তড়িৎ ও চুম্বক/স্থির তড়িৎ

স্থির বিদ্যুৎ, বা স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি, পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা যা স্থির তড়িৎ শাখার অন্তর্ভুক্ত। স্থির তড়িৎ এমন একটি শাখা যা স্থির বা অচল অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক চার্জ নিয়ে আলোচনা করে। সাধারণত বৈদ্যুতিক প্রবাহ মানে যেখানে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় (কারেন্ট ইলেকট্রিসিটি বা চল তড়িৎ), সেখানে স্থির বিদ্যুৎ বলতে বোঝানো হয় সেই চার্জ যা কোনো বস্তুর পৃষ্ঠে জমে থাকে এবং তখনই সরে যায় যখন তা নিরপেক্ষ হয় বা কোনো পরিবাহী মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়।
স্থির বিদ্যুৎ সাধারণত ঘর্ষণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। যখন দুটি ভিন্ন বস্তু একে অপরের সংস্পর্শে আসে এবং তারপর আলাদা হয়, তখন এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর মধ্যে ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে। যার ফলে এক বস্তু ঋণাত্মক এবং অন্যটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়। এই চার্জের অসমতা থেকেই বিভিন্ন বৈদ্যুতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় যেমন আকর্ষণ, বিকর্ষণ বা হঠাৎ স্পার্ক (বিজলি চমক)।
স্থির বিদ্যুতের একটি সাধারণ উদাহরণ হলো—আপনি যদি কার্পেটের ওপর দিয়ে হাঁটার পর ধাতব দরজার হাতলে হাত দেন, অনেক সময় একটি ছোট শক অনুভব করেন। এই ঘটনা ঘটে কারণ আপনার শরীরে অতিরিক্ত ইলেকট্রন জমে গেছে এবং ধাতব হাতল স্পর্শ করার মাধ্যমে তা হঠাৎ সঞ্চারিত হয়।
স্থির বিদ্যুৎ শুধু দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রকৃতি ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, বজ্রপাত মূলত মেঘে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থির বিদ্যুৎ থেকেই ঘটে। এছাড়াও, ফটোকপি মেশিন, লেজার প্রিন্টার, এয়ার পিউরিফায়ার প্রভৃতি যন্ত্রে স্থির বিদ্যুতের ব্যবহার রয়েছে।
স্থির বিদ্যুৎ বুঝতে হলে আমাদের কিছু মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়, যেমন—বৈদ্যুতিক চার্জ কী, পরিবাহী (conductor) এবং অপরিবাহী (insulator) পদার্থ, কুলম্বের সূত্র (Coulomb’s Law), এবং বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের আচরণ। এসব জ্ঞান ভবিষ্যতে তড়িৎচৌম্বক বা তড়িৎ প্রকৌশলের আরও জটিল বিষয় বোঝার ভিত্তি তৈরি করে।
পঠিতব্য বিষয়সমূহ
তথ্যসূত্রসূত্র
[সম্পাদনা]1. হ্যালিডে, রেসনিক ও ওয়াকার। ফান্ডামেন্টালস অব ফিজিক্স, উইলি পাবলিকেশন।
2. সারওয়ে ও জুয়েট। ফিজিক্স ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স, সেনগেজ লার্নিং।
3. গিয়ানকোলি, ডগলাস সি। ফিজিক্স: প্রিন্সিপলস উইথ অ্যাপ্লিকেশনস, পারসন এডুকেশন।
4. পারসেল ও মোরিন। ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড ম্যাগনেটিজম, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস।