বিষয়বস্তুতে চলুন

জাপানের ইতিহাস: পুরাণ থেকে জাতিসত্ত্বা/আসুকা যুগ

উইকিবই থেকে
হোরিউ-জির প্যাগোডা

আসুকা 飛鳥 হলো নারা সমভূমির দক্ষিণ প্রান্তের একটি এলাকা, যেখানে জাপানে আদিম গোত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থার চেয়ে বেশি উন্নত শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। এই সময়ে সেখানে এখনকার মতো কোনও শহর ছিল না। তবে রাজপ্রাসাদ এবং কিছু বৌদ্ধ মন্দির গড়ে উঠতে থাকে। কেইতাই সম্রাট আসুকার আশেপাশে একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। তার পরবর্তী ১৫ জন উত্তরসূরীর মধ্যে ৯ জনেরই প্রাসাদ ছিল এই এলাকায়। নারা শহর তৈরির আগের সময়কালটিকে সাধারণভাবে "আসুকা যুগ" বলা হয়। যদিও নারা ছিল এই সমভূমির প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে। আসুকা যুগ ছিল একটি পরিবর্তনকালীন সময়। সেসময় শাসন চলত সম্রাটের প্রাসাদ থেকে। প্রায় প্রতিটি সম্রাট তার নিজস্ব নতুন প্রাসাদ তৈরি করতেন। দীর্ঘ শাসনকালে প্রাসাদ একাধিকবার স্থানান্তরিত হত। এ থেকেই বোঝা যায়, সরকারের আকার ছিল ছোট ও সরল—এমনকি দলিল-দস্তাবেজের সংরক্ষণাগারসহ তা সহজে স্থানান্তরযোগ্য ছিল। ৬৪০ সালের দিকে প্রশাসন কিছুটা ভারী হতে শুরু করলে আগের মতো সহজে স্থানান্তরযোগ্য ছিল না। পুরোপুরি স্থায়ী রাজধানী এবং প্রাসাদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আসুকা যুগের একেবারে শেষ দিকে। তবে পরবর্তী ১০০ বছরে রাজধানী আরও তিনবার সরানো হয়। আরও কয়েকটি স্থানান্তরের প্রস্তাবও উঠেছিল।

আসুকা যুগ

[সম্পাদনা]

আসুকা যুগকে প্রধানত দুইটি পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্বে সোগা বংশের চারজন পরপর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রাজদরবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন: সোগা নো ইনামে 蘇我の稲目, সোগা নো উমাকো 蘇我の馬子, সোগা নো এমিশি 蘇我の蝦夷 এবং সোগা নো ইরুকা 蘇我の入鹿। এই পর্বটি ৫৭২ থেকে ৬৪৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সোগা বংশের সহিংস পতনের পর। এই সময় রাজনীতির প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন তেন্‌চি 天智 (বা তেন্‌জি) তেন্নো, তাঁর ভাই তেম্মু 天武 তেন্নো এবং তেম্মুর বিধবা স্ত্রী জিতো 持統 তেন্নো; এই পর্বটি ৬৪৫ থেকে ৬৯২ সাল পর্যন্ত চলে। জিতো যখন তার ছেলে মোম্মু (文武) সম্রাটকে সিংহাসন হস্তান্তর করেন, তখন নিহোন শোকি নামক ঐতিহাসিক গ্রন্থটির বিবরণ শেষ হয়। কোজিকি গ্রন্থটি ৬২৮ সালে সম্রাজ্ঞী সুইকোর (搉古) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। প্রথম ধাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলেন রাজপুত্র উমায়াদো (廐戸)। তিনি "শোতোকু তাইশি" (聖徳太子) নামেও পরিচিত ছিলেন। তাকে "পবিত্র রাজপুত্র" বা "জ্ঞানী রাজপুত্র" বলা হত। তিনি সম্ভবত আসুকা যুগের একমাত্র ব্যক্তি যাঁর নাম আজও প্রতিটি জাপানির কাছে পরিচিত। নিহোন শোকি গ্রন্থের লেখকরা তাঁকে আধুনিক জাপানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আজও তিনি জাপানি সংস্কৃতিতে সম্মানিত অবস্থানে আছেন, ঠিক যেমনভাবে আমেরিকায় জর্জ ওয়াশিংটন বা ইংল্যান্ডে মহামতি আলফ্রেড সম্মান পান। শোতোকু তাইশির ছবিও জাপানি মুদ্রায় ব্যবহৃত হয়েছে।

আসুকা যুগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই সময়ে জাপানে প্রচলিত আদি ধর্মের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মের প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে আদি ধর্মটি "শিন্তো" নামে পরিচিতি লাভ করে এবং এটি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিছু জাপানি একচেটিয়াভাবে একটা ধর্মকে সমর্থন করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উভয় ধর্মকে শ্রদ্ধা করত এবং জীবনের অংশ হিসেবে দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করার উপায় বের করত। সহজভাবে বলা যায়, শিন্‌তো বিয়ের ধর্ম হয়ে ওঠে, আর বৌদ্ধ ধর্ম শেষকৃত্যের ধর্ম।

জাপানে বৌদ্ধ ধর্ম

[সম্পাদনা]

জাপানে বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা ঘটে ৫৩৮ সালে। এটি আসুকা যুগের শুরুর তারিখের আগের ঘটনা। ওই বছর পেকচে'র রাজা সং তাঁর রাজধানী পাহাড়ের নিরাপদ কিন্তু দূরবর্তী অঞ্চল থেকে একটি প্রধান কৃষিভিত্তিক এলাকায় স্থানান্তর করেন। একইসঙ্গে তিনি পেকচের নাম পরিবর্তন করে "দক্ষিণ পুইয়ো" রাখেন, যদিও জাপানি ও চীনারা (এবং আধুনিক ইতিহাসবিদগণ) এটি উপেক্ষা করেন। তাঁর নতুন রাজধানীর স্থানটি আধুনিক দক্ষিণ কোরিয়ার পুইয়ো শহর (যেটিকে সাম্প্রতিক রোমানীকরণ সংস্কারে দক্ষিণ কোরিয়াররা বিভ্রান্তিকরভাবে “বুইয়ো” লিখলেও উচ্চারণ “পুইয়ো”)। এই নতুন রাজধানীতে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্কার শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল একটি কাঠামোবদ্ধ শাসনব্যবস্থা গঠন যা আংশিকভাবে চীনের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। যদিও তিনি সমসাময়িক কোগুরিও ও সিল্লাতে চলমান সংস্কার দ্বারা বেশি প্রভাবিত ছিলেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং জাপানের রাজদরবারে দূত পাঠিয়ে বৌদ্ধ প্রতিমা ও ধর্মগ্রন্থ উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে এই ধর্ম জাদুকরীভাবে জাতিকে বিপদ থেকে রক্ষা করবে। তবে ওই সময় পেকচে রাজ্যের রাজধানীর বাইরে বৌদ্ধ ধর্মের তেমন কোনো প্রভাব পড়েছিল, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। জাপানে বৌদ্ধ ধর্ম সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ঘটনার প্রায় ২০০ বছর পরে, এক বিখ্যাত রাস্তাঘাটের উপদেশদাতা ভিক্ষুর কার্যক্রমের মাধ্যমে।

যেহেতু জাপানে বৌদ্ধ ধর্ম গৃহীত হয়েছিল। তাই ৫৩৮ সালের ঘটনা এবং তার পরিণতি অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নিহন শোকির পাশাপাশি প্রাচীন বৌদ্ধ উৎস থেকে অতিরিক্ত তথ্যও পাওয়া যায়। সংক্ষেপে, সোগা নো ইনামে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের পক্ষে মত দেন এবং মনোনোবে 物部 বংশ এটি গ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান নেন। কারণ এটি স্থানীয় দেবতাদের অবমাননা হিসেবে দেখা হয়। কিম্মেই তেন্নো ইনামেকে তাঁর বাড়িতে একটি ছোট বৌদ্ধ উপাসনালয় নির্মাণের অনুমতি দেন এবং গোপনে উপাসনার সুযোগ দেন। ইনামের এক কন্যা ভিক্ষুণী হন। তবে, ৫৭১ সালে কিম্মেইর মৃত্যু হলে মনোনোবে নতুন শাসক বিদাৎসুর কাছ থেকে এই উপাসনালয় ধ্বংস ও ভিক্ষুণীদের গ্রেপ্তারের অনুমতি নেন। নিহন শোকিতে এই ঘটনার বিবরণ অবিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়। সেখানে বিদাৎসু তেন্নো ও তাঁর উত্তরসূরি ইয়োমেই তেন্নোর মৃত্যুশয্যায় বৌদ্ধ ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এটি ৮ম শতকের বৌদ্ধপন্থী মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁদের আরও শ্রদ্ধাযোগ্য করে তোলার চেষ্টা বলে মনে করা হয়। ৫৮৭ সালে সোগা ও মনোনোবে বংশের মধ্যে একটি যুদ্ধ হয়। এটি ইয়োমেইর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের ফলে ঘটে। এই যুদ্ধে সোগা বিজয়ী হয় এবং তখনই বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠা প্রকৃত অর্থে শুরু হয়। এটি ছিল সোগা বংশের প্রাধান্যের শুরু।

প্রথমে এটা বোঝা কঠিন কেন জাপান বা কোরিয়ার যেকোনো রাজ্য দীর্ঘকাল ধরে আত্মস্থ না করেও বৌদ্ধ ধর্মকে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ধর্মের চেয়ে প্রাধান্য দেবে। যথেষ্ট প্রমাণ আছে যে, জাপানে কোরীয় অভিবাসীদের মধ্যে কিছু বৌদ্ধ ছিল। তবে জাপানে এবং কোরিয়ার অন্যান্য রাজ্যেও বৌদ্ধ ধর্ম গৃহীত হওয়া ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত, জনতার ইচ্ছা নয়। জাপানি সম্রাটকে বৌদ্ধ ধর্ম উপস্থাপন করার সময় পেকচের রাজা সং বলেন, এই ধর্ম একটি জাদুকরী শক্তি যা জাতিকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবে। প্রাথমিক সময়ে জাপান ও কোরিয়াতে বৌদ্ধ ধর্মে আত্মার মুক্তি বা আত্মদর্শনের মতো ব্যক্তিগত বার্তার চেয়ে এর মূর্তি ও আচার-অনুষ্ঠানের জাদুকরী শক্তির ওপরেই জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে অসুস্থতার সময় মানুষ বৌদ্ধ প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভর করত।

শুরুতেই বৌদ্ধ ধর্মের স্বাগত জানানোর বড় কারণ ছিল কোরিয়া ও বিশেষ করে চীন থেকে আগত বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। তাঁরা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং বাস্তব দক্ষতায় পারদর্শী, বিশেষত স্থাপত্যবিদ্যায়। আসুকা যুগ থেকে শুরু করে নারা যুগ পর্যন্ত জাপানে বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প পরিচালিত হয় এসব অভিবাসী সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে। তাঁরা শুধু মন্দির নয়, সেতু ও দুর্গও নির্মাণ করতেন। সাধারণত চীন থেকে যারা জাপানে আসতেন, তাঁদের মধ্যে এরাই ছিলেন প্রধান। চীনা চিন্তাধারা ও প্রযুক্তি জাপানে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও ছিলেন তাঁরা।

সোগা বংশ

[সম্পাদনা]

সোগা বংশের দাবিকৃত পূর্বপুরুষ ছিলেন জিংগু কোউগোর কোরিয়া বিজয়ে অংশগ্রহণকারী একজন ব্যক্তি। এর ফলে তিনি ওজিন রাজবংশের সূচনালগ্নেই যুক্ত ছিলেন। সোগা নামক কোনো ব্যক্তির প্রথম ঐতিহাসিক উল্লেখ পাওয়া যায় নবম শতকের একটি গ্রন্থে। সেখানে বলা হয়েছে যে ওজিন রাজবংশের তৃতীয় শাসক রিচু তেন্নোর সময় কোরীয় অভিবাসীদের উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তা সংগঠিত করার প্রয়োজন পড়ে। এই উদ্দেশ্যে একটি দ্বিতীয় ভাণ্ডার স্থাপন করা হয় এবং তা তদারকির জন্য একটি নতুন পদ তৈরি করা হয়। ইউর্যাকু তেন্নোর শাসনকালে একটি তৃতীয় ভাণ্ডার স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়ে এবং সোগা নো মাচি নো সুকুনেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়গুলো সংগঠিত করার। তিনি একটি তালিকা প্রস্তুত করেন এবং (কোরীয়) হাতা বংশকে একটি সহায়ক ভাণ্ডার পরিচালনার দায়িত্ব দেন এবং (কোরীয়) আয়া বংশকে অন্যটির। ৬৪৫ সালে সোগা বংশ পরাজিত হলে আয়া বংশের সৈন্যরা তাদের পাশে দাঁড়ায়। সোগা বংশ কখনো সামরিক ঘটনায় জড়িত ছিল না, বরং সবসময়ই আর্থিক কার্যক্রম এবং কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ৫৫৩ সালে সোগা নো ইনামে শাসকের আদেশে জাহাজ কর নিরীক্ষণের জন্য একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। কয়েক বছর পর ইনামে সমুদ্রবন্দর নিয়ন্ত্রণের জন্য আরেকটি দপ্তর স্থাপন করেন। এতে বোঝা যায়, সোগা বংশ যোদ্ধার চেয়ে প্রশাসক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল।

কেইতাই তেন্নোর মৃত্যুর পর যে সময়ে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজদরবার ছিল বলে মনে করা হয়, সেই সময়ে সোগা বংশ অত্যন্ত দৃশ্যমান ছিল। সোগা বংশ কিম্মেই তেন্নোর রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ওটোমো বংশ আনকান ও সেনকা নামক বিকল্প শাসকদের সমর্থন করত। সেনকার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় রাজদরবার বিলুপ্ত হলে ওটোমো বংশ রাজনৈতিক প্রভাব হারায় এবং সোগা বংশ শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিফলিত হয় 'সোগা নো ও-ওমি' নামে সোগা প্রধানের উল্লেখে, যেখানে আগে 'ও-ওমি' (大臣) উপাধিটি কেবলমাত্র ওটোমো বংশের জন্যই ব্যবহৃত হতো। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইয়ামাতো রাষ্ট্র সামরিকমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে এক নতুন ধারা গ্রহণ করে। এটি ওজিন রাজবংশের বৈশিষ্ট্য ছিল এবং কেইতাইয়ের শাসনামলে পর্যন্ত বজায় ছিল। উল্লেখ্য, 'ও-ওমি' উপাধিটি বুঝতে হবে 'ও' (大) অর্থাৎ 'বড়' বা 'মহান' এবং 'ওমি' (臣)। এটি চীনা অক্ষরে লেখা ও ‘রাষ্ট্রের মন্ত্রী’ অর্থে ব্যবহৃত হতো। একই দুটি চীনা অক্ষর চীনা উচ্চারণে 'দাইজিন' হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আপনি হয়তো এই রূপেও একে অন্যান্য গ্রন্থে দেখতে পারেন। আসুকা ও নারা যুগে এই শব্দগুলো সাধারণত জাপানি উচ্চারণেই উচ্চারিত হতো। তবে হেইয়ান যুগে এবং পরবর্তীকালে সেগুলো চীনা উচ্চারণে ব্যবহৃত হতে থাকে। নবম শতকে হেইয়ান যুগের শুরুতে প্রায় সব অভিজাত ব্যক্তি চীনা পড়তে ও লিখতে পারতেন, অধিকাংশ সরকারি দলিল চীনা ভাষায় লেখা হতো। সরকারের কারিগরি পরিভাষায় চীনা উচ্চারণ ব্যবহারের রীতি শুরু হয় যা এমনকি জাপানি ভাষার বিস্তৃত প্রচলনের পরও চালু থাকে এবং আজও বহাল রয়েছে। আধুনিক জাপানি গদ্যের একটি বড় অংশই চীনা ঋণশব্দে গঠিত।

৫৪৮ থেকে ৫৫৪ সালের মধ্যে কোরিয়ায় সিল্লা সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তারা কোগুর্যো ও পেকচেকে পরাজিত করে। ৫৫৪ সালে পেকচের রাজা সং যুদ্ধে নিহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল পেকচে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে তা আগের চেয়ে ছোট এবং দুর্বল অবস্থায় টিকে থাকে। এই সময়ে জাপান কোরিয়ায় ছোট আকারের বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তা সিল্লার মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সিল্লা ৫৬২ সালে মিমানা অঞ্চল পুরোপুরি অধিগ্রহণ করে। জাপান এরপর একটি বড় বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তারা পরাজিত হয় এবং তাদের নেতারা বন্দি হয়। এরপর থেকে ওটোমো বংশের উল্লেখ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজদরবারে প্রধান দুই ব্যক্তি হিসেবে সোগা নো ইনামে এবং মোনোনোবি নো ওকোশির নাম উঠে আসে। এরপর ২০০ বছর ধরে জাপানি রাজদরবার সিল্লাকে আক্রমণ করে মিমানার উপর পুনর্নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের চিন্তা করে, মাঝে মাঝে বাহিনী ও রসদ সংগ্রহের নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু সেগুলো থেকে বিশেষ কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

সোগা বংশ সম্ভবত কাজুরাকি বংশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। তারা ওজিন রাজবংশের শুরুতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিল। ওজিন রাজবংশের কয়েকজন শাসকের মা ছিলেন কাজুরাকি বংশীয়। সোগা বংশ কেইতাই রাজবংশের সঙ্গেও অনুরূপ সম্পর্ক স্থাপন করে। সোগা নো ইনামে তার দুই কন্যাকে কিম্মেই তেন্নোর সঙ্গে বিয়ে দেন—কিতাশিহিমে ছিলেন ইয়োমেই ও সুইকো তেন্নোর মা (সুইকো ছিলেন বিদাতসু তেন্নোর বিধবা)। ওয়ানেকিমি ছিলেন সুশুন তেন্নোর মা। উমায়াদো রাজকুমারের দাদী ছিলেন কিতাশিহিমে পিতৃপক্ষ থেকে ও ওয়ানেকিমি মাতৃপক্ষ থেকে। লক্ষ্যণীয়, মোনোনোবি বংশের সামাজিক অবস্থান এ ধরনের সম্পর্কের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কাজুরাকি ও সোগা বংশ রাজপরিবারের শাখা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু মোনোনোবি বংশ নয়।

মোনোনোবি বংশ উত্তরাধিকারসূত্রে 'ও-মুরাজি' (大連) উপাধি ধারণ করত। এটি ওটোমো এবং পরে সোগা বংশের 'ও-ওমি' উপাধির সমপর্যায়ে ছিল। এই দুই উপাধিধারী ব্যক্তি সরকারের (যথাসম্ভব) সর্বোচ্চ "মন্ত্রী" হিসেবে বিবেচিত হতো। এছাড়াও 'ওমি' বা 'মুরাজি' উপাধিধারী পরিবারগুলো ছিল। অধিকাংশ 'ওমি' উপাধিধারী পরিবারগুলোর নাম ছিল স্থাননামভিত্তিক। তারা কিনাই অঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখত। কাজুরাকি, হেগুরি, ওয়ানি, কোসে, কি এবং পরে সোগা—এইগুলো তার উদাহরণ। এদের বেশিরভাগই রাজপরিবারের কোনো সদস্যের বংশধর বলে দাবি করত। যদি 'হোর্স রাইডার' তত্ত্ব সত্যি হয়। তবে এরা ছিল ওজিনের সম্প্রসারিত পরিবারের সদস্য এবং আগ্রাসী বাহিনীর অংশ। অপরদিকে, 'মুরাজি' পরিবারগুলোর নাম ছিল পেশাভিত্তিক। যেমন ইমবে (আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী), ইউকে (ধনুক প্রস্তুতকারী), কাগামিৎসুকুরি (আয়না নির্মাতা), হাজি (মৃৎপাত্র প্রস্তুতকারী), ত্সুমোরি (নিরাপত্তা রক্ষক), ইনুকাই (কুকুর পালক)। অবশ্যই মোনোনোবি (লোহার কাজ)। কৌতূহলজনকভাবে, 'ও-ওমি' ওটোমো বংশের নামও একটি পেশাভিত্তিক নাম ছিল। তবে তাদের পেশা ছিল বিশেষ—'তোমো' অর্থাৎ 'সৈনিক', যার পূর্বে 'ও' যুক্ত হওয়ায় বোঝানো হয় যে তারা সাধারণ সৈনিক নয়, বরং কমান্ডার। এই সব বংশই অভিজাত ছিল। তবে ধারণা করা হয় 'মুরাজি' পরিবারগুলো ওই পেশার কারিগরদের নেতৃত্ব দিত, নিজেরা সরাসরি সেই কাজ করত না। তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা ছিল 'ওমি' বংশের চেয়ে কম। তাদের রাজপরিবারে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ছিল।

মোনোনোবি বংশের পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচিত 'নিগিহায়াহি নো মিকোতো' ছিলেন এক দেবতার বংশধর। তিনি জিন্মু তেন্নো কর্তৃক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই পৃথিবীতে আগমন করেন। শুরুতে তিনি জিন্মুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে দেবতারা জিন্মুর পক্ষে আছেন। তখন পক্ষ পরিবর্তন করেন। মোনোনোবি নামটি 'নিহন শোক'র সুইনিন তেন্নো এবং চুয়াই তেন্নোর অধ্যায়ে দেখা যায়, যেগুলো ওজিন রাজবংশের আগের। যদি এর কোনো সত্যতা থাকে। তবে মোনোনোবিরা ওজিনের নেতৃত্বে আগমনকারী আগ্রাসীদের আগেই জাপানে অভিজাত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইনগ্যো তেন্নোর মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র রাজকুমার কারু এবং রাজকুমার আনাহোর (যিনি পরে আনকো তেন্নো হন) মধ্যে উত্তরাধিকারের জন্য যুদ্ধ শুরু হয়। এতে মোনোনোবি নো ওমায়ে নো সুকুনে যুক্ত ছিলেন। তিনি শুরুতে রাজকুমার কারুর সমর্থক ছিলেন। 'কোজিকি'র মতে, তিনি কারুকে আনাহোর কাছে তুলে দেন যিনি তাকে হত্যা করেন, আর 'নিহন শোকি'র মতে, তিনি রাজকুমার কারুকে আত্মহত্যার পরামর্শ দেন। যেভাবেই হোক, তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এই বংশের সদস্যদের নিয়ে অধিকাংশ কাহিনি সামরিক বা অপরাধী দমন সংক্রান্ত। ব্যতিক্রম কিছু থাকলেও, ওটোমো বংশ প্রধানত কোরিয়ায় যুদ্ধ করত, আর মোনোনোবি বংশ প্রধানত জাপানের অভ্যন্তরেই সক্রিয় ছিল। কোরিয়ায় তাদের একমাত্র যুদ্ধ ছিল মিমানায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে, সিল্লার বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নয়।

আরেকটি পার্থক্য ছিল, মোনোনোবি বংশ ধর্মের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত ছিল। যেসব বংশ নিজেদের দেবতাদের বংশধর হিসেবে দাবি করত, তাদের নির্দিষ্ট দেবতার প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ছিল। এটি পরবর্তীতে (বৌদ্ধ ধর্ম ছড়িয়ে পড়ার পর) ঐ দেবতার উদ্দেশ্যে একটি মন্দির স্থাপন ও পরিচালনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতো। সুজিন রাজবংশের প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র মি (臣) পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত ইসোনোকামি মন্দির ছিল মোনোনোবি বংশের বিশেষ উপাসনাস্থল। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ থেকে অনুমান করা যায়, সোগা নেতারা—অথবা অন্তত সোগা নো উমাকো—জাপানকে আরও সভ্য করে তোলার (অর্থাৎ চীনের মতো করে তোলার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটি পেকচে ও কোগুর্যোতে চলমান পরিবর্তনের প্রতিফলন ছিল। এবং ঐ সময়ে 'চীনের মতো' হওয়া মানেই ছিল 'বৌদ্ধ' হওয়া। দুই বংশের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি একটি আদর্শগত দ্বন্দ্বও এই সংঘাতের পিছনে ছিল। এটি প্রাচীন সময়ে বিরল একটি ঘটনা।

জাপানে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে প্রচেষ্টা এই সময়কার ইতিহাসের মূল বিষয়, তার সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিমমেইর শাসনামলে চীনের উত্তর ওয়েই এবং উত্তর চৌ রাজবংশগুলো উত্তর চীনে প্রথম ভূমি পুনর্বন্টনভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করছিল। এই পরিবর্তনগুলো কোগুরিয়োর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে কোগুরিও এসব তথ্য জাপানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, কারণ কিমমেইর শাসনের শেষদিকে কোগুরিও এবং জাপানের মধ্যে সিলা রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের উত্তর দিয়ে জাপান সাগর অতিক্রম করে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই চীনা রাজবংশগুলো ছিল বর্বর উত্সের এবং প্রবলভাবে অভিজাত শ্রেণিনির্ভর। এটি জাপান এবং কোরিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মতোই। ভূমি পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা ছিল কৃষিজ আয় থেকে কর আদায় সর্বাধিক করার একটি প্রচেষ্টা, যেখানে প্রত্যেক কৃষক পরিবারকে পর্যাপ্ত জমি বরাদ্দ দেওয়া হতো যাতে তারা নির্দিষ্ট হারে কর দিতে পারে—ফলে জমির পরিমাণ অনুযায়ী কর নির্ধারণের জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এড়ানো যেত। এজন্য জনসংখ্যার নিয়মিত জনগণনা করতে হতো এবং যেসব পরিবার ছোট হয়ে গেছে তাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে যেসব পরিবার বড় হয়েছে তাদের দেওয়া হতো। এ ব্যবস্থা তখনকার উত্তর চীনে সম্ভব ছিল, কারণ চীন রাজবংশ পতনের পর বর্বর আক্রমণের ফলে সেখানে কৃষিকাজের জন্য পর্যাপ্ত জনবল ছিল না, যদিও চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল যথেষ্ট। কর আদায় হতো কর্মক্ষম ব্যক্তির সংখ্যার ভিত্তিতে। কোগুরিও এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পরে জাপানও অনুসরণ করে। ধারণা করা হয়, এই ব্যবস্থা কোগুরিও এবং জাপানে তখনকার প্রচলিত পদ্ধতির খুব ভিন্ন ছিল না, কারণ সেখানে বিদ্যমান কৃষক জনগোষ্ঠী দখল করে অভিজাত শ্রেণি গঠিত হয়েছিল। তবে এটি নিছক অনুমান, কারণ কৃষক ও অভিজাতদের সম্পর্ক সম্পর্কে আমাদের এই সময়ের কিছুই জানা নেই। শুধু “বে” নামক পদ্ধতিতে শিল্পীদের সংগঠিত করার ধরন করভিত্তিক উৎপাদন কোটার ভিত্তিতে পরিচালিত বলেই ধারণা করা যায় যে কৃষকদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো।

এই সময়ে জাপানে কোগুরিয়োর প্রভাব যে ছিল তা প্রমাণ হয় "কোরিয়ো ফুট"-এর সর্বত্র উপস্থিতি থেকে (কোরিয়ো হলো কোগুরিয়োর বিকল্প নাম এবং পরবর্তী কোরিয়ো রাজবংশের মাধ্যমে ইংরেজি "Korea" নামটি এসেছে)। এটি ছিল একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক। এটি চীনের পূর্ব ওয়েই রাজবংশ (৫৩৪–৫৫০) নির্ধারণ করেছিল, পরে কোগুরিও তা গ্রহণ করে এবং সেখান থেকে জাপানে পৌঁছে। এক ফুট বা "শাকু" ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার। প্রত্নতাত্ত্বিকরা দেখেছেন, এই এককটি জাপানের বহু প্রাচীন স্থাপনার নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮৮ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া আসুকাদেরা (দেশের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মন্দির) অন্যতম। কোগুরিও থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জাপানে বৌদ্ধ ধর্মের প্রাথমিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ধারণা করা হয়, ইশিবুতাই কোফুন (৬২৬ সালে মৃত সোগা নো উমাকোর সমাধি বলে মনে করা হয়) এবং বিদাতসু সম্রাটের পর সকল সম্রাটের কোফুন তৈরিতে কোরিয়ো ফুট ব্যবহৃত হয়েছে। প্রাচীন জাপানি লেখাগুলোতেও বারবার উল্লেখ আছে যে কোগুরিওর আচার-আচরণ, ধর্ম, সংগীত ও নৃত্য জাপানিদের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মিলপূর্ণ ছিল। বিশেষত কোগুরিও থেকে আগত নৃত্যশিল্পীরা খুব জনপ্রিয় ছিলেন।

এই সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতাব্দীতে ছোট আকারের কোফুনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, এতটাই যে বর্তমানে জাপানে টিকে থাকা প্রায় ৯০% কোফুনই এই শেষ কোফুন যুগের ছোট সমাধি। অনেকগুলোই গোলাকৃতি টিলা, প্রায় ১০ মিটার ব্যাস বিশিষ্ট, যেগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো বড় কোফুনগুলোর মতোই। তবে অনেক কোফুন ছোট ছোট গুহার মতো, যেগুলো পাহাড় বা খাড়ির পাশে খোদাই করে কফিনের সমান আকারে বানানো হয়েছে। এ ধরনের কোফুন সাধারণত গুচ্ছাকারে পাওয়া যায় এবং প্রায়শই কাছাকাছি এলাকায় একই সময়ে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ধাঁচের ছোট কোফুন পাওয়া যায়। কিছু এলাকায় পাহাড়ের পাশে এমন অনেক কোফুন পাওয়া গেছে যার সংখ্যা ডজন বা শতাধিক।

এ থেকে ধারণা করা যায়, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় এই যুগে অনেক বেশি লোককে আলাদা সমাধি পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করা হতো। রাজাদের ছাড়া আর বড় সমাধি নির্মাণ হতো না। যেহেতু সম্পদ বহুজনের মাঝে ভাগ করতে হতো। তাই প্রতিটি সমাধি ছোট ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হতে বাধ্য ছিল। ধারণা করা হয়, এটি অভিজাত সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন নির্দেশ করে। এর ফলে বুঝা যায় তখন গোত্র প্রধানের ক্ষমতা হ্রাস এবং গোত্রের সাধারণ সদস্যদের নিজস্ব জমিজমা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিক যুগে গোত্রভিত্তিক অভিজাতরা যৌথভাবে গোত্রের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত এবং গোত্রপ্রধান তা বণ্টন করত। কিন্তু ৫৫০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। তখন গোত্রের সদস্যরা নিজেদের আলাদা জমির ওপর অধিকারে থাকতেন এবং নিজের আয় নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে তারা তখনো সমাধিগুলো একই গোত্রীয় কবরস্থানে তৈরি করতেন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে নয়। ফলে সম্মিলিত উপাদান পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। উল্লেখযোগ্য, "ছোট" সমাধি হলেও তাতে বহু টন ওজনের পাথর ব্যবহার করা হতো এবং অনেক শ্রমিক প্রয়োজন হতো। ৬৪৬ সালের একটি ফরমান অনুযায়ী সমাধির আকার নির্ধারণ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল—একজন রাজপুত্রের সমাধি নির্মাণে ৭ দিনে ১০০০ শ্রমিক, মন্ত্রীর জন্য ৫ দিনে ৫০০, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জন্য ৩ দিনে ২৫০, মধ্যমপদস্থ কর্মকর্তার জন্য ১ দিনে ১০০ এবং নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার জন্য ১ দিনে ৫০ শ্রমিক নিযুক্ত হবে।

নিহন শোকিতে ৫৭১ সালে কোগুরিও থেকে আগত দূত বন্ধুকে ঘিরে একটি অবিশ্বাস্য গল্প রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তখনকার জাপানি রাজদরবারে পূর্ব ও পশ্চিম দিকের দুই দল লেখক ছিল, তারাই শুধু কোগুরিওর রাজার প্রেরিত চীনা ভাষায় চিঠি পড়তে পারত। এই দুই পরিবার ছিল কাওয়াচি নো ফুমি নো ফুবিতো এবং ইয়ামাতো নো আয়া নো আতায়ে—দুজনেই কোরীয় অভিবাসীদের বংশধর (কাওয়াচি ইয়ামাতোর পশ্চিমে)। যতদূর জানা যায়, ওমি শ্রেণির কোনো জাপানি অভিজাত চীনা ভাষায় পড়া-লেখা শেখার মতো বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবেননি, যেমন রেশম বোনা শেখাও অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন। এই অবস্থা দুই শতাব্দী ধরে চলেছে। পরবর্তী প্রজন্ম প্রথমবার শিক্ষিত হতে শুরু করে।

৫৮৫ সালে বিদাতসু সম্রাটের মৃত্যুর পর সোগা এবং মোনোনোবে গোত্রের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। কোফুন যুগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর সমাধির বিশাল আকারের কারণে সমাধি নির্মাণে অনেক সময় লাগত। ফলে স্থায়ীভাবে দাফনে প্রায়ই যথেষ্ট বিলম্ব হত। সাধারণত এই কাজে দুই বছর লাগলেও চরম ক্ষেত্রে কখনও কখনও তিন বছর পর্যন্তও লাগতো। এসময় মরদেহ একটি অস্থায়ী ভবনে রাখা হতো। একে বলা হতো মোগারি নো মিয়া। এখানে মরদেহ স্থাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হতো। নিহন শোকি অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানে সোগা নো উমাকো এবং মোনোনোবে নো মরিয়া পরস্পরের প্রতি প্রকাশ্যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন। ফলে উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বিদাতসুর একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র ছিলেন, যার মা ছিলেন উচ্চ-মর্যাদার। তার নাম ছিল রাজকুমার ওশিসাকা নো হিকোহিতো নো ওয়ে। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শাসকের ভাইয়েরও সিংহাসনের দাবির অধিকার ছিল। বিদাতসুর বেশ কয়েকটি ভাই ছিল। কিমমেই সম্রাটের বহু উচ্চ-মর্যাদা সম্পন্ন স্ত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে সোগা নো ইনামের দুই কন্যাও ছিলেন। নির্বাচিত উত্তরসূরি ছিলেন সোগা নো উমাকোর ভাতুষ্পুত্র। তিনি ইয়োমেই সম্রাট হন। বড় ভাই ইয়াতা নো তামাকাতসু নো ওয়ের মা সেনকা টেনোর কন্যা ছিলেন। নিহন শোকির মতে বড় ভাই ইয়াতার পাশাপাশি আরেক ভাই রাজকুমার আনাহোবেও নিজের উত্তরাধিকারের দাবি জানান। ইয়োমেই ইতিমধ্যে সিংহাসনে আরোহণ করার পরে যুবরাজ আনাহোবে অস্থায়ী সমাধি দখলের চেষ্টা করে বিদাতসুর সম্রাজ্ঞী কাশিকিয়াহিমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাকে জোর করে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেন। তিনি তখন শেষকৃত্য অবধি সেখানে শোক পালনের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী সমাধিস্থলে ছিলেন। সিংহাসনে তার দাবিকে শক্তিশালী করার জন্য জোর করে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সমাধির রক্ষীবাহিনীর প্রধান এতে বাধা দেন। এরপর রাজকুমার আনাহোবে সোগা এবং মোনোনোবে মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন এবং রক্ষী পদারকে হত্যা করার অনুমতি চান। এই দাবি তখন মঞ্জুর করা হয়। ওই পদার পালানোর চেষ্টা করলেও আনাহোবে তার অবস্থান জেনে (প্রাক্তন সম্রাজ্ঞীর একটি গ্রামীণ প্রাসাদ) মোনোনোবে নো মরিয়াকে তাকে ও তার সন্তানদের হত্যা করতে বলেন। মরিয়া নিজেই তা করেন। সোগা নো উমাকো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। নিহন শোকি অনুসারে, এই ঘটনাই সোগা ও কাশিকিয়াহিমের (পরবর্তীকালে সুইকো সম্রাজ্ঞী) মধ্যে মোনোনোবে নো মরিয়ার প্রতি তীব্র শত্রুতা জন্ম দেয়।

ইয়োমেই সম্রাট তেন্নো ৫৮৭ সালে রাজত্ব কাল দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যান। তখন আবারও সিংহাসনের প্রশ্ন ওঠে। তার অসুস্থতা কয়েক মাস ধরে চলায় প্রতিযোগীরা ষড়যন্ত্রের সুযোগ পায়। আক্রমণের আশঙ্কায় মোরিয়া ইয়ামাতোর বাইরে নিজের দূর্গে সরে গিয়ে সেনা সংগ্রহ শুরু করেন। তখন মোরিয়ার অন্যতম মিত্র ছিলেন নাকাতোমি নো কাতসুমি নো মুরাজি। নিহন শোকি অনুসারে তিনি ডাকিনীবিদ্যার মাধ্যমে মনোনীত উত্তরাধিকারী রাজকুমার ওশিসাকা নো হিকোহিতো নো ওয়ের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি প্রাসাদে জাদুকরী বস্তু রাখার উদ্দেশ্যে যান। কিন্তু প্রাসাদ ত্যাগ করার সময় রাজকুমারের এক প্রহরীর হাতে নিহত হন। সবকিছু ইয়োমেইর মৃত্যুর আগেই ঘটে। তাঁর মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনোব নো মোরিয়া রাজকুমার আনাহোবেকে একটি গোপন বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে তিনি উত্তরাধিকার নিয়ে সংঘর্ষের জন্য সৈন্যদের জড়ো করার অজুহাত হিসাবে একটি শিকারের দল করতে চলেছেন। তবে এটি ফাঁস হয়ে যায়।

সোগা নো উমাকো সম্রাজ্ঞী কাশিকিয়াহিমের আদেশে সঙ্গে সঙ্গে সৈন্যদের অবিলম্বে যুবরাজ আনাহোবেকে হত্যার নির্দেশ দেন। তারা এই ধরনের কাজের প্রচলিত সেরা পদ্ধতি হিসেবে রাতের বেলায় তার প্রাসাদে হামলা চালান। এরপর সোগা একটি বড় বাহিনী গঠন করে মরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালান। এতে বহু রাজকুমার, যেমন রাজকুমার হাতসুসেবে (ভবিষ্যতের সুশুন সম্রাট), রাজকুমার উমায়াদো সহ প্রচুর সংখ্যক রাজকুমার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও ইয়ামাতোর প্রায় সমস্ত "ওমি" শ্রেণির আঞ্চলিক উজি সহ বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট অভিজাত উজির দলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মরিয়া প্রস্তুত ছিলেন, ফলে কোনও গণহত্যা না হয়ে সরাসরি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধে পরিণত হয়। ফলাফল কিছু সময়ের জন্য সন্দেহের মধ্যে ছিল। মনোনোবকে সমর্থনকারী হিসাবে তালিকাভুক্ত গোষ্ঠীগুলি সকলেই ইয়ামাতোর বাইরের গোত্র থেকে ছিল। মনোনোবের বাহিনী ইয়ামাতোর পশ্চিমে অবস্থিত ছিল। অন্যদিকে সোগার সেনাবাহিনী সম্ভবত আসুকা থেকে শুরু করে আনামুশি গিরিপথ পেরিয়ে একা নদীর কাছে হয়। একা নদীতে মনোনোব সেনাবাহিনী পৌঁছানোর অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই নদীর অবস্থান সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে এটি ফুরুচির ঠিক পশ্চিমে আধুনিক ইশি নদী ছিল বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ এটি সম্ভবত বর্তমান ইশি নদী। মরিয়ার বাসভবন ছিল শিবুকাওয়াতে। অনুমিত যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিমে অল্প দূরত্বে। যুবরাজ উমায়াদো তখন তরুণ কেবল তরুণ হওয়ায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারেন নি। তিনি সঙ্কটের মুহুর্তে একটি শপথ করেন যে তার পক্ষ বিজয়ী হলে একটি বৌদ্ধ মন্দির গড়ার প্রতিশ্রুতি করেন। এই কথা শুনে সোগা নো উমাকো নিজেও একই শপথ নেন। এর পরপরই মনোনোব নো মোরিয়া একটি তীরের আঘাতে নিহত হন এবং তার বাহিনী ভেঙে পড়ে। নিহন শোকি জানায়, যুদ্ধস্থলে কয়েক শত লাশ পড়ে ছিল। এটি আরও বলেছে যে মনোনোব বংশের অনেক সদস্য অস্পষ্টতায় গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং অন্যরা বংশকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করার কোনও অভিপ্রায় অস্বীকার করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উপাধি গ্রহণ করেন। দরবার নিঃসন্দেহে ইসোনোকামি বংশ গঠন সহ্য করেছিল। কারণ কেবলমাত্র মানুষের লড়াইয়ের কারণে মনোনোব বংশ প্রতিষ্ঠাকারী দেবতাকে অবহেলা করা অনুচিত হত। তারা ভেবেছিল যে দেবতাদের যথাযথভাবে পূজা করা হত না তারা ক্রুদ্ধ হয়ে অশান্তি সৃষ্টি করত। মনোনোব বংশ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। আমরা ৬০৮ সালে একটি চীনা দূতাবাসের প্রেক্ষাপটে একজন মনোনোব নো ইউকিমি নো মুরাজি একজন কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করতে দেখি। নামটি পরবর্তীতেও বিভিন্ন প্রেক্ষিতে পাওয়া যায়। তবে আর কখনও উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়নি।

ইতিহাসের এই যুগের মূল বিষয় রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জাপানি প্রচেষ্টার সাথে প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হলো কিম্মেইয়ের সময়েই উত্তর ওয়েই এবং উত্তর চৌ রাজবংশগুলি উত্তর চীনে প্রথম ভূমি পুনর্বণ্টন ভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপন করছিল। চীনের এই বিকাশগুলি কোগুরিওর উপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল। কোগুরিও জাপানকে এই জাতীয় জিনিস সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছিল। কারণ কিমেইয়ের রাজত্বের শেষার্ধে কোগুরিও এবং জাপান জাপান জুড়ে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এটি সিলার নিয়ন্ত্রণের অঞ্চলের উত্তরে চলে যায়। এই চীনা রাজবংশগুলি বর্বর বংশোদ্ভূত এবং অত্যন্ত অভিজাত ছিল, অনেকটা জাপান এবং কোরীয় রাজ্যগুলির মতো। ভূমি পুনর্বণ্টন ব্যবস্থাটি প্রতিটি কৃষক পরিবারকে স্থির কর প্রদানের অনুমতি দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জমি রয়েছে এমন গ্যারান্টি দিয়ে কৃষিকাজ থেকে করের রিটার্নকে সর্বাধিক করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। প্রতিটি পরিবারকে তাদের জমির উপর নির্ভর করে বিভিন্ন করের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক মাথাব্যথা এবং ব্যয় সাশ্রয় করে। এর জন্য জনসংখ্যার একটি পর্যায়ক্রমিক আদমশুমারি নেওয়া এবং তারপরে আকারে সঙ্কুচিত পরিবারগুলির কাছ থেকে জমি নেওয়া এবং আকারে বেড়ে ওঠা পরিবারগুলিকে জমি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এটি করা সম্ভব ছিল কারণ, এই সময়ে উত্তর চীনে সম্ভাব্য আবাদযোগ্য জমির পরিমাণের তুলনায় কৃষি জনশক্তির ঘাটতি ছিল। চিন রাজবংশের পতনের পরে বর্বর আক্রমণের কারণে স্থানচ্যুতির কারণে এই অবস্থা হয়। উপলব্ধ শ্রমিকের সংখ্যার ভিত্তিতে কর গণনা করা হয়েছিল। কোগুরিও এই ব্যবস্থার অনুলিপি করেছিল এবং জাপানও শেষ পর্যন্ত এটি করেছিল। এটি অনুমান করা হয় যে,এটি ইতিমধ্যে বিদ্যমান কৃষক জনসংখ্যার বিজয়ের মাধ্যমে অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে কোগুরিও এবং জাপানে ইতিমধ্যে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলির থেকে আলাদা ছিল না। এটি অনুমান হিসাবে রয়ে গেছে কারণ আমরা এই সময়কালে কৃষক এবং অভিজাতদের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে একেবারে কিছুই জানি না, কারিগর শ্রমিকদের সংগঠিত করার "হতে" ব্যবস্থা উৎপাদন কোটার মাধ্যমে করের উপর ভিত্তি করে অনেকটা একের মতো দেখায়, এটি প্রশংসনীয় করে তোলে যে কৃষকরা একইভাবে সংগঠিত হয়েছিল।

আগের মতোই উত্তরাধিকারের জন্য বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। যুবরাজ ওশিসাকা নো হিকোহিতো নো ওকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়োমেই তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে মনোনীত করেন এবং মুরোমাচি পর্বের বইয়ে বলা হয়েছে যে তাঁর পুত্র। তিনি জোমেই তেন্নো হয়েছিলেন যিনি ৫৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সোগা নো উমাকো পরিবর্তে রাজকুমার হাটসুবেকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি সদ্য খুন হওয়া যুবরাজ আনাহোবের ভাই ছিলেন। তবে যিনি শুরু থেকেই সোগার সাথে জোটবদ্ধ ছিলেন। উভয় রাজপুত্র ছিলেন সোগা নো ইনামের কন্যা ওনেকিমির পুত্র এবং তাই উমাকোর ভাগ্নে। যুদ্ধের কয়েক সপ্তাহ পরে সুশুন তেন্নো সিংহাসনে আরোহণ করেন। সুশুন স্পষ্টতই খুব বেশি ব্যক্তিগত ক্ষমতা ছাড়াই ছিল। এটি লক্ষণীয় যে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে তাঁর কোনও রাজকন্যা ছিল না এবং নিহন শোকিতে উল্লিখিত তাঁর একমাত্র স্ত্রী ছিলেন ওটোমো বংশের। নিহন শোকির কাছ থেকে বিচার করার জন্য তৎকালীন শাসক বংশের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন রাজকন্যা কাশিকিয়াহিমে। তিনি সোগা নো উমাকোকে মনোনোবে নো মোরিয়া আক্রমণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং যিনি সিংহাসনের জন্য রাজকুমার হাটসুসেবেকে সুপারিশ করেন। প্রায় ৫ বছর সিংহাসনে থাকা সত্ত্বেও নিহন শোকিতে সুশুনের নিবন্ধটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মাত্র তিনটি বিষয় সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি ছিল পাইকচে থেকে একটি দূতাবাস যা বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং উপকরণ নিয়ে এসেছিল। সোগা নো উমাকো সন্ন্যাসীদের আলোচনায় নিযুক্ত করেন এবং তার বোন ইনামের মেয়ে সহ জাপানি নানদের আরও পড়াশোনার জন্য পায়েচে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তারা কোরিয়ায় ২ বছর কাটিয়েছিলেন, ৫৯০ সালে ফিরে আসেন। উমাকো তার মানত করা মন্দির নির্মাণের কাজও শুরু করেন। ৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে আসুকাদেরায় পরিণত হওয়ার স্থল ভেঙে যায়। ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে উল্লেখ করা হয় যে, অভিজাত পরিবারের বেশ কয়েকজন মহিলা সন্ন্যাসিনী হয়েছিলেন এবং চীন থেকে ৬ জন সন্ন্যাসী দেশে আসেন। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো "এমিশি" বর্বরদের সাথে সীমান্তের অবস্থা পরিদর্শন করার জন্য উত্তরের তিনটি প্রধান যাত্রাপথ, হোকুরিকুডো, তোসান্দো এবং টোকাইডো বরাবর ৫৮৯ সালে কর্মকর্তাদের প্রেরণ করা হয়েছিল। তৃতীয় বিষয়টি হলো ৫৯১ সালে দরবারে একটি সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে সিল্লা থেকে মিমানা পুনরুদ্ধার করা দরকার। পাঁচজন সেনাপতি (সমস্ত পুরুষ যারা মোরিয়ার বিরুদ্ধে উমাকোর পক্ষে লড়াই করেন) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং ২০,০০০ পুরুষ দেওয়া হয়েছিল। তারা সুকুশি ভ্রমণ করেছিল কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোরিয়া অতিক্রম করেনি। সুশুন মারা গেলে তাদের ইয়ামাতোতে ফিরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

কোরিয়াকে লক্ষ্য করে ৫৯১ অভিযানের ঠিক এক বছরেরও বেশি সময় পরে, সুশুন তেন্নো একটি শুয়োর শিকারের দলের সময় একটি মন্তব্য করেন যা কাউকে আমন্ত্রণ হিসাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে তিনি যে ব্যক্তির সাথে সমস্যায় পড়েছিলেন তাকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে তাকে অনুগ্রহ করার জন্য। যখন এটি সোগা নো উমাকোকে জানানো হয়েছিল, তখন তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে উল্লিখিত ব্যক্তিটি নিজেই ছিলেন। ফলে তিনি সুশনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। একটি পাদটীকা রয়েছে যা বলে যে "একটি বই বলেছে যে" সুশুনের হুমকিমূলক মন্তব্য সম্পর্কে উমাকোর কাছে যে প্রতিবেদনটি শাসকের একজন অসন্তুষ্ট উপপত্নীর কাছ থেকে এসেছিল। উমাকো আজুমা নো আয়া নো আতাই কোমা নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা অজুহাতে দরবারে ভর্তির ব্যবস্থা করেন এবং এই লোকটি সম্রাটকে হত্যা করেছিল। এরপরে এটি বলে যে সুশুনকে একই দিনে ইতিমধ্যে বিদ্যমান রাজকীয় সমাধিতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। এই যুগে তিনিই একমাত্র শাসক যেখানে এটি করা হয়েছিল। সুই রাজবংশের চীনা ইতিহাস অনুসারে। এটি জাপান সম্পর্কে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ রয়েছে, প্রথাটি ছিল যে একজন আভিজাত্যকে কেবল তিন বছর পর্যন্ত শোকের পরে হস্তক্ষেপ করা হত এবং একজন সাধারণকে তার মৃত্যুর দিন সূর্যাস্তের আগে সমাধিস্থ করা আবশ্যক। সুশুনকে সাধারণের কবর দেওয়া হয়েছিল, মনে হয়। নিহন শোকির এই ঘটনার উল্লেখ আমার চেয়ে বেশি নয় এবং সুশুন কেন উমাকোকে নির্মূল করতে পারে সে সম্পর্কে কিছুই বলে না। এতে হত্যাকাণ্ডের পরিণতি বা এ বিষয়ে কারও প্রতিক্রিয়ার কোনো আভাসও উল্লেখ করা হয়নি। একমাত্র অতিরিক্ত উপাদান হলো একটি অদ্ভুত বিবৃতি যে আজুমা নো আয়া নো আতাই কোমার উমাকোর এক কন্যার সাথে গোপন সম্পর্ক ছিল যিনি সুশুনের উপপত্নী ছিলেন এবং তাকে তার স্ত্রী হিসাবে বিবেচনা করেন। উমাকো প্রথমে এ বিষয়ে সচেতন ছিল না, ভেবেছিল যে মেয়েটি মারা গেছে। কিন্তু যখন সে জানতে পারে যে সে কোমাকে হত্যা করেছে। উপস্থাপিত হিসাবে এটি বোঝায় যে এটি না থাকলে কোমা বিনা শাস্তিতে হত। বিশ্বাস করতেই হবে যে, সুশুনের হত্যাকাণ্ডকে হত্যা নয়, ন্যায়সঙ্গত কারণে মৃত্যুদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিম্মেইকে অনুসরণ করা তিনজন শাসক সকলেই কিম্মেইয়ের পুত্র ছিলেন। তবে ভাইদের সরবরাহ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখননাতির দলটির দিকে তাকাতে হবে। বরাবরের মতোই ছিল বিদাতসু তেন্নোর ছেলে ওশিসাকা নো হিকোহিতো। রাজকুমার তাকেদাও ছিলেন। তিনি বিদাতসুর এক পুত্র এবং যার মা ছিলেন শক্তিশালী কাশিকিয়াহিমে। এরপরে ছিল ইয়োমেই তেন্নোর জ্যেষ্ঠ পুত্র উমায়াদো। উমায়াদোর বয়স তখন ১৯। তাকেদার বয়স জানা যায়নি। তবে তার একটি ছোট বোন ছিল যিনি ইতিমধ্যে উমায়াদোর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। হিকোহিতো সম্ভবত ইতিমধ্যে বেশ বৃদ্ধ ছিলেন এবং স্পষ্টতই বেশিদিন বেঁচে ছিলেন না। অন্য সব সম্ভাবনা অবশ্যই খুব কম ছিল। নিহন শোকি আমাদের কোনও বিতর্ক বা আলোচনা সম্পর্কে ঠিক কিছুই বলেন না। আমরা শুধু এটুকু জানি যে, শেষ পর্যন্ত কাশিকিয়াহিমে নিজেই সিংহাসন গ্রহণ করেন, সুইকো তেন্নো হয়ে ওঠেন। তিনিই প্রথম শাসক (হিমিকো এবং আইয়োর পরে) যিনি মহিলা ছিলেন। যেহেতু সুইকো মহিলা সার্বভৌমদের একটি দীর্ঘ তালিকার প্রথম ছিল। তাই এটি অবশ্যই স্পষ্ট যে এটি সম্ভব করার জন্য অবশ্যই কিছু পরিবর্তন করা উচিত। তবে উত্সগুলি কী হতে পারে সে সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলার নেই। প্রাচীনকালে ছয়জন ভিন্ন মহিলা তেন্নো হিসাবে কাজ করেন (টোকুগাওয়া যুগে আরও বেশি ছিল)। তাদের মধ্যে দু'জন বিভিন্ন রাজত্বের নামে দু'বার রাজত্ব করেন, মোট ৮ টি রাজত্ব করেন। সিংহাসনে আরোহণের সময় প্রথম চারজন ইতিমধ্যে সম্রাজ্ঞী (একটি তেন্নোর বিধবা) ছিলেন। এগুলিকে স্থান ধারক হিসাবে দেখা সহজ, পুত্র বা নাতির রাজত্ব করার জন্য যথেষ্ট বয়স্ক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এটি লক্ষ করা যেতে পারে যে মহিলা তেন্নোর ব্যবহার বন্ধ করার পরে দ্রুত এই নীতিটি পরিত্যাগ করা হয়েছিল যে কোনও শিশুকে সিংহাসনে বসানো সম্ভব নয়। একটি স্থানধারক ছাড়া, আপনি অপেক্ষা করতে পারবেন না। সুইকোর ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে সিংহাসন গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তার পুত্র রাজকুমার তাকেদা দ্বারা তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলেন। সোগা নো উমাকোর সিদ্ধান্ত এড়ানোর যথেষ্ট কারণ ছিল। তার ভাগ্নে সুশুনকে সিংহাসনে বসিয়ে এবং তার সাথে একটি কন্যাকে বিয়ে দিয়ে তার অবস্থান সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। তাই দ্বিতীয় সুযোগের ব্যবস্থা করার জন্য তার কিছুটা সময় প্রয়োজন। তার একটি অতিরিক্ত কন্যা ছিল যাকে তিনি যুবরাজ উমায়াদোর সাথে বিয়ে করেন। তবে এটি তাকে সম্ভাব্য শাসক নাতির সাথে উপস্থাপন করতে চলেছে কিনা তা বলা খুব তাড়াতাড়ি ছিল।

তবে, এটি আমাদের জানায় না যে এখানে নতুন কী ছিল। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি কেন? ওজিন রাজবংশের সময় দুটি পরিস্থিতি ছিল যখন পরবর্তী শাসক কে হওয়া উচিত সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একটি অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি ছিল এবং উভয় ক্ষেত্রেই শাসক বংশের একজন মহিলা সদস্য শাসকের আনুষ্ঠানিক উপাধি গ্রহণ না করেই বিষয়গুলির সভাপতিত্ব করেন। আগেকার যুগে শাসকের স্ত্রীদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না। তাদের সবাইকে কেবল কিসাকি বলা হত। তার পিতার মর্যাদা থেকে উদ্ভূত কেবল অন্তর্নিহিত মর্যাদা ছিল। এটি অবশ্যই তার সন্তানরা উত্তরাধিকারের জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্য কিনা তার উপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছিল। যাইহোক, আদালত চালানো আরও বড় এবং জটিল হয়ে ওঠার সাথে সাথে কিম্মেইয়ের সময়ে এটি পরিবর্তন হতে শুরু করে। আদালতের সাথে সংযুক্ত পদারদের একটি বিশেষ দল এসেছিল যারা মনোনীত যুবরাজের পরিবার পরিচালনার জন্য দায়বদ্ধ ছিল। তিনি ও-ওমি এবং ও-মুরাজির পাশাপাশি এক ধরণের মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং সম্রাটের স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এর অর্থ হলো অন্যান্য বিষয়গুলির মধ্যে, রাজস্বের নির্দিষ্ট উত্সগুলি রাজপুত্র এবং স্ত্রীদের ভরণপোষণের জন্য বরাদ্দ করা হবে এবং এই একজনকে আরও বেশি এবং সেই ব্যক্তিকে কম বরাদ্দ করে মর্যাদা চিহ্নিত করার স্পষ্ট সুযোগ ছিল। সুইকোর রাজত্বকালে লেখা একটি বই রয়েছে যা এই ধারণাকে সমর্থন করে যে সুইকোর আগে সমস্ত স্ত্রী কেবল "কিসাকি" ছিলেন। বিদাতসুর স্ত্রী থাকাকালীন তাকে "ও-কিসাকি" হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এটি কিসাকি থেকে একইভাবে ও-মুরাজি মুরাজি থেকে আলাদা। অন্য কথায়, তিনি কেবল একজন উপপত্নী ছিলেন না, সম্রাজ্ঞী ছিলেন। বিদাতসুর রাজত্বকালে কিসাইবে নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি কিসাকিবের একটি সংকোচন। এর অর্থ কৃষকদের একটি ইউনিট যা একটি নির্দিষ্ট কিসাকিকে সমর্থন করার জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। "ব্যক্তিগত হও" বা "ব্যক্তিগত হও" হিসাবে সর্বোত্তমভাবে অনুবাদ করা অক্ষর দিয়ে লেখা হয় তবে কিসাকিবে উচ্চারণ করা হয় তা চীনা প্রভাবের ফলাফল। চীনে সম্রাট ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং তার অবস্থানের সবকিছুই ছিল 'প্রকাশ্য'। যাইহোক, সম্রাজ্ঞী একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এখনও একটি ব্যক্তিগত ব্যক্তি ছিলেন, রাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত নয়। তার নিজের সম্পত্তি থাকতে পারত এবং ছিল। এটি তার পরিবার বা সম্রাটের কাছ থেকে উপহার দ্বারা সরবরাহ করা হয়েছিল। জাপানি কেসটি আলাদা ছিল, রাষ্ট্রীয় সংস্থানগুলি অর্পণ করে। এটি এখনও রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসাবে পরিচালিত হয়, কিসাকিতে। সুতরাং, আগের কিসাকির বিপরীতে, কাশিকিয়াহিমে এমন কর্মকর্তা ছিলেন যারা তাকে রিপোর্ট করেন এবং যে সংস্থানগুলি তিনি ব্যয় করতে পারেন। তিনি একজন খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। এটি লক্ষ করা যেতে পারে যে বিদাতসুর মৃত্যুর পরের পর্বে যখন যুবরাজ আনাহোবে তাকে অপহরণ ও বিয়ে করার চেষ্টা করেন, যে পদার তাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি কাশিকিয়াহিমের একটি গ্রামীণ প্রাসাদে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন, সম্ভবত তার সমর্থনের জন্য একটি অবস্থানের স্থান বরাদ্দ করা হয়েছিল। তিনি নিঃসন্দেহে এমন একজন কর্মকর্তা ছিলেন যিনি বিশেষভাবে তার সেবায় নিবেদিত ছিলেন। সম্রাজ্ঞীর এই অতিরিক্ত গুরুত্ব পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল, এমনকি সেই সময়েও যখন তারা তেন্নো হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। সুইকোর রাজত্বকালে এবং তার পরে যা ঘটেছিল তার মধ্যে একটি ছিল যে অন্য সবার তুলনায় শাসকের মর্যাদা ও মর্যাদা বাড়ানোর জন্য একটি বড় প্রচেষ্টা করা হয়েছিল এবং শাসকের মর্যাদা বাড়ার সাথে সাথে তার স্ত্রীদের। বিশেষত তার সম্রাজ্ঞী তথা তার উত্তরাধিকারীর মা। সম্রাজ্ঞীকে স্ত্রী হিসাবে, সম্রাজ্ঞীকে জীবিত সম্রাটের মা হিসাবে, সম্রাজ্ঞীকে মৃত সম্রাটের মা হিসাবে এবং আরও অনেক কিছু নির্দেশ করার জন্য চীনা থেকে নেওয়া উপাধিগুলির একটি ধারাবাহিকতা দ্রুত বিকশিত হয়েছিল। যেহেতু সম্রাজ্ঞী নামে অভিহিত হওয়ার অধিকারী বেশ কয়েকটি জীবিত মহিলা থাকতে পারে, তাই তাদের সকলকে আলাদা করার জন্য পর্যাপ্ত উপাধি থাকা দরকার ছিল। হেইয়ান যুগে, যখন মহিলারা আর তেন্নো হতে পারত না, একাধিক রাজনৈতিক পরিকল্পনা টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল কারণ একজন সম্রাজ্ঞী তার নিজের খেয়ালখুশিতে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেন। একজন সম্রাজ্ঞী যিনি দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন। তিনি ক্ষমতাসীন সম্রাটের মা ছিলেন, যদি তার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক দক্ষতা থাকে তবে তিনি যথেষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।

শোতোকু তাইশি

[সম্পাদনা]
তোহন মিয়েই, রাজকুমার শোতোকু এবং তার দুই ছেলের প্রতিকৃতি

নিহন শোকিতে সুইকো তেন্নো সম্পর্কিত অনুচ্ছেদের একেবারে শুরুতেই উমায়াদো নো তোয়োতোমিমিকে যুবরাজ হিসেবে নিযুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাস্টনের অনুবাদে বলা হয়েছে, "সে জন্ম নেওয়ার সাথেসাথেই কথা বলতে পারত। এতটাই প্রজ্ঞাবান ছিল যে দশজন লোকের মামলা একসাথে শুনে নির্ভুলভাবে নিষ্পত্তি করতে পারত। সে আগে থেকেই জানত কী ঘটতে চলেছে।" সে শুধু উত্তরসূরি হিসেবেই নিযুক্ত হয়নি, বরং "সরকারের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ন্যস্ত ছিল এবং প্রশাসনের সকল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।" নিহন শোকি যে কাহিনি বলার চেষ্টা করছে, তার কেন্দ্রে রয়েছেন এই ব্যক্তি। তাঁকে বৌদ্ধ ও কনফুসীয় দর্শনে পারদর্শী এবং বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানের প্রথম ইতিহাস (যেটি টিকে নেই)। তাঁর আবির্ভাব থেকেই নিহন শোকির লেখকদের দৃষ্টিকোণে আধুনিক জাপানের ইতিহাস শুরু হয়। মধ্যযুগে তাঁকে একজন বৌদ্ধ সাধু হিসেবে গণ্য করা হতো। আধুনিক কালে ১৮৮৫ সালে চালু হওয়া সংবিধানিক শাসনের পৃষ্ঠপোষক সন্ন্যাসী হিসেবে তিনি বিবেচিত হন। নিহন শোকি যাঁর রচয়িতা বলে মনে করে সেই "সতেরো অনুচ্ছেদের সংবিধান" জাপানের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি মৌলিক দলিল হয়ে ওঠে।

"যুবরাজ" শব্দটির ব্যবহারের বিরুদ্ধে যুক্তির ভিত্তিতে আপত্তি জানানো হয়েছে, কারণ এই সময়ে এই উপাধিটি উত্তরাধিকার নির্ধারণে বিশেষ কার্যকর ভূমিকা পালন করত বলে মনে হয় না। তবে, এই পদবির মাধ্যমে নির্বাচিত রাজপুত্রকে সম্ভবত জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হতো। এটাও মনে করা যেতে পারে যে, যেখানে তেন্নো সমগ্র জাতির শাসক হিসেবে দলাদলির ঊর্ধ্বে ছিলেন, সেখানে জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র শাসক বংশের পক্ষে একপ্রকার দলের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন, যেমন সোগা এবং অন্যান্য বংশপ্রধানেরা তাঁদের নিজ নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করতেন। পুরো নারা যুগজুড়ে এবং প্রারম্ভিক হেইয়ান যুগেও রাজপুত্রদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া হতো এবং স্পষ্ট ছিল যে, সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমের উপর ক্ষমতা অন্যান্য অভিজাত বংশগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সাধারণত তেন্নো নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, সবসময়ই একজন "জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র" থাকতেন। তেন্নো-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী তাঁর অনেক স্থানে যাওয়া এবং অনেকের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। এই ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। একজন নারী শাসকের জন্য এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও কঠোর ছিল, ফলে তাঁর না থাকতে পারা সভায় পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্যের উপস্থিতি থাকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। তবে, এই বিষয়গুলো থেকেই ক্ষমতার উৎস বোঝা যায় না। ক্ষমতার অবস্থান সবসময়ই ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তনশীল। তাই মনে করার কোনও কারণ নেই যে, সুইকো ওই সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন না।

যুবরাজ উমায়াদোর বাবা-মা দুজনেই শাসক বংশের সদস্য ছিলেন। তবে তাঁর পিতৃকুলের দাদি ছিলেন সোগা কিতাশিহিমে এবং মাতৃকুলের দাদি সোগা ওআনেকিমি—দুজনেই সোগা নো ইনামির কন্যা এবং সোগা নো উমাকোর বোন। তাঁর চারজন স্ত্রী ছিলেন বলে জানা যায়, যাঁদের একজন ছিলেন উমাকোর কন্যা। ৬০০ সালে একটি জাপানি দূতা দল চীনের স্যুই রাজবংশে গিয়েছিল এবং স্যুই ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে "ওয়া"-র রাজা পরিবারের নাম ছিল আমে (অর্থাৎ স্বর্গ) এবং তাঁর ব্যক্তিগত নাম ছিল তরাশিহিকো। এটি চীনা অক্ষরে শব্দভিত্তিকভাবে লেখা হয়েছে। "তরাশি" ছিল এই সময়ে শাসকদের আনুষ্ঠানিক নামের সাধারণ উপাদান এবং সম্ভবত "শাসক" অর্থে ব্যবহৃত হতো। "হিকো" একটি নির্দিষ্ট পুরুষ নাম উপাদান, যার নারীস্বরূপ "হিমে"। ফলে মনে হয় এই পরিচিতিটি স্যুইকো তেন্নোর নয় বরং রাজকুমার উমায়াদোর। যদিও সম্ভব যে চীনাদের জানা ছিল না যে "ওয়া"-র রাজা একজন নারী (অথবা জাপানিরা ইচ্ছাকৃতভাবে তা গোপন রেখেছিল)। সাধারণভাবে মনে করা হয় যে উমাকো এবং উমায়াদোর মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। তাঁরা উভয়েই প্রাদেশিক অভিজাতদের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রয়োজনে একমত ছিলেন এবং এ লক্ষ্যে শাসকের তাত্ত্বিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাসাদের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো সভাসদদের প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতেন। তাঁরা উভয়েই চীনা সাহিত্যের পাণ্ডিত্যে পারদর্শী ছিলেন এবং অন্তত একটি বইয়ে সহযোগিতা করেন।

৫৮৯ সালে স্যুই রাজবংশের দ্বারা চীনের রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ৫৮১ সালে উত্তরাঞ্চলের উত্তর চৌ রাজবংশের এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং দক্ষিণাঞ্চল জয় করে একীকরণ সম্পন্ন করে। পেকচে ৫৮১ সাল থেকে এবং শিলা অন্তত ৫৯৪ সাল থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগে ছিল। ৬০০ সালে স্যুইকো রাজদরবার শিলায় আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল এবং একই বছর পঞ্চম শতাব্দীর পর প্রথমবারের মতো চীনে দূত পাঠানো হয়। যদিও নিহন শোকিতে এই মিশনের সাফল্যের ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত বর্ণনা রয়েছে, এই বাহিনী কোরিয়ায় বিশেষ কিছু অর্জন করতে পারেনি এবং ৬০২ সালে একটি দ্বিতীয় ও বৃহৎ অভিযান পরিকল্পিত হয়। লক্ষণীয় যে এই বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন রাজকুমার উমায়াদোর ভাই রাজকুমার কুমে কোনও ঐতিহ্যবাহী সামরিক উজি সদস্য নয়। এটিকে প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় যে এই প্রকল্পটি উমাকোর নয় বরং উমায়াদোর উদ্যোগে ছিল। এছাড়া, নিহন শোকিতে বলা হয়েছে এই বাহিনী গঠিত হয় "কানতোমো" থেকে, যার মধ্যে ছিল ধর্মীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ইম্বে ও নাকাতোমি বংশ, পাশাপাশি "কুনি নো মিয়াতসুকো" ও "তোমো নো মিয়াতসুকো"-রা। অর্থাৎ কোনও "ওমি" শ্রেণির বংশ এতে অংশ নেয়নি। সমস্ত যোদ্ধা শাসক বংশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত বংশ ও প্রাদেশিক অভিজাতদের মধ্য থেকে আসবে। এটি সম্ভবত এমন একটি জাতীয় বাহিনী গঠনের প্রথম প্রচেষ্টা। তারা সরাসরি শাসকের প্রতি অনুগত থাকবে, বরং ঐতিহ্যগত বংশের মিলিশিয়ার বিকল্প হবে। এই বিশ্লেষণ সত্য হলে, ৬০২ সালে রাজকুমার উমায়াদোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবে, প্রকল্পটি সফল হয়নি। বাহিনী কিউশুতে একত্রিত হওয়ার পর রাজকুমার কুমে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েক মাস পরে মারা যান। শোতোকু তাইশির ঐতিহ্য নিয়ে রচিত একটি পরবর্তী গ্রন্থে বলা হয়েছে, রাজকুমার ধারণা করেন শিলা এজেন্টরা রাজকুমার কুমেকে হত্যা করেছে। এরপর তাঁর আরেক ভাই রাজকুমার তাকিমাকে বাহিনীর নেতৃত্বে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কিউশুর উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাঁর স্ত্রী মারা যান এবং রাজকুমার ইয়ামাটোতে ফিরে আসেন, কিউশু আর পৌঁছাননি। বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও কেউ কেউ মনে করেন যে, কিউশুতে একটি বৃহৎ বাহিনী একত্রিত করাই শিলার ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে জাপান কূটনৈতিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছিল। এই লক্ষ্য ছিল নিয়মিত "খাজনা" বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্য, কারণ অনেক বিলাসপণ্য আমদানি করতে হতো। শিলা যখনই জাপানের ওপর অসন্তুষ্ট হতো, তখনই বাণিজ্য বন্ধ করে দিত, আর জাপান যুদ্ধের হুমকি দিত।

৬১০ সালে সিল্লা থেকে আসা একটি দূতদের অভ্যর্থনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। দূতদল স্যুইকোর আসুকার প্রাসাদের মূল হলের সামনে উঠানে জড়ো হয়। প্রত্যেক দূতের সঙ্গে এক একজন জাপানি অভিজাত নিযুক্ত ছিলেন যাঁরা তাঁদের সহায়তা ও সম্ভবত অনুবাদের কাজ করতেন। চারজন প্রধান মন্ত্রী তাঁদের স্বাগত জানান। যখন দূতরা শিলার রাজা কর্তৃক প্রেরিত সরকারি চিঠি পড়তে যান, তখন সোগা নো উমাকো হলের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের কথা শুনে ফেরার পর তেন্নোকে রিপোর্ট করেন। রাজকুমার উমায়াদোর উপস্থিতির উল্লেখ নেই। তিনি যদি সম্পৃক্ত থাকতেনও। তবে পুরো সময়টি প্রাসাদের ভেতরেই ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যাবে, হয়তো তিনি তখন আসুকায় ছিলেন না।

রাজকুমার তাকিমার কোরিয়া অভিযান বাতিল হওয়ার পরপরই নিহন শোকিতে আদালতে "টুপি পদবী" নামে একটি নতুন পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এই পদ্ধতির বাস্তবতা নিয়ে কোনও সংশয় নেই, কারণ এটি স্যুই ইতিহাসে উল্লেখ আছে। চীনা দরবারে এমন একটি ব্যবস্থা ছিল। কোরিয়ার সব রাজ্যেও অনুরূপ ব্যবস্থা ছিল। জাপানি ব্যবস্থা বিশেষত কোগুরিও-র ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে হয়। বাইরের প্রকাশ ছিল কর্তব্যরত অবস্থায় কর্মকর্তা যে আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিধান করবেন, যাতে পদবীর পরিচয় বহন করবে। অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল এমন এক পদমর্যাদার ব্যবস্থা চালু করা। এটি শাসকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন হবে। পূর্বে বিদ্যমান কাবানে পদগুলো ছিল ঐতিহ্যবাহী ও বংশগত। এগুলো থেকে ব্যক্তিগত মর্যাদা স্পষ্ট হতো না। সেগুলো ছিল সম্পূর্ণরূপে গোত্রভিত্তিক, কোনও ব্যক্তির মর্যাদা নির্দেশ করত না। নতুন ব্যবস্থা ছিল বিশেষভাবে আদালতের পদবী এবং সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিভিত্তিক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাসাদীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অভিজাতদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেওয়া হয়। টুপিগুলোর কোনও নমুনা আজ আর বিদ্যমান নেই। তবে কয়েকজন ব্যক্তিকে যে পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল তার উল্লেখ আছে। কুরাতসুকুরি (স্যাডলমেকার) নো তোরি নামে এক খ্যাতনামা বৌদ্ধভক্ত। তিনি আসুকায় হোকোজি বৌদ্ধমন্দিরের প্রধান হল নির্মাণ করেন, তাঁকে স্বীকৃতি হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়। প্রথম তিনটি পদমর্যাদায় নিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির নাম আমাদের জানা আছে। একজন যিনি প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন, তাঁর মর্যাদা সোগা নো উমাকো এবং শিলার দূতাবিদকে স্বাগত জানানো "চার মন্ত্রী"-র তুলনায় অনেক নিচে ছিল। ফলে ধারণা করা হয়, এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র অপেক্ষাকৃত সাধারণ ব্যক্তিদের জন্য ছিল, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জন্য নয়। কিছু পণ্ডিত পরবর্তী দশকে চালু হওয়া বিভিন্ন র‍্যাঙ্কিং সিস্টেমের মধ্যে মিল খুঁজে বের করার জন্য বিস্তর গবেষণা করেছেন এবং ধারণা করা হয়, এখানে সর্বোচ্চ পদ ছিল নিহন শোকি রচনার সময় চালু থাকা ব্যবস্থায় জ্যেষ্ঠ চতুর্থ শ্রেণির সমতুল্য। এই স্তরটিই ছিল উচ্চ অভিজাতদের সাথে সাধারণ কর্মকর্তাদের বিভাজনের রেখা। কেবলমাত্র অভিজাত শ্রেণির শীর্ষ স্তরের সদস্যরাই তৃতীয় শ্রেণি বা তদূর্ধ্ব মর্যাদা পেতেন। পরের বছর নিহন শোকিতে বলা হয়েছে সব মন্ত্রীর জন্যও বিশেষ টুপি নকশা করা হয়েছিল। একটি কাহিনিতে বলা হয়েছে ৬৪৩ সালে সোগা নো এমেশি অবসর নেওয়ার সময় তিনি নিজ হাতে মন্ত্রীর টুপি তাঁর পুত্র ইরুকার হাতে তুলে দেন। সে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়।

টুপি ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরের বছর, রাজদরবার একটি ঘোষণাপত্র জারি করে। এটি নিহোন শোকি অনুযায়ী রাজকুমার উমায়াদো ব্যক্তিগতভাবে জারি করেন। ইংরেজিতে এটি প্রায়ই "১৭ অনুচ্ছেদের সংবিধান" নামে পরিচিত হলেও, এটি প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক আইন নয় বরং নৈতিক বিধির একটি তালিকা। নিহোন শোকি এই ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করেছে। অনেক ঐতিহাসিক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, রাজকুমার উমায়াদো (অথবা জাপানে অন্য কেউ) সে সময় এই লেখাটি লিখতে সক্ষম ছিলেন কিনা। ধারণা করেন যে এটি অন্তত পঞ্চাশ বা ষাট বছর পরে লেখা হয়েছে, যখন জাপানে অনেকেই চীনা সাহিত্যে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। এতে অন্তত ১৪টি চীনা গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে, বৌদ্ধ সাহিত্য বাদ দিয়েই। এছাড়াও, অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে এমন অনেক দিক রয়েছে যেগুলো সেই সময়ের বাস্তবতার সাথে খাপ খায় না; যেমন, ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে "প্রাদেশিক গভর্নরদের" উল্লেখ রয়েছে, অথচ প্রথম গভর্নর নিয়োগ পেতে তখনো বহু বছর বাকি ছিল। সামগ্রিকভাবে, এই লেখাটিকে চীনা চিন্তাধারার একটি গ্রহণ বলেই ধরা যায়। সুইকোর সময়কার বাস্তবতার সাথে কিছু অমিল থাকা নিয়ে অতিরিক্ত খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ হয়তো অপ্রয়োজনীয়। নতুন কোনো প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে, অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন যে উমায়াদো সম্ভবত ঐ সময়ে কোনো ধরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নিহোন শোকিতে যে লেখা রয়েছে তা অনেক পরে রচিত হয়েছে, যখন শোতোকু তাইশিকে একজন পূজনীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। ধারণা করা হয়, মূল ঘোষণাপত্রটি হারিয়ে যাওয়ায় নিহোন শোকির জন্য একটি বিকল্প তৈরি করা হয়েছিল।

নিহোন শোকি অনুযায়ী, রাজকুমার উমায়াদো ৬০১ সালে আসুকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ইকারুগায় একটি নতুন প্রাসাদ নির্মাণ শুরু করেন, যেখানে পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর হোর্যুজি নির্মিত হয়। তিনি ৬০৫ সালে সেখানে স্থানান্তরিত হন। যদি তিনি তখন অধিকাংশ সময় ইকারুগায় কাটাতেন, তাহলে সরকার পরিচালনার দৈনন্দিন কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকা সম্ভব হতো না। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, তিনি সেই দায়িত্ব সোওগা নো উমাকোর কাছে ছেড়ে দেন। ইতিবাচক দিক থেকে দেখলে, ইকারুগা আসুকা থেকে এত দূরে ছিল না যে প্রয়োজন হলে সেখানে যাতায়াত করা যেত না, বরং তা নানিওয়া এবং বিদেশি যোগাযোগ ও বই সংগ্রহের সুযোগের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক ছিল। ইকারুগা ছিল আসুকা ও নানিওয়ার মধ্যে দুটি প্রধান রাস্তাগুলোর একটিতে অবস্থিত। উমায়াদো ইকারুগায় কনফুসিয়ান ও বৌদ্ধ পণ্ডিতদের সমবেত করেন এবং বেশিরভাগ সময় পাঠ ও অধ্যয়নে ব্যয় করেন।

টুপি পদ্ধতি আলোচনা করার পর, সুই ইতিহাসে জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনের কথাও বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জাপানে "কুনি" নামে ১২০ জন ব্যক্তি ছিলেন, যাকে কুনিনোমিয়াতসুকো বোঝানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের চীনা বিচারকদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এছাড়া, বলা হয়েছে ৮০টি পরিবার একটি "ইনাগি"-র অধীনে ছিল, যাকে একটি গ্রামের প্রধানের সাথে তুলনা করা যায়। ইনাগি ছিল আগাতানুশির সাথে সংশ্লিষ্ট কাবানে উপাধি। এধরনের ১০টি গ্রাম মিলে একটি কুনি গঠিত হতো। এই তথ্য সম্ভবত জাপানি দূতদের মাধ্যমে চীনে পৌঁছেছিল, কারণ চীনা দূতেরা জাপানে এসে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন না। চীনারা বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের থেকে তাদের দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করে তথ্য সংগ্রহ করত। এখানে যেভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নারা যুগে প্রবর্তিত ব্যবস্থার সাথে তুলনামূলকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রধান পার্থক্য ছিল— কুনিনোমিয়াতসুকো পদের অধিকারীরা বংশগতভাবে ক্ষমতায় থাকতেন, আর নারা যুগের গভর্নররা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। তাদেরকে নির্ভুল হিসাবরক্ষণ রাখতে হতো এবং মেয়াদ শেষে অডিট হতো। আগের কুনিনোমিয়াতসুকো ও আগাতানুশিদের বংশধররা পরবর্তীতে প্রাদেশিক প্রশাসনে নিম্ন পদে কাজ করতেন। তবে সুইকোর সময়, আসুকার দরবার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কুনিনোমিয়াতসুকো ও আগাতানুশিদের মধ্যে কেমন সম্পর্ক ছিল, তা জানা যায় না। তদ্ব্যতীত, কুনিনোমিয়াতসুকো ও আগাতানুশির পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন ছিল তাও অনির্দিষ্ট। জানা যায়, আগাতা ছিল ছোট একক এবং ভূগোলগতভাবে কুনির অন্তর্ভুক্ত। তবে কেউ কেউ মনে করেন, আগাতানুশিরা সরাসরি দরবারের সাথে যুক্ত ছিল এবং শাসকের জন্য রাজস্ব পাঠাত, কুনিনোমিয়াতসুকোর মাধ্যমে নয়, যার রাজস্ব স্থানীয় অভিজাতদের সমর্থন করত। তবে এই তথ্য কেবল ইয়ামাতোর অন্তর্গত ৬টি আগাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলোর নাম প্রায়শই পাওয়া যায় এবং যেগুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত বলে বোঝা যায়। অন্তত সপ্তম শতাব্দীতে, এই আগাতাগুলোর আর নিজস্ব আগাতানুশি ছিল না, বরং নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

চীনে সুই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ৬০৪ সালে মারা যান এবং তার পুত্র ইয়াং-তি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ইয়াং-তিকে চীনা ইতিহাসের অন্যতম "দুর্নীতিপরায়ণ সম্রাট" বলা হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত এই রাজবংশ ধ্বংস করেন, সম্ভবত অতি ব্যয়বহুল জনকল্যাণ প্রকল্প ও গগুরিয়োর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য, যেগুলোর জন্য তার অর্থ ছিল না। এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করতে হয়েছে, যাদেরকে সরানো ও খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হতো। হলুদ নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের একটি প্রকল্পে এক মিলিয়ন শ্রমিক নিয়োজিত ছিল। এর ফলে ব্যাপক গণবিদ্রোহ শুরু হয়। এটি সরকার পতনে 導 করে এবং সুইয়ের প্রাক্তন জেনারেলদের মধ্যে এক তীব্র গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত করে, যার ফলাফল ছিল ৬১৮ সালে তৎক্ষণাৎ একটি নতুন রাজবংশ ট্যাং-এর অভ্যুদয়। এই দুটি রাজবংশই ছিল ষষ্ঠ শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও সফল উত্তর রাজবংশ উত্তর ওয়েইয়ের সরাসরি উত্তরসূরি। উত্তর ওয়েই রাজবংশের শাসক পরিবার ছিল তুর্কি। উত্তরাঞ্চলের অভিজাত শ্রেণি ছিল তুর্কি ও চীনা উপাদানের মিশ্রণ। ট্যাং রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা লি শি-মিন একটি সুপরিচিত চীনা অভিজাত নাম ধারণ করলেও, তার বংশধারায় তুর্কি উপাদান থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

এই পটভূমির কারণে সুই এবং তাং রাজবংশের অনেকগুলি দিক ছিল যা তাদের আগে এবং পরে প্রধান রাজবংশগুলির সাথে তুলনা করলে অস্বাভাবিক ছিল। আংশিকভাবে এটি এই কারণে ছিল যে সুই এবং তাং চীনা অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিবর্তনে একটি ক্রান্তিকালীন অবস্থান দখল করে। হান রাজবংশ এবং তার তাত্ক্ষণিক উত্তরসূরিরা কাঠামোগত দিক থেকে পুরোপুরি অভিজাত ছিল। দরবার অল্প সংখ্যক গোষ্ঠী দ্বারা বেষ্টিত ছিল যারা সমস্ত কর্মকর্তাকে মূলত বংশগত ভিত্তিতে সরবরাহ করেছিল। সুই এবং তাং প্রাথমিকভাবে একই প্যাটার্ন অনুসরণ করেছিল। তবে, হানরা বৃহত্তর দেশের প্রশাসনের উপর কেবল একটি আলগা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। তারা একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী রেখেছিল এবং এটি তাদের ক্ষমতায় রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। তারা তুলনামূলকভাবে বড় জেলাগুলিতে কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল, তবে জেলাগুলির মধ্যে সমস্ত বিষয় স্থানীয় অভিজাতদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, বেশিরভাগ স্বায়ত্তশাসিতভাবে। ব্যবস্থাটি ছিল যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তারা জেলার "সম্মানিত ব্যক্তিদের" দ্বারা মনোনীত হয়েছিল। সুই এবং তাং এর প্রশাসনিক কাঠামো অনেক শক্তিশালী ছিল। যেখানে হানরা একশত বা তারও বেশি বড় জেলা বজায় রেখেছিল, সেখানে সুই এবং তাংয়ে এক হাজারেরও বেশি ছোট ছোট জেলা ছিল, যা প্রদেশগুলিতে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং একটি নতুন জেলায় ঘোরানো হয়েছিল এবং তার নিজের জেলায় কর্মরত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি রুল ছিল। জেলার মধ্যে, প্রশাসন এখনও খুব পাতলা ছিল, এবং ম্যাজিস্ট্রেট "সম্মানিত" স্থানীয়দের মাধ্যমে কাজ করেছিলেন। এটি পুরানো সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ছিল, তবে চীন এখন অনেক ধনী ছিল।

হান যুগে প্রকৃত অর্থে কোনো শহর ছিল না, বরং প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। মুদ্রা ছিল, তবে তা খুব কম ব্যবহৃত হতো। সাধারণ ব্যবসায়ীরা ছিলেন ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা। একমাত্র ধনী সাধারণ মানুষ ছিলেন সরকারি চুক্তিভিত্তিক কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সুই ও ট্যাং যুগে একটি সমাজ গঠিত হয়। এটি পুরনো ব্যবস্থার অনেক বৈশিষ্ট্য বহন করলেও বিশেষ করে এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজাত ছিল, তা ধীরে ধীরে পরবর্তী ধরনের চীনা "জেন্ট্রি" ভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হচ্ছিল, বিশেষ করে ট্যাং রাজবংশের শেষ শতকে। তখন প্রকৃত শহর, প্রকৃত ব্যবসায়ী শ্রেণি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জনসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। ট্যাং রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতার দ্বারা প্রবর্তিত কর ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থা রাজবংশের শেষ পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হয়। সম্রাটের আত্মীয়দের অভিজাত উপাধি প্রদান বিশ শতক পর্যন্ত চালু ছিল। কিন্তু হান যুগ বা লি শি-মিন-এর সময়কার অভিজাত শ্রেণি অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ট্যাং রাজবংশ ছিল ক্রমাগত পরিবর্তন ও অস্থিরতার একটি যুগ। এবং, সুই ও ট্যাং, বিশেষ করে প্রারম্ভিক ট্যাং-র মাধ্যমেই জাপানিরা চীনা সভ্যতা ও শাসনব্যবস্থার সাথে প্রথম ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয়। নিজেরাও একটি প্রবল অভিজাত সমাজ হওয়ায়, তারা প্রারম্ভিক ট্যাং পদ্ধতির সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছিল। তবে এমনকি ১৫০ বছর পরের চীনকেও তাদের কাছে দুর্বোধ্য ও অনুকরণীয়হীন মনে হতো। প্রারম্ভিক ট্যাংয়ে বিদ্যমান বিশেষ তুর্কি উপাদানসমূহও তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল, কারণ সেগুলো কোরীয় রাজ্য ও জাপানে তখনকার প্রচলিত অনুশীলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।

৬০৭ সালে পায়কচে সুই রাজবংশে দূত পাঠিয়ে কোরিয়ার উপর চীনের আক্রমণের পরামর্শ দেয়। ইয়াং-তি পায়কচের সাথে যৌথ অভিযান প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর ফলে কোরিয়ায় একটি বিশাল পরিবর্তনের সময়শৃঙ্খলা শুরু হয়। জাপানও ৬০৭ সালে একটি দূতাবাস পাঠায়। ইতোমধ্যে উল্লেখিত হয়েছে যে, 'সুই ইতিহাস' রাজকুমার উমায়াদো—"তারাশিহিকো"—কে 'ওয়া'র রাজা হিসেবে গণ্য করেছে। ইয়াং-তির কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল জাপানি শুনেছে যে সম্রাট বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারে আগ্রহী এবং তারা চীনে পাঠিয়ে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ পাঠাতে চায় পাঠচর্চার উদ্দেশ্যে। নিহোন শোকিতে উল্লেখ আছে দূতদলের মধ্যে এমন একজন অভিবাসী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চীনা ভাষায় পড়তে ও লিখতে পারতেন। চীনা রিপোর্ট অনুসারে, চিঠিতে রয়েছে ঐতিহাসিক বাক্য: "সূর্যোদয় দেশের সম্রাট, সূর্যাস্ত দেশের সম্রাটকে এই চিঠি প্রেরণ করছেন।" ইয়াং-তি সমতার ধারণা পছন্দ করেননি। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রথম সংকেত যে, জাপানের চাহিদা ছিল চীন চীন দেশে তাদের নাম 'ওয়া' না বলে 'নিহোন' হিসেবে জানুক। প্রকৃত নির্বাহীকরণ দেখা যায় ৬৪৮ সালে ট্যাং রাজবংশে প্রেরিত দূতাবাসের চীনা বিবরণে “日本” প্রথমবার ব্যবহৃত হয়েছে। বিরক্ত সত্ত্বেও, ইয়াং-তি প্রতীয়মান দেশের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন, যেখানে তিনি যুদ্ধ পরিকল্পনা করছিলেন। অবিলম্বে একটি চীনা দূতাবাস জাপানে পাঠানো হয়। এই বিনিময়েই জাপান প্রথমবার একটি উপযুক্ত চীনা শব্দ বেছে নেয় শাসককে উল্লেখ করার জন্য। প্রাথমিক নথিতে "大王" ব্যবহৃত হত, সম্ভবত "ওকিমি" উচ্চারণে। তবে দূতাবাস কাল নাগাদ চীনাদের সাথে সমতামূলক শিরোনাম ব্যবহার অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছিল। উচ্চারণ ও উপাধি বিষয় বিবেচনা করে "天皇" শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি সম্রাটের উচ্চ মর্যাদার প্রতীক; চীনা 'হুয়াংদি' যা সমান মর্যাদার প্রতীক। জাপানি উচ্চারণে “সুমেরা মিকোতো”—যার বাংলা অর্থ 'সর্বোচ্চ শাসক'। চীনা চিঠিতেও এটি লক্ষ করা গেল। নিহোন শোকিতে ৬২৮ ও অন্যান্য লেখায় ব্যবহৃত হয়েছে। সুইকর সময়ে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত হতো সুমেরা মিকোতো। তবে আধুনিক জাপানে এটি 'তেন্নো' নামে পরিচিতি লাভ করে। ৬০৮ সালের দূতাবাস দেখে চীনারা এটি কে 'জাপানের হুয়াং' বা সর্বোচ্চ সম্মানিত সার্বভৌম হিসেবে মনেছেন; অ্যাস্টন এ এটি অনুবাদ করেছেন "সার্বভৌম".

মোট চারটি দূতাবাস পাঠানো হয় উল্লেখযোগ্য স্বল্প সময়ের মধ্যে। শেষ দূতাবাস প্রেরণের সময় সুই রাজবংশ ইতিমধ্যেই পতনের দিকে ঝুঁকছিল। জাপানি দূতরা নিরাপদে ফিরতে বিপাকে পড়েন। তার ১৬ বছর পর পুনরায় কোনো বিনিময় হয়নি। এখানে স্পষ্ট যে, চীন জাপানে যথেষ্ট আগ্রহী ছিল—অসভ্য উচ্চাভিলাষ সহ্য করলেও তারা চেষ্টা করছে দেশে এবং শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে যত সম্ভব জানতে। এটি তাদের কোরিয়া নিয়ে রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত। তবে ট্যাংও কোরিয়ায় উচ্চাভিলাসী ছিল। অস্বীকার বা রাজবংশ পরিবর্তনের কারণে চীনের সাথে সম্পর্ক বন্ধ করা জাপানের স্বার্থে বাধ্যতামূলক ছিল না। এক মতামত বলছে, রাজকুমার উমায়াদোর রাজনীতির অর্ধ-অবসর ৬০৫ সালের পর এই দূতাবাস উদ্যোগগুলোর প্রসার প্রধান ব্যক্তি ছিলেন এবং অন্য কেউ ততটা ভাবতেন না।

৬২০ সালে নিহোন শোকি জানায় যে, রাজকুমার উমায়াদো ও সোওগা নো উমাকো একত্রে "সম্রাটদের ইতিহাস, দেশের ইতিহাস। ওমি, মুরাজি, টোমো নো মিয়াতসুকো, কুনি নো মিয়াতসুকো, ১৮০ বে এবং মুক্ত প্রজাদের মৌলিক নথি" তৈরি করেন। যদি প্রকৃতপক্ষে এ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকত। তবে এটি অমূল্য হত। কিন্তু একমাত্র একটি কপি ছিল এবং ৬৪৫ সালে ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জাপানের প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে, কারণ ঐ ঐতিহাসিক কাজ তা অবশ্যই তুলে ধরত। আধুনিক তত্ত্বের ভিত্তিতে, ৬০২ সালে পায়কচে ভিক্ষু কানরোক প্রথমবার চীনা পদ্ধতিতে একটি বর্ষপঞ্জি প্রকাশ করে জাপানে। এরপর ৬০১ সালের ভিত্তিতে উমায়াদো ২১টি ৬০-বছরের চাকার ভিত্তিতে ৬৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত পিছিয়ে তার শাসকের বংশানুক্রম নির্ধারণ করেন। বর্ষপঞ্জির সেই চক্রের বিশেষ জ্যোতিষ্কীয় গুরুত্ব উপস্থাপন চীনা থেকে নেওয়া।

নিহোন শোকিতে উল্লেখ আছে রাজকুমার উমায়াদো ৬২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু যেকোনো জাপানি ঐতিহাসিক তালিকা জানায় এটি ঘটেছিল ৬২২ সালে। এই অংশে মুখ্য অনেক তারিখ এক বছর ভিন্ন। কেন তা এমন তা নিয়ে কোনো তত্ত্ব নেই। বিকল্প সূত্র একটি প্রাচীন জীবনী ভিত্তিক। এটি বছর ও মাসের দিন ভাগে পৃথক। জাপানিরা সেই দ্বিতীয় তারিখ মেনে নিতে উৎসাহী। এই সূত্রগুলোর একটি হচ্ছে আসুকা যুগের হোর্যুজি বৌদ্ধ মূর্তির উপচর্চা–যাতে খোদাই করা হয়েছে যে তার মা মৃত হন সুইকোর ২৯তম বর্ষের ১২তম মাসে (৬২১)। পরের মাসে তিনি অসুস্থ হন। প্রধান স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় মাসের ১১ তারিখে মারা যান (৬২২)। রাজকুমার মারা যান দ্বিতীয় মাসের ২২ তারিখে। তিনজন একই সমাধিতে দাফন হন। তাঁর বয়স ছিল ৪৯। সমাধি ইকারুগা থেকে ২০ কিমি দূরে, বিডাতসু ও ইয়োমেইএর সমাধির কাছে অবস্থিত। পরে সুইকো ও কোতোকুর সমাধি একই এলাকায় নির্মিত হয়েছে। প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যে শোতোকু তাইশি প্রাচীন কাল থেকেই একজন অত্যুৎকৃষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে সন্মানিত ছিলেন—প্রাথমিক কারণ ছিল বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বৌদ্ধধর্ম ৮ম শতক পর্যন্ত রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত না হওয়া পর্যন্ত কেবল অনুমোদিত ছিল এবং একারণে অনেকেই সন্দিহানে ছিলেন। তবে রাজকুমার উমায়াদো ও সোওগা উমাকো ব্যক্তিগতভাবে বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ করেন এবং উমায়াদো এর কয়েকটি প্রতিষ্ঠা করলেন। তাঁর ইকারুগা প্রাসাদের আশেপাশে মন্দিরগুলোর একটি ক্লাস্টার—বিশেষ করে হোর্যুজি। এটি ৬৭০ সালে আগুনে ধ্বংসের পর পুনর্নির্মিত হয়েছিল এবং জাপানের প্রাচীনতম কাঠের নির্মাণ। এটি ছিল উমায়াদোর ব্যক্তিগত মন্দির, তখন পরিচিত ইকারুগারেদা তথা "ইকারুগা মন্দির" নামে। তিনি প্রথম জাপানি হিসেবে বই রচনার কারণে অর্থবহ ভূমিকাও রেখেছিলেন। ১৪শ শতক থেকে, তিনি সাম্রাজ্যবাদী স্বৈরাচারীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তারা জাপানের ১৮৬৮ সালের পর ক্ষমতা লাভ করে। প্রতিটি জাপানি স্কুলছাত্র <নিহোন শোকির ১৭ অনুচ্ছেদের সংবিধান অধ্যয়ন করতো। তবুও কেউ ২০শ শতাব্দীর সামরিক কর্তৃত্ববাদীদের জন্য তাঁকে দোষারোপ করেনি; তাঁর মর্যাদা এখনও অনন্য উচ্চে রয়েছে।

৬২৩ সালে মিমানা থেকে সিল্লা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে কোরিয়ায় আক্রমণের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এটি ২০ বছরের বিরতি পর ঘটে। দরবারের কর্মকর্তাদের মতামত দ্বিখণ্ডিত হয়। এক পক্ষ (যার মুখপাত্র তানাকা নো ওমি) মিমানা যথার্থ ব্যবহারের তদন্তের জন্য দূত প্রেরণে সমর্থন করে; অন্য পক্ষ (যার নেতৃস্থানীয় হচ্ছেন নাকাতোমি নো কুনি নো মুরাজি) সেনাবাহিনী প্রেরণের পক্ষে, শিলেকে বের করে মিমানাকে পায়কচের নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তরের দিকে ধাবিত করেন। অবশেষে দূত প্রেরিত হয় এবং সিল্লা একটি দূতাবাস পাঠায় প্রস্তাব নিয়ে। পুরোনো ব্যবস্থা অনুযায়ী মিমানা নামমাত্র শুল্ক দিবে। সিল্লা ও জাপানি কর্মকর্তাদের একটি দল মিমানায় যান চুক্তি সম্পাদনের জন্য। কিন্তু তারা ফিরে আসার আগে বড় একটা জাপানি সেনাবাহিনী করণীয়ভাবে কোরিয়ায় প্রেরিত হয় সাকাাইবে নো ওমি ওমারোর নেতৃত্বে। তিনি সম্ভবত সোওগা উমাকোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে দূতরা বারংবার যাননি এবং সবকিছু লড়াই ছাড়াই নিষ্পত্তি হয়। কোরিয়ার জাপানি বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। এরপর চুক্তি হয়েছে যে যতবার জাপান দূতাবাস সিল্লা যাবে, তারা আগমনের সময় দুইটি আনুষ্ঠানিক নৌকায় স্বাগত জানাবে—একটি সিল্লা জন্য এবং অন্যটি মিমানার জন্য। মিমানায় একটি সেনাবাহিনী এবং একই সময়ে কূটনৈতিক আলোচনা করা কিছুটা অদ্ভুত মনে হয়। সম্ভবত দরবারে দুটি পক্ষ স্বাধীনভাবে কাজ করছিল।

৬২৩ সালে একটি জাপানি বৌদ্ধ ভিক্ষু কর্তৃক সংঘটিত প্রদর্শনী হত্যাকাণ্ডের (কুড়াল দিয়ে হত্যাকাণ্ড!) পরে, আদালত ধর্মীয় ব্যবস্থার উপরে কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং একটি (বৌদ্ধ) ধর্ম দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়, প্রধান পদগুলো ভিক্ষুদের জন্য নির্ধারিত হয়। এর ফলে একটি আনুষ্ঠানিক জনগণনা নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে দেশে ৪৬টি মন্দির, ৮১৬ জন ভিক্ষু এবং ৫৬৯ জন ভিক্ষুনী রয়েছে।

"তাইকা সংস্কার"

[সম্পাদনা]

৬২৬ খ্রিস্টাব্দে সোওগা-নো উমাকো মারা যান এবং ৬২৮-এ ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় স্যুইকো সম্রাজ্ঞীর। কোজিকি এই ঘটনার মধ্য দিয়েই শেষ হয়। উমায়াদো, উমাকো ও স্যুইকোর মৃত্যুতে একটি নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মৃত্যুর ঠিক আগে উমাকো স্যুইকোর কাছে অনুরোধ করেন যেন কাজুরাকি আগাতা তার হাতে দেওয়া হয়, কারণ এটি ছিল তার বংশের প্রাচীন নিবাস। তখন এটি ছিল ইয়ামাতোর ছয়টি আগাতার একটি। এটি সরাসরি শাসকের ব্যয়ের উৎস ছিল। স্যুইকো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। যদি এই দাবি মেনে নেওয়া হতো, তাহলে সোওগা বংশ একটি নতুন অভিজাত বংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারত। এটি অন্য সব সোওগাদের থেকে স্বাধীন হতো। এই কৌশলই পরে নাকাতোমি-নো কামাতারির জন্য প্রয়োগ করা হয়; তার মৃত্যুর পর তার সন্তানদের একটি নতুন ফুজিওয়ারা বংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, এটি শুধুই বয়স্ক উমাকোর রাজনৈতিক বাস্তবতা হারানোর একটি দৃষ্টান্ত এবং তার দাবি অযৌক্তিক ছিল।

পরবর্তী সম্রাট ছিলেন বিদাতসু সম্রাটের পৌত্র ও দুর্ভাগাপ্রাপ্ত রাজপুত্র ওশিসাকা-নো হিকোহিতোর পুত্র। তিনি এর আগে একাধিকবার উপেক্ষিত হন। স্যুইকোর মৃত্যুর কয়েক মাস পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোওগা-নো এমিশি, উমাকোর জ্যেষ্ঠপুত্র, তখন ও-ওমি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এমিশি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে জানান যে স্যুইকো সম্ভাব্য দুই উত্তরাধিকারীর কথা বলেছিলেন — রাজপুত্র তামুরা এবং রাজপুত্র উমায়াদোর পুত্র রাজপুত্র ইয়ামাশিরো-নো ওয়ে — এবং তাদের উভয়কেই বলেছিলেন যেন তারা উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ না করেন। তার নিজের পুত্র, রাজপুত্র তাকেদা, এর আগেই মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকেদার সমাধিতে সমাহিত হওয়া। নিহোন শোকি অনুসারে এমিশির বিবরণে বোঝা যায় যে স্যুইকো রাজপুত্র তামুরাকে সমর্থন করেন। কিন্তু স্পষ্ট করে কাউকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেননি। অধিকাংশ সদস্য রাজপুত্র তামুরাকে সমর্থন করেন, যদিও কেউ কেউ রাজপুত্র ইয়ামাশিরো-নো ওয়েকেও সমর্থন করেন, ফলে এমিশি সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক মুলতবি করেন। দুই রাজপুত্রই বংশগতভাবে সমান এবং বয়সেও প্রায় সমান ছিলেন। রাজপুত্র তামুরার বয়স ছিল ৩৬ এবং ধারণা করা হয় ইয়ামাশিরো-নো ওয়ের বয়সও অনুরূপ ছিল। নিহোন শোকিতে এই নিয়ে একটি দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ইয়ামাশিরো-নো ওয়ে জোর দিয়ে বলেন যে স্যুইকো তাকে উত্তরাধিকারী হতে বলেছিলেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে তিনি এমিশিকে মিথ্যাবাদী বলেন। অবশেষে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়; এক প্রতিপক্ষ কর্মকর্তাকে এমিশি হত্যা করেন এবং ৬২৯ সালের শুরুতে রাজপুত্র তামুরাকে সিংহাসনে বসানো হয়। তিনি জোমেই সম্রাট নামে পরিচিত হন। এমিশি রাজপুত্র তামুরাকে সমর্থন করার একটি সুস্পষ্ট কারণ ছিল — তার প্রধান স্ত্রী ছিলেন সোওগা-নো উমাকোর কন্যা এবং ধারণা করা হয়, তিনি ইতোমধ্যে একটি পুত্র, ফুরুহিতো, জন্ম দিয়েছেন। অন্যদিকে, বলা হয় ইয়ামাশিরো-নো ওয়ের মাও ছিলেন উমাকোর কন্যা। হয়তো এমিশি ভেবেছিলেন তামুরার সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। জোমেইর অভিষেকে আরও এক তরুণ রাজপুত্র সামনে আসেন — নাকা-নো ওয়ে। জোমেইর সম্রাজ্ঞী ছিলেন না সোওগা-নো হোতে-নো ইরাতসুমে, বরং ওশিসাকা-নো হিকোহিতোর নাতনি রাজকন্যা তাকারা। তিনি নাকা-নো ওয়ের মা।

নিহোন শোকিতে জোমেই সম্রাট সংক্রান্ত অংশটি সংক্ষিপ্ত এবং তথ্যবর্জিত। উল্লেখযোগ্য দুটি ঘটনা হলো: ৬৩০ ও ৬৩২ সালে তাং সাম্রাজ্যের সঙ্গে দূতাবিনিময়। চীনে ২৪ বছর অবস্থানকারী এক শিক্ষার্থী এই সময় দেশে ফেরেন। অপর একজন, তাকামুকু-নো কুরামারো, ৩০ বছর পর ৬৪৪ সালে দেশে ফিরে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ৬৩৭ সালে এমিশি বর্বরদের সঙ্গে সীমান্ত যুদ্ধ। এছাড়া জোমেই তার প্রাসাদ দুইবার স্থানান্তর করেন; প্রথমবার আগুন লাগার কারণে, দ্বিতীয়বার আসুকার উত্তরে এমন স্থানে। এটি দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগে সুবিধাজনক ছিল। এই সময় কিছু বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। ধারণা করা হয়, শাসকের প্রাসাদ রাজধানীতে রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছিল। এই শাসনামলে একটি ঘটনা রয়েছে, যেখানে প্রবীণতম জীবিত রাজপুত্র এমিশি ধমক দেন, কারণ মন্ত্রীরা যথাযথভাবে সভায় হাজির হচ্ছিলেন না। সকাল ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করার কথা ছিল। এটি ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতে পারত। কিন্তু এমিশি সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেন। পরবর্তী সময়ে রাজপ্রাসাদে ঘণ্টার মাধ্যমে কাজের সময়সূচি নির্ধারণের রীতি চালু হয়। নতুন প্রাসাদ স্থানে একটি বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ হয়। এটি কোনো শাসকের দ্বারা নির্মিত প্রথম মন্দির হিসেবে পরিচিত।

কোনো উত্তরাধিকারী মনোনয়ন না করেই জোমেই ৬৪১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার উত্তরসূরি হন তার সম্রাজ্ঞী। তিনি দ্বিতীয় নারী সম্রাট হিসেবে পরিচিত হন কোগিয়োকু সম্রাজ্ঞী নামে (তার দ্বিতীয় শাসনকাল ছিল সাইমেই সম্রাজ্ঞী হিসেবে)। নিহোন শোকি এই উত্তরণের বিষয়ে কিছুই বলে না। এখানে দুইজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি ছিলেন — রাজপুত্র ফুরুহিতো ও রাজপুত্র নাকা-নো ওয়ে, উভয়েই সম্রাটের সন্তান তবে ভিন্ন মাতার গর্ভজাত। নাকা-নো ওয়ে ছিলেন সম্রাজ্ঞীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তবে মাত্র ১৬ বছর বয়সী (জাপানি গণনায়, আমাদের হিসেবে ১৫ বছর), সিংহাসনের জন্য কিছুটা তরুণ। তখনও শিশুদের সিংহাসনে বসানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে অনুমান করা যায়, কোগিয়োকুর সিংহাসনে আরোহণের একটি কারণ ছিল তার পুত্রকে ভবিষ্যতে সিংহাসনে বসানো। ফুরুহিতোর মর্যাদা কম হলেও, বয়সে তিনি নাকা-নো ওয়ের চেয়ে বড় ছিলেন, যদিও তার সঠিক বয়স জানা যায় না। কয়েক বছরের মধ্যে নাকা-নো ওয়ে ফুরুহিতোর কন্যাকে বিয়ে করেন এবং তখন তার বয়স ২০ বছরের বেশি ছিল। এ ছাড়া রাজপুত্র ইয়ামাশিরো-নো ওয়ের কথাও ভুলে যাওয়া যায় না। তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি থাকায় কোগিয়োকুর সিংহাসনে আরোহণ সম্ভবত অভিজাতদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে ঘটেছিল। এটি সম্ভাব্য কারণ, কারণ সোওগা-নো এমিশি ছিলেন এমন ব্যক্তি যে তিনি ঐকমত্য ছাড়া কিছু করতেন না। প্রমাণের অভাবে এই প্রশ্নের সুরাহা করা যায় না। নতুন সম্রাজ্ঞীর বয়স তখন ৪৯।

নিহোন শোকিতে কোগিয়োকুর শাসনকালকে সোওগা বংশের পতনের সূচনার সময় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জোমেইর শাসনকালে সোওগা-নো এমিশির নেতৃত্বে সব কিছু মসৃণভাবে চলছিল। তিনি আদালতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তবে কোগিয়োকুর শাসনকালে তার পুত্র ইরুকা কার্যত সোওগা নেতৃত্বে তাকে অতিক্রম করে এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন হয়ে ওঠে। ইরুকা সম্পর্কে প্রচলিত আছে, তিনি শৈশবে অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান ছিলেন। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি স্বেচ্ছাচারী, আত্মকেন্দ্রিক এবং অন্যদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে ওঠেন। তিনি শত্রু সৃষ্টি করতেন এবং এতে তিনি বিরক্ত হতেন না, বরং নিজের ইচ্ছামতো এগিয়ে যেতেন।

নিহোন শোকিতে জোমেই তেন্নোর শাসনকাল নিয়ে খুব অল্প এবং অস্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। শুধু দুটি বড় ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ৬৩০ এবং ৬৩২ সালে তাং রাজবংশের সঙ্গে দূতাবিনিময়। একজন শিক্ষার্থী যিনি ২৪ বছর ধরে চীনে ছিলেন, তিনি এই সময়ে দেশে ফিরে আসেন। আরেকজন, তাকামুকু নো কুরামারো, ৩০ বছর পরে ৬৪৪ সালে ফিরে আসেন এবং একজন মহা সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হন। দ্বিতীয় প্রধান ঘটনা হলো ৬৩৭ সালে এমিশি বর্বরদের সঙ্গে প্রথম সীমানা যুদ্ধের নথিভুক্তি। তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে জোমেই দুইবার তার রাজপ্রাসাদ স্থানান্তর করেন—প্রথমবার আগুন লাগার পরে এবং দ্বিতীয়বার আসুকার উত্তরে এমন স্থানে, যেখান থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর হয়। এটি ছিল বড় আকারের নির্মাণকাজের সূচনা। মনে করা হয়, শাসকের প্রাসাদ তখন রাজধানী নগরীতে রূপান্তরের পথে ছিল। তার শাসনকালের একটি গল্পে বলা হয়, জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক রাজপুত্র এমিশিকে ভর্ৎসনা করে বলেন যে, মন্ত্রীরা এবং কর্মকর্তারা আদালতে ঠিকভাবে উপস্থিত হন না। তাদের সকাল ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করার কথা ছিল। এটি একটি ঘণ্টার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এমিশি এই পরামর্শ উপেক্ষা করেন। পরে, রাজপ্রাসাদে ঘণ্টার মাধ্যমে কাজের সময় নির্ধারিত হয়। নতুন প্রাসাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল একটি বৌদ্ধ মন্দির—প্রথম যেটি কোনো শাসক কর্তৃক নির্মিত হয়।

প্রথম ঘটনাটি হলো ৬৪২ সালে সোগা নো এমিশি নিজের ও তার পুত্রের জন্য কোফুন নির্মাণের বিবরণ। বলা হয়, তিনি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ দেন, যেন তিনি দেশের শাসক; এমনকি ইয়ামাশিরো নো ওয়ের জমির লোকদেরও নিযুক্ত করেন। ইয়ামাশিরো নো ওয়ের বোন প্রকাশ্যে এই বিষয়ে অভিযোগ করেন। পরের বছর এমিশি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ব-উদ্যোগে দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তিনি নিজেই একটি মন্ত্রীর টুপি তৈরি করে তা পুত্র ইরুকাকে দেন এবং ইরুকা ও-ওমি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরুকা ষড়যন্ত্র শুরু করেন, যাতে ইয়ামাশিরো নো ওয়েকে উত্তরাধিকার থেকে সরিয়ে ফুরুহিতো নো ওয়েকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। একটি পাদটীকায় বলা হয়েছে, "অন্য একটি বই" বলেছে যে ইরুকা নিজেই সিংহাসনে বসার কথা চিন্তা করেন। ও-ওমি হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পরে, ইরুকা ইকারুগা প্রাসাদ আক্রমণের জন্য সৈন্য পাঠান। প্রাসাদ ধ্বংস হয়। তবে ইয়ামাশিরো নো ওয়ে এবং তার পরিবার পাহাড়ে পালিয়ে বাঁচেন। কিন্তু তাদের কোন সম্পদ না থাকায়, শেষে সবাই আত্মহত্যা করেন। সোগা নো এমিশি যখন এটি শুনেন, তিনি ইরুকাকে "মূর্খ" বলে ভর্ৎসনা করেন এবং বলেন, তুমি ইয়ামাশিরো নো ওয়ের সাথে যা করেছ, অন্যরাও তোমার সাথে তাই করতে পারে। এটি ৬৪৩ সালের শেষদিকে ঘটে।

