ডেস্কটপ পিসি সংযোজন পদ্ধতি/যন্ত্রাংশ নির্বাচন/সিপিইউ
কম্পিউটারের অন্যতম প্রধান একটি অংশ হলো 'সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট' বা সিপিইউ যাকে প্রসেসরও বলা হয়। এটি অপারেটিং সিস্টেম থেকে সফটওয়্যারের নানা নির্দেশনা গ্রহণ করে (যেমন কোনো '০'-কে '১'-এ রূপান্তর করা) এবং হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে তা কার্যকর করে। কম্পিউটার পরিচালনার সময় গাণিতিক হিসাব-নিকাশ এবং ডেটা প্রসেসিংয়ের বেশিরভাগ কাজই সিপিইউ সম্পন্ন করে। তাই কম্পিউটারের সামগ্রিক গতি কেমন হবে তা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কোন সিপিইউ বেছে নিচ্ছেন তার ওপর। তবে গেমিং পিসির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা সেখানে পারফরম্যান্সের মূল সীমাবদ্ধতা বা 'বটলনেক' হিসেবে সাধারণত জিপিইউই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
শব্দভাণ্ডার
[সম্পাদনা]
সিপিইউ যারা ডিজাইন করেন তারা এর অভ্যন্তরীণ কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করার জন্য বিশেষ কিছু কারিগরি শব্দ বা 'টার্ম' ব্যবহার করেন। তাই বিভিন্ন প্রসেসরের মধ্যে পার্থক্যগুলো ভালোমতো বোঝার আগে সিপিইউ সংক্রান্ত এই মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি।
ক্লক স্পিড
[সম্পাদনা]সিপিইউয়ের 'ক্লক স্পিড' পরিমাপ করা হয় গিগাহার্টজ বা মেগাহার্টজে; যেখানে ১ গিগাহার্টজ সমান ১০০০ মেগাহার্টজ। এই ক্লক স্পিড মূলত একটি সিপিইউ প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো 'ক্যালকুলেশন সাইকেল' সম্পন্ন করতে পারে সেটি নির্দেশ করে।
সাধারণভাবে মনে করা হয় ক্লক স্পিড যত বেশি হবে প্রসেসর তত দ্রুত কাজ করবে। তবে সব সিপিইউ প্রতিটি সাইকেলে সমান পরিমাণ কাজ করতে পারে না। এ কারণেই একই ক্লক স্পিডের হওয়া সত্ত্বেও দুটি আলাদা সিপিইউয়ের পারফরম্যান্স বাস্তবে ভিন্ন হতে পারে। তাই ভিন্ন ভিন্ন 'আর্কিটেকচার' এর সিপিইউয়ের (যেমনঃ এএমডি রাইজেন এবং ইন্টেল আই৭) এর মধ্যে কেবল ক্লক স্পিড দেখে তুলনা করা ঠিক নয়। এগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা বোঝার জন্য রিভিউ এবং 'বেঞ্চমার্ক' দেখে নেওয়া জরুরি।
আইপিসি
[সম্পাদনা]ইন্সট্রাকশনস পার সাইকেল সংক্ষেপে আইপিসি, বলতে বোঝায় একটি সিপিইউ এক সাইকেলে কতটুকু কাজ করতে পারে। আধুনিক প্রসেসরের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা সাধারণত একটি গড় হিসাব।
একাধিক কোর
[সম্পাদনা]
আজকাল বাজারে যেসব প্রসেসর পাওয়া যায়, সেগুলোতে সাধারণত একাধিক 'কোর' থাকে। প্রতিটি কোর আলাদাভাবে নির্দেশনা পাঠাতে পারে। যেমনঃ কোনো প্রসেসরে ১০টি কোর থাকলে সেটি একই সময়ে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা কার্যকর করতে সক্ষম। মাল্টিটাস্কিং করার সময় কিংবা যেসব সফটওয়্যার 'মাল্টি-থ্রেড' সাপোর্ট করে, সেগুলো চালানোর ক্ষেত্রে এর ফলে দারুণ পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। আগে একাধিক কোরের সুবিধা পেতে হলে কম্পিউটারে আলাদা আলাদা প্রসেসর বসাতে হতো, যার জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানের এই মাল্টি-কোর ব্যবস্থা সেই খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কোরের সংখ্যা বাড়ালে পারফরম্যান্স বাড়ে ঠিকই তবে কোর বাড়লেই যে সমানুপাতিক হারে পারফরম্যান্স বাড়বে বিষয়টি এমন নয়। অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকলেও বেশিরভাগ সফটওয়্যার চালানোর সময় একটি ৮ কোরের প্রসেসর কখনোই একটি ৪ কোরের প্রসেসরের চেয়ে দ্বিগুণ গতি দেবে না। তাই আপনার ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলো ঠিক কতটি কোর সমর্থন করে তা 'রেকমেন্ডেড রিকোয়ারমেন্ট' দেখে বুঝে নেওয়া জরুরি। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কোরের সংখ্যা বেছে নিন। সাধারণ অর্থে বেশি কোর থাকা ভালো হলেও এর জন্য যদি অনেক বেশি বাড়তি খরচ করতে হয় কিংবা 'ক্লক স্পিড'-এর ক্ষেত্রে বড় কোনো আপস করতে হয়। তবে তা সবসময় লাভজনক নাও হতে পারে।
ইন্টারফেস (সকেট/স্লট)
[সম্পাদনা]সিপিইউ মাদারবোর্ডের একটি নির্দিষ্ট সকেটে বসানো হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার প্রসেসরটি যেন মাদারবোর্ডের সকেটের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ভুল সকেটে সিপিইউ বসানোর চেষ্টা করলে তা কেবল কাজ করতে ব্যর্থ হবে তাই নয় বরং প্রসেসর, সকেট অথবা উভয়টিই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই সকেটকে আপনি প্রসেসর ও মাদারবোর্ডের সংযোগকারী একটি মাধ্যম হিসেবে ধরে নিতে পারেন যা অনেকটা 'লেগো ব্রিক' বা 'ব্রেডবোর্ড'-এর মতো কাজ করে।
বিট উইডথ
[সম্পাদনা]আধুনিক প্রসেসর সাধারণত ৩২-বিট বা ৬৪-বিট হয় (এটি সরল করে বলা; বিস্তারিত জানতে ৬৪-বিট নিয়ে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ দেখুন)। এখানে আমাদের আলোচনার জন্য কোনো প্রসেসর ৬৪-বিট অপারেটিং সিস্টেম চালাতে পারলে সেটিকে ৬৪-বিট বলা যায়। আজকাল বিক্রি হওয়া x86-64 প্রসেসরগুলো ৬৪-বিট, তবে পুরোনো ৩২-বিট সফটওয়্যারের সঙ্গেও কম্প্যাটিবল।
অনেক জটিল অ্যাপ্লিকেশন ৬৪-বিট প্রসেসর ব্যবহার করলে পেতে পারে। যেমনঃ মজিলা ফায়ারফক্স[১]। কিছু প্রোগ্রাম কেবল ৬৪-বিট প্রসেসরেই কাজ করতে পারে। বিট বলতে ০ বা ১ এই দুই অবস্থার একটি সুইচ বোঝায়। অর্থাৎ এখানে ২টি সম্ভাবনা থাকে। ৩২-বিট মানে ২^৩২। ৬৪-বিট মানে ২^৬৪। যা প্রসেসরের একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে কতটা ডেটা রাখা যায় তার আকার নির্দেশ করে।
সিমালটেনিয়াস মাল্টিথ্রেডিং
[সম্পাদনা]কিছু হাই-এন্ড প্রসেসরে 'সিমালটেনিয়াস মাল্টিথ্রেডিং' (এসএমটি) নামক একটি বিশেষ সুবিধা থাকে। ইন্টেল তাদের এই প্রযুক্তিকে 'হাইপার-থ্রেডিং' বলে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রসেসরের প্রতিটি কোর অপারেটিং সিস্টেমের কাছে দুটি 'লজিক্যাল প্রসেসর' হিসেবে গণ্য হয়। ফলে অপারেটিং সিস্টেমের কাছে প্রসেসরের কোরের সংখ্যা কার্যকরভাবে দ্বিগুণ মনে হয়। এএমডি রাইজেন সিরিজের সিপিইউগুলোতেও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করা হয়নি।
ক্যাশ
[সম্পাদনা]
ক্যাশ হলো সরাসরি প্রসেসরের ভেতরে থাকা একটি মেমোরি। কোনো হিসাব-নিকাশ বা প্রসেসিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় ডেটাগুলো যতটা সম্ভব এই ক্যাশে রাখা হয়। কারণ মেইন মেমোরি থেকে ‘নর্থব্রিজ’-এর মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহ করার চেয়ে সরাসরি ক্যাশ থেকে তা নেওয়া অনেক বেশি দ্রুততর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ক্যাশের আকার যত বড় হয়, সিস্টেমের গতিও তত বৃদ্ধি পায়।
