বিষয়বস্তুতে চলুন

পেশাদার ও কারিগরি লেখনী/নৈতিকতা

উইকিবই থেকে
পেশাদার ও কারিগরি লেখনী
অলঙ্করণ নৈতিকতা প্রাথমিক ধারণা

নৈতিকতা এবং কারিগরি যোগাযোগ

[সম্পাদনা]

আপনি যখন পেশাদার নথিপত্র প্রস্তুত করছেন এবং "বাস্তব" জগতে কাজ শুরু করছেন, তখন আপনাকে বুঝতে হবে যে কি কি জিনিস সহজেই আপনার পেশাগত জীবনে পতনের কারণ হতে পারে। পল অ্যান্ডারসনের লেখায় দাবি করা হয়েছে যে, কর্মক্ষেত্রের পেশাগত পরিবেশে কমপক্ষে তিনটি প্রধান "পথনির্দেশের উৎস" থাকে:

  1. আপনার ক্ষেত্রের পেশাদারদের দ্বারা ইতিমধ্যে তৈরি নৈতিকতার সংহিতা,
  2. আপনার কোম্পানি দ্বারা নির্ধারিত নৈতিকতার সংহিতা, এবং
  3. আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত নৈতিকতা।

কিছু কোম্পানি চায় কর্মীরা তাঁদের ব্যক্তিগত নৈতিকতা ঘরেই রেখে আসবেন। বাস্তবে, যেসব কোম্পানি ব্যক্তিগত নৈতিকতাকে ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, তারা জানে যে কর্মীদের মাঝে মাঝে এমন কাজ করতে বলা হয় যা তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থন করেন না। পেশাগত পরিবেশে আমরা সাধারণত ধরে নিই যে কোম্পানিগুলো অনৈতিকভাবে কাজ করবে না, তাহলে আমাদের কেন এসব বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত?

সত্যি কথাটা হলো, কোম্পানিগুলি অনৈতিকভাবে কাজ করে, তা সে বিষাক্ত বর্জ্য ভুলভাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রেই হোক বা দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই হোক। পেশাদার নথি লেখার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনার উচিত আপনার পেশাগত নথিগুলি পরিষ্কার এবং মানসম্পন্ন রাখা, যাতে আপনি সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ না হারান এবং বদনাম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।

নৈতিকতা এবং জীবনবৃত্তান্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

[সম্পাদনা]

পেশাদার লেখালেখির জীবনবৃত্তান্ত একটি অনন্য ক্ষেত্র উপস্থাপন করে, যেটি নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কর্মক্ষেত্রে, যদি আপনি কোনও প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য- ভালো এবং মন্দ, উপস্থাপন না করেন তবে তা অনৈতিক বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু আপনার রেজিউমে বা জীবনবৃত্তান্ত লেখার সময়, সাধারণভাবেই কেবল ভাল তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জীবনবৃত্তান্তে যদিও নেতিবাচক দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন পড়েনা, কিন্তু আপনি যা অর্জন করেননি সেই সব অতিরিক্ত জিনিসগুলি অন্তর্ভুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংশয়াতীতভাবে জীবনবৃত্তান্ত লেখার সময় আপনার মিথ্যা বলা উচিত নয়। বর্তমান সময়ে, একজন সম্ভাব্য নিয়োগদাতার পক্ষে অনলাইনে খোঁজ নেওয়া অথবা বর্তমান বা পূর্বতন কোনো নিয়োগদাতাকে ফোন করে বা কোনো পরিচিতকে ফোন করে আপনার কাজ কেমন ছিল তা জানা খুবই সহজ। আপনার জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা বললে তা আপনাকে নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আপনি শুধু একটি চাকরির জন্য প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন তাই নয়, আপনি এমন একটি পদের জন্য নিজেকে উপস্থাপন করতেও পারেন, আপনি যার যোগ্য নন। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোসফ্ট অফিস ২০০৭ ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতা কম থাকলেও যদি আপনি এতে অভিজ্ঞ এই কথা লেখেন, তাহলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে হতাশা, দুর্বল কার্যক্ষমতার পর্যালোচনা, এমনকি আপনার চাকরি হারাতে হতে পারে।

আপনার জীবনবৃত্তান্তকে নীতিগত সীমানার মধ্যে রাখার জন্য এখানে কিছু উপদেশ দেওয়া হল:

  • শুধুমাত্র প্রকৃতপক্ষে আপনি কোন কোন চাকরি করেছেন এবং সেই চাকরিতে আপনি কি কি করেছেন তার তালিকা তৈরি করুন।
  • আপনার শিক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। আপনি কোন স্কুলে পড়েছেন এবং কোন ডিগ্রিগুলো অর্জন করেছেন শুধু তাই বলুন।
  • আপনার অধিষ্ঠিত পদের সঠিক পরিসংখ্যান প্রদান করুন। যদি সমস্ত তথ্য আপনার কাছে না থাকে, তাহলে সম্ভাব্য তথ্যের একটি পরিসর দিন।
  • দলগতভাবে সম্পন্ন কোনও কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কৃতিত্ব নেবেন না।
  • এমনভাবে লিখবেন না যাতে পাঠক বিভ্রান্ত হন।
  • এমন কোন ব্যক্তির নাম প্রদান করবেন না যিনি আপনার তালিকাভুক্ত হতে সম্মত হননি।

ভবিষ্যতে যাঁরা আপনাকে চাকরি দিতে পারেন, তাঁরা আপনার অনুমতি নিয়ে আপনার পটভূমি সম্পর্কে পরীক্ষা করতে পারেন।। এই পটভূমি সম্পর্কে পরীক্ষায়, কোম্পানি আপনার পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তাদের ফোন করবেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করবেন যে আপনি কি:

ক) তাদের জন্য কাজ করেছেন, এবং 
খ) আপনি কি রকম কর্মচারী ছিলেন, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তা ইচ্ছা হলে জানতে চাইতে পারেন। 

যদি আপনি কোন নির্দিষ্ট তথ্য বা সংখ্যা সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকেন, তাহলে অনুমান করে বলবেন না। আপনার পূর্ববর্তী বা বর্তমান নিয়োগকর্তাকে ফোন করুন এবং স্পষ্টীকরণের জন্য তাদের বলুন। এছাড়াও, নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার জীবনবৃত্তান্তে যা কিছু লিখবেন তা প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত। যদি আপনি দাবি করেন যে আপনি আগের চাকরিতে ৭টি ভিন্ন শিফটে কাজ করেছেন, তাহলে যদি কখনও জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে আপনি সেই ৭টি শিফটের সবকটিই তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হবেন।

আপনার জীবনবৃত্তান্তে কখনও মিথ্যা বলবেন না! এটি একজন সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার ওপর আপনার প্রথম ছাপগুলির মধ্যে একটি, এবং আপনি অবশ্যই একটি স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে চান। আপনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে মিথ্যা কথা বলা অথবা এমনকি তথ্যকে অতিরঞ্জিত করা দীর্ঘমেয়াদে আপনার কোন উপকারে আসবে না। মনে রাখবেন যে আপনিই আপনার ব্র্যাণ্ডকে বিক্রি করছেন। আপনি যে ছবিটি তুলে ধরতে চান তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।

সম্পর্কিত ব্যক্তিরা (স্টেকহোল্ডার)

[সম্পাদনা]

যে কোন পেশাদার নথি লেখার সময়, সম্ভাব্য সম্পর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একজন সম্পর্কিত ব্যক্তি হলেন এমন যে কোনও ব্যক্তি যিনি আপনার লেখার উদ্দেশ্য দ্বারা প্রভাবিত হবেন। আপনি আপনার নথিটি কিভাবে লিখবেন এবং এমনকি নথিটি লেখা পছন্দ করবেন তা এই সম্পর্কিত ব্যক্তিদের কাছে একটি নৈতিক বিষয় হয়ে ওঠে। লেখার আগে আপনার মূল উদ্দেশ্য(গুলি) বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি এমন একটি নথি লিখছেন যা অন্যান্য জীবন্ত জিনিসের ক্ষতি করতে ব্যবহৃত হবে (যেমন একটি হ্যাণ্ডগানের জন্য একটি ম্যানুয়াল লেখা), তাহলে আপনাকে প্রভাবিত সমস্ত সম্পর্কিত ব্যক্তিদের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। পল অ্যান্ডারসনের লেখা অনুসারে, তিন ধরণের সম্পর্কিত ব্যক্তি রয়েছে: প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং দূরবর্তী।

