বিষয়বস্তুতে চলুন

জাতিসংঘের ইতিহাস/কফি আনান

উইকিবই থেকে

কফি আত্তা আনান (জন্ম: ৮ এপ্রিল ১৯৩৮ – মৃত্যু: ১৮ আগস্ট ২০১৮) একজন ঘানার কূটনীতিক ছিলেন, যিনি ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত দুই মেয়াদে জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি এবং জাতিসংঘ যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব

[সম্পাদনা]

১৩ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কফি আনানকে মহাসচিব পদের জন্য সুপারিশ করে।[১] চার দিন পর সাধারণ পরিষদের ভোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।[২] তিনি ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে মহাসচিব হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদ শুরু করেন। আনান মিশরের বিদায়ী মহাসচিব বুত্রোস বুত্রোস-ঘালির স্থলাভিষিক্ত হন এবং কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান দেশ থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হিসেবে ১ জানুয়ারি ২০০২ সালে আনানের মহাসচিব পদের মেয়াদ নবায়ন করা হয়। সাধারণত এই পদটি বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয় এবং প্রতিটি মহাদেশ দুই মেয়াদ করে সুযোগ পায়। যেহেতু আনানের পূর্বসূরি বুত্রোস বুত্রোস-ঘালিও আফ্রিকার ছিলেন, তাই স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে আনান কেবল এক মেয়াদ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনের কারণে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন।

২০০৪ সালের এপ্রিলে লুইস ফ্রেশেতের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মার্ক ম্যালোচ ব্রাউন আনানের উপ-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০১ সালের এপ্রিলে তিনি এইচআইভি/এইডস মহামারি মোকাবিলায় পাঁচ দফার একটি "কল টু অ্যাকশন" (Call to Action) বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মহাসচিব হিসেবে আনান এই মহামারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেছিলেন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এইচআইভি/এইডস সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নে সহায়তার জন্য একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন।

১০ ডিসেম্বর ২০০১ সালে "আরও সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে অবদানের জন্য" কফি আনান এবং জাতিসংঘকে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের প্রস্তুতিকালে আনান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আক্রমণ না করার আহ্বান জানান। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাক আক্রমণের আইনি বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, জাতিসংঘ সনদের আলোকে এটি অবৈধ ছিল।"[৩][৪]

আনান সুদানের দারফুর অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন পাঠানোর পক্ষে ছিলেন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন থেকে জাতিসংঘের মিশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সুদান সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। তিনি নারীর অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের সঙ্গেও কাজ করেন।

১৯৯৮ সাল থেকে আনান রকেফেলার ব্রাদার্স ফান্ড (আরবিএফ) এবং জাতিসংঘের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পক্যান্টিকোতে রকেফেলার পরিবারের এস্টেটে অবস্থিত আরবিএফ কনফারেন্স সেন্টারে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বার্ষিক ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রিট্রিট’-এর আয়োজন শুরু করেন।[৫]

তিনি নিউইয়র্কে রকেফেলার পরিবারের এশিয়া সোসাইটি বা Asia Society-এরও একজন সমর্থক ও অতিথি ছিলেন.[৬]

আনানের মেয়াদকালে জাতিসংঘকে ঘিরে বিতর্কসমূহ

[সম্পাদনা]

লাবার্সের যৌন হয়রানি তদন্ত

[সম্পাদনা]

২০০৪ সালের জুনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার রুড লাবার্সের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদারকি সেবা দপ্তর (OIOS)-এর একটি প্রতিবেদন আনানের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর কর্মী নিয়োগ বিভাগের পরিচালক ওয়ার্নার ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে রুড লাবার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত চলাকালে লাবার্স একটি চিঠি লিখেছিলেন, যা সমালোচকদের মতে অভিযোগকারী নারী কর্মীর প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।[৭]

তবে ১৫ জুলাই ২০০৪ সালে কফি আনান লাবার্সকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। পরে OIOS সাধারণ পরিষদে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি আনানের অবস্থানকে দুর্বল করে।

তেল-এর বদলে খাদ্য কর্মসূচির প্রশাসন

[সম্পাদনা]

২০০৪ সালের ডিসেম্বরে এমন অভিযোগ ওঠে যে মহাসচিবের ছেলে কোজো আনান সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি কোটেকনা ইন্সপেকশন এসএ (Cotecna Inspection SA) থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। এই কোম্পানিটি জাতিসংঘের ‘তেল-এর বদলে খাদ্য’ (Oil-for-Food) কর্মসূচির আওতায় একটি লাভজনক চুক্তি পেয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কফি আনান তদন্তের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের ‘তেল-এর বদলে খাদ্য’ কর্মসূচি তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা আনান কর্তৃক নিযুক্ত ছিল।[৮] কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান পল ভলকার।[৯]

প্রাথমিকভাবে আনান কোটেকনার সঙ্গে কোনো বৈঠক করার কথা অস্বীকার করলেও পরে তিনি জানান যে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী এলি-জর্জেস ম্যাসির সঙ্গে তাঁর দুবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিটি কফি আনানের বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়নি। তবে সাইপ্রাসের নাগরিক বেনান সেভানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যিনি দীর্ঘদিন জাতিসংঘে কর্মরত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেভান বারবার ইরাক সরকারের কাছে আফ্রিকান মিডল ইস্ট পেট্রোলিয়াম কোম্পানির জন্য তেল বরাদ্দের অনুরোধ করেছিলেন। ভলকার এই আচরণকে "নৈতিকভাবে অনুচিত" বলে মন্তব্য করেন। তবে সেভান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে তাঁকে "বলির পাঁঠা" বানানো হয়েছে।