নিহোন শোকি এরপর বলে যে ইরুকার অভ্যুত্থানে নাকাতোমি নো কামাকো নো মুরাজি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং নিজ দায়িত্বে রাজবংশের জীবিত রাজপুত্রদের মধ্যে একজনকে সমর্থনের জন্য ঐক্য গঠনের চেষ্টা শুরু করেন। উল্লেখযোগ্য যে ৬৪১ সালে কোগুরিয়োতে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যেখানে স্বৈরশাসক অধিকাংশ অভিজাতকে হত্যা করেন। জাপানি অভিজাতদের এই ঘটনার বিষয়ে না জানার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং এটি ইরুকার বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত। নাকাতোমি ধারণা করেছিলেন যে রাজকুমার নাকা নো ওয়ে একজন ভালো নেতা হতে পারেন। কিন্তু তার সঙ্গে পরিচিত না থাকায় একটি ফুটবল খেলার সময় তার সাথে পরিচয় ঘটান এবং দ্রুত তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যাতে তারা নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং সন্দেহ না জাগে, তারা উভয়ে কনফুসিয়ান দর্শন ও চীনা ভাষার পাঠে ভর্তি হন এবং একসাথে যাতায়াত করতেন। তাদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল ইরুকাকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সোগা বংশের মধ্যেই সহযোগী খোঁজা। এই উদ্দেশ্যে নাকা নো ওয়ে সোগা বংশের একজন কন্যাকে বিয়ে করেন। এই মিত্রতা ছিল সোগা নো কুরোয়ামাদা নো ইশিকাওামারোর সঙ্গে। তিনি সোগা নো এমিশির ভাইপো ছিলেন। তিনি তার শাখা রাজপরিবারের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখে এবং তার তিন কন্যা শাসকদের বিয়ে করেন। ষড়যন্ত্রকারীরা ইরুকাকে দরবারেই হত্যা করার একটি জটিল পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। যখন সময় আসে, ইরুকার ওপর আক্রমণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভীত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তখন রাজকুমার নাকা নো ওয়ে নিজেই তার তরবারি বের করে ইরুকাকে আঘাত করেন। ঘটনাটি তেন্নোর (নাকা নো ওয়ের মা) উপস্থিতিতে ঘটে এবং রাজকুমার তাকে বলেন যে ইরুকা রাজবংশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন। এরপর ইরুকার মরদেহ সৌজন্য সহকারে এমিশির কাছে পাঠানো হয়।

তারা একদিন সময় নিয়েছিল সোগা নো এমিশির ওপর আক্রমণের জন্য সৈন্য জড়ো করতে, যুদ্ধে অংশ নেয় বহু রাজপুত্রের বাহিনী। এমিশি তার পক্ষে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু রাজপুত্রের বাহিনী পৌঁছানোর পর এমিশির অধিকাংশ লোক তাকে পরিত্যাগ করে। নিজের পরিণতি অনুধাবন করে এমিশি ইতিহাসের সেই পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন যা সোগা নো উমাকো এবং রাজপুত্র উমায়াদো তৈরি করেন এবং যা তার কাছে ছিল, যদিও একজন লেখক সেই পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ অন্তত উদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং তা নাকা নো ওএর কাছে হস্তান্তর করেন। এসব ঘটনার সময় নাকাটোমি নো কামাকো ছিলেন ৩১ বছর বয়সী এবং নাকা নো ওএ ছিলেন ১৯ বছর বয়সী।

রাজপুত্র ফুরুহিতো নো ওএ ছিলেন নাকা নো ওএর (সৎ) বড় ভাই। নিহন শোকিতে বলা হয়েছে, নাকাটোমি নো কামাকো নাকা নো ওএকে পরামর্শ দেন যে নিজের বড় ভাইয়ের আগে সিংহাসনে আরোহণ করা অনুচিত হবে। তাই তিনি প্রস্তাব দেন কোগিওকু তেন্নোর ভাই রাজপুত্র কারুকে সিংহাসনে বসানো হোক। সেটাই বাস্তবায়িত হয়। তিনি হলেন কোতোকু তেন্নো। কোগিওকু তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন। এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো সম্রাটের পদত্যাগ। এটি পরে নিয়মিত ঘটনার রূপ পায়। আরেকটি প্রথম ঘটনা হিসেবে, যার পুনরাবৃত্তি পরে বহুবার হয়েছে, রাজপুত্র ফুরুহিতো প্রকাশ্যে উত্তরাধিকার থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন বৌদ্ধ ভিক্ষু হয়ে একটি প্রত্যন্ত মন্দিরে অবসর নিয়ে। এসমস্ত ঘটনা সোগা নো এমিশির মৃত্যুর পরদিন রাজপুত্র কারুর আনুষ্ঠানিক সিংহাসনে আরোহণসহ ঘটে।

নতুন শাসন ব্যবস্থা কোনো সময় নষ্ট না করেই জানিয়ে দেয় যে পরিবর্তন আসন্ন। প্রাচীন উপাধি ও-ওমি ও ও-মুরাজি বিলুপ্ত করা হয় এবং তার পরিবর্তে নতুন উপাধি হিদারি নো ওমাচিগিমি এবং মিগি নো ওমাচিগিমি প্রবর্তন করা হয়, যেগুলো ইংরেজিতে সাধারণত চীনা উচ্চারণে সাদাইজিন (বামমন্ত্রী) ও উদাইজিন (ডানমন্ত্রী) নামে পরিচিত, যেখানে বাম মানে উর্ধ্বতন এবং ডান মানে নিম্নতম। আবে নো ওমি নো কুওয়ারামারো প্রথম পদে এবং সোগা নো ওমি নো ইশিকাওয়ামারো দ্বিতীয় পদে নিয়োগ পান। নাকাটোমি নো কামাকো পান অপেক্ষাকৃত ছোট একটি উপাধি – উচিনোওমি বা নাইজিন। এটি পরে নাইদাইজিন নামে পরিচিত হয় এবং নারা যুগে উদাইজিনের পর তৃতীয় অবস্থানে ছিল। নতুন মন্ত্রীদের মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে যুবরাজের নিচে রাখা হয়। এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এর আগে শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক মর্যাদাক্রম ছিল না। উচিনোওমি উপাধি প্যেকচে সরকারের কাছ থেকে ধার করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। এর অর্থ "অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী" এবং নিহন শোকি অনুসারে এটি বোঝাতে চাওয়া হয়েছে যে পদোন্নতি ও পদাবনতি সহ নাকাটোমি নো কামাকো প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রমের উপর নিয়ন্ত্রণ পাবেন। তিনি যে অভ্যন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা হলো প্রাসাদের কাজের অভ্যন্তর। "মহামন্ত্রীরা" নীতিগত বিষয়ে মনোনিবেশ করবেন।

কোতোকুর সিংহাসনে আরোহণের পাঁচ দিন পর প্রাসাদের সব কর্মকর্তাদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে উপরের পরিবর্তনগুলো ঘোষণা করা হয়। সম্রাট, অবসরপ্রাপ্ত সম্রাজ্ঞী এবং যুবরাজ সবাই উপস্থিত ছিলেন। লকর্মকর্তাদের সম্রাটের ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য ও বাধ্যতার শপথ করানো হয়। এ সময়ই তাইকা শাসনামলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত ধারাবাহিকভাবে রাজাদেশ জারি হতে থাকে, যেগুলো শুধু প্রাসাদ নয়, পুরো দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

এই সময় থেকে শতকের শেষ পর্যন্ত ঘটা প্রায় প্রতিটি ঘটনার ওপরই গবেষকদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন আমি এখন পর্যন্ত নিহন শোকির উপর ভিত্তি করে যা কিছু লিখেছি, যেগুলো তা সম্পূর্ণ ভুল। বিশেষভাবে, কিছু দাবি করা হয় যে ইরুকার হত্যাকাণ্ড এবং কোতোকুর সিংহাসনে আরোহণ কোনো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা ছিল না, বরং নাকা নো ওএ ছিলেন প্রচলিত "উর্ধ্বতন রাজকুমার" মাত্র, যাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক সংবিধান অনুসারে থাকা প্রয়োজন ছিল। নাকাটোমি নো কামাকো ছিলেন মধ্যম স্তরের এক কর্মকর্তা যার কোনো বিশেষ গুরুত্ব ছিল না। পুরো তার বিদ্রোহে ভূমিকা রাখার কাহিনী সাজানো হয়েছিল, কারণ নিহন শোকি রচনার সময় তার বংশধরেরা ক্ষমতাশালী ছিল। কোনো "অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী" পদ ছিল না। তাইকা শাসনামল ছিল না, এমনকি কোনো সংস্কার রাজাদেশও জারি হয়নি। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ অবশ্য তুলনামূলকভাবে মাঝামাঝি অবস্থান নেন। কিন্তু খুব কমই আছেন যারা নিহন শোকির সবকিছু যাচাই-বাছাই ছাড়া মেনে নেন।

নিহন শোকি দাবি করে যে আমরা এখন যে শাসন ব্যবস্থা দেখছি, সেটির উৎপত্তি এই সময়েই ঘটেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রচারমূলক রচনা। তবে বর্তমানে আমাদের হাতে কিছু পরিপূরক প্রমাণও রয়েছে—অষ্টম শতকের অন্যান্য কিছু বই যেগুলো সরকারি কমিটির মাধ্যমে লেখা হয়নি এবং এমনকি অল্প সংখ্যক প্রকৃত সরকারি নথিপত্রও আছে, যেমন কর বহনের জন্য ব্যবহৃত কাঠের চিহ্ন। স্থানীয় প্রশাসনের জন্য প্রদেশ/জেলা পদ্ধতির সূচনার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অন্যান্য বইতেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ এত বেশি যে এসব কিছু পুরোপুরি বানানো বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। লেখকরা বইটি প্রকাশের মাত্র ৭৫ বছর আগের ঘটনা লিখেছেন। তাদের পিতামহ বা পিতারা এসব ঘটনার অংশ ছিলেন এবং পাঠকদেরও পূর্বপুরুষেরা তাতে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে, পঞ্চম শতকের বিষয়ে লেখার তুলনায় এ ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনের সুযোগ অনেক কম ছিল। তবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে এই বিবরণ নিছক নিরপেক্ষ নয়।

নতুন সরকার প্রথম যে বিষয়টির মুখোমুখি হয় তা হলো কোরিয়ার তিনটি রাজ্য থেকে একযোগে দূতাবলীর আগমন। নিহন শোকি তেমন স্পষ্ট নয় ঘটনাগুলো সম্পর্কে। তবে জাপানি পক্ষ প্যেকচের উপস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল, যেখানে তারা মিনামাকে প্রতিনিধিত্ব করার দাবি তোলে। অনুমান করা হয়, এটি এসেছে ৬৪২ সালে প্যেকচে ও কোগুরিয়োর মধ্যে একটি মৈত্রী গঠিত হওয়ার পরে। এটি সিলার উপর বড় পরাজয় আরোপ করে, সম্ভবত মিনামা কিংবা তার একটি অংশ দখল করার মাধ্যমে। আট মাস পর আবার দূতাবলী আসে এবং মিনামা নিয়ে নতুন বিবাদ শুরু হয়। তখন মনে হয় নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে এমন এক অর্থহীন বিষয় নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বোকামি। তৎকালীন বিখ্যাত পণ্ডিত তাকামুনে নো কুরামারো। তিনি চীন থেকে ৩০ বছর পর ফিরে আসেন। তাকে সিলায় পাঠানো হয় এবং তিনি বিষয়টির অবসান ঘটান। মিনামা কূটনৈতিক সত্তা হিসেবে অস্তিত্ব হারায় এবং জাপান অঞ্চলটির ওপর সব দাবি পরিত্যাগ করে। এটি একটি সাধারণ বাস্তবতা যে চীনের ক্রমাগত চাপে কোরিয়া তখন নিজেই নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলছিল। ৬৪৪ সালে কোগুরিয়ো মাঞ্চুরিয়ায় লিয়াও নদী সীমান্তে চীনের একটি বিশাল হামলা প্রতিহত করে এবং আরও সংঘাত সামনে অপেক্ষা করছিল। জাপানিরা তখন যা ঘটছিল তাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিল। এটি জাপানকে আত্মরক্ষা উপযোগী করতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার তাগিদ তৈরি করেছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই দুই উর্ধ্বতন মন্ত্রীকে আদেশ দেওয়া হয় যে তারা "মায়েতসুকিমি" এবং "তোমো নো মিয়াতসুকো"দের থেকে মতামত নেবেন কীভাবে শ্রম কর নির্ধারণ করা যায় যাতে জনগণের আপত্তি না থাকে। মায়েতসুকিমি চীনা অক্ষর দ্বারা বোঝানো হয়। এটি চীনে প্রশাসনের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ করে। এখানে ধারণা করা হয় এটি ওমি ও মুরাজি অভিজাত গোত্রের জন্য একটি সাধারণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি হয়তো টুপি মর্যাদা ব্যবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের সদস্যদের নির্দেশ করে। এটি আনুমানিক ১০ জন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী গোত্র প্রধানদের কমিটি সাধারণত ১০ জনের আশেপাশে থাকত, পারকিনসনের সীমা অনুযায়ী – ১২ জনের বেশি সদস্যবিশিষ্ট কোনো কমিটি কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। "তোমো নো মিয়াতসুকো" স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে সামরিক ও গণপূর্ত কাজের জন্য পুরুষদের নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন। আমি এখনো করব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলিনি, কারণ প্রাচীন সময়ের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে এ সময়ের সব এশীয় সমাজ, চীনসহ, তিন ধরনের করের ওপর নির্ভর করত—কৃষকদের কাছ থেকে ধান/শস্য, কৃষক নন এমন সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে হস্তশিল্পজাত পণ্য (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বস্ত্র)। জনসাধারণের কাজে শ্রম। আমরা অনুমান করি, এই প্রাচীন সময়ে ব্যবস্থাটি নারা যুগের মত এতটা সুবিন্যস্ত ছিল না। তবে কিছু না কিছু থাকতেই হতো। না হলে কোফুন (সমাধিস্তূপ) তৈরি হতো না। "তোমো নো মিয়াতসুকো"-রাই এসব কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করতেন এবং সম্ভবত তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করতেন।

নিহন শোকিতে পরবর্তী ঘটনাবলি বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হলো আমরা জানি এই ঘটনাগুলো কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে। আমাদের কাছে নারা যুগের শুরুর সময়ের সরকার কেমন ছিল তার অনেক তথ্য আছে, এমনকি কিছু আদমশুমারি রেজিস্টার ও কর নথিপত্রও আছে, যেগুলো দেখায় যে কিছু এলাকায় বাস্তবে সরকার কীভাবে কাজ করেছিল। নিহন শোকি যদিও প্রায় একমাত্র উৎস, এটি আমাদের অনেক রাজাদেশের বিবরণ দেয়। তবে এটি খুব কমই বলে যে এসব আদেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বা পরবর্তীতে কীভাবে কাজ করেছে। বোঝা যায়, এ প্রক্রিয়ায় স্পষ্টতই একটি পরীক্ষানিরীক্ষার ধারা ছিল, কারণ কিছু আদেশ কোনো ফল দেয়নি এবং দ্রুতই নতুন আদেশে প্রতিস্থাপিত হয়। আমরা এই প্রক্রিয়াকে তিনটি ধাপে ভাগ করতে পারি, সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বিষয়। ধাপগুলো হলো ৬৪৫ সালের পরপর সময়কাল, এরপর কোরিয়ায় সঙ্কট যা ৬৬০ সালে তাং সাম্রাজ্যের প্যেকচে দখল ও তার জাপানের উপর প্রভাব। শেষে ৬৭২ সালে নাকা নো ওএর ছোট ভাই রাজপুত্র ওআমা সিংহাসন দখল করেন। অতিরিক্ত বিষয় হলো তথাকথিত "জিনশিন যুদ্ধ" যা ৬৭২ সালে ওআমাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিহন শোকিল এটি বিশদভাবে বর্ণনা করে, ফলে আমরা আসুকা যুগের সমাজকে বাস্তবে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেখি। আর যুদ্ধটি বই প্রকাশের মাত্র ৪৮ বছর আগের ঘটনা। তাই অনেক অংশগ্রহণকারী তখনো জীবিত ছিলেন।

কারণ এই কাহিনী রাজাদেশের ধারাবাহিকতা হিসেবে বলা হয়েছে, আমরা রাজপুত্র নাকা নো ওএ এবং নাকাটোমি নো কামাকো (পরবর্তীতে কামাতারিতে নামকরণ) – তাদের মধ্যে অনুমিত অংশীদারিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারি না। সম্ভবত তাদের একজন ছিলেন চিন্তার মানুষ আর আরেকজন ছিলেন সেই কাজ বাস্তবায়নের জনশক্তি, কিংবা তারা দুজনেই উভয় ভূমিকায় অবদান রেখেছেন। আমরা জানি যে রাজবংশ কামাকোর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ ছিল, কারণ তারা তার বংশধরদের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে ফুজিওয়ারা বংশ হিসেবে এক অভূতপূর্ব মর্যাদা দিয়েছিল—একটি ঘটনা যা পরবর্তী কয়েক শতকে জাপানের সরকার কাঠামোর বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার মতে, শুধুমাত্র এই ফুজিওয়ারার ভবিষ্যৎ উত্থানই প্রমাণ করে কামাকোর ৬৪৫ সালের ঘটনাবলিতে এবং তার পরবর্তী পরিবর্তনগুলিতে গভীর জড়িততা ছিল।

নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুই মাস পর, তারা পাঁচটি প্রধান বিষয়ে নীতিনির্ধারণ করে একাধিক ফরমান জারি করে। প্রথম ফরমানে "পূর্ব প্রদেশসমূহে" গভর্নর নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয় জনসংখ্যার আদমশুমারি করতে, তা তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকুক বা স্থানীয় অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে, তাতে কিছু আসে যায় না। একইসাথে তারা কতখানি জমি চাষ করছে, তাও নথিভুক্ত করতে বলা হয়। গভর্নর হিসেবে যাদের নিযুক্ত করা হয়, তারা সবাই রাজধানী থেকে আগত প্রভাবশালী অভিজাত। ফরমানে গভর্নরদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিশদ নির্দেশনা ছিল। এরা স্থায়ী গভর্নর ছিলেন না, যেমনটা পরে প্রতিষ্ঠিত হয়, বরং কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে রাজধানীতে ফিরে আসার নির্দেশ ছিল তাদের। তাদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন অপরাধ তদন্ত বা অন্যান্য বিবাদে জড়িয়ে না পড়ে, বরং জনসংখ্যা ও সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে রাজধানীতে ফিরে আসে। তবে, এটা স্পষ্ট যে এটি ছিল শুধুই একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে একটি নিয়মিত প্রাদেশিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। "পূর্ব প্রদেশ" বলতে ফরমানে কী বোঝানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এই কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে প্রায় এক মাস পর রাজধানী ত্যাগ করেন।

দ্বিতীয় ঘোষণায় ইয়ামাতোর ৬টি আগাতায় কর্মকর্তাদের নিয়োগের কথা বলা হয়, যাদের একইভাবে আদমশুমারি ও ভূমি নিবন্ধন করার আদেশ দেওয়া হয়। এই এলাকাগুলো ছিল তাকেচি, কাতসুরাকি, তোচি, শিকি, ইয়ামাবে ও সো — যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে শাসক বংশকে সরাসরি রাজস্ব সরবরাহ করত। ধারণা করা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের বিবরণ নির্ধারণের জন্য এগুলো পরীক্ষামূলক এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

তৃতীয় ঘোষণায় প্রাসাদে একটি ডাকবাক্স ও একটি ঘণ্টা স্থাপনের কথা বলা হয়। যাদের কোনো অভিযোগ ছিল, তারা প্রথমে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে। কিন্তু যদি তাদের সমস্যা উপেক্ষা করা হতো, তাহলে তারা লিখিত অভিযোগ ওই বাক্সে ফেলে দিতে পারত। এমনকি তাতেও ফল না হলে তারা ঘণ্টা বাজাতে পারত। একজন কর্মকর্তা এসে তাদের সাথে কথা বলত। এটি ছিল চীনের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা।

চতুর্থ ঘোষণাটি ছিল সন্তানদের সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত। যদি কোনো সন্তানের পিতা-মাতা উভয়ই স্বাধীন হতো, তাহলে তাকে পিতার পরিবারের সাথে নথিভুক্ত করা হতো। কিন্তু যদি একজন পরাধীন হতো, তাহলে সন্তানকে সেই অস্বাধীন পিতামাতার সাথেই নথিভুক্ত করা হতো — সে পিতা হোক বা মাতা। যদি দুটি ভিন্ন মনিবের অধীন দুই পরাধীন ব্যক্তি সন্তান জন্ম দিত, তাহলে সন্তান মায়ের সাথেই থাকত। আমরা এই সময়কার পরাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে খুব কমই জানি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অসংখ্য শ্রেণির লোক ছিল। উত্তরাধিকারসূত্রে সেবক ছিল যারা দাস ছিল না এবং যাদের বিক্রি করা যেত না, আবার এমন লোক ছিল যারা প্রকৃত দাস হিসেবে বিবেচিত হতো — সম্ভবত যুদ্ধবন্দিদের মধ্যে থেকেই এসেছে তারা। নারা যুগে অপরাধীদের কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাসত্বে দণ্ডিত করা যেত। অপরাধীদের সন্তানরা নিজেদের ইচ্ছায় দাসত্ব গ্রহণ করতে পারত যেন তাদের পিতা-মাতার স্বাধীনতা বজায় থাকে। ঋণের কারণেও কেউ দাসত্বে পড়তে পারত। এই ফরমানের উদ্দেশ্য ছিল কর নির্ধারণের জন্য ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ করা। অস্বাধীন ব্যক্তিদের থেকে সরাসরি কর নেওয়া হতো না, বরং তাদের মনিবের উপর সেই কর আরোপ হতো।

এই ঘোষণাসমূহের শেষ পদক্ষেপ ছিল বৌদ্ধ মঠগুলোর নিয়ন্ত্রণে আনা। প্রতিটি মঠে তিনজন কর্মকর্তা সহ একটি আদর্শ অভ্যন্তরীণ প্রশাসন গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই আইন প্রণয়নের তৎপরতার ঠিক পরেই, নিহোন শোকি ঘোষণা করে যে রাজকুমার ফুরুহিতো ও আরও কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করেছিল। কিবি নো কাসা নো ওমি শিতারু স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে সহ-ষড়যন্ত্রী হিসেবে নিজের নাম প্রকাশ করলে এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফুরুহিতোকে হত্যা করার জন্য সৈন্য পাঠানো হয় এবং সফলভাবে তাকে হত্যা করা হয়। অভিযোগভুক্ত ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে দুইজন ছিলেন সোগা ও আয়া বংশের সদস্য। এই ধরনের ঘটনা পরবর্তী একশত বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায়শই ঘটেছে। কোনটা প্রকৃত ষড়যন্ত্র ছিল আর কোনটা ছিল অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নির্মূল করার অজুহাত — তা বলা কঠিন। আমার মনে কোন সন্দেহ নেই যে উভয় ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। রাজকুমার নাকা নো ওয়ে/তেনচি টেনোর শাসনামলেও এধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। তার সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কেউ কেউ প্রতিরোধ গঠনের চেষ্টা করেছে — এটা খুব অবাক করার মতো কিছু নয়। কিন্তু একই সাথে এটা ভাবাও যথার্থ যে তিনি জোসেফ স্তালিনের মতো অপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রতি একই মনোভাব পোষণ করতেন।

বছরের শেষে প্রাসাদ আসুকা থেকে নানিওয়াতে স্থানান্তর করা হয়। এটি অভ্যন্তরীণ সমুদ্রের তীরে অবস্থিত। ওজিন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ওজিন ও তার পুত্র নিন্তোকু তাদের প্রাসাদ নানিওয়াতে স্থাপন করেন। কিন্তু এরপর এই প্রথমবার নতুন বছরের প্রথম দিনেই নানিওয়াতে সরকার প্রধান সংস্কার ফরমান জারি করে। এটি জাপানে "নববর্ষ ফরমান" নামে পরিচিত। এটি ছিল দেশ শাসনের জন্য তাদের পরিকল্পনার সবচেয়ে স্পষ্ট বিবৃতি। এটি চারটি ভাগে বিভক্ত।

প্রথম অংশে তখনকার সব ধরনের জমির মালিকানা বাতিল করে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, সমস্ত জমি ও জনগণ সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জমির আয়ে জীবনযাপন না করে, অভিজাতরা (যারা সবাই সরকারি কর্মকর্তা হবেন) বেতন পাবেন। এরপর অংশটির বাকি অংশে এটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ও স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে একটি রাজধানী, যার নিজস্ব কাঠামো ও কর্মকর্তা থাকবে, প্রদেশ ও জেলা গঠন করতে হবে, সেইসাথে ছোট ছোট ইউনিট যেমন প্রহরীসহ চৌকি, ডাক স্টেশন ও ঘোড়ার ব্যবস্থাও থাকবে। প্রথমে এই ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর মধ্যেই কার্যকর করা হবে। কোন অঞ্চল এতে অন্তর্ভুক্ত তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তৃতীয় অংশে ব্যাপক আদমশুমারি প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল একটি নিয়মিত ভূমি পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা চালু করা — যেটি তখন চীন ও কোগুরিয়োতে প্রচলিত ছিল। ফরমানে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে কিভাবে জমি চীনা একক — চো (২.৪৫ একর) ও তান (এক চো-এর দশমাংশ) — অনুযায়ী পরিমাপ করা হবে। পাশাপাশি প্রতি চো জমিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ধানের গুচ্ছের ভিত্তিতে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

চতুর্থ অংশে তৎকালীন সমস্ত কর ব্যবস্থা বাতিল করে একটি সরলীকৃত করব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। এতে থাকবে ধানে পরিশোধযোগ্য ভূমি কর, নির্দিষ্ট পরিমাণ রেশমি কাপড়ে নির্ধারিত মাথাপিছু কর (যা সমমূল্যের অন্য স্থানীয় পণ্যে পরিশোধ করা যাবে) ও একটি মানক শ্রম কর — যার মধ্যে থাকবে সম্পূর্ণ সজ্জিত সৈনিক ও ঘোড়া প্রদান, সাধারণ শ্রমিক এবং অভিজাতদের প্রাসাদে কাজ করার জন্য দাসী ও পরিচারিকা পাঠানোর ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে এই শ্রম কর থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

এই পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়নি — বরং কয়েক দশকের কঠিন পরিশ্রমের পরই তা বাস্তবায়িত হয়। অনেকের ধারণা, নিহোন শোকিতে যেভাবে ফরমানটি উপস্থাপিত হয়েছে, তা আসলে অনেক পরে রচিত হয়েছে — যখন এই সব ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হয়ে গেছে, ফলে এটি যা সফল হয়েছে তা বর্ণনা করে, আসল উদ্দেশ্য নয়। তবে এটা সরাসরি চীন বা কোগুরিয়োর প্রশাসনিক আইনবিধি থেকে নেওয়া হয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এই দেশগুলোতে প্রচলিত ব্যবস্থারই একটি সংস্করণ জাপানে প্রবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এটি সফল হলে চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদিত মোট সম্পদের অনেক বেশি অংশ সরকারের হাতে আসত। এটি সরকারকে অর্থ ব্যয়ে আরও স্বাধীনতা দিত। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এমনভাবে গঠিত ছিল যাতে অধিকাংশ সম্পদ রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। অভিজাতদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ব্যয় কমে যায়। এর ফলে জাপানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারত। এটি কোরিয়াকে ঘিরে শুরু হওয়া অস্থিরতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল।

তবে অনেক গবেষক তান (৩০ * ১২ তসুবো বা ১৮০ * ৭২ ফুট জমি) ও চো (১০ তান) এককের সংজ্ঞা এবং এগুলোর জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট করহারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এই পরিমাপ পদ্ধতি হুবহু ৫০ বছর পর প্রণীত তাইহো বিধির মতো। এর আগে জমি পরিমাপের জন্য চো, তান ও তসুবো ব্যবহারের আর কোনো উদাহরণ নেই — ৬৮৯ সালের "আসুকা নো কিয়োমিহারা বিধি"-এ এগুলো প্রথম দেখা যায়। এর আগে ব্যবহৃত একক ছিল "শিরো"। এটি প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ। এছাড়াও প্রদেশগুলোকে যে জেলাগুলোতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফরমানে বলা হয়েছে, "যদি কোনো জেলায় ৪০টি গ্রাম থাকে তবে তা বড়, যদি ৪-৩০টি গ্রাম থাকে তবে তা মাঝারি, আর ৩টির কম হলে তা ছোট জেলা।" তাইহো বিধিতেও একই ধারা আছে। তবে সেখানে জেলা ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে এবং আকার ভিন্ন। যদিও বিষয়বস্তু ভিন্ন। কিন্তু বিন্যাস ও ভাষা এক। নারা যুগে ব্যবহৃত জেলার সাধারণ শব্দ ছিল "কোরি" (郡)। এটি ফরমানে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু সপ্তম শতাব্দীর মূল নথিতে এর কোন ব্যবহার নেই; সেখানে "হিয়ো" (評) ব্যবহৃত হয়েছে। ফরমানে জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্যও নারা যুগের পদবী ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে সপ্তম শতাব্দীর নথিতে আলাদা নাম দেখা যায়। 郡 ও সংশ্লিষ্ট পদগুলো ছিল চীনা প্রভাবাধীন, আর 評 ও তার পদগুলো ছিল কোরীয় রাজ্যসমূহ থেকে আগত।

এর ফলে ধারণা করা হয় না যে নিহন শোকিতে উদ্ধৃত ফরমানটি আসলে আসুকা কিয়োমিহারা বিধিমালার আগে বিদ্যমান প্রাদেশিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার বর্ণনা দেয়; বরং এটি একটি পরবর্তী সংস্করণ। যদি ফরমানের ওই অংশগুলো বৈধ না হয়। তবে আমরা কিভাবে নিশ্চিত হব যে অন্য অংশগুলো বৈধ? প্রাচীন জমি ধারণের প্রথা বিলুপ্ত করার বিষয়ে প্রথম অনুচ্ছেদটি নিশ্চয়ই নারা যুগের কোনো উৎস থেকে নেওয়া হতে পারে না। চতুর্থ অনুচ্ছেদের যে বিধানগুলিতে এক ধরনের করকে অন্য ধরনের করের সাথে রূপান্তরের জন্য রেশম কাপড়কে মূল্যমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তাইহো বিধিমালার অংশ নয়, কারণ তাইহো বিধিমালা কোনো করপ্রকারের রূপান্তরের অনুমতি দেয় না।

সংরক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে নিহন শোকির লেখকদের কাছে ফরমানটির পূর্ণ পাঠ্য ছিল না। তাই তারা অনুপস্থিত অংশগুলো পূরণ করেছে। তবে দলিলটির মূল উদ্দেশ্য—বিদ্যমান জমি মালিকানা ও করব্যবস্থা বিলুপ্ত করা এবং চীনা ও কোরীয় মডেলের ওপর ভিত্তি করে নতুন একটি ব্যবস্থা স্থাপন—তা সত্য। সবশেষে, এটাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। প্রাচীন জাপানিরা এটি কেই রূপান্তরের সূচনা বলে গণ্য করে।

একটি বিতর্কিত বিষয় হলো প্রাথমিক জমি বন্টন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করার কথা ছিল। তাইহো বিধিমালায় পরিবারের প্রতিটি কর্মক্ষম সদস্যের জন্য (বয়স, লিঙ্গ ও অবস্থান অনুসারে) নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির হিসাব রাখা এবং তারপর তা যোগ করে একটি পরিবারের মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করার বিশদ নিয়ম ছিল। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ফসল কর নির্ধারিত হতো। বিকল্প পদ্ধতি ছিল নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি প্রতিটি পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া, পরিবারের গঠনের বিস্তারিত বিবেচনা না করেই। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, "নববর্ষ ফরমান"-এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অভিজাতদের সঙ্গে কৃষকদের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক ভেঙে ফেলা এবং অভিজাতদের বেতনভোগী কর্মকর্তায় পরিণত করা। একই সঙ্গে কৃষক পরিবারগুলোর ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টাও করা হতো অতিরিক্ত হয়ে যেত। বরং বিদ্যমান কৃষি সম্প্রদায় ও তাদের গৃহস্থালিকে ধরে রেখেই নতুন ব্যবস্থাকে অপেক্ষাকৃত সহজ রাখা ছিল বেশি বাস্তবসম্মত। পরবর্তী সময়ে তাইহো বিধিমালার আদমশুমারি ও জমি পুনর্বণ্টন চক্র বাস্তবায়ন এতটাই কঠিন হয়ে পড়ে যে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে তারা এত জটিল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতেন না। এও ধারণা করা হয় যে ৬৪৬ সালে এই ধরনের ব্যবস্থা একযোগে সারা দেশে প্রয়োগ করা যাবে না, সেটা সবাই বুঝেছিল, বরং ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে—যদিও ফরমানে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এই ফরমানে সাধারণ কৃষকদের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান প্রভাব পড়বে এমন কিছু ছিল না, করহার ব্যতীত। করহার বৃদ্ধি না হ্রাস—তা জানা যায় না। যদি রাজস্বের বড় অংশ রাজধানীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতো তবে পরিবহনের জন্য উল্লেখযোগ্য শ্রম প্রয়োজন হতো। জমি বন্টন ব্যবস্থায় জমি চাষ এবং কর প্রদানের প্রধান দায়িত্ব পরিবার একককে দেওয়া হয়েছিল। এটি বিদ্যমান প্রথার ধারাবাহিকতা ছিল, না নতুন কিছু—তা স্পষ্ট নয়। বিকল্প পদ্ধতি ছিল গ্রামকে শাসক ও শাসিতদের মধ্যে মূল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু বানানো, যেখানে প্রতিটি গ্রামকে নির্দিষ্ট কর ধার্য করা হতো এবং পরিবারগুলোর মধ্যে বন্টনের স্বাধীনতা থাকত। যদি কৃষকদের জন্য "বে" ব্যবস্থা প্রযোজ্য হতো। তবে কোফুন যুগের জাপান হয়তো অনুরূপ কাঠামোর অধীনে ছিল এবং নতুন ব্যবস্থা হতো একটি বড় পরিবর্তন।

৬৪৬ সালের দ্বিতীয় মাসে আরও একটি সাধারণ ফরমান জারি হয় যা দুইটি বিষয় নিয়ে ছিল। এটি জাতীয় অভিযোগ বাক্সের পূর্ববর্তী ঘোষণাকে জোরদার ও সম্প্রসারিত করে এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে নামবিহীন পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে। পাশাপাশি এটি ও জানানো হয় যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে দ্বিতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়, শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার কারণে যারা রাজধানীতে এসেছিল তারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায়ই বাড়ি ফিরে যেতে পারত না, কারণ কর্মকর্তারা ও অভিজাতরা তাদের অতিরিক্ত কাজে ব্যস্ত রাখত। সরকারী কর্মকর্তাদের জানানো হয় যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় মাসে পূর্ব প্রদেশে পাঠানো কর্মকর্তারা রাজধানীতে ফিরে আসে। একটি ফরমানে ঘোষণা করা হয় যে আটজন কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ছয়জন দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দুজন ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। দুই সপ্তাহ পর </nowiki>নিহন শোকিতে একটি বিস্তারিত ফরমান প্রকাশিত হয় যেখানে অভিযুক্তদের নামও উল্লেখ করা হয়। প্রধান সমস্যা ছিল কিছু কর্মকর্তা তাদের অবস্থানের অপব্যবহার করে করের টাকা আত্মসাৎ ও ঘুষ আদায় করেছিল। তাদের সব অর্থ ফেরত দিতে এবং চুরির দ্বিগুণ জরিমানা দিতে বাধ্য করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের মাধ্যমেই তাদের অপরাধ প্রকাশ পায়। কিছু স্থানীয় অভিজাত স্বেচ্ছায় ঘুষ প্রদান করেছিল। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেতনার অংশ হিসেবে সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং নতুন প্রাসাদ নির্মাণজনিত কারণে জনগণের ওপর সৃষ্টি হওয়া ভোগান্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি সাধারণ ক্ষমাও দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, যারা প্রাসাদ নির্মাণে বাধ্যতামূলক শ্রমে নিযুক্ত থাকায় অন্য কর প্রদানে ব্যর্থ হয়েছিল, তাদের সেই কর মওকুফ করা হয়। কয়েক দিন পর রাজপুত্র নাকা নো ওয়ে সম্রাটকে একটি পিটিশন দেন যেখানে তিনি অভিজাতদের হাতে থাকা কিছু ঐতিহ্যবাহী জমির মালিকানা বিলুপ্ত করার দাবি জানান এবং তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে থাকা ৫২৪ জন ইম্বে (মূলত শিন্তো মন্দিরের কর্মী) ও ১৬১টি মিয়াকে (বিভিন্ন ধরণের রাজস্ব উৎপাদনকারী ইউনিট) সম্রাটকে ফিরিয়ে দেন। এরপর আরেকটি ফরমান জারি হয়। এটি কোফুন সমাধি নির্মাণ এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত আচার নিয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আকার ও ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ এবং চাষযোগ্য জমিতে সমাধি না বানানোর নিয়ম চালু করা। পূর্বে বর্ণিত ফরমানটিতেই বলা হয়েছিল যে একটি রাজপুত্রের সমাধি নির্মাণে সর্বোচ্চ ৭০০০ শ্রমদিবস খরচ করা যাবে। নিম্নতর শ্রেণির জন্য সেই অনুপাতে সীমা নির্ধারিত হবে। আজকের জাদুঘরগুলোতে থাকা অতিরঞ্জিত কবর উপকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও বিবাহ রীতিনীতি নিয়ন্ত্রণে একটি বিশদ ফরমান, স্থানীয় রীতিনীতি পরিবর্তনে একটি ফরমান জারি করা হয়—যা দেশের মধ্যে অবাধ চলাচলে বাধা দিত। ব্যক্তিগত জমি বিলুপ্তির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আরও নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এই ফরমানগুলো এবং ঘোষিত ব্যবস্থাগুলো নিয়ে অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অভিজাত অসন্তুষ্ট ছিল—তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বড় ধরনের কোনো প্রতিরোধের চিহ্ন নেই। কিছু প্রমাণ আছে যে স্থানীয় অভিজাতরা সাধারণ জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রের সহযোগিতা স্বাগত জানিয়েছিল। ৬৪৪ সালের শরতে নিহন শোকিতে কান্তো অঞ্চলের এক এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক স্থানীয় ব্যক্তি প্রচার করেন যে একটি বিশেষ পোকা (সম্ভবত কোনো শুঁয়োপোকা) এক দেবতার দূত, যাকে উপাসনা করলে পরিশ্রম ছাড়াই সবাই ধন-সম্পদ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। ফলে মানুষ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং দল বেঁধে গান গেয়ে ও মদ্যপান করে ঘুরে বেড়াতে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু করতে অক্ষম ছিল। রাজধানী থেকে হাতা নো মিয়াতসুকো কাওয়াকাতসু নামে এক কর্মকর্তা এসে প্রচারককে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ধরনের ঘটনা সাধারণত সঙ্কটকালে ঘটে। ধারণা করা হয়েছে, এই আন্দোলনটি কোরিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের রেশম উৎপাদন প্রতিষ্ঠার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠেছিল। "রেশমপোকা কোরীয়দের ধনী করে তোলে, তাহলে আমাদের শুঁয়োপোকাও হয়তো আমাদের ধনী করবে"—এইরকম ভাবনা হতে পারে। হাতা বংশ রেশম উৎপাদনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। তাই কেউ কেউ অনুমান করেন যে হাতা কাওয়াকাতসুকে পাঠানো হয়েছিল এ খোঁজ নিতে যে, স্থানীয়রা এমন কোনো পোকা পেয়েছে কি না। এটি দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রেশম তৈরি করা সম্ভব।

