বিষয়বস্তুতে চলুন

জাপানের ইতিহাস: পুরাণ থেকে জাতিসত্ত্বা/মুরোমাচি যুগ

উইকিবই থেকে

এখন পর্যন্ত আমরা দেখেছি এই সময়কার যুদ্ধগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল। তবে এখন আমাদের সাধারণভাবে মুরোমাচি যুগটির দিকে নজর দেওয়া উচিত। মুরোমাচি যুগ (মুরোমাচি জিদাই) যা আশিকাগা যুগ নামেও পরিচিত জাপানের ইতিহাসে ১৩৩৬ সাল থেকে ১৫৭৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সময়। এই যুগ আশিকাগা শোগুনতন্ত্রের শাসনের সূচনা নির্দেশ করে। ১৩৩৮ সালে প্রথম মুরোমাচি শোগুন আশিকাগা তাকাউজি এই শাসন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। এর দুই বছর আগে সম্রাটের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষণস্থায়ী কেম্মু পুনরুদ্ধার (১৩৩৩–১৩৩৬) শেষ হয়ে যায়। এই যুগের সমাপ্তি ঘটে ১৫৭৩ সালে যখন শেষ এবং ১৫তম শোগুন আশিকাগা ইয়োশিয়াকি রাজধানী কিয়োতো থেকে ওদা নোবুনাগার হাতে বিতাড়িত হন। মুরোমাচি যুগের প্রাথমিক বছরগুলো (১৩৩৬ থেকে ১৩৯২) 'নানবোকু-চো' বা উত্তর ও দক্ষিণ দরবারের যুগ নামে পরিচিত। এই সময় সম্রাট গো-দাইগোর অনুসারীরা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। এই গো-দাইগোই কেম্মু পুনরুদ্ধারের পেছনে ছিলেন। ১৪৬৫ সাল থেকে মুরোমাচি যুগের শেষ পর্যন্ত সময়টিকে 'সেনগোকু যুগ' বা যুদ্ধরত রাজ্যগুলোর যুগও বলা হয়।

আশিকাগা বাকুফু

[সম্পাদনা]
আশিকাগা তাকাউজি

সম্রাট গো-দাইগোর কেম্মু পুনরুদ্ধার (গত অধ্যায় দেখুন) বিভিন্ন কারণে সামুরাই শ্রেণির মনে হতাশা সৃষ্টি করেছিল। আশিকাগা তাকাউজি সামুরাইদের দৃঢ় সমর্থন পান এবং গো-দাইগোকে সিংহাসনচ্যুত করেন। ১৩৩৮ সালে তাকাউজি শোগুন হিসেবে ঘোষণা পান এবং কিয়োতোতে তার সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। তবে গো-দাইগো কারাবন্দি অবস্থা থেকে পালিয়ে যান এবং নারায়ে তার রাজনৈতিক শক্তি পুনরুদ্ধার করেন। এরপর আশিকাগা শাসনের সময়কাল (১৩৩৬–১৫৭৩) 'মুরোমাচি' নামে পরিচিত হয়। নামটি আসে কিয়োতো শহরের সেই অঞ্চল থেকে যেখানে তৃতীয় শোগুন আশিকাগা ইয়োশিমিৎসু ১৩৭৮ সালে বাকুফুর সদর দপ্তর স্থাপন করেছিলেন। আশিকাগা বাকুফু ও কামাকুরা বাকুফুর মধ্যে পার্থক্য ছিল এই যে কামাকুরা শাসনব্যবস্থা কিয়োতোর রাজদরবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতো। কিন্তু আশিকাগা শাসন ব্যবস্থা রাজদরবারের অবশিষ্ট কাঠামো পুরোপুরি দখল করে নেয়। তবুও, আশিকাগা বাকুফু কামাকুরা বাকুফুর মতো শক্তিশালী ছিল না। তারা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ নিয়েই ব্যস্ত থাকত। আশিকাগা ইয়োশিমিৎসুর শাসনামলে (তৃতীয় শোগুন হিসেবে ১৩৬৮–১৩৯৪ এবং চ্যান্সেলর হিসেবে ১৩৯৪–১৪০৮) কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

ইয়োশিমিৎসু কামাকুরা যুগে সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন কনস্টেবলদের শক্তিশালী আঞ্চলিক শাসকে পরিণত হতে দেন। এদেরই পরবর্তীতে 'দাইমিও' বলা হতো। সময় গড়াতে গড়াতে শোগুন ও দাইমিওদের মধ্যে একধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য গড়ে ওঠে। সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটি দাইমিও পরিবার পর্যায়ক্রমে কিয়োতোর শোগুনের উপ-প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। ইয়োশিমিৎসু ১৩৯২ সালে উত্তর ও দক্ষিণ দরবার পুনরায় একত্রিত করতে সক্ষম হন। যদিও তিনি দুইটি রাজবংশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এরপর থেকে কেবল উত্তর দরবারই সিংহাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইয়োশিমিৎসুর পর আশিকাগা বংশের শোগুনরা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকেন। তাদের ক্ষমতা কমতে থাকে এবং দাইমিও ও অন্যান্য আঞ্চলিক নেতারা ক্ষমতা দখল করতে থাকেন। সম্রাট নির্বাচনে শোগুনদের প্রভাব কমতে থাকে এবং দাইমিওরা নিজেদের প্রার্থীকে সমর্থন করতে থাকেন। আশিকাগা বংশের মধ্যেই পরে উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত ওনিন যুদ্ধের (১৪৬৭–১৪৭৭) দিকে গড়ায়। এই যুদ্ধে কিয়োতোর ব্যাপক ধ্বংস সাধিত হয় এবং বাকুফুর জাতীয় কর্তৃত্ব কার্যত শেষ হয়ে যায়। এর ফলে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয় তা এক শতাব্দীব্যাপী বিশৃঙ্খলার যুগের সূচনা করে (দেখুন: প্রাদেশিক যুদ্ধ ও বিদেশি সংযোগ)।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন

[সম্পাদনা]

মুরোমাচি যুগে (১৩৬৮–১৬৪৪) চীনের মিং রাজবংশের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক পুনরায় শুরু হয়। চীনের উপকূলবর্তী এলাকায় জাপানি জলদস্যুদের দমন করতে চীনারা জাপানের সাহায্য চাইলে এই যোগাযোগ শুরু হয়। এই সময়কার ও অঞ্চলের জাপানি জলদস্যুদের চীনারা "ওকোউ" (জাপানিতে ওয়াকও) বলে ডাকত। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে এবং ওকোউ জলদস্যুদের দমন করতে চেয়ে ইয়োশিমিৎসু চীনের সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলেন যা পরবর্তী প্রায় অর্ধশতক ধরে চলতে থাকে। ১৪০১ সালে তিনি শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রথা পুনরায় শুরু করেন এবং চীনের সম্রাটকে লেখা এক চিঠিতে নিজেকে "আপনার প্রজাপতি, জাপানের রাজা" বলে উল্লেখ করেন। জাপানি কাঠ, গন্ধক, তামার আকরিক, তলোয়ার এবং ভাঁজ করা পাখা বিনিময় হতো চীনা রেশম, চীনামাটি, বই এবং মুদ্রার সঙ্গে। চীনারা এটিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখলেও জাপানিরা এটিকে লাভজনক বাণিজ্য হিসেবে দেখত। আশিকাগা বাকুফুর সময় কিয়োতোতে বাকুফুর সদর দপ্তর থেকে একটি নতুন জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে ওঠে যার নাম ছিল মুরোমাচি সংস্কৃতি। এটি সমাজের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ধর্মীয় নয় শিল্পকলার দিক দিয়েও, বিশেষ করে চীনের সং (৯৬০–১২৭৯) ইউয়ান ও মিং রাজবংশের চিত্রকলার প্রভাবে, জেন বৌদ্ধ ধর্মের বড় ভূমিকা ছিল। সম্রাটীয় দরবার ও বাকুফুর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সম্রাটীয় পরিবার, দরবারিকর্মী, দাইম্যো, সামুরাই ও জেন পুরোহিতদের মধ্যে মেলামেশা বৃদ্ধি পায়। এই সময় স্থাপত্য, সাহিত্য, নো নাটক, কৌতুক, কবিতা, চা অনুষ্ঠান, উদ্যান পরিকল্পনা এবং ফুল সাজানো সব শিল্পই বিকাশ লাভ করে।

শিন্তো ধর্ম

[সম্পাদনা]

এই সময় শিন্তো ধর্মের প্রতিও নতুন আগ্রহ দেখা দেয়। আগে বহু শতাব্দী ধরে বৌদ্ধ ধর্মের প্রাধান্যের সময় শিন্তো ধর্ম নীরবে সহাবস্থান করে আসছিল। শিন্তো ধর্মের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ না থাকায় এবং প্রার্থনার সংখ্যা কম হওয়ায় তারা নারা যুগে শুরু হওয়া মিলিত ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে শিংগন বৌদ্ধ আচার গ্রহণ করে। অষ্টম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যে শিন্তো ধর্ম প্রায় পুরোপুরি বৌদ্ধ ধর্মে মিশে যায় এবং এর নাম হয় "র্যোবু শিন্তো" (দ্বৈত শিন্তো)। তবে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে মঙ্গোল আক্রমণ জাপানিদের মধ্যে একটি জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলে। তারা বিশ্বাস করে আত্মত্যাগী ‘কামিকাজে’ ঝড় শত্রুদের পরাজয়ে সহায়ক হয়েছিল। মাত্র পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই (১৩৩৯–৪৩) দক্ষিণ দরবারের প্রধান সেনাপতি কিতাবাতাকে চিকাফুসা (১২৯৩–১৩৫৪) লিখেন জিন্নো শোতোকি। এই ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয় সম্রাজ্ঞী আমাতেরাসু থেকে বর্তমান সম্রাট পর্যন্ত দেবীয় বংশপরম্পরা বজায় রাখা জাপানের এক বিশেষ জাতীয় শাসনব্যবস্থা (কোকুতাই) গঠনের শর্ত। সম্রাটকে দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি এই গ্রন্থে শিন্তো দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এতে সব জাপানিকেই দেবতুল্য হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং জাপানের আত্মিক শ্রেষ্ঠত্বকে চীন ও ভারতের উপরে স্থান দেওয়া হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে দ্বৈত ধর্মীয় অনুশীলনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে শিন্তো ধর্ম আবার প্রধান বিশ্বাসব্যবস্থায় পরিণত হয়। এটি নিজস্ব দার্শনিক চিন্তা ও ধর্মগ্রন্থ (কনফুসীয় ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের উপর ভিত্তি করে) তৈরি করে এবং এক শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী শক্তিতে রূপ নেয়।

প্রাদেশিক যুদ্ধ ও বিদেশি যোগাযোগ

[সম্পাদনা]

ওনিন যুদ্ধ (১৪৬৭–১৪৭৭) ভয়াবহ রাজনৈতিক বিভাজন ঘটায় এবং বহু জমিদারি ধ্বংস হয়ে যায়। জমি ও ক্ষমতার জন্য বুশি প্রধানদের মধ্যে এক দীর্ঘ লড়াই শুরু হয়, যা ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে। কৃষকরা তাদের জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং সামুরাইরা তাদের ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে ওঠে, কারণ তখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছিল। সম্রাটীয় পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং বাকুফু কিয়োতোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ওনিন যুদ্ধের পর নতুন যে প্রাদেশিক রাজ্যগুলো গড়ে ওঠে সেগুলো ছোট এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। অনেক নতুন ক্ষুদ্র দাইম্যো জন্ম নেয় সেই সামুরাইদের মধ্য থেকে যারা বড় বড় প্রভুদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। সীমান্ত প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা হয় এবং ভালোভাবে সুরক্ষিত দুর্গনগরী নির্মাণ করা হয় নতুন রাজ্যগুলোর সুরক্ষার জন্য। সেখানে জমি জরিপ, রাস্তা নির্মাণ ও খনির কাজ শুরু হয়। নতুন গৃহআইন তৈরি হয় প্রশাসনের জন্য, যেখানে কর্তব্য ও আচরণবিধি গুরুত্ব পায়। যুদ্ধে সফলতা, জমিদারি পরিচালনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভয়ংকর জোট ঠেকাতে বিয়ে-সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম চালু হয়। অভিজাত সমাজ সম্পূর্ণরূপে সামরিক রূপ ধারণ করে। সমাজের বাকি অংশকে অধীনতার একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শোয়েন (সামন্তীয় জমিদারি) ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং দরবারি অভিজাত ও অনুপস্থিত জমিদারদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়। নতুন দাইম্যোরা সরাসরি জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং কৃষকদের স্থায়ী দাসত্বে রেখে তাদের সুরক্ষা দেয়।