ক্যাশ সাধারণত তিন স্তরের হয়: এল১, এল২ এবং এল৩। এর মধ্যে এল১ আকারে সবচেয়ে ছোট হলেও সবচেয়ে দ্রুতগতির; অন্যদিকে এল৩ আকারে সবচেয়ে বড় হলেও গতির দিক থেকে অন্য দুটির চেয়ে কিছুটা ধীর। সাধারণত প্রসেসরের স্পেসিফিকেশনে শুধু এল৩ ক্যাশের আকার উল্লেখ করা হয়। এর কারণ হলো, প্রসেসর ডিজাইনে এল৪ ক্যাশ খুব একটা ব্যবহার করা হয় না, আর একই সিরিজের প্রসেসরগুলোর এল১ ও এল২ ক্যাশের আকার সাধারণত একই থাকে।
উল্লেখ্য যে, এল৪ ক্যাশ কেবল ইন্টেল হ্যাজওয়েল সিরিজের আইরিস প্রো গ্রাফিক্স সমৃদ্ধ বিশেষ কিছু হাই-এন্ড প্রসেসরে দেখা যায়। এগুলোতে ১২৮ এমবি এমবেডেড ডির্যাম থাকে যা মূলত এল৪ ক্যাশ হিসেবে কাজ করে।
প্রসেস সাইজ
[সম্পাদনা]চিপের ভেতরে থাকা বিভিন্ন কম্পোনেন্টগুলো কত ছোট তারই একটি পরিমাপ হলো ‘প্রসেস সাইজ’। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রসেস নোড যত ছোট হয় প্রসেসর তত উন্নত হয়। এর কারণ হলো, নোড ছোট হলে একই আকারের চিপে অনেক বেশি কম্পোনেন্ট জায়গা করে দেওয়া সম্ভব হয় এবং এতে বিদ্যুৎ খরচও অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বেশিরভাগ প্রসেসর ৫ ন্যানোমিটার, ৪ ন্যানোমিটার কিংবা ৩ ন্যানোমিটার প্রসেস সাইজে তৈরি হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে ২ ন্যানোমিটারে নেমে আসবে।
পিসিআই এক্সপ্রেস লেন
[সম্পাদনা]আধুনিক প্রসেসর নির্দিষ্ট কোনো জেনারেশনের পিসিআই এক্সপ্রেস সমর্থন করে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ কতটি লেন সমর্থন করে সেটিও নির্ধারিত থাকে।
মেমরি কন্ট্রোলার
[সম্পাদনা]আধুনিক সিপিইউয়ের নকশায় মেমরি কন্ট্রোলার এখন প্রসেসরের ভেতরেই সরাসরি যুক্ত থাকে। এই অংশটিই নির্ধারণ করে দেয় যে প্রসেসরটি কোন ধরনের মেমরি সমর্থন করবে এবং সেখানে কতগুলো মেমরি চ্যানেল ব্যবহার করা যাবে।
ইন্টেলের হাই-এন্ড প্রসেসর এবং এএমডির বেশিরভাগ প্রসেসরে 'ইসিসি' মেমরি ব্যবহারের সুবিধা থাকে। এই ধরনের মেমরি নিজে থেকেই ডেটার ত্রুটি সংশোধন করতে পারে। সাধারণ র্যামের তুলনায় এর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় এটি মূলত ওয়ার্কস্টেশন কিংবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা 'মিশন-ক্রিটিক্যাল' কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারে লাগানো হয়, যেখানে সিস্টেম ক্র্যাশ করার ঝুঁকি সর্বনিম্ন রাখা প্রয়োজন। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রচলিত মেমরি বা র্যামই যথেষ্ট।
আইএসএ এবং মাইক্রোআর্কিটেকচার
[সম্পাদনা]একটি প্রসেসর কোন ধরনের সফটওয়্যারের সাথে কাজ করতে পারবে (বা কম্প্যাটিবল হবে) তা নির্ধারণ করে এর ‘ইন্সট্রাকশন সেট আর্কিটেকচার’ বা আইএসএ। বর্তমানে বেশিরভাগ ডেস্কটপ সিপিইউই X86-64 আর্কিটেকচার ব্যবহার করে। এই আইএসএয়ের অভ্যন্তরে থাকে ‘মাইক্রোআর্কিটেকচার’। এটি মূলত ঠিক করে দেয় যে প্রসেসরের ভেতরে এই আর্কিটেকচারটি কীভাবে কাজ করবে।
কোনো প্রসেসরের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এই মাইক্রোআর্কিটেকচারের ওপর নির্ভর করে যার কয়েকটির কথা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। কোনো নির্দিষ্ট ‘বেঞ্চমার্ক’ ছাড়াই কেবল স্পেসিফিকেশন দেখে দুটি প্রসেসরের মধ্যে তুলনা করা তখনই যুক্তিযুক্ত হবে যখন সেগুলো একই মাইক্রোআর্কিটেকচারের অধীনে তৈরি। তবে এই তুলনার ক্ষেত্রেও কিছু বাড়তি সতর্কতা বা ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
সিপিইউ কীভাবে বেছে নেবেন?
[সম্পাদনা]২০২৩ সালের গাইড:
বর্ণনা
[সম্পাদনা]বিজ্ঞাপনে, বিশেষ করে প্রি-বিল্ট সিস্টেমের ক্ষেত্রে, প্রসেসরের বর্ণনা অনেক সময় খুব সংক্ষেপে দেওয়া হয়, যেমনঃ
- এএমডি রাইজেন ৭ ৫৭০০এক্স, ৩.৪ গিগাহার্টজ
কিন্তু শুধু এটুকুই সব নয়। আরও বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন হলে সেটি এমন হতে পারে:
- এএমডি রাইজেন ৭ ৫৭০০এক্স আট-কোর প্রসেসর, ৩.৪ গিগাহার্টজ/৪.৬ গিগাহার্টজ, এএম৪ সকেট, ৩২ এমবি এল৩ ক্যাশ, ৪ এমবি এল২ ক্যাশ
এটি ভেঙে দেখালে দাঁড়ায়:
- মডেল: এএমডি রাইজেন ৭ ৫৭০০এক্স
- বেস ক্লক স্পিড: ৩.৪ গিগাহার্টজ (৩৪০০ মেগাহার্টজ)
- টার্বো ক্লক স্পিড: ৪.৬ গিগাহার্টজ (৪৬০০ মেগাহার্টজ)
- সকেট: এএম৪
- এল৩ ক্যাশ: ৩২ এমবি, এল২ ক্যাশ: ৮ × ৫১২ কেবি
এখান থেকে বোঝা যায়, ৩.৪ গিগাহার্টজ দ্রুত ক্লক স্পিড হলেও এই প্রসেসরটি হয়তো একই ৩.৪ গিগাহার্টজ বেস ক্লক স্পিডে চলা হাই-এন্ড এএমডি রাইজেন ৯ ৫৯৫০এএক্সের মতো দ্রুত নয়; কারণ রাইজেন ৯ ৫৯৫০এক্সে আরও ৮ এমবি বেশি এল২ ক্যাশ এবং অতিরিক্ত আটটি প্রসেসিং কোর রয়েছে।
ইন্টেলের একটি উদাহরণ হিসেবে,
- ইন্টেল কোর আই৫-১৩৬০০কে প্রসেসর, ২৪ এমবি ক্যাশ, সর্বোচ্চ ৫.১০ গিগাহার্টজ পর্যন্ত
- মডেল: ইন্টেল কোর আই৫-১৩৬০০কে
- কোর: ১৪ (৬পি+৮ই)
- বেস ক্লক স্পিড: ৩.৫ গিগাহার্টজ (=৩৫০০ মেগাহার্টজ)
- টার্বো ক্লক স্পিড: ৫.১ গিগাহার্টজ (=৫১০০ মেগাহার্টজ)
- ইন্টারফেস: এলজিএ ১৭০০
- এল২-ক্যাশ: ২০ এমবি (=২০৪৮০ কেবি)
- এল৩-ক্যাশ: ২৪ এমবি (=২৪৫৭৬ কেবি)
ইন্টেল
[সম্পাদনা]ইন্টেল তাদের সিপিইউগুলোকে বিভিন্ন সংখ্যার সিরিজের মাধ্যমে কয়েকটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে থাকে।[৬] ইন্টেলের কোর আই-সিরিজে ২xxx থেকে ১৪xxx পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল রয়েছে, পাশাপাশি বর্তমানে ‘কোর আল্ট্রা ২০০’ (২xx) সিরিজটিও পাওয়া যায়। এই নতুন সিরিজটিই মূলত তাদের সর্বশেষ জেনারেশন বা প্রজন্মের প্রসেসর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, জেনারেশনের পর মডেল নম্বরটি যত বড় হয় প্রসেসরের গতিও তত বেশি হয় এবং সেই সাথে দামও বাড়ে। অনেক প্রসেসরের নামের শেষে বিশেষ কিছু অক্ষর বা ‘সাফিক্স’ যুক্ত থাকে, যা দিয়ে এর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়। যেমনঃ ‘কে’ (K) মানে হলো প্রসেসরটি ‘আনলকড’ যা প্রয়োজনে ‘ওভারক্লক’ করা যায়; ‘টি’ (T) মানে এটি কম বিদ্যুৎ খরচ করে বা ‘লো-পাওয়ার’ ভার্সন; আর ‘এফ’ (F) মানে হলো প্রসেসরটিতে কোনো বিল্ট-ইন বা ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স’ নেই। নিচে বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ আধুনিক ইন্টেল ডেস্কটপ প্রসেসরের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
- ইন্টেল সেলেরন (ডুয়াল/কোয়াড কোর)
বাজেট পিসির কথা মাথায় রেখেই মূলত ইন্টেলের সেলেরন সিরিজের প্রসেসরগুলো তৈরি করা হয়েছিল। একসময় এই সিরিজের সিপিইউগুলোতে মাত্র একটি করে কোর থাকত। স্যান্ডি ব্রিজ সিরিজের মাধ্যমে শেষবারের মতো সিঙ্গল-কোর সেলেরন বাজারে আসে। এরপর থেকে সব সেলেরন ‘জি-সিরিজ’ প্রসেসরগুলো ডুয়াল-কোর হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
