূত্র তৈরি করে।
  • গ্লোমেরুলাস নামক কেশিক জালের মাধ্যমে নেফ্রনে উচ্চচাপ বিশিষ্ট রক্ত প্রবাহিত হয়। কেশিকজালের মাধ্যমে অধিকাংশ পদার্থ (কিন্তু রক্তকণিকা ও বড় প্রোটিন বাদে) বোম্যানস ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। তারপর তরলটি প্রোক্সিমাল কনভলুটেড টিউবুল দিয়ে যায়, যেখানে গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও নানা আয়ন শোষিত হয়। এরপর এটি লুপ অফ হেনলে-তে যায়, যেখানে পানি শোষিত হয়। তারপর এটি ডিস্টাল কনভলুটেড টিউবুল হয়ে কলেক্টিং ডাক্টে যায়, যেখানে আরও পানি শোষিত হয় এবং ঘন মূত্র তৈরি হয়।
                                                                                                                লেখক: গিজাও মেকনেন

কার্যতালিকা

[সম্পাদনা]

এই নিঃসরণ প্রক্রিয়া বিষয়ক কার্যতালিকা ব্যবহার করে আপনি মূত্রতন্ত্র, কিডনি ও নেফ্রনের অংশ এবং তাদের কাজ শিখতে পারবেন।

নিজেকে পরীক্ষা করো

[সম্পাদনা]

এই 'নিজেকে পরীক্ষা করো' অংশ ব্যবহার করে দেখো তুমি এই জটিল প্রক্রিয়া ঠিকমতো বুঝেছো কি না।

১. নিচের নিঃসরণ প্রক্রিয়ার ছবিতে লেবেলগুলো বসাও: মূত্রাশয় | মূত্রনালী | মূত্রনালী | কিডনি | পৃষ্ঠীয় মহাধমনী | ভেনা কাভা | বৃক্কীয় ধমনী | শিরা

২. নিচের শব্দ/শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ফাঁকা স্থান পূরণ করো:

| কর্টেক্স | অ্যামিনো অ্যাসিড | বৃক্কীয় | গ্লুকোজ | পানি পুনঃশোষণ | বৃহৎ প্রোটিন |
| বোম্যানের ক্যাপসুল | ডায়াবেটিস মেলিটাস | নিঃসৃত | অ্যান্টিডায়িউরেটিক হরমোন | রক্তকণিকা |
| গ্লোমেরুলাস | মূত্রের ঘনত্ব | মেডুলা | নেফ্রন |

ক) রক্ত কিডনিতে প্রবেশ করে ......................... ধমনীর মাধ্যমে।

খ) কিডনি কেটে দেখলে এর দুটি অংশ দেখা যায় - বাইরের .............. এবং ভিতরের ..............

গ) কিডনি টিউবুলের আরেকটি নাম হলো...............................

ঘ) রক্তের পরিশোধন ঘটে.............................. অংশে।

ঙ) পরিশোধিত তরল প্রবেশ করে.............................এ

চ)পরিশ্রুত তরল (ফিল্ট্রেট) প্রবেশ করে.............................

ছ)তে প্রবেশ করা তরলটি রক্তের মতোই, তবে এতে .................. বা .................... থাকে না।

জ) কিডনি টিউবুলের প্রথম কোঁকড়ানো অংশ দিয়ে যাওয়ার সময় .............. এবং .................... শোষিত হয়।

ঝ) লুপ অফ হেনলের প্রধান কাজ হলো.............................................................

ঞ) হাইড্রোজেন ও পটাশিয়াম আয়ন দ্বিতীয় কোঁকড়ানো অংশে .............................. হয়।

ট) কলেক্টিং টিউবের প্রধান কাজ হলো..................................................

ঠ) .............................. নামক হরমোন পানি শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নিম্নলিখিত প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর লেখো

ড) যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ করতে পারে না, তখন যেটি হয় তার নাম...............................। এটি সবচেয়ে সহজে শনাক্ত করা যায় মূত্রে ................................ খুঁজে।

হোমিওস্টেসিস কী?

২. হোমিওস্টেসিসের ২টি উদাহরণ দাও।

৩. যখন গরম থাকে, তখন প্রাণীরা কীভাবে শরীরের তাপমাত্রা স্থির রাখে তার ৩টি উপায় লেখো।

৪. যখন প্রাণীকে পানি পান করতে দেওয়া হয় না, তখন কিডনি কীভাবে ক্ষতিপূরণ করে?

৬. হাঁপানোর মাধ্যমে কীভাবে রক্তের অম্লতা কমানো যায় তা বর্ণনা করো।

Test Yourself Answers

ওয়েবসাইট

[সম্পাদনা]
  • http://www.biologycorner.com/bio3/nephron.html Biology Corner. কিডনি ও নেফ্রনের চমৎকার ছবি, যা প্রিন্ট করে রঙ করতে ও লেবেল বসাতে পারেন, ফাংশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সহ।
  • http://health.howstuffworks.com/adam-200032.htm How Stuff Works. এই অ্যানিমেশন কিডনিতে মূত্র তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ও শোষণ দেখায়, ইউরেটার দিয়ে মূত্রাশয়ে যাওয়া ও ইউরেথ্রা দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত। শকওয়েভ প্রয়োজন।
  • http://en.wikipedia.org/wiki/Nephron Wikipedia. কিছুটা অতিরিক্ত তথ্য, তবে ব্যাখ্যাগুলো পরিষ্কার ও তথ্যসমৃদ্ধ।

শব্দকোষ

[সম্পাদনা]