বিষয়বস্তুতে চলুন

তত্ত্ব শিখন/প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষণ: শাখাভিত্তিক অবদান

উইকিবই থেকে

পরিচিতি

[সম্পাদনা]

যেমনভাবে সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সংস্থার আচরণ অধ্যয়নে অবদান রেখেছে, ঠিক তেমনি সংস্থার একটি উপশাখা সংগঠনগত শিক্ষাতেও অবদান রেখেছে। গ্রিনবার্গ এবং ব্যারন (২০০৩) একটি সংস্থাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে "একটি সামাজিক ব্যবস্থা যেখানে দল এবং ব্যক্তিরা একসাথে কাজ করে কিছু সম্মত উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট হয়" (গ্রিনবার্গ ও ব্যারন)। এই সংজ্ঞার মূল উপাদানসমূহ (ব্যক্তি, দল, সামাজিক ব্যবস্থা এবং উদ্দেশ্য) বিবেচনা করলে মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান এবং উচ্চশিক্ষা এই উপাদানগুলোর উপর সবচেয়ে ব্যাপক এবং গভীর প্রভাব ফেলে বলে প্রতীয়মান হয়।

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষায় অবদান

[সম্পাদনা]

শিক্ষা মনোবিজ্ঞান উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। জোহান ফ্রিডরিখ হারবার্টকে আধুনিক শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রথম কণ্ঠস্বর হিসেবে ধরা হয়। হারবার্টিয়ান নামে পরিচিত তাঁর শিষ্যগণ এই ক্ষেত্রকে বিকশিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা বর্তমানে স্কিমা থিওরি নামে পরিচিত বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন এবং শিক্ষাদানের জন্য পাঁচটি আনুষ্ঠানিক ধাপ প্রস্তাব করেন:

  1. প্রস্তুতি (শিক্ষার্থীর মনের জন্য)
  2. উপস্থাপন (শেখার উপাদান)
  3. তুলনা
  4. সাধারণীকরণ
  5. প্রয়োগ

এই দলই প্রথম শিক্ষাদানের ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা এবং অধ্যয়ন শুরু করে। হারবার্টের কাজ ছাড়াও ব্লুমের অবদান উল্লেখযোগ্য। ব্লুমের শ্রেণীবিন্যাস শিক্ষা ক্ষেত্রকে ছয়টি ভাগে ভাগ করেছে: মৌলিক জ্ঞান, মাধ্যমিক বোধগম্যতা, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন। বিসেল ও লেমনস (২০০৬) যথাযথভাবে প্রথম দুইটি ধাপের (মৌলিক জ্ঞান ও মাধ্যমিক বোধগম্যতা) জন্য সমালোচনামূলক চিন্তার প্রয়োজন হয় না, এগুলোকে তারা শেষ চারটি ধাপ থেকে পৃথক করেছেন (প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন) যেগুলো উচ্চস্তরের চিন্তা এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয়। এই শ্রেণীবিন্যাস শিক্ষার তত্ত্ব থেকে সংগঠনগত ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষায় এক সুসংহত রূপান্তর প্রদান করে। গবেষকগণ এটি ব্যবহার করে শেখার ধরণ এবং জ্ঞানের গভীরতা মূল্যায়ন করতে পারেন।

সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষায় অবদান

[সম্পাদনা]