ট্যাবলেট-নির্ভর বেট্রেইল বা ব্রাসওয়েল সেলেরন প্রসেসরগুলোতে সাধারণত ২ বা ৪টি কোর থাকে। তবে এদের আইপিসি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় এগুলো ‘কোর আই’ প্রসেসরের মতো পারফরম্যান্স দিতে পারে না। এমনকি একই ক্লক স্পিডের একটি ‘কোর ২ ডুয়ো’ প্রসেসরের তুলনায় এদের সিঙ্গল-কোর পারফরম্যান্স কিছুটা কম।
২০২৩ সালে ইন্টেল এই ব্র্যান্ডটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এলজিএ ১৭০০ সকেটের জন্য সেলেরন জি৬৯০০-এর মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রসেসর এখনো বাজারে পাওয়া যায়।
- ইন্টেল পেন্টিয়াম (ডুয়াল কোর)
ইন্টেলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রসেসর সিরিজ ছিল ‘পেন্টিয়াম’। শুরুর দিকের প্রসেসরগুলোতে মাত্র একটি কোর থাকলেও পরবর্তী সময়ের মডেলগুলোতে ডুয়াল-কোর সুবিধা যুক্ত করা হয়। যেমন পেন্টিয়াম ডি, পেন্টিয়াম ডুয়াল-কোর এবং পেন্টিয়াম জি-সিরিজ। অন্যদিকে, বেট্রেইল বা ব্রাসওয়েল সিরিজের পেন্টিয়াম প্রসেসরগুলো সাধারণত কোয়াড-কোর হয়ে থাকে। তবে এদের আইপিসি (IPC) তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় মাল্টি-কোর পারফরম্যান্স থাকে অনেকটা ‘কোর এম’ প্রসেসরের কাছাকাছি, আর সিঙ্গল-কোর পারফরম্যান্স হয় তার প্রায় অর্ধেক।
মনে রাখবেন, ইন্টেল সেলেরন এবং পেন্টিয়ামের জায়গায় ইন্টেল প্রসেসর সিরিজ আসছে।
- ইন্টেল কোর আই৩ (২ থেকে ৪ কোর (ডেস্কটপ) / ২ থেকে ১০ কোর (মোবাইল))
এগুলো মূলত বাজেট-সাশ্রয়ী বা লো-এন্ড প্রসেসর হলেও এতে 'হাইপার-থ্রেডিং' প্রযুক্তি যুক্ত থাকে। এর ফলে মাল্টি-থ্রেডেড সফটওয়্যারগুলো অনেক বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। প্রজন্মভেদে এই প্রসেসরগুলো এলজিএ ১১৫৬ থেকে শুরু করে ১৭০০ পর্যন্ত বিভিন্ন সকেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ অ্যাপ এমনকি অনেক গেম চালানোর জন্যও এই প্রসেসর সিরিজটি যথেষ্ট। উল্লেখ্য যে, নবম জেনারেশন থেকে শুরু করে এই সিরিজের প্রসেসরগুলোতে 'টার্বো বুস্ট' সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
- ইন্টেল কোর আই৫ (৪–১৪ কোর (ডেস্কটপ), ২–১৪ কোর (মোবাইল))
এগুলো মূলত মাঝারি ঘরানার বা মিড-রেঞ্জ প্রসেসর। এর সাধারণ মডেলগুলোতে হাইপার-থ্রেডিং সুবিধা না থাকলেও কিছু ডুয়াল-কোর ভ্যারিয়েন্টে এই প্রযুক্তিটি দেখা যায়। কোর আই সিরিজের অন্যান্য প্রসেসরের মতো এগুলোও প্রজন্মভেদে এলজিএ ১১৫৬ থেকে শুরু করে ১৭০০ পর্যন্ত বিভিন্ন সকেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স কার্ডের গতিতে কোনো ‘বটলনেক’ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করেই এই সিরিজের প্রসেসরগুলো প্রায় যেকোনো গেম সাবলীলভাবে চালাতে পারে। এতে ‘টার্বো বুস্ট’ প্রযুক্তি রয়েছে, যা বিদ্যুৎ খরচ ও তাপমাত্রার অবস্থা বুঝে প্রসেসরের ক্লক স্পিড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করতে পারে।
২০২৩–২৪ সালে এগুলোর জায়গায় কোর আল্ট্রা ৫ সিরিজ আসে।
- ইন্টেল কোর আই৭ (৪–২০ কোর (ডেস্কটপ), ২–২০ কোর (মোবাইল))
এটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি ইন্টেলের মাইক্রোপ্রসেসরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বা ‘হাই-এন্ড’ সিরিজ। এই প্রসেসরগুলোতে ৪ থেকে ২০টি পর্যন্ত কোর থাকে। সাথে রয়েছে হাইপার-থ্রেডিং সুবিধা, তুলনামূলক বড় আকারের ক্যাশ মেমোরি এবং ইন্টেলের নিজস্ব ‘টার্বো বুস্ট’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে এবং এটি অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই প্রতিটি কোর প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের গতি বা ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে নিতে পারে। ইন্টেলের নেহালেম সিরিজে এই গতি বৃদ্ধির কাজটি প্রতি ধাপে ১৩৩ মেগাহার্টজ করে হতো। আর স্যান্ডি ব্রিজ ও তার পরবর্তী মডেলগুলোতে এটি প্রতি ধাপে ১০০ মেগাহার্টজ করে কাজ করে। পুরোনো এলজিএ ৭৭৫ সকেটভিত্তিক ‘কোর ২’ প্রসেসরে অবশ্য এই সুবিধাটি ছিল না তবে এগুলোর বেশিরভাগ মডেলে এক ধরনের আংশিক ওভারক্লকিং ব্যবস্থা ছিল। নিয়মটি ছিল প্রতি দুটি কোরের মধ্যে একটি কোর অব্যবহৃত থাকলে মাল্টিপ্লায়ার ০.৫ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এর মানে হলো, ‘কোর ২ কোয়াড’ প্রসেসরের ক্ষেত্রে দুটি কোরকে টার্বো ওভারক্লক করা যেত। এই প্রসেসরগুলো ডিডিআর৪ এবং ১২তম জেনারেশন থেকে ডিডিআর৫ মেমোরি সমর্থন করে। এগুলো তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য পুরোনো এফএসবি (ফ্রন্ট সাইড বাস) ব্যবহার না করে সরাসরি ‘ইন্টেল কুইকপাথ ইন্টারফেস’ ব্যবহার করে। উল্লেখ্য, এই টার্বো বুস্ট প্রযুক্তিটি কিছু আই৩ এবং আই৫ প্রসেসরেও ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২৩ সালে ইন্টেল ঘোষণা দেয় যে তারা তাদের কোর প্রসেসরগুলোর নামকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে এবং নামের শুরু থেকে ‘আই’ (i) অক্ষরটি বাদ দেবে। রিব্র্যান্ডিংয়ের এই প্রক্রিয়াটি প্রথমে ২০২৩ সালে ল্যাপটপ বা মোবাইল সিপিইউ দিয়ে শুরু হয়। যেমন ১৬ কোরের ‘ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ ১৫৫এইচ’; পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ডেস্কটপ প্রসেসরের ক্ষেত্রেও এই নতুন নামকরণ চালু করা হয়।
- ইন্টেল কোর আই৯ (৮–২৪ কোর (ডেস্কটপ), ৬–২৪ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর ৩ (৬–৮ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর ৫ (১০–১২ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর ৭ (১০–১৪ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৩ (৮ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৫ (১৪ কোর (ডেস্কটপ), ৮–১৪ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ (২০ কোর (ডেস্কটপ), ৮–১৬ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৯ (২৪ কোর (ডেস্কটপ), ৮–১৬ কোর (মোবাইল))
- ইন্টেল জিয়ন (২–২৮৮ কোর)
জিয়ন ব্র্যান্ড ছিল ওয়ার্কস্টেশন, সার্ভার এবং এমবেডেড সিস্টেমের জন্য ইন্টেল x86/64 প্রসেসরের একটি ব্র্যান্ড।
'জিয়ন' ব্র্যান্ডের প্রসেসরগুলোতে একটি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৮৮টি পর্যন্ত কোর থাকতে পারে। তবে কোরের এই বিশাল সংখ্যা দেখে খুব বেশি উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, এগুলো মূলত সার্ভার এবং ওই জাতীয় বিশেষ সিস্টেমের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এগুলো আপনার সেই ‘সুপার হাই-টেক’ বা সর্বাধুনিক শক্তিশালী কম্পিউটারের জন্য নয়, যেখানে আপনি প্রচুর র্যাম কিংবা ফ্ল্যাগশিপ আরটিএক্স গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
ইন্টেলের অতিরিক্ত ফিচার
[সম্পাদনা]এই ফিচারগুলো প্রতিটি মডেলে নাও থাকতে পারে।
- এক্সডি প্রযুক্তি: সিপিইউ মডেল নম্বরের শেষে ‘J’ সাফিক্স থাকা মানে হলো তাতে ‘এক্সডি’ (এক্সিকিউট ডিজেবল) প্রযুক্তি রয়েছে। এটি মূলত ইন্টেল প্রসেসরের একটি বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার। একইভাবে, এএমডি প্রসেসরেও এই ধরনের প্রযুক্তি দেখা যায় যা ‘ইভিপি’ (এনহ্যান্সড ভাইরাস প্রোটেকশন) নামে পরিচিত। উল্লেখ্য যে, উইন্ডোজ ৮ থেকে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি প্রসেসরেই এটি যুক্ত থাকে।
- ভিটি-এক্স ২০০৬ সালে ইন্টেল ও এএমডি হার্ডওয়্যার ভার্চুয়ালাইজেশন নামে একটি ফিচার চালু করে যা একই সময়ে একাধিক ওএস ব্যবহার করলে গতি বাড়ায়। এই ফিচার কিছু ইন্টেল কোর ২ এবং তার পরের অধিকাংশ প্রসেসরে পাওয়া যায়।
নামকরণ পদ্ধতি
[সম্পাদনা]সিপিইউয়ের নাম মূলত নির্ধারণ করা হয় এর পারফরম্যান্স, ক্লক স্পিড এবং দামের ওপর ভিত্তি করে। তবে প্রসেসরের গতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন, গিগাহার্টজ বা মেগাহার্টজ এককে মাপা ‘ক্লক স্পিড’ বেশি হলেই পুরো সিস্টেম দ্রুত চলবে। যদিও বেশি ক্লক স্পিড প্রসেসরকে ঘন ঘন ‘সাইকেল’ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে এবং গতির ওপর এর বড় প্রভাব রয়েছে। তবুও এটিই একমাত্র মাপকাঠি নয়। কারণ, প্রসেসরের প্রতিটি সাইকেলে ঠিক কতগুলো হিসাব বা ক্যালকুলেশন সম্পন্ন হবে এবং কতটুকু ডেটা প্রসেস করা যাবে তা নির্মাতা এবং মডেল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
এছাড়া, ‘এফএসবি’ (FSB) স্পিডের মতো আরও কিছু বিষয় প্রসেসরের কার্যক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি মেমরি বাস (FSB) এবং র্যাম পর্যাপ্ত গতিতে প্রসেসরের কাছে ডেটা পৌঁছাতে না পারে, তবে প্রসেসর দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অলস বসে থাকে। এই অলস সময়গুলোকে বলা হয় ‘ওয়েস্টেড সাইকেল’, যা সামগ্রিক সিস্টেমের গতি কমিয়ে দেয়।
ইন্টেল
[সম্পাদনা]নেহালেম থেকে র্যাপ্টর লেক পর্যন্ত (কোর আই আর্কিটেকচার)
[সম্পাদনা]নেহালেম/লিনফিল্ড/স্যান্ডি ব্রিজ/আইভি ব্রিজ/হ্যাজওয়েল/ব্রডওয়েল/স্কাইলেক/ক্যাবি লেক/কফি লেক/কমেট লেক/রকেট লেক/অ্যাল্ডার লেক/র্যাপ্টর লেক সিরিজের লাইন-আপে নিচের মতো আলাদা নামকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- সেলেরন/পেন্টিয়াম একটি বেসিক ডুয়াল-কোর প্রসেসর নির্দেশ করে। সাধারণত পেন্টিয়ামে সেলেরনের তুলনায় বেশি ক্যাশ এবং বেশি ক্লকস্পিড থাকে। পাশাপাশি হাইপারথ্রেডিংও থাকে (ক্যাবি লেক এবং পরবর্তী প্রজন্মে)।
- আই৩ সাধারণত হাইপারথ্রেডিংসহ ২ থেকে ৪ কোর নির্দেশ করে (৮ম ও ৯ম জেনারেশন ছাড়া)। ৯ম জেনারেশন (9xxx) থেকে এগুলোতে টার্বো ফাংশনালিটি থাকে।
- আই৫ সাধারণত ২ থেকে ১৪ কোর নির্দেশ করে। যেখানে আই৫-৬xx সিরিজ এবং ১০ম থেকে ১৪তম জেনারেশনে হাইপারথ্রেডিং থাকে। এগুলোর সবগুলোতেই টার্বো ফাংশনালিটি থাকে যা লোডের সময় প্রসেসরকে তার ক্লকস্পিড বাড়াতে সাহায্য করে। তবে কিছু নির্দিষ্ট আগের লো-ওয়াটেজ (৩৫W) আই৫, পাশাপাশি আই৫-৬xx সিরিজ, ডুয়াল-কোর হাইপারথ্রেডেড ছিল।
- আই৭ সাধারণত ৪ থেকে ১৬ কোর নির্দেশ করে, ৯ম জেনারেশন ছাড়া এগুলোতে হাইপারথ্রেডিং থাকে, এবং সবগুলোতেই টার্বো ফাংশনালিটি থাকে।
- আই৯ সাধারণত ৮ থেকে ২৪ কোর নির্দেশ করে, এগুলোতে হাইপারথ্রেডিং থাকে, এবং সবগুলোতেই টার্বো ফাংশনালিটি থাকে।
প্রসেসরের জেনারেশন এবং সকেট জানতে হলে প্রসেসরের নম্বরিং দেখতে হয়।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আই-চিহ্ন থাকে এবং ৩ ডিজিটের নম্বর থাকে, তাহলে সেটি এলজিএ ১১৫৬ (নেহালেম)-এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-২xxx (স্যান্ডি ব্রিজ) অথবা আইx-৩xxx (আইভি ব্রিজ) ধরনের নামকরণ থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১১৫৫ এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-৪xxx (হ্যাজওয়েল) অথবা আইx-৫xxx (ব্রডওয়েল) ধরনের নামকরণ থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১১৫০ এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-৬xxx (স্কাইলেক) অথবা আইx-৭xxx (ক্যাবি লেক) ধরনের নামকরণ থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১১৫১ এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-৮xxx (কফি লেক) অথবা আইx-৯xxx (কফি লেক রিফ্রেশ) থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১১৫১ভি২ এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-১০xxx (কমেট লেক) অথবা আইx-১১xxx (রকেট লেক) থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১২০০ এর জন্য।
- যেকোনো সিপিইউতে যদি আইx-১২xxx (অ্যাল্ডার লেক), আইx-১৩xxx (র্যাপ্টর লেক) অথবা আইx-১৪xxx (র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ) থাকে তাহলে সেটি এলজিএ ১৭০০ এর জন্য।
এর ব্যতিক্রম হলো ঐ জেনারেশনের ই (এক্সট্রিম) সিরিজ।
- আই৭-৯xx সিরিজ (নেহালেম) এলজিএ ১৩৬৬ ব্যবহার করে।
- আই৭-৩৮২০/৩৯x০ সিরিজ (স্যান্ডি ব্রিজ) এবং আই৭-৪৮২০কে/৪৯x০ সিরিজ (আইভি ব্রিজ) এলজিএ ২০১১ ব্যবহার করে।
- আই৭-৫৮২০কে/৫৯x০ সিরিজ (হ্যাজওয়েল) এলজিএ ২০১১-ভি৩ ব্যবহার করে যা এলজিএ ২০১১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাজেট সেলেরন/পেন্টিয়ামের ক্ষেত্রে:
- সেলেরন জি১১০১/পেন্টিয়াম জি৬৯৫০ এলজিএ ১১৫৬ এর জন্য।
- সেলেরন জি৪xx এবং জি৫xx/পেন্টিয়াম জি৬xx এবং জি৮xx সিরিজ এলজিএ ১১৫৫ এর জন্য।
- সেলেরন জি১৬xx/পেন্টিয়াম জি২xxx এলজিএ ১১৫৫ এর জন্য।
- সেলেরন জি১৮xx/পেন্টিয়াম জি৩xxx এলজিএ ১১৫০ এর জন্য।
- সেলেরন জি৩৯xx/পেন্টিয়াম জি৪xxx এলজিএ ১১৫১ এর জন্য।
- সেলেরন জি৪৯xx/পেন্টিয়াম জি৫xxx এলজিএ ১১৫১v২ এর জন্য।
- সেলেরন জি৫৯xx/পেন্টিয়াম জি৬xxx এলজিএ ১২০০ এর জন্য।
- সেলেরন জি৬৯xx/পেন্টিয়াম জি৭xxx এলজিএ ১৭০০ এর জন্য।
প্রতিটি প্রসেসরের মডেল নম্বরের পরে একটি অক্ষর থাকে যা সিপিইউর ধরন বোঝায়। জানতে হলে নিচের তালিকা ব্যবহার করুন:
- টি (T): এই ধরনের প্রসেসরগুলো অন্যান্য মডেলের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে—সাধারণত ৩৫ থেকে ৪৫ ওয়াটের মধ্যে। কিছু 'আল্ট্রা-লো পাওয়ার' ভ্যারিয়েন্ট ৩৫ ওয়াট এবং বাকিগুলো ৪৫ ওয়াট ব্যবহার করে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ায় অন্যান্য মডেলের তুলনায় এগুলোর পারফরম্যান্স সাধারণত কিছুটা কম হয়, বিশেষ করে আই৫ ও আই৭ এর ৩৫ ওয়াট ভ্যারিয়েন্টগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষ্য করা যায়।