পরবর্তী কোফুনসমূহের সংখ্যা ও পরিসরের পরিবর্তনের ভিত্তিতে অধিকাংশ ইতিহাসবিদ মনে করেন, গ্রামীণ গোত্র প্রধানরা (কুনি নো মিয়াতসুকো) তাদের আধা-রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা হারিয়েছিল। এটি গ্রামীণ অভিজাতদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার দিকে একটি প্রবণতা নির্দেশ করে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় প্রশাসন কার্যকারিতা হারিয়েছিল। যখন কেন্দ্রীয় সরকার গভর্নর পাঠানো শুরু করল, তখন তারা কিছুটা শূন্যস্থান পূরণ করছিল। স্থানীয় অভিজাতদের দমন না করে বরং তাদের অবস্থানকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করা হচ্ছিল। তবে ব্যক্তিগত মালিকানাভিত্তিক আয়ের পরিবর্তে সরকার-নিযুক্ত বেতনভোগী হয়ে ওঠা একটি বড় পরিবর্তন ছিল এবং এটি কার্যকর হবে কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ৬৪৬ সালের ফরমান ধারায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল যে যেসব অভিজাতদের ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে তাদের সবাইকে সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সরকারি বেতন প্রদান করা হবে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল, যারা সরকারি পদে নিয়োগ পাবে না, তারা কার্যত সাধারণ নাগরিক বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি সতর্কবার্তা ছিল যে কেউ যদি অবৈধভাবে অভিজাত পরিচয় দাবি করে। তবে তাদের সনাক্ত করে অপসারণ করা হবে।

৬৪৭ সালে এই পরিবর্তনের গতি শ্লথ হয়ে যায়। একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল যাতে শাসকদের নামের মধ্যে ব্যবহৃত উপাদানগুলি শতাধিকারদের ব্যক্তিগত নাম এবং স্থান নামের জন্য ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। চীনে সাধারণত এমন নিয়ম ছিল যে সম্রাটের নাম লেখায় ব্যবহৃত অক্ষর এবং বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে (বিশেষত সেইসব যজ্ঞে যেখানে সম্রাট ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করতেন) সেগুলি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যেত না। মানুষকে বিকল্প অক্ষর খুঁজে বের করতে হতো। এটি মনে হয় জাপানে সেই নিয়ম প্রয়োগ করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। প্রধান পরিবর্তন ছিল টুপি পদমর্যাদা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠন। পূর্বের বারোটি মর্যাদাকে ছয়টিতে এনে সংকুচিত করা হয়েছিল, নীচে একটি নতুন পদমর্যাদা যোগ করা হয় এবং উপরে ছয়টি নতুন পদমর্যাদা যোগ করা হয়, ফলে প্রথমবারের মতো শীর্ষ অর্স্তাধিকারীদেরও এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সব নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। তারপর, মাত্র দুই বছর পরে এটি আবার পুনর্গঠিত হয়। সেই ছয়টি সংকুচিত পদমর্যাদা আবার বারোটি হয়ে যায়। শীর্ষ ছয়টি ব্যতীত বাকিগুলোর নাম আবার পরিবর্তিত হয়। কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ধারণা করা হয় যে এই পরিবর্তনগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হয়েছে। পদমর্যাদাগুলো বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হওয়ায়, বেশি পদমর্যাদা মানে আরও বিভিন্ন বেতন স্তর।

এই পুনর্গঠনের পর ৬৪৯ সালে শাসনরত বংশের রাজকুমার ছাড়া সকল শতাধিকারী এই ব্যবস্থার আওতায় আসেন। নিহন শোকিতে ৬৪৮ সালের একটি উল্লেখ আছে যেখানে বলা হয়েছে ৬৪৭ সালের পদমর্যাদা পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রীরা পুরানো টুপি ব্যবহার চালিয়ে গেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কিছু অসন্তোষ ছিল। তাই ৬৪৯ সালে পদমর্যাদার সংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধি ও পরিবর্তন একটি প্রতিক্রিয়া ছিল, যাতে সবাই নিশ্চিত হতে পারে যে তাকে তার নিচের কাউকে সঙ্গে একই স্তরে ফেলা হচ্ছে না। আরেকটি পরিবর্তনের লক্ষণ ছিল ৬৪৭ সালে হাজিরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘণ্টা ব্যবস্থার চালু হওয়া। কর্মকর্তাদের সকাল ৫টার মধ্যে প্রাসাদের বাইরে শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইন ধরে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। ৫টায় ঘণ্টা বাজানো হতো এবং দপ্তরের দরজা খোলা হতো, সবাই ভিতরে ঢুকতে যথেষ্ট সময় পেলে আবার ঘণ্টা বাজিয়ে দরজা বন্ধ করা হতো এবং যারা দেরি করতো তাদের ঢুকতে দেওয়া হত না। সবাই সকাল ৬টার মধ্যে তার ডেস্কে বসে কাজ শুরু করতে হতো। দুপুর ১২টায় কাজের সময় শেষের ঘণ্টা বাজানো হতো। খুব প্রাচীন একটি রীতির অংশ ছিল যে আদালতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সূর্যোদয়ের আগে বা ঠিক সময়ে করা হতো এবং এই অফিস সময়ের কাঠামো অনেকদিন বজায় ছিল।

১৯ মর্যাদার সংশোধিত ব্যবস্থা ৬৪৯ সালের শুরুতে কার্যকর হয় এবং তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে চীনা ব্যবস্থা ভিত্তিক সরকারের বিভাগ, দপ্তর এবং ব্যুরো গঠন করা হবে। এটি তকমুনে নো কুরামারো এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু বিন দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হবে। এখন পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে তার সংক্ষিপ্তসার দেওয়া যাক। এক, সম্রাটকেন্দ্রিক সরকারের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পদমর্যাদা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মানে হল সম্রাট এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের মর্যাদা নিয়ন্ত্রণ করেন, পদোন্নতি দেয়। শতাধিকারীরা তাদের পদ ভিত্তিক মর্যাদায় সংজ্ঞায়িত হবেন। দুই, সরকারের কেন্দ্রীয়করণ নিশ্চিত হয়েছে, প্রদেশগুলো সরাসরি প্রাসাদ থেকে পরিচালিত হবে একটি একক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। তিন, সব জমি এবং তার উপর কাজ করা সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সব বাস্তবায়ন এখনও বাকি। কিন্তু নীতিগুলো স্থাপন করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো প্রকাশ্য প্রতিরোধ নেই। চার, এই নতুন ব্যবস্থা পরিচালনা করবে একই শতাধিকারীদের দল যারা পূর্বে শীর্ষে ছিল, যমাতো ও কাওয়াচি প্রদেশ থেকে। সরকার কাঠামো ও কার্যকারিতায় বিপ্লব ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু শাসক গোষ্ঠীর সদস্যত্ব জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে বিপ্লবের আওতায় আনা হচ্ছে না। সবাইকে তার বর্তমান মর্যাদানুযায়ী পদমর্যাদা, পদ ও বেতন দেওয়া হবে।

নতুন একটি চীনা রাজবংশ সাধারণত যুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করতো। রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সফল সেনাপতি যাঁর শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল। তিনি নতুন সরকারের নকশায় স্বাধীন ছিলেন। কিন্তু তাকে এমন কিছু তৈরি করতে হয়েছিল যা কার্যকর হত, নাহলে রাজবংশ দীর্ঘস্থায়ী হত না। সফল রাজবংশগুলো সাধারণত চীনা সরকারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সাথে মিল রেখে কাজ করত। তাই নকশার স্বাধীনতা সীমিত ছিল। এখানেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রাসাদ নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা যাই হোক না কেন, দেশের শাসনের সূক্ষ্ম কাজগুলি করতেন ঐতিহ্যবাহী অর্স্তাধিকারীরা। বিকল্প ছিল না। পুরাতন শাসন ব্যবস্থা নতুন নাম দিয়ে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হত। আসুকা যুগের বাকী সময়ের চ্যালেঞ্জ ছিল তা নিশ্চিত করা যে সেটি হবে না এবং সরকার সত্যিই পরিবর্তিত হবে, কেন্দ্রীভূত ও সংগঠিত হবে যাতে জাতীয় সম্পদের বৃহত্তর অংশ প্রাসাদের হাতে আসে এবং এই দেশকে শক্তিশালী করে তোলে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জমি পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকার সত্যিই দেশের সমৃদ্ধির সম্পূর্ণ অংশ কর ব্যবস্থায় আনবে এবং নিয়ন্ত্রণ করবে তার পুনর্বণ্টন ও ব্যয়। অধিকাংশ বেতন আকারে শতাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে বাকিটা জাতি গঠনের কাজে ব্যবহৃত হবে এবং বেতন ব্যবস্থা শতাধিকারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। নতুন মন্ত্রণালয় ও র‍্যাঙ্ক সবই ভালো। কিন্তু মূল বিষয় ছিল দেশের কৃষকদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

এই নতুন সরকারের নির্দেশনাগুলো প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কফুন রাজনীতি আবার প্রবেশ করল। ৬৪৯ সালের তৃতীয় মাসে উর্ধ্বতন মন্ত্রী আবে নো কুরাহাশিমারো মারা গেলেন। মাত্র সাত দিন পর সোগা নো হিমুকা গোপনে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে, বিশেষ করে রাজকুমার নাকা নো ওয়ের হত্যার পরিকল্পনা। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ মনে করেন এটা সত্য নয়। হিমুকা ছিল ইশিকাওয়ামারোর ছোট ভাই এবং নিজেই শীর্ষ মন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। নাকা নো ওয়ে এই তথ্য কোতোকু তেননোর কাছে পৌঁছে দেন। তিনি ইশিকাওয়ামারোকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য 官 পাঠান। ইশিকাওয়ামারো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন এবং সম্রাটের সাক্ষাৎ চান। কোতোকু তা মানেননি এবং সৈন্য পাঠিয়ে তাকে আটকাতে বলেছিলেন। ইশিকাওয়ামারো তার প্রাসাদ থেকে পালিয়ে যমাতোর যমাদেরাতে গিয়েছিলেন, যেখানে তার বড় ছেলে মন্দির নির্মাণ পরিচালনা করছিল। নিহন শোকি অনুযায়ী ছেলে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইশিকাওয়ামারো রাজি হননি। তিনি ও তার পরিবার আত্মহত্যা করেন ফাঁস দিয়ে। তার সাথে সংশ্লিষ্ট আরও অনেককে সরকার পরে ফাঁসি দেয় এবং বহুজনকে নির্বাসিত করা হয়। অভিজাততান্ত্রিক সরকার গঠন করা কঠিন কারণ কাউকে সহজে বরখাস্ত করা যায় না। পরবর্তী ২৫০ বছরে আমি কেবল দুটি ক্ষেত্রে দেখেছি কেউ ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়নি। উভয় ক্ষেত্রেই কম মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন যারা নিজস্ব বাহিনী গড়ার ক্ষমতা রাখত না। তারা হলেন নারা যুগের পুরোহিত দোকিও এবং হেইয়ান যুগের সুগাওয়ারা নো মিচিজানে, যারা উচ্চপদে উঠে পরে সমর্থন হারানোর পর পড়ে যান। তখন বা পরে কোনো কারাগার ব্যবস্থা ছিল না। মৃত্যুর কম শাস্তি ছিল নির্বাসন, যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তর করা হত এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বসবাস করতে হত। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বহুজন নির্বাসনে পাঠানো হয়। কিন্তু বেশিরভাগ রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছেন নির্বাসনের পথে বা ততক্ষণে। নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন অনেক নির্বাসিত পালিয়ে আত্মীয়দের কাছে লুকিয়ে ছিলেন। এটি একধরনের নরম বাড়ি নিরোধ। এই ঘটনার পেছনে নাকা নো ওয়ের ষড়যন্ত্র থাকার সম্ভাবনা বেশি, কারণ তিনি চেয়েছিলেন না সোগা পরিবারের কেউ সর্বোচ্চ পদে উঠুক। সোগা নো হিমুকাকে কিউশুতে স্থানান্তর করা হয়। এটি পরবর্তীকালে মার্জিত নির্বাসনের একটি রূপ (এটাই হয়েছে সুগাওয়ারা নো মিচিজানের ক্ষেত্রে)। কখনো কখনো অর্স্তাধিকারীদের পারস্পরিক সম্পর্ক বেশ জটিল হয়। নাকা নো ওয়ের প্রধান স্ত্রী ছিলেন ইশিকাওয়ামারোর মেয়ে এবং জিতো তেননোর মা। তিনি তার বাবার পতনের পর শোকেই মারা গিয়েছিলেন।

এর চূড়ান্ত ফলাফল ছিল যে সরকারের শীর্ষে দুইটি পদ শূন্য ছিল। নতুন সদাইজিন হলেন কুসে নো ওমি টোকুতা এবং নতুন উডাইজিন হলেন ওতোমো নো মুরাজি নাকাতোকো। তারা দুজনেই নতুন ব্যবস্থায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছিলেন এবং এখন ৫ম শ্রেণীতে পদোন্নত হন। কুসে ৬৪৫ সাল থেকে সরকারের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ওতোমো ছিলেন একটি প্রধান গোত্রের প্রধান। আবে নো কুরাহাশিমারো এবং সোগা নো ইশিকাওয়ামারো নতুন পদবীর ব্যাজ পরতে অস্বীকার করেন এবং পুরোনো মন্ত্রীদের টুপি পরে চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারা ছিলেন নতুন পদবী ব্যবস্থায় প্রথম মন্ত্রীরা। তাদের নতুন পদবীর মানে ছিল যে নতুন ব্যবস্থার শীর্ষ চারটি পদ তখনই খালি ছিল। পরের বছর ৬৫০ সালে শাসনখাতের নাম পরিবর্তিত হয়ে তাইকা থেকে হাকুচি হয়ে যায়। এটা সম্ভবত একটি সংকেত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল যে প্রধান সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন নতুন ব্যবস্থার সংহতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। নামটি এসেছে একটি সাদা ময়ুর দেখার ও ধরা পড়ার প্রতিবেদনের থেকে। এটি সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করা হয়। এই পরিবর্তনের সাথে যথেষ্ট ভোজ ও আয়োজন ছিল। যে প্রদেশ (হোনশু দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে) পাখিটি উপহার দিয়েছিল তাকে তিন বছর করমুক্ত রাখা হয় এবং ওই প্রদেশে ময়ুর শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। 'নিহন শোকি' থেকে বিচার করলে দেখা যায় শাসক হওয়ার সঙ্গে সবসময়ই প্রচুর আনুষ্ঠানিকতা জড়িত ছিল। কিন্তু তা বেশির ভাগ সময়ে গোপনে অনুষ্ঠিত হত। এখন আমরা দেখতে পাই সরকার প্রায়ই সকল কর্মকর্তাদের বৃহৎ আনুষ্ঠানিকতার জন্য মুক্ত আকাশের নিচে জড়ো করে। এই পর্যায়ে পরিষ্কার নয় সাধারণ মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি পেত কি না। তবে নিশ্চিতভাবে নারা এবং হেইয়ান যুগে রাজ পরিবার সংক্রান্ত অনেক অনুষ্ঠান এমনভাবে অনুষ্ঠিত হত যাতে মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দেখার সুযোগ পেত। এটা সরকারের এবং সম্রাটের জাতির জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবার অংশ।

৬৫১ সালে সরকার ওকোরিতে ছয় বছর অবস্থানের পর নানিভাতে নতুন একটি প্রাসাদে চলে যায়, যার নাম নাগারা নো টয়োসাকি প্রাসাদ। 'নিহন শোকি' অনুযায়ী এই প্রাসাদের নির্মাণে অনেক কফুন ধ্বংস হয় এবং অনেক কৃষক স্থানান্তরিত হন, যাদের সকলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অর্থাৎ এটি একটি বড় নির্মাণ প্রকল্প ছিল। সরকার প্রবেশের পরও কাজ চলতে থাকে এবং এক বছর ছয় মাস পরে সম্পূর্ণ হয়। 'নিহন শোকি' বলেছে যে এটি দেশের পূর্ববর্তী যেকোনো নির্মাণের চেয়েও ভাস্বর ছিল। প্রাসাদের অবস্থান আবিষ্কৃত ও পুরাতাত্ত্বিকভাবে খনন করা হয়েছে। এটি ওসাকা ক্যাসল এর সাইটের ঠিক পাশেই, আধুনিক ওসাকার সেই এলাকায় যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে উচ্চতর।

৬৫১ সালে সিল্লা থেকে পাঠানো দূতরা কিউশুতে তাং রাজবংশের চীনা পোশাক পরেছিলেন। এটি ঐতিহ্যবাহী কোরীয় পোশাক থেকে আলাদা। এ কারণে সরকার অনুমান করেছিল সিল্লা জাপানের সঙ্গে পরামর্শ না করেই চীনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং দূতাবাস প্রত্যাখ্যাত হয়। সিল্লা ৬৪৯ সালে রাজার প্রাসাদের পোশাক পরিবর্তন করে চীনা শৈলীতে নিয়ে যায়। দুই বছর পর, ৬৫৩ সালে জাপান দুইটি জাহাজ এবং ২৪২ জন নিয়ে চীনে দূতাবাস পাঠায়। ৬৫৪ সালে একটি দ্বিতীয় দূতাবাস পাঠানো হয় যার নেতৃত্ব দেন তাকামুনে কুরোমারো এবং আবে নো ওমি মারো। 'ওল্ড টাং হিস্ট্রি' (যেখানে নিউ টাং হিস্ট্রি ও আছে) দ্বিতীয় দূতাবাসের কথা উল্লেখ করেছে। তখন তাকামুনে হয়তো খুব বৃদ্ধ ছিলেন এবং তিনি চীনে মৃত্যুবরণ করেন। ৬৫৩ সালের দূতাবাসের দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ধ্বংস হয়ে যায়, ১২১ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন বেঁচে যায়।

৬৫২ সালের প্রথম মাসে 'নিহন শোকি' খুব সংক্ষিপ্তভাবে জানিয়েছে যে ওই মাসে জমি পুনর্বন্টন করা হয় এবং একই বছরের চতুর্থ মাসে জনগণনার রেজিস্টার তৈরি হয়েছিল। বিস্তারিত তথ্য খুব কম দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি একটু অদ্ভুত, যেখানে বলা হয়েছে "প্রথম মাস থেকে এই মাস পর্যন্ত জমির পুনর্বন্টন সম্পন্ন হয়েছে।" সাধারণত জনগণনা আগে হয় যাতে জানা যায় কতগুলো পরিবার জমি পাবে। তাইহো বিধি অনুযায়ী জনগণনা এবং পুনর্বন্টন চক্র ছয় বছর। অনুমান করা হয় যে ৬৪৬ সালে শুরু হওয়া পুনর্বন্টন কার্যক্রমটি শেষ হয়েছে এবং তারপর তিন মাস পর পরবর্তী চক্রের জনগণনা শুরু হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে সম্ভবত এই কাজ ছিল ইয়ামাতো অঞ্চলের ছয় আগাতার এবং সম্ভবত সাম্রাজ্যিক মিয়াকের জমিতে একটি ছোট পরীক্ষা প্রকল্প। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরবর্তী নিশ্চিত জমির পুনর্বন্টন বিবেচনা করে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন না যে তখন জাতীয় স্তরে পুনর্বন্টন হয়েছে। হিতাচি ফুডোকি অনুযায়ী ৬৪৯ সালে কাশিমা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬৬৩ সালে শিনোডা, নামেকাতা ও ইওয়াকি জেলা তৈরি হয়। মনে হয় সরকার গ্রামীণ প্রশাসনের কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছিল এবং জনগণনা ও পুনর্বন্টন এখনও অনেক দূরে ছিল।

৬৫৩ সালে কোতোকু তেন্নো এবং নাকা নো ওয়ের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ হয়। নাকা নো ওয়ে প্রাসাদকে ইয়ামাতো প্রদেশে ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেন এবং সম্রাট তা অস্বীকার করেন। তবুও নাকা নো ওয়ে চলে যান, তার মা — প্রাক্তন কোগোকু তেন্নো এবং বর্তমান সম্রাজ্ঞী (নাকা নো ওয়ের বোন) ও তার সন্তানদের সঙ্গে। কোনো ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট তারিখ নেই, শুধু বছর উল্লেখ আছে। পরবর্তী বছরের ১০ম মাসে সম্রাট অসুস্থ হন এবং সবাই নানিভায় ফিরে আসেন এবং সম্রাটের মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হয় যে নাকা নো ওয়ে ভেবেছিলেন সম্রাটকে সরকারের কেন্দ্রে আনার প্রচেষ্টা খুব সফল হয়েছে এবং তার নিজের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। তাই নতুন ও ব্যয়বহুল নাগারা প্রাসাদে তেমন প্রস্তাব দেওয়া যা সম্রাট নিশ্চিতভাবেই প্রত্যাখ্যান করবেন। এরপর রাগে সরে গিয়ে ইয়ামাতো চলে যান এবং সবাইকে তাদের আসল ক্ষমতাধারী কে তা ভাবতে বাধ্য করেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ ব্যক্তি তার অনুসরণ করে ইয়ামাতো যান।

একটি আধুনিক মতবাদ আছে যে বিরোধের আসল কারণ ছিল নাকা নো ওয়ে তার বোন সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। 'নিহন শোকি' সম্রাজ্ঞীকে পাঠানো সম্রাটের একটি কবিতা উদ্ধৃত করেছে যা এই সম্পর্কের ইঙ্গিত দিতে পারে। এই তত্ত্ব বলে যে এর জন্যই নাকা নো ওয়ে ২৩ বছর ধরে সিংহাসনে আরোহণ করতে চাননি। সম্রাট হলে তার কোনো গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা থাকত না এবং তিনি গোপনে সম্পর্ক রাখতে পারতেন না। এছাড়াও বলা হয় কোতোকু তেন্নোর মৃত্যুর পর নাকা নো ওয়ে প্রকাশ্যভাবে তার বোনকে স্ত্রী হিসেবে দেখতেন। এমন কিছু বিবাহকে আমরা অজাচার দাম্পত্য মনে করলেও রাজবংশে এসব সাধারণ ছিল। তবে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। যদি এই বিবাহ সত্যি হয়, তা নিয়ম ভঙ্গ করত। পূর্বে এমন উদাহরণ আছ। মানুষেরা মনে করত নাকা নো ওয়ে ঐ সম্পর্ক চলাকালীন রীতিগতভাবে দুষিত ছিলেন। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহণ করতে পারেননি। তিনি তখনই (৬৬৮ সালে) সম্রাট হন যখন তার বোন মারা যান।

কোতোকু তেন্নোর একমাত্র পুত্র ছিলেন রাজকুমার আরিমা। কোতোকুর মৃত্যুকালে তিনি ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে নাকা নো ওয়ে তখন সিংহাসন গ্রহণ করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। পরিবর্তে তার মা দ্বিতীয়বার সিংহাসনে আরোহণ করেন, এবার সাইমেই তেন্নো নামে পরিচিত। 'নিহন শোকি' এতে কোনো ব্যাখ্যা দেয় না। এতে একটি বড় ঝুঁকি ছিল যে নিজের সিংহাসন গ্রহণ না করায় ভবিষ্যতে রাজকুমার আরিমা সিংহাসন পেতে পারে। এই কথাটি সমর্থন করে ধারণাটি যে ব্যক্তিগত জীবনের কারণে নাকা নো ওয়ে তখন সিংহাসন গ্রহণ করতে পারেননি।

মৃত সম্রাটের দেহ তার মৃত্যুর মাত্র দুই মাস পরে দাফন করা হয় এবং একই দিন রাজসভা ইয়ামাটোতে চলে যায়, আসুকায় ইটাবুকি প্রাসাদে অবস্থান নেয়। এই প্রাসাদে সাইমেই বাস করতেন যখন সোগা নো ইরুকার হত্যাকাণ্ড হয় এবং তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন। সাইমেই তখন প্রায় ৬২ বছর বয়সী ছিলেন। প্রায় এই সময়েই নাকা নো ওয়ের ছোট ভাই রাজকুমার ওয়ামা ২৫ বছর বয়সে রাজকাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন। নাকা নো ওয়ের পুত্র রাজকুমার ওতোমো তখন ৮ বছর এবং তার কন্যা উনো নো সরারা। তিনি পরবর্তীতে ওয়ামা ও জিতো তেন্নোর সম্রাজ্ঞী হন, ছিলেন ১১ বছর বয়সী। ইটাবুকি প্রাসাদ একটি অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে পরিকল্পিত ছিল, যেখানে নতুন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হচ্ছিল যা নানিওয়ার প্রাসাদের চেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। ৬৫৫ সালের শেষে ইটাবুকি প্রাসাদ আগুনে পুড়ে যায় এবং তারা ইয়াহারা প্রাসাদে চলে যায়।

ইতিহাসের এই পর্যায়ে রাজ দরবার বেশ কয়েকটি বড় নির্মাণ প্রকল্প শুরু করে। নিহন শোকি কাজের অমিতব্যয়িতা এবং ব্যয় সম্পর্কে জনপ্রিয় অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করেছে। নিহন শোকির মতে ৬৫৭ সালের নবম মাসে যুবরাজ আরিমা বিদ্রোহের ভিত্তি স্থাপন শুরু করেন। অভিযোগ করা হয় যে তিনি সাইমেই তেন্নোতে একটি নির্দিষ্ট উষ্ণ প্রস্রবণ পরিদর্শন করার সুবিধার প্রশংসা করেছিলেন যাতে তাকে রাজধানী ছেড়ে এটি দেখার জন্য রাজি করানো যায়, যাতে তিনি পথের বাইরে থাকাকালীন একটি অভ্যুত্থান মঞ্চস্থ করতে পারেন। সম্রাজ্ঞী প্রায় এক বছর পরে উষ্ণ প্রস্রবণ পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন, সোগা নো ওমি নো আকাইকে আসুকায় দায়িত্বে রেখেছিলেন। আকাই প্রিন্স আরিমার কাছে সাইমেইয়ের শাসন সম্পর্কে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমটি হল সরকার জনগণের কাছ থেকে খুব বেশি কর আদায় করছিল, দ্বিতীয়টি হল এটি খালের কাজের জন্য প্রচুর লোককে খসড়া করছিল এবং তৃতীয়টি হল তিনি একটি পাহাড়ের উপরে বড় বড় পাথর টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পদ নষ্ট করছিলেন (আসুকার বাইরে একটি পাহাড়ের উপরে একটি ফুল দেখার স্থান তৈরি করতে)। তারা বিদ্রোহের ছক কষতে আতাইয়ের বাড়িতে চলে যায়। যাইহোক, তারা কথা বলার সময় একটি আর্মরেস্ট স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে যায় এবং তারা এটিকে একটি অশুভ লক্ষণ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ভেঙে যায়। আতাই তৎক্ষনাৎ একদল লোককে সশস্ত্র করেছিলেন যারা নতুন প্রাসাদ নির্মাণে কাজ করছিল এবং আরিমার প্রাসাদ ঘিরে ফেলেছিল এবং রাজপুত্র আরিমা রাষ্ট্রদ্রোহের কথা বলেছিলেন বলে তাদের জানিয়ে আদালতে দূত প্রেরণ করেছিলেন। এরপরে নিহন শোকি "অন্য একটি বই" উদ্ধৃত করেছে যা বেশ কয়েকটি ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে আলোচনার আরও বিশদ এবং প্রশংসনীয় বিবরণ দেয় যা বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শেষ হয় যে রাজপুত্র আরিমা একটি সফল অভ্যুত্থান ঘটাতে সক্ষম ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত রাজপুত্র আরিমা এবং আরও দু'জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং আরও দু'জনকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। সোগা নো আতাই এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি নাকা নো ওয়ের খুব আস্থাভাজন ছিলেন। সর্বোপরি, রাজপরিবার দূরে থাকাকালীন তাকে রাজধানীর দায়িত্বে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর একটি কন্যাও ছিল যার সাথে নাকা নো ওয়ের বিয়ে হয়েছিল। সুতরাং এটি প্রশংসনীয় যে সোগা নো আতাই ইচ্ছাকৃতভাবে নাকা নো ওয়ের আদেশে যুবরাজ আরিমাকে পতনের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যিনি স্পষ্টভাবে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে উত্তরাধিকারের দাবিদার যে কোনও ব্যক্তিকে তিনি হুমকি হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাজপুত্র আরিমাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, 'স্বর্গ ও আকাই জানে কী ঘটেছিল। আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই গল্পটি বেশ কয়েকটি বেঁচে থাকা কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি মৃত্যুদণ্ডের আগে রাজপুত্রকে দায়ী করা হয়েছিল এবং এটি প্রদর্শিত হয় যে আভিজাত্যের মধ্যে যুবরাজ আরিমার প্রতি প্রচুর সহানুভূতি ছিল।

৬৫৮ সাল পূর্ব সীমান্তে সামরিক কার্যকলাপের উপলক্ষও ছিল। পূর্ব বর্বরদের জন্য ব্যবহৃত শব্দ 蝦夷 সাধারণত টোকুগাওয়া আমল থেকে এজো উচ্চারণ করা হয়। এজো সেই সময়ে হোক্কাইডো দ্বীপের সাধারণ নামও ছিল। যাইহোক, এটি ভালভাবে বোঝা যায় যে প্রাচীনকালে শব্দটি এমিশি উচ্চারণ করা হতো। এটি সোগা নো এমিশির ব্যক্তিগত নামের মতো একই শব্দ। নিহন শোকিতে এমিশির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম উল্লেখটি জিম্মু এবং সুজিনের মধ্যে অনুমিত কাল্পনিক শাসকদের মধ্যে অন্যতম কেইকো টেনোর রাজত্বকে অর্পণ করা হয়। তাকেউচি নো সুকুনে, ইয়ামাতো তাকেরু নো মিকোটো এবং প্রিন্স মিমোরোয়াকে সম্পর্কে গল্পগুলিতে এই জাতীয় অভিযানের গল্প রয়েছে। চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দীতে ওজিন, নিন্টোকু, ইউরিয়াকু এবং সেইনির নিবন্ধগুলিতে এমিশির শ্রদ্ধা নিবেদনের উল্লেখও রয়েছে। আধুনিক ঐতিহাসিকগণ এই উপাদানগুলির কোনওটিতেই খুব বেশি আস্থা রাখেন না। আমার পর্যবেক্ষণে কোজিকির খুব বেশি উল্লেখ করা হয়নি কারণ এতে খুব কম উপাদান রয়েছে যা সারগর্ভ ইতিহাস হিসাবে অভিপ্রেত, তবে এটি নিহন শোকির চেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে আরও খাঁটিভাবে বিশ্বাস করা হয়। এটি কোনও সরকারী প্রকল্প ছিল না, তবে একক লেখক ছিলেন। কোজিকিতে একবারের জন্যও এমিশির নাম নেই। ৪৭৮ দূতাবাসের অংশ হিসাবে চীনাদের কাছে জমা দেওয়া বিখ্যাত চিঠিতে বলা হয়েছে যে জাপানি শাসক পূর্বের ৫৫টি দেশ জয় করেছিলেন, যার নাম আক্ষরিক অর্থে "লোমশ মানুষ", এবং পশ্চিমে ৬৬ টি দেশ জয় করেছিলেন (衆夷)। শোটোকু তাইশি সম্পর্কে একটি বই রয়েছে যা সোগা নো এমিশির নাম লেখার জন্য 毛人 ব্যবহার করে, তাই সম্ভবত এটিই উদ্দেশ্য ছিল। 毛人 নিজেই বর্বরদের জন্য একটি সাধারণ চীনা শব্দ।

সব মিলিয়ে মনে হয়, জাপানের সুদূর পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী অনিয়ন্ত্রিত জনগোষ্ঠী কেবল ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষার্ধে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৫৮৯ সালে ওমি নো ওমি মাতসুকে এমিশির সাথে সীমান্ত পরিদর্শন করার জন্য তোসান্ডো যাত্রাপথ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছিল। কিছু ঐতিহাসিক এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তবে বেশিরভাগই এটিকে প্রামাণিক হিসাবে গ্রহণ করেছেন। অন্যান্য কর্মকর্তাদের একই সাথে হোকুরিকুডো এবং টোকাইডো যাত্রাপথ বরাবর পূর্ব পরিদর্শনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। যাইহোক, কোনও টীকাত পরবর্তী উল্লেখটি ৬৪২ অবধি আরও অর্ধ শতাব্দীর জন্য ঘটে না যখন কোশি অঞ্চলের "কয়েক হাজার" এমিশি (হোকুরিকুডো) দরবারে "জমা দিয়েছিলেন"। এই লোকদের নেতারা দরবারে এসেছিলেন, যেখানে তারা সোগা নো এমিশির প্রাসাদে আপ্যায়ন করেছিলেন। ৬৫৪ সালে অভ্যুত্থানের পরে বিশেষ গভর্নরদের পূর্বের পরিস্থিতি পরিদর্শন করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল এবং ৬৪৭ সালে নুটারি নামে একটি জায়গায় একটি দুর্গ নির্মিত হয়েছিল। ব্যবহৃত অক্ষরটি একটি কাঠের স্টকেড ধরণের দুর্গকে বোঝায়। পরের বছর ইওয়াফুনে একটি দ্বিতীয় দুর্গ নির্মিত হয়েছিল। এরপরে দুর্গগুলির জন্য খাদ্য উৎপাদন এবং কিনোব বা "দুর্গ" হিসাবে পরিচিত অন্যান্য পরিষেবা সরবরাহের জন্য আরও অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে লোকদের স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। নুতারি দুর্গের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে নিগাতা শহরে এই নামের একটি পাড়া রয়েছে। আইওয়াফুন একটি আধুনিক স্থাননামও। এটি নিগাতা থেকে উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কাছাকাছি একটি বন্দর এবং কৃষিজমি সহ একটি অনুকূল সাইটে অবস্থিত।

বছরগুলোর আলোচনায় এমিশি আসলে আয়নু কিনা বা তারা জাতিগতভাবে জাপানি হলেও ইয়ামাটো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ১৯২০-এর দশক পর্যন্ত ধারণা ছিল তারা আয়নু, কারণ 蝦夷 শব্দটি আয়নু বোঝাতো। তারপর জানা গেল জাপানি জাতি ইয়ায়ই সংস্কৃতির সঙ্গে দেশে এসেছে, আর জোমোন সংস্কৃতি অন্য জাতির ছিল, যার অবশিষ্ট আয়নু হতে পারে। আয়নুদের দেহে তুলনামূলক বেশি শরীরের লোম থাকার জন্য 毛人 শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। তবে সন্দেহ বাড়তে শুরু করে যে এজো শব্দ আয়নু বোঝালে ও ইমিশি শব্দের একই অর্থ হওয়ার প্রমাণ নেই। চীনা অক্ষরের বহুবিধ ব্যবহার জাপানি ভাষায় স্বাভাবিক। তাই ইমিশি জনজাতি বোঝায় না বলে ধারণা বেশি প্রবল। জোমোন কঙ্কালের মনুষ্যবিজ্ঞানের গবেষণায় আয়নুদের সাথে তাদের মিল পাওয়া যায়নি। এমিশি হয়তো জোমোন বংশোদ্ভূত হলেও আয়নু নাও হতে পারে। তবে তারা বর্তমান আয়নু জনগোষ্ঠীর একাংশ হতে পারে এবং সাইবেরিয়া থেকে লোকেদের বিভিন্ন ঢল হোক্কাইডোতে এসেছে এটাও পাওয়া গেছে। 毛人 শব্দটি সম্ভবত প্রাকৃতিক লোমযুক্ত লোকদের জন্য নয় বরং পশম পরিধানকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। তাই এটি বিতর্কে সরাসরি প্রাসঙ্গিক নয়। কোফুন যুগের খননায় এমিশিদের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে অনেক কফুন পাওয়া গেছে।

কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও নেই যে সংঘর্ষের সময়কালে এই অঞ্চলে কোনো স্বতন্ত্র জাতির উপস্থিতি ছিল। মুৎসু ফুজিওয়ারা পরিবারের চার ধারাবাহিক প্রজন্মের মমি হিরাইসুমির চুসোনজিতে সংরক্ষিত আছে, যেগুলি ১৯৫১ সালে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং দেখা গিয়েছিল যে তারা আইনু নয়, বরং জাপানিদের মতোই। এই পরিবারকে ব্যাপকভাবে ইমিশি বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হয়। সামগ্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে আইনু ও জোমন জনসংখ্যার মধ্যে কোনো সত্যিকারের সংযোগ নেই কারণ তাদের মধ্যে কোনো ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যায় না। হক্কাইডোতে প্রথম নিশ্চিত আইনু জীবাশ্ম অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক। তবে এ থেকে ইমিশিরা জোমন বংশধর ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন মিটে যায় না। এখানে দেখা যায় যে, প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বিশ্বাস করেন যে ইয়ায়োই ধানের চাষের সংস্কৃতি উত্তরপূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অভিবাসীদের সংখ্যা কমে গিয়েছিল এবং অনেক জোমন মানুষ নতুন জীবনযাত্রায় "রূপান্তরিত" হয়েছিল। ইয়ায়োই ধানের চাষের সর্বোত্তর সীমা "ইমিশি" অঞ্চলের ভিতরে ছিল এবং একই কথা কোফুন যুগের জীবাশ্মগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্য তত্ত্বগুলোর সমর্থকরা এখনও আছেন। তবে আমার বিশ্বাস বেশিরভাগ আধুনিক ইতিহাসবিদ মনে করেন ইমিশি হওয়ার মূল কারণ ছিল তারা ইয়ামাটো রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে ছিল, ভাষাগত বা সাংস্কৃতিকভাবে পূর্ববর্তী "জাপানি" থেকে তারা খুব ভিন্ন ছিল না যারা সীমান্তের অন্য পাশে বাস করত। আমি লক্ষ্য করেছি যে কখনোই কারও দ্বারা "ইমিশি ভাষা" শেখার চেষ্টা করার উল্লেখ নেই, অথচ সিরার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে "সিলা ভাষা" শেখার কথা বেশ কয়েকবার উল্লেখ আছে।

আমার প্রশ্ন, যার কোনও উত্তর আমি কখনো দেখিনি, তা হলো কেন সোঘা নো ইমিশির নামটা হল? বিশেষ করে ৬৪২ সালে যখন ইমিশিদের একটি দল দরবারে আসলো, তখন তাকে তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অবশ্যই কোনো সম্পর্ক ছিল। এমন ব্যক্তি যার মর্যাদা এত বড়, তার ইমিশিদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য পূর্ব দিকে উল্লেখযোগ্য সময় কাটানো সম্ভব নয়। তবে দেখা যায় ষষ্ঠ শতকে অনেক ইমিশিকে ইয়ামাটো অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং শাসক বংশের সম্পত্তির পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। সোঘাদের এই ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা ছিল বলেও মনে হয় এবং এর ফলে তিনি ইমিশিদের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত হতে পারতেন। একটি প্রাপ্তবয়স্ক অভিজাত ব্যক্তি যে নাম ব্যবহার করতেন, তা তার শৈশবের নাম ছিল না। আমেরিকান ভারতের মতো, যখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হতেন, আপনাকে একটি নতুন নাম দেওয়া হতো। এটি আপনার জন্য বিশেষ মানানসই হতে পারত। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে অনেক অদ্ভুত নাম ছিল, যার মধ্যে ইমিশিও একটি।

৬৫৮ সালের অভিযান আবে নো হিরাউয়ের নেতৃত্বে ছিল এবং এটি ৬৫৯ ও ৬৬০ সালেও পুনরাবৃত্তি হয়। বর্ণনাগুলো বিভ্রান্তিকর। ধারণা করা হয় নিহন শোকির লেখকগণ বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং আসলে অভিযানের সংখ্যা কম, বা সম্ভবত দুইটি।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ হলো, ৬৫৮ সালে আবে ১৮০টি নৌকায় উত্তরে গিয়ে আকিতা ও নুশিরো (সম্ভবত আধুনিক আকিতা ও নোশিরো) পৌঁছান। সেখানে তিনি তিনটি আলাদা ইমিশি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের আনুগত্যের শপথ করান, স্থানীয় প্রশাসনের পদে নিযুক্ত করেন এবং দেশে ফিরে আসেন। পরের বছর ৬৫৯-এ আবার ১৮০ নৌকায় একই স্থানে গিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে দেখা করেন, যাদের মধ্যে কেউ তাঁকে রাজধানীর জন্য একটি স্থান বেছে নিতে বলেন এবং তিনি তা করেন। আবারো তিনি পদবী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বন্টন করে ফিরে আসেন। ৬৬০ সালে পরিস্থিতি আলাদা। শুরুতেই নিহন শোকি বলে যে তিনি সু-শেন (粛慎) দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালান। বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি উত্তর দিকে একটি অবর্ণিত নদী পর্যন্ত যাত্রা করেন, যেখানে ২০টি সু-শেন জাহাজ থেকে পালাচ্ছিল ১০০০ জন ইমিশি। আবে সু-শেনদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন, তারপর এমন এক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন যা নিহন শোকির লেখকদের বিভ্রান্ত করে তোলে, কিন্তু যেকোনো নৃতত্ত্বের ছাত্রের কাছে স্পষ্ট। শেষে সু-শেনদের একটি দুর্গতে অনুসরণ করে তাদের ধ্বংস করে দেন।

এ ব্যাপারে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, যেমন স্থানীয় নামগুলো কোথায় ছিল, আসলে তিনটি অভিযান হয়েছিল কি না, ৬৫৯ সালের অভিযানটি ৬৫৮ সালের ভুল পুনরাবৃত্তি কিনা। সু-শেন কারা ছিলেন।

ভৌগোলিক বিতর্ক প্রধানত আবে হক্কাইডো পর্যন্ত গিয়েছিলেন কি না তা নিয়েই। ৬৫৮ সালের টীকা বলে আবে ১৮০ নৌকায় আকিতা ও নুশিরোতে পৌঁছান। আকিতা নোটারি ও ইওয়াফুনের চেয়ে অনেক উত্তরে। আকিতা নারা যুগে এই অঞ্চলের যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র ছিল। নুশিরো সম্ভবত আধুনিক নোশিরো, আকিতার কাছাকাছি। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদ্বীপের অন্য পাশে। আকিতায় আবে স্থানীয় ইমিশিদের সঙ্গে মিলিত হন, যারা একত্রিত হয়ে দেবতার নামে দরবারের প্রতি আনুগত্যের শপথ করেন। আজকের দিনে আকিতা কিল্লার স্থানে একটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে, যাকে কোশিও জিনজা বলা হয়, অর্থাৎ "কোশির দেবতার মন্দির।" আবে ইমিশি নেতাদের সরকারি পদ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করেন। তারপর, নিহন শোকি বলে, তিনি ওয়াতারিনোশিমার অন্য একটি ইমিশি দলকে আরিমা সৈকতে ডেকে পাঠান, যারা তাদেরও আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তারপর তাদের দেশে পাঠানো হয়। এরপর আবে দেশে ফিরে আসেন। প্রশ্ন হলো, ওয়াতারিনোশিমা ("যে দ্বীপ পার হয়ে যায়") কোথায় ছিল? অনেকদিন ধরে ধরে নেওয়া হয়েছে যে এটি দক্ষিণ হক্কাইডো। তবে এর কোনো প্রমাণ নেই। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন আবে এত দূর যেতে পারেননি এবং এটি হয়তো উত্তরের ত্সুগারু উপদ্বীপ। এটি প্রাচীনকালে অনেকটাই দ্বীপের মতো ছিল কারণ এটি শুধুমাত্র নৌকায় যাত্রা করে পৌঁছানো যেত, কারণ এটি হনশু থেকে পর্বতমালার একটি বিস্তীর্ণ বলয় দ্বারা পৃথক ছিল। এমনকি তাও হয়তো অনেক দূর, কারণ প্রত্নতাত্ত্বিকরা ত্সুগারু অঞ্চলকে হক্কাইডোর সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করেন, হনশুর আরও দক্ষিণের ইমিশিদের তুলনায়। একমাত্র সত্যিকারের ইঙ্গিত হলো নিহন শোকি কোনো অতিরিক্ত যাত্রার কথা বলছে না, শুধু বলছে ওয়াতারিনোশিমার ইমিশিদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

৬৬০ সালের অভিযান আরও জটিল। প্রথমত, সু-শেন (粛慎) নামটি প্রাচীন চীনা ইতিহাস থেকে, চৌ রাজবংশ থেকে। চীনারা মাঝে মাঝে এই নাম ব্যবহার করত মাঞ্চুরিয়ার মানুষের জন্য যাদের ইয়িলৌ বলা হত এবং যাদেরকে বিশ্বাস করা হয় জুরচেনদের পূর্বপুরুষ যারা লিয়াও রাজবংশ গড়ে তুলেছিল। অর্থাৎ, তারা এমন এক জনগোষ্ঠী যারা পুয়োদের (পূর্বপুরুষের জাপানি ধারণা) মতো ছিল এবং একই মাঞ্চুরিয়ান অঞ্চলে বাস করত। তারা কীভাবে হক্কাইডোর চারপাশে নৌকা চালাত তা সহজে বোঝা যায় না। এক মত হলো, জাপানিরা কোনো চীনা গ্রন্থ থেকে নামটি তুলে নিয়েছিল। জাপানি উচ্চারণে এটা মিশিহাসে ছিল, কিন্তু এর কোনো প্রতিপাদ্য নেই। এই সময় জাপান কোগুরোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল, যাদের নিশ্চয়ই মাঞ্চুরিয়ার সব জনগোষ্ঠী সম্পর্কে ভাল ধারণা ছিল। হয়তো তারা আমাদের চেয়ে বেশি জানত। অথবা ধারণা করা হয়, প্রাচীন সু-শেন চীনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছিল এবং এই লোকেরা জাপানের উত্তর-পূর্বে ছিল। তাই সু-শেন নামটি তাদের জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়েছিল। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করেন এটি ওখোটস্ক জনগণের সঙ্গে মিলে যায়, যারা সাইবেরিয়া থেকে হক্কাইডোর অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারা সহজেই হনশুর দক্ষিণে অনুসন্ধানকারী দল পাঠিয়েছিল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো এই নিবন্ধে বর্ণিত একটি ধরনের অন্ধ ব্যবসা। এটি বিশ্বব্যাপী বহু স্থানে দেখা যায় যেখানে মানুষ দাসপ্রথার ভয়ে বা ভাষাগত অমিলের কারণে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলে। এক পক্ষ মাটিতে নানা পণ্য ছড়িয়ে রেখে চলে যায়। অন্য পক্ষ এসে তা দেখে তাদের পণ্য দেয়। এভাবে লেনদেন চলে যতক্ষণ দুই পক্ষই সন্তুষ্ট হয়। তারপর প্রত্যেক দল তাদের কেনা জিনিস ও অবিক্রিত জিনিস নিয়ে চলে যায় এবং কেউ কারো কাছাকাছি আসেনা। এটি নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে নিহন শোকির লেখকরা বুঝতে পারেননি এটি একটি বাণিজ্য। এরপর বলা হয়েছে আবে তাদের শিবিরে অনুসরণ করে আক্রমণ চালিয়ে সবাইকে মেরে ফেলে। এর কোনো কারণ দেওয়া হয়নি। পুরো ঘটনা রহস্যময় এবং সম্ভবত নিহন শোকির উপস্থাপনার চেয়ে অনেক জটিল ছিল। তবে এটি হনশুর দূর উত্তরে জাপানি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জড়িত হওয়ার সূচনা, যেখানে পরবর্তী ২০০ বছর ধরে একটি "সক্রিয়" সীমান্ত ছিল।

পাইকচের পতন

[সম্পাদনা]

একই সাথে আবে নো হিরাওয়ের ৬৬০ সালের অভিযানের সাথে সাথে জাপান তাং চীন এবং সিল্লার সম্মিলিত বাহিনীর হাতে পাইকচে ধ্বংসের কবলে পড়ে। এটি এই অঞ্চলে একটি অশান্ত সময়ের সূচনা করেছিল যা শেষ পর্যন্ত সিলার শাসনের অধীনে কোরিয়ার একীকরণের দিকে পরিচালিত করে। পুরোনো এবং নতুন তাং রাজবংশীয় ইতিহাস, কোরীয় সামগুক সাগি এবং নিহন শোকিতে এই ঘটনাগুলির বিশদ বিবরণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যথায় অজানা কোরীয় উপকরণ থেকে বিস্তৃত উদ্ধৃতি রয়েছে। জাপান পাইকচেকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য কোরিয়ায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল এবং চীন বা সিল্লা বা উভয়ের আক্রমণের ভয়ে দীর্ঘকাল ধরে বাস করেছিল। জাপান দরবারে কমপক্ষে প্রথম নারা যুগে নির্বাসনে থাকা পাইকচের রাজাও বজায় রেখেছিল এবং হেইয়ান যুগের শেষের দিকে এখনও সক্রিয় ছিল 百済王 নামে একটি অভিজাত পরিবার "পাইকচের রাজা" পায়েচের জাপানি নামটি রাজার জন্য কোরীয় শব্দের সাথে একত্রিত করে কুদারানোকোনিকিশি উচ্চারণ করেন।

এটি ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৬৪৯ সালে সিল্লা চীনা শৈলীর সাথে মেলে দরবারে সরকারী পোশাক পরিবর্তন করেন এবং ৬৫০ সালে এটি তাং রাজবংশের রাজত্বের উপাধিগুলি নিজের হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ৬৫৪ সালে কিম মুরিওল সিলার রাজা হন। এর আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিল্লা দূতাবাস নিয়ে জাপান ও চীন সফর করেন। পূর্ববর্তী দুই সিল্লা শাসক রানী ছিলেন। তাই তার অবস্থান সম্ভবত যুবরাজ নাকা নো ওয়ের মতো এতটা ভিন্ন ছিল না। পরিস্থিতি যেভাবে এগিয়েছে তা থেকে এটি যুক্তিসঙ্গতভাবে স্পষ্ট যে চীন এবং সিল্লা উভয়ই শুরু থেকেই তার নিকটতম শত্রু পাইকচে এবং কোগুরিওকে ধ্বংস করতে এবং তারপরে কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে আবির্ভূত হওয়ার জন্য একে অপরকে ব্যবহার করার আশা করেছিল। পাইকচে এবং কোগুরিও একে অপরের সাথে মিত্রতা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল এবং ৬৫৯ সালে তারা সিল্লার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে যা ২০ টি দুর্গ দখল করে। সিল্লা চীন থেকে সাহায্যের অনুরোধ করে এবং চীন সাড়া দিয়ে খুশি হয়েছিল। ৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা মুরিওলের এক পুত্রের সাথে একজন চীনা জেনারেলের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করা হয়। তিনি সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে সেই সময় চীনে ছিলেন। এই বাহিনীতে ১,৩০,০০০ সৈন্য ছিল এবং সমুদ্রপথে কোরিয়ায় প্রবেশ করেছিল। এটি ছিল "সু-শেন" এর বিরুদ্ধে আবে নো হিরাওয়ের যুদ্ধের ঠিক একই সময়। বিস্মিত হয়ে পাইকচে সেনাবাহিনীর পতন ঘটে। পশ্চিম দিকের উপকূল থেকে অগ্রসর হওয়া চীনারা এবং পূর্ব দিক থেকে আসা একটি সিল্লা সেনাবাহিনী পাইকচে রাজধানীতে একত্রিত হয়েছিল। এটি দ্রুত আত্মসমর্পণ করেছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাইকচে ধ্বংস হয়ে যায় বা তাই মনে হয়েছিল। রাজা এবং বিপুল সংখ্যক অভিজাতদের বন্দী হিসাবে চীনে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং পাইকচেকে চীনা অঞ্চল হিসাবে সংগঠিত করা হয়েছিল। চীনা সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ তৎক্ষণাৎ ফিরে আসে, প্রাক্তন পাইকচে রাজধানীতে আরও ৮,০০০ সিল্লা সেনার সমর্থনে ১০,০০০ লোকের একটি বাহিনী রেখে যায়। তবে, গ্রামাঞ্চলকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রকৃতপক্ষে কিছুই করা হয়নি এবং চীনা সেনাবাহিনী প্রত্যাহার শেষ করার আগেই বিদ্রোহী বাহিনী তাৎক্ষনিকভাবে অনেক জায়গায় উপস্থিত হয়েছিল।

নিহন শোকির এই বিদ্রোহের বিবরণের বিষয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিকর। সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাথমিক বিদ্রোহী ছিলেন 鬼室福信 নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। তিনি কৃষি সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত কৃষকদের দ্বারা একটি সিল্লা বাহিনীকে আক্রমণ করেন এবং তাদের পরাজিত করেন এবং তাদের অস্ত্র নিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টতই একজন পাইকচে কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি পাইকচে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিলেন। প্রায় একই সময়ে পাইকচে থেকে লোকেরা জাপানের দরবারে এসে কী ঘটেছিল তা জানায়। এক মাস পরে 鬼室福信 থেকে দূত এবং আরেকজন নেতৃস্থানীয় বিদ্রোহী কমান্ডার 佘自進 জাপানে এসে সাহায্য চেয়েছিলেন। জাপানি দরবারে একজন পাইকচে রাজপুত্র বাস করছিলেন এবং তারা তাকে রাজা বানানোর এবং পাইকচে পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা করেন। এতে নিজেদের সম্পৃক্ত করা স্পষ্টতই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে কিছু না করাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বছরের শেষে আদালত তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেয় কারণ সাইমেই এবং দরবার নানিওয়ায় চলে যায় এবং পুরো দরবারকে উত্তর কিউশুতে স্থানান্তরিত করার প্রস্তুতি শুরু করে, যেখান থেকে তারা আসন্ন যুদ্ধের নির্দেশ দেবে। নানিওয়ায় পৌঁছানোর দুই সপ্তাহ পরে তারা ৬৬১ সালের প্রথম মাসে কিউশুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তিন দিন পরে তারা কিবিতে পৌঁছেছিল, যেখানে এটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে এই পদক্ষেপটি কতটা বিস্তৃত ছিল কারণ রাজকুমার ওমার স্ত্রী একটি বাচ্চা মেয়ের জন্ম দিয়েছিলেন। এই অভিযানের সময় আরও বেশ কয়েকটি রাজকীয় শিশুর জন্ম হয়েছিল। তারা আট দিনের মধ্যে পশ্চিম শিকোকুর আধুনিক মাতসুয়ামা অঞ্চলে পৌঁছেছিল এবং সেখানে কিছুক্ষণের জন্য শিবির স্থাপন করেছিল। দুই মাস পরে তারা কিউশুতে স্থানান্তর সম্পন্ন করে, হাকাটা বেতে পৌঁছে। তারা সেই সময়ে একটি অস্থায়ী প্রাসাদ স্থাপন করেছিল তবে দুই মাস পরে এটি একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। সৈন্যদের মধ্যে অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছড়িয়ে পড়ে এবং ৬৬১ এর ৭ তম মাসে সাইমেই তেন্নো মারা যান। স্থানীয় ঐতিহ্য তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছিল যে অস্থায়ী প্রাসাদের জন্য কাঠ নিকটবর্তী একটি মন্দির ভেঙে উপরে পড়েছিল।

যুবরাজ নাকা নো ওই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন এবং সম্রাটের পদ গ্রহণের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেননি। সঠিকভাবে বলতে গেলে তখন একটি অন্তর্বর্তীকাল ছিল। তবে ৬৬২ সাল থেকে তেনচি তেন্নোর রাজত্বের বছর গণনা শুরু করা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম বিচ্ছিন্নতা ৬৬২ সালের প্রথম মাসে আজুমি নো মুরাজি হিরাউয়ের কমান্ডে কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় শুরু হয়। তাঁর সাথে ছিলেন পাইকচে রাজপুত্র, ইয়ামাবে নো ওমি মোমো, সাই নো মুরাজি আজিমাসা, হাতা নো মিয়াৎসুকো তাকুতসু এবং ৫,০০০ পুরুষ। তারা পঞ্চম মাসে কোরিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করেছিল এবং তাদের কাছে ১০০,০০০ তীর এবং অন্যান্য সামরিক সরবরাহ সরবরাহ করেছিল। ইতিমধ্যে চীনারা একজন নতুন কমান্ডার নিয়োগ করে এবং সিল্লা পাইকচেতে অতিরিক্ত সৈন্যও প্রেরণ করে। সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। কোরীয় বিদ্রোহীরা সাবেক রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি দুর্গ দখল করে নেয়। ৬৬২ খ্রিষ্টাব্দের শেষ নাগাদ বিদ্রোহীরা পাইকচের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ৬৬৩ এর গোড়ার দিকে সিল্লা একটি বড় আক্রমণ শুরু করে এবং বিদ্রোহীদের পিছু হটতে হয়েছিল। তবে চতুর্থ মাসে দ্বিতীয় জাপানি সেনাবাহিনী ২৭,০০০ পুরুষ নিয়ে এসেছিল। কমান্ডার ছিলেন কামিতসুকেনু নো কিমি ওয়াকাকো। এই নামের অর্থ তিনি পূর্ব জাপানের কান্টো অঞ্চল এবং কুনিনোমিয়াৎসুকো শ্রেণীর ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন হাশিহিতো নো ওমি ওফুতা, কোসে নো কামিসাকি নো ওমি ওসা, মিওয়া নো কিমি নেমারো, আবে নো হিকিতা নো ওমি হিরাও এবং ওয়াকে নো ওমি কামায়ে। এই শক্তিবৃদ্ধির সাথে বিদ্রোহীরা আবার আধিপত্য অর্জন করেছিল। এর অর্থ হলো জাপানিদের কোরিয়ায় মোট ৩২,০০০ পুরুষ ছিল এবং বাহিনীটি স্পষ্টতই রচনায় দেশব্যাপী ছিল। নিহন শোকিতে উল্লিখিত নামগুলি থেকে এটি বলা সম্ভব যে সেখানে কিউশু এবং শিকোকুর প্রায় প্রতিটি প্রদেশ এবং সুদূর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রসারিত অন্যান্য অনেক জায়গা থেকে সৈন্য ছিল। ধারণা করা হয় যে, দ্বিতীয় সেনাবাহিনীর সাথে আবে নো ওমি হিরাও একই ব্যক্তি যিনি উত্তর অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রায় একই সময়ে, পাইকচে বিজয়ের মূল চীনা কমান্ডার ৭,০০০ লোক নিয়ে ফিরে আসেন।

ঠিক এই মুহুর্তে কোরীয় নেতাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিদ্রোহটি প্রায় মারাত্মক আঘাত হানে। পাইকচে রাজকুমার রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং তাকে হত্যা করা হয়। ৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ম মাসে চীন ও সিল্লা উভয়ই কোরিয়ান উপকূলে মিলিত হয়ে একসাথে অভিযান চালানোর জন্য বিশাল শক্তিবৃদ্ধি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। একই সময়ে জাপানিরা একটি তৃতীয় বাহিনী প্রেরণ করেছিল যা চীনাদের দ্বারা বেঁছে নেওয়া ঠিক একই বিন্দুতে উপকূলে অবতরণ করার উদ্দেশ্যে ছিল। এই পদক্ষেপটি রাজকুমার 豊璋 দ্বারা আক্রমণের সাথে সমন্বয় করার কথা ছিল। জড়িত জাপানি সেনারা একটি নতুন বাহিনী ছিল নাকি কামিতসুকেনু নো কিমি নো ওয়াকাকোর অধীনে ২৭,০০০ থেকে একটি বিচ্ছিন্নতা ছিল তা স্পষ্ট নয়। ইওহারা নো কিমির নেতৃত্বে ১০,০০০ পুরুষ ছিল। চীনা ও সিল্লা অভিযাত্রীরা ৬৬৩ সালের ৮ম মাসের ১৭তম দিনে যোগাযোগ করে। চীনা নৌবহরে ১৭০টি জাহাজ ছিল। ইওহারা নো কিমির নেতৃত্বে জাপানি বাহিনী ১০ দিন পরে এসে চীনাদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যা দু'দিন স্থায়ী হয়। জাপানিরা একে হাকুসুকি নো ই বা হাকুসুকি উপসাগরের যুদ্ধ বলে অভিহিত করে। সামগুক সাগি বিবরণে বলা হয়েছে যে জাপানিদের "১০০০ জাহাজ ছিল", সম্ভবত এটি অতিরঞ্জিত। জাপানি বাহিনী পরাজিত হয় এবং মূলত সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে দেখা যাচ্ছে যে জাপানিরা চীনা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার জন্য সমস্ত কিছু বাজি ধরেছিল এবং চীনা ডানা দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে ঘিরে ফেলেছিল। পুরোনো তাংয়ের ইতিহাস বলছে যে চারটি পৃথক লড়াই হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৪০০ জাপানি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল এবং এগুলোর কর্মীরা ডুবে গিয়েছিল। এই যুদ্ধের সমাপ্তির পরে উপকূলে সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থিত যুবরাজ সংগ্রাম ত্যাগ করে কোগুরিওতে পালিয়ে যান। জাপানিরা বিপুল সংখ্যক পাইকচে শরণার্থী সহ তাদের অন্যান্য সেনাবাহিনীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল।

আসলে এখানেই গল্পের শেষ নয়। পরে চীনারা তাদের বেশিরভাগ বাহিনীকে কোগুরিও আক্রমণের জন্য স্থানান্তরিত করে এবং পাইকচে আবার বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। এবার সিল্লা বিদ্রোহের সুযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চীনের বিরুদ্ধে কোগুরিওতে বিদ্রোহী ও বিদ্রোহীদের সাথে জোটবদ্ধ হয় এবং চীনাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে সফল হয়। এরপরে তারা সিল্লার একীভূত রাজ্যের অধীনে এই অঞ্চলের প্রাক্তন পাইকচে শাসক পরিবারের গভর্নর হন।

স্বাভাবিকভাবেই, নাকা নো ওকে এই সম্ভাবনাটি বিবেচনা করতে হয়েছিল যে চীনা এবং বা সিল্লা বাহিনী অবিলম্বে বা ভবিষ্যতের কোনও সময়ে জাপান আক্রমণ করবে। তবে এই বিপর্যয় দেশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দেবে কিনা তা নিয়েও তাকে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়েছে। এটি স্পষ্ট নয়। তবে এটি প্রদর্শিত হয় যে তিনি ৬৬৩ এর শেষের কিছু সময় আগে ইয়ামাতোতে ফিরে আসেন। আক্রমণ থেকে কিউশুর প্রতিরক্ষার জন্য তিনি যা করতে পারেন তা করেন। এই সময়ে তিনি সিংহাসনে আরোহণের বিষয়ে কিছুই করেননি এই বিষয়টি সাধারণত এই প্রস্তাবের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হিসাবে গ্রহণ করা হয় যে, তিনি তার বোন রাজকুমারেস হাশিহিতোর সাথে অজাচারি বিবাহ করেন। নিহন শোকির একটি বিবরণ রয়েছে যে ইঙ্গিও তেন্নোর মৃত্যুর পরে অভিজাতরা ঠিক একই কারণে তার উত্তরাধিকারীকে সিংহাসনে বসাতে অস্বীকার করেছিল এবং পরিবর্তে তার ছোট ভাইকে বেছে নিয়েছিল। এর অর্থ হলো নাকা নো ও এটি চেষ্টা করার সাহস করেনি। এবার তিনি কেবল সিংহাসন খালি রেখেছিলেন, উপযুক্ত আসন গ্রহীতা উপলব্ধ ছিল না। তবে, এটি অবশ্যই ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে যে কেউ তার বিরুদ্ধে যেতে সক্ষম হতে পারে। এই সময়ে তার প্রধান সুবিধা ছিল যে যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে রাজকুমার ফুরুহিতো এবং রাজকুমার আরিমাকে নিষ্পত্তি করেন। তাই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসাবে একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প ছিলেন তার নিজের ভাই রাজকুমার ওমা। এই যুগে ভাইয়েরা ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার প্রতিটি বৈশিষ্ট্য দিয়েছিলেন। নাকা নো ওই তার দুই মেয়েকে ওমার সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। তারা হলেন রাজকুমারী ওটা এবং রাজকুমরী উনো নো সারারা। উনো নো সারারা ৬৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩ বছর বয়সে ৬৫৭ সালে ওমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন (জাপানি গণনা)। ধারণা করা হয়, রাজকুমার ওমার বয়স তখন ২৭ বছর। অবশেষে, ওমা নাকা নো ওয়ের চার কন্যাকে বিয়ে করেন, শেষ দু'জন তিনি সম্রাট হওয়ার পরে।

সাম্রাজ্যবাদী/অভিজাত যৌন জীবন সম্পর্কে একটি অতিরিক্ত টীকা রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। জাপানি কবিতার প্রথম সংকলন মানিয়োশু-এ একটি রাজকুমারী নুকাতার ৩ টি দীর্ঘ কবিতা এবং ৯ টি সংক্ষিপ্ত কবিতা রয়েছে। এই কবিতাগুলির মধ্যে কয়েকটি স্পষ্ট করে দেয় যে তিনি নাকা নো ও / তেনচি তেন্নোর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে তিনি নিহন শোকির তালিকাভুক্ত নন। সম্রাটদের স্ত্রীদের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া একমাত্র স্ত্রীই রাজপুত্র বা রাজকন্যার জন্ম দিয়েছেন। যে-সম্পর্ক কোনো সন্তান জন্ম দেয় না, সেটাকে প্রকৃত বিয়ে হিসেবে গণ্য করা হতো না, এটি বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে অব্যাহত ছিল। রাজকন্যা নুকাতা তেম্মু তেন্নোর নিবন্ধে নিহন শোকিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এটি প্রথমে তাঁর সম্রাজ্ঞী এবং সমস্ত স্ত্রীদের তালিকাভুক্ত করে যারা রাজকন্যা ছিলেন, তারপরে সমস্ত স্ত্রী যারা আভিজাত্যের কন্যা ছিলেন এবং তারপরে এটি রাজকন্যা নুকাতাকে কেবল একজন মহিলা হিসাবে উল্লেখ করে যার সাথে তার একটি সন্তান ছিল। এই শিশু, রাজকুমারী তোচি, পরে তেনচি তেন্নোর ছেলে রাজকুমার ওটোমোকে বিয়ে করেন। আমাদের মানদণ্ড অনুসারে এই মানুষগুলোর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হিসেবে অত্যন্ত অজাচার। রাজকুমার নাকা নো ওই এবং রাজকুমারেস হাশিহিতো টাবুর মধ্যে একমাত্র যে বিষয়টি (অনুমিত) যোগাযোগ তৈরি করেছিল তা হলো তাদের মা একই ছিলেন। একই পিতার সাথে মানুষের মধ্যে বিবাহ কিন্তু ভিন্ন মায়ের মধ্যে সাধারণ ছিল। লোকেরা রাজকুমারেস নুকাতা এবং তার চক্র সম্পর্কে প্রচুর তথ্য বের করতে সক্ষম হয়েছে, চিত্রিত করে যে অভিজাতদের মধ্যে সাক্ষরতার বিস্তার এবং একটি সাহিত্যিক চরিত্রের বইয়ের উপস্থিতির সাথে সাথে লোকেরা কীভাবে তাদের জীবনযাপন করেছিল সে সম্পর্কে আমাদের জিনিসগুলি জানার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

৬৫৮ সালে সাদাইজিন কোসে নো টোকুটা মারা গিয়েছিলেন এবং প্রতিস্থাপন করা হয়নি। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, যুবরাজ ওমা উপাধি গ্রহণ না করেই এই পদে কাজ করেন, যেহেতু এই সময় পর্যন্ত কোনও রাজপুত্রের মন্ত্রীর উপাধি গ্রহণের কোনও নজির ছিল না। সম্ভবত এটিই সাদাইজিনের চেয়ে উচ্চতর একটি নতুন পদ তৈরির কারণ ছিল, যাকে বলা হয় দাজোদাইজিন বা ওমাতসুরিগোতো নো মায়েস্তুকিমি, একে প্রায়শই অনুবাদ করা হয় "চ্যান্সেলর"। নারা আমলের আগ পর্যন্ত এই পদ খালি না থাকলেও সবসময় একজন রাজপুত্র দ্বারা পূর্ণ থাকত। এটি মূলত "যুবরাজ" অবস্থানের আমলাতন্ত্রের আমদানি ছিল। তারপরে, ৬৬৪ সালে উদাজিন সোগা নো মুরাজিকো মারা যান এবং তাকে প্রতিস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে সরকারের শীর্ষে রাজকুমার নাকা নো ও এবং রাজকুমার ওমা একা ছিলেন। রাজকুমার ওমার নামে জারি করা একাধিক ফরমান স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে তৎকালীন সঙ্কটে কিছু সংস্কার থেকে পিছিয়ে আসা এবং উচ্চতর অভিজাতদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য সামঞ্জস্য করা দরকার ছিল। প্রথমত, ৬৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯ পদের ব্যবস্থা একটি নতুন ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল যার ২৬ গ্রেড ছিল। তাদের তুলনা করলে, এটি স্পষ্ট যে শীর্ষ ছয়টি মর্যাদা রেখে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী তেরোটি বিশটিতে প্রসারিত হয়েছিল। মনে হয় যে সমস্ত অভিজাতদের থাকার ব্যবস্থা করা হলে সরকারী নিয়োগ প্রাপ্ত লোকের সংখ্যা যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো দরকার ছিল। কেউ কেউ মনে করেন যে এই পরিবর্তনটি আসলে ৬৭১ সালে করা হয়েছিল। নিহন শোকিতে সেই বছরের জন্য রাজকুমার ওমা কর্তৃক আদেশিত পদমর্যাদায় পরিবর্তনের খুব সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। "তেনচি তেন্নোর রাজত্বের তৃতীয় বছর" বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে বিভ্রান্তির সম্ভাবনার কারণে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়। যদি ৬৬২ থেকে গণনা করা হয় তবে এটি ৬৬৪ হবে। তবে যদি ৬৬৮ (যখন তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন) থেকে গণনা করা হয় তবে এটি ৬৭১ হবে। যদি পরিবর্তনটি ৬৭১ সালে হত তবে এটি সঙ্কটের সময়ের সাথে যুক্ত হত না। এটা সম্ভব যে ব্যবস্থায় দুটি সামঞ্জস্য ছিল এবং তারিখগুলির মধ্যে সম্পর্কটি কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা ছিল।

৬৬৪ সালে জারি করা দ্বিতীয় আদেশটি বংশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। উজিনোকামি বা বংশ প্রধানের একটি আনুষ্ঠানিক উপাধি তৈরি করা হয়েছিল। একটি "মহান বংশের" ক্ষেত্রে প্রধানকে একটি তাচি "দুর্দান্ত তরোয়াল" উপহার দেওয়া হয়েছিল এবং একটি "ছোট" বংশের সিএতে একটি কাতানা "ছোট তরোয়াল" উপহার দেওয়া হয়েছিল। তোমোনোমিয়াৎসুকো "ইত্যাদি" একটি ঢাল বা একটি ধনুক এবং তীর দিয়ে উপস্থাপিত হয়েছিল। এই বিভাগগুলি ধরে নেওয়া হয় যে "ইত্যাদি" কুনিনোমিয়াতসুকো শ্রেণির জন্য জায়গা দেয়, কেবল অভিজাতদের উপরের অর্ধেককে আচ্ছাদিত করে, তাদের অন্যদের থেকে পৃথক করে। এছাড়াও, "বড় গোষ্ঠী" এবং "ছোট গোষ্ঠী" এর পৃথক স্বীকৃতি প্রথম ছিল। এটা বিশ্বাস করা হয় যে,বংশ কাঠামোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে, নাকা নো ওই অভিজাতদের আশ্বাস দিচ্ছিলেন যে আমলাতান্ত্রিকীকরণের দ্বারা তাদের বিশেষ মর্যাদা মুছে ফেলা হবে না।

এই সময়ে সর্বশেষ যে জিনিস প্রকাশিত হয়েছিল তা হলো "কাকিবে" এবং "ইয়াকাবে" এর স্বীকৃতি। এগুলি বেসরকারী সম্পত্তির বিভাগ ছিল যা ৬৪৬ সালের নববর্ষের দিন ফরমান দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। একটু সামনের দিকে তাকালে দেখা যায়, নারা আমলের ভূমি পুনঃবণ্টন ব্যবস্থায় অভিজাতদের আসলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এগুলি আদমশুমারির রেজিস্টারগুলিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং তারা কোনও কর দেয়নি (আসলে খুব নিম্নতম পদমর্যাদার লোকদের কিছু কর দিতে হয়েছিল কারণ কেবল প্রকৃত পদধারীই অব্যাহতি পেয়েছিল, তার পুরো পরিবার নয়)। নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা চালের গাঁট এবং কাপড়ের বোল্ট আকারে বেতন পেতেন। এটি তারা তাদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের জন্য বাণিজ্য করতে পারতেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একই ধরনের বেতন পেতেন। তবে দুই ধরণের "পদ জমি"। মাঝারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়োগগুলি শ্রম কর সহ কৃষিজমির একটি ব্লক থেকে সংগৃহীত করের সরাসরি অর্থ প্রদানের পরিমাণ ছিল। সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিপুল পরিমাণ জমি পেতেন যা তারা ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করতেন। উচ্চ পদমর্যাদা বংশানুক্রমিক হওয়ায় তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব জমি আগলে রেখেছিল। কিছু পরিবারকে প্রকৃতপক্ষে সরকারী নিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত জমির বৃহত্তম বরাদ্দ রাখার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনও পুত্র তার বাবার সমান পদে না পৌঁছালেও সে পারিবারিক পদের জমি রাখতে পারে। এই অনুশীলনগুলির আলোকে, উচ্চতর আভিজাত্যকে সমর্থন করার জন্য জমির নির্দিষ্ট ব্লকগুলি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা স্বীকৃতি দেওয়া অগত্যা সিস্টেমটি পরিত্যাগ করা ছিল না। যাইহোক, এই সময়ে এটি ঘোষণা করা অবশ্যই অভিজাতদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ছিল যে নতুন ব্যবস্থা তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ছিল না। এটি লক্ষ্য করা গেছে যে এই সময়ে এই জমিগুলির স্বীকৃতি বোঝায় যে এগুলি আসলে ৬৪৬ সালের পরে বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। নতুন সরকার ব্যবস্থার বিকাশ সম্পাদন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল।

