বিষয়বস্তুতে চলুন

পেশাদার ও কারিগরি লেখনী/নকশা/সাধারণ

উইকিবই থেকে

সাধারণ নকশাগত ধারণাসমূহ

[সম্পাদনা]

পাঠক-কেন্দ্রিক পৃষ্ঠা ও নথি নকশা

[সম্পাদনা]

আপনার যোগাযোগ নির্মাণে ব্যবহৃত হয় চাক্ষুষ উপাদান: শব্দ, বাক্য, ও অনুচ্ছেদের গাঢ় ছাপ এক উজ্জ্বল পটভূমির ওপর, পাশাপাশি চিত্র, গ্রাফ এবং সারণী। আপনার পাঠকরা আপনার বার্তা পড়ে বোঝার আগেই এগুলোর চাক্ষুষ বিন্যাস দেখেন। এবং এই চাক্ষুষ উপস্থাপন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বার্তার কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

ভালো নকশা কীভাবে ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ায় তা নিচে উল্লেখ করা হলো:

• ভালো নকশা পাঠকদের তথ্য বুঝতে সাহায্য করে।

• ভালো পৃষ্ঠা বিন্যাস পাঠকদের দ্রুত তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

• ভালো নকশা পাঠকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু চোখে পড়াতে সহায়তা করে।

ভালো নকশা কীভাবে পাঠকদের মনোভাব প্রভাবিত করে ও বার্তাকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে, তা নিচে দেওয়া হলো:

• ভালো নকশা পাঠকদের বার্তা সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি জাগায়।

• ভালো নকশা পাঠকদের বার্তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।

পাঠক-কেন্দ্রিক নকশা পদ্ধতি

[সম্পাদনা]

পৃষ্ঠার নকশা যেহেতু বার্তার ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রভাবশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, তাই আপনি লেখা বা চিত্র দেওয়ার সময় যেমন পাঠক-কেন্দ্রিক মনোভাব গ্রহণ করেন, তেমনই নকশা তৈরির সময়ও পাঠকদের কথা চিন্তা করুন। তারা কারা, তারা আপনার বার্তা থেকে কী চায়, এবং তারা কোন প্রেক্ষাপটে বার্তাটি পড়বে—এই বিষয়গুলো সবসময় বিবেচনায় রাখুন।

একটি নথির নকশাগত উপাদানসমূহ

[সম্পাদনা]

পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনাররা যেভাবে পৃষ্ঠার উপাদান দেখেন, সেইভাবে চিন্তা করাই সহায়ক। তারা সাধারণত ছয়টি মৌলিক উপাদান চিহ্নিত করেন:

পাঠ্য। অনুচ্ছেদ ও বাক্যসমূহ।

শিরোনাম ও উপশিরোনাম। বার্তার অংশগুলোর নাম।

গ্রাফিক্স। চিত্র, সারণি, আলোকচিত্র ইত্যাদি—এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাও।

সাদা স্থান। ফাঁকা অংশ।

হেডার ও ফুটার। একাধিক পাতার নথির প্রতিটি পৃষ্ঠার উপরে ও নিচে থাকা উপাদান, যেমন পৃষ্ঠাসংখ্যা।

ভৌত বৈশিষ্ট্য। যেমন কাগজের ধরন ও মাপ এবং বাইন্ডিং-এর ধরণ।

গ্রাফিক্স তৈরি

[সম্পাদনা]

পরিকল্পনা

  1. এমন অংশ চিহ্নিত করুন যেখানে গ্রাফিক্স ব্যবহার বার্তার ব্যবহারযোগ্যতা বাড়াবে।
  2. এমন অংশ চিহ্নিত করুন যেখানে গ্রাফিক্স বার্তার প্রভাবশীলতা বাড়াবে।

নোট: বার্তার প্রবাহ ব্যাহত করে এমন স্থানে গ্রাফিক্স যুক্ত করবেন না। অনুচ্ছেদের মাঝখানে বা যৌক্তিক বিরতির জায়গায় গ্রাফিক্স দিন।

নির্বাচন

  1. পাঠকের কাজের সহায়ক গ্রাফিক্স নির্বাচন করুন।
  2. পাঠকদের মনোভাব প্রভাবিত করতে উপযোগী গ্রাফিক্স নির্বাচন করুন।
  3. আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত গ্রাফিক্স নির্বাচন করুন।

নকশা

  1. সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য গ্রাফিক্স তৈরি করুন।
  2. পাঠকদের প্রয়োজনে উপযোগী করে নকশা করুন।
  3. পাঠকরা যেন তা প্রভাবশালী মনে করে, এমনভাবে নকশা করুন।
  4. সরল ও পরিষ্কার নকশা বজায় রাখুন।
  5. বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।
  6. তথ্যবহুল শিরোনাম যুক্ত করুন।
  7. সংক্ষিপ্ত সারাংশ বা ব্যাখ্যা যুক্ত করুন।

রঙের ব্যবহার

  1. বার্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙ ব্যবহার করুন।
  2. রঙ ব্যবহার করুন জোর দেওয়ার জন্য, অলংকার হিসেবে নয়।
  3. পৃথক রঙ না বেছে একটি নির্দিষ্ট রঙ পরিকল্পনা ব্যবহার করুন।
  4. লেখা ও পটভূমির মাঝে উচ্চ রং বজায় রাখুন।
  5. যথাযথ মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম রঙ নির্বাচন করুন।
  6. রঙের সংখ্যা সীমিত রাখুন।
  7. পুরো বার্তাজুড়ে রঙের একতা বজায় রাখুন।

লেখার সাথে একীভূতকরণ

  1. গ্রাফিক্স ব্যবহারের আগে লেখায় তার উল্লেখ করুন।
  2. পাঠকদের স্পষ্ট করে জানান আপনি কোন উপসংহার প্রত্যাশা করছেন।
  3. বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিন।
  4. যে স্থানে গ্রাফিক্সের উল্লেখ আছে, তার কাছাকাছি গ্রাফিক্স রাখুন।

আন্তর্জাতিক পাঠকের কথা বিবেচনা

  1. সম্ভব হলে অন্য দেশের নাগরিকদের মাধ্যমে গ্রাফিক্স যাচাই করুন।
  2. বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবস্থায় গ্রাফিক্স স্থানান্তরের সময় সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করুন।

নৈতিকভাবে গ্রাফিক্স ব্যবহার

  1. পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে পারে এমন উপাদান পরিহার করুন।
  2. পাবলিক ডোমেইনের বাইরে থাকা গ্রাফিক্স ব্যবহারের জন্য কপিরাইট অনুমতি গ্রহণ করুন।
  3. গ্রাফিক্স তৈরি বা গবেষণায় যাঁরা সহায়তা করেছেন, তাঁদের যথাযথ কৃতজ্ঞতা জানান।
  4. গ্রাফিক্স শুধুমাত্র বার্তাকে উন্নত করলে ব্যবহার করুন; অপ্রয়োজনীয় হলে নয়।

সূত্র: পল ভি. অ্যান্ডারসন-এর Technical Communication: A Reader-Centered Approach