প্রত্যক্ষ

[সম্পাদনা]

আপনার লেখার দ্বারা প্রাথমিকভাবে প্রভাবিত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তিরা। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি নতুন বর্জ্য নিষ্কাশন এলাকা খোলার বিষয়ে লিখছেন, তাহলে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে স্পষ্টতই আপনি যে কোম্পানিকে লিখছেন তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে, ভবিষ্যতে এই বর্জ্য এলাকা ব্যবহার করতে পারে এমন নিষ্কাশন সংস্থাগুলিকেও সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আপনার প্রস্তাব গৃহীত হবে নাকি প্রত্যাখ্যান করা হবে তার ওপর ভিত্তি করে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসা প্রভাবিত হবে।

পরোক্ষ

[সম্পাদনা]

পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা হলেন তাঁরা যাঁরা পরবর্তী কোন এক সময়ের আগে প্রভাবিত হবেন না। বর্জ্য নিষ্কাশনের পূর্ববর্তী উদাহরণটি ব্যবহার করলে, এলাকার নাগরিকরা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তি হবেন। সম্পর্কিতদের অবশ্যই মানুষ হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কাছাকাছি পরিবেশতন্ত্রগুলি এই একই প্রস্তাবের পরোক্ষ অংশীদার হবে। যদি সেখানে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে তা কাছাকাছি প্রাণী, নদী এবং উদ্ভিদের ক্ষতি করবে।

দূরবর্তী

[সম্পাদনা]

পরিশেষে, দূরবর্তী সম্পর্কিত ব্যক্তিরা দূর ভবিষ্যতের আগে পর্যন্ত প্রভাবিত হবেন না। আমাদের কাল্পনিক বর্জ্য নিষ্কাশন এলাকা নিয়ে এর একটি উদাহরণ হল ভবিষ্যত প্রজন্ম। যদিও এটি অসম্ভব মনে হতে পারে, ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে বিষাক্ত বা প্রাণঘাতী পদার্থ ভুলভাবে ফেলা হয়েছে এবং সেই বর্জ্য পদার্থের যে জল নদী বা হ্রদে গিয়ে মিশেছে, তা জন্মগত ত্রুটির কারণ হয়েছে। যদিও এটি অনেক পরের ব্যাপার, তবুও একটি নথি লেখার সময় এটি বিবেচনায় রাখা উচিত।

নৈতিক লেখা

[সম্পাদনা]

একবার চাকরিতে যোগদানের পর, আপনার পেশাগত জীবন জুড়ে আপনাকে অনেক নথি তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিছু নথি সহজ এবং সরল হতে পারে, কিন্তু কিছু কঠিন হতে পারে এবং তার সঙ্গে সন্দেহজনক উদ্দেশ্য জড়িত থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পেশাদার নথি লেখার সময় কয়েকটি মৌলিক বিষয় মেনে চলতে হবে:

  • ভুল বোঝাবেন না
  • কারচুপি করবেন না
  • সাধারণীকরণ করবেন না

ভুল বোঝাবেন না

[সম্পাদনা]

একজন পেশাদার লেখকের কাছে এর একাধিক অর্থ রয়েছে। মূল বিষয়টি স্পষ্ট। প্রত্যয়-প্রদানমূলকভাবে লেখার সময় এমন কিছু লিখবেন না যা পাঠককে এমন কিছু বিশ্বাস করতে বাধ্য করতে পারে যেগুলি সত্য নয়। মিথ্যা বলে, তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে, অথবা আপনার মতামত এবং উদ্দেশ্যের পক্ষে সংখ্যাগুলিকে "বিকৃত" করে এটি করা যেতে পারে। এটি জীবনবৃত্তান্তের নৈতিকতা থেকে স্পষ্টতই আলাদা। একবার কাজ শুরু হওয়ার পর, আপনি কোনও প্রকল্পে পিছিয়ে আছেন বা অতিরিক্ত বাজেট করেছেন এমন কিছু দেখানোকে আপনি বাদ দিতে পারবেন না, প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পরে সেটি যতই ভাল ফল দিক না কেন। ঘটনা তো সত্যই এবং সেগুলিকে সেভাবেই উপস্থাপন করতে হবে। চিত্র, চার্ট এবং টেবিল ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকুন, নিশ্চিত করুন যে সেগুলি বিভ্রান্তিকর নয়। যদিও এটি পড়তে সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু যখন কাজের চাপ থাকে এবং সময়সীমা পূরণ করতে হয়, তখন শর্টকাট নেওয়া এবং সত্যকে প্রসারিত করা খুবই সাধারণ ব্যাপার।