এ সময় যথেষ্ট পরিমাণে সামরিক তৎপরতাও ছিল। সমস্ত শ্রেণির বিপুল সংখ্যক কোরীয় ৬৬৩ সালে জাপানে পালিয়ে গিয়েছিল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বসতি স্থাপনের অসংখ্য উল্লেখ রয়েছে এবং কীভাবে তাদের জাপানি অভিজাতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা নির্ধারণের জন্য তাদের মধ্যে অভিজাতদের শ্রেণিবদ্ধ করার প্রচেষ্টাও রয়েছে। কোরীয় অভিজাতদের অনেকে যে অঞ্চলে প্রেরণ করা হয়েছিল সেখানে দুর্গ নির্মাণের জন্য কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিল, বিশেষত উত্তর কিউশু এবং দ্বীপপুঞ্জে ইকি এবং সুশিমা কিউশু উপকূলে। সাকামোরি "সমুদ্রপ্রহরী" নামে পরিচিত দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে জাপানি সৈন্যদের শ্রম করের অংশ হিসাবে সীমান্তের দুর্গগুলি পরিচালনার জন্য কর্তব্যের মেয়াদে পশ্চিমে যাওয়ার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাকামোরি এবং তাদের পরিবারের বাড়িতে ফেলে আসা পরীক্ষা এবং দুর্দশা সম্পর্কে প্রচুর কবিতা রয়েছে। অন্যান্য সৈন্যদের কিউশু থেকে রাজধানী পর্যন্ত প্রসারিত সিগন্যাল ফায়ারের একটি শৃঙ্খল পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে আক্রমণ ঘটলে সরকারকে দ্রুত অবহিত করা যায়। নারা যুগে সাকামোরিরা সকলেই এমিশি সীমান্তের নিকটবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতে এই ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছিল যে এই লোকদের সকলেরই সামরিক অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা ছিল। সম্ভবত ৬৬৪ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় পশ্চিমা সেনারা সম্ভবত ফিল্ড আর্মি হিসাবে কাজ করার উদ্দেশ্যে ছিল যখন সাকামোরি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি রক্ষা করত। নারা যুগে সিগন্যাল স্টেশনগুলিতে নিযুক্ত পুরুষরা সকলেই স্থানীয় ছিল এবং সম্ভবত এই সময়েও এটি সত্য ছিল।

এটাই ছিল প্রতিরক্ষার প্রথম সারি। দাজাইফু এলাকায় বড় আকারের দুর্গ আকারে একটি দ্বিতীয় সারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বহু শতাব্দী ধরে কিউশু প্রতিরক্ষা সদর দফতর হিসাবে কাজ করেছিল। দাজাইফু উপকূল থেকে বেশ দূরে ফুকুওকা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত যা রক্ষা করা সহজ। অনেক দুর্গ আজও দৃশ্যমান। নির্মাণগুলির মধ্যে একটি ছিল তথাকথিত "জলের দুর্গ"। এর কেন্দ্রস্থলটি একটি দীর্ঘ মাটির কাজ যা এখনও ১৪ মিটার উঁচু এবং ১ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। এটি স্পষ্টতই কাঠামোগত ছিল যাতে মিকাসা নদী দ্বারা পূর্ণ জলের একটি জলাধার প্রয়োজনে প্রাচীরের ঠিক নীচের অঞ্চলটি প্লাবিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি উপকূল থেকে দাজাইফুর দিকে আসা সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বাধা দেবে। উত্তর প্রান্তটি প্রায় ৪১০ মিটার উঁচু একটি যথেষ্ট পাহাড়ে পৌঁছেছে যার উপরে ৬৬৫ সালে একটি বড় পাথরের দুর্গ নির্মিত হয়েছিল। এগুলোর পেছনে রয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক শহর দাজাইফু। পাহাড়ের একটি ফাঁক ঢাকতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে আরও একটি দুর্গ নির্মিত হয়েছিল, যদিও একটি সেনাবাহিনী মূল প্রতিরক্ষা ফ্ল্যাঙ্ক করার চেষ্টা করতে পারে। এই দুটি দুর্গের বাহিনীদল কোরীয় ছিল। তারা সম্ভবত নির্মাণের নির্দেশনাও দিয়েছিল। এগুলো দেখতে অবিকল সমসাময়িক কোরীয় পাহাড়ি দুর্গের মতো। কোরিয়া খুব পর্বতময় এবং সমস্ত কোরীয় যুদ্ধ পাহাড়ের দুর্গের চারপাশে ঘোরাফেরা করে বলে মনে হয়। দাজাইফু দুর্গের প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। তাই এটির জন্য একটি বড় বাহিনী প্রয়োজন। এটি এত বড় যে দাজাইফুর পুরো জনগোষ্ঠী ভিতরে আশ্রয় নিতে পারে। ৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে হনশুর পশ্চিম প্রান্তে কোরিয়ার নেতৃত্বে আরেকটি দুর্গ নির্মিত হয়। এর অবস্থান জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় এটি শিমোনোসেকির কাছাকাছি কোথাও ছিল। এটি সর্বদা সেই অঞ্চলের সামরিক মূল বিন্দু।

৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ম মাসের প্রথম দিকে পায়েচে চীনা কমান্ডার জাপানে একটি দূত প্রেরণ করেন। তারা সাত মাস অবস্থান করেন। কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি নিহন শোকি। ৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দের নবম মাসে চীন থেকে সরাসরি দ্বিতীয় দূতাবাস আসে এবং প্রথম দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রদূত নিয়ে আসে। স্পষ্টতই চীনারা সিরিয়াস ছিল। যা ঘটেছিল তার উপর ভিত্তি করে একজনকে অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে চীনাদের মাথায় অনেক কিছু ছিল (তাদের তখনো কোগুরিওর ধ্বংস সম্পূর্ণ করতে হতো। এটি বছরের পর বছর ধরে তাদের প্রচুর সমস্যা দিয়েছিল)। সর্বশেষ যে জিনিসটি তারা চেয়েছিল তা হলো জাপানের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধ। দূতাবাসের আগমনের পরের মাসের জন্য নিহন শোকিতে একটি টীকা রয়েছে যে উজিতে একটি "দুর্দান্ত সামরিক পর্যালোচনা" হয়েছিল, সম্ভবত চীনাদের প্রভাবিত করার জন্য। এই দূতাবাস তিন মাস ছিল। একই বছর জাপান চীনে নিজস্ব দূতাবাস স্থাপন করে। মজার ব্যাপার হলো, রাজকুমার আরিমার ঘটনার অংশ হিসেবে যেসব কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, রাষ্ট্রদূত তাদের একজন। শেষ পর্যন্ত চীন বা সিল্লা কেউই জাপানকে আক্রমণ করেনি (যদিও সিল্লা এমন একটি আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল যা কখনই বাস্তবায়িত হয়নি), যদিও জাপানিরা কমপক্ষে আরও একশ বছর ধরে পশ্চিমে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বজায় রাখার প্রচেষ্টা কখনও শিথিল করেনি। দুর্গগুলি সুশিমাতে, পশ্চিম শিকোকুর সানুকিতে এবং অভ্যন্তরীণ সাগরের পূর্ব প্রান্তে এবং কাওয়াচি এবং ইয়ামাতোর সীমান্তে নানিওয়াতে নির্মিত হয়েছিল। সুশিমার দুর্গটি এখনও টিকে আছে এবং সানুকির দুর্গটি ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পরে জেনপেই যুদ্ধের মূল বিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

৬৬৫ সালে এই প্রচেষ্টার মাঝপথে সম্রাজ্ঞী হাশিহিতো মারা যান। এটি সম্ভবত নাকা নো ওয়ের সিংহাসন গ্রহণের পথ পরিষ্কার করেছিল। তবে তিনি আরও তিন বছর বিলম্ব করতে থাকেন। ৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে সাইমেই তেন্নো ও সম্রাজ্ঞী হাশিহিতোকে একই সমাধিতে সমাহিত করা হয়। সাইমেইয়ের সমাধি নির্মাণের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও কেন এত সময় লাগল তা বোধগম্য নয়। হাশিহিতোর দেহাবশেষ রাখার ব্যবস্থা করার জন্য এটি যথেষ্ট পরিমাণে পুনর্নির্মাণ করা হতে পারে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এক মাস পরে, নাকা নো ও তার প্রাসাদটি বিওয়া লেকের ওতসুতে স্থানান্তরিত করেন। এটি পূর্ববর্তী কোনও অবস্থানের পূর্ব দিকে। নিহন শোকি বলেছে যে এটি সাধারণ মানুষের কাছে অজনপ্রিয় ছিল এবং এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং ব্যঙ্গাত্মক গান ছিল। কেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক পরের একটি কবিতায় এই বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে এবং বোঝানো হয়েছে যে আসল বিরোধিতা ছিল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যারা চরম বর হিসাবে যা ভেবেছিল তার দিকে যেতে হবে। আমি মনে করি এটি বলা ন্যায্য যে হেইয়ানকিও (কিয়োটো) এর চূড়ান্ত পদক্ষেপে ভবিষ্যতের সমস্ত পদক্ষেপ একই রকম বিরক্তি সৃষ্টি করেছিল, এমন পদক্ষেপগুলি ব্যতীত যা পরীক্ষামূলক অবস্থানগুলির মধ্যে একটিকে পরিত্যাগ করে পূর্ববর্তী স্থানে ফিরে এসেছিল যেখানে ভবনগুলো ইতিমধ্যে ছিল। ততদিনে কেবল শাসকের পরিবারই যায়নি, বরং উচ্চ ও নিম্ন পদমর্যাদার বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা সরে যায়, যাদের সকলকেই নতুন আবাসন তৈরি করতে হয়েছিল। কোনও কারণ দেওয়া হয়নি। তবে অনুমান করা হয় যে, দাজাইফু যেমন অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তেমনি নাকা নো ওই সামরিক সুরক্ষার কথা ভাবছিলেন। ওতসু নানিওয়া উপকূলের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পর্বত বাধার পূর্ব দিকে রয়েছে। তবে ইয়ামাতো প্রদেশটিও পর্বতমালা দ্বারা ভালভাবে সুরক্ষিত। ওতসুর এই গুণ রয়েছে যে বিওয়া হ্রদের দক্ষিণ প্রান্তে এর অবস্থান এটি কে হোকুরিকু অঞ্চলের সাথে দুর্দান্ত যোগাযোগ দেয়। তবে এটি সর্বদা পশ্চিমে যোগাযোগের চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি তখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরেকটি তত্ত্ব আছে। এটি পরবর্তীকালের অসংখ্য সত্যায়িত ঘটনার কারণে উপেক্ষা করা যায় না। অর্থাৎ হাশিহিতোর ভূত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন নাকা নো ও। প্রতিহিংসাপরায়ণ ভূত অভিজাতদের মধ্যে একটি প্রধান উদ্বেগ ছিল এবং তারা রাজধানীর অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি মন্দির এবং মন্দিরগুলিতে প্রচুর ক্রিয়াকলাপ করেছিল। আমরা যদি ধরে নিই যে, তাদের অজাচার সম্পর্ক স্থাপনে তিনিই আক্রমণকারী ছিলেন, তা হলে তিনি যেখানে মারা গিয়েছিলেন, সেখান থেকে দূরে কোথাও যেতে চাওয়ার হয়তো উপযুক্ত কারণ থাকতে পারে. যাই হোক না কেন, দরবার ওতসুতে ৫ বছরের জন্য স্থগিত ছিল।

৬৬৮ সালে প্রাসাদে ওতসু নাকা নো ও অবশেষে সিংহাসন গ্রহণ করেন। তার সম্রাজ্ঞী ছিলেন ইয়ামাতো নো হিমেমিকো, রাজকুমার ফুরুহিতোর কন্যা, যাকে তিনি হত্যা করেন। তার কোনও সন্তান ছিল না। তবে তার আরও ৮ জন মহিলার সন্তান ছিল, যার মধ্যে চারজন কিসাকি এবং যাদের মধ্যে চারজন অপেক্ষারত মহিলা ছিলেন। তাদের মধ্যে দশটি মেয়ে ও চারটি ছেলে ছিল। তার নির্বাচিত উত্তরাধিকারী রাজকুমার ওটোমোর নিম্ন মর্যাদার মা ছিলেন। তাঁর পিতামহের পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় যে, তিনি কুনিনোমিয়াতসুকো শ্রেণীর ছিলেন। তেনচির একমাত্র উচ্চ মর্যাদার পুত্র ছিলেন যুবরাজ তাকেরু, যার মা ছিলেন সোগা নো ইশিকাওয়ামারোর কন্যা। যাইহোক, রাজকুমার তাকেরু ৮ বছর বয়সে ৬৫৮ সালে মারা গিয়েছিলেন। রাজকুমার ওমায় তেনচি তেন্নোর একটি শক্তিশালী এবং সম্মানিত ভাই ছিল, ইয়ামাতো রাজ্যের স্বাভাবিক গতিশীলতা প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছিল যে ওমা তার উত্তরসূরি হবেন (যদি তিনি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকেন) নিম্ন মর্যাদার মায়ের সাথে রাজপুত্রের সাথে কোনও প্রতিযোগিতায়। এমন রাজপুত্র এতদিন সিংহাসনে আরোহণ করেননি। অবশ্যই, তেনচি তেন্নো ইয়ামাতো রাজ্যকে একটি নতুন উত্তরাধিকারী দিয়ে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছিলেন যা চীনা রীতিত্ব কাজ করেছিল। বিষয়গুলি সম্পর্কে চীনাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ছিল, জ্যেষ্ঠ বৈধ পুত্রই একমাত্র বৈধ উত্তরাধিকারী। তেনচি তেন্নো এবং পরবর্তীকালের বেশ কয়েকজন সম্রাট শাসক বংশের জন্য এই নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচণ্ড লড়াই করেন। কিন্তু তা কখনও ঘটেনি।

৬৬৯ সালে তেনচি তেন্নোর দীর্ঘদিনের সহযোগী নাকাতোমি নো কামাতারি ৫৬ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর অব্যবহিত আগে সম্রাট নাইদাইজিনের নতুন পদ বিশেষভাবে তৈরি করেন যাতে কামাতারিকে পদোন্নতি দেওয়া যায়। তিনি কামাতারির বংশধরদের জন্য নতুন বংশের নাম ফুজিওয়ারা তৈরির ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে একটি ফরমান প্রথমবারের মতো সমগ্র দেশকে আচ্ছাদন করে একটি আদমশুমারি সম্পন্ন করার আদেশ দেয়। এটি করার জন্য, গ্রামীণ অভিজাতদের অংশগ্রহণের সাথে জড়িত প্রদেশগুলিতে এক ধরণের আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অনেক অগ্রগতি হওয়া উচিত। এই আদমশুমারির কোনও প্রকৃত নথি টিকে নেই। যাইহোক, আমরা জানি যে পরে নারা সময়কালে এই আদমশুমারির নিবন্ধগুলি তখনো বিদ্যমান ছিল এবং তাইহো নীতিমালায় নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কাজ করার সূচনা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আমরা আরও জানি যে কিউশুর নথি ৭৭০ খণ্ড পর্যন্ত ছিল এবং কান্টো অঞ্চলের কোজুকে প্রদেশের নথি ৯০ খণ্ড ছিল। এই সংখ্যাগুলি ৮ম এবং ৯ম শতাব্দীতে এই স্থানগুলির পরিচিত জনসংখ্যার সমানুপাতিক। নারাতে শোসোইন কোষাগার প্রকৃত ৮ম শতাব্দীর রেজিস্টারগুলি সংরক্ষণ করে। এগুলিতে ক্রীতদাস পর্যন্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এটি জমির পরবর্তী বিতরণের পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ৬৭০টি নিবন্ধন তখন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়নি। কারণটি হলো পরে যখন জিতো তেন্নো একটি আদমশুমারি পরিচালনা করেন তখন এটি সরাসরি জমির পুনর্বণ্টনের দিকে পরিচালিত করেছিল। তবে এখানে এটি ঘটেছিল এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। এছাড়াও, যদি কারো কাছে প্রতিটি ব্যক্তির বিশদ বিবরণ রেজিস্টার থাকে তবে কেউ স্বাভাবিকভাবেই করের বোঝা নির্ধারণে সেগুলি ব্যবহার করবেন। তবে এটি বিশ্বাস করা হয় যে, ৬৪৬ সালে ডাকা নতুন কর ব্যবস্থা তখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই রেজিস্টারগুলি পরবর্তী পর্যায়ের পরিকল্পনায় ব্যবহার করার জন্য তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হত। এটি পুনরায় বিতরণ এবং পুনরায় বিতরণ দ্বারা নিহিত কর ব্যবস্থার বাস্তবায়নের পরে আরও বিশদ আদমশুমারি হত।

তেনচি তেন্নোর শেষ বছরগুলিতে প্রায়শই জমা দেওয়া অন্য কৃতিত্বটি ছিল "ওমি রিও" বা ওমি রীতির সৃষ্টি। ওমি সেই প্রদেশ যেখানে ওতসু অবস্থিত। এটি একটি খুব বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহন শোকি বা নবম শতাব্দীর চেয়ে পুরোনো কোনও বই বা নথিতে এর উল্লেখ নেই। এটি প্রথম কোনিন কিয়াকুশিকির মুখবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি বছরের পর বছর ধরে প্রকাশিত ধারাবাহিক বইগুলির মধ্যে অন্যতম যা আদেশ, বিচারিক রায় এবং এর মতো অনুলিপি রয়েছে যা প্রশাসনিক আইন নীতিমালার প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করেছিল। দাইশোকুকান্দেন নামে একটি বই রয়েছে যা অষ্টম শতাব্দীতে ফুজিওয়ারা নো নাকামারো লিখেছিলেন এবং এটি তেনচি তেন্নোর রাজত্বকালের ফরমানগুলির নাকাতোমি নো কামাতারি দ্বারা তৈরি একটি সংকলনের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে করা হয় যা এটি র উল্লেখ করে না। একটি তত্ত্ব উল্লেখ করে যে জিনশিন যুদ্ধের পরে তেম্মু তেন্নোর বংশধররা ১০০ বছর ধরে সিংহাসন ধরে রেখেছিলেন যতক্ষণ না এটি কোনিন তেন্নোর সাথে তেনচি তেন্নোর বংশধরদের লাইনে স্থানান্তরিত হয়। তেম্মু তেন্নোর কৃতিত্বের কৃতিত্ব তার ভাইয়ের উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন এমন অনেকে থাকতে পারেন। যাই হোক না কেন, এর মধ্যে কী ছিল সে সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণা নেই। তাই এটি আসলে কোনও ব্যাপার নয়। যাইহোক, চীনারা প্রশাসনিক আইনের বিশদ বিবরণ দিয়ে খণ্ড সংকলন করার অভ্যাসে ছিল এবং এটি অনিবার্য ছিল যে কোনও সময়ে জাপানিরাও একই কাজ করার কথা ভাববে। তবে সম্ভবত তখনো পুরোপুরি প্রচলিত ছিল না।

জিনশিন যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

তেনচির রাজত্বের শেষের দিকে উত্তরাধিকার সম্পর্কে সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। তেনচির তিন পুত্র জীবিত ছিল, সবচেয়ে বড় ছিল যুবরাজ ওটোমো। তিনি ইতিমধ্যে দাজোদাইজিন নিযুক্ত হয়েছিলেন। এটি কখন ঘটেছিল তা নিয়ে উৎসে মতবিরোধ রয়েছে। তবে এটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তেনচি যুবরাজ ওটোমোকে তার উত্তরসূরি বানাতে চেয়েছিলেন, যদিও তার মা নিম্ন মর্যাদার (রাজকীয় মান অনুসারে) প্রাসাদ কর্মচারী ছিলেন। এটি দীর্ঘকাল ধরে প্রথা ছিল যে কুনিনোমিয়াতসুকো এবং আগাতানুশি শ্রেণির প্রাদেশিক অভিজাতরা মেয়েদের স্ত্রী এবং রাজকন্যাদের উচ্চ স্তরের চাকর হিসাবে কাজ করার জন্য প্রাসাদে পাঠাতেন। এই প্রথা পরবর্তী শতাব্দী ধরে অব্যাহত ছিল। তেনচি তেন্নো আমলাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পদগুলি দীর্ঘদিন ধরে খালি রেখেছিলেন। তবে একই সাথে তিনি ওটোমোকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তিনি সোগা নো ওমি আকে সাদাইজিন, নাকাতোমি নো মুরাজি কোগানে উদাইজিনকে তৈরি করেন এবং ওকিমোনোসুসুকাসা, সোগা নো ওমি হাতায়াসু, কুসে নো ওমি হিতো এবং কি নো ওমি উশির পদে তিনজনকে নিয়োগ করেন। এই শেষ পদটি পরবর্তী ব্যবস্থায় টিকে ছিল না তবে মোটামুটিভাবে দাইনাগনের সাথে মিলে যায়, এর অনুবাদ সাধারণত কাউন্সিলর এবং মহান মন্ত্রীদের ঠিক নীচে এর পদমর্যাদা। সম্ভবত, তিনি শীর্ষস্থানীয় অভিজাতদের মধ্যে রাজকুমার ওটোমোর পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন, যাকে তখন পর্যন্ত হাতের মুঠোয় রাখা হয়েছিল।

ওটোমোর পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব করার জন্য রাজকুমার ওমাকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। কারণ তেনচির মৃত্যুর পরে আভিজাত্যরা ওটোমোকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম ছিল। কৃতিত্বের জন্য, তেনচি তার ভাইকে হত্যা করতে চায়নি। তিনি মূলত রাজকুমার ফুরুহিতোকে নিষ্পত্তি করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতির একটি সংস্করণ নিয়ে আসেন। সম্রাট প্রকাশ্যে যুবরাজ ওমাকে উত্তরাধিকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে সিংহাসনে সফল হওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই, সম্রাজ্ঞী ইয়ামাতোহিমকে তেন্নো হওয়ার এবং বিষয়গুলির পরিচালনা রাজকুমার ওটোমোর হাতে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি নিজে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়ে দেশের কোনো নিরিবিলি মন্দিরে অবসর নিতে চেয়েছিলেন। এটি ৬৭১ সালের ১০ তম মাসের ১৭ তম দিনে ঘটেছিল, যখন সম্রাট ইতিমধ্যে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। একই দিনে, রাজকুমার ওমা মুণ্ডটি নিয়েছিলেন এবং তার প্রাসাদে রাখা সমস্ত অস্ত্র সরকারের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দু'দিন পরে তিনি একই মন্দিরে তথা ইয়োশিনোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন, যেখানে রাজকুমার ফুরুহিতো এবং পরবর্তীকালে অনেক রাজকীয় আধা-নির্বাসিত ছিল। তা মঞ্জুর করা হয়। এর পরপরই, পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে একত্রিত করা হয়েছিল এবং রাজকুমার ওটোমোর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে তেনচি তেন্নোর উপস্থিতিতে শপথের পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। তেনচি তেন্নো ৬৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১২তম মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।

রাজকুমার ওটোমো ধারাবাহিক সম্রাটদের সরকারী নথিপত্রে কোবুন তেন্নো হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি কেবল আধুনিক যুগেই করা হয়েছিল। নিহন শোকি তৎক্ষনাৎ তেম্মু তেন্নোর ধারায় স্থানান্তরিত হয়, যার সময় রাজকুমার ওটোমোকে কখনই সম্রাট হিসাবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি উপরে বর্ণিত গল্পটি একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরায় বর্ণনা করে। এতে বলা হয়েছে, সম্রাট অসুস্থ হয়ে পড়লে নো ওমি ইয়াসুমারোকে রাজকুমার ওমাকে তার উপস্থিতিতে ডেকে আনার জন্য পাঠানো হয়। ভিতরে ঢোকার সময়, সোগা রাজপুত্রকে তিনি যা বলেছিলেন তা খুব সাবধানে রাখতে বলেছিলেন, যার ফলে রাজপুত্র একটি ষড়যন্ত্র সন্দেহ করেন। সুতরাং, যখন তাকে সিংহাসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন যেমনটি ইতিমধ্যে বলা হয়েছে। এর সুস্পষ্ট তাৎপর্য হলো, তিনি যদি সিংহাসন গ্রহণ করতেন তাহলে সম্ভবত তাকে হত্যা করা হতো। স্বভাবতই এই গল্প সত্যি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূলত আমাদের কাছে যা ঘটেছিল তার কেবল রাজকুমার ওমার সংস্করণ রয়েছে। গল্পটি ভালো, হয়তো খুব ভালো। সম্ভবত তেনচি সরাসরি যুবরাজ ওমাকে প্রকাশ্যে সিংহাসন ত্যাগ করে একটি মঠে অবসর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যাই হোক না কেন, তেনচি মরিয়া হয়ে তার ছেলের উত্তরাধিকার সুরক্ষিত করার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন এই সত্যের মুখে যে অভিজাতরা প্রায় নিশ্চিতভাবে ওমাকে সমর্থন করবে যদি এটি নিয়ে লড়াই হয়।

যখন তিনি যোশিনোতে পৌঁছেছিলেন তখন রাজপুত্র তার "টোনারি" বা ব্যক্তিগত পরিচারক / দেহরক্ষীদের একত্রিত করেন এবং তাদের বলেছিলেন যে তিনি ধর্মের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছেন এবং যে কেউ পদ চান তার কাছে গিয়ে নতুন চাকরি সন্ধান করার স্বাধীনতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক পেছনে আর অর্ধেক থেকে যায়। এরপর সম্রাট মারা যান। এই সময়ে কিউশুতে সবেমাত্র একটি বিশাল চীনা দূতাবাস এসেছিল, এত বড় যে তারা জাপানিদের আশ্বস্ত করার জন্য কয়েকটি জাহাজ পাঠিয়েছিল যে এটি আক্রমণকারী বহর নয়। রাষ্ট্রদূতদের সম্রাটের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। রাজকুমার ওটোমোর কোনও উল্লেখ ছাড়াই এই সমস্ত আলোচনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, পুরো গল্পটি রাজকুমার ওমার দৃষ্টিকোণ থেকে কঠোরভাবে বলা হয়েছে এবং ওমি আদালতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। রাজকুমার ওটোমো কখন আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন বা আদৌ ছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। নিহন শোকি অনুমানের অনুমতি দেয় যে তিনি শাসক হিসাবে তালিকাভুক্ত নন বলে তিনি ছিলেন না। নর যুগের অন্য কোন গ্রন্থে তাঁকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলে জানা যায় না। টোকুগাওয়া মিতসুকুনি দ্বারা দাই নিহন শিতে এডো পিরিয়ড পর্যন্ত এটি প্রথম দাবি করা হয়েছিল যে তাকে সিংহাসনে আরোহণ করা হয়েছিল তবে তেম্মু তেন্নোর বৈধতা সমর্থন করার জন্য নিহন শোকিতে এটি দমন করা হয়েছিল। মরণোত্তর রাজত্বের উপাধি কোবুন তেন্নো মেইজি সম্রাট কর্তৃক রাজকুমার ওটোমোকে ভূষিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। তবে তিনি যে ৬ মাস ওৎসু দরবারে শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

৬৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৫ম মাসে যুবরাজ ওমার একজন অনুচর তাকে বলেন যে তিনি প্রচুর সংখ্যক লোককে জড়ো হতে দেখেছেন যারা তেনচির সমাধিতে কাজ করতে আসার দাবি করেছিল। কিন্তু তারা সকলেই সশস্ত্র ছিল। অপর এক ব্যক্তি তখন বলেছিলেন যে তিনি বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ এবং চেকপয়েন্টগুলি লক্ষ্য করেছেন। ওমা তদন্ত করার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন এবং দেখতে পেয়েছিলেন যে এটি সত্য ছিল। তারপরে তিনি তার লোকদের বলেছিলেন যে ঝামেলা রোধ করার জন্য তিনি অবসর নিয়েছেন। তবে তারা যদি তাকে যেভাবেই হত্যা করতে চলেছে তবে তিনি লড়াই করতে যাচ্ছেন। তার প্রধান সমস্যা ছিল রাজধানী ছাড়ার আগে তাকে অস্ত্র সমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই মূলত অরক্ষিত ছিল।

৬ষ্ঠ মাসের ২২তম দিনে তিনি তিনজন লোককে মিনো প্রদেশে (ঠিক পূর্বদিকে) যাওয়ার আদেশ দিলেন এবং গভর্নরকে যা ঘটছে সে সম্পর্কে সতর্ক করলেন। তিনি তার কাছে যা কিছু বাহিনী ছিল তা একত্রিত করেন এবং পূর্বের অন্যান্য গভর্নরদেরও একই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফুওয়াতে একটি সভা পয়েন্ট মনোনীত করা হয়েছিল। এটি ওমি এবং মিনো প্রদেশের সীমান্তের একটি গিরিপথ যা প্রধান পূর্ব-পশ্চিম রাস্তা দ্বারা ব্যবহৃত হয় এবং ওতসুর উপর আক্রমণ চালানোর জন্য একটি ভাল অবস্থান। এরপর আসে ইয়োশিনোর কাছ থেকে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। তিনি একজন লোককে আসুকায় পাঠিয়েছিলেন পাস পাওয়ার আশায় যা তাদের পোস্ট ঘোড়া ব্যবহার করতে দেয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহায্য করতে অস্বীকার করেন। তাই তারা ২৪ তারিখ পায়ে হেঁটে পূর্ব দিকে রওনা দিল। আদালত ইয়োশিনোর ওপর হামলার কথা ভাবছে কি না, তা জানার কোনো উপায় আমাদের নেই। তবে ওমা চলে যাওয়ার পর আদালত অবাক হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়। বেশ কয়েকদিন তারা সাড়া দেয়নি। এই প্রস্থানটি পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে নোটিশের পুরো এক মাস পরে ছিল এবং বর্ধিত বিপদের কোনও উল্লেখ নেই, সুতরাং এটি অবশ্যই ধরে নেওয়া উচিত যে পূর্ববর্তী মাসটি সম্ভাব্য সমর্থকদের সাথে পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ করতে ব্যয় করা হয়েছিল।

দলটি শীঘ্রই এমন এক সমর্থকের মুখোমুখি হয়েছিল যার একটি ঘোড়া ছিল, যাতে রাজপুত্র চড়তে পারে। তাঁর স্ত্রী (ভবিষ্যতের জিতো তেন্নো) এবং তাঁর দুই পুত্র, রাজকুমারেস কুসাকাবে এবং ওসাকাবেকে একটি পালকিতে বহন করা হয়েছিল। এই সময়ে রাজপুত্রের সাথে "প্রায়" ২০ জন পুরুষ ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনের নাম ছিল এবং ১০ জন মহিলা ছিলেন। শীঘ্রই তাদের সাথে আরও কয়েকজন যোগ দিল এবং তারা যে রাজকীয় এস্টেটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সবাইকে খাওয়ালেন। আরও কিছুটা এগিয়ে তারা প্রায় ২০ জন অভিজাতদের একটি শিকারী দলের মুখোমুখি হয়েছিল, যাদের ছোট সেনাবাহিনীতে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও একজন "রাজকুমার মিনো"। তিনি সম্ভবত যাত্রাপথের কাছাকাছি থাকতেন, তাদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরপর তারা ৫০টি মালবাহী ঘোড়ার একটি ট্রেন দেখতে পায় যারা চাল বহন করছে। তারা চাল ফেলে দিয়েছিল এবং তখন তাদের অশ্বারোহী ছিল। ততক্ষণে অন্ধকার হয়ে আসছে। তাই তারা মশাল বানানোর জন্য একটি বেড়া টেনে ফেলল। অবশেষে তারা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যেখানে তারা মধ্যরাতে থামতে পারে। তারা পোস্টিং স্টেশনটি পুড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষকে তাদের অনুসরণ করার জন্য জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সকলেই তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। দ্বিতীয় দিনে তারা ৭০০ জনকে তুলে নিয়ে যায়। তারপরে আরও লোক উপস্থিত হয়েছিল, এত বেশি যে তারা ফিরে যেতে এবং তাদের পেছনের দিক রক্ষা করার জন্য ৫০০ জন লোকের একটি বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

২৬ তারিখে যুবরাজকে জানানো হয় যে মিনো থেকে ৩,০০০ লোক এসেছে এবং আদেশ অনুসারে ফুয়া রাস্তা অবরোধ করছে এবং আরও অনেক সমর্থক, যাদের অনেকের নাম রয়েছে, তারা ভিতরে প্রবেশ করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ জন সমর্থকের নাম আমাদের কাছে রয়েছে। তারা ইসে প্রদেশের কুওয়ানায় ছিল এবং ওমা অনুভব করেন যে তিনি দৌড়ানো বন্ধ করতে পারেন। তিনি তখন সৈন্য সংগ্রহের জন্য চারদিকে দূত পাঠাতে শুরু করলেন। নিহন শোকি বলছে যে এই মুহুর্তে রাজকুমার ওটোমোর সরকার কী ঘটছে তা জানতে পেরেছিল। খবরটি ওতসুর রাজধানীকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। কিছু অভিজাত যুবরাজ ওমায় যোগদানের আশায় পালিয়ে যায়, অন্যরা ঝামেলা থেকে দূরে থাকার আশায় পালিয়ে যায়।

ওটোমো তার কর্মকর্তাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। একজন মন্ত্রী তাদের কাছে যে কোনও অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে তাৎক্ষণিক আক্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ওটোমোর পরিবর্তে একটি যথাযথ সেনাবাহিনী সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তার নিজস্ব বার্তাবাহকদের প্রেরণ করেন। যেখানে ওমার বার্তাবাহকরা বেশিরভাগ পূর্ব দিকে প্রচারিত হচ্ছিল, ওটোমো তাকে পশ্চিমে প্রেরণ করেন। সুকুশির কমান্ডার এই ভিত্তিতে লোক পাঠাতে অস্বীকার করেন যে তার কাজ ছিল কোরীয় এবং চীনাদের কাছ থেকে কিউশুকে রক্ষা করা। ওটোমো কিবি এবং সুকুশির কমান্ডারদের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা আশা করেছিলেন কারণ তারা ওমার সাথে সংযুক্ত রাজপুত্র ছিলেন এবং তিনি তাঁর দূতদের আদেশ দিয়েছিলেন যে তারা যদি রাষ্ট্রদ্রোহের লক্ষণ দেখায় তবে তাদের হত্যা করতে। তারা কিবিতে কমান্ডারকে হত্যা করতে সফল হয়েছিল। কিন্তু সুকুশির লোকটি খুব সুরক্ষিত ছিল এবং তারা চলে গেল। তারা খুব কমই সুকুশির কাছ থেকে কোনও ভাল কাজ করার জন্য দ্রুত পুরুষদের আনার কথা ভাবতে পারেনি, সুতরাং এটি সম্ভবত এই অঞ্চলগুলিকে রাজকুমার ওমার পক্ষে ঘোষণা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল। প্রায় একই সময়ে একজন কর্মকর্তা, ওটোমো নো ফুকেই এর আগে ওমির আদালত ত্যাগ করেন এবং আসুকা অঞ্চলে তার বাড়িতে ফিরে আসেন। তার নিজস্ব ব্যক্তিগত বাহিনী এবং নিকটবর্তী আয়া বংশের লোকদের একত্রিত করেন এবং ২৯ শে যুবরাজ ওমার পক্ষে প্রাক্তন আসুকা প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, এই অঞ্চলের মিওয়া এবং কামো গোষ্ঠীগুলি যুবরাজ ওটোমোকে সমর্থন করার জন্য ওমিতে সৈন্য প্রেরণ করেছিল।

যুবরাজ ওমা তখনতার সদর দফতর কুওয়ানা থেকে সরিয়ে নিলেন। এটি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে ফুয়াতে ছিল। ২৭ তারিখে পূর্ব দিক থেকে আরও বিশ হাজার লোক তার সাথে যোগ দেয়। রাজকুমার ওমা তার ১৯ বছর বয়সী বড় ছেলে রাজকুমার তাকেচিকে সামগ্রিক সামরিক কমান্ডার নিযুক্ত করেন। তার সেনাবাহিনী দুটি প্রধান কলামে বিভক্ত ছিল। অভিজ্ঞ যোদ্ধা কি নো ওমি এমারোর নেতৃত্বে প্রথমটি ছিল ইগা এবং ইসের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং ওটোমো নো ফুকেইয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য আসুকার দিকে যাত্রা করা। দ্বিতীয়টি ছিল মুরাকানি নো মুরাজি ওয়োরির কমান্ডে সরাসরি ওতসুকে আক্রমণ করা। তিনি ইয়োশিনোতে রাজকুমার ওমার সাথে ছিলেন এমন একজন টোনেরি। এই বাহিনীকে তাদের পোশাকে লাল ব্যাজ সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা যুদ্ধের ময়দানে একে অপরকে চিনতে পারে।

সপ্তম মাসের দ্বিতীয় দিনে ওমির আদালত ফুওয়া পাসকে লক্ষ্য করে আক্রমণের নির্দেশ দেয়। নিহন শোকির মতে, এই আক্রমণটি প্রচণ্ড বিভ্রান্তিতে পড়েছিল এবং রাষ্ট্রের অন্যতম মন্ত্রী সোগা নো হাতায়াসু যুবরাজ ইয়ামাবের সাথে নিহত হন। রাজকুমার ওমার সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়েছিল এবং ১৩ তারিখে ইয়াসুকাওয়ায় শেষ হওয়া পরপর তিনটি যুদ্ধ জিতেছিল, যার পরে তারা সেটায় অগ্রসর হতে সক্ষম হয়েছিল। এটি ওতসু প্রাসাদের বাইরের প্রতিরক্ষা গঠন করেছিল। সেখানে একটি সেতু সহ একটি স্রোত ছিল, যেখানে আদালতের সেনাবাহিনী তার অবস্থান তৈরি করার জন্য প্রস্তুত ছিল।