রাজ্যগুলোর মধ্যে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব

[সম্পাদনা]

এই সময়কালের বেশিরভাগ যুদ্ধই ছিল ছোট এবং স্থানীয়। তবে যুদ্ধগুলো সমগ্র জাপানজুড়েই ঘটেছিল। ১৫০০ সালের মধ্যে পুরো দেশ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘনঘন যুদ্ধ স্থানীয় অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত না করে বরং সেনাবাহিনীর চলাচলের কারণে পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়। এর ফলে শুল্ক ও টোলের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ে। এইসব ফি এড়াতে বণিকেরা বাণিজ্য স্থানান্তর করে এমন কেন্দ্রীয় অঞ্চলে যেটা কোনো দাইম্যো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। বাণিজ্য আরও সরিয়ে নেওয়া হয় অভ্যন্তরীণ সাগরের দিকে। এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক সফলতা রক্ষার জন্য গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সংঘ।

পশ্চিমা প্রভাব

[সম্পাদনা]

মুরোমাচি সময়কালের শেষ দিকে প্রথম ইউরোপীয়রা জাপানে আসে। ১৫৪৩ সালে পর্তুগিজরা দক্ষিণ কিউশুতে এসে নামে। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তারা নিয়মিতভাবে বন্দরঘাটে আসা শুরু করে। এর মাধ্যমে শুরু হয় এক শতাব্দীব্যাপী নানবান বাণিজ্যকাল। ১৫৮৭ সালে স্প্যানিয়ার্ডরা আসে এরপর ১৬০৯ সালে ডাচরা। জাপানিরা ইউরোপীয় সভ্যতা নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা শুরু করে। এর ফলে অর্থনীতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়, তবে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জও দেখা দেয়। ইউরোপীয় আগ্নেয়াস্ত্র, কাপড়, কাঁচ, ঘড়ি, তামাক এবং অন্যান্য পশ্চিমা জিনিসের বিনিময়ে জাপানি স্বর্ণ ও রূপা লেনদেন হয়। এই বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ সঞ্চিত হয়। বিশেষ করে কিউশু অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত ছোট দাইম্যোরা এতে অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আগ্নেয়াস্ত্র যেমন মস্কেট ও কামান এবং পদাতিক সৈন্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাদেশিক যুদ্ধগুলো আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

মুরোমাচি সময়কালে খ্রিস্টধর্ম

[সম্পাদনা]

