পেশাদার ও কারিগরি লেখনী/নকশা/শেষাংশ
শেষাংশ: সংযোজনী, শব্দকোষ এবং আরও অনেক কিছু
[সম্পাদনা]শেষাংশ একটি পেশাদার ব্যবসায়িক দলিল বা যেকোনো দীর্ঘ নথির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে নিম্নলিখিত এক বা একাধিক উপাদান থাকতে পারে: সংযোজনী, গ্রন্থপঞ্জি, উদ্ধৃত কাজের তালিকা, তথ্যসূত্র তালিকা, উপসংহার টীকা, শব্দকোষ, প্রতীক তালিকা অথবা সূচিপত্র। এই উপাদানগুলো উৎস উদ্ধৃত করার জন্য, অপরিচিত শব্দের সংজ্ঞা দেওয়ার জন্য এবং পাঠককে নথিতে কোথায় কী বিষয়বস্তু রয়েছে তা জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। সব পাঠক এই অংশগুলো পড়বেন না, কিন্তু তবুও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মূলত যিনি আরও জানতে আগ্রহী সেই পাঠকের জন্য শেষাংশ। পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনি কম-বেশি উপাদান যোগ করতে পারেন।
নথির শেষাংশ যেভাবে শক্তিশালী করে:
- পাঠকদের প্রয়োজনীয় তথ্যের দিকে নির্দেশ করে
- মূল নথির তথ্যকে সম্প্রসারিত করে
- পাঠকদের বিষয়সম্পর্কিত অন্যান্য নথির দিকে নিয়ে যায়
সংযোজনী
[সম্পাদনা]সংযোজনী এমন অতিরিক্ত বা বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যবহৃত হয় যেগুলো মূল লেখার অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এগুলো প্রয়োজনীয় না হলেও কিছু পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক বা উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে পেশাগত বা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে। মূল লেখায় সাধারণত একটি সূত্রতালিকা থাকে যা পাঠককে সংশ্লিষ্ট সংযোজনীর দিকে নির্দেশ করে। এছাড়াও তথ্য বা সূত্রতালিকা খুঁজে পাওয়ার জন্য সংযোজনী একটি সহজ উপায় হতে পারে। সংযোজনীগুলোতে প্রায়ই চিত্রের সাথে সম্পর্কিত ব্যাখ্যা অথবা গাণিতিক বিশ্লেষণ থাকতে পারে যা মূল লেখায় শুধুমাত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যেক সংযোজনীকে একটি আলাদা শিরোনামে উপস্থাপন করতে হবে এবং "পরিশিষ্ট " নামে লেবেল করতে হবে। প্রতিটি সংযোজনীকে সূচিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একাধিক সংযোজনী থাকলে লেখায় যে ক্রমে তাদের উল্লেখ করা হয়েছে সেই ক্রমেই সাজাতে হবে। প্রতিটি সংযোজনী একটি নতুন পৃষ্ঠায় শুরু হওয়া উচিত। সংযোজনীগুলোর নামকরণ এমনভাবে করতে হবে যেন তা নির্দেশ করে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে। উদাহরণস্বরূপ: পরিশিষ্ট A, পরিশিষ্ট B, পরিশিষ্ট C বা পরিশিষ্ট I, পরিশিষ্ট II, পরিশিষ্ট III ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। আরবি সংখ্যা ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য।
সংযোজনীতে যা থাকতে পারে তার উদাহরণ:
- গাণিতিক গণনা
- তথ্য বিশ্লেষণ
- গ্রাফ
- চিত্র
- আলোকচিত্র
- মানচিত্র
- জরিপ
- ব্যক্তিগত প্রতিফলন
- সাক্ষাৎকার
তথ্যসূত্র তালিকা, উপসংহার টীকা, গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]এই উপাদানগুলো ব্যবহৃত তথ্যের উৎস উল্লেখ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। উৎস উদ্ধৃত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বই, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট, এবং অন্যান্য প্রিন্ট উপকরণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উৎস এই অংশে তালিকাভুক্ত করা হয়। তথ্যসূত্র তালিকা, উপসংহার টীকা এবং গ্রন্থপঞ্জি নথির একেবারে শেষে রাখা হয়।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জিতে নথিতে ব্যবহৃত সমস্ত উৎসের তালিকা থাকে। এগুলো সাধারণত তালিকা আকারে থাকে — কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যা দ্বারা এবং অন্য ক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো। এটি পাঠকদের আরও তথ্য অনুসন্ধানে সহায়তা করে এবং প্রমাণ করে যে তথ্যগুলি বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে এসেছে। ওয়েবসাইট, বই, নিবন্ধ, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার, ভিডিও, ব্লগসহ যেকোনো উৎস এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
গ্রন্থপঞ্জি তৈরির বিভিন্ন ধরন রয়েছে। বৈজ্ঞানিক লেখায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শৈলী হলো এপিএ, যা এই পাতার পরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে যেকোনো শৈলীতে কিছু মৌলিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:
- লেখক
- শিরোনাম
- প্রকাশক
- প্রকাশের তারিখ
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং অন্যান্য ওয়ার্ড প্রসেসর সফটওয়্যারে রেফারেন্স টুল ব্যবহার করে এই তথ্য সহজেই যুক্ত করা যায়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত শৈলী অনুযায়ী উৎস তালিকাটি ফরম্যাট করে দেয়।
উপসংহার টীকা
[সম্পাদনা]উপসংহার টীকাগুলো নথিতে সংখ্যার ভিত্তিতে সাজানো থাকে এবং এমনকি একই উদ্ধৃতি পূর্বে ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি উদ্ধৃতির জন্য একটি নতুন সংখ্যা ব্যবহার করা উচিত। টীকার নম্বর অবশ্যই সুপারস্ক্রিপ্ট আকারে লেখায় বসানো উচিত, উদ্ধৃতির ঠিক পরেই। উপসংহার টীকাগুলো "এন্ডনোটস" বা "নোট" নামে আলাদা একটি পাতায় লিখতে হয়, যা কাজ উদ্ধৃত বা গ্রন্থপঞ্জি পাতার ঠিক আগে থাকে।
লিখিত অংশের উদাহরণ
[সম্পাদনা]মেনি ফেসেস অফ ট্যাবু: দ্য ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া ট্যাবুকে "আইন বা সংস্কৃতি দ্বারা নিষিদ্ধ একটি কর্ম, বস্তু, ব্যক্তি বা স্থান" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। "অ্যান এনসাইক্লোপিডিয়া অফ দ্য প্লট" উল্লেখ করে যে প্রাচীন মিশরীয়, ইহুদি এবং অন্যান্য সহ অন্যান্য অনেক সংস্কৃতির মধ্যে নিষিদ্ধ পাওয়া যায়। ² মেরি ডগলাস বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে ট্যাবুর অনেক দিক এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন ... ⁷
উপসংহার টীকার উদাহরণ
[সম্পাদনা]১ অ্যালান ডুন্ডস, "ট্যাবু," ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া। ২০০০ এড। ২ "ট্যাবু," অকাল্টপিডিয়া: এনসাইক্লোপিডিয়া অফ অকল্ট সায়েন্সেস অ্যান্ড নলেজ, সাইট মার্কাস ভি দ্বারা তৈরি এবং ডিজাইন করা হয়েছে। গে, ১৮ জানুয়ারি ২০০৫ <http://www.occultopedia.com/ t/taboo.htm>। ৩ মেরি ডগলাস, "ট্যাবু," ম্যান, মিথ অ্যান্ড ম্যাজিক, এড। রিচার্ড ক্যাভেন্ডিশ, নতুন এড।, ২১ ভোল্ট। (নিউ ইয়র্ক: ক্যাভেন্ডিশ, ১৯৯৪) ২৫৪৬। ... 7 মারভিন হ্যারিস, "ভারতের পবিত্র গবাদি পশুর সাংস্কৃতিক বাস্তুশাস্ত্র," বর্তমান নৃবিজ্ঞান ১৯৯২, ৭: ৫১-৬৬ ...