ভলকার প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিষদের তদারকিরও সমালোচনা করে। প্রতিবেদনে মহাসচিবের দপ্তরের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনার জন্য ‘চিফ অপারেটিং অফিসার’ (Chief Operating Officer) নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের মধ্যে দ্বন্দ্ব

[সম্পাদনা]

কফি আনান তাঁর উপ-মহাসচিব মার্ক ম্যালোচ ব্রাউনকে সমর্থন করেছিলেন। ৬ জুন ২০০৬ সালে এক বক্তৃতায় ব্রাউন মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু অংশের সমালোচনা করেন এবং বলেন যে, শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা মার্কিন জনপরিসরে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয় না।[১০]

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন আর. বোল্টন ফোনে আনানকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং মন্তব্যটিকে জাতিসংঘের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বড় ভুলগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।[১১]

মহাসচিব হিসেবে আনানের মেয়াদ শেষে বোল্টনকে তাঁর কার্যকাল সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

জাতিসংঘ সংস্কারে আনানের সুপারিশসমূহ

[সম্পাদনা]

দীর্ঘ গবেষণার পর ২১ মার্চ ২০০৫ সালে আনান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইন লার্জার ফ্রিডম (In Larger Freedom) শীর্ষক একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দেন।[১২]

৩১ জানুয়ারি ২০০৬ সালে কফি আনান ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (UNA-UK)-এ একটি নীতিনির্ধারণী বক্তৃতায় জাতিসংঘের বিস্তৃত সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। ওয়েস্টমিনস্টারের সেন্ট্রাল হলে দেওয়া এই ভাষণটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম বৈঠকের ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।[১৩]

৭ মার্চ ২০০৬ সালে তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই সংস্কার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল Investing in the United Nations, For a Stronger Organization Worldwide।[১৪]

৩০ মার্চ ২০০৬ সালে তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের কর্মপরিকল্পনা আধুনিকীকরণ নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ও সুপারিশ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল Mandating and Delivering: Analysis and Recommendations to Facilitate the Review of Mandates।[১৫]

বিদায়ী ভাষণসমূহ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Wikisource

১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমবেত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে আনান একটি বিদায়ী ভাষণ দেন। আসন্ন অবসরকে সামনে রেখে দেওয়া এই ভাষণে তিনি তিনটি প্রধান বৈশ্বিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন: "অন্যায্য বিশ্ব অর্থনীতি", "বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা" এবং "মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি অবহেলা"। তাঁর মতে, এসব সমস্যা তাঁর দায়িত্বকালে পুরোপুরি সমাধান না হয়ে বরং আরও তীব্র হয়েছে। তিনি আফ্রিকার সহিংসতা এবং আরব–ইসরায়েল সংঘাতকেও বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।[১৬]

১১ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে মিসৌরির ইন্ডিপেনডেন্সে হ্যারি এস. ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট লাইব্রেরিতে মহাসচিব হিসেবে তাঁর শেষ ভাষণ দেন আনান। ভাষণে তিনি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় ট্রুম্যানের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের বহুপাক্ষিক বৈদেশিক নীতির ধারা অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো বিশ্বের মানুষের সেবা করা, তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের মধ্যেও মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।[১৭][১৮]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • Annan, Kofi: In Larger Freedom, 21 March 2005.
  • Jan Tromp, Relatie Washington en VN is danig verziekt (De Volkskrant, zaterdag 10 juni 2006) 6.

পাদটীকা

[সম্পাদনা]
  1. ↑ টেমপ্লেট:Cite press release
  2. ↑ টেমপ্লেট:Cite press release
  3. ↑ "Iraq war illegal, says Annan"। BBC News। BBC। ২০০৪-০৯-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  4. ↑ "Excerpts: Annan interview"। BBC News। BBC। ২০০৪-০৯-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  5. ↑ "Pocantico Conferences 2005"। Rockefeller Brothers Fund website। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  6. ↑ Boxer, Tim (এপ্রিল ২০০৬)। "Society's 50th Milestone Honors Rockefellers"। 15 Minutes Magazine। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  7. ↑ "UN report slams Lubbers for 'regular sexual harassment'"। Expatica। ২০০৫-০২-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  8. ↑ "About the Committee"। Independent Inquiry Committee into The United Nations Oil-for-Food Programme website। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  9. ↑ "Members"। Independent Inquiry Committee into The United Nations Oil-for-Food Programme website। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  10. ↑ Brown, Mark Malloch (২০০৬-০৬-০৬)। "UN needs US, US needs UN to face challenges -- HIV/AIDS, SUDAN -- that defy national solutions, says Deputy Secretary-General in New York address"। United Nations website। United Nations। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  11. ↑ "Speech by U. N. Leader Draws Angry Response From US"। Fox News। ২০০৬-০৬-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  12. ↑ "In Larger Freedom"। United Nations website। ২০১২-০৯-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  13. ↑ "Annan addresses UNA-UK in London"। United Nations website। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-০৫। 
  14. ↑ "Reforming the United Nations"। United Nations website। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  15. ↑ "Reforming the United Nations, Mandate Review"। United Nations website। ২০১৩-০১-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  16. ↑ Leopold, Evelyn (২০০৬-০৯-১৬)। "UN's Annan depicts polarized world in farewell speech"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১২। 
  17. ↑ "Annan chides US in final speech"। BBC News। BBC। ২০০৬-১২-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১১। 
  18. ↑ Annan, Kofi (২০০৬-১২-১১)। "Independence, Missouri, 11 December 2006 - Secretary-General's address at the Truman Presidential Museum and Library followed by Questions and Answers"। United Nations website। United Nations। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১১।