অন্যদিকে, আদালতের অনুগত বাহিনী ওটোমো নো ফুকেই পরাজিত করে এবং আসুকা প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চলেছিল। কিন্তু রাজকুমার ওমার কলামের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের বিভ্রান্ত করেছিল এবং ফুকেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, নির্ণায়ক যুদ্ধটি ৭ম মাসের ৬ষ্ঠ দিনে সংঘটিত হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের স্থানটি একটি সমাধি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে অনেক পতিত সৈন্য রয়েছে। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর আদালতের সেনাবাহিনী উত্তর দিকে পিছু হটে।

২২শ দিনে সেতা ব্রিজে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেতু রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনী মাঝের অংশের মেঝে বের করে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটি তক্তা প্রসারিত করেছিল যাতে সেটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া যায়। ওমা বাহিনীর একজন সৈনিক দুই সেট বর্ম পরে তক্তা পেরিয়ে দৌড়ে গেল, যেতে যেতে দড়ি কেটে ফেলল। অতঃপর তিনি শত্রুপক্ষের সারীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং এটি কে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিলেন। তার সেনাবাহিনী স্বাভাবিকভাবেই তাকে অনুসরণ করেছিল এবং রাজকুমার ওটোমোর সেনাবাহিনী ভেঙে পালিয়ে যায়। যিনি এই দায়িত্বে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি যুদ্ধে বেঁচে গিয়েছিলেন। ৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে নিহন শোকিতে তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধে নিজেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি মারা গেলে তেম্মু তেন্নো সরকারী নোটিশ নেওয়ার জন্য সতর্ক ছিলেন বলে মনে হয়।

ওমার বাহিনী পরের দিন সফলভাবে আক্রমণ চালিয়ে যায় এবং যুবরাজ ওটোমো তার সেনাবাহিনী থেকে আলাদা হয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রথমে কেউ এটি জানত না। সারাদিন লড়াই অব্যাহত ছিল এবং রাজকুমার ওটোমোকে সমর্থনকারী বিশাল শক্তিবৃদ্ধি আসার সাথে সাথে খুব ভারী হয়ে ওঠে। ওমার বাহিনী শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় এবং সাদাইজিন ও উদাইজিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ তারিখে রাজকুমার ওটোমোর মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং তার মাথা ওমার কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এর ঠিক এক মাস পর রাজকুমার ওটোমোর প্রধান সমর্থকদের সাজা ঘোষণা করা হয়। নাইদাইজিন নাকাতোমি নো মুরাজি নো কোগানে সহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, সাদাইজিন এবং উদাইজিন নামে দু'জনকে তাদের সমস্ত পরিবারের সাথে নির্বাসিত করা হয়েছিল, নাকাতোমির পরিবারকেও নির্বাসিত করা হয়েছিল যেমন সোগা নো হাতায়াসু নো ওমি যিনি লড়াইয়ে মারা গিয়েছিলেন। বাকি সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। একজন কর্মকর্তা যাকে ক্ষমা করা হত তিনি পাহাড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং আত্মহত্যা করেন।

উত্তরাধিকার নিয়ে পূর্ববর্তী সমস্ত দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে ছোট বিষয় ছিল। তবে এটি একটি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ ছিল যা যোশিনো থেকে রাজকুমার ওমার ফ্লাইট এবং তিন সপ্তাহের প্রকৃত ক্ষেত্রের লড়াই থেকে এক মাস স্থায়ী হয়েছিল, এতে কয়েক হাজার লোক জড়িত ছিল। প্রশ্ন উঠেছে, এর পেছনে অন্য কোনো বিবেচনার বিষয় জড়িত ছিল কি না, যার জন্য এতগুলো পুরুষকে এত কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। উনিশ শতক এবং বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সর্বাধিক জনপ্রিয় তত্ত্বটি ছিল যে যুবরাজ ওমা তেনচি তেন্নোর অধীনে পরিবর্তনের দ্রুত গতির বিরোধিতার সুযোগ নিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যার অর্থ যুদ্ধটি একটি রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়া ছিল। যাইহোক, বাস্তবে তেম্মু তেন্নো তার ভাইয়ের দ্বারা উদ্বোধন করা পরিবর্তনগুলি সমাপ্তির দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। তাই যদি তার সমর্থকরা পুরানো উপায়ে ফিরে আসার আশা করে তবে তারা দুঃখজনকভাবে হতাশ হবে। প্রায় ১৯২০-এর দশক থেকে এটি ঠিক বিপরীত তর্ক করা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল, যে রাজকুমার ওমা "প্রগতিশীল" পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন, সুতরাং রাজকুমার ওটোমো বা তার পিছনে কর্মকর্তারা অবশ্যই "রক্ষণশীল" দল ছিলেন। তার বিজয়ের মাধ্যমে, তেম্মো তেন্নো মূলত রাজকুমার নাকা নো ও এবং নাকাতোমি নো কামাতারি দ্বারা পরিকল্পিত লাইন বরাবর সরকারের পুনর্গঠন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে লেখা রচনায় এই দৃষ্টিভঙ্গির সারসংক্ষেপ করেন আইনাগা সাবুরো। তিনি ভেবেছিলেন যে রাজকুমার ওমা মূলত নিম্ন স্তরের কর্মকর্তাদের দ্বারা সমর্থিত ছিলেন এবং জ্যেষ্ঠ আভিজাত্যরা রাজকুমার ওটোমোর পিছনে ছিলেন। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকরা দেরী কোফুন যুগের সমাধিগুলির পরিবর্তিত নিদর্শনগুলির গবেষণায় যা দেখেন তার সাথে এক ধরণের শ্রেণি সংগ্রাম ছিল, সামগ্রিকভাবে আভিজাত্যের মধ্যে আরও অভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকটি কুনিনোমিয়াতসুকো শ্রেণির অভিজাতদের কাছ থেকে শক্তি বিকশিত হয়েছিল।

যাইহোক, এই যুক্তিতে ত্রুটি আছে যে প্রকৃতপক্ষে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে তেনচির রাজত্বের পরবর্তী বছরগুলিতে তাইকা সংস্কারের নীতিগুলি থেকে কোনও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ৬৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে সামরিক সঙ্কট কেটে যাওয়ার পরে, সংস্কারের স্রোত আবার শুরু হয়েছিল এবং সম্রাটের চূড়ান্ত অসুস্থতা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি জাপানে ঐতিহাসিক চিন্তাধারার একটি সম্পূর্ণ নতুন পর্বের সূচনা করেছিল কারণ এটি ইতিহাসবিদদের প্রকাশ্যে মার্কসবাদী হতে মুক্তি দিয়েছিল। এটা বলা ন্যায্য, আমরা মনে করি, মূলত আগে যা ঘটেছিল তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে মার্কসবাদ (একটি হালকা ধরনের) ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মূলধারার দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে ওঠে। এটি স্বাভাবিকভাবেই ঐতিহাসিকদের বিস্মিত করেছিল (প্রথমবারের মতো) ৬৪৫ সাল থেকে যা ঘটছে সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সম্ভবত কোনও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কিনা। কিতায়ামা শিজিও নামে একজন ইতিহাসবিদ প্রস্তাব করেন যে ৬৪৫ সাল থেকে পরিবর্তনগুলি মূলত কেন্দ্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার জন্য কাজ করেছিল এবং এর অর্থ হলো করের জোরপূর্বক শ্রম অংশটি কেন্দ্রীয় সরকারের আরও ঘনিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। যখন এটি স্থানীয় নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন এটি সম্ভবত এপিসোডিক ছিল, এতে প্রতি বছর কাজ করার জন্য বিশেষ কিছু ছিল না। তবে জাতীয় সরকার সর্বদা কিছু খুঁজে পেতে পারে। আদালত নিজেই এটি প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে শ্রম করের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিল। প্রহরী, রক্ষণাবেক্ষণের লোক, প্রাসাদের পরিচারক, বার্তাবাহক এবং কাজের ছেলেরা এবং সমস্ত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের শ্রমকরের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। এটি ব্যবস্থায় বিরুদ্ধে জনসাধারণের ক্ষোভ তৈরি করেছিল বলে তিনি ভেবেছিলেন। তবে সমস্যা হলো, জিনশিন যুদ্ধে কোনো পক্ষই জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেছিল এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। উভয় পক্ষের যোদ্ধারা অভিজাত ছিল। তবে, এমন অনেকে আছেন যারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এই ব্যবস্থার তীব্রতা নিয়ে যে কোনও জনপ্রিয় ক্ষোভ স্থানীয়ভাবে অনুভূত হত এবং গ্রামীণ আভিজাত্যের কৃষক জনসংখ্যার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলত। নিহন শোকির বিবরণ থেকে দৃঢ়ভাবে বোঝা যায় যে ইয়ামাতো প্রদেশের বেশিরভাগ অভিজাত ওমির দরবারকে সমর্থন করেছিল এবং যুবরাজ ওমা পূর্বের প্রাদেশিক আভিজাত্যের কাছ থেকে তার সমর্থন পেয়েছিলেন (এবং পশ্চিম, যদিও কোনও পশ্চিমা সেনা হস্তক্ষেপ করার আগেই যুদ্ধ শেষ হয়েছিল)। এটি সুস্পষ্ট যে রাজকুমার ওমার দুটি কলামের একটির কমান্ডার ছিলেন টোনারি। একে নিম্ন-পদমর্যাদার প্রাদেশিক অভিজাত বলতে হয়। রাজকুমার ওমা বছরের পর বছর ধরে সরকারে সক্রিয় ছিলেন এবং এই লোকেরা তার প্রতি আস্থা রেখেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে তিনি তাদের সমস্যাগুলি বুঝতে পেরেছিলেন। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে নারা যুগে উদ্ভূত জটিল ব্যবস্থাটি প্রাদেশিক আভিজাত্যের দ্বারা সমর্থিত না হলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারত না। এটি তারা নিজেরা না দেখলে এটি করত না। আপনারা যদি এটি সম্পর্কে চিন্তা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে স্থানীয় বিরোধিতার সামগ্রিক অনুপস্থিতি ৬৪৫ পরবর্তী পুরো রূপান্তরের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়। উপসংহারটি হলো পুরানো কুনিনোমিয়াতসুকো শ্রেণিকে সঙ্কুচিত করা হয়েছিল এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার এবং নিম্ন স্তরের স্থানীয় অভিজাতদের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল যারা নতুন ব্যবস্থার অধীনে জেলা সরকারকে নিয়োগ করেছিল। স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে জিনিসগুলি কার্যকর করার জন্য বিশদ জ্ঞান ছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের জনপ্রিয় অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা ছিল। এটি ছিল মৌলিক চুক্তি যা চীনা সাম্রাজ্যকে বহু শতাব্দী ধরে চালিত রেখেছিল এবং জাপানেও একই জিনিস করার উদ্দেশ্য ছিল।

তেম্মু তেন্নো

[সম্পাদনা]

৬৭২ সালের ৯ম মাসে রাজকুমার ওয়ামা ওমি প্রাসাদ ত্যাগ করে আসুকা অঞ্চলে ফিরে আসেন। তিনি কিয়োমিহারা প্রাসাদ নামে পরিচিত একটি স্থান বেছে নিয়েছিলেন। ৬৭৩ সালের ২য় মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করেন। ৬৭৩ সাল তার শাসনকালের প্রথম বছর হিসেবে তার সরকারি নথিপত্রে সর্বদা স্বীকৃত ছিল। পরে যখন কোবুন তেন্নো তালিকায় যুক্ত হয়, তখন সরকারি কালানুক্রমিক তালিকা ৬৭২ সালকে "কোবুন প্রথম বছর" হিসেবে গণ্য করলেও নিহোন শোকি ধারাবাহিকভাবে ৬৭২ সালকে "তেম্মু প্রথম বছর" হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং এটি মেইজি যুগের আগ পর্যন্ত ঐতিহাসিক লেখায় স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে স্থিত হয়েছিল। তেম্মুর শাসনকালে এবং জিতোর ৭ বছর পর্যন্ত সরকার কিয়োমিহারা প্রাসাদেই অবস্থান করেছিল, অর্থাৎ ৬৭৩ থেকে ৬৯৩ পর্যন্ত ২১ বছর। এটি পূর্বের যেকোনো প্রাসাদের তুলনায় বেশি স্থায়ী ছিল এবং স্থায়ী রাজধানী স্থাপনের দিকেই ইঙ্গিত করেছিল। মান্যোশু সংগ্রহে অনেক কবিতায় এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে যে, যুদ্ধজয়ের ফলে তেম্মু তেন্নোর অভূতপূর্ব ক্ষমতা ছিল যিনি যেকোনো কিছু ঘটাতে পারতেন। এক কবিতায় বলা হয়েছে, "ঈশ্বরের মতো" তিনি একটি পাহাড়কে সমুদ্রে রূপান্তরিত করতে পারেন। ঈশ্বরের ন্যায় ওয়াইশিমাগুনি রাজত্বকারী তেম্মু নিজেও ১২তম বছরের একটি আদেশে নিজেকে "যমাতো নেকো নো মিকোতো" বলে উল্লেখ করেছিলেন। ওয়াইশিমাগুনি হল জাপানের প্রাচীন নাম। তার শাসনকালের শুরুতে কোন বড় যমাতো পরিবার থেকে আসা অভিজাতরা দরবারে প্রাধান্য পায়নি, এবং নাকাতোমি নো কামাতারির ছেলে ফুজিওয়ারা নো ফুহিতোও তখনো প্রভাবশালী ছিল না। সরকারে তিনি নিম্ন পদস্থ লোকদের উপর বেশ নির্ভরশীল ছিলেন, যার মধ্যে টোনেরিরাও ছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মুরাকুনি নো মুরাজি ওয়ায়রি, যাকে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হয় তিনি কুনিনোমিয়াতসুকো শ্রেণীর ছিলেন না এবং তাঁর সামরিক সফলতার জন্য মুরাজি উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত অবসরের সময় বা মৃত্যুর কাছাকাছি উচ্চ পদমর্যাদা পেতেন, কিন্তু কর্মজীবনে তাদের পদমর্যাদা তুলনামূলকভাবে কম থাকত। মুরকুনিকে ১২০টি পরিবার থেকে আয় দেওয়া হয়েছিল। এটি মহান অভিজাতদের মানদণ্ডে খুব বেশি ছিল না। এই ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষমতা ছিল কারণ সম্রাট তাদের পিছনে ছিলেন। তাদের উচ্চ পদ বা ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির এখানে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

শাসনকালের শুরুতে তিনি সর্বোচ্চ পদ দাজোদাইজিন, সদাইজিন এবং উদাইজিন ফাঁকা রেখেছিলেন। বড় কোন অভিজাতকে উচ্চপদে নিয়োগের প্রথম ঘটনা ছিল ৬৭৫ সালে। তখন তিনি ওতোমো নো মুরাজি নো মিয়ুকিকে রাজকুমার কুরিকুমার অধীনে যুদ্ধমন্ত্রীর উপমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন। মোট মিলিয়ে নিহোন শোকিতে তেম্মু তেন্নোর দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জন জোমাতো অভিজাত এবং ৫ জন রাজকুমারের নাম উল্লেখ আছে। ৫ জন রাজকুমারই অভিজাতদের থেকে উচ্চ পদ পেয়েছিলেন। আরও উল্লেখ আছে, তেম্মুর সম্রাজ্ঞী উনো (পরে জিতো তেন্নো) তাঁর শাসনকালে সরকারে সক্রিয় ছিলেন এবং বিষয়াদি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া, তেম্মুর দুই পুত্রও যথাক্রমে ৬৮১ সাল থেকে রাজকুমার কুসাকাবে এবং ৬৮৩ সাল থেকে রাজকুমার ওৎসু সরকারে সক্রিয় হয়। কুসাকাবে শেষ পর্যন্ত দাজোদাইজিন হন। স্পষ্ট যে তেম্মুর সরকার ছিল সম্রাটের সরাসরি শাসন, যেটিতে শাসক পরিবারের সদস্যরাই সহযোগিতা করতেন।

৬৭৫ সালে তেম্মু সর্বোচ্চ অভিজাতদের সমস্ত ব্যক্তিগত জমি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করেন। ৬৬৪ সালে টেনচি এ জমিগুলো বেতন হিসেবে অনুমোদন করেছিলেন, কিন্তু তখন পরিষ্কার হয়ে গেল যে পুরো দেশ জুড়ে সম্পূর্ণ কর ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে এবং অভিজাতরা কেবলমাত্র বেতনের ওপর নির্ভর করবেন। তিনি আরও আদেশ দেন যে "নিকটবর্তী রাজকুমার, অন্যান্য রাজকুমার, কর্মকর্তা ও মন্দিরগুলো" তাদের হাতে বছরের পর বছর ধরে পাওয়া সব ধরণের জমি — কৃষিজমি বা বনজ — ফেরত দেবে। ৬৮৫ সালে তেম্মু আবার পদমর্যাদা ব্যবস্থা সংস্কার করেন। প্রথমবারের মতো রাজকুমারদের জন্য নতুন পদমর্যাদা প্রদান করা হয়। এটি পূর্বের ব্যবস্থার বাইরে ছিল। এটি নারা যুগ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে দুইটি সমান্তরাল পদমর্যাদা ব্যবস্থা চালু ছিল, একটি রাজকুমারদের জন্য এবং অন্যটি সকলের জন্য। এখন সরকারি পদমর্যাদা ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন শুধুমাত্র সম্রাট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিবার, অর্থাৎ স্ত্রী ও সন্তানরা।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কিছু লক্ষণও ছিল। ৬৭৫ সালে একটি ঘটনা ঘটে যখন দুই মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাকে "দরবারে উপস্থিত হওয়া থেকে নিষিদ্ধ" করা হয় এবং কয়েকদিন পরে তাদের একজনকে "সমস্ত পদ ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত" করা হয়। একই বছর রাজকুমার ওমি ও তাঁর দুই পুত্রকে গ্রামাঞ্চলে নির্বাসিত করা হয়, এবং পরের বছর দাজাইফুর প্রধান কর্মকর্তা রাজকুমার ইয়াকাকিকেও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও, নির্দিষ্ট বছর জানা না গেলেও, শাসক গোত্র থেকে কয়েকজনকে "মিকাতা" উপাধি ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বাদ দেওয়া হয়। ৬৭৫ সালে একটি আদেশে সব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের অস্ত্রশস্ত্র ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের বছর গভর্নরদের মধ্যে অস্ত্র ধারণের ব্যাপারে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়। ৬৭৯ সালে রাজকুমার ও কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয় যে পরবর্তী বছর একটি পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা সশস্ত্র ও সিংহাসনে চড়ে উপস্থিত হবে, এবং এটি বাস্তবে পরিচালিত হয়। ৬৮৪ সালে তেম্মু তেন্নো একটি আদেশে উল্লেখ করেন যে "সামরিক বিষয়গুলো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।" ৬৪৫ সালের আগে শাসকের হাতে সরাসরি সীমিত সামরিক বাহিনী ছিল। সবসময় কিছু সংখ্যক টোনেরি ছিল, যারা প্রধানত পূর্বাঞ্চল থেকে আসত, এবং কিছু ইউকেইবে ছিল, যারা কিউশু থেকে চাপা কৃষক সৈনিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রাজধানীতে পাঠানো হতো এবং প্রধানত গার্ড হিসেবে কাজ করত। এই বিভাগের লোকসংখ্যা কত ছিল তা কেউ নিশ্চিত নয়। অন্যান্য সব কিছু নির্ভর করত যমাতো গ্রামের সামরিক মনোভাবাপন্ন উজি গোত্রের উপর। ধারণা করা হয় টোনেরিদেরকে নতুন রাষ্ট্রের "বাম" ও "ডান" হ্যোয়েফু 兵衛府 প্রহরীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল এবং ইউকেইবে গার্ডরা ছিলেন এমোনফু 衛門府-তে। বাকী দুটি গার্ড ইউনিট, "বাম" ও "ডান" ইজিফু 衛士府, শ্রম করের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত লোকদের দ্বারা পরিচালিত হতো। ধারণা করা হয় এই দায়িত্বে নিয়োজিত লোকেরা সাধারণ কৃষক ছিলেন না, বরং স্থানীয় ক্ষুদ্র অভিজাত পরিবারের সদস্য ছিলেন। মোটামুটি বলতে গেলে, রাজধানীর সরকারি সামরিক বাহিনী ছিল মূলত পুলিশ ও রক্ষী হিসেবে, বাস্তবিক সামরিক বাহিনী নয়। সম্ভবত তেম্মু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে সব কর্মকর্তা সশস্ত্র এবং অন্তঃপ্রদেশের গ্রামাঞ্চলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাও যেন সশস্ত্র থাকেন যাতে প্রয়োজনে তিনি দ্রুত একটি বাহিনী গঠন করতে পারেন। প্রদেশগুলোতে সামরিক সংগঠনের তেমন চিত্র ছিল না। ৬৮৫ সালে তেম্মু আদেশ দেন যে ব্যক্তিগত নয়, বরং সংগঠিত সামরিক ইউনিটগুলোর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক উপকরণ — যেমন শিং, ঢোল, পতাকা থেকে শুরু করে ক্রূড অস্ত্র যেমন "পাথর নিক্ষেপক" এবং বড় আকারের ক্রসবো — কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারে জেলা কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। এটি জনগণকে নিরস্ত্র করার জন্য নয়, বরং নিশ্চিত করার জন্য যে এগুলো প্রয়োজনে দ্রুত পাওয়া যাবে এবং ঠিক করা থাকবে।

প্রাচীন জাপানের একটি ছোট রহস্য হল কেন ইসের "মহান মন্দির" আমাতেরাসু ওমিকামি, যাকে শাসক গোত্রের পূর্বপুরুষ বলে ধরা হয়, এটি তাঁর পূজার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। মন্দিরটি নিঃসন্দেহে একটি প্রাচীন পূজার কেন্দ্র ছিল, কিন্তু এটি এমন স্থানে অবস্থিত যা থেকে ধারণা করা হয় পূজার বিষয়বস্তু হতে পারে প্রশান্ত মহাসাগর, বিশেষ করে যারা সমুদ্রপথে পূর্ব জাপানে যাওয়ার পথে ছিলেন তাদের জন্য। এটি শাসক গোত্রের সাথে বিশেষ কোন সম্পর্কিত স্থান নয়। ধারণা করা হয়েছে মন্দিরটি তুলনামূলকভাবে দেরিতে আমাতেরাসুর সাথে সম্পর্কিত হয়েছিল, যার সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় হলো তেম্মু তেন্নোর শাসনকাল।

নিহোন শোকিতে কেতাই থেকে সুইকো পর্যন্ত সব শাসনের সময় রাজকুমারেসদের ইসে পাঠানো হত সাইগু বা ইটসুকি নো মিয়া হিসেবে, অর্থাৎ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত্রী হিসেবে। তবে এই প্রথা পরবর্তীতে লোপ পেয়ে যায় যতক্ষণ না ৬৭৪ সালে তেম্মু তার শাসনকালে নিজেই প্রথম ইসে যাত্রা করেন। এটি ছিল রাজ পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই যাত্রাটি তেম্মুর শাসনকালের একটি চিহ্নিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এভাবে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি পরবর্তী যুগেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তেম্মু আরও কৃতিত্ব পেয়েছেন এমন একটি কাজ শুরু করার জন্য যা পরবর্তীতে কোজিকি এবং নিহন শোকি রচনার সূচনা করেছিল। তিনি বিভিন্ন অভিজাত বংশের কাছে থাকা উপকরণ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে জাপানের ইতিহাস রচনার উপকরণ পাওয়া যায়। এটি কোজিকির ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে। ৬৮১ সালে তিনি রাজকুমার কাওশিমা নেতৃত্বাধীন শাসক বংশের ছয় সদস্যের একটি কমিটি এবং নাকাতোমি নো মুরাজি নো ওশিমা নেতৃত্বাধীন অন্য ছয় জন সরকারি কর্মকর্তার একটি কমিটিকে জাতীয় ইতিহাস সম্পাদনার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। এই প্রকল্পটি কখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে ধারণা করা হয় যে এটির কাজ সম্পন্ন হয়েছিল তা পরে নিহন শোকিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই বৃহৎ প্রকল্প থেকে আলাদাভাবে, তিনি তাঁর এক টোনেরি হিয়েদা নো আরেকে সহজ একটি কাজ এককভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এটি একক লেখকের ক্ষমতার মধ্যে ছিল। হিয়েদা তাঁর কাজ শেষ করার আগে মারা যান, কিন্তু এটি নারা যুগের শুরুর দিকে ও নো আসোন ইয়াসুমারো পুনরায় গ্রহণ করেন এবং ৭১২ সালে কোজিকি নামে প্রকাশ করেন। উভয় কাজেই অভিজাত বংশের উৎপত্তি সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। এটি সম্ভবত ঐ বংশগুলি দ্বারা রক্ষিত কাহিনীগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে। কোজিকিতে প্রায় ২০০টি বংশ কাহিনী এবং নিহন শোকিতে প্রায় ১১০টি পাওয়া যায়।

এই তথ্যগুলো একত্রিত করার সময় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, তাইকা সংস্কার এবং জিনশিন যুদ্ধের পর থেকে বহু প্রাচীন বংশ মুছে গেছে এবং নতুন অনেক বংশ প্রভাবশালী হয়েছে। এর ফলে প্রাচীন "কাবানে" উপাধিগুলো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বংশের প্রকৃত মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সাথে আর মিলছিল না। তাই ৬৮৪ সালে তেম্মু কাবানে ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি আটটি উপাধির ব্যবস্থা করেন, যাদের মধ্যে বেশকিছু নতুন সৃষ্টি ছিল। শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে এগুলো ছিল—মাহিতো (মাঝে মাঝে মাবিতো লেখা হয়) 真人, আসোমি (প্রায় সবসময় আসোন লেখা হয়) 朝臣, সুকুনে 宿禰, ইমিকি 忌寸, মিচিনোশি 道師, ওমি 臣, মুরাজি 連, এবং ইনাগি 稲置। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি বংশের সম্রাট থেকে বিচ্ছেদের মাত্রা স্পষ্ট করা। যেসব বংশ আগে ওমি উপাধি পেত, তাদের অধিকাংশকে আসোমি উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এটি শাসক বংশের শাখা থেকে আগত বংশ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। যেসব বংশ আগে মুরাজি ব্যবহার করত, তাদের বেশির ভাগ সুকুনে উপাধি দেওয়া হয়। মাহিতো বিশেষভাবে শাসক বংশের প্রধান শাখার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত বংশের জন্য সংরক্ষিত ছিল, বিশেষ করে কেটাই তেন্নো বা পরবর্তীকালের শাসকদের বংশ থেকে আগত বংশগুলোর জন্য। ওজিন রাজবংশ থেকে আগত বংশগুলো সবাই আসোমি উপাধিতে আচ্ছাদিত হয়েছিল। ছোট উপাধিগুলো সাধারণত প্রাদেশিক বংশদের জন্য ছিল।

তেম্মুর শাসনামলে প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে অনেক অগ্রগতি হয়েছিল। এটি পরবর্তী প্রশাসনিক আইন বিধিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। নারা যুগে সরকারের মূল ভিত্তি ছিল আটটি মন্ত্রণালয়ের সমষ্টি যাকে দাজোকান বা "বড় দপ্তর" বলা হয়। এদের মধ্যে সাতটি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই তেম্মুর সময়ে প্রতিষ্ঠিত ছিল। মাত্র একটি ছিল অনুপস্থিত, তা হলো নাকাতসুকাসা। এটি শাসকের আবাসিক প্রাসাদের পরিচালনা করত। এটি প্রশাসনিক প্রাসাদ থেকে আলাদা। তেম্মুর দিনে একটি মন্ত্রণালয়ই উভয় কাজ দেখাশোনা করত। নামগুলো সবই ভিন্ন ছিল। তবে তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিম্নস্তরের বহু প্রশাসনিক সত্তার নাম এবং সরকারি পদবীও ভিন্ন ছিল। প্রধান পার্থক্য ছিল, শেষমেশ প্রতিষ্ঠিত কোডগুলো চীনা সমসাময়িক প্রথা থেকে নেওয়া নাম ও পদবী বেশি ব্যবহার করত।

৬৮১ সালের দ্বিতীয় মাসে সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞী প্রাসাদের প্রধান মিলনকক্ষে গিয়ে সমস্ত রাজপুত্র ও কর্মকর্তাদের ডেকে আনেন। সম্রাট ঘোষণা করেন যে, সরকারের কাঠামো এবং কার্যাবলীর নিয়মাবলী বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক নীতিমালা প্রস্তুত করার সময় এসেছে। তিনি স্বীকার করেন এটি একটি বৃহৎ কাজ। এটি শেষ করতে সময় লাগবে এবং সরকারী কাজ ব্যাহত হওয়া উচিত নয়, তাই এই প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। এটিই পরিচিত "অসুকা কিয়োমিহারা রিৎসুরো"র সূচনা। তেম্মু তেন্নোর জীবদ্দশায় সম্ভবত এই কাজ শেষ হয়নি। তবে সরকারের কাঠামো এই প্রচেষ্টার সাথে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সামঞ্জস্য করা হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

তেম্মু তেন্নোর ১৭ জন সন্তান ছিল, যাদের নাম জানা গেছে, ৯ জন বিভিন্ন মাতার সন্তান, ১০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। সম্রাজ্ঞী উনোর একমাত্র সন্তান ছিলেন রাজকুমার কুসাকাবে। তিনজন অন্যান্য নারী কিসাকি হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন, যাঁরা রাজকুমার ওতসু, রাজকুমার নাগা, রাজকুমার ইউগে, এবং রাজকুমার টোনেরির মা ছিলেন, পাশাপাশি একটি কন্যাও ছিলেন। এই চারজন নারীই ছিলেন তেনচি তেন্নোর কন্যা। আরও তিনজন মহিলা ছিলেন, যাঁরা কনকুবাইন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ছিলেন। দুজন ছিলেন ফুজিওয়ারা নো কামাতারির কন্যা, যাঁরা রাজকুমার নিটাবে এবং এক কন্যার জন্ম দিয়েছেন। তৃতীয় ছিল সোগা নো ওমি নো আকের কন্যা, যিনি রাজকুমার হাটসুমি এবং দুই কন্যার জন্ম দেন। শেষমেশ তিনজন নারী ছিলেন যাদের প্রাসাদে কোন সরকারি পদবী ছিল না। রাজকুমারেস নুকাতা ইতোমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক কন্যার জন্ম দিয়েছিলেন, রাজকুমারেস তোচি, যিনি শিশুকালে মারা যান। এটি আদালতে অনেক শোকের কারণ হয়। দুই প্রাসাদের সহকারী রাজকুমার টাকেচি, রাজকুমার ওসাকাবে এবং রাজকুমার শিকি ও দুই কন্যার জন্ম দেন। রাজকুমার টাকেচি উল্লেখযোগ্য কারণ তিনি জিনশিন যুদ্ধে কমান্ডার ছিলেন। রাজকুমার ওসাকাবে ও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

দুটি সর্বোচ্চ পদমর্যাদার রাজপুত্র ছিলেন নিঃসন্দেহে রাজকুমার কুসাকাবে এবং রাজকুমার ওতসু। ৬৮১ এবং ৬৮৩ সালে যথাক্রমে তারা এমন বয়সে পৌঁছান যেখানে সরকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব হয়। রাজকুমার কুসাকাবের মা ছিলেন সম্রাজ্ঞী, যেখানে রাজকুমার ওতসুর মা জিনশিন যুদ্ধে আগে মারা গিয়েছিলেন। তবে মনে হয় বেশিরভাগ মানুষ রাজকুমার ওতসুকে বেশি প্রভাবশালী মনে করত। নিহন শোকি উল্লেখ করে যে, শিশু অবস্থায় তিনি তাঁর চাচা ও দাদা তেনচি তেন্নোর প্রিয় ছিলেন, এবং অন্যান্য প্রাচীন সূত্রে বলা হয়েছে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। রাজকুমার কুসাকাবে সম্পর্কে কোনও তথ্য অবশিষ্ট নেই। তিনি ২৮ বছর বয়সে মারা যান এবং ধারণা করা হয় যে তিনি সবসময় অসুস্থ ছিলেন। এটি সম্ভবত ব্যাখ্যা করে কেন তাঁকে তেম্মুর মৃত্যুর পর শাসক করা হয়নি। তেম্মুর শাসনকাল এমন ছিল যে তিনি সরাসরি শাসন করতেন, তাই এটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরবর্তী শাসককে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হতে হয়েছিল। মনে হয় সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি ছিল সম্রাজ্ঞী। যদি ধরা হয় যে রাজকুমার কুসাকাবে অনুপযুক্ত ছিলেন, তাহলে তিনি তাঁর শিশুসন্তান রাজকুমার কারুর (যিনি পরবর্তীতে মোম্মু তেন্নো হন) জন্য প্রতিস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।

ঘটনাক্রমে কুসাকাবে ৬৮১ সালে "সিংহাসন অধিকারী" করা হয়। পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে, এর সঙ্গে উত্তরাধিকার নিয়ে তেমন কোন সম্পর্ক ছিল না। তবে তাকে সরকারের একটি প্রখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এই একই দিনে অসুকা কিয়োমিহারা রিৎসুরোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। ধারণা করা হয় সরকারী নিয়মাবলী আনুষ্ঠানিককরণ সম্রাটের অবস্থান দৃঢ় করবে যাতে তিনি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন এমনকি যদি তিনি সাধারণ ক্ষমতার ব্যক্তিও হন। ৬৮৩ সালে রাজকুমার ওতসুও সরকারে পদ পায়। যদি ধরা হয় তিনি তাঁর সৎভাই থেকে স্বাস্থ্যবান ও প্রতিভাবান ছিলেন, তাহলে সকল কারণ রয়েছে মনে করার যে তিনি তেম্মুর মৃত্যুর পর সম্রাট হওয়ার সুযোগ পেতেন। ৬৮৫ সালে তেম্মু অসুস্থ হন কিন্তু কিছুদিন সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ৬৮৬ সালের ৫ম মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হন এবং ৭ম মাসে ঘোষণা করেন যে তিনি আর সরকারী কাজে ব্যস্ত থাকবেন না। এটি সবকিছুই সম্রাজ্ঞী ও রাজকুমার কুসাকাবে দেখবেন। তিনি ৯ম মাসের ৯ তারিখে মারা যান, বয়স আনুমানিক ৫৬ বছর। নিহন শোকি জানায়, ১১ তারিখে তাঁকে সাময়িকভাবে তাঁর মোগারি নো মিয়ায় সমাহিত করা হয়, এবং ২৪ তারিখে "রাজকুমার ওতসু সিংহাসন অধিকারীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল"। পরবর্তী ঘটনা জিতো তেন্নো নিবন্ধে বর্ণিত। বলা হয়েছে, রাজকুমার ওতসুর বিশ্বাসঘাতকতা ১০ম মাসের ২ তারিখে প্রকাশ পায় এবং তিনি প্রায় ৩০ জনের সঙ্গে গ্রেফতার হন। পরের দিন তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তাঁর স্ত্রীও মারা যান। তবে স্পষ্ট নয় তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন নাকি আত্মহত্যা করেন। পরের দিন "সহ-ষড়যন্ত্রকারীদের" মধ্যে দুই জন ছাড়া সবাই ক্ষমা পায়। ওই দুইজন নির্বাসিত হন। এর কয়েকদিন পরে সম্ভবত চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর রাজকুমার ওতসুর বোন রাজকুমারী এস ওকু রাজধানীতে ফিরে আসেন যিনি কয়েক বছর ইসেতে পুরোহিত ছিলেন। মানইশুর একটি কবিতা প্রকাশ করে যে, রাজকুমার ওতসু গোপনে ইসেতে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করেছিলেন তেম্মুর মৃত্যুর সময়ের আশেপাশে। সম্ভবত এই ঘটনাটিই নিহন শোকির জন্য তাঁর বিশ্বাসঘাতকতার নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের কারণ। একজন রাজপুত্র রাজধানী ত্যাগ করে পূর্বদিকে যাওয়া এবং উত্তরাধিকার অস্থিতিশীল থাকা অবস্থায় যাত্রা করা বিদ্রোহী উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে ইতিহাসবিদরা লক্ষ্য করেছেন যে, "সহ-ষড়যন্ত্রকারীদের" মধ্যে কয়েকজন পরবর্তীকালে জিতোর আদালতে কর্মজীবন চালিয়েছেন। একজন প্রথম সম্পূর্ণ রিৎসুরো নীতিমালা তৈরির কমিটিতেও ছিলেন। এটা ইঙ্গিত দেয় যে রাজকুমার ওতসুকে অপরাধী বানানোর কূটনীতি করা হয়েছিল।

নিহন শোকি স্পষ্ট করে যে সম্রাজ্ঞী শাসনে্র ছিলেন। তবে কিছু সময়ের জন্য উত্তরাধিকার সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই করা হয়নি। মৃত সম্রাটকে শোক জানানো ও তাঁর সমাধি প্রস্তুতির সব সরকারি কার্যক্রমে সবচেয়ে প্রভাবশালী পদ ছিল "সিংহাসন অধিকারী"। ৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১তম মাসে তেম্মুর দাফনের মধ্য দিয়ে এ অবস্থা অব্যাহত থাকে। অবশ্যই ঐ সময়ে সম্রাটের বিধবা মোগারি নো মিয়ায় বসবাস করতেন এবং গভীর শোক পালন করতেন। এরপর ৬৮৯ সালের ৪ম মাসে যুবরাজ কুসাকাবে মারা যান। তাই ধারণা করা যায়, শোক পালন শেষ হলে রাজ্যাভিষেক করার পরিকল্পনা ছিল। তাঁর পুত্র যুবরাজ কারুর বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর এবং তাই সম্রাজ্ঞীর আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসন গ্রহণ করা প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি জিতো তেন্নো নামে পরিচিত। এটি ৬৯০ সালের শুরুতে ঘটেছিল। এই সময়কালে ৬৮৯ সালের ৬ষ্ঠ মাসে অসুকা কিয়োমিহারা রিও ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয় এবং সরকারী দপ্তরগুলোতে বিতরণ করা হয়। এই ঘটনাকেই অসুকা যুগের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। ৬৮৯ সালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, কামাতারির বড় ছেলে ফুজিওয়ারা নো ফুহিতোর প্রথমবারের মতো সরকারি পদে নিয়োগ।