বিষয়বস্তুতে চলুন

তড়িৎ ও চুম্বক/চুম্বকত্ব/চুম্বক

উইকিবই থেকে

তড়িৎ বলের মতোই, চৌম্বক বলও বিপরীত আকর্ষণের নীতিকে মানে। চৌম্বকগুলোর সবসময় দুটি মেরু থাকে—একটি উত্তর মেরু, যা প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর চৌম্বক দক্ষিণ মেরুর দিকে আকৃষ্ট হয়, এবং একটি দক্ষিণ মেরু, যা পৃথিবীর চৌম্বক উত্তর মেরুর দিকে আকৃষ্ট হয়। একটি কম্পাসে, চৌম্বক সূচকের উত্তর মেরু পৃথিবীর ভৌগোলিক উত্তর মেরুকে নির্দেশ করে। ফলে, ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণ মেরু চৌম্বক উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর তুলনায় বিপরীতভাবে অবস্থান করে।

যখন চৌম্বক একে অপরকে ভালোবাসে, তখন তারা সেটা একটু বিশেষভাবে করে। একটির উত্তর মেরু অন্যটির দক্ষিণ মেরুর সঙ্গে লেগে থাকে, যেন চৌম্বকত্ব ৬৯ এর কামুকতাকে বেছে নিয়েছে।

তড়িৎ বলের বিপরীতে, কোনো পৃথক চৌম্বক চার্জ কখনো পাওয়া যায়নি। সম্ভবত প্রকৃতি চৌম্বক একক মেরুকে স্বাগত জানায়নি। চৌম্বক সবসময় দ্বিমেরু হয়। আমরা যদি একটি চৌম্বককে তার দুই মেরুর মাঝখান থেকে কেটে দিই, তাহলে আমরা দুটি একক মেরু পাই না, বরং দুটি নতুন দ্বিমেরু পাই, দুটি নতুন চৌম্বক পাই, যাদের প্রত্যেকটিরই দুটি মেরু থাকে:

এটি ব্যাখ্যা করা হয় এইভাবে যে, একটি চৌম্বক পদার্থ অসংখ্য ক্ষুদ্র চৌম্বকের সমন্বয়ে গঠিত, যেগুলো একই দিকে সারিবদ্ধ থাকে:

চৌম্বকস্থিরবিদ্যা (Magnetostatics) হলো স্থির চৌম্বকের মধ্যে চৌম্বক বলের অধ্যয়ন। চৌম্বক বল গণনা তড়িৎ বল গণনার মতোই, শুধু পার্থক্য হলো এখানে একক চার্জের বদলে আমরা দ্বিমেরুর উপর ভিত্তি করে বিচার করি, একক মেরুর নয়:

যেভাবে তড়িৎ ক্ষেত্র তড়িৎ চার্জের জন্য ব্যবহৃত হয়, তেমনই চৌম্বক ক্ষেত্র চৌম্বক পদার্থগুলোর মধ্যে বল গণনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি চলমান চার্জের ওপর চৌম্বকের বল, চৌম্বকের ওপর চলমান চার্জের বল, এবং চলমান চার্জগুলোর মধ্যে বল হিসাব করার জন্যও ব্যবহৃত হয়। তবে এটি শুধুই একটি গাণিতিক মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং এর একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্বও রয়েছে।