তথ্যসূত্র তালিকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র তালিকা নথির শেষে একটি নতুন পৃষ্ঠায় শুরু হয় এবং এতে নথির মধ্যে উদ্ধৃত সকল উৎসের বিস্তারিত বিবরণ থাকে। যেসব উৎসকে উদ্ধৃত করা হয়েছে শুধুমাত্র সেগুলোই এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এপিএ স্টাইল অনুসারে মৌলিক নিয়মসমূহ:
- প্রতিটি সূত্র এন্ট্রির প্রথম লাইনের পরবর্তী লাইনগুলো আধা ইঞ্চি ভিতরে বসাতে হবে (ঝুলন্ত ইন্ডেন্টেশন)।
- লেখকের নাম উল্টোভাবে (প্রথম নাম) লিখতে হবে। তিন থেকে সাতজন লেখক থাকলে সবার নাম দিতে হবে। সাতজনের বেশি হলে প্রথম ছয়জনের নাম দিন, তারপর তিনটি ডট (...) দিয়ে শেষ লেখকের নাম লিখুন।
- লেখক অনুযায়ী সূত্রগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজাতে হবে।
- একই লেখকের একাধিক রচনা থাকলে সেগুলো প্রকাশনার তারিখ অনুসারে সাজাতে হবে।
- বই, নিবন্ধ বা ওয়েব পেজের মতো রচনায় শুধুমাত্র প্রথম শব্দের প্রথম অক্ষর, উপশিরোনামের প্রথম শব্দ, কোলন বা ড্যাশের পর প্রথম শব্দ এবং যথাযথ বিশেষ্য পদগুলোর প্রথম অক্ষর বড় হাতের করতে হবে।
- জার্নালের শিরোনামের সকল মূল শব্দের প্রথম অক্ষর বড় হাতের করতে হবে।
- বই এবং জার্নালের মতো দীর্ঘ রচনার শিরোনাম ইটালিক করতে হবে।
- সংক্ষিপ্ত রচনার (যেমন প্রবন্ধ) শিরোনামে ইটালিক, আন্ডারলাইন বা উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।
শব্দকোষ বা প্রতীকের তালিকা
[সম্পাদনা]শব্দকোষ
[সম্পাদনা]পেশাগত নথিতে অনেক সময় এমন শব্দ ব্যবহৃত হয় যেগুলো পাঠকের জন্য অপরিচিত হতে পারে। যদি এসব শব্দ একবার-দুবারই ব্যবহৃত হয়, তবে সরাসরি ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। তবে যদি পুরো লেখাজুড়ে ব্যবহৃত হয় তাহলে একটি শব্দকোষ যোগ করা উচিত যাতে বারবার সংজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক শব্দাবলীতে এটি খুবই প্রয়োজনীয়।
প্রতীকের তালিকা
[সম্পাদনা]অপরিচিত প্রতীকগুলোও অনেক পেশাগত নথিতে ব্যবহৃত হয়। যদি এসব প্রতীক বারবার ব্যবহৃত হয়, তাহলে একটি প্রতীক তালিকা রাখা উচিত। এটি পাঠকের জন্য সহজবোধ্য করতে প্রতীকগুলো বর্ণানুক্রমে সাজাতে হবে। তালিকাটি দুই কলামে ভাগ করা উচিত — বাম পাশে প্রতীক এবং ডান পাশে প্রতীকের ব্যাখ্যা।
সূচি
[সম্পাদনা]যখন কোনো লেখার দৈর্ঘ্য এত বেশি হয় যে পাঠকের পক্ষে দ্রুত স্ক্যান করা কঠিন হয় তখন সূচি একটি কার্যকরী উপায়। সূচি পাঠকদের নির্দিষ্ট শব্দ বা বিষয়ে দ্রুত পৌঁছাতে সাহায্য করে। একটি কার্যকর সূচি তৈরি করতে হলে পাঠক কী তথ্য খুঁজবেন তা নির্ধারণ করতে হবে এবং সমার্থক শব্দগুলো চিনতে হবে। এটি অনেকটা অনলাইনের সার্চ কিউয়ারির মতো কাজ করে।
ডেস্কটপ পাবলিশিং প্রোগ্রামগুলো সূচি তৈরি করতে সাহায্য করে, কারণ তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিতে ব্যবহৃত শব্দের বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করে। এ তালিকা দেখে আপনি সাধারণত ব্যবহৃত শব্দগুলো এবং তাদের বিকল্প শব্দ নির্ধারণ করতে পারেন।