- এস (S): এই প্রসেসরগুলো টি সিরিজের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও সাধারণ বা 'সাফিক্স-হীন' মডেলের তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এগুলো কেবল আই৫ এবং আই৭ প্রসেসরের ক্ষেত্রে দেখা যেত এবং এগুলোর পাওয়ার রেটিং ছিল ৬৫ ওয়াট। ব্রডওয়েল আর্কিটেকচারের পর থেকে এই সিরিজটি আর তৈরি করা হয়নি।
- কোনো অক্ষর নেই: এই ধরনের প্রসেসরগুলো তাদের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ করে। মডেলভেদে এদের পাওয়ার ব্যবহার ৫৩ ওয়াট (আই৩ পর্যন্ত) থেকে শুরু করে ৮৪ ওয়াট (আই৫ ও আই৭ এর ক্ষেত্রে) পর্যন্ত হতে পারে। পুরোনো নেহালেম সিপিইউগুলো ১৩০ ওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করত। তবে স্কাইলেক এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের প্রসেসরগুলো মাত্র ৬৫ ওয়াট ব্যবহার করে, যা কার্যত আগের 'এস' সিরিজের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
- কে/এক্স (K/X): এই প্রসেসরগুলো কোর আই৩, আই৫, আই৭, আই৯ এবং এক্সট্রিম সিরিজে দেখা যায়; এমনকি পেন্টিয়াম জি৩২৫৮ মডেলেও এই সাফিক্স ছিল। এই মডেলগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলোকে স্বাভাবিক ক্লক স্পিডের চেয়ে বেশি গতিতে 'ওভারক্লক' করা যায়। এগুলো পেন্টিয়ামের ক্ষেত্রে ৫৩ ওয়াট থেকে শুরু করে এক্সট্রিম সিরিজের ক্ষেত্রে ১৬৫ ওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
- আর (R): ‘আর’ সাফিক্স যুক্ত প্রসেসরগুলো (যেমনঃ আই৫-৪৫৭০আর বা আই৭-৪৭৭০আর) সাধারণ কম্পিউটার তৈরির জন্য নয়। এগুলো মূলত ‘অল-ইন-ওয়ান’ পিসিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এগুলো প্রচলিত ‘এলজিএ ১১৫০’ সকেটের বদলে ‘বিজিএ ১১৬৪’ সকেট ব্যবহার করে। এই ভ্যারিয়েন্টগুলোতে সাধারণ সিপিইউর তুলনায় উন্নত গ্রাফিক্স (যেমনঃ আইরিস প্রো) থাকে এবং এগুলো ৬৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। সি সিরিজের মতো এগুলোকে ওভারক্লক করা যায় না।
- ই (E): এগুলো মূলত ‘এমবেডেড প্রসেসর’। সাধারণ দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজে এই ধরনের প্রসেসর সচরাচর দেখা যায় না।
- পি (P): এই প্রসেসরগুলোতে ইন্টেলের নিজস্ব কোনো ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স’ থাকে না। এটি কেবল স্যান্ডি ব্রিজ এবং আইভি ব্রিজ প্রজন্মের প্রসেসরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে ‘আই৫-৬৪০২পি’ মডেলটি এই নিয়মের একটি ব্যতিক্রম।
- সি (C): এগুলো মূলত কোর আই৫ এবং আই৭ সিরিজের প্রসেসর (যেমনঃ আই৫-৫৬৬৫সি বা আই৭-৫৭৭৫সি), যাতে ইন্টেলের তৎকালীন সেরা ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স ‘আইরিস প্রো’ যুক্ত থাকত। এই প্রসেসরগুলো ওভারক্লক করা যায় এবং এগুলোর ‘টিডিপি’ বা বিদ্যুৎ খরচ ‘এস’ সিরিজের মতোই ৬৫ ওয়াট। ‘সি’ এবং ‘আর’ সিরিজের প্রধান পার্থক্য হলো—‘সি’ সিরিজ সাধারণ ‘এলজিএ ১১৫০’ সকেটে ব্যবহার করা যায়, যা ‘আর’ সিরিজের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
এই প্রসেসরগুলোতে (এবং কিছু মোবাইল প্রসেসরে) বড় আকারের ‘এল৪ ডিআরএএম’ (L4 DRAM) ক্যাশ থাকে। যেমনঃ আই৭-৫৭৭৫সি মডেলে ১২৮ এমবি এল৪ ক্যাশ রয়েছে, যা গেমিংয়ের মতো মেমোরি-নির্ভর কাজগুলোতে বাড়তি গতি ও সুবিধা প্রদান করে।
- ওয়াই (Y): এই প্রসেসরগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং খুব কম বিদ্যুৎ খরচ করে। যেমন হ্যাজওয়েল জেনারেশনে প্রায় ১১.৫ ওয়াট এবং আইভি ব্রিজে ১৩ ওয়াট।
- ইউ (U): এগুলো সাধারণত ১৫ থেকে ২৮ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে, তবে ১৫ ওয়াটই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সারফেস প্রো-এর মতো ল্যাপটপ বা বহনযোগ্য কম্পিউটারে এই 'এসকেইউ' (SKU) ব্যবহার করা হয়।
- এম (M): এগুলো সাধারণত ৩৭ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। মূলধারার ল্যাপটপ এবং কিছু অল-ইন-ওয়ান পিসিতে এই প্রসেসরগুলো দেখা যায়। তবে আই৭ কোয়াড-কোর মডেলগুলো ভ্যারিয়েন্টভেদে ৪৭ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। এই সিপিইউগুলো মাদারবোর্ড থেকে খোলা বা পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ (যেমন জি১/পিজিএ সকেট), যদিও ডেস্কটপ প্রসেসরের মতো তা অতটা সহজ নয়। এছাড়া ল্যাপটপ প্রসেসরগুলো সাধারণত দোকানে সরাসরি কেনা যায় না বলে প্রয়োজনে এগুলো ইন্টারনেটে খুঁজতে হতে পারে।
- ই (E): এগুলো মূলত 'এমবেডেড প্রসেসর'। দৈনন্দিন ব্যবহারের পিসিতে সচরাচর এই প্রসেসরগুলো দেখা যায় না।
- কিউ (Q): এটি দিয়ে 'কোয়াড-কোর' বোঝানো হয়। সাধারণত মোবাইল কোয়াড-কোর প্রসেসর বোঝাতে এটি 'এইচ' বা 'এম'-এর সাথে যুক্ত থাকে (যেমনঃ আই৭-৪৭০০এমকিউ)। এটি কেবল আই৭ এবং স্কাইলেক জেনারেশনের পরবর্তী আই৫ প্রসেসরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- এইচ (H): এগুলো অল-ইন-ওয়ান পিসি এবং অনেক ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়। এর বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৪৭ ওয়াট (আই৩ এর ক্ষেত্রে ৩৭ ওয়াট)। এই ধরনের সিপিইউ সহজে মাদারবোর্ড থেকে আলাদা করা যায় না, কারণ এগুলো বিজিএ সকেটের মাধ্যমে সরাসরি মাদারবোর্ডে সোল্ডার করা থাকে।
- এক্স (X): এটি ইন্টেলের 'এক্সট্রিম সিরিজ', যা ওভারক্লক করা সম্ভব। এগুলো প্রায় ৫৭ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এই প্রসেসরগুলো বেশ দামি এবং কেবল আই৭ মডেলে পাওয়া যায়। তবে এর একটি ব্যতিক্রম হলো 'আই৭-৬৮২০এইচকে', যার দাম সাধারণ কোয়াড-কোর আই৭ এর কাছাকাছি।
- সি (C): এগুলো এক বিশেষ ধরনের এমবেডেড প্রসেসর।
- কোর এম (Core M): এগুলোকে হ্যাজওয়েল 'ওয়াই' সিরিজের উত্তরসূরি বলা যেতে পারে। আল্ট্রা-লাইট ট্যাবলেট এবং নোটবুকে ব্যবহারের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর 'টিডিপি' ৩.৫ থেকে ৭ ওয়াটের মধ্যে থাকে, যা ডিভাইস নির্মাতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেট করে নিতে পারেন। কম তাপ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকায় অ্যাপল ম্যাকবুকের মতো অনেক ডিভাইসে এগুলো ফ্যান ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