অন্যটি, যা তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত হয়, তা হলো চৌর্যবৃত্তি (অন্যের লেখা বা কাজ হুবহু নকল করা)। যদিও মনে হতে পারে যে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার পরে একে এড়িয়ে চলতে শেখে, তবুও সমস্ত পেশাদারদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে রয়ে গেছে। চৌর্যবৃত্তি হলো উৎস বা তথ্যের ভুল উপস্থাপনা, সাধারণত যখন আপনি দাবি করেন যে ধারণাগুলি সম্পর্কে আপনি লিখছেন তা আপনারই। যখন আপনি পেশাদার নথিপত্র অনুসন্ধান করছেন, তখন নিশ্চিত করুন যে আপনি অনুমতি নিয়ে সেই উপাদান ব্যবহার করছেন। আপনি যদি আপনার গবেষণার বিষয়টি নিয়ে লেখেন, তাহলে নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার তথ্যের উৎস উল্লেখ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল গবেষকদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন। এই নিয়মটি শুধু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৌদ্ধিক সম্পত্তি (ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি) নামক বিষয়েও প্রযোজ্য। বৌদ্ধিক সম্পত্তির মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • পেটেন্ট - যেসব পণ্যের সৃষ্টির কৃতিত্ব সুরক্ষিত
  • ট্রেডমার্ক - কোম্পানির নাম (ওয়ালমার্ট), লোগো (দ্য টার্গেট বুলস-আই), অথবা স্লোগান (আ'ম লাভিন' ইট)
  • কপিরাইট আইন - যেসব জিনিসের বিতরণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত (বই, চলচ্চিত্র, বা সফ্টওয়্যার)

সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা ব্যক্তির যথাযথ স্বীকৃতি বা অনুমোদন ছাড়া এই জিনিসগুলির কোনওটিই ব্যবহার করা যাবে না।

এই আইনটি প্রধান কোম্পানিগুলির বাইরেও বিস্তৃত। আপনার নিজের কোম্পানির যে কোন লিখিত নথি প্রকাশিত হওয়ার পর আইন অনুসারে সেটি কপিরাইটযুক্ত। এর মানে হল, যদি আপনি অন্য কোম্পানিতে থাকা কোন বন্ধুর কাছ থেকে নেওয়া একটি ভালো ধারণা ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই উৎস হিসেবে তাদের উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও, যদিও আইনত বাধ্যতামূলক নয়, তবে আপনার নিজের কোম্পানির ভেতরের উৎসগুলিও উল্লেখ করা একটি ভালো ধারণা। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে আপনার ধারণার কৃতিত্ব অন্য কেউ নিক। তাহলে আপনি কেন অন্যদের সাথে ভিন্ন আচরণ করবেন?

পেশাদার জগতে লেখালেখির কথা বিবেচনা করলে আইনি পরিণতির কথা সবচেয়ে আগে খেয়াল করতে হবে। যদিও পড়াশোনার সময় চুরি করলে আপনি ক্লাসে ফেল করতে পারেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে চুরি করলে আপনাকে কেবল চাকরিচ্যুতই করা হবে না, বরং এর ফলে আপনি ব্যয়বহুল মামলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন এবং এমনকি আপনাকে জেলও খাটতে হতে পারে। এই নিয়মগুলি অনুসরণ করা কেবল নৈতিকতাই নয়, এটি একটি বলবৎ আইন। নিশ্চিত করুন যে আপনি সমস্ত উৎস সঠিকভাবে নথিভুক্ত করেছেন যাতে পাঠক বিভ্রান্ত না হন।

কারচুপি করবেন না

[সম্পাদনা]