ডিয়ার্কেস, বারথোইন আন্টাল, চাইল্ড এবং নোনাকা (২০০৩) বলেন, “সমাজবিজ্ঞানীরা শেখাকে মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয় বরং সামাজিক সম্পর্কে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎপন্ন ও পুনরুৎপাদিত একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন” (পৃষ্ঠা ৪৭)। এই ধারণা শেখাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অঙ্গ হিসেবে বিবেচনার পথ খুলে দেয়। এটি ইঙ্গিত করে যে, আমাদের শেখার একটি বড় অংশ সামাজিক সম্পর্কের অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে আসে। এতে “চর্চা” ধারণাটিও সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। ডিয়ার্কেস ইত্যাদি (২০০৩) আরও বলেন, "চর্চা হল এমন একটি কার্যক্রমের ব্যবস্থা যেখানে জ্ঞান ও কাজ আলাদা নয় এবং কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি জ্ঞান উৎপন্ন করে" (পৃষ্ঠা ৪৯)। সমাজবিজ্ঞান ধরে নেয় যে জীবনের প্রতিটি কার্যকলাপ শেখার একটি সুযোগ এবং অনানুষ্ঠানিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে শেখাও আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতির মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষায় অবদান

[সম্পাদনা]

অর্থনীতি শাস্ত্র থেকে সংগঠনগত শিক্ষায় সবচেয়ে বড় অবদান হল বিশ্লেষণাত্মক মডেলগুলোর বিকাশ, ব্যবহার ও দক্ষতা অর্জন, যেগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের নির্দিষ্ট খাতের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বোঝার ক্ষেত্রে দ্রুত শেখার দক্ষতা অর্জন করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা একটি অর্থনৈতিক মডেল বিবেচনা করতে পারি যা বর্তমান বা প্রত্যাশিত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে লাভজনকতা অনুকূল করতে চায়। একটি নিখুঁত ও সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নিতে হলে সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর কাছে সম্পূর্ণ ও নিখুঁত তথ্য থাকতে হবে। অর্থনৈতিক মডেল ও তথ্যউপাত্তগুলো এই তথ্যের সম্পূর্ণতা ও নির্ভুলতা উন্নত করতে তৈরি করা হয়েছে। এই মডেল ব্যবহারে মডেল দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণীকৃত ফলাফল ও বাস্তব ফলাফলের পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে শেখা হয়। এই পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া মডেল ও ইনপুটের আরও উন্নয়ন ঘটায়, যার ফলে সিদ্ধান্ত এবং সংস্থাগত শিক্ষা উন্নত হয় (গ্রিনবার্গ ও ব্যারন, ২০০৩)।

নৃতত্ত্ব থেকে সংগঠনগত শিক্ষায় অবদান

[সম্পাদনা]

নৃতত্ত্ববিদ্যা ও ভাষাশাস্ত্রের সঙ্গে সংগঠনগত শিক্ষার সুস্পষ্ট সংযোগ পরিবর্তনশীল হলেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত, যেমন: “সামাজিক বিজ্ঞানে, 'সংগঠন' শব্দটি ঐতিহ্যগতভাবে সামাজিক একক হিসেবে নয় বরং একটি অবস্থা, গুণাবলি বা কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচিত হতো এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষণ ছিল 'সংগঠিত', 'সংগঠনগত' নয়” (চজার্নিয়াভস্কা, ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৮)। নৃতত্ত্ব 'সংগঠনগত শিক্ষা: শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে, যা সামাজিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে শেখাকে বোঝায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দগত পার্থক্য, কারণ এটি বিভিন্ন শাস্ত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই আলোকে 'সংগঠনগত শিক্ষা'র ব্যবহার বোঝা আমাদের শেখার ধরন বুঝতে সাহায্য করে, যা স্বতন্ত্র শিক্ষার প্রসঙ্গে ভিন্নভাবে বিকশিত হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষায় অবদান

[সম্পাদনা]