নোট:- এর কিছু ব্যতিক্রম আছে। এটি শুধু নেহালেম, অর্থাৎ ১ম জেনারেশন আই সিরিজ এবং তার পরবর্তী প্রসেসরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- আই৭-৩৮২০ প্রসেসরটি ওভারক্লক করা যায়, তবে এতে ৪৩x মাল্টিপ্লায়ার সীমাবদ্ধতা আছে, যা বিসিএলকে স্পিড বাড়িয়ে আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়। এই প্রসেসরটি একটি এক্সট্রিম আই৭ প্রসেসর এবং ১৩০ ওয়াট ব্যবহার করে।
- নেহালেম আল্ট্রা-লো লো-ওয়াটেজ মোবাইল অর্থাৎ ১৮ ওয়াট সিপিইউগুলো শুধু 'ইউ' নয়, 'ইউএম' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেমন স্যান্ডি ব্রিজ এবং পরবর্তী জেনারেশনে 'ইউ' ব্যবহার করা হয়।
- নেহালেম লো-ওয়াটেজ মডেল, অর্থাৎ ২৬ ওয়াট মোবাইল সিপিইউগুলো 'এলএম' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্যান্ডি ব্রিজ এবং আইভি ব্রিজে এটি নেই, এবং হ্যাজওয়েল ২৮ ওয়াট মডেলগুলো শুধু 'ইউ' হিসেবে চিহ্নিত।
- আই৭-৬৮২০এইচকে ওভারক্লক করা যায়।
এএমডি
[সম্পাদনা]
সাম্প্রতিক এএমডি রাইজেন সিপিইউগুলো এমন একটি নামকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা ইন্টেলের থেকে আলাদা হলেও কিছুটা একই ধরনের। এএমডি এবং ইন্টেল এখন উভয়ই ৩/৫/৭/৯ সিরিজের সিপিইউ শ্রেণিবিভাগ ব্যবহার করে, তবে এএমডি “i” প্রিফিক্স ব্যবহার করে না। রাইজেন প্রসেসরের শেষ তিনটি সংখ্যা যত বাড়ে, সাধারণত প্রসেসরের দামও তত বাড়ে।
জেন ৪
[সম্পাদনা]- রাইজেন ৯ ৭৯৫০এক্স৩ডি ৪.২/৫.৭ গিগাহার্টজ ১৬ কোর/৩২ থ্রেড
- রাইজেন ৯ ৭৯৫০এক্স ৪.৫/৫.৭ গিগাহার্টজ ১৬ কোর/৩২ থ্রেড
- রাইজেন ৯ ৭৯০০এক্স৩ডি ৪.৪/৫.৬ গিগাহার্টজ ১২ কোর/২৪ থ্রেড
- রাইজেন ৯ ৭৯০০এক্স ৪.৭/৫.৬ গিগাহার্টজ ১২ কোর/২৪ থ্রেড
- রাইজেন ৯ ৭৯০০ ৩.৭/৫.৪ গিগাহার্টজ ১২ কোর/২৪ থ্রেড
- রাইজেন ৭ ৭৮০০এক্স৩ডি সর্বোচ্চ ৫.০ গিগাহার্টজ ৮ কোর/১৬ থ্রেড
- রাইজেন ৭ ৭৭০০এক্স ৪.৫/৫.৪ গিগাহার্টজ ৮ কোর/১৬ থ্রেড
- রাইজেন ৭ ৭৭০০ ৩.৮/৫.৩ গিগাহার্টজ ৮ কোর/১৬ থ্রেড
- রাইজেন ৫ ৭৬০০এক্স ৪.৭/৫.৩ গিগাহার্টজ ৬ কোর/১২ থ্রেড
- রাইজেন ৫ ৭৬০০ ৩.৮/৫.১ গিগাহার্টজ ৬ কোর/১২ থ্রেড
টিডিপি (থার্মাল ডিজাইন পাওয়ার)
[সম্পাদনা]প্রসেসরের টিডিপি দেখে মূলত এই ধারণা পাওয়া যায় যে, সাধারণ কোনো ভারী কাজের সময় এটি ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এটি কিন্তু প্রসেসরের বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ সীমা নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি যদি ‘প্রাইম৯৫’-এর মতো জনপ্রিয় কোনো ‘সিপিইউ স্ট্রেসিং টুল’ বা অন্য কোনো সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন তবে অন্তত অল্প সময়ের জন্য এটি তার নির্ধারিত টিডিপি রেটিং ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই বিষয়টি মূলত কম্পিউটারের ‘কুলিং’ ব্যবস্থার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় দ্বিগুণও হতে পারে। যেমন—১৫ ওয়াট টিডিপি যুক্ত একটি ম্যাকবুক এয়ার ‘গ্রাফিক্স-হেভি ওয়ার্কলোড’ চালানোর সময় ২৯ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপের টিডিপি সাধারণত কম হয়ে থাকে, কারণ ল্যাপটপে জায়গার স্বল্পতা এবং ব্যাটারির সক্ষমতার একটি সীমাবদ্ধতা কাজ করে।
| সিপিইউ মডেল | জেনারেশন | এসডিপি/<টিডিপি (যদি থাকে) | টিডিপি | >টিডিপি (যদি থাকে) | কোরের সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কোর এম | ৫ | ৩.৫ | ৪.৫ | ৬ | ২ |
| কোর এম | ৬ | ৩.৫/৩.৮ | ৪.৫ | ৭ | ২ |
| ওয়াই সিরিজ | ৪ | ৪.৫ - ৬ | ১১.৫ | ২ | |
| ওয়াই সিরিজ | ৩ | ৭ | ১৩ | ২ | |
| ইউ সিরিজ | ৪ - ৬ | ১১.৫ | ১৫ | ২৫ | ২ |
| ইউ সিরিজ | ৩ | ১৪ | ১৭ | ২ | |
| এম সিরিজ | ২ | ১৭ | ২ | ||
| ইউ সিরিজ | ১ | ১৮ | ২ | ||
| ইউএম সিরিজ | ১ | ১৮ | ২ | ||
| ইউ সিরিজ | ৪ - ৬ | ২৩ | ২৮ | ২ | |
| এলএম সিরিজ | ১ | ২৫ | ২ | ||
| এলই সিরিজ | ২ - ৩ | ২৫ | ২ | ||
| এম সিরিজ | ২ | ২৫ | ২ | ||
| এম সিরিজ | ১ - ৩ | ৩৫ | ২ | ||
| ই সিরিজ | ১ - ৩ | ৩৫ | ২ | ||
| এমই সিরিজ | ৩ | ৩৫ | ২ | ||
| এইচ সিরিজ | ৬ | ৩৫ | ২ | ||
| এম সিরিজ | ৪ | ৩৭ | ২ | ||
| এমকিউ সিরিজ² | ৪ | ৩৭ | ৪৫ | ৪ | |
| এইচ সিরিজ | ১ | ৪৫ | ৪ | ||
| কিউএম সিরিজ² | ১ - ৩ | ৪৫ | ৪ | ||
| কিউই সিরিজ | ২ - ৩ | ৪৫ | ৪ | ||
| এইচ সিরিজ | ৪ - ৫ | ৪৭ | ২ | ||
| এমকিউ সিরিজ² | ৪ | ৪৭ | ৫৫ | ৪ | |
| ইকিউ সিরিজ | ৪ - ৫ | ৪৭ | ৪ | ||
| এইচকিউ সিরিজ | ৪ - ৬ | ৪৭ | ৫৫ | ৪ | |
| এইচকে সিরিজ | ৬ | ৪৭ | ৪ | ||
| এমএক্স সিরিজ | ১ - ৪ | ৫৫ | ৬৫ | ৪ |
| সিপিইউ মডেল | ফ্যামিলি | জেনারেশন | টিডিপি | কোর |
|---|---|---|---|---|
| টি সিরিজ | সব | ২ - ৪ , ৬ | ৩৫ | ২ - ৪ |
| <নাম নেই> | সেলেরন | ২ | ৩৫ | ১ |
| টি সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৩ - ৪ | ৪৫ | ৪ |
| <নাম নেই> | পেন্টিয়াম পর্যন্ত এবং পেন্টিয়ামসহ | ৪ | ৫৩ | ২ |
| <নাম নেই> | আই৩ | ৪ | ৫৪ | ২ |
| <নাম নেই> | আই৩ পর্যন্ত এবং আই৩সহ | ৩ | ৫৫ | ২ |
| এস সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ২ - ৪ | ৬৫ | ৪ |
| <নাম নেই> | আই৩ পর্যন্ত এবং আই৩সহ | ২ | ৬৫ | ২ |
| <নাম নেই> | আই৫ এবং আই৭ | ৬ | ৬৫ | ৪ |
| আর সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৪ - ৫ | ৬৫ | ৪ |
| সি সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৫ | ৬৫ | ৪ |
| পি সিরিজ | আই৫ | ৩ | ৬৯ | ৪ |
| <নাম নেই> | আই৫ এবং আই৭ | ৩ | ৭৭ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৩ | ৭৭ | ৪ |
| এস সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ১ | ৮২ | ৪ |
| <নাম নেই> | আই৫ এবং আই৭ | ৪ | ৮৪ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৪ | ৮৪ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৪ | ৮৮ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ৬ | ৯১ | ৪ |
| <নাম নেই> | আই৫ এবং আই৭ | ১ - ২ | ৯৫ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৫ এবং আই৭ | ২ | ৯৫ | ৪ |
| কে সিরিজ | আই৭ | ২ - ৩ | ১৩০ | ৪ - ৬ |
| এক্স সিরিজ | আই৭ | ২ - ৩ | ১৩০ | ৬ |
| কে সিরিজ | আই৭ | ৪ | ১৪০ | ৬ |
| এক্স সিরিজ | আই৭ | ৪ | ১৪০ | ৮ |
নোট
[সম্পাদনা]- 'জেনারেশন' অংশে দেওয়া সংখ্যাগুলো নিচের বিষয়গুলো বোঝায়:- ১ - নেহালেম/ওয়েস্টমিয়ার, ২ - স্যান্ডি ব্রিজ, ৩ - আইভি ব্রিজ, ৪ - হ্যাজওয়েল এবং ৫ - ব্রডওয়েল।
- 'এমএক্স' এবং 'কিউএক্স' একই জিনিস।
- এই তালিকাগুলোতে প্রি-নেহালেম, অর্থাৎ কোর ২ ডুও/কোয়াড জেনারেশন, অথবা পেন্টিয়াম ৪ (নেটবার্স্ট) আর্কিটেকচার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এগুলো দেখতে চাইলে অনুগ্রহ করে নামকরণ অংশ দেখুন।
- এই তালিকাগুলো দীর্ঘ এবং মনে রাখবেন একই সিরিজ ভিন্ন ভিন্ন জেনারেশনে এবং এমনকি ভিন্ন টিডিপিতেও আসতে পারে!