যদি আপনি কোনও পেশাদার চাকরি করেন, তাহলে বোঝা যাবে যে আপনার প্রত্যয়-প্রদানমূলক লেখার দক্ষতা ভালো, এমনকি যদি আপনার প্রথম প্রত্যয়-প্রদানমূলক নথিটি আপনার জীবনবৃত্তান্তও হয়। নিজের দক্ষতাকে লোকেদের এমন কিছু করতে রাজি করানোয় ব্যবহার করবেন না যা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী। যদিও এটি সব সময় সহজ মনে না-ও হতে পারে, খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে একজন দক্ষ লেখক শব্দের অপব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারে যেন বিষয়টি সকলের উপকারে আসছে। পাঠকেরা হয়তো অনেক দেরিতে বুঝতে পারবেন যে আপনি যা লিখেছেন তা কেবল আপনারই উপকার করেছে এবং আসলে তাদের ক্ষতি করেছে। এটা আবার ফিরে যায় সম্পর্কিত ব্যক্তিদের দিকে। নিশ্চিত করুন যে কেবল প্রত্যয়-প্রদানমূলক নথি লেখার সময়ই নয়, সবসময়ই তাঁদের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিষয়ে যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তথ্যের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে ভুলে যাওয়া সহজ। আপনার তৈরি প্রতিটি উপযুক্ত নথির সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনুভূতি এবং জীবিকা বিবেচনা করা উচিত।

সাধারণীকরণ করবেন না

[সম্পাদনা]

কর্মক্ষেত্রে প্রকাশ্যে বৈষম্য না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার কারণে এখন বেশিরভাগ সাধারণীকরণ অবচেতনভাবে ঘটে। এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা হয়তো বুঝতেও পারি না যে আমরা করছি, তাই সবসময়ই ভালো হয় যদি একজন সহকর্মী বা সহপাঠীকে আপনার নথিপত্র বা দলিল পরীক্ষা করে দেখতে বলেন, যেন নিশ্চিত হওয়া যায় আপনি কোনো বৈষম্যমূলক ধারণা প্রকাশ করেননি।

অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিকারে পদক্ষেপ গ্রহণ

[সম্পাদনা]

অনেক সময় পেশাদার পরিবেশে, কর্মীরা তাঁদের কোম্পানিতে অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিকারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অসুবিধা বোধ করেন। প্রথম পদক্ষেপ শুরু করুন অনৈতিক কার্যকলাপকে সামনে এনে, যা সাধারণত সবচেয়ে কঠিন অংশ। পল অ্যান্ডারসনের লেখায় পর্যালোচনা করার জন্য "তিনটি" উপায়ের উল্লেখ করা হয়েছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার কোম্পানির কার্যকলাপকে সামনে আনতে পারেন। প্রথমে প্রশ্ন করতে শুরু করাটাই সবচেয়ে সহজ উপায়। প্রশ্ন করা হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি আপনার কোম্পানির সমস্যাগুলির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি কার্যকর উপায়। তাদের সিদ্ধান্ত কাদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সে সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। এতে আপনি খারাপ লোক বলে প্রমাণিত হবেন না, বরং নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন।

অনৈতিক কার্যকলাপ প্রকাশে সহায়ক হওয়া হিসেবে অ্যান্ডারসন যে দ্বিতীয় ধারণাটি বর্ণনা করেছেন তা হল অভিযোগের পরিবর্তে তথ্য বা যুক্তি ব্যবহার করা। আপনার কোম্পানির অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে শুধু অভিযোগ নয়, বরং দৃঢ় ও স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয় যেখানে লোকেরা সত্যিই জানে না যে কেন এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। যদি আপনি আপনার চিন্তাভাবনা সত্য তথ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলেন, তাহলে আপনার কোম্পানি ধরে নেবে যে আপনি পরিস্থিতিটি দেখেছেন এবং আপনি এই বিষয়ে চিন্তাভাবনাগুলিকে আরও গুরুত্ব সহকারে নেবেন।

আপনার কোম্পানির অনৈতিক কার্যকলাপকে সামনে আনার তৃতীয় সহায়ক উপায় হল অন্যদের ধারণাকে উন্মুক্তভাবে গ্রহণ করা। এটি আপনাকে সাহায্য করবে শুধুমাত্র নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি না করে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে একটি সমাধান তৈরি করতে। যেহেতু মানুষের সাধারণত বিভিন্ন নৈতিক মূল্যবোধ থাকে, তাই আপনার নিজের অবস্থান অন্য সবার সাথে নাও মিলতে পারে। সম্ভাব্য সমাধানগুলি বিবেচনা করার সময় নিশ্চিত করুন যে আপনি অন্যদের সম্ভাব্য মূল্যবোধগুলি চিহ্নিত করেছেন।

