বিষয়বস্তুতে চলুন

দর্শনের সাথে পরিচয়/যুক্তিবিদ্যা/ত্রুটি নির্ণয়

উইকিবই থেকে

দর্শনের সাথে পরিচয় > যুক্তিবিদ্যা > ত্রুটি নির্ণয়

আমাদের প্রস্তাবনাত্মক ক্যালকুলাস ব্যবস্থাগুলোর বর্ণনা ও ত্রুটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী হতে পারে। নিচে একটি অপেক্ষাকৃত সহজ জল সরবরাহ ব্যবস্থার কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হলো:

  • যদি উপরের ট্যাংকে ওভারফ্লো (অতিরিক্ত পানি উপচে পড়া) হয়, তাহলে বাযার বেজে উঠবে অথবা একটি বৈদ্যুতিক সমস্যা রয়েছে।
  • যদি ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে, তাহলে উপরের ট্যাংকে ওভারফ্লো হয়েছে।
  • বাযার বেজে উঠছে না।
  • ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ছে।

____________________________________________

  • একটি বৈদ্যুতিক সমস্যা রয়েছে।

অন্যান্য অনেক কিছুর মতোই, এই প্রস্তাবনাগুলোকেও নিচের ভাগে ভাগ করা যায়:

  • পর্যবেক্ষণ, যেমন: 'বাযার বেজে উঠছে';
  • শর্তমূলক যদি-তবে ধরনের বাক্য;
  • নির্ণয়।

উপরের যুক্তি যে বৈধ তা প্রদর্শনের জন্য আমরা প্রথমে প্রতিটি মৌলিক প্রস্তাবনাকে একটি করে অক্ষর দিই:

  • p - উপরের ট্যাংকে ওভারফ্লো হয়েছে;
  • q - বাযার বেজে উঠছে;
  • r - একটি বৈদ্যুতিক সমস্যা রয়েছে;
  • s - ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ছে।

তারপর আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো চিহ্নের সাহায্যে প্রকাশ করতে পারি:

  • p → (q ∨ r)
  • s → p
  • ¬ q
  • s

অত্যন্ত সাধারণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, সাধারণ বোধ অনেক সময় দ্রুত সঠিক ফলাফল দেয়। তবে, যদি এটি একটি রাসায়নিক কারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জটিল কিছু হয়, তাহলে যৌক্তিক অনুবর্তনের ধারা খুব জটিল হয়ে পড়ে, তবু দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার হতে পারে ত্রুটি দেখা দিলে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে 'বিশেষজ্ঞ পদ্ধতি' নামে পরিচিত স্বয়ংক্রিয় যুক্তি প্রয়োগকারী ব্যবস্থাগুলো খুবই কার্যকর হতে পারে। (অবশ্য তখন সমস্যা হয় যদি সেই বিশেষজ্ঞ পদ্ধতিটিই ত্রুটিপূর্ণ হয়। এখানেই আমরা পড়ি এক অনন্ত পশ্চাদগমন সমস্যায়।)

যখন যুক্তির বিশ্লেষণ জটিল হয়ে পড়ে, তখন এই ধরনের বিশ্লেষণ খুবই কার্যকর হয়ে ওঠে।

এই ধরনের বিষয় যদি আপনার আগ্রহ সৃষ্টি করে, তাহলে আপনি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধ্যয়নের কথা ভাবতে পারেন।