সরকারি খাতের শিক্ষার উপর গবেষণা রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাস্ত্রের অবদানের একটি উদাহরণ। অ্যালিসন (১৯৭১) দেখিয়েছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতারা প্রায়ই অতীতের তথ্য ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া উন্নয়নের চেষ্টা করেন। এর একটি প্রধান উদাহরণ হল যুদ্ধনীতি উন্নয়নে ঐতিহাসিক তথ্যের ব্যবহার। এটি শুরু হয় একটি যুদ্ধতত্ত্ব থেকে, যা একটি কৌশলে রূপান্তরিত হয়। সেই কৌশল অনুশীলন ও পরীক্ষার মাধ্যমে মাঠে পরীক্ষা করা হয়। এই অনুশীলন থেকে প্রাপ্ত পাঠ মূল্যায়ন ও সংশোধন করা হয়। নেতৃত্ব যদি ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে সেটি সামগ্রিক যুদ্ধনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষা হল সেই নতুন নীতিকে বাস্তব যুদ্ধে প্রয়োগ করা। সেই যুদ্ধ থেকে আবার নতুন ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় যা সামরিক নেতাদের পরবর্তী বিকাশ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানের মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষা

[সম্পাদনা]

ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানকে সর্বোত্তমভাবে বোঝা যায় উত্তর-আধুনিক শিক্ষার তত্ত্বের কাঠামোর মধ্যে। উত্তর-আধুনিক ধারণা অনুযায়ী, সব অস্তিত্ব আন্তঃসম্পর্কিত — এই চিন্তাধারা ব্যবস্থাপনা একটি নতুন সচেতনতার লক্ষ্যে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সংগঠনগত শিক্ষায় প্রয়োগ করা হয়। পিটার পাওলোস্কি এই শিক্ষার রূপকে সংজ্ঞায়িত করেন:

...একটি সমন্বিত কর্মব্যবস্থায় তথ্য ও জ্ঞানের সম্পদের রূপান্তর। তিনি যোগ করেন, উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা কেবল কাজগুলো আলাদা করে নয় বরং জ্ঞানকে সমন্বয় ও একত্রিত করে নতুন ধারণা তৈরি ও সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্জিত হয় (ডিয়ার্কেস, ২০০৩, পৃষ্ঠা ৬১)।

মার্গারেট হুইটলি (১৯৯৯) তাঁর বই লিডারশিপ অ্যান্ড দ্য নিউ সায়েন্স-এ একে "সম্পূর্ণতাবাদে মনোনিবেশ" (পৃষ্ঠা ১০) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা বিভাজনের বিপরীত। তিনি ডোনেলা মিডোসের উদ্ধৃত করা একটি প্রাচীন সুফি শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন যা এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে তুলে ধরে: "তুমি ভাবো তুমি যদি 'এক' বুঝতে পারো, তাহলে 'দুই' বুঝতে পারবে, কারণ এক আর এক মিলে দুই। কিন্তু তোমাকে 'এবং'-টাও বুঝতে হবে” (পৃষ্ঠা ১০)। এই 'এবং'-ই ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানের চিন্তাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ে যায় — যেখানে সমষ্টিগত প্রজ্ঞার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জিত হয়, যা কেবল যুক্তিবাদী চিন্তার দ্বারা নয় বরং সম্মিলিত চেতনার দ্বারা পরিচালিত। ম্যানেজার তার কর্মচারীদের জন্য শেখার পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একটি কার্যকর শেখার পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে মানুষ তাদের সম্পদ ব্যবহার করতে পারে, বিষয়গুলোর অর্থ অনুধাবন করতে পারে এবং সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারে। এটি অর্থবহ, প্রাসঙ্গিক কার্যকলাপের গুরুত্বকে তুলে ধরে যা শিক্ষার্থীদের বোঝাপড়া গঠন এবং সমস্যা সমাধানে প্রাসঙ্গিক দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। শেখার পরিবেশ সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন ব্যর্থতার ঝুঁকি বোঝা যায় এবং তার পরিণতি হুমকিমূলক নয়। অন্যভাবে বললে, শেখার পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যা ভুল থেকে শেখাকে সক্ষম করে, এমনকি উৎসাহিত করে। এই ব্যর্থতার ঝুঁকির প্রসঙ্গে একাডেমিক এবং বাস্তববিদদের অবদানগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। প্রায়ই বাস্তববিদদের পক্ষে ঝুঁকি নেওয়া এবং ভুল থেকে শেখাকে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ এর পরিণতি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটা স্পষ্ট যে একাডেমিকরা বুঝতে পারে একটি "শেখার প্রতিষ্ঠান" কী। চ্যালেঞ্জ হলো এমন পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়ন করা যা কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং প্রভাব ফেলে। একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে শেখার সংগঠনের ধারণাগুলো প্রয়োগ করা একাডেমিক এবং বাস্তববিদ উভয়ের জন্যই কঠিন (আলবার্ট, ২০০৫)।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভাগগুলিতে সাংগঠনিক শিক্ষা

[সম্পাদনা]

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভাগগুলিকে দুটি পন্থার মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়; প্রচলিত অনুশীলন ও উপস্থাপনায় স্থিত থাকতে অথবা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে। এপস (১৯৯৪) উল্লেখ করেছেন যে তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকের সাথে একটি কথাবার্তা বলছিলেন। "[প্রশাসক] বললেন, 'আমরা সেরাদের গড়ে তুলি এবং বাকিদের প্রক্রিয়াজাত করি।' আমরা যেই বয়সের শিক্ষার্থীর কথাই বলি না কেন, এই নতুন যুগে কেবল কয়েকজনকে উন্নত করে বাকিদের প্রক্রিয়াজাত করাটা যথেষ্ট নয়" (পৃষ্ঠা ১৬৭)। উচ্চশিক্ষা এবং অব্যাহত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বুঝতে হবে যে তারা কেবল ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট বিতরণকারী মেশিন নয়। শিক্ষার্থীদের সম্পর্কভিত্তিক, অভিজ্ঞতামূলক ও একাডেমিকভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। এর একটি উপায় হলো শিক্ষার্থীদের আত্ম-আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা। এটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিচয় এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে মালিকানা নিতে সহায়তা করে।

কেস স্টাডি ও কর্মক্ষেত্রের উদাহরণ

[সম্পাদনা]

আইডাব্লিউইউ ডক্টরাল প্রোগ্রাম

[সম্পাদনা]

ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান বা সমগ্রিক শিক্ষার একটি উদাহরণ হলো আইডাব্লিউইউ ডক্টরাল প্রোগ্রামের জন্য একটি শেখার পোর্টফোলিও তৈরির চলমান প্রক্রিয়া। প্রোগ্রাম যত অগ্রসর হয়েছে, এটা পরিষ্কার হয়েছে যে ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের শেখা সম্প্রসারণশীল হয়ে ওঠে—মানে পূর্ববর্তী জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নতুন জ্ঞান তৈরি হয় এবং এক ক্ষেত্রে শেখা জ্ঞান দ্রুতই অন্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে ওঠে। এর একটি উদাহরণ হলো, এক শিক্ষার্থী একটি কর্ম-সম্পর্কিত সেমিনারে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ/সমস্যা সমাধান সেশন অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে শেখা যন্ত্রপাতিগুলো এখন পোর্টফোলিওর বিভিন্ন অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, অন্যদের শেখানো হচ্ছে এবং অন্যান্য জ্ঞান ও সরঞ্জামের সাথে একত্রিত করে কর্মক্ষেত্রের সমাধান তৈরি করা হচ্ছে।

প্রাইভেট স্কুল

[সম্পাদনা]

শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে সংগঠনিক শিক্ষার আরেকটি উদাহরণ আসে একটি ধর্মভিত্তিক অলাভজনক প্রাইভেট স্কুল থেকে। স্কুলের প্রেক্ষাপটে শেখা স্বাভাবিক মনে হলেও, শ্রেণিকক্ষে শেখা কার্যকর হতে পারে কিন্তু পুরো স্কুল ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে কার্যকর সাংগঠনিক শিক্ষার অভাব থাকতে পারে। একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল কাঠামোর মধ্যে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের মতোই সাংগঠনিক স্তরবিন্যাস বিদ্যমান। ডিসিএস সিস্টেম এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। একটি প্যারেন্ট কর্পোরেশন একটি পরিচালনা পর্ষদকে তদারকি করে যাদের কাছে সুপারিনটেনডেন্ট রিপোর্ট করেন। সুপারিনটেনডেন্ট তিনটি ক্যাম্পাসে সাতজন প্রিন্সিপালকে পরিচালনা করেন। প্রতিটি প্রিন্সিপালের অধীনে একটি ফ্যাকাল্টি এবং কর্মচারী দল থাকে যার জন্য তিনি দায়ী। প্রতিটি শিক্ষক গড়ে ১১২ জন শিক্ষার্থী (পরিবার) এর সেবা দেন।

অভিভাবকগণ

[সম্পাদনা]

যোগাযোগের রেখা ব্যাপক এবং গুরুত্বপূর্ণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা হলো অভিভাবকদের সাথে সংযোগ। যদিও ডিসিএসএস অভিভাবক যোগাযোগে বছরের পর বছর সংগ্রাম করেছে, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং সাংগঠনিক শিক্ষার কিছু প্রচেষ্টা উদাহরণযোগ্য। স্কুলের একটি তথ্যবহুল ও হালনাগাদ ওয়েবসাইট রয়েছে। অভিভাবকরা অনলাইনে "রিয়েল-টাইম" হালনাগাদকৃত ফলাফল দেখতে পারেন। অভিভাবকদের জন্য একটি মাসিক যোগাযোগ হার্ড কপিতে বাসায় পাঠানো হয় এবং অনলাইনেও দেখা যায়। প্রতিটি শিক্ষক, প্রশাসক এবং কর্মচারীর একটি ইমেইল ঠিকানা রয়েছে যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য প্রবেশযোগ্য। ঐতিহ্যবাহী মুখোমুখি অভিভাবক/শিক্ষক সম্মেলন তবুও স্কুলের বাড়ির সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, শিক্ষকরা সারা বছর ফোন কল এবং ব্যক্তিগত সম্মেলনের মাধ্যমে অতিরিক্ত তথ্য ভাগাভাগি করেন। এছাড়াও, গাইডেন্স অফিস কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য সন্ধ্যায় একাধিক মিটিং আয়োজন করে। এটি ডিসিএসএসসের যোগাযোগ প্রচেষ্টার একটি সম্পূর্ণ তালিকা নয়, বরং এটি একটি নমুনা হিসেবে কাজ করে যে কীভাবে একটি স্কুল শেয়ারহোল্ডারদের সাথে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পারে যারা শারীরিকভাবে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে উপস্থিত নয়।

দ্য স্যালভেশন আর্মি ক্যান্টন সিটাডেল কর্পস

[সম্পাদনা]

দ্য স্যালভেশন আর্মি ক্যান্টন সিটাডেল কর্পস কর্মচারীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শেখাকে একীভূত করার প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত। যেমন বার্ষিক সাংস্কৃতিক জরিপ, ত্রৈমাসিক নেতৃত্ব মূল্যায়ন জরিপ, মাসিক স্টাফ মিটিং, এবং ত্রৈমাসিক স্টাফ ডে অ্যাওয়ে ইভেন্টের মাধ্যমে জ্ঞান ভাগাভাগি এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেখার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে একটি কার্যক্রম চলছে যেখানে প্রত্যেক কর্মচারী লটারির মাধ্যমে অন্য একজন কর্মচারীর নাম বেছে নেয়। এরপর এক মাসের মধ্যে তারা নিজেদের সুবিধামতো পদ্ধতিতে ঐ ব্যক্তির সম্পর্কে জানে। মাস শেষে, একটি সহজ জরিপের মাধ্যমে দেখা হয় তারা কী শিখেছে। এই প্রক্রিয়া কর্মচারীদের মধ্যে সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।