নীতিগত কৌশল প্রয়োগ করা

[সম্পাদনা]

পেশাদার লেখায়, বিশেষ করে প্রত্যয়-প্রদানমূলক লেখায়, নৈতিক দিকগুলি সামনে আসতে শুরু করে। যখন আপনি অন্যদেরকে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে বা পদক্ষেপ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন, তখন কারসাজি এবং ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকুন। মাঝে মাঝে, আপনি হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে বিভ্রান্ত করেছেন। প্রত্যয়-প্রদানমূলক লেখার ক্ষেত্রে, আপনাকে পাঠকদের মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করতে হবে। মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ব্যবহার করবেন না বা এই ধরনের ভিত্তি থেকে তর্ক করবেন না কারণ আপনি পাঠক(দের) প্রতারিত করতে পারেন এবং তার ফলে তাদের বেআইনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারেন।

প্রত্যয়-প্রদানমূলকভাবে লেখার সময় কারচুপি না করাও গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কখনও আপনি পাঠকদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন। যদি তাই হয়, তাহলে আপনার লেখায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যে সিদ্ধান্ত পাঠকদের উপকারে না এসে বরং নিজের উপকারে আসে, তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি করানো অনৈতিক। বেশিরভাগ সময়, লোকেরা কোনও ধরণের পুরস্কার বা লাভ পাওয়ার জন্য অন্যদের সাথে কারসাজি করার চেষ্টা করে।

বিভ্রান্তিকর শব্দ এবং বাক্যাংশ ব্যবহার বা কারচুপি এড়াতে, বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির জন্য উন্মুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন ধরণের প্রত্যয়-প্রদানমূলক লেখা প্রস্তুত করার সময়, আপনি পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হবেন, তাই অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সহজভাবেই সচেতন হতে হবে। আপনার পাঠকদের ধারণা এবং লক্ষ্যগুলি মাথায় রাখুন এবং তাদের উদ্বেগের পেছনে কি লুকিয়ে আছে তা বিবেচনা করুন। এই সমস্যাগুলি সমাধানে সাহায্য করার জন্য মানবিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে বিবৃতি দেওয়াও ভালো হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও ধারণা আলোচনা করলে আপনি আরও বেশি প্রভাবশালী হবেন, কারণ এতে বেশিরভাগ দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং আপনাকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করা হবে না।

আইনি সমস্যা এবং যোগাযোগ

[সম্পাদনা]

এই বিভাগটি যোগাযোগের আইনি দিকগুলি সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করে যা আপনার লেখাকে আইনি উদ্বেগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রশংসা করা

[সম্পাদনা]

এই বিভাগ লেখার সময় বৈচিত্র্য বিবেচনা করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে কারণ আমাদের পৃথিবী বহুসংস্কৃতির, এবং আপনার লেখায় সেই ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বকে প্রতিফলিত করা প্রয়োজন।

নৈতিক সিদ্ধান্তের পরীক্ষা তালিকা (চেকলিস্ট)

[সম্পাদনা]
  • নৈতিক দ্বিধার প্রকৃতি কী?
  • এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের কোন নির্দিষ্ট দিকগুলি আপনার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়?
  • এই দ্বিধাগ্রস্ত পরিস্থিতিতে আপনার প্রতিযোগিতামূলক বাধ্যবাধকতাগুলি কি কি?
  • একজন বিশ্বস্ত তত্ত্বাবধায়ক বা পরামর্শদাতা কি পরামর্শ দেন?
  • আপনার কোম্পানির আচরণবিধি কি এই সমস্যার সমাধান করে?
  • আপনার পেশাগত সংস্থার নীতিমালায় কি এই সমস্যাটির সমাধান নিয়ে কিছু বলা হয়েছে?
  • আপনি কি করতে ইচ্ছুক নন? আপনি কি করতে ইচ্ছুক?
  • আপনি আপনার সিদ্ধান্তকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন বা ন্যায্যতা দেবেন?


প্রধান পাতা