জাপানের ইতিহাস: পুরাণ থেকে জাতিসত্ত্বা/সামরিকতন্ত্রের উত্থান
জাপানে সামরিকতন্ত্রের উত্থান ভবিষ্যতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এর পরিণতিতে জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
কারণসমূহ
[সম্পাদনা]মিলিটারবাদের মূল শিকড় কিছু কারণে নিহিত ছিল। রুশ-জাপান যুদ্ধ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাপানের তুলনামূলকভাবে সামান্য অর্জন, ঐ সময়কার যুদ্ধগুলোতে জাপানের সহজ বিজয় এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশ—এইসব কারণে মিলিটারবাদের উত্থান ঘটে। এছাড়া, মেইজি পুনর্গঠনের সময় সামরিক মনোভাবসম্পন্ন সামুরাই শ্রেণির দ্বারা একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শোগুন সম্রাটকে শাসনক্ষমতা হস্তান্তর করে, যার ফলে সামরিক ধ্যানধারণার প্রভাব আরও গভীর হয়।
মহামন্দা
[সম্পাদনা]বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা জাপানকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। জাপান বিলাসবহুল পণ্য যেমন রেশম আমেরিকার মতো দেশে রপ্তানি করত, কিন্তু মন্দার কারণে এসব দেশ তা কিনতে পারছিল না। এতে জাপানে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতা জন্ম নেয় এবং তারা মনে করে নতুন ভূখণ্ড দখল করে প্রাকৃতিক সম্পদ লাভ করা উচিত। অতিরিক্ত জনসংখ্যাও এই চেতনায় ইন্ধন জোগায়।
মানচুরিয়ান ঘটনা
[সম্পাদনা]এই ঘটনার মাধ্যমে জাপান মানচুরিয়া আক্রমণ করে। তারা চীনের শেষ সম্রাট ‘হেনরি’ পুই-ইকে পুতুল শাসক হিসেবে বসায়। লিটন কমিশন এটিকে অবৈধ ঘোষণা করলে জাপান প্রতিবাদস্বরূপ জাতিসংঘ ত্যাগ করে। জাপানকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি, ফলে জার্মানি ও ইতালি এটিকে অনুকরণ করে সম্প্রসারণ শুরু করে। এই ঘটনার ফলেই দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ শুরু হয়।
ঘটনার সূচনা
[সম্পাদনা]মুকডেনের কাছে দক্ষিণ মানচুরিয়ান রেলপথের একটি অংশ জাপানি সেনারা ধ্বংস করে এবং এই দোষ চীনের উপর চাপায়। তারা মুকডেন দখল করে এবং পরে পুরো মানচুরিয়াও দখল করে নেয়।
দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৯৩৭ সালে জাপান ‘মার্কো পোলো ব্রিজ ইনসিডেন্ট’-এর মাধ্যমে বেইজিং আক্রমণ করে। যদিও মুকডেন ঘটনার পর থেকেই উভয় দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ চলছিল, ১৯৩৭ সালকে এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ধরা হয়। পরবর্তীতে এই যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে (১৯৪১ সালে)।
মুকদেন ঘটনা
[সম্পাদনা]দক্ষিণ মাঞ্চুরিয়ান রেলপথে অবস্থানকারী জাপানি সৈন্যরা রেলপথের একটি অংশ ধ্বংস করে দেয়। তারা দাবি করে যে এটি চীনা সৈন্যদের কাজ। এরপর জাপানিরা মুকদেন দখল করে, এবং পরে পুরো মাঞ্চুরিয়া অঞ্চলই দখল করে নেয়। পরবর্তীতে জাপানিরা মাঞ্চুরিয়ায় একটি পুতুল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে যার নাম দেয় আমিল (AMIL)।
মার্কো পোলো ব্রিজ ইনসিডেন্ট
[সম্পাদনা]সোভিয়েত-জাপান সীমান্ত সংঘর্ষ
[সম্পাদনা]চীন-মঙ্গোলিয়া সীমান্তের খালখিন গোল নদীর কাছে একাধিক লড়াই হয়, যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পূর্ণ জয় লাভ করে। সোভিয়েতদের হাতে পরাজয়ের ফলে জাপানে এমন ধারণা গড়ে ওঠে যে, জার্মানি ও জাপান সোভিয়েত ভূখণ্ড দিয়ে যুক্ত হতে পারবে না।