জেসুইটদের প্রচেষ্টায় খ্রিস্টধর্ম জাপানে প্রভাব ফেলেছিল। এদের মধ্যে প্রথমে নেতৃত্ব দেন নবেরের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার (১৫০৬–১৫৫২)। তিনি ১৫৪৯ সালে দক্ষিণ কিউশুর কাগোশিমায় আসেন। ভাল বাণিজ্যিক সুবিধা চাওয়া দাইম্যো এবং ব্যবসায়ী, এমনকি কৃষকরাও খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন। ১৫৬০ সালের মধ্যে কিয়োতো হয়ে ওঠে জাপানে মিশনারিদের আরেকটি বড় কেন্দ্র। ১৫৬৮ সালে উত্তর-পশ্চিম কিউশুর নাগাসাকি বন্দরের প্রতিষ্ঠা করেন এক খ্রিস্টান দাইম্যো। ১৫৭৯ সালে এটি জেসুইটদের প্রশাসনে হস্তান্তর করা হয়। ১৫৮২ সালের মধ্যে প্রায় ১,৫০,০০০ মানুষ খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয় (দেশের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ)। তখন জাপানে ছিল প্রায় ২০০টি গির্জা।

ঘটনাবলি

[সম্পাদনা]
  • ১৩৩৬: আশিকাগা তাকাউজি কিয়োতো দখল করে নেন এবং সম্রাট গো-দাইগোকে দক্ষিণের দরবারে (কিয়োতোর দক্ষিণে ইয়োশিনো) যেতে বাধ্য করেন
  • ১৩৩৮: আশিকাগা তাকাউজি নিজেকে শোগুন ঘোষণা করেন, রাজধানী স্থানান্তর করেন কিয়োতোর মুরোমাচি জেলায় এবং উত্তর দরবারকে সমর্থন দেন
  • ১৩৯২: দক্ষিণ দরবার শোগুন আশিকাগা ইয়োশিমিতসুর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং জাপান আবার একত্রিত হয়
  • ১৩৯৭: আশিকাগা ইয়োশিমিতসু কিনকাকু-জি নির্মাণ করেন
  • ১৪৫০: হোসোকাওয়া কাটসুমোতো রিওআন-জি নির্মাণ করেন
  • ১৪৬৭: ওনিন যুদ্ধ শুরু হয় বিভিন্ন সামন্ত প্রভুদের মধ্যে
  • ১৪৮৯: আশিকাগা ইয়োশিমাসা গিনকাকু-জি নির্মাণ করেন
  • ১৫৪২: পর্তুগিজ জাহাজডুবির মাধ্যমে অগ্নেয়াস্ত্র জাপানে প্রবেশ করে
  • ১৫৪৬: হোজো উজিয়াসু, যিনি কাওাগোয়ের যুদ্ধে বিজয়ী হন, কান্টো অঞ্চলের শাসক হন
  • ১৫৪৯: ক্যাথলিক মিশনারি ফ্রান্সিস জেভিয়ার জাপানে আসেন
  • ১৫৫৫: মোরি মোটোনারি, যিনি মিয়াজিমা যুদ্ধে জয়লাভ করেন, চুগোকু অঞ্চলের শাসক হন
  • ১৫৬০: ওকেহাজামা যুদ্ধ
  • ১৫৬৮: দাইম্যো ওডা নোবুনাগা কিয়োতোর দখল নেন এবং গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটান
  • ১৫৭০: এডোতে আর্চবিশপের কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম জাপানি জেসুইট যাজক নিযুক্ত হন
  • ১৫৭০: আনেগাওয়া যুদ্ধ
  • ১৫৭৩: দাইম্যো ওডা নোবুনাগা মুরোমাচি বাকুফুকে উৎখাত করেন এবং সমগ্র জাপানে তার নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেন
  • ১৫৭৩: মিকাতাগাহারা যুদ্ধ
  • ১৫৭৫: নাগাশিনো যুদ্ধ


জাপানের ইতিহাস

ভূমিকা
Prehistory through the Jomon Period – The Yayoi Period – The Kofun or Yamato Period – The Asuka Period – The Nara Period – The Spread of Buddhism in Japan – The Early Heian Period – The Middle Heian Period – The Late Heian Period – The Kamakura Period – The Kemmu Restoration – The Nanboku-chō Period – The Muromachi Period (Ashikaga) – The Warring States Period – The Azuchi–Momoyama Period – The Edo Period – The Meiji Restoration – The Meiji Period – The Taisho Period – The Rise of Militarism – World War II – The American Occupation of Japan – Post-War Japan – Japan Today
আরও পড়ুন