- <নাম নেই> মানে হলো মডেল নামের শেষে কোনো নির্দিষ্ট অক্ষর যুক্ত নেই। উদাহরণস্বরূপ, আই৫-৪৬৯০।
- কিছু প্রসেসর আছে যেগুলোর টিডিপি ভিন্ন, কিন্তু সেগুলো বিশেষ ধরনের হওয়ার কারণে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:-
| প্রসেসরের নাম | টিডিপি | জেনারেশন |
|---|---|---|
| সেলেরন ৮০৭ইউই | ১০ | ২ |
| আই৩ ২১১৫/৩১১৫ সি | ৩৫ | ২/৩ |
| পেন্টিয়াম এ১০১৮ | ৩৫ | ৩ |
সিপিইউ কুলিং
[সম্পাদনা]

সিপিইউয়ের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সঠিক ‘কুলিং’ বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। প্রসেসরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে এর আয়ু অনেক বেড়ে যায়, যা কখনও কখনও ১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এছাড়া সঠিক কুলিং থাকলে প্রসেসরটি ‘ইন্টেল টার্বো বুস্ট’ বা ‘এএমডি টার্বো কোর’ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের উচ্চগতি দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারে। এর বিপরীতে তাপমাত্রা বেশি হয়ে গেলে কম্পিউটার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। যেমনঃ মাঝেমধ্যেই কম্পিউটার হ্যাং হওয়া কিংবা কাজের গতি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
মাত্রাতিরিক্ত উত্তাপে প্রসেসরের চিপ গলে যেতে পারে বা পুড়ে গিয়ে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রসেসরের ওপর কোনো কুলার না লাগিয়ে কম্পিউটার কখনোই চালু করবেন না। “প্রসেসরটি ঠিক আছে কি না শুধু একবার পরীক্ষা করে দেখি”—এমন চিন্তা থেকে কুলার ছাড়া পিসি চালু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মাত্র ৫ সেকেন্ডের কম সময়েই প্রসেসরটি পুড়ে আপনার বড় অংকের টাকা লোকসান হয়ে যেতে পারে। ব্যবহারের সময় যদি আপনার কম্পিউটার হুটহাট বন্ধ হয়ে যায় তবে এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে অকার্যকর কুলিং ব্যবস্থা। বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রসেসরগুলোর তাপমাত্রা যখন ‘টি-জংশন’ (সাধারণত ১০০°C)-এ পৌঁছায় তখন সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় (যাকে থ্রটল বলা হয়)। এরপরও যদি তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তবে সুরক্ষার খাতিরে কম্পিউটারটি নিজে থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিপিইউ ঠান্ডা রাখতে ‘ফোর্সড-এয়ার কুলিং’ ব্যবহার করা হয়, তবে বিকল্প হিসেবে ‘ওয়াটার কুলিং’ ব্যবস্থাও বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ‘কনভেকশন কুলিং’ এবং এমনকি ‘অয়েল সাবমার্শন কুলিং’-এর মতো বিশেষ পদ্ধতিও বেছে নেওয়া হয়। সাধারণ ফোর্সড-এয়ার কুলিংয়ের জন্য রিটেইল সিপিইউগুলোর সাথে যে ‘হিট সিঙ্ক’ এবং ফ্যান (এইচএসএফ) দেওয়া হয় তা প্রসেসরকে এর স্বাভাবিক গতি বা ‘স্টক স্পিড’-এ ঠান্ডা রাখার জন্য যথেষ্ট। তবে যারা প্রসেসর ‘ওভারক্লক’ করেন তারা বাড়তি তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও শক্তিশালী ‘আফটারমার্কেট’ ফ্যান অথবা ওয়াটার কুলিং ব্যবহার করতে পারেন।
সিপিইউ এবং হিটসিঙ্কের মাঝে সামান্য পরিমাণে তাপ-পরিবাহী কম্পাউন্ড বা ‘থার্মাল পেস্ট’ ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রসেসরের তাপ সবচেয়ে কার্যকরভাবে হিটসিঙ্কে স্থানান্তরিত হতে পারে। বাজারে কিনতে পাওয়া অনেক হিটসিঙ্কের সাথে আগে থেকেই ‘থার্মাল প্যাড’ লাগানো থাকে। মনে রাখবেন, এই প্যাডগুলো কেবল একবারই ব্যবহার করা যায়। যদি আপনি অন্য কোনো প্রসেসর থেকে ফ্যান খুলে নতুন একটিতে লাগাতে চান কিংবা কোনো কারণে কুলারটি সরাতে হয় তবে অবশ্যই পুরোনো প্যাডটি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর সেখানে নতুন করে থার্মাল পেস্ট বা আরেকটি থার্মাল প্যাড বসাতে হবে। নিম্নমানের থার্মাল কম্পাউন্ড ব্যবহার করলে কিংবা সেটি সঠিকভাবে না লাগালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, উন্নতমানের কম্পাউন্ড এবং এর সঠিক প্রয়োগ প্রসেসরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারে। আপনি যদি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বা ‘হাই-পারফরম্যান্স’ কম্পিউটার ব্যবহার করেন অথবা আপনাকে যদি প্রায়ই হিটসিঙ্ক খুলতে ও লাগাতে হয়। তবে ভালো মানের থার্মাল পেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলো। দীর্ঘ সময়ের জন্য সেটআপটি অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে থার্মাল প্যাডই সবচেয়ে সুবিধাজনক। সিপিইউ থেকে হিটসিঙ্কে নিরবচ্ছিন্ন তাপ পরিবহন নিশ্চিত করতে এই দুটির যেকোনো একটি ব্যবহার করা অপরিহার্য। থার্মাল কম্পাউন্ড সাধারণত কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এরপর ভালো পারফরম্যান্সের জন্য এগুলো পরিবর্তন করা উচিত।
সিলিকন দিয়ে তৈরি বিদ্যুৎ-অপরিবাহী থার্মাল পেস্টগুলো সাধারণত সস্তা এবং ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে সিলভার-বেসড পেস্টগুলো আরও ভালো ফলাফল দেয় এবং কার্বন-বেসড পেস্টের পারফরম্যান্স তার চেয়েও উন্নত। সিলভার বা কার্বন-বেসড পেস্ট সঠিকভাবে লাগাতে না পারলে এগুলো বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মাদারবোর্ডের সংস্পর্শে এলে ‘ইলেকট্রিক্যাল শর্ট’ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পেস্ট পাতলা করে এবং নিয়ম অনুযায়ী লাগালে সাধারণত এই সমস্যা হয় না। তবে মনে রাখা প্রয়োজন কিছু পেস্ট অতিরিক্ত উত্তাপে গলে বা পাতলা হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত বাজারে অনেক ‘সিলভার’ থার্মাল পেস্ট পাওয়া যায় যেগুলোতে প্রকৃতপক্ষে কোনো সিলভার বা রুপা থাকে না।
আপনার কম্পিউটার যদি খুব নীরবে বা কম শব্দে চালাতে চান তবে প্রথমেই কম তাপ উৎপন্ন করে এমন অর্থাৎ ‘লো-ওয়াটেজ’ প্রসেসর বেছে নিন। এছাড়া আপনি প্রসেসরটি ‘আন্ডারক্লক’ করে নিতে পারেন; এতে পারফরম্যান্স কিছুটা কমলেও সিস্টেমটি অনেক শান্ত থাকবে এবং শব্দের মাত্রা কমবে। আরেকটি কার্যকর উপায় হলো ‘ওপেন ফিন’ নকশার বড় আকারের কপার হিটসিঙ্ক ব্যবহার করা। তবে বেশিরভাগ সাধারণ পিসি কেসে ফ্যান ছাড়া (ফ্যানলেস) পুরোপুরি নিঃশব্দ অপারেশন পাওয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে হিটসিঙ্কের ওপর সরাসরি ফ্যান না লাগিয়ে পিসি কেসে একটি বড় ফ্যান বসাতে পারেন যা হিটসিঙ্কের ওপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করবে। মনে রাখবেন, আকারে বড় কিন্তু ধীরগতির ফ্যানগুলো ছোট ও দ্রুতগতির ফ্যানের তুলনায় অনেক বেশি বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে এবং শব্দও অনেক কম করে।
কিছু লো-নয়েজ কুলিং ফ্যান মাদারবোর্ডে বসানোর জন্য বিশেষ মাউন্টিং কিট বা হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আপনার পছন্দের কুলিং সিস্টেমটি মাদারবোর্ডের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা কেনার আগেই নিশ্চিত করে নিন।
ওভারক্লকিং
[সম্পাদনা]আরও বিস্তারিত এখানে পাওয়া যাবে:- ডেস্কটপ পিসি সংযোজন পদ্ধতি/ওভারক্লকিং
ডেস্কটপ চিপ
[সম্পাদনা]অধিকাংশ ডেস্কটপ প্রসেসরে যেন ওভারক্লকিং করা না যায়, সেজন্য সেগুলো আগে থেকেই ‘লক’ করা থাকে। ইন্টেলের যেসব প্রসেসরে ‘কে’ (K) সাফিক্স থাকে, সেগুলোর মাল্টিপ্লায়ার আনলক করা থাকে যার ফলে সহজেই ওভারক্লক করা সম্ভব। সাধারণত এই ‘কে’ সিরিজের প্রসেসরগুলোর দাম নিয়মিত লকড মডেলগুলোর চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। অন্যদিকে, এএমডির বেশিরভাগ প্রসেসরই সাধারণত আনলকড থাকে। এমনকি তাদের বাজেট বা ‘লো-এন্ড’ চিপগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
একটি প্রসেসর ঠিক কতটুকু ওভারক্লক করা যাবে তা প্রতিটি প্রসেসরের ওপর আলাদাভাবে নির্ভর করে। উৎপাদনের সময় সূক্ষ্ম সব কারিগরি পার্থক্যের কারণে এমনটি হয়। স্বাভাবিক গতিতে বা ‘স্টক স্পিড’-এ এই পার্থক্যগুলো বোঝা না গেলেও যখন গতি বা বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ানো হয় তখন এগুলো ধরা পড়ে। প্রসেসরের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় “সিলিকন লটারি”। এর ফলে দেখা যায়, একই মডেলের দুটি প্রসেসরের মধ্যে একটি খুব ভালো ওভারক্লক হচ্ছে। আবার অন্যটি হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল দিচ্ছে না।
এছাড়া সিপিইউ ওভারক্লকিং কতটা স্থিতিশীল হবে তা প্রসেসরের বাইরে আরও কিছু বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে। যেমন—মাদারবোর্ড থেকে প্রসেসরে বিদ্যুৎ সরবরাহের মান কেমন এবং হিটসিঙ্কটি প্রসেসরের তাপ কত দ্রুত কমিয়ে আনতে পারছে।
মোবাইল চিপ
[সম্পাদনা]আপনি যদি আপনার ডেস্কটপ কম্পিউটারে মোবাইল প্রসেসর ব্যবহার করতে চান তবে সম্ভবত এর কম বিদ্যুৎ খরচ এবং কম তাপ উৎপাদনের সুবিধার কথা ভেবেই তা করেছেন। প্রসেসর ওভারক্লক করলে আসলে এই বিশেষ সুবিধাগুলো আর থাকে না। আর মোবাইল প্রসেসরের ক্ষেত্রে ওভারক্লকিং সুবিধা পাওয়া যায় খুব কম ক্ষেত্রেই। তবে এর কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। ইন্টেলের যেসব মোবাইল প্রসেসরে ‘এইচকে’ (HK) চিহ্ন থাকে সেগুলো আপনি চাইলে ওভারক্লক করতে পারবেন।
গোপনীয়তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ
[সম্পাদনা]আধুনিক প্রসেসরের নকশা বা ডিজাইন নিয়ে বর্তমানে গোপনীয়তা সংক্রান্ত কিছু গুরুতর এবং কৌতূহলোদ্দীপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টেল এবং এএমডি উভয় কোম্পানির প্রসেসরেই করপোরেট গ্রাহকদের জন্য এমন কিছু বিশেষ ফিচার থাকে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে খুব একটা স্পষ্ট নয়। অতীতে এই ফিচারগুলো বেশ কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন—২০০৮ সাল থেকে ইন্টেল তাদের চিপে ‘ইন্টেল ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিন’ ব্যবহার করে আসছে। একইভাবে ২০১৩ সাল থেকে এএমডি প্রসেসরে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘এএমডি প্ল্যাটফর্ম সিকিউরিটি প্রসেসর’, যা মূলত ইন্টেলের ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনের মতোই কাজ করে।
২০১০ এর দশকের শেষের দিকে ‘মেল্টডাউন’ এবং ‘স্পেক্টর’-এর মতো বেশ কিছু বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এই হার্ডওয়্যার-সংক্রান্ত দুর্বলতাগুলো ‘মাইক্রোকোড’ আপডেট বা অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়। তবে এই ধরনের ত্রুটি সংশোধনের ফলে প্রায়ই প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বা পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।
অপ্রচলিত সিপিইউ পছন্দ
[সম্পাদনা]কোনো বিশেষ কারণে আপনি হয়তো আপনার কম্পিউটারে ইন্টেল বা এএমডি ছাড়া অন্য কোনো ব্র্যান্ডের প্রসেসর ব্যবহার করতে চাইতে পারেন। তবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত বেশ অস্বাভাবিক বলেই ধরা হয়, আর এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে। এই প্রসেসরগুলো মূলত এমবেডেড সিস্টেম বা মোবাইল ডিভাইসের মতো ভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। এগুলো প্রায়ই বেশ দুর্বল ক্ষমতার হয় অথবা সস্তা ও পুরোনো প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়ে থাকে। এই চিপগুলো সাধারণত ‘এসওসি’ হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে আপনি কোন জিপিইউ, র্যাম বা অন্যান্য হার্ডওয়্যার ব্যবহার করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ করার সুযোগ খুবই সীমিত থাকে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো বিকল্পই থাকে না। এছাড়া এসব প্রসেসরে সফটওয়্যার সাপোর্টও খুব একটা পাওয়া যায় না। সাধারণত বাধ্য হয়ে লিনাক্স বা বিএসডির কোনো একটি সংস্করণ ব্যবহার করতে হয়। এরপরও প্রয়োজনীয় সাপোর্টের অভাবে আপনি বেশ ঝামেলায় পড়তে পারেন।
কোনো এক অদ্ভুদ কারণে ‘ভিআইএ’ কোম্পানি আজও কিছু লো-পাওয়ারের ‘এক্স৮৬’ প্রসেসর তৈরি করে থাকে। বর্তমানে কিছু এটিএক্স ফর্ম ফ্যাক্টরের মাদারবোর্ড পাওয়া যায় যেগুলোতে সাধারণ এক্সপ্যানশন স্লট এবং বিল্ট-ইন ‘এআরএম’ বা ‘পাওয়ারপিসি’ প্রসেসর থাকে। এগুলো মূলত বিশেষ ধরনের সার্ভার এবং ওয়ার্কস্টেশনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাজারে প্রচলিত মাপের বাইরেও কিছু ছোট ছোট বোর্ড দেখা যায় যেগুলোতে ‘এআরএম’ বা ‘রিস্ক-ভি’ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়। শৌখিন প্রযুক্তিপ্রেমী এবং ডেভেলপারদের জন্য তৈরি এই বোর্ডগুলো বেশ সস্তা। তবে এগুলোর প্রসেসিং ক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ যুক্ত করার সুবিধা বেশ সীমিত।
দাম
[সম্পাদনা]সিপিইউর দাম স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে। এমনকি একই মডেলের ক্ষেত্রেও।
নিচে সিপিইউগুলোর সাধারণ দামের স্তর দেওয়া হলো:
| স্তর | দাম |
|---|---|
| আল্ট্রা বাজেট | ৩০-৪৯ ডলার |
| এক্সট্রা বাজেট | ৫০-৬৯ ডলার |
| এন্ট্রি-লেভেল | ৭০-৯৯ ডলার |
| আপার এন্ট্রি-লেভেল | ১০০-১৪৯ ডলার |
| লোয়ার মিড-রেঞ্জ | ১৫০-১৯৯ ডলার |
| মিড-রেঞ্জ | ২০০-২৪৯ ডলার |
| আপার মিড-রেঞ্জ | ২৫০-২৯৯ ডলার |
| লোয়ার হাই-এন্ড | ৩০০-৩৪৯ ডলার |
| হাই-এন্ড | ৩৫০-৩৯৯ ডলার |
| আপার হাই-এন্ড | ৪০০-৪৯৯ ডলার |
| ফ্ল্যাগশিপ | ৫০০-৫৯৯ ডলার |
| ট্রু ফ্ল্যাগশিপ | ৬০০-৭৯৯ ডলার |
| আল্টিমেট ফ্ল্যাগশিপ | ৮০০ ডলার+ |
ইন্টেল কোর ১৩তম জেনারেশন (এলজিএ ১৭০০)
[সম্পাদনা]| সিপিইউ | কোর | থ্রেড | দাম |
|---|---|---|---|
| কোর আই৩-১৩১০০এফ (আইজিপিইউ নেই) | ৪ | ৮ | ৯০-১২০ ডলার (এন্ট্রি-লেভেল/আপার এন্ট্রি-লেভেল) |
| কোর আই৩-১৩১০০ | ৪ | ৮ | ১২০-১৫০ ডলার (আপার এন্ট্রি-লেভেল/লোয়ার মিড-রেঞ্জ) |
| কোর আই৫-১৩৪০০এফ (আইজিপিইউ নেই) | ১০ | ১৬ | ১৬০-২১০ ডলার (লোয়ার মিড-রেঞ্জ/মিড-রেঞ্জ) |
| কোর আই৫-১৩৪০০ | ১০ | ১৬ | ১৯০-২৪০ ডলার (লোয়ার মিড-রেঞ্জ/মিড-রেঞ্জ) |
| কোর আই৫-১৩৫০০ | ১৪ | ২০ | ২৩০-২৮০ ডলার (মিড-রেঞ্জ/আপার মিড-রেঞ্জ) |
| কোর আই৫-১৩৬০০ | ১৪ | ২০ | ২৪০-৩১০ ডলার (মিড-রেঞ্জ/আপার মিড-রেঞ্জ/লোয়ার হাই-এন্ড) |
| কোর আই৫-১৩৬০০কেএফ (আইজিপিইউ নেই) | ১৪ | ২০ | ২৬০-৩৩০ ডলার (আপার মিড-রেঞ্জ/লোয়ার হাই-এন্ড) |
| কোর আই৫-১৩৬০০কে | ১৪ | ২০ | ২৯০-৩৬০ ডলার (আপার মিড-রেঞ্জ/লোয়ার হাই-এন্ড/হাই-এন্ড) |
| কোর আই৭-১৩৭০০এফ (আইজিপিইউ নেই) | ১৬ | ২৪ | ৩৪০-৪২০ ডলার (লোয়ার হাই-এন্ড/হাই-এন্ড/আপার হাই-এন্ড) |
| কোর আই৭-১৩৭০০ | ১৬ | ২৪ | ৩৭০-৪৫০ ডলার (হাই-এন্ড/আপার হাই-এন্ড) |
| কোর আই৭-১৩৭০০কেএফ (আইজিপিইউ নেই) | ১৬ | ২৪ | ৩৯০-৪৮০ ডলার (হাই-এন্ড/আপার হাই-এন্ড) |
| কোর আই৭-১৩৭০০কে | ১৬ | ২৪ | ৪২০-৫১০ ডলার (আপার হাই-এন্ড/ফ্ল্যাগশিপ) |
| কোর আই৯-১৩৯০০এফ (আইজিপিইউ নেই) | ২৪ | ৩২ | ৫০০-৬০০ ডলার (ফ্ল্যাগশিপ/ট্রু ফ্ল্যাগশিপ) |
| কোর আই৯-১৩৯০০ | ২৪ | ৩২ | ৫৩০-৬৩০ ডলার (ফ্ল্যাগশিপ/ট্রু ফ্ল্যাগশিপ) |
| কোর আই৯-১৩৯০০কেএফ (আইজিপিইউ নেই) | ২৪ | ৩২ | ৫৬০-৬৮০ ডলার (ফ্ল্যাগশিপ/ট্রু ফ্ল্যাগশিপ) |
| কোর আই৯-১৩৯০০কে | ২৪ | ৩২ | ৫৯০-৭১০ ডলার (ফ্ল্যাগশিপ/ট্রু ফ্ল্যাগশিপ) |
| কোর আই৯-১৩৯০০কেএস | ২৪ | ৩২ | ৬৮০-৮৪০ ডলার (ট্রু ফ্ল্যাগশিপ/আল্টিমেট ফ্ল্যাগশিপ) |
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ ৩২ থেকে ৬৪ বিটে সুইচ
- ↑ কীভাবে সঠিক সিপিইউ কিনবেন: ২০২৩ সালের একটি নির্দেশিকা, লেখক: ম্যাট স্যাফোর্ড, প্রকাশকাল: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
- ↑ ২০২৩ সালে সিপিইউ কেনার আগে যা যা বিবেচনা করবেন, লেখক: মনিকা জে. হোয়াইট, প্রকাশকাল: ৯ জুলাই, ২০২৩
- ↑ বেস্ট সিপিইউ: কীভাবে একটি সিপিইউ নির্বাচন করবেন (ক্রয় নির্দেশিকা)
- ↑ ইউটিউব অনুসন্ধান: সিপিইউ ২০২৩
- ↑ ইন্টেল : গেমিং সিপিইউ কীভাবে বেছে নেবেন?